আমাদের দেশে কি এমন কোনও সংস্থা বা কর্তৃপক্ষ আছে যারা ঘটনা মনিটরিং করে? দুর্ঘটনার ট্রেন্ড, চরিত্র ইত্যাদি বিশ্লেষণ করে? দুর্ঘটনার সম্ভাব্যতা যাচাই করে? এমন কোন সংস্থার কথা আমার জানা নাই। কিন্তু মাঝে মাঝে কোনও একটা দুর্ঘটনা আসলেই দুর্ঘটনা কিনা সেটা নিশ্চিত হওয়াটা জরুরি। কোনও সুপরিকল্পিত অপরাধ যদি দুর্ঘটনার বাতাবরণে পার পেয়ে যায়, তবে অপরাধের প্রবণতা এবং অপরাধীর সাহস, দুটোই চক্রাকারে বাড়ার সম্ভাবনা থাকে।

এইতো কয়দিন আগেই লাগাতার আগুন লাগতে থাকলো দেশের নানা জায়গায়। সারাদেশ ব্যতিব্যস্ত হয়ে পড়লো হঠাৎ। আবার হঠাৎই থেমে গেলো সব। আর আগুন লাগছে না কোথাও! কেমন খটকা লাগে না? এমন না যে, সকল অবকাঠামোগত ত্রুটি রাতারাতি মেরামত করা হয়েছে। অথবা যথেষ্ট সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে সব জায়গায়। তবে কয়েক মাস আগে কেন ধুম পড়ে গিয়েছিল? এতো অল্প কয়দিনে এতোগুলো অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটতে পারলো, আর এখন একটিও ঘটছে না কেন? এমন কি হতো পারে যে এগুলো কোনটাই দুর্ঘটনা নয়, পরিকল্পিত অগ্নিকাণ্ড? আমরা জানিনা। কারণ, কেউ বিষয়টি তলিয়ে দেখেনি। মাঝখান থেকে বেঘোরে ঝরে গেলো কিছু জীবন।

এবার শুরু হয়েছে গণপিটুনি দিয়ে দলবদ্ধভাবে মানুষ মারার হিরিক। দেশের নানা জায়গা থেকে খবর আসছে। খেয়াল করলে দেখবেন, যারা এই সংঘবদ্ধ সন্ত্রাসের শিকার হচ্ছে তারা প্রত্যেকেই নিরীহ মানুষ। তারা কোনরকম উস্কানিমূলক আচরণ করেনি। তবুও একদল মানুষ ঝাঁপিয়ে পড়ছে তাদের টার্গেট করে। কাজটাকে নির্বিঘ্ন করার জন্য রটিয়ে দিচ্ছে ছেলেধরার গুজব। পুরো ব্যাপারটাই কেমন যেনো সাজানো নাটকের মতো। ভাবগতিক দেখে মনে হচ্ছে, এই ট্রেন্ড আগামী কয়েকদিন চলবে। তারপর যেমন হঠাৎ শুরু হয়েছে, আবার হঠাৎই থেমে যাবে। এমন না যে, যে সামাজিক অসহিষ্ণুতা বা অস্থিরতার কথা বলার চেষ্টা করা হচ্ছে, তার চিকিৎসা বা নিরাময় হয়ে যাবে এই কয়দিনে। এইসব ঘটনা দুর্ঘটনার ফাঁকে ফাঁকে চলছে শিশুর মাথা কেটে নেয়ার মতো গুজব বা অন্য দেশে গিয়ে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে বিচার, লবিং ইত্যাদি।

আমার ধারণা, গণপিটুনির হুজুগ থেমে যাওয়ার পর কিছুদিন বিরতি দিয়ে আরেকটা নতুন উপসর্গ দেখা দেবে। এরকমই হঠাৎ শুরু হবে, কয়দিন চলবে, মিডিয়া ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ঝড় উঠবে। তারপর আবার হঠাৎই থেমে যাবে।

