বঙ্গবন্ধুর ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে অপপ্রচার করা এদেশের অনেক বাঙ্গালীর প্রিয় বিনোদন। এই বিকৃত বিনোদনের সবচেয়ে নির্মম শিকার বঙ্গবন্ধুর বড় ছেলে শেখ কামাল।

৭১-এ সরাসরি যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেও যার কপালে মুক্তিযুদ্ধে না যাওয়ার অপবাদ জুটেছে। যদিও ভারতের বেলুনিয়া থেকে সেনাবাহিনীর প্রথম যে ব্যাচটি কমিশন লাভ করে, সেই ব্যাচের একজন শেখ কামাল। মুক্তিযুদ্ধকালীন বাংলাদেশ সামরিক বাহিনীর প্রথম ব্যাচের ক্যাডেট অফিসারদের একজন এবং সেকেন্ড লেফট্যানেন্ট থাকা অবস্থায় প্রধান সেনাপতি এমএজি ওসমানীর এডিসি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

ডালিমের বউ অপহরণের মিথ্যা অপবাদও জুটেছে শেখ কামালের কপালে। ডালিম নিজে সেই অপহরণ সম্পর্কে তার “যা দেখেছি যা বুঝেছি যা করেছি” বইতে পরিস্কার লিখে গেলেও শেখ কামালের সেই অপবাদ ঘোঁচেনি। অত সহজে ঘোঁচার কথাও নয় অবশ্য। অন্যের বউ অপহরণ গল্পে যত রস আছে, সত্যি ঘটনাটায় ততটা নেই। ধর্ষকামী ও মর্ষকামী মানসিকতার মানুষদের সত্য জানার আগ্রহ ও স্বীকার করার সৎসাহস কম থাকবে, সেটাই স্বাভাবিক।

অপহরণ ঘটনার দিন ঢাকা লেডিস ক্লাবে ডালিমের খালাতো বোন তাহমিনার বিয়ে চলছিলো। উপস্থিত ছিলেন তৎকালীন ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের নেতা ও রেডক্রসের সভাপতি গাজী গোলাম মোস্তফার পরিবারসহ অন্যান্য সামরিক ও বেসামরিক অতিথিবৃন্দ। ডালিমের কানাডা ফেরত শ্যালক বাপ্পির চুল টানা নিয়ে গাজী গোলাম মোস্তফার ছেলেদের সাথে কথা কাটাকাটি ও হাতাহাতি হয়। বিষয়টা সেখানেই নিস্পত্তি হয় না। গাজী গোলাম মোস্তফা  সশস্ত্র লোকজন নিয়ে ক্লাবে এসে ডালিম, ডালিমের বউ নিম্মী ও তাদের পরিবারের আরো কয়েকজনকে উঠিয়ে নিয়ে যায়। বিষয়টির নিষ্পত্তি করতে শেষ পর্যন্ত বঙ্গবন্ধুকে হস্তক্ষেপ করতে হয়েছিলো।

শেখ কামালের বিরুদ্ধে আরেকটা জব্বর মিথ্যাচার হলো ব্যাংক ডাকাতির অভিযোগ। ১৯৭৩ সালের বিজয় দিবসের আগের রাতে ঢাকায় গুজব ছড়িয়ে পড়ে, সিরাজ শিকদার তার দলবল নিয়ে এসে শহরের বিভিন্নস্থানে হামলা চালাতে পারে। এ অবস্থায় সাদা পোশাকে পুলিশ গাড়ি নিয়ে শহরজুড়ে টহল দিতে থাকে। সর্বহারা পার্টির লোকজনের খোঁজে শেখ কামালও তার বন্ধুদের নিয়ে মাইক্রোবাসে করে ধানমন্ডি এলাকায় বের হন। সিরাজ শিকদারের খোঁজে টহলরত পুলিশ মাইক্রোবাসটি দেখতে পায় এবং আতংকিত হয়ে কোনো সতর্ক সংকেত না দিয়েই গুলি চালায়। শেখ কামাল ও তার বন্ধুরা গুলিবিদ্ধ হন। গুলি শেখ কামালের কাঁধে লাগে। তাকে তখনকার পিজি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

