“প্রতিটি মানুষ সৃষ্টিশীলতার কিছুটা বিকাশ ঘটিয়ে যায়, আমি এর বিকাশ ঘটিয়েছি লেখার মধ্য দিয়ে । আমার লেখার কয়েকটি ধারা রয়েছে। অমি কবিতা, সমালোচনা, ভাষাবিজ্ঞান, কিশোরসাহিত্য আর সমাজ ও রাজনীতি বিষয়ক লেখা লিখেছি । লেখক হওয়াটাকে আমি খুব বড় ব্যাপার মনে করিনা , অনেকে লিখতে পারে, আমি গুরুত্বপূর্ণ মনে করি গভীর উপলব্ধিবোধ এবং সৌন্দর্যচেতনাকে, আর তা প্রকাশের জন্য আমি লিখি” – লেখালেখির পিছনের কারণ হিসেবে আমার বাবা প্রয়াত লেখক হুমায়ুন আজাদের উক্তি এটি । কি চমৎকার অভিব্যক্তি-গভীর উপলব্ধিবোধ আর সৌন্দর্য বোধ থেকেই তার লেখার ইচ্ছা । তাই তিনি মাত্র ৫৭ বছর বয়সকাল পর্যন্ত এক মুহূত সময়ও অবহেলায় নষ্ট করেননি ।

অবিরাম বিভিন্ন বিষয়ের উপর বই পড়েছেন, পড়িয়েছেন আর যেসব গভীর চিন্তা তাকে প্রচন্ডভাবে আলোড়িত করেছে তা সৌন্দর্যসহ শক্তিশালী ভাষার মাধ্যমে গদ্যে ও পদ্যে ফুটিয়ে তুলেছেন। কিনা লিখেছেন তিনি? কবিতা, সমালোচনা, ভাষাবিজ্ঞান, কিশোরসাহিত্য, সমাজ রাজনীতি সব শাখাতেই তিনি অবাধে দাপটের সাথে লিখেছেন । এ প্রসঙ্গে তার কিছু লেখার কথা না বললেই নয় । কিশোরদের জন্য বাংলা সাহিত্য সর্ম্পকে সহজ ভাষায় তার চমৎকার লিখিত বইটির নাম লাল নীল দীপাবলী । এই বইটি পড়লে কিশোরকিশোরী তরুণ তরূণীরা দিব্যি হারিয়ে যায় বাংলা ভাষার তিনকালের কবিদের মাঝে । তার রচিত ভাষাবিজ্ঞান বইগুলো বোধ করি বাংলা সাহিত্যের ছাত্রছাত্রীদের জন্য সারা জীবনের এক অমূল্য সম্পদ । কাব্যগ্রেন্থের মাধ্যমে তার লেখার শুরু হলেও তার কাব্যগ্রেন্থের সংখ্যা ছিল মাত্র ৭টি । তার কবিতা পাঠ করলে মনে হয় যেন তিনি শিল্প সৃস্টি করেছেন তার কবিতায় । মুক্তিযুদ্ধের সময় বাবার রচিত ব্লাডব্যাংক কবিতাটি মুক্তিযোদ্ধাদের যুগিয়েছে সাহস ও অনুপ্রেরণা ।

তাঁর ”সবকিছু নষ্টদের অধিকারে যাবে” বা “আমি বেঁচে ছিলাম অন্যদের সময়ে” কবিতাগুলো পাঠ করলে তাকে একদিকে যেমন ক্রদ্ধ কবি মনে হয় অপরদিকে তার প্রেমের কবিতাগুলো পাঠ করলে মনে হয় যেন তিনি ভালবাসার এক কবি । বোধ করি কবিরা এমনই হন । বড়দের ভারিক্কি কবিতার পাশাপাশি বাবা ছোটদের জন্য লিখেছেন ’ভাল থেকো আম, ছায়া ঢাকা গ্রাম, ভালো থেকো, ভালো থেকো ঘাষ, ভোরের বাতাস ,’ । ফুলের গন্ধে ঘুম আসেনা, আব্বুকে মনে পড়ে,আমাদের শহরে একদল দেবদূত— গ্রাম্য প্রকৃতি ও আবেগকে জানা ও উপলব্ধি করবার জন্য কিশোর কিশোরীদের প্রিয় অসাধারণ কিছু বই । তার রচিত প্রতিটি উপন্যাস যেন বাংলা সাহিত্যের সব উপন্যাসের গতানুগতিকাকে ভেঙে দিয়েছে, সৃষ্টি করেছে একেকটি মূল্যবান কথামালা । নারীবাদ বাবার সবসময় পছন্দের একটি বিষয় । তার রচিত নারীদ্বিতীয় লিঙ্গকে বাংলাভাষায় নারীদের নিয়ে রচিত প্রথম তথ্যবহুল এবং গবেষনাধর্মী বই বলা যেতে পারে । ’

