কত ধরনের যে আপদ আছে দেশে!  সমাজে যে কত বড় বড় আপদের বসবাস। তার একটির নাম ভিআইপি। দেশে থাকতে চেয়ারের পেছনে তোয়ালে ঝোলানো নিয়ে কত কাণ্ড। আমি নিজেও তাতে অংশ নিয়েছি। লবিং করে ভয় দেখিয়ে খাইয়ে দাইয়ে দামী তোয়ালে ঝুলিয়ে মনে করতাম আমার কদর ঠেকায় কে? বিদেশে এসে দেখলাম একমাত্র সেলুন আর স্নানের ঘর ছাড়া আর কোথাও এর চল নাই। আপনি যদি উন্নত দেশে কোন অফিসে যান তোয়ালে দূরের কথা ভালো দামী চেয়ারও পাবেন না।

আমাদের কথিত ভিআইপিরা তোয়ালে মোড়ানো এক অন্ধকার জগতের বাসিন্দা।

এর আগেও আমাদের দেশে ভিআইপিরা অনেক মন্দ কাণ্ড ঘটিয়েছেন। আমাদের যৌবনে ছড়াকার বাপী শাহরিয়ারকে গাড়ি চাপা দিয়েছিল এরশাদের এক মন্ত্রীর ছেলে। নি:সন্দেহে মাতাল ড্রাইভার । কিন্তু বিচার হয়নি। তখন আমরা প্রতিবাদ করেছিলাম। সে প্রতিবাদে জোরও ছিল। কিন্তু শক্তি ছিলনা রাষ্ট্রযন্ত্রের বিরুদ্ধে কিছু করার। মনে হয়েছিল একনায়ক এরশাদ মিলিটারি শাসন শেষে কোনদিন গণতন্ত্র এলে আমরা এসব আর দেখবো না। এমন খবর শুনতে হবে না। আসলে কি তাই? তারপর যতগুলো আমল এসেছে সব আমলেই এমন কাণ্ড হয়েছে। সম্প্রতি এমন একটা মন খারাপের খবর দেখলাম।

আমাদের দেশের একটি বাচ্চা ছেলে তার নাম তিতাস। একটা দুর্ঘটনা ঘটেছিল তার; তারপর কী হলো? তাকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল ভালো ও উন্নত চিকিৎসার জন্য। রাত ৮টায় অ্যাম্বুলেন্সটি যখন কাঁঠালবাড়ি ১ নম্বর ফেরিঘাটে পৌঁছায় তখন কুমিল্লা নামে একটি ফেরি ওই ঘাটেই ছিল। কিন্তু সরকারের এটুআই প্রকল্পে দায়িত্বরত যুগ্ম সচিব আবদুস সবুর মণ্ডলের গাড়ি যাবে- এই নির্দেশনা থাকায় ফেরি ছাড়তে দেরি করে ঘাট কর্তৃপক্ষ।

শেষ পর্যন্ত রাত ১১টার দিকে যুগ্ম সচিবের গাড়ি ঘাটে পৌঁছানোর পর ফেরি ‘কুমিল্লা’ রওনা হয়। কিন্তু মাঝ নদীতে অ্যাম্বুলেন্সেই মারা যায় ১১ বছর বয়সী তিতাস। তার পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, তারা পুলিশ, বিআইডব্লিউটিসিএ-কে ফেরি ছাড়ার অনুরোধ করলেও কাজ হয়নি। এমনকি সরকারি জরুরি সেবার ফোন নম্বর ৯৯৯ এ ফোন করা হলেও ফেরি ছাড়েনি।

তিতাসের মামা বিজয় ঘোষ বলেন, “আমার বোন ফেরির লোকদের পায়ে ধরে মাটিতে পড়ে কেঁদেছে। তবু ওরা ফেরি ছাড়েনি। উল্টো বলেছে ফেরি ছাড়লে নাকি তাদের চাকরি থাকবে না।… তারা বলেছে- ভিআইপি আসবে। আর আমাদের রোগী যে মরে যাচ্ছে, সেদিকে তাদের কোনো নজর নেই।”

