আচ্ছা, কোনো ইস্যুতে ক্ষমতাবান কারো কাছে নালিশ করা কি অপরাধ? নিজ দেশে ‘প্রতিকার’ না পেয়ে বিদেশিদের কাছে ‘নালিশ’ জানানোটা তো আমাদের রাজনৈতিক সংস্কৃতির অংশ। এরশাদের শাসনামলে আওয়ামী লীগ-বিএনপি, বিএনপির শfসনামলে আওয়ামী লীগ, আওয়ামী লীগের শাসনামলে বিএনপি কি বিদেশিদের কাছে সরকারের বিরুদ্ধে নালিশ জানায়নি? বিএনপি কি এখনও তা করছে না? কিন্তু সেসব ঘটনা যদি ‘অপরাধ’ না হয়, তাহলে প্রিয়া সাহার অভিযোগটাকে এত বড় করে দেখা হচ্ছে কেন?

এর আগে আমরা দেখেছি, আওয়ামী-লীগ-বিএনপি বিভিন্ন দেশের অনেক ছোট-খাটো কর্মকর্তার কাছেও নালিশ জানিয়েছে সরকারের বিরুদ্ধে। সেসব কর্মকর্তার হয়তো তেমন কোনো ক্ষমতাই ছিল না। লজ্জাশরমের মাথা খেয়ে তবু নালিশ করা হয়েছে।

সেই মার্কিন রাষ্ট্রপতির কাছে প্রিয়া সাহার অভিযোগ দাখিল মোটেও নতুন কিছু নয়। আর ওই অনুষ্ঠানটিই ছিল অভিযোগ বা নালিশ জানানোর। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত সপ্তাহে ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সহিষ্ণুতার জন্য বিশ্বের বিভিন্ন ধর্মীয় নেতা ও প্রতিনিধিদের সঙ্গে তার অফিসে কথা বলেছেন। এর আয়োজক আমেরিকান সরকার। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন দেশের ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘুরা তাদের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেছেন। সেখানে চীনের একজন মুসলিম সংখ্যালঘু চীনের মুসলমানদের অবস্থার কথা বলেছেন। প্রিয়া সাহা বলেছেন হিন্দু সংখ্যালঘুদের কথা। হ্যাঁ, তার বক্তব্যে হয়তো পরিসংখ্যানগত ভুল ছিল। কিন্তু এদেশে সংখ্যালঘুরা এক ধরনের সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষের শিকার, অনেক ক্ষেত্রে কেবল ধর্মপরিচয়ের কারণেই নির্যাতিত, নিরবে অনেকেই দেশ ত্যাগ করছে, দেশে সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠী ক্রমহ্রাসমান- এসব কি মিথ্যে?

আবেগের আতিশয্যে অনেকেই দেখছি, প্রিয়া সাহার বিরুদ্ধে যা খুশি তাই বলছেন। অনেকে আবার এই সুযোগে নিজেদের অন্তরে পুষে রাখা সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষটাকেও ঝালিয়ে নিচ্ছেন। ‘মালাউনরা বরাবরই এমন’, ‘দেশেরটা খায়, বিদেশে টাকা জমায়’, ‘ইন্ডিয়ার দালাল’, ‘দেশদ্রোহী’, আরও নানা অসভ্য ও অভব্য বিশেষণে জর্জরিত করে চলছেন। এই প্রতিক্রিয়া দেখেও কিন্তু বোঝা যায়, ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের প্রতি আমাদের দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের মনোভাব কতটা সুশীল!

হ্যাঁ, ব্যক্তিগত আমি এ ধরনের ঘটনায় ট্রাম্প বা অন্য কারো কাছে নালিশ জানানোর বিরুদ্ধে। তাতে কোনো লাভ হয় বলে মনে হয় না। আমেরিকার স্টেটস ডিপার্টমেন্ট প্রতিবছর বিশ্বের প্রতিটি দেশের জাতিগত ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের মানবাধিকার বিষয়ে আলাদা আলাদা প্রতিবেদন তৈরি করে। সেই প্রতিবেদনে বাংলাদেশের চিত্রও স্থান পায়। বলাবাহুল্য, এখানে প্রতিবছর যে চিত্রটি উঠে আসে রাষ্ট্রের জন্য তা মোটেও সম্মানজনক নয়। তারপরও প্রতিবছর এই প্রতিবেদন বের হয়। হিন্দু-বৌদ্ধ-ক্রিস্টান ঐক্য পরিষদের পক্ষ থেকেও এ ধরনের প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। কিন্তু সেই প্রতিবেদন নিয়ে কেউ মাথা ঘামায় না। সরকারের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের কারো কারো সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে কথা বলে দেখেছি, তাদের মধ্যে এ বিষয়ে তেমন কোনো মাথা ব্যথা নেই। বরং দুচারজন সংখ্যালঘু নির্যাতন, কয়েকটা রেপ, কিছু জায়গাজমি দখল-কিছু মানুষকে বিতাড়ণ-এগুলো যথেষ্ট ‘সহনীয়’ পর্যায়ে রয়েছে বলে তাদের মধ্যে এ ধরনের পরিতৃপ্তিই লক্ষ করা যায়!

এদেশে সংখ্যালঘু নির্যাতনের ইস্যুটি ব্যাপক সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের কাছে কখনই পাত্তা পায় না। সবার এক কথা, এদেশে সংখ্যালঘুরা অনেক ভালো আছে। ভারতে কি হচ্ছে? আমেরিকায় কি হচ্ছে? চীনে উইঘুর সম্প্রদায়ের প্রতি কী আচরণ করা হচ্ছে? যেন ওইসব ঘটনা ঘটছে বলে বাংলাদেশেও সংখ্যালঘুদের নির্যাতিত হওয়াও ‘সঙ্গত!’