৯০-এর দশকে আজকের কাগজ পূর্বাভাষ সহ নানা পত্রিকায় বাবার লিখিত কলামগুলো নানাভাবে সমাজ জাগরণে, সমাজ পরিবর্তনে ব্যবহৃত হয়েছে । বাবা লেখার মাধ্যমে কখনো কখনও সমাজের প্রথাগুলো ভেঙেছেন। আর তাই আলোকিত পাঠকদের করতে পেরেছেন আরো আলোড়িত,চমকিত, আবেগতাড়িত আবার যেসব পাঠক দৃষ্টির প্রসার চান না তাদের করেছেন প্রচন্ডভাবে ক্সুব্ধ। মাঝে মাঝে নিজেকে নিজে প্রশ্ন করি একজন লেখক যে অবিরাম এত লিখছেন–এর কারণ কী? শুধুই পাঠকের ভালোবাসা/ সম্মান পাওয়া নাকি প্রচুর বই বিক্রি হলে প্রকাশক কর্তৃক সম্মানী পেয়ে তাতে তৃপ্ত থাকা ?

বাবাকে কখনো এসব বিষয়ে প্রশ্ন করা হয়নি, তাই এর উওর জানা নেই । আবার নিজেকে প্রশ্ন করেছি যে একজন লেখকের জন্য উপরোক্ত প্রাপ্তিগুলোই কি যথার্থ ? মেধাবী লেখকদের মনে কি লেখার স্বীকৃতি স্বরুপ পুরস্কারপ্রাপ্তির কোন আকুতি থাকেনা ? থাকে নিশ্চয়ই, লেখক হলেও রক্তমাংসের মানূষ তো ! বাবা তার জীবদ্দশায় প্রচুর পুরস্কার পেয়েছিলেন, অনেক পুরস্কার তিনি গ্রহণও করেন নি । পুরস্কারের ভারে নিজেকে ভারাক্রান্ত করতে চাইতেন না কখনো । যথাযথ পুরস্কার পাবার জন্য তার চরম আকুতি ছিলো কিনা জানিনা, তবে তার লেখার স্বীকৃতিস্বরুপ বাংলা একাডেমী পুরস্কার যখন তিনি পেয়েছিলেন তখন তার চোখেমুখে তৃপ্তির আভা দেখেছিলাম,যা আজও আমার চোখে ভাসে । কিন্তু বাবা তার জীবদ্দশায় কোন রাষ্ট্রীয় পুরস্কার পাননি। কারণটা সহজেই অনুমেয়। এ ধরনের পুরস্কার পাবার জন্য অনেকসময় দলাদলি/তোষামোদি ব্যাপারটিও ব্যক্তির কর্মের চেয়েও বেশি বড় হয়ে দেখা দেয় । তার কর্ম সুবিশাল হলেও উপরোক্ত দুটি যোগ্যতা ছিল তার মাঝে অনুপস্থিত । আর তাই রাষ্ট্রীয় পুরস্কারের ঝুলি ছিল তার সম্পূর্ন খালি । তবে বাবা বেঁচে থাকা অবস্থায় বেশ কয়েকবার শুনেছিলাম যে এবার হয়তো তিনিই রাষ্ট্রীয় পুরস্কার পাচ্ছেন-কিন্তু শেষপর্যন্ত তার নাম আর ঘোষিত হয়নি । এতে ভিতরে ভিতরে তার কী প্রতিক্রিয়া হতো তা তিনি মুখ ফুটে পরিবারকে বলেন নি কখনো।