এবার ভাবুন এই রোগীটি কি আপনার আমার ভাই বোন বা তেমন কেউ হতে পারতো না? একজন সচিব আসলে কে? কী তার পরিচয়? সরকারি চাকুরে। ভালো বেতন পায়। মুষ্টিমেয় কিছু বাদ দিলে বাকিদের বেতনের দরকার পড়ে না। অফিসের মালি বাড়ির ঘাস কাটে। অফিসের পিয়ন বাড়িতে কাজ করে। সরকারি ড্রাইভার গাড়ি চালিয়ে ছেলে-মেয়েদের স্কুল কলেজ থেকে বন্ধুদের বাড়ি নিয়ে যায়। রাতে-বিরাতে পার্টিতেও নিয়ে যায় বৈকি। এই সরকারি আমলারা মনে করেন- মানুষ তাদের সেবাদাস। তারা আছেন বলেই দেশ আছে। এমনও শুনি তারা নামি মন্ত্রী মিনিস্টারদেরও তোয়াক্কা করেন না। কারণ এরা আসে যায়। তাদের আসন পাকা পোক্ত। এমন এক যুগ্ম সচিবের আগমন নিয়ে তটস্থ সাধারণ ফেরি কর্মচারিরা ভয়ে ফেরি চালাতেই পারে নি। আর তাতে কি হলো? আমাদের একটি বাচ্চা চিকিৎসার অভাবে অকালে ঝরে পড়লো।  এমন বলি না সে বাঁচতো-ই। কিন্তু চিকিৎসাহীন তো মরতো না। এই সান্তনাহীন মৃত্যুর দায় নেবে কে?

আমরা যে কথায় কথায় বলছি দেশ এগুচ্ছে- দেশের চারদিকে উন্নয়নের জোয়ার, তার সাথে এই ঘটনা কি মেলে? জানি কেউ কেউ বলবেন সরকারের এতে কী করার আছে? কী করার ছিল? ছিল এবং আছে আলবৎ- আছে। তারা যদি টাইট দিতেন সচিবের কি সাধ্য আছে এমন করে ফেরি আটকায়? সচিবের ভয়, আমলার ভয়, মন্ত্রীর ভয়, নেতার ভয়, ক্যাডারের ভয়-  এর নাম উন্নয়ন? একা প্রধানমন্ত্রী কেন সব সামলাবেন? এর কোনও ব্যাখ্যা আছে কারো কাছে? আওয়ামী লীগের আমলে আমাদের কি প্রত্যাশা ছিল? আমাদেরকে যারা এ দলের অন্ধ সমর্থক মনে করে তারা এখন ব্যঙ্গ করে বলে, বলেছিলাম না যে যায় লংকায় সেই রাবণ? মিলিবে নিন। আসলে তা মিথ্যা? একটি জাবাবদিহিতামূলক সরকার আর স্বচ্ছ সমাজ থাকলে- সচিব তো সচিব, মন্ত্রীর ও সাধ্য নাই জনগণের পথ আগলে দাঁড়ায়।

নাই এটাই সত্য। তাই আজ তিতাসের প্রাণ গেছে কাল অন্য কারো। আপনি লিখে রাখতে পারেন এই যুগ্ম সচিবের কিছু হবে না। যদি জনরোষ নামে কিছু হয় তাহলে আই ওয়াশের মতো কিছু একটা করে আপনাকে আমাকে এঘটনা ভুলে যাবার সময় দেয়া হবে। ততদিনে সচিব সাহেব অন্য কোথাও চলে যাবেন। বা অন্যকোনও রূপে ফিরে আসবেন। এটাই আমাদের নিয়তি। আরেক দুর্ভাগ্য হলো বিরোধী বলে কোন রাজনৈতিক শক্তির অস্তিত্ব নাই। যেভাবেই হোক তাদের সমূলে প্রায় উৎপাটন করা গেছে। আর যারা আছে তারা এসব ঘটনা নিয়ে এমন হাস্যকর সব কথা বলেন- যাতে মানুষ লজ্জায় মুখ লুকাতে বাধ্য হয়। এই বলগাহীন আদর্শহীন মূল্যবোধহীন এক সমাজে উন্নয়নের ঢোল বাজিবে আসলে কি লাভ?