কথা হলো, অন্য দেশে সংখ্যালঘুদের প্রতি খারাপ আচরণ দিয়ে কি বাংলাদেশের সংখ্যালঘুদের প্রতি আচরণ করা হবে? আমাদের দেশের সংখ্যালঘুরা কী আসলেই ভালো আছে? আমরা কি আমাদের দেশের সংখ্যালঘুদের প্রতি ভালো আচরণ করছি? তাদের অধিকার-মর্যাদা-নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারছি? ভারতে মুসলিমদের উপর অত্যাচার-নির্যাতন হয়, সেটা বাংলাদেশি হিন্দুদের অপরাধ? এসব ব্যাপারে আমাদের দেশে সব সময়ই এক ধরনের ‘উগ্রতা’ দেখা যায়।

ধর্মীয় এবং জাতিগত সংখ্যালঘুদের উপর নির্যাতন-নিপীড়ণ আমাদের দেশে একটি সাধারণ ঘটনায় পরিণত হয়েছে। কারণে-অকারণেই তাদের উপর হামলা হয়, আক্রমণ হয়। তাদের জীবন অনিরাপদ করে তোলা হয়। তাদের সম্পদ লুটপাট করা হয়। জায়গাজমি জবরদখল হয়ে যায়। আতংক ও উৎকণ্ঠার মধ্যে বেঁচে থাকতে হয়। এটা কোনো মানুষের জীবন নয়। ভোটের সময় হামলা-আক্রমণের ঘটনা মাত্রা ছাড়িয়ে যায়। প্রতি নির্বাচনের আগে-পরেই সংখ্যালঘুদের উপর হামলার ঘটনা ঘটে থাকে।

২০০১ সালের নির্বাচনে বিএনপি-জামায়াত জোট ক্ষমতায় আসার আগে-পরে এই হামলা-আক্রমণের ঘটনা অতীতের সকল রেকর্ড অতিক্রম করেছিল। দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য এটাই যে, প্রতিটি হামলা-নির্যাতনের সঙ্গে বিএনপি এবং জামায়াত-শিবির জড়িত থাকলেও কাউকেই তখন গ্রেপ্তার করা হয়নি, আইনের আওতায় এনে একজনকেও শাস্তি দেওয়া হয়নি।

২০০৮ সালে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে মহাজোট সরকার ক্ষমতায় আসার পর আশা করা হয়েছিল ২০০১ সালে সংখ্যালঘুদের উপর হামলার প্রতিটি ঘটনার উপযুক্ত তদন্ত হবে এবং প্রকৃত আপরাধীদের শাস্তি বিধান করা হবে। কিন্তু বাস্তবে তা হয়নি। উল্টো মহাজোট সরকারের আমলেও ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের উপর, আরও স্পষ্ট করে বললে বৌদ্ধ ও হিন্দু সম্প্রদায়ের উপর নৃশংস আক্রমণের একাধিক ঘটনা ঘটেছে। কোনো ক্ষেত্রেই দুষ্কৃতকারিরা উপযুক্ত শাস্তি পেয়েছে এমন কোনো প্রমাণ দেওয়া যাবে না। ক্ষেত্রবিশেষে দুএকটি মামলা হয়েছে, দুএকজনকে গ্রেপ্তারও হয়তো করা হয়েছে। কিন্তু প্রকৃত অপরাধীরা ধরা-ছোঁয়ার বাইরে থেকেছে। ফলে সংখ্যালঘুদের উপর আক্রমণ করা, তাদের জীবনকে বিপন্ন করে তোলা, ত্রাসের মধ্যে তাদের বসবাসে বাধ্য করা যেন তাদের ‘নিয়তি’ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সংখ্যালঘু নির্যাতনের ধরা কিন্তু বাংলাদেশে এখনও চলছে। বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের তথ্য মতে, চলতি বছরের প্রথম চার মাসে (জানুয়ারি থেকে এপ্রিল) দেশে হত্যার শিকার হয়েছেন কমপক্ষে ২৩ জন৷ হত্যাচেষ্টার শিকার হয়েছেন ১০ জন৷ হত্যার হুমকি পেয়েছেন ১৭ জন এবং শারীরিক আক্রমণের শিকার হয়েছেন ১৮৮ জন৷ ধর্ষণ এবং যৌন হয়রানির শিকার হয়ে আত্মহত্যা করেছেন ৩ জন এবং সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়েছেন ৫ জন৷ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও বাড়ি ঘরে লুটতরাজের ঘটনা ঘটেছে ৩১টি, বাড়ি ঘর ও জমি জমা থেকে উচ্ছেদ হয়েছেন ১৬২ জন, দেশত্যাগের হুমকি পেয়েছেন ১৭ জন৷ ১০৪ জন ধর্মান্তরিত হয়েছেন, ২৯টি মন্দির ও মঠে হামলা হয়েছে, ৪৩টি মূর্তি ভাঙচুর করা হয়েছে এবং জবর দখলের ঘটনা ঘটেছে ৩৮টি৷ এর বাইরে অপহরণ, ধর্মস্থান দখল, মূর্তি চুরির মতো ঘটনারও অভিযোগ করা হয়েছে৷

হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের মতে, ২০১৬ সালে বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের ওপর সহিংসতার ঘটনা ঘটেছিল ১,৪৭১ টি৷ ২০১৭ সালে হয়েছিল ১,০০৪টি৷ ২০১৮ সালে ৮০৬টি৷

দেখা যাচ্ছে, সংখ্যালঘু নির্যাতনের ঘটনা আমাদের দেশে এক চলমান প্রক্রিয়া। প্রিয়া সাহা যে ভাষায়, যে সব তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে যার কাছে অভিযোগ দাখিল করেছেন, সেটা হয়তো অনেকের কাছেই গ্রহণযোগ্য মনে হয়নি। কিন্তু তাই বলে বাংলাদেশ সম্প্রীতির স্বর্গরাজ্যে পরিণত হয়েছে- এটাও তো সত্য নয়। আমাদের দেশে সংখ্যালঘু পরিবারগুলো যখন আক্রান্ত হয়, তখন আমরা কজন তাদের পক্ষে দাঁড়াই? ‘ভারতের মুসলমানদের দিকে তাকান, হিন্দুরা সেখানে কি না করছে’- এইতো আমাদের হিন্দুদের প্রতি সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের অনুভূতির ভাষা! কাজেই প্রিয়া সাহাকে আমরা দোষ দিই কোন যুক্তিতে?