অবশেষে তার মৃত্যুর ৮ বছর বাদে ভাষা ও সাহিত্যে তার বিশেষ অবদানের জন্য দেশের সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় পদক একুশে পদক তাকে দেয়া হলো । বাবার মরনোত্তর একুশে পদক প্রাপ্তিতে তার অগণিত ভক্তদের (তিনি নেই বিধায় ) কাছ থেকে আমাদের পরিবারের সকল সদস্যদের মুঠোফোনে অসংখ্য কল ও মেসেজ আসতে লাগলো । বেশির ভাগ ভক্তদেরই কথা অবশেষে বর্তমান সরকার হুমায়ুন আজাদকে যথাযথ সম্মান দিলেন বা অবশেষে বাংলাদেশের হুমায়ুন আজাদের কাছে যে ঋণ ছিল সে ঋণ পরিশোধ হলো। এরকম অসংখ্য শুভেচ্ছাবার্তায় বাবার অবর্তমানে আমরাই সিক্ত হলাম যেন । ইতিপূর্বে কোন রাষ্ট্রীয় পুরস্কার গ্রহণ অনুষ্ঠানে যাওয়া হয়নি আমার । বাবার একুশে পদক প্রাপ্তিতে উক্ত অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবার জন্য কন্যা হিসেবে চমৎকার একটি কার্ডও পেলাম । ওসমানী মিলনায়তনে সুধীজন পরিবেষ্টিত এরকম একটি অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে একদিকে ভালো লাগা ও অন্যদিকে বুকের মধ্যে একটা দলা-পাকানো কান্নার অনুভূতি আসছিল যেন। চোখের লেন্সে অবিরাম বাবা ঘুরছিলেন । বসে ছিলাম ওসমানী মিলনায়তনে কিন্তু মন বারবার চলে যাচ্ছিল রাড়িখালে বাবার সমাধিক্ষেত্রে । মনের ভিতর বাইরে এরকম মিশ্র অনুভূতি যা আগে কখনো হয়নি।

বাবার একুশে পদকটি মাননীয় প্রধানন্ত্রীর কাছ থেকে আমাদের মা গ্রহণ করেন । পুরস্কার বিতরনী অনুষ্ঠান শেষে কন্যা হিসেবে আবারো অসংখ্য অভিনন্দনে ভূষিত হলাম । হঠাৎই দুএকজন সাংবাদিকের কথায় অভিনন্দন বার্তা পাওয়ায় ছেদ পড়লো যেন । তাদের প্রশ্ন: স্যার বেঁচে থাকলে কি এই রাষ্ট্রীয় পুরস্কার গ্রহণ করতেন ? আমি বললাম, “আমি হুমায়ুন আজাদ নই, আমি তার কন্যা মাত্র, তিনি আজ নেই, তাই তিনি পুরস্কার গ্রহণ করতেন নাকি করতেন না সে সর্ম্পকে আমরা কোনদিনও আর তার মনোভাব জানতে পারবো না । তবে আমার বিশ্বাস, এখন ২০১২ সাল, মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের শক্তি ক্ষমতায়, দেশে এখন মুক্তবুদ্ধি ও মুক্তিচিন্তার জোয়ার । তিনি আজ বেঁচে থাকলে এই মুক্ত, স্বাধীন পরিবেশে আরো শানিত ভাষায় লিখতে পারতেন । দুর্ভাগ্য তার, তার নশ্বর দেহ আজ নেই বলে তিনি লিখতে পারছেন না আর দুর্ভাগ্য জাতির কারণ আজ তারা হুমায়ুন আজাদের লেখা পড়তে না পেরে নতুন নতুন পথের সন্ধান পাচ্ছেন না। এই সময়ে তার জীবিত থাকা জরুরী ছিল।

আজ যেহেতু দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ভিন্ন, দেরীতে হলেও বর্তমান সরকার তাকে মূল্যায়িত করেছেন, সুতরাং আমার বিশ্বাস তিনি বেঁচে থাকলে এ পুরস্কার তিনি গ্রহণ করতেন । সব কিছুইতো অবস্থা ও সময়ের উপর নির্ভরশীল, তাই না ?” আমি ব্যক্তিগতভাবে বাবার পুরস্কার প্রাপ্তিতে খুশি ও বর্তমান সরকারের কাছে কৃতজ্ঞ ।