মানুষের জীবনের চেয়ে মূল্যবান আর কি হতে পারে? ঘটনাটি কত মর্মান্তিক। একটি ছেলে জান নিয়ে লড়াই করছে কিন্তু কোন এক ভিআইপি আসবে বলে ফেরি ছাড়ছে না। তাও তিন ঘণ্টা বসিয়ে রেখেছে। এই পাপ কি সমাজকে ছেড়ে কথা বলবে? খেয়াল করুন মানুষও কেমন নির্জীব আর তেজহীন হয়ে পড়েছে। আগে হলে এমন ঘটনা ঘটার সময়ই তুলকালাম হয়ে যেত। ভাঙচুর হতো। কাজগুলো ভালো না, নি:সন্দেহে খারাপ। কিন্তু এতে মানুষের বিবেকের রাগের বহির্প্রকাশ ছিলো। এখন? তাও নাই। কারণ সবাই বসে থাকে কখন ঘটনা ঘটবে আর ফেইসবুক টুইটারে এনিয়ে পোস্টিং দেবে। তারপর কার চাইতে কারটা ভালো আর জোরালো এ নিয়ে প্রতিযোগিতা। আর সে ফাঁকে সচিব পগারপার।

এমন দেশ এমন নিষ্ঠুর সমাজ আর এমন মায়া দয়াহীন মানুষ আমরা আগে দেখিনি। আমাদের শেষ গর্ব- মায়ার দেশ, ভালোবাসার দেশ- সেটাও  প্রায় শেষ হবার পথে। মানুষ এরপরও চুপ থাকে কী করে? এ কি কোন হ্যামিলনের বাঁশি যা মানুষকে ঘুম পাড়িয়ে রাখছে? না এ কোন লাভা উদগীরণের পূর্বাভাস? কিভাবে সম্ভব শিশু হত্যার পরও বিবেকহীন সচিবের থাকা? কিভাবে সম্ভব মানুষের এসব ভুলে ভোরে ঘুম থেকে জেগে নিজের সন্তানকে নিয়ে ফেরি করে পারাপার হওয়া? আমরা কি যান্ত্রিক রোবট? আমরা দূরদেশে থেকেও এই বেদনায় মুহ্যমান। আমাদের মনে একটাই প্রশ্ন- বাংলাদেশ কি এমন নিষ্ঠুর হবার জন্য জন্মেছিল? না এর কোনও প্রতিকার বা সমাধান আছে এখনো?

অজয় দাশগুপ্তকলামিস্ট।

১৩ Responses -- “সচিবের বিলম্ব: শিশু হত্যার দায়”

  1. Nanda Lal Sutradhar

    What does it mean …. VIP movement so airbus departure time will be delay … air travel may be local or international … this culture must be stopped…

    Reply
  2. সোহানুর রহমান

    এটা ঠিক আবার প্রমান করে বাংলাদেশ গনতান্ত্রিক দেশ নয়! নিজের কাছে একবার প্রশ্ন করুন তো ৩০ লাখ শহীদের প্রাণের বিনিময়ে আদৌ কি আমারা স্বাধীনতা লাভ করেছি??
    যেখানে আমলারা তাদের ইচ্ছা মতো দেশ চালাচ্ছে। আর দেশে সুশাসন এর কথা কি বলব! যেখানে আইনের শাসন নেই নেই কোনো স্বচ্ছতা না আছে কোনো সম্যতা ও নায্যতা জবাবদিহিতা।প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ ছাড়া যেখানে কোনো কাজেই পূর্নতা পাচ্ছে না আমি বলি কি সেদেশ এগিয়ে যাবে কি করে?

    ব্যক্তিগত ভাবে আমি শেখ হাসিনা কে অনেক পছন্দ করি।কিন্তু দেশ তো তার একার না। দেশের প্রতিটি পিয়ন থেকে শুরু করে মন্ত্রি সচিব প্রর্যন্ত সবাইকে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় এগিয়ে আসতে হবে