আর প্রিয়া সাহার পুরো তথ্যই যে কাল্পনিক বা বানোয়াট, সেটাই বা বলি কীভাবে? আমাদের দেশে ‘মিসিং পপুলেশন-এর বাংলা করা হয় ‘হারিয়ে যাওয়া মানুষ’। আবার অনেকে এটাকে ‘গুম হয়ে যাওয়া’ বা ‘গুম করে দেওয়া’ হিসেবেও চালিয়ে দেন। প্রিয়া সাহা ৩৭ মিলিয়ন হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ‘ডিসঅ্যাপেয়ার’ বলে উল্লেখ করেছেন। তার এই ‘ডিসঅ্যাপেয়ার’ আর আবুল বারাকতের গবেষণায় ব্যবহৃত ‘হারিয়ে যাওয়া’ হিন্দুর সংখ্যাটা কতো? ১৯৭১-২০১৩ অবধি ৪২ বছরে বাংলাদেশে হিন্দু জনসংখ্যা কমে তাদের আগের সংখ্যার এক-চতুর্থাংশে এসে দাঁড়িয়েছে। ২৮% ভাগ থেকে ৮% শতাংশে এসে দাঁড়িয়েছে।

অর্থনীতিবিদ আবুল বারকাতের গবেষণা গ্রন্থ ‘অ্যান ইনকোয়ারি ইন টু কজেস অ্যান্ড কনসিকোয়েন্সেস অফ ডিপ্রাইভেশন অব হিন্দু মাইনরিটিজ ইন বাংলাদেশ থ্রু দ্য ভেস্টেড প্রপার্টি অ্যাক্ট’ বইয়ে দেখা যায়, ১৯৬৪ সাল থেকে অদ্যাবধি প্রতি বছর ১ লাখ ৯৬ হাজার ২৯৬ জন হিন্দু ‘হারিয়ে যাচ্ছেন’ এদেশ থেকে। প্রতিদিন হারাচ্ছেন ৫৩৮ জন মানুষ। আবুল বারাকাতের এই তথ্যের বিপরীতে প্রিয়া সাহার তথ্য কি একেবারেই মিথ্যে?

হ্যাঁ, ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে প্রিয়া সাহা উপস্থাপিত তথ্য-উপাত্তে কিছু অসঙ্গতি আছে। আর বিদেশি রাষ্ট্রপ্রধানের কাছে এ ধরনের তথ্য উপস্থাপন করা, অভিযোগ জানানো, প্রতিকার চাওয়া মোটেও ঠিক কাজ নয়। এই প্রবণতা অবশ্যই নিন্দনীয়। বিদেশিদের কাছে নালিশ করার, প্রতিকার চাওয়ার এই নেতিবাচক ‘রাজনৈতিক-সংস্কৃতি’র অবশ্যই অবসান হওয়া উচিত। কিন্তু প্রিয়া সাহাকে নিয়ে বর্তমানে যা হচ্ছে, যেভাবে পুরো সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মুণ্ডুপাত করা হচ্ছে, সেটাই বা কতটা বাস্তবসম্মত, তাও ভেবে দেখার প্রয়োজন রয়েছে।

চিররঞ্জন সরকারকলামিস্ট।

১৮ Responses -- “আমরা কি প্রিয়া সাহার প্রতি সুবিচার করছি?”

  1. সৈয়দ আলি

    লেখক পরিষ্কার দ্বৈরথে ভুগছেন। একবার বলছেন, এদেশে হিন্দুরা নির্যাতিত আবার পরক্ষনেই বলছেন ‘হাঁ, পরিসংখ্যানগত ভুল আছে’। এর মানেটি কি দাঁড়ায়? আমরা লেখকের কোন ভাষ্যটি গ্রহণ করবো?
    কেউই অস্বীকার করবে না যে ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে এদেশে হিন্দুরা কখনো নির্যাতিত, কখনো অসাম্যের শিকার। এর সমাধান সীমান্ত অতিক্রম করা নয় বরং বাংলাদেশকে দঢ়ভাবে ‘জন্মভূমিশ্চ গরিয়সি’ মনে করে বাংলাদেশেই টিকে থাকা, লাফ দিয়ে সীমান্ত পেরোনো নয়। এই পেরোনোর অর্থ বাংলাদেশকে আপন দেশ মনে না করা। এই ভূখন্ডে মাৎস্যন্যায় চলে এবং এটি অতীতেও চলেছে। রবীন্দ্রনাথ সার্ধশতবর্ষ পূর্বে ‘দুই বিঘা জমি’ কবিতায় তা’ বিবৃত করেছেন। ক্ষমতাবান (সচরাচর ক্ষমতাসীন) পশুরা সকল ধর্মের দুর্বল মানুষদের উপর অত্যাচার চালায়, মুসলমান বলে কেউ রেয়াত পায়না। কিন্তু এই নির্যাতিত মুসলমানেরা কোথায় যাবে? তাদের জন্যতো সীমান্ত অতিক্রম করার সুযোগ নেই।
    ব্যক্তিজীবনে শঠ, অসৎ এবং ব্যাঙ্ক তহবিল তসরূপের দায়ে চিহ্নিত আবুল বারাকাত আদৌ গ্রহনযোগ্য নন। তার মতলববাজি ‘গবেষণা’ও গ্রহণীয় হতে পারে না।
    একথা স্মরণ রাখা দরকার, আরএসএস দাবী করে বাংলাদেশ থেকে কোটি কোটি মুসলমান ভারতে অনুপ্রবেশ করে। পশ্চিমবঙ্গের সামাজিক-গবেষকেরা প্রমান করেছেন, পশ্চিমবঙ্গে কোন অস্বাভাবিক জনস্ফীতি ঘটেনি।

    Reply
  2. মো. হুমায়ুন কবির

    দয়া করে প্রিয়া সাহাকে আপাতত: আর কিছু বলবেন না। তিনি দিশাবিশা হারিয়ে ফেলছেন। একদিকে ট্রাম্পের কাছে ভুল পরিসংখ্যান দিয়েছেন। আবার বলছেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে এসব শিখেছেন। খুব বাজে অবস্থা। উনাকে একটু বিশ্রামে থাকতে দিন। প্রশ্নবানে জড়জড়িত করে পাগল করে দিয়েন না।