আগষ্টের ১২ তারিখ বাবার ৮ম মৃত্যুবার্ষিকী, চোখের পলকে সময়গুলো চলে যাচ্ছে , কিন্তু বাবা ২০০৪ সালে বাংলা একাডেমী বইমেলা থেকে ফেরার পথে যে আত্রান্ত হয়েছিলেন সেই হত্যাপ্রচেষ্টা মামলাটির বিচার যেন থমকে আছে। বারবার মামলাটি বিভিন্ন হাতবদল হয়ে বর্তমানে হত্যামামলায় পরিণত হয়েছে, কিন্তু মামলাটির প্রথম বিচারের দিনেই কোন অগ্রগতি সাধিত হয়নি । আমি চাইনা বারবার মামলার ডেট পরুক আর অযথা এই মামলাটির বিষয়ে সময়ক্ষেপন করা হোক । বর্তমান সরকারের কাছে আমার একটাই আকুল আবেদন বর্তমান সরকারের সময়কালের মধ্যে হুমায়ুন আজাদ হত্যা মামলাটির বিচার যেন দ্রততার সাথে সঠিক আসামী ও ইন্ধনকারীদের চিহ্নিত করার মাধ্যমে নিষ্পন্ন হয়। একজন লেখকের উপর জঘন্য হামলার বিচার কি এদেশে হবেনা-এরকম বাংলাদেশই কি আমরা চেয়েছিলাম?

মৌলি আজাদলেখক, অভিনেত্রী, হুমায়ুন আজাদের কন্যা

৩৮ Responses -- “হুমায়ুন আজাদের একুশে পদকপ্রাপ্তি ও তাঁর মামলার বিচার”

  1. আরশাদ ইমাম

    সাতাশের সত্যাগ্রহ
    – আরশাদ ইমাম

    সাতাশে অাক্রান্ত তিনি
    সাতাশেই মুক্তি তার, উড়ে গেছে পাখি
    মাঝে ব্যবধান ছ’টি মাস, তারপর সকলই বিনাশ।

    এবং এ ক’মাসেই কবিতার ব্যবচ্ছেদ হয়েছে
    রক্তের শরীরে, কবিতার গায়ে উল্কি আঁকা হয়েছে
    পূর্ণ চন্দ্র নয়, অর্ধ চন্দ্র।

    কেউ কি আমাকে বলতে পারো
    ইসলামকে চিহ্নিত করতে গিয়ে ওরা
    অর্ধচন্দ্র কেন আঁকে, পূর্ণ চন্দ্র নয়?

    আমি জানি না, জানবার কোন আয়োজন-প্রয়োজন
    আছে বলে আজ আর মনে হয় না,
    শুধু মনে হয় এক আজানুলম্বিত অর্ধচন্দ্র
    সাপের মত বেষ্টন করে আছে সারাদেহ,
    আছে সকল সময়কে, সকল সভ্যতাকে
    অথবা সকল নবজাতকের নাভীমূলকে।

    (টীকাঃ অধ্যাপক কবি হুমায়ূন আজাদের মৃত্যু ব্যথিত করেছে আমাকে।
    ভীষণভাবে, ভীষণ থেকে ভীষণতর, গভীরভাবে, গভীর থেকে আরো গভীরে প্রচুর,
    প্রবল, প্রচন্ড। তাঁর ক্ষত আজো বয়ে চলেছি, চিন্তার শোকদুষ্ট স্রোতে/কোন এক ২৭ আগস্ট)

    আরশাদ ইমাম//০৬-০৫-২০১৫, বুধবার, ২৩ বৈশাখ ১৪২২//ঢাকার জীবন

    Reply
  2. জাভেদ ইকবাল

    আপনার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা।

    অনেক অন্ধকে পথ দেখিয়েছেন, তাদের মধ্য কেউ কেউ এখন চোখে দেখতে পায়, আপনি কি তা জানেন?
    কিন্তু অধিকাংশই জন্মান্ধ তাদের পক্ষে আলোর পথে কোনদিন চলা হবেনা।
    আলোর কাজ কিরণ ছড়ানো, যার প্রয়োজন সে পথ চিনে নেবে সেই আলো দেখে।
    ধন্যবাদ আলোর জন্য, কৃতজ্ঞ ………… ।
    জাভেদ ইকবাল।

    Reply
  3. অঙ্গন

    হুমায়ুন আজাদ স্যারের লেখালেখি আমাকে অন্যভাবে ভাবতে শেখায়। শুধু আমাকে নয়, আমার মতো অনেককেই। একজন লেখকের জন্য এ এক বিরাট সার্থকতা।