প্যারেড শেষে মইনুল হোসেন চৌধুরী পিজিতে যান শেখ কামালকে দেখতে। হাসপাতালে বেগম মুজিব শেখ কামালের পাশে বসেছিলেন। বঙ্গবন্ধু তার ছেলের ওই রাতের অবাঞ্ছিত ঘোরাফেরায় ক্ষুব্ধ হয়েছিলেন এবং শেখ কামালকে হাসপাতালে দেখতে যেতে প্রথমে অস্বীকৃতি জানান। পরে ১৬ ডিসেম্বর বিকেলে বঙ্গবন্ধু হাসপাতালে যান। (তথ্যসূত্র: মেজর জেনারেল মইনুল হোসেন চৌধুরীর “এক জেনারেলের নীরব সাক্ষ্য : স্বাধীনতার প্রথম দশক; পৃষ্ঠা ৬৫-৬৬)

জেনারেল মইন বইটিতে আরো লিখেছেন, “এদিকে স্বাধীনতাবিরোধী ও আওয়ামী লীগ বিদ্বেষীরা এই ঘটনাকে ভিন্নরূপে প্রচার করে। ‘ব্যাংক ডাকাতি’ করতে গিয়ে কামাল পুলিশের হাতে গুলিবিদ্ধ হয়েছে বলে তারা প্রচারণা চালায় এবং দেশ-বিদেশে ভুল তথ্য ছড়াতে থাকে। যদিও এসব প্রচারণায় সত্যের লেশমাত্র ছিল না।”

যে জিপটিতে কামালরা দুষ্কৃতকারীদের ধরতে গিয়েছিলেন সেটি কার ছিলো জানেন? বর্তমান বিএনপির নেতা ইকবাল হাছান টুকুর এবং সেদিন জিপটি টুকুই ড্রাইভ করেছিলেন। এবং এই ঘটনাটি পরদিন ‘দৈনিক মর্নিং নিউজ’ এ প্রকাশিতও হয়। দৈনিক মর্নিং নিউজের তৎকালীন সম্পাদক ছিলেন প্রবীণ সাংবাদিক এ.বি.এম.মুসা।

আরো আছে, শেখ কামাল নাকি তৎকালীন স্বনামধন্য অ্যাথলেট সুলতানা খুকিকে উঠিয়ে নিয়ে গিয়ে বিয়ে করেছিলেন। শেখ কামাল সুলতানার প্রেমে পড়েছিলেন এবং সেটা তাকে জানিয়েওছিলেন সত্যি। কিন্তু উঠিয়ে নিয়ে যাননি। রীতিমতো দুই পরিবারে মধ্যে আলাপ আলোচনার মাধ্যমে বিয়ে হয়। সুলতানা কামালের বাবা ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান প্রকৌশলী দবির উদ্দিন আহমেদ।

শুধু তাই নয়, শেখ কামালের বিয়েতে পাওয়া সকল মূল্যবান উপহার বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে এবং বেগম ফজিলাতুন্নেসার তত্ত্বাবধানে সরকারী তোষাখানায় জমা দেয়া হয়। শুধুমাত্র একটি সোনার নৌকা এবং একটি মুকুট স্মৃতি হিসেবে রেখে দেয়া হয়। বঙ্গবন্ধুর তৎকালীন একান্ত সচিব ড. মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিন সরাসরি এই জমার কাজটা তদারকি করেন। বাসসের কাছে দেয়া তাঁর স্মৃতিচারণে তিনি একথা বলেওছিলেন।

বঙ্গবন্ধুর বড় ছেলে হওয়ায় শেখ কামালকেই সবচেয়ে বড় থ্রেট মনে করেছিলো নপুংসকের দল। তখন যদি তারা জানতো সপরিবারে হত্যার হাত থেকে বেঁচে যাওয়া শেখ হাসিনা পরবর্তীতে দেশে ফিরে আসবেন। তবে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধেও অপপ্রচারের বন্যা বয়ে যেতো নিশ্চিত।

শুধু জাতির পিতার সন্তান হওয়ার অপরাধে যাকে এতোগুলো অপপ্রচারের শিকার হতে হয়েছে এবং শেষপর্যন্ত হাতের মেহেদীর দাগ উঠে যাওয়ার আগেই স্ত্রী সুলতানা কামালসহ অকালে মৃত্যুবরণ করতে হয়েছে, সেই ভুল সময়ে চলে যাওয়া মানুষটির আজ জন্মদিন।