    Reply
  3. কল্যান

    আমার কাছে মনে হয়,প্রিয়া সাহার বক্তব্য নিয়ে বাঙালী সমাজে যত বেশী খোশগল্প হবে,ধনতন্ত্রের ধব্জাধারী বিদেশী মোড়লদের দুর্বল এবং গরীবদের নিয়ে খেলতে ততটাই সুবিধে হবে।পুঁজিবাদী পৃথিবীর আগ্রাবাদী শাসনের অবসান চাই।

    Reply
  4. Rabbani

    ৩৭ মিলিয়ন, মানে ৩৭০ লাখ, মানে ৩ কোটি ৭০ লাখ হিন্দু, বৌদ্ধ, খৃষ্টান হারিয়ে গেছে “বাংলাদেশ” মানে ১৯৭১ সাল থেকে। সংখ্যাটা কি খুব মিথ্যে বা বেশি বলেছেন প্রিয়া সাহা? খুন হওয়া, বাড়িঘর পুড়ে যাওয়া, মিথ্যে মামলা খেয়ে পালিয়ে যাওয়া, উঠতি মেয়েদেরকে নির্যাতনের ভয়ে ভারতে পাঠিয়ে দেয়া, জোর করে জমি বিক্রি করতে বাধ্য হয়ে ভিটে ছাড়া হওয়া মানুষগুলো হিসাবে নিলে সংখ্যাটা কি খুব হেরফের হবে? এরা উধাও হবার সংজ্ঞায় পড়ে না? পশ্চিম বঙ্গসহ বাংলাদেশের আশেপাশে ভারতের রাজ্যগুলোর প্রত্যেক পাড়ায় গিয়ে একটু খোঁজ নিলেই তো বেরিয়ে যায়। নিন না হিসাব।
    ৩৬৫’র একটা দিন দেখান যেদিন বাংলাদেশের কোথাও না কোথাও শুধু মুসলিম পুরুষ না হওয়ার কারনে কেউ না কেউ কোনো না কোনোভাবে নির্যাতিত হয় না? বাংলাদেশ তাঁদের না? জয় বাংলা তাঁদের না? বঙ্গবন্ধুতে তাঁদের অবদান নেই? ভাগ নেই? তাহলে কেন তাঁরা বুক ফুলিয়ে, চোখে চোখ রেখে তা দাবী করতে পারে না? কত অনিশ্চয়তায় থাকলে বেতন তুলতে যাওয়ার দিন সকালে হুন্ডি ওয়ালার কাছে রুপি’র রেট জানতে চায় একটা মানুষ? ওরা ছাড়া বাকি ১৪ কোটি উদার সাম্যবাদীর কাছে এই প্রশ্ন আমার।
    প্রিয়া সাহা ঘরের কথা পরকে বলে ঠিক করেছেন না ভুল করেছেন, সেই বিচার করার আগে এই প্রশ্নের উত্তর খোঁজা এবং বোঝা জরুরী যে ব্যাপারটা কেন হোয়াইট হাউস পর্যন্ত যায়? ইউরোপিয়ান পার্লামেন্ট পর্যন্ত যায়? বাড়ির দুর্বল মানুষটা, বুড়োটা, শিশুটা যখন হাসি মুখে বুক ফুলিয়ে বলে সে ভালো আছে, তবেই বুঝতে হবে সেই বাড়িতে শান্তি আছে। দশকান হলে সে ব্যর্থতা, সে লজ্জা বাড়ির বাকিদের। শেখ হাসিনা এ অমুসলিমদের নিরাপত্তা এবং ক্ষমতায়নের ব্যপারে যতগুলো উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন, তার একটির প্রতিও জনসমর্থন থাকলে আসলে আজ গন্ধটা অতদূর যাওয়ার কথা না।

    Reply
    • সুমন

      ভুলভাল না বকে, “বাড়িঘর পুড়ে যাওয়া, মিথ্যে মামলা খেয়ে পালিয়ে যাওয়া, উঠতি মেয়েদেরকে নির্যাতনের ভয়ে ভারতে পাঠিয়ে দেয়া, জোর করে জমি বিক্রি করতে বাধ্য হয়ে ভিটে ছাড়া হওয়া মানুষগুলো” র সম্পদ কাদের দখলে আছে আপনিও খোঁজ নিন।
      সেটা প্রায় শতভাগই তাদের পছন্দের একটি নির্দিষ্ট দলের পান্ডাদের কব্জায়। বিশ্বাস করুন আর নাই করুন, এটাই সত্যি।

      Reply
  5. Jewel

    তিনি প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে কথা বলে এসে এখন বলছেন তিনি নাকি প্রধানমন্ত্রীর কাছে থেকেই এমন প্রতিবাদ করতে শিখেছে!

    Reply
  6. Morshed

    উনি যেহেতু প্রধানমন্ত্রীর আর্দশ মানেন তাহলে তার কাছে এর পরিত্রান না চেয়ে বরং প্রধানমন্ত্রীকে তোয়াক্কা না করে সরাসরি ট্রাম্পের কাছে নালিশ করেছে। এতে তার প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আস্থা আছে বলে মনে হয় না। যেখানে রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে ক্ষমতাধর দেশের সমর্থন আদায় নিয়ে সরকার ব্যস্ত সেখানে তিনি দেশের ভাবমূর্তি আরো নষ্ট কবে আসলেন। এটা সম্পূর্ণ দেশদ্রোহীতার শামিল। এটার সুষ্ঠ বিচার চাই।