    বাবার প্রতি সন্তানের ভালবাসা চিরন্তন। এ ভালবাসাকে আমি শ্রদ্ধা জানাই। শ্রদ্ধা জানাই হুমায়ুন আজাদের প্রতি মৌলি আজাদের ভালবাসাকেও।

    অনেকেই বলছেন, হুমায়ুন আজাদ সম্পর্কিত সমালোচনাগুলো মৌলি আজাদ এড়িয়ে গিয়েছেন। আমি ছোট্ট করে বলতে চাই, এতটুকু একটু লেখায় পুরো হুমায়ুন আজাদকে ফুটিয়ে তোলা অসম্ভব। আর হুমায়ুন আজাদের প্রধান ত্রুটি (রক্ষণশীলদের দৃষ্টিতে), তিনি আবহমান প্রাচীন ধর্মানুভূতিকে আঘাত হেনেছিলেন- এ ছাড়া আর কিছুই নয়।

    আইনি ভাষায় আমরা হত্যা-মামলা না বলে হত্যাচেষ্টা মামলা বলছি। কারণ, সেই রাতের হত্যাচেষ্টায় হুমায়ুন আজাদকে হত্যা করা যায়নি। যদি তিনি সেই রাতেই মারা যেতেন, তবে হত্যা-মামলা বলতে আমাদের কোনও দ্বিধা থাকত না !!!

    তবে আমি নিশ্চত, এই সব নোংরা বিতর্ক এবং মৌলি আজাদের লেখায় তথ্যগত বিভ্রান্তি হুমায়ুন আজাদকে দিনদিন ছোট করে দিচ্ছে। আমার একটি ব্যক্তিগত অনুরোধ- তাঁকে তাঁর স্থানে থাকতে দিন। তাঁর হত্যাচেষ্টার বিচার হওয়া উচিত এবং সে দাবি রেখে মৌলি আজাদ ভুল কিছু করেননি….

    Reply
  4. আল-আমিন সরকার

    সত্যের সেবক হুমায়ুন আজাদ বেঁচে থাকবেন অনন্তকাল…. প্রত্যেক সত্যের সেবকের হৃদয়ে শক্তির উৎস হয়ে।

    Reply
  5. প্রলয় হাসান

    এখানে যারা আজাদ সাহেবের হত্যার বিচার চাচ্ছেন, তাদের বলছি, আপনাদের কি ধারণা হুমায়ুন আজাদকে “হত্যা” করা হয়েছে? যদি এই ধারণা হয়, তাহলে তার পক্ষে যুক্তি এবং প্রমাণ উপস্থাপন করুন। তা পারলে আমি নিজে শহীদ মিনারের পাদদেশে মানববন্ধন করে তাঁর হত্যার বিচার চাইব।

    Reply
    • প্রলয় হাসান

      আর যে মামলার কথা বলা হয়েছে এই লেখায়, সেটা হত্যা-প্রচেষ্টার মামলা। হত্যার মামলা নয়। হত্যা আর হত্যা-চেষ্টার ভেতরে যে পার্থক্য রয়েছে সেটা তো আপনারা বোঝেন, নাকি?

      Reply
  6. প্রলয় হাসান

    লেখাটি আগাগোড়াই পক্ষপাতমূলক এবং একজন কন্যা তার পিতার প্রতি অন্ধ ভালোবাসা এবং অন্ধ আবেগে লিখেছেন। কোনওরকম বস্তুনিষ্ঠ বাস্তবতার লেশমাত্র লেখাতে নেই। আপনার বাবা একজন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক এবং তুখোড় কবি ছিলেন। এর বাইরে আপনি যা বল্লেন – তার সবটুকুই বানোয়াট। আপনি রেফারেন্স চান? আমি দেব। আর আপনার বাবা ওই বই দুইটি লিখেননি। লিখেছেন সিমন দ্য বুভেয়ার নামের একজন পশ্চিমা নারীবাদী। আপনার বাবা শুধু অনুবাদ করেছেন। এ কথা আহমেদ ছফা মিডিয়াতে স্পষ্ট করে বলে গেছেন। ভাষা-বিজ্ঞানের উপর লেখা বই-ই তার চুরি করা। কপাল ভালো আপনার বাবা কোনও উন্নত বিশ্বের বিদ্যালয়ের শিক্ষক ছিলেন না। নতুবা অন্যের লেখা নিজের বলে চালিয়ে দেবার অপরাধে তাকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বের করে দেয়া হত।

