ইসলাম মুসলিম নারীদেরকে যে অধিকার দিয়েছিল তা হরণ করছেন আমাদের কিছু আলেম আর সেটা মুসলিম নারীদেরকে ফিরিয়ে দিলেন অমুসলিম নেতারা ।

ভারতের বহু আলেম তিন তালাকের বিরুদ্ধে, কিন্তু সর্বোচ্চ সংগঠন অল ইন্ডিয়া মুসলিম পার্সোন্যাল ল’ বোর্ডের (AIMPLB) আলেমরা তিন তালাক নিষিদ্ধের ঘোর বিরোধী। ২৯ জুলাই ২০১৯ তারিখে সংসদে পাশ হল তিন তালাক নিষিদ্ধের বিল, তাৎক্ষণিক তালাক দিলে স্বামীর ৩ বছরের জেল ও জরিমানা হবে। এ নিয়ে ভারতে তোলপাড় – মুসলিম নারীরা ও মানবাধিকার কর্মীরা উৎসবে ফেটে পড়েছেন, বিক্ষুব্ধ AIMPLB মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

তিন তালাকের কুফল কতদূর যেতে পারে? খবর:- “বারবার তিন তালাক স্বামীর – নিকাহ হালালার অছিলায় লাগাতার ধর্ষণ করেছে শ্বশুর – ইন্ডিয়ান টাইমস – এই সময় – ১৯ জুলাই ২০১৮। আপাতত: এই নিয়ে ধোঁয়াশা রয়েছে:-

. স্বামীর তিন তালাক উচ্চারণ কি এক তালাক ধরা হবে?

. স্বামীর জেল হলে সংসারের খরচ কে দেবে?

. জেল থেকে ফিরে স্বামী তার স্ত্রীর সাথে কি ব্যবহার করবে তা সহজেই অনুমেয়। কাজেই, এই

আইন করে মুসলিম নারীদেরকে আরো বিপদের মুখে ঠেলে দেয়া হল না কি?

. এটা দেওয়ানী মামলা, এটাকে কেন ফৌজদারী বিভাগে ফেলা হল?

. তিন তালাক উচ্চারণে তালাক হবেনা। তাহলে, যে উচ্চারণের কোনো প্রভাব সমাজ বা জীবনের ওপর নেই তা কেন অপরাধ হবে?

. বহু ধর্মের বহু সংস্কৃতির ভারতে এটা কি “ইউনিফর্ম সিভিল কোড” অর্থাৎ “সবার জন্য এক

আইন”- সেদিকে পদক্ষেপ?

এগুলোর জবাব পেতে আমাদেরকে অপেক্ষা করতে হবে। এখন দেখা যাক এ ব্যাপারে ইসলাম নারীকে কি অধিকার দিয়েছে ও কিভাবে তা হরণ করা হয়েছে।

() কোরান কি বলে

দ্য ক্রাইটেরিয়ন, আল ফুরকান – সত্য মিথ্যার পার্থক্য নির্ধারণকারী গ্রন্থের সুস্পষ্ট মানদণ্ড- যে বিধানে নিরপরাধের কষ্ট হয় তা আল্লাহর বিধান হতে পারে না, পিরিয়ড (বাকারা ১৮৫, মায়িদা ৬ ও হজ্ব ৭৮)।

(ক) কোরানে দূর দূরান্ত পর্য্যন্ত কোথাও তাৎক্ষণিক তালাকের প্রতি বিন্দুমাত্র প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সমর্থন নেই বরং উল্টোটা আছে। সূরা বাকারা ২২৯ – তালাক পূর্ন হতে কমপক্ষে দু’মাস লাগে।

(খ) তিন তালাক সাধারণত: ঘটে স্বামীর রাগের মাথায়, পরে স্বামী প্রায়ই অনুশোচনা করে। কোরান তাকে অধিকার ও সুযোগ দিয়েছে ওই দুমাসের মধ্যে তালাক প্রত্যাহার করার কিন্তু তাৎক্ষণিক তালাকে পুনর্বিবেচনার সুযোগ নেই। এ আইন স্বামীর কোরান-প্রদত্ত অধিকার হরণ করে। ফলে সন্তান ও নারীর জীবনের ক্ষতি হয়, ইসলামের বদনাম হয়।

(গ) সূরা ত্বালাক আয়াত ২ অনুযায়ী তালাক বৈধ হতে দুইজন সাক্ষীর দরকার যা প্রায়ই তাৎক্ষণিক তালাকের ক্ষেত্রে থাকেনা। হাদিসেও আছে সাক্ষী ছাড়া তালাক অবৈধ – সুনান আবু দাউদ হাদিস ২১৮১। অথচ শারিয়া আইনে কি আছে দেখে নিন নীচে শারিয়া আইন অংশে।

. রাসুল (সা) কি বলেন

এ ব্যাপারে আমরা সহি সিত্তার ভেতরে থাকব, সেখানে পরস্পর-বিরোধী হাদিস আছে।

  • তিন তালাকের বিপক্ষে হাদিস

(ক) সহি মুসলিম হাদিস ৩৪৯২- “আবু সাহবা ইবনে আব্বাসকে (রা.) বলিলেন, ‘আপনি কি জানেন যে আল্লারর রাসুলের (সা.) সময়ে, হজরত আবু বকরের (রা) সময়ে এবং হজরত ওমরের (রা) প্রথম তিন বছরের খেলাফতকালে তাৎক্ষণিক তিন তালাককে এক তালাক ধরা হতো?’ ইবনে আব্বাস (রা.) বলিলেন, ‘হ্যাঁ’।”