এর আগেও আমরা দেখেছি, ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে অসন্তোষ ছড়ানোর চেষ্টা। বা স্বতঃস্ফূর্ত কোনও গণআন্দোলনকে মিথ্যা বানোয়াট গুজব রটিয়ে ভিন্ন খাতে নেয়ার চেষ্টা। যাতে আমরা সামিল হতে দেখেছি তথাকথিত কোন কোন খ্যাতিসম্পন্ন মানুষকেও।

আমি জানিনা, এগুলো শুধুই আমার সন্দেহবাতিক মনের সমস্যা কিনা। নাকি সত্যি পরিকল্পিত স্যাবোটাজ সব? সুনির্দিষ্ট কেউ বা কোন সংঘবদ্ধ গোষ্ঠী পরিকল্পিতভাবে দেশটাকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে নাতো? হতেই তো পারে। আমি জানিনা। শুধু বুঝতে পারি, সবার সতর্ক থাকাটা জরুরি। খুব জরুরি। আর চাই, আমার সব সন্দেহ ভুল প্রমাণিত হোক।

Responses -- “ভায়োলেন্ট মব: শুধুই সামাজিক অস্থিরতা নাকি স্যাবোটাজ?”

  1. নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক

    এখন আমরা এই উন্মত্ত জিঘাংসু জনতার হিংস্রতার নিষ্ঠুর রূপ দেখে দুঃখে–কষ্টে, অসহয়তায় স্তব্ধ হয়ে যাচ্ছি। কিন্তু ফেসবুকে কিংবা সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমেও যে মব বা জনতার উন্মত্ততা এসে ভিড় করে, একজন আরেকজনের চেয়ে বেশি নিষ্ঠুর বেশি বিষোদ্গারমূলক স্ট্যাটাস দেওয়ার প্রতিযোগিতায় নামে, সেটা নিয়েও গবেষণা হওয়া উচিত। যে উন্মত্ত জনতা একজন ভর্তিচ্ছু সন্তানের মাকে স্কুলের সামনে পেটায়, আর যে জনতার একেকজন প্রতিনিধি নির্জনে নিজের নিরাপদ চৌহদ্দিতে বসে মোবাইল ফোনে কিংবা ল্যাপটপে মানুষকে পেটানোর, অপরাধীর মৃত্যুদণ্ড প্রকাশ্যে কার্যকর করার, বিচারের আগেই অভিযুক্ত ব্যক্তিকে ক্রসফায়ারে দেওয়ার দাবি তোলেন, বিচারকের কাজ নিজেই সেরে ফেলেন, তাঁদের মধ্যে পার্থক্য কোথায়? এখন দেখা যাচ্ছে, আমাদের প্রত্যেকের মধ্যে একজন করে নিষ্ঠুর হন্তারক বসে আছে। মনে রাখা উচিত মব (উচ্ছৃঙ্খল জনতা) একটি ভয়াবহ প্রবণতা। একজন নিরীহ মানুষের মধ্যেও এটা সঞ্চারিত হতে পারে। এবং তাই হচ্ছে। ছেলেধরা সন্দেহে একদল মানুষ যখন একজন মাকে হত্যা করে, ওই দলবদ্ধ মানুষ মব হয়ে যায়। তাদের মধ্যে একযোগে বিবেকবোধ লোপ পায়। কিন্তু সাধারণ অবস্থায় তারাই আবার নিরীহ মানুষ। তাদেরও বিবেকবোধ আছে। আসলে পরিস্থিতি তাকে মবে পরিণত করে। সে ঘটনার সময় মনে করে, সত্যিই সে একটা ‘ভালো কাজ’ করছে। সে ‘ন্যায় বিচারে’ অংশ নিচ্ছে। সে বিচার না করলে এর বিচার হবে না। একবারও ভাবে না যাকে হত্যা করছে, সে আদৌ অপরাধী কিনা। একবারও ভাবে না যাকে নির্মমভাবে