    অন্ধ ভালোবাসার খোলস থেকে বেরিয়ে নিরপেক্ষ চোখে বাবাকে বিচার করতে শিখুন। আরেকটা কথা, আপনার লেখার মান অনেক খারাপ। আপনার বাবার লেখনী অনেক উঁচুমানের ছিল। আমরা তার মেয়ের কাছ থেকে এমন সস্তা লেখা আশা করি না।

    Reply
    • সান্দ্র মোহন্ত

      “দ্বিতীয় লিঙ্গ”লিখেছেন সিমন দ্য বুভেয়ার নামের একজন পশ্চিমা নারীবাদী লেখক; এই বইটি বাংলায় অনুবাদ করেছেন আজাদ স্যার, তবে ‌নারী বইটি আমি সরাসরি অনুবাদ বলি না; এটা “দ্বিতীয় লিঙ্গ” পশ্চিমা ছায়াতে বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে লেখা একদম বাংঙালি চরিত্রে। মৌলি এই জন্য ”সম্ভবত” বলেছে। এই ধারা বাংলাদেশে প্রথম।

      Reply
  7. মাহির দায়ান

    মৌলি, “দ্বিতীয় লিঙ্গ” বইটি সম্ভবত সিমন দ্য বুয়েভারার লেখা ।

    Reply
    • প্রলয় হাসান

      সম্ভবত বলছেন কেন? শুধু ‘দ্বিতীয় লিঙ্গ’ নয়, ‘নারী’ও সিমোনের লেখার অনুবাদ।

      Reply
  8. মীর আহসান হাবীব

    দিন-তারিখ ঠিক মনে নেই। সম্ভবত জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম বর্ষের ছাত্র ছিলাম তখন। স্যারের সঙ্গে হঠাৎ দেখা হয়ে গেল এলিফেন্ট রোডে। সামনাসামনি প্রথম এবং শেষ দেখা। সুযোগ পেয়ে বললাম, ‘স্যার, আপনার লেখা পড়ি, খুব ভালো লাগে পড়তে।’ তিনি মনে হয় বিরক্তই হলেন। আপন মনে হাটছিলেন। হঠাৎ আমার মতো একটা উটকো ঝামেলা। আমাকে হতাশ করে “ও” শব্দটি উচ্চারণ করে আমাকে আর কোনও কথা বলার সুযোগই দিলেন না তিনি। পাশ কাটিয়ে নিজ গন্তব্যে চলে গেলেন। প্রশংসা-খ্যাতি-জনপ্রিয়তা’র প্রতি তার বিন্দুমাত্র আকর্ষণ ছিল না। সেদিন কিছুটা খারাপ লাগলেও এখন বুঝি আদর্শ আর অনুপ্রেরণার সংজ্ঞা বোধহয় হুমায়ুন আজাদ।

    Reply
  9. A.K.M. Ataul Haque

    হুমায়ুন আজাদ আমার প্রিয় লেখক। আমি তাকে অন্তরের অন্তঃস্থল থেকে শ্রদ্ধা কার। আমি তার অনেক বই পড়েছি। ‘পাক সার জমিন সাদ বাদ,’ ‘নারী’ ইত্যাদি বই পড়ে অনেক কিছু জানতে পেরেছি। যে মৌলবাদীরা দেশে অস্থিরতা তৈরি করতে চায়, তারা হুমায়ুন আজাদের বই পড়ে নিজেদের ভুলগুলো বুঝতে পারবে। তার হত্যাকারীদের শাস্তি এখনও হয়নি কেন বুঝতে পারলাম না।

    Reply
    • প্রলয় হাসান

      হুমায়ুন আজাদের হত্যাকারী মানে কী বলতে চাচ্ছেন? তিনি তো জামার্নিতে মাত্রাতিরিক্ত মদ্যপান করে মারা গেছেন। তাকে তো কেউ হত্যা করেনি। শুধু হত্যা করার চেষ্টা হয়েছিল, তা-ও তিনি মারা যাবার বেশ কয়েক মাস আগে।