এই একই হাদিস আছে সহি মুসলিম ৩৪৯১ ও ৩৪৯৩ ও সুনান আবু দাউদেও – হাদিস ২১৯৪। সর্বপ্রথম তিন তালাকে পুরো তালাকের বিধান চালু করেন। দলিলে আমরা পাই হযরত ওমর (র)  তিন তালাক দেনেওয়ালা স্বামীকে ৪০ বেত্রাঘাতের শাস্তি দিয়েছেন অথচ সেই শাস্তি শারিয়া আইন দেখিনা।

(খ) “এক ব্যক্তি তার স্ত্রীকে তিন তালাক একসাথে দিয়েছে শুনে রাসুল (সা.) রাগে দাঁড়িয়ে গেলেন এবং বললেন, তোমরা কি আল্লাহর কিতাবের প্রতি ঠাট্টা করছ? অথচ আমি এখনও তোমাদের মধ্যেই রয়েছি!” -মওলানা মুহিউদ্দিনের অনুদিত বাংলা-কোরান পৃষ্ঠা ১২৭।

(গ) “এক সাহাবি তার স্ত্রীকে একসাথে তিন তালাক বলেছে শুনে রাসুল (সা.) বললেন, ‘এই তিন তালাক মিলে হল এক তালাক। ইচ্ছে হলে এই তালাক বাতিল করতে পার”।- মওলানা ওয়াহিদুদ্দিনের ‘Women in Islami Sharia’তে ফতহুল বারীর সূত্রে, পৃষ্ঠা ১০৮ ও ১০৯।

  • তিন তালাকের পক্ষে হাদিস:

(ঘ) “একই সঙ্গে তিন তালাক দিয়ে নিষ্কৃতি লাভ করা যদিও রাসুলের (সা.) অসন্তুষ্টির কারণ, যা পূর্ববর্তী বর্ণনায় উল্লেখ করা হয়েছে, এ জন্য সমগ্র উম্মত একবাক্যে একে নিকৃষ্ট পন্থা বলে উল্লেখ করেছে এবং কেউ কেউ নাজায়েযও বলেছে। কিন্তু তা সত্ত্বেও যদি কেউ এ পদক্ষেপ নেয়, তবে এর ফলাফলও তাই হবে বৈধ পথে অগ্রসর হলে যা হয়। অর্থাৎ তিন তালাক হয়ে যাবে, এবং শুধু প্রত্যাহার নয়, বিবাহবন্ধন নবায়নের সুযোগও আর থাকবে না।” (সহি হাদিসের সূত্রে মওলানা মুহিউদ্দিনের অনুদিত বাংলা-কোরানের তফসির, পৃষ্ঠা ১২৭-১২৯)

(ঙ) “রাসুল (সা.) এরশাদ করেছেন তিনটি বিষয় এমন রয়েছে যে, হাসি-তামাশার মাধ্যমে করা ও বাস্তবে করা দুই-ই সমান। তন্মধ্যে একটি হচ্ছে তালাক… হাসি-ঠাট্টার ছলে হলেও এবং অন্তরে বিয়ে, তালাক ও তালাক-প্রত্যাহারের ইচ্ছা না থাকলেও মুখের কথা দ্বারা বিয়ে, তালাক এবং প্রত্যাহার বাস্তবায়িত হয়ে যাবে… জবরদস্তি অবস্থায় যদিও সে তালাক দিতে আন্তরিকভাবে সম্মত ছিল না, অক্ষম হয়ে তালাক শব্দ বলে দিয়েছে, তবুও তালাক হয়ে যাবে।” (সহি হাদিসের সূত্রে মওলানা মুহিউদ্দিনের অনুদিত বাংলা-কোরানের তফসির, পৃষ্ঠা ১২৮ ও ৭৫৮) ।

আমরা তিন তালাকের বিপক্ষের হাদীসগুলোই মানবো কারণ সেগুলো কোরানের বিধান ও নারীর অধিকার রক্ষা করে। আমাদের বুঝতে হবে স্বামী যদি স্ত্রীকে তিন তালাক না-ও দেয়, তবু তার সেই অধিকারটাই স্ত্রীর বিরুদ্ধে সন্ত্রাস।

 

() ইসলামী বিশেষজ্ঞেরা কী বলেন

শরিয়ার তাৎক্ষণিক তালাকের এ আইনের নাম “বিদাতি তালাক”, এটা বানানো হয়েছে নবীজির (সা.) অনেক পরে। এ আইন ইসলাম বিরোধী সেকথা বলেছেন অনেক বিখ্যাত শরিয়া সমর্থক আলেমই। যেমন:

(ক) বিশ্বের সর্বোচ্চ আলেমদের অন্যতম ডক্টর ইউসুফ কারযাভী বলেন- “একই সময়ে এক এক করে তিন তালাক কিংবা এক বাক্যে তিন তালাক দেয় তবে তা শরীয়ত প্রদত্ত নিয়ম ও পন্থার সম্পূর্ণ পরিপন্থী হবে। সে লোক হেদায়েতের পথ ত্যাগ করে গুমরাহীর পথ অবলম্বন করে চলেছে, সিরাতুল মুস্তাকীমকে সে হারিয়ে ফেলেছে। সহীহ হাদিসে বলা হয়েছে, রাসূলে করীম (স) জানতে পারলেন এক ব্যক্তি তার স্ত্রীকে একসঙ্গে তিন তালাক দিয়েছেন। তিনি ক্রোধে দাঁড়িয়ে গেলেন এবং বললেন – ‘আমি তোমাদের মধ্যে বর্তমান অবস্থায়ই এ লোকটি আল্লাহ’র কিতাব নিয়ে তামাশা খেলছে’? – “ইসলামে হালাল-হারামের বিধান” – পৃষ্ঠা ৩০০।