    Reply
  3. তানভীর আহমেদ

    ভিআইপি তো ভিআইপি!!!! উনাদের কথা বলে লাভ নেই। এদেশে ভিআইপিদের নিয়ে কথা বলা আর উলো বনে মুক্তা ছড়ানো একই কথা। কিন্তু তিতাসের অভিভাবকদের মতো অভিভাবকদের বলছি – তারা কিভাবে একটা ১১ বছরের বাচ্চাকে মোটরসাইকেলের মতো বিপদজ্জনক বাহনকে চালাতে দিলো!!! যেখানে তার মামার কথা অনুযায়ী সে মাত্র মোটরসাইকেল চালাতে শিখে ছিলো। তাও আবার প্রধান সড়কে হেলমেট ছাড়াই বরযাত্রীর শোডাউন করতে বরতে যাচ্ছিল। চালানোর অপরিপক্কতার কারণে সে নিজের জীবন এরকম অসময়ে দিলো। এক্ষেত্রে তার অভিভাবকও কি কম দায়ী নয়? আমাদের দেশে এখন উঠতি যুবকেরা এগুলো হরহাশোই করে। কিন্তু সে মাত্র ১১ বছরের একটা শিশু।এখানে ট্রাফিক পুলিশের ভূমিকাও প্রশ্নবিদ্ধ। তারা কারণে – অকারণে মোটরসাইকেল-গাড়ী থামিয়ে হয়রানি করে। অথচ ১১/১২ বছরের শিশুরা রাস্তাঘাটে হরহামেশাই ঘুরে বেড়ায়। এক্ষেত্রে সর্বস্তরের মানুষেরও ভুমিকা রাখা উচিত।

    Reply
  4. কাজী ফয়জুস সালেহীন

    দাদা
    দয়া করে সরকারের বিরুদ্ধে কিছু লিখবেন না। দেশ উন্নয়নের জোয়ারে ভাসছে, আপনি ও ভাসুন। চুপচাপ থাকুন, তামাশা দেখুন।

    Reply
  5. Raihan

    নিঃসন্দেহে দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা। কিন্তু এত আবেগী বিশ্লেষণ না করে ঘটনার অন্যান্য দিকগুলো ক্ষতিয়ে দেখা উচিৎ। এখানে অসুস্থ রোগী থাকার বিষয়টি সচিবকে বা তার অফিসের কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছিল কিনা তা কোথাও বলা হচ্ছে না। এমনও তো হতে পারে সচিব ব্যক্তিগতভাবে কিছুই জানতেন না। উনি নিশ্চয়ই একজন মৃত্যু পথযাত্রী রোগীর জন্য ফেরী আটকে রাখতে চাইতেন না। এটাতো কমন সেন্সের ব্যাপার।

    Reply
  6. Talukder

    “মানুষ এরপরও চুপ থাকে কী করে?”
    Because if you make any noise, it will become ‘rumor’ and they will see conspiracy in your action.

    “এই বলগাহীন আদর্শহীন মূল্যবোধহীন এক সমাজে উন্নয়নের ঢোল বাজিবে আসলে কি লাভ?”
    It makes them feel good, righteous, boasts self-satisfaction

    Please note that, country dose not care about ‘single individual’, it only cares about the interest ‘group of people’

    Reply
  7. আশফাক

    কিছু বললে চাকরি থাকবে না …
    সুতরাং এইসব (অ)মানুষদের জন্য আন্তরিক অভিশাপ আর .. টুট .. টুট .. টুট …