      Reply
  10. পারভেজ

    শ্রদ্ধেয়া

    আপনার বাবার জন্য আমরা ব্যথিত। যারা আপনার বাবার উপর হামলা করেছিল তারা নরাধম। আর সুবিচারের আশা এ দেশে করা মানে অরণ্যে রোদন করা। তবে এতদিনে আপনি নিজেও জেনেছেন যে আপনার বাবা বিরাট বিভ্রান্তিতে পড়ে গিয়েছিলেন। তিনি ইসলামের বিরুদ্ধে লিখতেন। আমরা আশা করি যে, আপনি এই কাজটি করবেন না। বরং আমরা তো এই আশা পোষণ করি যে, আপনি লেখায় এবং বাস্তবে ইসলামকে একনিষ্ঠভাবে আঁকড়ে ধরবেন। শুভকামনা রইল।

    Reply
    • Ahmed Mohiuddin

      ”তবে এতদিনে আপনি নিজেও জেনেছেন যে আপনার বাবা বিরাট বিভ্রান্তিতে পড়ে গিয়েছিলেন” আপনার এই বক্তব্যটা একটু সম্প্রসারণ করুন প্লিজ। হুমায়ুন আজাদ কোন বিষয়ে কী ধরণের বিভ্রান্তিতে পড়েছিলেন?

      Reply
      • Ahmed Mohiuddin

        উনি তো শুধু ইসলামের বিরুদ্ধে নন, এইসব সহ বহু কিছুর বিরুদ্ধে ছিল উনার শক্তিশালী ও প্রতিষ্ঠিত কলম। কিন্তু “ইসলামের বিরুদ্ধে লিখতে গিয়ে উনি বিভ্রান্তিতে পড়েছিলেন” এই তথ্যটা কোথা থেকে পাব, প্লিজ।

    • বাসার

      হুমায়ুন আজাদ বিভ্রান্তিতে পড়েননি। যেটা সত্যি সেটাই লিখতেন। শেষ দিন পর্যন্ত তাঁর লক্ষ্য ঠিক ছিল। তাঁর মতো সাহসী লেখক নেই। ভবিষ্যতে কবে আসবে জানা নেই। তাঁর শূণ্যতা পূরণ হয়নি। তিনি জীবিত থাকলে সরকার তাঁকে পুরস্কার দেয়ার সাহস পেত কিনা জানি না। তিনি আমার গুরু। কষ্ট অনুভব করি আজও তাঁর জন্য।

      তাঁর কন্যাকে জিজ্ঞাসা, ‘আপনি কি বাবার আদর্শ মেনে চলেন?’

      Reply
  11. Mohammad Mohiuddin

    সুপ্রিয় মৌলি,

    লেখার জন্য ধন্যবাদ। স্যারকে আমি অনেক অনেক শ্রদ্ধা করি। তিনি বাংলা গদ্য রচনায় যে উৎকর্ষ সাধন করেছেন, তা অমর হয়ে থাকবে। বিশেষ করে, খ্যাতি ও লোকদেখানো সুনাম-দুর্নমের প্রতি সম্পূণ নির্মোহ থেকে তিনি বাংলা সাহিত্যের যে নিরলস সাধনা করে গিয়েছেন তা বাঙালি জাতির জন্য দীর্ঘদিনের পাথেয় হয়ে থাকবে। কিছুসংখ্যক কুপমন্ডূক বর্বরের কর্মকান্ডের জন্য বাঙালি মাত্রই লজ্জাবোধ করবে এ আমার দৃঢ় বিশ্বাস। এ মূহুর্তে আপনাকে সমবেদনা জানানোর ভাষা আমার নেই। ভালো থাকুন। আপনার পিতার আত্মা পরপারে শান্তিতে থাকুক, এ কামনা করছি্‌।

    Reply
  12. Pangkoj

    হুমায়ুন আজাদের তুলনা তিনি নিজেই, কেউ সেই স্থান দখল করতে পারবে না। সত্যিকারের এক আলোকিত মানুষ ছিলেন তিনি।

    Reply
  13. পাপন

    মৌলি, আপনার পরিচিতিতে “টেলিভিশন অভিনেত্রী” লেখা হয়েছে। অভিনেত্রীদের সম্পর্কে আপনার বাবার লেখা প্রবচন পড়েছি। তাই আপনাকে এ পরিচয়ে দেখে আমি বিভ্রান্ত ও দুঃখিত বোধ করছি ।