(খ) ড. মুহাম্মাদ আসাদুল্লাহ আল-গালিব, “আহলে হাদীছ” আন্দোলন বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা ও আমীর বলেন:- “কুরআন-হাদীছে বর্ণিত উপরোক্ত তালাক বিধানকে ‘সুন্নতি তালাক’ ও আবিষ্কৃত একত্রিত তিন-তালাককে ‘বেদ’ঈ তালাক’ নামে অভিহিত করা হয়েছে…. অথচ মুসলমান ‘সুন্নত’ মানতে পারে, কিন্তু কোন অবস্থাতেই ‘বিদ’আত’ মানতে পারে না।….. বিদ’আতের একমাত্র পরিণাম জাহান্নাম….অথচ বিদ’আতী তালাককে আইনসিদ্ধ করার মাধ্যমে মুসলিম সমাজে গোনাহের পথ খুলে দেওয়া হয়েছে… যার সরাসরি ও অসহায় শিকার হচ্ছে এদেশের সরল-সিধা মুসলিম নারী সমাজ” – “তালাক ও তাহলীল” – পৃষ্ঠা ৯ ও ১০।

(গ) ভারতের বর্ষীয়ান আলেম মওলানা ওয়াহিদুদ্দিন বলেন – “নবীজি (স) থেকে শুরু করে হজরত আবু বকর (র) ও হজরত ওমরের (র) সময় পর্যন্ত একসাথে তিন তালাক উচ্চারণকে এক তালাক ধরা হত …. হজরত ওমর একসাথে তিন তালাক বৈধ করেন এবং এই আইন চালু করেন।” – “Women in Islami শরিয়া” পৃষ্ঠা ১১০)।

(ঘ) বিশ্ববিখ্যাত শারিয়াবিদ ড. আবদুর রহমান ডোই বলেন- “নবীজির মৃত্যুর বহু পরে তালাকের এক নূতন নিয়ম দেখা যায়। স্বামী একসাথে তিন তালাক উচ্চারণ করে বা লিখিয়া দেয়। এই তালাকে অনুতাপ বা পুনর্বিবেচনার সুযোগ নাই। অজ্ঞ মুসলমানেরা এইভাবে গুনাহ্ করে। নবীজি তীব্রভাবে ইহাতে বাধা দিয়াছেন” – ‘শরিয়া দি ইসলামিক ল’, পৃষ্ঠা ১৭৯।

অন্যান্য গবেষকেরাও এর ওপরে বিপুল তথ্যসমৃদ্ধ কাজ করেছেন যেমন “তিন তালাক – নিকাহ ও হালালা”- লিখেছেন মো: শহিদুল ইসলাম। নিবন্ধটা ইন্টারনেটে পাওয়া যায়। তিন তালাক বিরোধী আলেমরা আরো সোচ্চার হলে এ ব্যাপারে জনসচেতনতা সৃষ্টি হবে।

এবারে দেখা যাক ইসলামে নারীর সেই অধিকার কিভাবে হরণ করা হয়েছিল।

()  শারিয়া আইন

শারিয়ার সবগুলো আইন যোগ করলে আমরা এগুলো পাই:-

(ক) “স্বামী তাহার স্ত্রীকে একই সময়ে একই বাক্যে অথবা পৃথক পৃথক সময় ও বাক্যে তিন তালাক দিলে তৎক্ষণাৎ বিবাহবন্ধন ছিন্ন হইয়া যায় এবং স্বামী তাহাকে ফিরাইয়া লইতে পারে না… (স্বামীর) সুস্পষ্ট বাক্যে অথবা পরোক্ষ বক্তব্যে অথবা ইশারা-ইঙ্গিতে অথবা লিখিতভাবে প্রদত্ত তালাক সঙ্ঘটিত হইবে… তালাক বলার সময় স্বামীর মনের যে সংখ্যা নির্ধারিত করে তাহা বা দেখানো আঙুল দিয়া তালাকের সংখ্যা ধরা যায়… যদি স্বামী বলে তোমাকে তালাক দিলাম, তবে বলিবার সময় স্বামীর মনে যে সংখ্যা থাকে তাহাই বলবৎ হইবে”।

সূত্র: বিধিবদ্ধ ইসলামি আইন ১ম খণ্ড ধারা ৩৪৩ ও ৩৫১, হানাফি আইন হেদায়া পৃষ্ঠা ৮১; শাফি’ই আইন উমদাত আল সালিক আইন নং এন.৩.৫।

ওপরের সূত্রগুলোর সাথে যদি আমরা নিচের শারিয়া কিতাবগুলো যোগ করি তাহলে এসব আইন পাই: স্বামী যদি অত্যাচারের চাপে, নেশার ঘোরে, রোগের কষ্টে অধীর হয়ে, হাসি-ঠাট্টায়, নোট লিখে বা টেলিফোনের অ্যান্সারিং মেশিনেও তালাক বলে রাখে তবু তালাক পুরো হয়ে যায়।