শুভ জন্মদিন জানানোর ভাষা নেই, শুধু নিরন্তর ক্ষমা প্রার্থনা করি। এটুকুই।

শাশ্বতী বিপ্লবউন্নয়ন কর্মী ও অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট

১৫ Responses -- “শেখ কামাল– মিথ্যাচারে আঁকা ইতিহাসের এক “খলনায়ক”!”

  1. মোঃ সোহেল রানা রাংগা

    আমি চাকরির সুবাদে অনেক মানুষের সাথে মিশেছি। তেমনি এক সময় (২০০৭) এক রাজাকার পরিবারের সদস্যের সাথে আমার সাক্ষাত হয় এবং সেই লোকটিও আমাকে একই ধরনের কথা বলে শেখ কামাল সম্পর্কে। আমি মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী প্রজন্মের যুবক হওয়ায় কথাগুলো অবিশবাস্য, ভন্ডামী মনে হলেও তীব্র প্রতিবাদ জানাতে পারিনি। কারণ আমিও সঠিক ইতিহাস জানার সুযোগ পাইনি। আপনাকে অনেক ধন্যবাদ। আসুন আমরা সবাই মিলে ইতিহাসকে কলংকমুক্ত করার মাধ্যমে মুজিববর্ষ উদযাপন করি।

    Reply
  2. Hasan Shahid Ferdous

    শেখ কামালের বিরুদ্ধে এই ঘটনাগুলো আমি কখনোই বিশ্বাস করিনি।জানি এটা প্রোপাগান্ডা ছাড়া কিছুই না। তবে ডালিমের এবং মেজর জেনারেল মইনুল হোসেন চৌধুরীর বইয়ের তথ্যসূত্র দিয়ে
    অনেক উপকার করলেন ,আমি সংরক্ষণের চেষ্টা করবো। ধন্যবাদ আপনাকে।