    Reply
  8. মনির হোসেন

    বর্বরতার শিকার আপনজনের মৃত্যুর ওপর দাঁড়িয়ে কেবল আমরা নিজেদের দাসোচিত জীবন নিয়ে হাহুতাশ করি। যেমনটি শুরু হয়েছে সম্প্রতি ভিআইপি কালচার নিয়ে বিতর্ক। রাষ্ট্রের অভিভাবক হিসেবে রাষ্ট্রপতি কিংবা প্রশাসনের সর্বোচ্চ নির্বাহীরা রাষ্ট্রীয় প্রয়োজনে চলাফেরার পথে স্বাভাবিকভাবেই অগ্রাধিকারমূলক প্রটোকল ও সর্বোচ্চ নিরাপত্তাসুবিধা পাবেন। সেটা আর চলতি সময়ের সর্বগ্রাসী ‘ভিআইপি কালচার’ আদতে পৃথক বিষয়। বিদেশি একটা পত্রিকায় দেখেছি, ব্রিটেনে মাত্র ৮৪ জন প্রশাসনের পক্ষ থেকে ‘বিশেষ নিরাপত্তা–সুবিধা’ পান। ভিআইপি বলা হয় যাঁদের। ফ্রান্সে এ রকম সুবিধা পান ১০৯ জন। জাপানে ১২৫ জন। যুক্তরাষ্ট্রে ২৫২। ১৩৭ কোটি মানুষের দেশ গণচীনে ওই রকম ‘ভিআইপি’ আছেন মাত্র ৪৩৫ জন। কিন্তু বাংলাদেশে রাস্তাঘাটে, হাসপাতালে, বিমানবন্দরে, ফেরিঘাটে—এমনকি দেখেছি, হোটেলের ডাইনিং রুমে শত শত ব্যক্তি ও বাহন ওই রকম সুযোগ-সুবিধা দাবি করছে, নিচ্ছে, পাচ্ছে। ঢাকার আজিজ মার্কেটের এক বইয়ের দোকানে দেখেছি, এক ব্যক্তি প্রয়োজনীয় বই খুঁজছেন।Ñদুই পাশে দুই রক্ষী অন্যদের বের হয়ে যাওয়ার ইঙ্গিত করছে। কোন সাংবিধানিক নির্দেশনার বদৌলতে এখানে প্রতিনিয়ত এত ‘ইমপট্যান্ট পার্সন’ তৈরি হচ্ছে তা অজ্ঞাত। এ রকম সংবাদ অনেকেই দেখেছেন ভিআইপিদের আসা-যাওয়ার পথে আটকা পড়ে অনেক পরীক্ষার্থী যথাসময়ে হলে পৌঁছাতে পারেননি। ভিআইপিদের গতি নির্বিঘ্ন রাখতে গিয়ে রাস্তায় রোগীদের মৃত্যু নৈমিত্তিক ঘটনা এখন। এ রকম ‘গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি’দের বিলম্বের কারণে বিমানভর্তি যাত্রীকে বসিয়ে রাখার ঘটনাও অহরহ ঘটছে। এসব অনাচার নিয়ে তাৎক্ষণিক প্রশ্ন তুললেই শুনতে হয় ‘আমাকে চিনোস তোরা’?

    Reply
    • Monjur

      আপনার বিদেশি হিসাব
      ঠিক আছে।
      কিন্তু এই নাবালকের কাহিনী ভিন্ন।১১বছরে কেনো অভিভাবকরা মটর সাইকেল চালাতে দিলো।
      আরও ২ টা ফেরিঘাট থােকে রাত ৮-১১ মধ্যে অসংখ্য ফেরিতে এই বালকের অভিভাবকরা কেনো নিয়া যায় নাই?
      বরগুনার ঘটনায় যেমন কিশোর-যুবাদের সুমনদেব নাথ ও তার আইনপ্রণয়করি পিতা, এবং প্রশাসনও দায়ী, এটাও এমন। শুধুমাত্র অতিরিক্ত সচিব মি.মন্ডলকে দোষারোপ ও অভিযুক্ত করা ঠিক নয়।
      বরগুনা ও এটাও দেশের সংখ্যালঘু ব্যাক্তি, এনারা বর্তামানে বিরাট ফর্মে আছেন, শেখ হাসিনাকেও প্রকারান্তরে প্রিয়াা সাহা দোয়ারোপ করেছে – ফর্মের নমুনা।

      Reply
  9. মেশকাত হোসেন

    মনে হচ্ছে উপনিবেশিকতার দীর্ঘ জের। সত্য যে, ৭২ বছর আগে ব্রিটেন গিয়েছে, ৪৮ বছর আগে পাঞ্জাবিরা গিয়েছে, কিন্তু আমাদের দাসোচিত মনটি হয়তো রয়ে গেছে। মনোবিজ্ঞানে একেই বলে ‘কালেকটিভ ডিপ্রেশন’ বা যূথবদ্ধ দীনতা। সাধারণত বন্দিশিবিরে এরূপ ট্রমা তৈরি হয়। তবে অনেক তথাকথিত ‘মুক্ত’ দেশেও উপনিবেশিকতার জের হিসেবে এরূপ মনোবিকার থেকে যায়। ফ্রাঞ্জ ফানো একে বলতেন ‘কলোনিয়াল এলিয়েনেশন অব দ্য পার্সন’। অর্থাৎ উপনিবেশ-উত্তর দেশগুলোতে মানুষের সঙ্গে রাষ্ট্রের সম্পর্কের বিচ্ছিন্নতাজনিত মানসিক ব্যাধি।
    অস্বাভাবিক নয় যে বাংলাদেশের মতোই পাকিস্তান, ভারত, বার্মা ও শ্রীলঙ্কায়ও এ রকম সংস্কৃতি প্রবলভাবে আছে এখনো। ভারতে মোদি সরকার কিছুদিন আগে কথিত ভিআইপিদের গাড়ির ছাদে লাল রঙের আলো জ্বালিয়ে সাইরেন বাজানো নিষিদ্ধ করেছে। ইমরান খানও প্রতিজ্ঞা করেছিলেন দেশটি থেকে এই সংস্কৃতি নির্মূল করবেন। তবে বাধা হয়ে আছে আমলাতন্ত্র। সম্প্রতি সেখানে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জন্য একধরনের ওয়াশরুম বানিয়ে তাতে ‘ভিভিআইপিদের জন্য’ নামফলক বসানো হয়েছে, যা নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা হচ্ছে।