সূত্র:- মওলানা মুহিউদ্দীনের বাংলা-কোরানের তফসির পৃষ্ঠা ১২৮; মওলানা আশরাফ আলী থানভীর দ্বীন কি বাঁতে পৃষ্ঠা ২৫৪, আইন # ১৫৩৭, ১৫৩৮, ১৫৪৬ ও ২৫৫৫; ইউরোপিয়ান ফতোয়া কাউন্সিল ও ক্যানাডার মওলানার ফতোয়া, বিধিবদ্ধ ইসলামি আইন ১ম খণ্ড ধারা ৩৪৭ ও ৩৪৯; মকসুদুল মুমেনিন ইত্যাদি।

(খ) সূরা ত্বালাক আয়াত ২ অনুযায়ী তালাক বৈধ হতে দুইজন সাক্ষীর দরকার যা প্রায়ই তাৎক্ষণিক তালাকের ক্ষেত্রে থাকেনা। হাদিসেও আছে সাক্ষী ছাড়া তালাক অবৈধ – সুনান আবু দাউদ হাদিস ২১৮১। অথচ শারিয়া আইনে আছে:-

(১) “তালাক সঙ্ঘটিত হওয়ার জন্য সাক্ষী শর্ত নহে” – বাংলাদেশ ইসলামী ফাউন্ডেশনের প্রকাশিত “বিধিবদ্ধ ইসলামী আইন” ১ম খণ্ড ধারা ৩৪৪,

(২) “বিয়ে ব্যতীত অন্য সব ব্যাপার সমাধা করার জন্য সাক্ষী শর্ত নয়” – মওলানা মুহিউদ্দিনের অনুদিত বাংলা-কোরানের তফসির, পৃষ্ঠা ১২৪)

(গ) কোরান বলছে তালাকপ্রাপ্তা স্ত্রীকে ভরণপোষণ দিতে হবে (বাকারা ২৪১) কিন্তু শারিয়া আইনের কারণে তাৎক্ষণিক তালাকে স্ত্রীর ভরণপোষণ আদায় করা অসম্ভব। আইনটা হল:-

(১) “স্ত্রীর যে প্রয়োজনীয় ব্যয়ভার বহন করা স্বামীর যিম্মায় ওয়াজিব (বাধ্য), তা চারটি বস্তুর মধ্যে সীমাবদ্ধ − আহার, পানীয়, বস্ত্র ও বাসস্থান। স্বামী এর বেশি কিছু স্ত্রীকে দিলে অথবা ব্যয় করলে তা হবে অনুগ্রহ, অপরিহার্য নয়” – মুহিউদ্দীন খানের অনুদিত বাংলা কোরান পৃঃ ৮৬৭।

(২) “খাবার, বাসস্থান ও পোশাক দিতে স্বামী বাধ্য থাকিবে শুধুমাত্র বাধ্য স্ত্রীকে, অবাধ্য স্ত্রীকে নহে। ইহার বাহিরে সমস্ত খরচ এমনকি ডাক্তারের, ওষুধের বা সৌন্দর্য্য-চর্চার খরচ ইত্যাদি হইবে স্বামীর করুণা ও দয়া” – হানাফি আইন হেদায়া পৃঃ ১৪০; শাফি’ই আইন উমদাত আল সালিক আইন #m.11.4.

অর্থাৎ, স্বামী ওই আইনের বলে তাকে “অবাধ্য স্ত্রী” দাবি করে খরচ দেবেনা।

(ঘ) শারিয়া আইনে বলে এক বা দুই তালাক দেবার পরে স্বামী তার স্ত্রীকে ফিরিয়ে নিতে পারে, “স্ত্রীর সম্মতি থাকুক বা না থাকুক” – বিধিবদ্ধ ইসলামি আইন ১ম খণ্ড ধারা ৩৫২। এ আইন সরাসরি লঙ্ঘন করে কোরান ও রসূল (স)-এর হুকুম, নারীর ইচ্ছার বিরুদ্ধে তাকে বিয়ের বন্ধনে আবদ্ধ রাখা যাবেনা। এ বিষয়ে অন্য নিবন্ধে বিস্তারিত লিখব।

() কালতামামী

বাংলাদেশসহ অনেক মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশে তাৎক্ষণিক তালাক নিষিদ্ধ। কিন্তু এটা যে কোরআন-সুন্নাহ মোতাবেকও অবৈধ সে ব্যাপারে দেশে জনসচেতনতা সৃষ্টি করা হয়নি, করা দরকার। যে আইন প্রতিটি বিবাহিতা মুসলিম নারীকে স্বামীর ইচ্ছের অধীন করে রাখে, যে আইনে মুসলিম নারীর জীবন সন্তান-সংসার ধ্বংস হয় ও ইসলামের বদনাম হয় সে আইন কি ইসলামী হতে পারে? সরকারের উচিত অনতিবিলম্বে এইসব অমানবিক ব্যাখ্যার ব্যাপারে জাতিকে সচেতন করা এবং মুসলিম বিশেষজ্ঞদের লেখা ইসলামের মানবিক ব্যাখ্যার বইগুলো প্রচার করা। যে নারীকে তাৎক্ষণিক তালাকের মধ্যে পড়ে পর-পুরুষ দ্বারা ধর্ষিতা হতে হয় তার অপমান, তার ক্ষোভ-দুঃখ কবে আমরা বুঝব? এ কোন ইসলাম যে নিরপরাধের জীবন এত নিষ্ঠুরভাবে ধ্বংস করে? কোষ্ঠকাঠিন্য কেবল পেটেই নয়, বুদ্ধি ও বিবেকেও এই রোগটা হয়।