    Reply
  3. শামীম মিয়া

    আওয়ামীলীগ নেতা গাজি গোলাম মোস্তফার ছেলে ছিল শেখ কামালের বন্ধু। এদের প্রায় ৩০ জনের একটা দল ছিল। বিভিন্ন জায়গায় এরা আড্ডা মারত। আবার সেনাবাহিনীর অফিসারদের কোন পার্টি হলে সেখানেও এই দলটি উপস্থিত হত। দলের মধ্যে একজন তৎকালীন প্রেসিডেন্টের ছেলে হওয়ায় দলটির ক্ষমতাই ছিল অন্যরকম। মেজর জেনারেল মইনুল হোসেন চৌধুরী (অবঃ) বীরবিক্রমের লেখা এক জেনারেলের নিরব সাক্ষ্য : স্বাধীনতার এক দশক গ্রন্থে কর্ণেল ডালিমের স্ত্রী ও চাকুরিচ্যুতের বিষয়ে তথ্য পাওয়া যায়। তিনি লিখেছেন, ১৯৭৪ সালের জানুয়ারি মাসের শেষদিকে ঢাকায় এক বিয়ের অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগের তৎকালীন প্রভাবশালী নেতা এবং বাংলাদেশ রেডক্রসের চেয়ারম্যান গাজি গোলাম মোস্তফার ছেলে ও তার সঙ্গীরা মেজর শরীফুল হক ডালিমের স্ত্রীর সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করে। এর প্রতিশোধ হিসেবে মেজর ডালিম তার কিছু সঙ্গী আর্মি অফিসার এবং সৈনিক নিয়ে গাজী গোলাম মোস্তফার বাসা আক্রমণ ও তছনচ করে। এর ফলে সামরিক শৃঙ্খলাভঙ্গের অপরাধে কয়েকজন অফিসারকে সেনাবাহিনীর প্রশাসনিক আদেশে চাকুরি থেকে বরখাস্ত করা হয়। এরমধ্যে উল্লেখ্যযোগ্য ছিলেন মুক্তিযোদ্ধা মেজর শরীফুল হক ডালিম এবং এস এইচ এম বি নূর চৌধুরী। মইনুল হোসেন চৌধুরী বীরবিক্রমের এমন বক্তব্য থেকে স্পষ্ট হয় মেজর ডালিমের স্ত্রীর সাথে কারা অসৌজন্যমূলক ব্যবহার করেছিল এবং কেন ডালিম চাকুরিচ্যুত হয়েছিল। ওই বিয়ের অনুষ্ঠানে শেখ কামাল উপস্থিত ছিলেন। এই উপস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে ষড়যন্ত্রকারীরা শেখ কামালের বিরুদ্ধে অপপ্রচারে লিপ্ত হয়। ঘটনার উত্তেজনায় ডালিমের স্ত্রী মেজর ডালিমকে শান্ত করার জন্য শার্ট ধরে টানলে ডালিমের শার্ট ছিঁড়ে যায় এবং উপস্থিত অনেকে উভয়পক্ষকে শান্ত করার চেষ্টা করলে হাল্কা ধাক্কাধাক্কির ঘটনাকে পরে বিকৃত করে বলা হয়, ডালিমের স্ত্রীর গায়ে হাত দেয়া হয়েছে। লেডিস ক্লাবের কাছেই শেখ জামাল এবং শেখ মারুফ ছিল। তারা ডালিম ও তার স্ত্রীকে ৩২নং রোডে বঙ্গবন্ধুর বাড়িতে নিয়ে বঙ্গবন্ধুকে ঘটনার কথা বললে বঙ্গবন্ধু আওয়ামী লীগ নেতা গাজী গোলাম মোস্তফা ও তার ছেলেকে ডেকে এনে ব্যাপারটা মীমাংসা করে দেন। মেজর ডালিম ও তার স্ত্রী নিন্মী বেগম মুজিবকে মা বলে ডাকতেন এবং বঙ্গবন্ধুর বাড়িতে তাদের ও মেজর ডালিমের শাশুড়ির অবাধ যাতায়াত ছিল। ঘটনা মীমাংসা হওয়ার পরও পরবর্র্তীতে মেজর ডালিমের সেনাবাহিনী থেকে সাসপেন্ড নিয়ে মেজর নূর সেনাবাহিনীর সদস্যদের দিয়ে হৈ চৈ করে, যা সেনা আইনে অপরাধ। যার জন্য আর্মির শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে মেজর নূরকে সেনাবাহিনী থেকে সাসপেন্ড করা হয়।কেবল মইনুল হোসেনই নন, স্বয়ং মেজর ডালিমও সেদিনের বিয়ে বাড়ির ঘটনাটি লিখেছিল। তার যা দেখেছি যা বুঝেছি যা করেছি বইয়ের ৪২৭ পৃষ্ঠা থেকে শুরু করে ৪৪০ পৃষ্ঠা পর্যন্ত বিয়ের বাড়ির ঘটনাটির বিস্তারিত বিবরণ পাওয়া যায়। ডালিম এ গ্রন্থে নিজেকে ও স্ত্রীকে অপহরণের জন্যে গাজি গোলাম মোস্তফার ছেলেকে দায়ী করছিল।

    Reply
  4. মেজর ওয়ালিউল ইসলাম বীর প্রতীক

    সুখে ঘুমাও মুক্তিযোদ্ধা বন্ধু। তুমি পরিষ্কার মনের নিস্পাপ একজন দেশপ্রেমিক। তুমি অমর।