    Reply
  10. আব্দুল্লাহ

    অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে, রাজনীতিবিদ ও ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি অনেক রাষ্ট্রীয় কর্মচারীও নিজেদের ভিআইপি ভাবছেন। যদিও জনগণ আনুষ্ঠানিকভাবে রাষ্ট্রের তরফ থেকে এরূপ ভিআইপিদের সংখ্যা জানে না। সরকারি তরফ থেকে এটা জানানো দরকার। রাজনীতিবিদদের নির্বাচিত করা হয় জনগণের নিরাপত্তা ও সুবিধা বাড়ানোর জন্য। এটা মোটেই বর্ণগত পদোন্নতি নয় যে জনপ্রতিনিধি হয়েই জনতাকে অস্পৃশ্য ভাবতে হবে। প্রশাসক ও নির্বাহীদেরও ‘সেবক’ হওয়ার কথা—ভিআইপি নন। জনগণই সর্বাগ্রে। জনগণের তরফ থেকে বেতনভোগীরা সর্বাগ্রে নন। রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা বাহিনীগুলোর দ্বারা সুরক্ষার দাবিদার সর্বাগ্রে করদাতারা। কিন্তু কার্যত রাষ্ট্রের সুবিধাগুলো অগ্রাধিকারমূলকভাবে পাচ্ছেন কথিত ভিআইপিরা। রাষ্ট্রযন্ত্র যেন এটা ভাবতে অভ্যস্ত হয়ে গেছে যে ভিআইপিদের সেবার জন্যই বাংলাদেশের জন্ম হয়েছে।

    Reply
  11. নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক

    এই দম্ভের শিকড় আমাদের মননের অনেক গভীরে নীরবে নীরবেও কাজ করে। ভিআইপি হিসেবে চিহ্নিত হওয়ার আকুতি সমাজে এত প্রবল যে অনেককে দেখেছি মসজিদে ঢুকেই প্রথম কাতারে গিয়ে দাঁড়ানোর জন্য মরিয়া হয়ে ধাক্কাধাক্কি করে এগোতে থাকেন। যেন প্রার্থনা নয়, তাঁর প্রথম কাতারে দাঁড়ানোটাই মুখ্য। তাঁকে জায়গা করে দেওয়া সব মুসল্লির দায়িত্বের মধ্যে পড়ে। সমগ্র সমাজকে ঠায় দাঁড় করিয়ে রেখে, বঞ্চিত করে, কিছু বাছাইকৃত মানুষের বাড়তি সুবিধার নামই ভিআইপি সংস্কৃতি। ভিআইপি মানসিকতা কার্যত উপনিবেশকালের একটা রোগ। একটা অসুস্থতা। এটা আসলে ভিন্ন নামে বর্ণপ্রথা। বাংলাদেশে ভিআইপিরা হর্ন বাজিয়ে ‘রং-সাইড’ দিয়ে হলেও এগিয়ে যেতে চান। এতেই স্পষ্ট এই বিকৃতির সামাজিক শিকড় কত গভীরে।

    Reply

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। প্রতিক্রিয়া লেখার সময় লক্ষ্য রাখুন--

  • ১. স্বনামে বাংলায় প্রতিক্রিয়া লিখুন।
  • ২. ইংরেজিতে প্রতিক্রিয়া বা রোমান হরফে লেখা বাংলা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না।
  • ৩. প্রতিক্রিয়ায় ব্যক্তিগত আক্রমণ গৃহীত হবে না।

দরকারি ঘর গুলো চিহ্নিত করা হয়েছে—