কেউ চাইলে উপরোক্ত সূত্রগুলোর কপি পাঠানো যেতে পারে।

হাসান মাহমুদমুসলিম রিফর্ম মুভমেন্ট-এর প্রতিষ্ঠাতা সদস্য, সাংস্কৃতিক ও মানবাধিকার কর্মী, শারিয়া আইনের ওপর গবেষক, লেখক ও আন্তর্জাতিক সম্মেলনের বক্তা।

Responses -- “তিন তালাকের ‘তালাকপ্রাপ্তি’, উত্তাল ভারত”

  1. শরিফ উদ্দীন

    গত বৃহস্পতিবার প্রায় দিনভর বিতর্কে কংগ্রেস, তৃণমূল, বিজেডি-সহ অধিকাংশ বিরোধী দল মুসলিম ওমেন বিলের বিরোধিতা করলেও লোকসভায় ধ্বনি ভোটে পাশ হয়ে গিয়েছে তিন তালাক বিল। মুসলিম শরিয়তি আইনে স্বামী তিন বার তালাক দিলেই সেটা বৈধ। এই প্রথাকে বলা হয় ‘তালাক এ বিদ্দত’। যা এখন ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে গ্রাহ্য। মুসলিম উওমেন বিল এনে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী রবিশঙ্কর প্রসাদ বলেন, এর মাধ্যমে নারী-পুরুষের সমান অধিকার প্রাধান্য পাবে। তিনি আরও বলেন, পাকিস্তান, বাংলাদেশ, মালয়েশিয়া সহ বিশ্বের ২০টি দেশ যদি তিন তালাক নিষিদ্ধ করতে পারে, তাহলে আমরা পারব না কেন?’ তবে অনেক বিরোধী দল বলেছে হিন্দু আইনে বিবাহ-বিচ্ছেদ ফৌজদারি অপরাধ নয়, খ্রিস্ট ধর্মেও নয়, তাহলে শুধুমাত্র মুসলিম আইনেই কেন হবে। বিলটিকে সিলেক্ট কমিটিতে পাঠানোর দাবিও ওঠে। ফৌজদারি দণ্ডবিধি নিয়ে আপত্তি জানিয়েছিল তৃণমূল। দলনেতা সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে ওয়াকআউট করেন সাংসদরা।

    Reply
  2. নাজমুল

    গত বৃহস্পতিবার ভারতের লোকসভায় পাশ হয়েছে তিন তালাক বিল ৷ কংগ্রেস ও শরীকদের সহায়তায় লোকসভায় সেই বিল পাশ করতে খুব একটা বেগ পেতে হয়নি মোদি সরকারকে ৷তবে এবার তিন তালাক বিল পাশ হতে না হতেই বহুবিবাহ বন্ধ করা নিয়ে সরব হয়েছেন নারীরা ৷এই প্রথা বন্ধ করতে তারা সরাসরি সরকারের কাছে তাদের দাবি পেশ করেছে ৷ এই বিষয়ে মুসলিম নারীরা জানিয়েছেন, তিন তালাকের থেকেও বহুবিবাহের এই নিয়ম আরও ভয়াবহ৷যদি এই প্রথাটা কোনোভাবে বন্ধ করা যায় তাহলে মুসলিম নারীরা সমাজে শক্তিশালী হবেন ৷ আইনজীবী ফারাহ ফায়েজ রিজওয়ানা রাজিয়া শীর্ষ আদালতে তিন তালাক এবং বহুবিবাহ প্রথা বন্ধের জন্য লড়ছিলেন ৷ তিন তালাক বিল পাশ হওয়ার পর এখন তিনি যথেষ্ট খুশি৷তিনি বলেন, তিন তালাকের এই প্রথা থেকে এখন মুক্ত মুসলিম নারীরা ৷যা এই সমস্ত মুসলিম নারীদের জন্য একটি নতুন দিকের সূচনা হল ৷ এই প্রসঙ্গে বহুবিবাহের শিকার রিজওয়ানু জানিয়েছেন, তিন তালাকের থেকেও এখন আরও ভয়াবহ সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে বহুবিবাহ ৷ এখন নতুন বিল পেশ হওয়ার ফলে তিন তালাক না দিয়েও চলবে বহুবিবাদ ৷ তাই শিগগিরই এই ব্যবস্থাটির বিরুদ্ধেও জোরাল পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিত বলে তিনি দাবি করেন ৷ সূত্র: কলকাতা টোয়েন্টিফোর সেভেন