    Reply
  7. Mirza Kibria

    প্রিয়া সাহা, আপনি কি মার্কিন মুলুকে রাজনৈতিক আশ্রয় চাইছেন? এই দেশে থেকে যাবার আশা পোষন করছেন? আমরা এখানে আছি গত ২০/৩০/৪০ বছর যাবত। আমাদেরকে কোনোদিন এই ধরনের মিথ্যার আশ্রয় নিতে হয়নি। আপনার সন্তানেরা এখানে আছে তাই আপনিও থাকতে চাইতে পারেন তাতে বিস্মিত হবার কিছু নেই। আমাদের সাথে যোগাযোগ করতে পারতেন, কিংবা কোনো ইমিগ্রেশন এটর্নীর সাহায্য-সহযোগীতা নিতে পারতেন। এ সব না করে আমার দেশের বিরুদ্ধে এত বড় একটা মিথ্যা অপবাদ দিতে পারলেন? আমি মুক্তিযুদ্ধ করেছিলাম ১৯৭১ সনে এবং একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে গর্ব বোধ করি বাংলাদেশের মত একটা গৌরবোজ্জল দেশ সৃষ্টিতে কিছুট অবদান রাখতে পেরেছিলাম বলে। আমার এই বাংলাদেশের সুনাম সারা বিশ্ব জুড়ে এবং সেই সুনাম সামাজিক এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য। বাংলাদেশ সেই দেশ যেখানে সকল ধর্মের লোকজন বন্ধুত্বপূর্ন পরিবেশে বসবাস করছে। মিথ্যা বলছি না। আমি প্রতি বছর দেশে যাই। আমার গ্রাম ও ইউনিয়নের প্রায় ১/৩ অংশ হিন্দু সম্প্রদায়ের লোক। তাদের পুজা পার্বনে আমরা মেহমান হয়ে থাকি এবং আমাদের নানা ধর্মীয় উতসবে তারাও অতিথী হয়ে আসেন। আপনি কোথায় পেলেন যে ৩/৪ কোটির বেশী হিন্দু ধর্মে বিশ্বাসীরা নিখোজ হয়ে গেছেন? ৩/৪ কোটি হিন্দু কি কোনোদিন বাংলাদেশে ছিলেন? সরকারকে অনুরোধ করছি আপনার যে কোটি কোটি টাকার সঞ্চয় তাহা কোন ব্যাংকে? বাংলাদেশে নাকি ভারতের কোনো ব্যাঙ্কে? সরকার কিংবা জনগনকে অনুরোধ করছি এই মূহুর্তে প্রিয়া সাহার ব্যাপারে কোনো সিদ্ধান্ত না নেয়ার জন্য, তাকে সাদরে বাংলাদেশে প্রবেশ করতে দিন এবং তারপর তার কাছে জানতে চান তিনি কি সত্যিকারেই ঐ কথাগুলো বলেছেন নাকি সংবাদ পত্রের ভাষা? প্রিয়া সাহা, আমরা হিন্দু, মুসলমান্‌ বৌদ্ধ কিংবা খৃষ্টান ধর্মাবলম্বী নই, আমরা বাংগালী/বাংলাদেশী। সুতরাং এই মানসিকতা বাদ দিন এবং বাংগালী হিসেবে বসবাস করুন, না হয় মহাশূন্যের কোনো গ্রহে চলে যান।

    Reply
  8. shafiq panna

    এখানে লেখক প্রিয়া সাহার বক্তব্যের উদ্দেশ্যেটা বুঝতে পারেননি, তিনি বোঝাতে চেয়েছেন যে এটার সাথে সরকার জড়িত আর আপনাকে বলছি disappear মানে তো শুধু হারিয়ে যাওয়া না আর যদি হারিয়ে যাওয়া ধরি তবে তা তো নিজের ইচ্ছায় দেশ ত্যাগও হতে পারে। এখন কেউ যদি স্বেচ্ছায় দেশ ত্যাগ করে আর আপনি যদি সেটাকে দেশ ছাড়া করা বোঝান তবে উদ্দেশ্যে পরিস্কার যেটা প্রিয়া সাহা করেছেন। বিচার চাওয়া এক আর বিচার চাওয়ার নামে দেশের ভাবমুর্তি নস্ট করা আর এক।

    Reply
  9. GAWSAL A. RASSEL

    ১. উনি যদি বলতেন, দেশে ক্ষমতাধরদের কাছে সাধারণ মানুষ অসহায়, ক্ষমতাধরেরা সাধারণ মানুষের জান-মাল জোর পূর্বক কেড়ে নিচ্ছে তবুও উনার কথা মেনে নেয়া যেতো। ক‌ই, শুনলাম না তো, উনার বাড়ীর হামলায় কোন “মুসলিম ফান্ডামেন্টালিস্ট” জড়িত। বরং যারা জড়িত, তাদের মধ্যে দু’জন হিন্দুও ছিলো।

    ২. উনি যদি বলতেন যে সমস্ত হিন্দু দেশ ছেড়ে ভারতে চলে গিয়েছেন, তার মতো কতো ভাগ স্বেচ্ছায় ও ভাগ্যোন্নয়নের জন্য গিয়েছেন- তা-ও উনার কথা মেনে নেয়া যেতো। আমার অন্তত চার বন্ধুকে জানি, যারা ভাগ্যোন্নয়নের জন্য দেশ ছেড়ে ভারত চলে গিয়েছেন। এখন তারা ভালোই আছেন। আমার একজন কলিগ, যিনি চাকুরী শেষে ভারত চলে গিয়েছেন। তার ছেলেও সেখানে একটি ব্যাংকে চাকুরী করছেন এখন দিব্যি। আমাদের জেলায় দুইজন প্রধান কাপড় ব্যবসায়ী, যাদের পার্ক স্ট্রিটে নিজেদের বাড়ি আছে। ব্যবসার লাভের সকল টাকা সেখানেই যাচ্ছে।

    ৩. উনি যদি বলতেন উচ্চ শিক্ষার জন্য যে সকল হিন্দু উন্নত দেশে যাচ্ছেন, তারা ফিরে আসছেন না কিসের লোভে- তা-ও উনার কথা মেনে নেয়া যেতো।

    ৪. উনি তো রাজনীতি করেন না। তো রাজনীতিবিদ দের অনুকরণে কিভাবে তিনি বক্তব্য রাখেন। কিসের স্বার্থে? ব্যক্তিগত অর্থনৈতিক স্বার্থ সিদ্ধি নাকি ফ্যামিলির সবার জন্য গ্রীন কার্ড?

    ৫. হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ কোন ভাবেই উনার বক্তব্যের দায়ভার এড়াতে পারেন না। তাদের ব্যানারে না গিয়েও, তাদের পাঠানো প্রতিনিধিদের বাদ দিয়ে কিভাবে, কাদের ইশারায় উনি ব্যক্তিগত মতামত প্রদানের ধৃষ্টতা দেখালেন? নাকি পুরো বিষয়টাই সাধারন জনগনকে বোকা বানানো!