    তোমার কোর্সমেট,
    মেজর ওয়ালি বীর প্রতীক

    Reply
  5. সফি আহমেদ

    বিষয়টি আমার জানা আছে।আমি তখন সদ্য মুক্তিযুদ্ধের পর পর বুয়েটে ইঞ্জিনিয়রিং অথবা সেনাবাহিনীতে ভর্তির প্রস্ততির নবাবপুর রোডের কাছাকাছি যদুনাথ বসাক লেনে থাকি।বাসাটি বিহারীদের দখলে ছিল যা আমরা মুক্তিযুদ্ধারা ব্যবহার করছিলাম।
    ঘটনাক্রমে আমার এককালের স্কুল সহপাঠী সিরাজ যিনি ছিলেন আমার রুমমেট। মুজিববাহিনীর একজন সদস্য।এবং সেসময়ে ফজলুল হক মনির স্নেহধন্যের কারনে পুলিশের সাব-ইন্সপেক্টর পদে তেজগাঁও বিমানবন্দরে নিয়োজীত।সার্জেন্ট সিরাজ। মতিঝিল এলাকায় রাতের গোলাগো্লির অন্যতম নায়কদ্বয় সার্জেনেট দুলু এবং কিব্রিয়া দুইজনেই ভোরে এসেছিলেন সার্জেন্ট সিরাজের সাথে দেখা করতে সাথে রাতের স্বাক্ষী গুলিবিদ্ধ গাড়ীটি।উল্লেখিত দুইজনেই মুক্তিযুদ্ধা এবং যতদুর জানি মুজিব বাহিনীর।উদ্দেশ্য শেখ ফজলুল হক মণির সহায়তা কামনা।
    উনাদের মুখ থেকে সরাসরি আমার শোনা। প্রতিদিনের রাতের রুটিন টহলে দুলু-কিবরিয়া ওয়ারি পুলিশ ফাঁড়ি থেকে সেসময়ের বরাদ্দ ডাটসান মডেলের গাড়ী নিয়ে মতিঝিল এলাকায় টহল দিচ্ছিল এরা। হ্যা,সিরাজ সিকদারের গুপ্ত হত্যার খবর চলছিল ঢাকায়। যাই হউক এঁদের টহল নজরদারীতে যে মাইক্রো বাসটির অনুসসরণ ছিল, সেই মাইক্রবাসে ছিলেন শেখ কামাল এবং কিছু ছাত্রলীগের কর্মি। এরা এসেছিল মতিঝিলে বাংলারবানী পত্রিকা অফিসে। সার্জেন্ট কিবরিয়া দুলুর অনুসরণে এঁরা ভেবেছিল সিরাজ শিকাদারের পক্ষের ক্যাডার। একে অপরকে সন্দেহের মধ্যেই গুলি বিনিময় এবং কামাল আহত হন। ইতিমধ্যে গাড়ীর সার্চলাইটে আহত কামাল সার্জেন্ট কিবরিয়াকে চিনে ফেলে চেঁচিয়ে বলেন-এই কিবরিয়া গুলি বন্ধ কর,আমি কামাল। হ্যা,এরা পরস্পর বন্ধু এবং সম্পর্ক তুই তোকারির। অবশেষ গুলিবিদ্ধ গাড়িতেই কামালকে ধরাধরি করে হাসপাতালে নেয়া হয় কিবরিয়া এবং দুলুর তত্বাবধানে। কামালকে ভর্তি করিয়েই আমার রুমমেট বন্ধু সিরাজের কাছে ছুটে আসে।
    যদি প্রশ্ন উঠে শেখ কামাল এবং তার গাড়ীতে অস্ত্র কেন ছিল! হ্যা, উত্তরটা দিচ্ছি- সদ্য স্বাধীনতার পর অস্ত্র ছিল ঠিক যেন বাচ্চাদের হাতের খেলনা। এমনি খেলনা যে পুকুরের মাছ মারার জন্য কেউ চাইলে জাল না দিয়ে গ্রনেড চার্জ করলেই হত!

    Reply
  6. আশরাফুল ইসলাম

    আসলে কে কি ছিল তা আমাদের জানা সম্ভব নয়। সবাই নিজের নিজের মত করে কাউকে নায়ক কাউকে খলনায়ক আবার কাউকে ভিলেন বানিয়ে দিয়েছে। মুক্তিযুদ্ধকে ঢাল বানিয়ে সবাই এখন রাজনৈতিক ফায়দা লুটছে। আমাদের জেনারেশন সত্যটা কখনই জানতে পারবে না। নিরপেক্ষ কোন ইতিহাসবিদ নেই যে আমাদের সঠিক তথ্য দিতে পারে। সবাই এখন রাজনৈতিক মতাদর্শে ভাগ ভাগ হয়ে গেছে।

    Reply
  7. গোলাম সারওয়ার

    কিন্তু সেই সময় কি দেশে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ছিলো না? সিরাজ শিকদারকে ধরতে রাষ্ট্রপ্রধানের বড় ছেলেকে জিপ নিয়ে বের হতে হয়েছিলো কেনো?

    Reply
    • হারুন

      ”বর্তমান বিএনপির নেতা ইকবাল হাছান টুকুর এবং সেদিন জিপটি টুকুই ড্রাইভ করেছিলেন”।
      সব তথ্য উনার কাছে আছে!!