    Reply
  3. আব্দুল্লাহ

    পাকিস্তান ও বাংলাদেশসহ বহু মুসলিম অধ্যুষিত দেশেই তিন তালাক নিষিদ্ধ। ইটিভির তথ্য মতে, বিশ্বে ২০টিরও বেশি দেশে তিন তালাক নিষিদ্ধ রয়েছে। সম্প্রতি ভারতে মোদি সরকার আইন করে তিন তালাকের প্রথা নিষিদ্ধ করা হয়। সাথেসাথে তিন তালাক প্রদানকারী ব্যক্তিকে তিন বছরের জেল হাজতে পাঠাবে বলে দেশটির সর্বোচ্চ অথরিটি এ আইন পাশ করে।১৯২৯ সালে মিসরে সর্বপ্রথম নিষিদ্ধ হয়েছিল তিন তালাক। ‘মুসলিম নারী পরিবার অধ্যাদেশ, ১৯৬১’ -এর মাধ্যমে পাকিস্তানে তিন তালাককে রদ করা হয়। বাংলাদেশ সরকারের নীতিমালায় তালাকের পদ্ধতি একটু ব্যত্রিক্রম। মূলত তিন ধাপে এখানে স্বামী-স্ত্রী বিচ্ছেদ প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হয় ৷ প্রথমে লিখিত নোটিশ, তারপর বিশেষ সালিশি সভায় আলোচনা, তৃতীয় ধাপে নির্দিষ্ট সময়ের পর কার্যকর হবে বিচ্ছেদ ৷ আবার, তিউনিশিয়া, সিরিয়া, জর্ডান, মালয়েশিয়া, লিবিয়া, সুদান, লেবানন, সৌদি আরব,মরক্কো, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, সাইপ্রাস, ব্রুনেই, আফগানিস্তান, আলজেরিয়া, ইরাক, ইন্দোনেশিয়া, তুরস্ক, বাংলাদেশে এই প্রথা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। আবার শ্রীলঙ্কাতেও তিন তালাক নিষিদ্ধ। ভারতে তিন তালাকের শিকার কোনো নারী আইনের আশ্রয় নিলে তার স্বামীর সর্বোচ্চ তিন বছরের কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়। তবে মুসলমান সমাজে সেই আইন ইতোমধ্যেই সমালোচিত হচ্ছে। মানবাধিকার কর্মীরা বলছেন, এ আইনের ফলে মানুষের অধিকার খর্ব করা হচ্ছে। পারিবারিক কলহ কিংবা অন্য কোনো কারণে দাম্পত্য জীবন চালিয়ে যেতে অনিচ্ছুক কেউ এ আইনের ফলে বাধ্য হয়ে সংসার করছেন। সেটা একেবারেই অনুচিত। এতে করে সন্তানদের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে। তাছাড়া সেই সম্পর্ক মধুর না হয়ে অন্য কোনো অপরাধ সংঘটিত হওয়ারও আশঙ্কা থাকে। এ আইনের ফলে পুরুষদের হয়রানি করারও আশঙ্কা রয়েছে। আইনের ফলে তিন তালাক বন্ধ হয়ে গেছে, বিষয়টি সে রকমও নয়। জানা গেছে, এখনো তিন তালাকের শিকার হচ্ছেন অনেক নারীরা। সম্প্রতি তিন তালাকের শিকার নারীরা আদালতে মামলার পর সেই মামলায় তাদের স্বামীরা জামিন নেওয়ারও খবর পাওয়া গেছে। ভারতের অনেক রাজনীতিবিদই জানিয়েছেন, নারীদের হেয় করে দেখার কিছু নেই। এই আইনের ফলে মনে হচ্ছে, স্বামী সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে চান না, অথচ ধরেবেঁধে সংসার করছেন স্ত্রী। ধর্মীয় নেতারা বলছেন, তিন তালাকের পর স্ত্রী চাইলে মামলা করে স্বামীকে হয়তো তিন বছরের জন্য কারাগারে পাঠানোর ব্যবস্থা করতে পারেন, তবে তালাক তো হয়ে যাচ্ছে। তবে সান্ত্বনা হলো, আইনের ফলে তিন তালাকের সংখ্যা কমছে।
    আলজাজিরা অবলম্বনে

    Reply
  4. নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক

    লোকসভায় বিজেপির সংখ্যালঘু বিষয়ক মন্ত্রী মুখতার আব্বাস নকভি তিন তালাক বিলের পক্ষে বলেন, “সন্ত্রাসবাদ যেমন অপরাধ, তিন তালাকও অপরাধ। অপরাধ করলে জেলে যেতেই হবে।” তবে সন্ত্রাসবাদ আর তাৎক্ষণিক তিন তালাককে একসঙ্গে জুড়ে দেওয়ার বিপক্ষে রয়েছে কংগ্রেস ও তৃণমূল। কিন্তু সংখ্যাধিক্যের জোরে তৃতীয়বারের মতো বিলটি পাশ হয়েছে লোকসভায়। তবে রাজ্যসভায় এ নিয়ে ফের আপত্তি জানাবে বিরোধীরা। তিন তালাককে ফৌজদারি অপরাধ গণ্য করে তিন বছরের কারাদণ্ডের প্রতিবাদে কংগ্রেস, তৃণমূল-সহ বিরোধী দলগুলোর পাশাপাশি বিজেপির শরিক দল জেডিইউ-ও লোকসভা থেকে ওয়াকআউট করেছে। জেডিইউ সাংসদ রাজীব রঞ্জন বলেন, ‘‘তিন তালাকের মতো অপরাধ ঠেকাতে সামাজিক চেতনা বাড়ানো দরকার। গৃহবধূদের ওপর নির্যাতন, পণপ্রথার বিরুদ্ধে আইন করেও এ সব ঠেকানো যায়নি। বরং এর অপব্যবহার হচ্ছে। একইভাবে তিন তালাক আইনেরও অপব্যবহার হবে।’’ কংগ্রেস সাংসদ গৌরব গগৈয়ের প্রশ্ন, “সুপ্রিম কোর্টের রায়ে কোথায় লেখা রয়েছে , তাৎক্ষণিক তিন তালাক বা তালাক-এ-বিদ্দতকে ফৌজদারি অপরাধের তকমা দিতে হবে? ২২টি মুসলিম রাষ্ট্রে তিন তালাক নিষিদ্ধ। কিন্তু কোথাও তাকে ফৌজদারি অপরাধের তকমা দেওয়া হয়নি। একমাত্র বাংলাদেশে তা রয়েছে। কিন্তু সেখানেও মাত্র এক বছরের জেলের আদেশ রয়েছে।” তিনি আরও বলেন, “তিন তালাকের অপরাধ নারী নির্যাতন প্রতিরোধ আইন দিয়েই ঠেকানো যেত। হিন্দু, পার্সিদের ক্ষেত্রে স্বামী তার স্ত্রীকে ছেড়ে গেলেও এই রকম শাস্তির ব্যবস্থা নেই। সেখানে দু’বছর পরে স্ত্রী শুধু বিবাহবিচ্ছেদের মামলা করতে পারেন। তা হলে শুধু মুসলিমদের ক্ষেত্রে এমন আইন কেন?” এমআইএম সাংসদ আসাদ উদ্দিন ওয়েইসির প্রশ্ন, “স্বামী যদি তিন তালাকের অপরাধে জেলেই চলে যান, তা হলে তিনি খোরপোষ দেবেন কীভাবে? তত দিন স্ত্রীকে কেন তার জন্য অপেক্ষা করতে হবে? কেন মুসলিমদের বিয়ের কাবিননামাতেই তিন তালাকের বিরুদ্ধে শর্ত লিখিয়ে নিতে বলা হচ্ছে না?” এ দিকে কেন্দ্রীয় আইনমন্ত্রী রবিশঙ্কর প্রসাদ জানান, কেউ যদি ভুল করে, রাগের মাথায় তিন তালাক বলে ফেলেন, তা হলে ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে আপস করে নেওয়ার সুযোগ থাকছে। কিন্তু অনড় থাকলে তাকে জেলে যেতে হবে। ক্ষতিপূরণের বিষয়টিও ম্যাজিস্ট্রেট ঠিক করবেন।