পেটাচ্ছে, তাকে পেটানো উচিত কিনা। মানবিকতা তো দূরের কথা, সে যে বেআইনি কাজ করছে, তাও সে মনে করে না। কারণ তাকে দেশের আইন, বিচার, অপরাধ দমন প্রক্রিয়া সেটা শেখাতে ব্যর্থ হয়েছে। ওই ব্যবস্থার প্রতি তার অবিশ্বাস সৃষ্টি হয়েছে। এটা প্রমাণ করে, আসলে আমরা নিজেরাই বিচারক হতে চাই। আমরা আমাদের মতো করে সবকিছুর সমাধান পেতে চাই। আইনি প্রক্রিয়ায় আমরা বিচার চাই না। অথবা ওই বিচারে আমরা আস্থা রাখতে পারছি না। যদি আস্থা রাখতে পারতাম, তাহলে ক্রসফায়ারে উল্লসিত হই কীভাবে! বিচারের বাইরে কোনও হত্যাকাণ্ডকে সমর্থন করি কীভাবে? ত্রসফায়ারে হত্যা আর গণপিটুনিতে হত্যার মধ্যে কি কোনও পার্থক্য আছে? দুটিই তো বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড। দুটিই তো বেআইনি। দুটিই তো শাস্তিযোগ্য অপরাধ। একটি ঘটে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে। আরেকটি ঘটায় উত্তেজিত জনতা। আর দুটির ক্ষেত্রেই সুযোগসন্ধানীরাও থাকে। তারা তাদের স্বার্থ হাসিলের জন্য এই দুটি প্রক্রিয়াকে কাজে লাগায়। যেখানে ন্যায়বিচার অনিশ্চিত। অপরাধীর শাস্তির আশা মানুষ ছেড়ে দেয়। সেখানে গণপিটুনি মাথাচাড়া দেয়। আর এই বিচারহীনতাকে ধামাচাপা দিতে ক্রসফায়ারের বিভ্রান্তিতে ফেলা হয় সাধারণ মানুষকে। বিচারহীনতায় বিচার দেখানোর এ এক ক্রসফায়ার কৌশল। এই চারিত্রিক বৈপরীত্য নিয়ে আমরা দেশে কীভাবে সুশাসন আশা করি? কীভাবে আমরা ন্যায়বিচার প্রত্যাশা করতে পারি? দূরে দাঁড়িয়ে সুবচন সহজ। বাস্তবে মাঠে আমরা কী আচরণ করতাম, তার তো নিশ্চয়তা আমরা কেউই দিতে পারছি না।

    Reply
  2. সুনীল আকাশ

    দিদি
    স্যাবোটাজ_স্যাবোটাজ করে আর কতো অস্বীকার করবেন যে দেশের আইন শৃংখলা পরিস্থতি কতোটা খারাপ ! আপনার স্যাবোটাজ কল্প কাহিনীতে দেশের আইন শৃংখলার আরো অবনতি হবে । বাঙালীরা প্রথম যে যন্ত্র আবিষ্কার করে তা হলো ষরযন্ত্র ! আপনি এখনো সেই মতবাদ থেকে বের হতে পারেন নি । দলীয় আনুগত্যের কারনে অন্যায়কে পশ্রয় দেয়া দেশের জন্য ক্ষতিকর এটা কবে বুঝবেন ?

    Reply

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। প্রতিক্রিয়া লেখার সময় লক্ষ্য রাখুন--

  • ১. স্বনামে বাংলায় প্রতিক্রিয়া লিখুন।
  • ২. ইংরেজিতে প্রতিক্রিয়া বা রোমান হরফে লেখা বাংলা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না।
  • ৩. প্রতিক্রিয়ায় ব্যক্তিগত আক্রমণ গৃহীত হবে না।

দরকারি ঘর গুলো চিহ্নিত করা হয়েছে—