      Reply
    • পল্লব

      “আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী” অবশ্যই ছিলো। কিন্তু সদ্য স্বাধীন একটা দেশের “আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী” কতটুকু সামর্থ্য রাখে, সেটা কিন্তু ভেবে দেখবার বিষয়। আর আমার মনে হয়, সেসময়ে সিরাজ শিকদার সংক্রান্ত বিষয়ে, শুধুমাত্র “আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী” যথেষ্ট ছিলোনা।

      Reply
  8. Mohshin Habib

    ভালো লিখেছেন। তবে একটি তথ্য ভুল আছে। গাজী গোলাম মোস্তফা জিপে ডালিমকে তুলে নিয়েছিল। তার স্ত্রী বা পরিবারের অন্য কাউকে না।

    Reply
  9. সৈয়দ আলি

    শেখ কামালের ডাকাতির ঘটনাটি সর্বৈব মিথ্যা। স্রেফ মুখে মুখে এই মিথ্যাটি চালু হয় কিন্তু ইতিহাসের ধোপে টেকেনা। শেখ কামালের জিপে সঙ্গী বদরুল (বাড়ি মৈমনসিংহের তারাকান্দা) পরে আমাকে বলেছিলো যে ‘কামাল ভাই শরীর বের করে আমি কামাল, আমি কামাল বলে গুলি না খেলে স্পেশাল পুলিশের এসপি মাহবুবের পুলিশ দলের গুলিতে আমরা সবাই মারা যেতাম’। ক্রুদ্ধ শেখ মুজিব নাকি প্রশ্ন করেছিলেন যে সর্বহারা ধরতে পুলিশ আছে, কামাল গেলো কেন?
    সেতার বাদক, ক্রিকেটার শেখ কামালের প্রেমে সুলতানা আপাও পড়েছিলেন। এটি নিয়ে আমরাও হাসি তামাসা করে কামাল ভাইয়ের কপট বকা খেয়েছি। আমি স্বচক্ষে সুলতানা আপাকে টিএসসিতে আসতে দেখেছি।
    তবে তখনকার সময়ের যারা আজো বেঁচে আছেন, তারা ডাকসু নির্বাচনের সন্ধ্যায় মোহসিন হলের ব্যালট বাক্স উঠিয়ে নেয়ার ঘটনাটি ভুলবেন না।
    আজকের শামীম ওসমান জাতীয়দের তুলনায় প্রধানমন্ত্রীর পুত্র শেখ কামালের স্বেচ্ছাচার কিছুই ছিলো না। কামাল ভাইকে স্মরণ করছি।

    Reply
  10. Bongo Raj

    একজন প্রধানমন্ত্রী তথা জাতির পিতার ছেলে হয়ে ব্যাংক ডাকাতি করতে যাবার দরকার হবে কেন? যেখানে এই দেশে একজন প্রতাপশালী নেতার হাতের ইশারায়ই কেল্লা ফতে হয়ে যায়- বাসায় এসে পা ঠুকে সালাম দিয়ে টাকা দিয়ে যায়।
    দ্বাদশ শ্রেণীর সামান্য একজন ছাত্র হয়েও সেই সময় তা বুঝে ছিলাম। এই নিয়ে তুমুল ঝগড়া করেছিলাম, জাসদপন্তী ছাত্র নামক অছাত্রদের সাথে কলেজের বারান্দায়! সেদিনের সেই অছাত্ররা আজ কি ভাবছে?

    Reply
  11. yasin huda

    যত বড় হেডলাইল দিয়েছেন …অত বড় খলনায়ক ওনাকে কেউ মনে করে না।

    Reply

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। প্রতিক্রিয়া লেখার সময় লক্ষ্য রাখুন--

  • ১. স্বনামে বাংলায় প্রতিক্রিয়া লিখুন।
  • ২. ইংরেজিতে প্রতিক্রিয়া বা রোমান হরফে লেখা বাংলা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না।
  • ৩. প্রতিক্রিয়ায় ব্যক্তিগত আক্রমণ গৃহীত হবে না।

দরকারি ঘর গুলো চিহ্নিত করা হয়েছে—