    Reply
  5. রবিশঙ্কর প্রসাদ

    অধ্যাপক সৈয়দ তনবীর নাসরিনের মতো বহু শিক্ষিত মুসলিম মহিলা বহুদিন ধরে দাবি জানিয়ে আসছিলেন, মুসলিম পরিবারে তিন তালাক নিষিদ্ধ হোক, নাহলে লিঙ্গ বৈষম্য দূর হবে না। এটাও মনে রাখতে হবে, মুসলিম মহিলাদের এক বিরাট অংশ প্রকাশ্যে না হোক, ঘেরাটোপের অন্ধকারে এই দাবি জানিয়ে আসছিলেন দীর্ঘ দিন ধরে। তাঁদের দাবি পূরণ হওয়ায় মুসলিম সমাজের ভিতর থেকেও সেরকম কোনও বিরোধ দেখা যায়নি। বিলটি আইনে পরিণত হলেই ধরে নেওয়া যায় দরাদরিতে নামবে এআইডিএমকে, তেলেঙ্গানা রাষ্ট্রীয় সমিতি এবং সর্বাগ্রে থাকবেন নীতিশ কুমার বা নবীন পট্টনায়ক। এমনকি মেহবুবা মুফতির দলের দুই সদস্য অনুপস্থিত থেকে শাসক দলকে পরোক্ষে সাহায্য করেছেন, তাঁদের সমীকরণও প্রকাশ্যে আসবে কয়েকদিন পর। তবে তার আগে আপাতত বিজেপি শিবিরে শান্তি এবং স্বস্তি। এরপর বিজেপি নেতৃত্বকে গভীরভাবে চিন্তা করতে হবে, তিন তালাক বা তথ্য অধিকার বিলের রদবদল ঘটিয়ে রাজনৈতিক লাভ পাওয়া গেলেও ভারতের অর্থনীতিকে মাথা উঁচু করে না দাঁড় করাতে পারলে তাঁদের রামরাজত্ব গড়ার সব স্বপ্ন বৃথা যাবে।

    Reply
  6. মেশকাত হোসেন

    অনেকের মতে, এই বিল বহুদিন আগেই নিষিদ্ধ হওয়া উচিৎ ছিল। বাংলার আনাচে কানাচে জুড়েও তিন তালাকের চর্চা। তবে এই আইন কতটা কাজে লাগবে সাধারণ মানুষের? ‘ছিল রুমাল হয়ে গেল একটা বেড়াল’– তিন তালাক প্রসঙ্গে যেন সুকুমার রায়ের এই ভাবনাকেই সমর্থন করছেন সাহিত্যিক আবুল বাশার। তাঁর মতে, তিন তালাক ‘ছিল দেওয়ানি আইন, হয়ে গেল ফৌজদারি আইন!’ এতে আখেরে কোনও উপকারই হবে না ‘ফুলবউ’দের! পাশাপাশি বিলটিকে পুনর্বিবেচনার অনুরোধ জানালেন তিনি। সাহিত্যিক আবুল বাশার বলেন, “তাৎক্ষণিক তিন তালাক নিষিদ্ধ হওয়ায় খুশি হয়েছি স্বাভাবিক ভাবেই। কিন্তু, পরে বুঝতে পারলাম এই আইনের মধ্যে কিছু জটিলতা থেকে গিয়েছে। বিয়ে বিচ্ছেদ দেওয়ানি আইনের অন্তর্গত ছিল। কিন্তু এই বিলের মধ্যে দিয়ে দেওয়ানি আইনটা ফৌজদারি আইন হলে গেল। বিচ্ছেদের জন্য পানিশমেন্ট হতে পারে না। পুরুষ যদি জেল খাটে তাহলে একজন নারীর ভরণপোষণের দায়িত্ব কীভাবে নেবে? তাই দেওয়ানি আইনকে ফৌজদারি আইন করা যায় কিনা এই নিয়ে আমার প্রশ্ন থেকে গেল।” বাশারের মতে, “সুপ্রীম কোর্ট আগেই আইন করে দিয়েছে। তারপরে এই বিল পাশ করার কোনও দরকারই ছিল না। তাহলে মোদী সরকার কি মুসলিম জনগোষ্ঠীকে অপরাধী জাতিতে পরিণত করতে চাইছে? মুসলমানদের উপর কোনও ঘৃণা আছে কি তাঁর? হিন্দুদের ক্ষেত্রে ডিভোর্স দিলে খরপোশ দিতে হয়, জেল খাটতে হয় না। তবে কেন তিন তালাকের ক্ষেত্রে মুসলিম পুরুষকে জেল খাটতে হবে? আমার মূল বক্তব্য, সমাজের সব ধর্মের মানুষের জন্য এক আইন হওয়া উচিৎ। না-হলে সমাজের মূল ভিত্তি নষ্ট হয়ে যাবে।”