    ৬. নিজেদের স্বার্থসিদ্ধির জন্য দেশের বাইরে ভাগ্যান্বেষণে লিপ্ত এ সকল নব্য রাজাকারসহ, দেশের ভিতরে যারা ইনিয়ে-বিনিয়ে এদের সমর্থন করছেন- তাদের সকলকে জিজ্ঞাসাবাদ করে আইনের আওতায় আনা হোক। অন্তত আমাদের উচিত হবে তাদের চিহ্নিত করা।

    ৭. প্রিয় বাংলাদেশের সাধারণ ধর্মভীরু মানুষের‌ও উচিত হবে না এসকল কুকুরদের সমালোচনা করতে গিয়ে গোটা একটি সম্প্রদায়কে দোষী করে ফেলা। প্রকারান্তরে ওটা সাম্প্রদায়িকতার বিষ বাষ্প ছড়ানোই হবে তাহলে।

    Reply
  10. Alam

    কলামিস্টরা যখন কলাম লেখেন তাদের লেখায় একপাশে বক্তব্য প্রকাশ পেলে খুব হতাশ লাগে। আমার মত একজন সাধারণ মানুষের বক্তব্যে কিছু আসে যায়না কিন্তু আপনাদেরটাই অবশ্যই যায়! নিজের মত করে অনেক কিছু লিখতে চেয়েছিলাম কিন্তু ‘প্রিয়া সাহার শাস্তি চাই’ শিরোনামে সাংবাদিক শান্তা মারিয়ার লেখার একটি অংশই আমার মন্তব্য – “হ্যা, দেশে অনেক রকম সমস্যা আছে। আমাদের মধ্যে ধনী-গরীবের ব্যাপক বৈষম্য আছে। আমাদের দেশে নারী ও শিশু নির্যাতন প্রবল। আমাদের দেশে শিশুরা ধর্ষণের শিকার হয় (সেটা হিন্দু-মুসলিম নির্বিশেষেই হয়)। আমাদের ভিটামাটি থেকে ক্ষমতাশালী ধনীরা উচ্ছেদ করে। দরিদ্র হিন্দু যেমন ভিটামাটি থেকে উচ্ছেদ হয়, তেমনি দরিদ্র মুসলিমও হয়। উপেনদের কি কোন জাত আছে? ধনী যেমন শোষক, দরিদ্র তেমনি নিপীড়িত। এখানে ধর্মের প্রশ্ন অবান্তর। পূর্ণিমা যেমন সহিংসতার শিকার হয়েছে তেমনি সুবর্ণচরের মুসলিম গৃহবধূও কি সহিংসতার শিকার হননি? আমাদের পাহাড়ের জনগোষ্ঠি, সমতলের দলিত ও সাঁওতাল সম্প্রদায়ও অনেক সময়ই নিপীড়ণের শিকার হচ্ছেন যা অত্যন্ত দুঃখজনক। এসবই জানি এবং মানি।”
    আপনি কিছু পরিসংখ্যান দিয়েছেন! বলতে পারেন দেশের সার্বিক পরিস্থিতি কি?আমার মত সাধারণ পাঠকের চেয়ে নিশ্চয় এসব পরিসংখ্যান আপনার জন্য সহজলভ্য।শুধু খুনের হিসেবে জুলাই পর্যন্ত সারা বাংলাদেশে (https://www.police.gov.bd/en/crime_statistic/year/2019) খুনের সংখ্যা ৩৫১। গড়পড়তা প্রথম চার মাসে ২০০ জন। আপনি বলেছেন, “বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের তথ্য মতে, চলতি বছরের প্রথম চার মাসে (জানুয়ারি থেকে এপ্রিল) দেশে হত্যার শিকার হয়েছেন কমপক্ষে ২৩ জন”। তার মানে শতকরা ১১% তথাকথিত (কারণ সমাজের প্রভাবশালীদের কাছে আসলে আমরা সবাই আজ সংখ্যালঘু) সংখ্যালঘু যা জনসংখ্যার বিচারে তাদের অনুপাতের কাছাকাছি! আমার বক্তব্য হচ্ছে সমাজটাই আজ পাপাচারে পরিপূর্ণ এবং আমরা সবাই তার শিকার।এধরণের একপেশে লেখা না লিখে সৎসাহস নিয়ে পরিপূর্ণ পরিসংখ্যান দিয়ে সার্বিকচিত্র নিয়ে একটি লেখার অনুরোধ থাকলো!

    Reply
  11. আন্দালিব পরমাণু

    সম্ভবনা বেশি যে আপনি অপরিপক্ক বুদ্ধিবৃত্তির মানুষদের দলের কেউ নন। তাহলে ঠিক কি কারণে আপনি এমন একটা নির্লজ্জ্য দেশদ্রোহীতাপূর্ণ অন্যায়কে খোঁড়া যুক্তি দিয়ে “সুগারকোট” করে মানুষের চোখে গ্রহণযোগ্যতা দেয়ার চেষ্টা করছেন সেই উত্তর আপনার কাছ থেকেই আশা করছি।

    “দুর্বলের ওপর সবলের অত্যাচার”।
    একদম সংক্ষেপে যদি বলি তাহলে মূলত এটিই ঘটছে সর্বত্র। শুধু এই দেশ নয়, সারা বিশ্বেই – সভ্য-অসভ্য জাতি, ধনী-দরিদ্র দেশ, থার্ড ওয়ার্ল্ড কান্ট্রি-ফার্স্ট ওয়ার্ল্ড কান্ট্রি সর্বত্র এই একই চিত্র। অনেকে যেটাকে সংখ্যালঘু নির্যাতন বা মূলত হিন্দু নির্যাতন বলেন, আমি সেটাকে মনে করি স্রেফ এবং স্রেফ “দুর্বলের ওপর সবলের অত্যাচার”। অন্তত বাংলাদেশের ক্ষেত্রে সেটিই সত্য। গায়ের জোরে বলছিনা, যুক্তি ও উপাত্ত দেব।