    Reply
  14. Suboktagin Sakie

    আমি স্কুল-কলেজ থেকে কিছুই শিখতে পারিনি| বাংলাভাষা, সাহিত্য ও দর্শন সম্পর্কে যা কিছু শিখেছি তা আমার প্রয়াত বাবার কাছে, তিনি হুমায়ুন আজাদ| তাকে দেখিনি, তার অনেক গ্রন্থ পডেছি। তার তুলানায় প্রথাগত কবি-ঔপনাসিকদের তুচ্ছ মনে হয়| জনপ্রিয়দের বিরুদ্ধে দাঁড় করাই তাকে। নিউইয়র্কের কঠিন জীবনেও ভুলিনি তাকে।

    কারণ তিনিই আমাদের মুক্তির একমাত্র হাতিয়ার|

    Reply
  15. Md Mokhlesur Rahman

    খুব ভালো লাগলো কিন্তু হুমায়ুন আজাদ জীবিত থাকা অবস্থায় স্বীকৃতি পেলে য্থায্থ হ্ত। তার হত্যার দ্রুত বিচার হওয়া খুব জরুরি।
    – কানাডার ভ্যানকুভার থেকে

    Reply
  16. মোঃ আল-আমিন

    খুবই সুন্দর লিখেছেন। বাবার মতো আরও অনেক লিখবেন আশা করি। সন্তান হিসেবে বাবার জন্য যে মমত্ববোধ দেখিয়েছেন তা যে কোন মানুষকে আবেগাপ্লুত ও ব্যথিত করবে। বাংলার মাটিতে আজাদ স্যার একবার-ই এসেছেন। স্যারের হত্যার বিচার দ্রুত সম্পন্ন করা হোক এ দাবির সঙ্গে একমত পোষণ করছি।

    Reply
  17. sadid syed

    আমার প্রিয় লেখক হুমায়ূন আজাদ। তাঁর হত্যার জন্য দায়ী ব্যক্তিদের বিচার চাই।

    Reply
  18. Ahmed Mohiuddin

    বিচার করার সদিচ্ছা থেকে দেলোয়ার হোসেন সাঈদীকে জেরা করলে হত্যাকারী শনাক্ত করা ও বিচার করা সহজ হবে।

    Reply
  19. Dr. Abdul Moyeen

    অত্যন্ত সুন্দর লিখেছেন। বাবার মতো আরও অনেক লিখবেন আশা করি। সন্তান হিসেবে বাবার জন্য যে মমত্ববোধ দেখিয়েছেন তা যে কোনও বাবার মনকেই ব্যথিত করবে। আজাদ স্যারের হত্যার বিচার দ্রুত সম্পন্ন করা হোক এ অনুরোধ/দাবির সঙ্গে একমত পোষণ করছি।

    Reply
  20. Ahmed Mohiuddin

    ‘ব্যক্তি’ হুমায়ুন আজাদ এই লেখকের বাবা হতে পারেন, তাতে ‘প্রতিষ্ঠান’ হুমায়ুন আজাদের কিছু এসে যায় না। হুমায়ুন আজাদের যাবতীয় কিছুর মালিক হুমায়ুন আজাদের পরিবার ও সন্তানেরা হতে পারেন। তবে হুমায়ুন আজাদের জীবন দিয়ে প্রতিষ্ঠিত পথ-মত-শিক্ষার মালিক তারা নন। এর বেশি কিছু বলতে চাই না। হৃদয়ে ব্যথা বোধ করছি।

    Reply
    • মাহির দায়ান

      হতাশ হলাম মৌলি। দেশ এখন মুক্তবুদ্ধির জোয়ারে আছে এটা যদি আপনি সত্যি মনে করেন তাহলে আর বলার কিছু নেই। আর “বর্তমান সরকারের কাছে কৃতজ্ঞ” হওয়ারও কিছু হয়েছে বলে মনে হয়নি আমার।

      Reply

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। প্রতিক্রিয়া লেখার সময় লক্ষ্য রাখুন--

  • ১. স্বনামে বাংলায় প্রতিক্রিয়া লিখুন।
  • ২. ইংরেজিতে প্রতিক্রিয়া বা রোমান হরফে লেখা বাংলা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না।
  • ৩. প্রতিক্রিয়ায় ব্যক্তিগত আক্রমণ গৃহীত হবে না।

দরকারি ঘর গুলো চিহ্নিত করা হয়েছে—