    Reply
  7. বেলায়েত হোসেন

    হিন্দুদের ক্ষেত্রেও বহু ক্ষেত্রে স্ত্রী কে ছেড়ে দেয়ার অভিযোগ আছে। আমার মতে ধর্মীয় ভিত্তিতে নয় এক দেশে একটাই আইন থাকা উচিত। ডিভোর্স আইন লিঙ্গ নিরপেক্ষ হওয়া উচিত ও দুজনের সমান অধিকার থাকতে হবে যেন আইনে “স্বামী” কেটে “স্ত্রী” ও “স্ত্রী” কেটে স্বামী বসলে আইনের পরিবর্তন না হয়।

    Reply
  8. আবদুল আওয়াল

    বাংলাদেশ বা পাকিস্তানের মত মুসলমান-প্রধান দেশে তিন তালাক নিষিদ্ধ হয়েছে দীর্ঘদিন। মানবাধিকারকর্মী সুলতানা কামাল বলছেন, পাকিস্তান আমলে নারী আন্দোলন কর্মীরা তিন তালাক বন্ধের জন্য চাপ ছিল। তখন আইয়ুব খান ক্ষমতায় ছিল। নারী অধিকার কর্মীরা তখন হুমকি দিয়েছিল, তিন তালাকের বিষয়ে মুসলিম পারিবারিক আইনে যদি পরিবর্তন না আনা হয় তাহলে তারা আইয়ুব খান বিরোধী আন্দোলন গড়ে তুলবে। ফলে ১৯৬১ সালে মুসলিম পারিবারিক আইনে সংস্কার সাধন করেছিল আইয়ুব খান সরকার। তখন বলা হয়েছিল, মুখে-মুখে তিন তালাকের কোন আইনগত বৈধতা থাকবে না। সুলতানা কামাল বলেন, “মুসলিম বৈবাহিক আইনে ‘তালাকে আহসান’ এবং ‘তালাকে ইহসান’ বলে দুটো পদ্ধতি আছে। সে দুটো মিলিয়ে ‘তালাকে তৌফিজ’ পদ্ধতি সবার জন্য বৈধ করে দেয়া হলো। এ পদ্ধতির বলে স্বামী বা স্ত্রী যে কেউ তাদের বিবাহ বিচ্ছেদের ইচ্ছা প্রকাশ করতে পারেন। কিন্তু তিন মাসের মধ্যে তারা যদি মত পরিবর্তন করে ফেলে তাহলে সে তালাক কার্যকরী হবে না। তিন মাসের মধ্যে যদি তারা মত না বদলায় তাহলে তিনমাস পরে সে তালাক কার্যকরী হবে” । আইয়ুব খান সরকার তালাকের ক্ষেত্রে যে সংস্কার এনেছিল সেটি এখনো বাংলাদেশে চালু আছে।

    তিনি বলেন বাংলাদেশে আদালতের মাধ্যমে এবং পারস্পরিক সম্মতির ভিত্তিতে বিবাহ বিচ্ছেদ সম্ভব।

    বাংলাদেশে কেউ যদি বিচ্ছেদের ইচ্ছা পোষণ করে তাহলে সেটি একটি সালিশি বোর্ডের কাছে চলে যাবে। এ সালিশি বোর্ড তিন সদস্য বিশিষ্ট হয়। সেখানে একজন জনপ্রতিনিধি এবং স্ত্রী ও স্বামীর পক্ষ থেকে একজন করে প্রতিনিধি থাকে।

    “যারা তালাকের জন্য ইচ্ছা পোষণ করেন, তারা যদি মনে করে তাহলে সালিশের মাধ্যমে একটি সমাধান নিতে পারে। যদি সেটা না হয়, তাহলে তিনমাস পরে সেটা স্বয়ংক্রিয়ভাবে কার্যকর হয়ে যাবে,” বলছিলেন সুলতানা কামাল।

    Reply

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। প্রতিক্রিয়া লেখার সময় লক্ষ্য রাখুন--

  • ১. স্বনামে বাংলায় প্রতিক্রিয়া লিখুন।
  • ২. ইংরেজিতে প্রতিক্রিয়া বা রোমান হরফে লেখা বাংলা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না।
  • ৩. প্রতিক্রিয়ায় ব্যক্তিগত আক্রমণ গৃহীত হবে না।

দরকারি ঘর গুলো চিহ্নিত করা হয়েছে—