    আপনি উপাত্ত দিয়েছেন চলতি বছরের প্রথম চার মাসে দেশে হত্যার শিকার হয়েছেন কমপক্ষে ২৩ জন হিন্দু /সংখ্যালঘু। অর্থাৎ ১মাসে গড়ে ৬ জন। অথচ ওই উপাত্তটা দেয়ার সময় আপনি কি এটা ভেবে দেখেছেন যে শুধু জুন মাসেই দেশে ১৫৮ জন মুসলমান হত্যার শিকার হয়েছে (রিপোর্ট: NHRCB)? অর্থাৎ হিন্দুর চেয়ে মুসলমান হত্যা হয়েছে প্রায় ছাব্বিশ গুণ বেশি! বলেছেন ওই সময় ধর্ষণের শিকার হয়েছেন ৮ জন নারী। অথচ ওই উপাত্তটা দেয়ার সময় আপনি কি এটা ভেবে দেখেছেন যে ওই একই সময়ে দেশে মুসলমান নারী ধর্ষণের শিকার হয়েছেন ৪৮০ জন? অর্থাৎ ৬০ গুণ বেশি! এবং গত ৫ বছরে কিন্তু এই ধর্ষিতা মুসলমান নারীদের প্রায় ৯৭% -ই বিচার পাননি। যদি হিন্দু নির্যাতন করাই বাংলাদেশিদের প্রবণতা হতো তাহলে প্রায় ২ কোটি হিন্দু থেকে কম করে ৪৮১ জন হিন্দু মহিলা ধর্ষিত হতে পারতো। জুনে খুন হতে পারতো কমপক্ষে ১৫৯ জন। বা তারও অনেক বেশি। হয়েছে? বরং হয়েছে উল্টোটা। সংখ্যালঘু “বেশিরভাগ” হিন্দুরা কি এগুলো কখনো ভেবে দেখেন? অন্তত প্রিয়া সাহারা ভাবেন না। ভাবলে সহজেই বুঝতে পারতেন যে এগুলো যারা করে তারা হিন্দুদের নির্যাতন করেনা, তারা দুর্বলদের নির্যাতন করে। হিন্দুদের চাইতে মুসলমানরাই সে হিংস্রতার শিকার অনেকগুন বেশি।

    প্রিয়া সাহা সবচেয়ে ভয়ানক যে কাজটা করেছে তা হলো উনি উনার কথার ও তথ্যের মাদ্ধমে “ইন্ডিরেক্টলি” দেশের একটা ভুল এবং মিথ্যা চিত্র তুলে ধরেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্পের সামনে। সবাই এখন মনে করতেই পারে বাংলাদেশে জঙ্গিরা হিন্দু নির্যাতন করে এবং বাংলাদেশ সেটার বিচার করে না মানে তারা আসলে জঙ্গির মদদ দিচ্ছে। এবং “প্লিজ হেল্প আস” ধরণের কথা বলে উনি জঙ্গিদের দমনের ছলে দেশে মার্কিন হস্তক্ষেপ, কিংবা হামলা হোক সেটার উস্কানি দিচ্ছেন বলেই আমি বিশ্বাস করি। প্রিয়া সাহা বোকা নন। আমার দেয়া এই সব উপাত্ত উনি জানেন, সব যুক্তি উনি বোঝেন। উনি জেনে বুঝে দেশদ্রোহিতা করেছেন।

    বোকা নন আপনিও। পুরো লেখায় আপনি কিছু জায়গায় প্রিয়া সাহার সমালোচনা করলেও “ও তো অবুঝ একটা বাচ্চা” ধরণের সুরে শেষে সেই প্রিয়া সাহারই পক্ষ টেনেছেন। পলিটিশিয়ানরা ভুল করেছিল বলে আপনার ভুল করা পাপ নয় জাতীয় নির্লজ্জ খোঁড়া যুক্তি দিয়ে বলতে চেয়েছেন প্রিয়া সঠিক। একজন ধর্ষক কোনো কারণে সাজা না পেলেও আপনার সেটা দেখে উৎসাহিত হওয়া যাবেনা, মনে করা যাবেনা যে ধর্ষণ অপরাধ নয় সেটুকু বোঝার শিক্ষাটা তো নিশ্চই আপনার আছে। তাহলে সেই খোঁড়া যুক্তিকে ঢাল বানিয়ে প্রিয়া সাহাকে কেন রক্ষা করতে চাইছিলেন? আমি তো বলবো জেনে বুঝে আপনিও একজন ঘৃণ্য দেশদ্রোহীর পক্ষ নিয়েছেন। আপনিও বাংলাদেশকে ঘৃণা করেন। কম শিক্ষিত বা অশিক্ষিত বা অপশিক্ষিত হলে হয়তো “বাংলাদেশকে ঘৃণা করেন” না বলে বলতাম যে আপনি এদেশের এক্সট্রিমিস্ট মুসলমানদের ঘৃণা করেন। কিন্তু আপনার মতো তীক্ষ্ণ বুদ্ধির চিন্তাশীল মানুষদের ক্ষেত্রে সে ছাড় চলে না।

    Reply
  12. Rana Amir

    অনাকাঙ্ক্ষিত সাম্প্রদায়িকতা ছিল এবং আছে। অস্বীকার করা যাবে না। কিন্তু অতিরঞ্জিত মিথ্যা তথ্য উপস্থাপন করে ঐ নারী দেশকে চরম অপমান করার পরও চমৎকার সাফাই গাইলেন! অবশ্য নিরপেক্ষ একটি কলাম লিখতে হলে শুধু শিক্ষা আর মেধা থাকলেই হয় না। পাশাপাশি লজ্জাশরমও থাকতে হয়। আমরা আপনাদের কাছে এর চাইতে বেশী কিছু আশাও করি না।

    Reply
  13. asok mitro

    কোন ইস্যুতে ক্ষমতাবান কারো কাছে নালিশ করা অপরাধ নয় ‍যদিনা তা কোন পক্ষের কোন বেআইনি ক্ষতির সম্ভাবনা তৈরী করে। রাজনীতিবীদরা অবগত করেছিল। বিদেশি শক্তিকে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব ধ্বংশ করতে নেমন্তন করেনি। রাজনীতিকেরা কোন সরকারের বিরুদ্ধে কথা বলে, কখনো বাংলাদেশের বিরুদ্ধে নয়। যা প্রিয়া সাহা করেছে।

    on that occasion, various minorities coming from various parts of the world spoke the truth while priya saha spoke untrue stories and invited the war-monger to invade Bangladesh in a sneaky way. she represented our country in a disrespectful way.

    you acknowledged that there might be a mistake in the statistics she presented. then you start the storied she presented there. and it’s not the good way.

    it’s not true that the minorities of BD are facing communal violence. while priya saha acknowledged that about over 99% of the muslims are of the friends of the minorities how your saying could be true? because of personal reasons the fighting of two people shouldn’t be labeled as communal violence. NOBODY in the motherland i belong is victimised because of RELIGION. you’re spreading violent speeches through your writing.

    the report published from HINDU-BUDDHA-KHRISTIAN parisadh helps the govt. to make new reform in the country thus guiding the govt. while the complaints told to war-monger USA president trump had the significant foundation to invade bangladesh in the name of helping humanity. priya saha is an educated woman, she knows very much about USA and she did it perposefully and intentionally.

    হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের মতে, ২০১৬ সালে বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের ওপর সহিংসতার ঘটনা ঘটেছিল ১,৪৭১ টি৷ ২০১৭ সালে হয়েছিল ১,০০৪টি৷ ২০১৮ সালে ৮০৬টি৷ your statistics are showing that the evidence (according to you) of the number of incidentz are sigficantly decreasing. why complaining to Trump and not having a trust of Awami Govt? it’s a conspiracy against the govt. of course.

    প্রিয়া সাহা যে ভাষায়, যে সব তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে যার কাছে অভিযোগ দাখিল করেছেন, সেটা হয়তো অনেকের কাছেই গ্রহণযোগ্য মনে হয়নি। কিন্তু তাই বলে বাংলাদেশ সম্প্রীতির স্বর্গরাজ্যে পরিণত হয়েছে- এটাও তো সত্য নয়। is the USA is an absolute example of communal harmony for the minorities for which priya saha asked help to that war-monger? In which country USA stabilished communal stability? Iraq, Afganistan, Syria?

    I didn’t go through the analysis that abul barakat found. but he didn’t complain to trump and didn’t invited trump to come in this land. his findings may have various explanation and is not acknowledged by state. why barakat started from 1964, why not from the arrival of east india company? we know there are three kinds of lies- lie, damn lie and statistics (ajob ebong jobor ajbo orthoniti- Dr. Akbar Ali Khan).

    ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে প্রিয়া সাহা উপস্থাপিত তথ্য-উপাত্তে কিছু অসঙ্গতি আছে। a little? how? everything she told was untrue. there is no বিদেশিদের কাছে নালিশ করার, প্রতিকার চাওয়ার নেতিবাচক ‘রাজনৈতিক-সংস্কৃতি’. what politicians do is to inform them about the state. what priya saha did was conspiracy against Bangladesh.

    JUSTICE DELAYED IS JUSTICE DENIED. WE DEMAND JUSTICE.

    Reply
  14. আশফাক

    সংখ্যালঘু বলতে যদি হিন্দু সম্প্রদায়কে বুঝিয়ে থাকেন তাহলে ‘দেশেরটা খায়, বিদেশে টাকা জমায়’ কথাটি সামর্থ্যবান প্রায় প্রতিটি বাংলাদেশী হিন্দুর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। এদের প্রায় প্রতিজনের বছরে কয়েকবার ‘মামার বাড়ি’ ঘুরে না আসলে ভাল লাগে না। গোপনে সেদেশের নাগরিকত্ব গ্রহণ, এদেশে করার পুরো সুবিধা থাকলেও তা না করে মামুর দেশে স্থায়ী সম্পদ অর্জন, কথায় কথায় এদেশের পিন্ডি চটকে মামুর বাড়ির গুণগান গাওয়া আর কাঁহাতক ভাল লাগে? দেশের নাগরিক হিসেবে সমস্ত সুবিধা নিয়েও প্রতি মুহূর্তে এই দেশের বদনাম করে যাওয়াটাকে কিভাবে হালকা করে দেখা যায়?
    ভাববেন না সমালোচনা করার জন্য বা বিশেষ কাউকে ছোট করার জন্য বলছি। একদম ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে বলছি। সামাজিকভাবে বা চাকুরী সূত্রে উপরোক্ত ক্যাটাগরীর অনেকের সাথে প্রতিদিন চলতে হয়, অন্য ধর্মাবলম্বীদের সাথেও দিনের পর দিন মিশেছি, কারো মধ্যে এগুলো পাইনি, শুধুমাত্র মামুর ভাগিনাদের ছাড়া। ভয়ংকর হীনমন্যতায় ভোগে তারা। এদের যতই কাছে রাখার বা আপন করার চেষ্টা করা হোকনা কেন, এরা সবমসময়েই মাঝখানে একটা অদৃশ্য দেয়াল তুলে রাখে। এরা নিজেরাই রাজনৈতিক গুটি হিসেবে চালিত হয়, বিশেষ দলের পুজো করে। দেশের সর্বোচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে শিক্ষিত হয়ে আসাদেরও কূপমন্ডুক আচরণ করতে দেখেছি। নিজেদের দেশের সম্মানিত নাগরিক হিসেবে না দেখে সংখ্যালঘু হিসেবে পরিচয় দেয়। এরা নিজেরাই নিজেদের সুবিধাজনক সময়ে গুম হয়ে যায় বা (অন্যদেশে) হারিয়ে যায়।

    প্রিয়াদেবীর সবকিছু যদি শেষই করে দেয়া হয়ে থাকে তাহলে ধানমন্ডিতে ফ্ল্যাট, মেয়েদের আমেরিকার মত দেশে রেখে লেখাপড়া করানোর মত অর্থ কোথা থেকে আসে জানা দরকার। উনার এবং উনার স্বামীর আয়-সম্পদ সম্পর্কেও জানা দরকার।

    Reply

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। প্রতিক্রিয়া লেখার সময় লক্ষ্য রাখুন--

  • ১. স্বনামে বাংলায় প্রতিক্রিয়া লিখুন।
  • ২. ইংরেজিতে প্রতিক্রিয়া বা রোমান হরফে লেখা বাংলা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না।
  • ৩. প্রতিক্রিয়ায় ব্যক্তিগত আক্রমণ গৃহীত হবে না।

দরকারি ঘর গুলো চিহ্নিত করা হয়েছে—