বাংলাদেশি নারী প্রিয়া সাহা যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। এই সাক্ষাতে তিনি বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নির্যাতনের প্রসঙ্গে কথা বলেছেন। এই বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এসেছে, আলোচনা হচ্ছে; এবং এই আলোচনা সমালোচনার পর্যায়ে।

প্রিয়া সাহার কয়েক সেকেন্ডের সেই বক্তব্য হতে পারত সংখ্যালঘু নির্যাতন বিষয়ক বাংলাদেশের বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি, কিন্তু সেটা হয়নি মূলত অতিরঞ্জিত তথ্য ও বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের প্রচ্ছন্ন আহ্বানের কারণে। আর এই কারণে মূলত তার বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সমালোচনার ঝড় বইছে। তবে এই সমালোচনা যতটা পরিশীলিত হওয়ার কথা ছিল সেটা হয়নি, চলে গেছে ব্যক্তি ও ধর্মীয় পর্যায়ে। এই ইস্যুতে একটা পক্ষ হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ হিসেবে দাঁড় করিয়ে দিতে মরিয়া হয়ে ওঠেছে।

গত ১৭ জুলাই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের ওভাল অফিস বিভিন্ন দেশের কয়েকজন ধর্মীয় সংখ্যালঘুর দুর্ভোগের কথা শোনেন ট্রাম্প। সেখানে বাংলাদেশের প্রিয়া সাহা ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন চীন, পাকিস্তান, কিউবা, আফগানিস্তান, বাংলাদেশের রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে যাওয়া মিয়ানমারের বাস্ত্যুচ্যুত নাগরিকও। সেখানে বাংলাদেশি প্রিয়া সাহা ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে অভিযোগ করে বলেন, “আমি বাংলাদেশ থেকে এসেছি। সেখানে ৩৭ মিলিয়ন (৩ কোটি ৭০ লাখ) হিন্দু-বৌদ্ধ খ্রিস্টানকে গুম (disappear) করা হয়েছে। এখনো সেখানে ১৮ মিলিয়ন (১ কোটি ৮০ লাখ) সংখ্যালঘু জনগণ রয়েছে। দয়া করে আমাদের সাহায্য করুন। আমরা আমাদের দেশ ত্যাগ করতে চাই না। আমি আমার ঘর হারিয়েছি, আমার জমি নিয়ে নিয়েছে, আমার ঘরবাড়িতে আগুন লাগিয়ে দিয়েছে কিন্তু সে সবের কোনো বিচার নেই”। ট্রাম্প জানতে চান কারা এসব করছে? জবাবে ওই নারী বলেন, “সবসময় উগ্রবাদী মুসলিমরা এই কাজ করছে। সবসময় তারা রাজনৈতিক প্রশ্রয়ে এই কাজ করে”।

দুর্ভোগের অভিযোগ শুনে দুঃখিত ট্রাম্প সঙ্গে সঙ্গে প্রিয়ার দিকে অভয়ের হাত বাড়িয়ে দেন। ট্রাম্পের বাড়িয়ে দেওয়া এই হাতে কতখানি আশ্বাস আর কতখানি আশাবাদী হয়েছেন প্রিয়া সাহা সেটা জানা না গেলেও তার আকুতি যে ট্রাম্প প্রশাসন পর্যন্ত পৌঁছেছে ওতেই হয়ত সন্তুষ্টি তার। কিন্তু তার এই ব্যক্তিগত সন্তুষ্টি দেশবাসীর কাছে তাকে অপ্রিয় এক মানুষে পরিণত করেছে।

প্রিয়া সাহার এই অভিযোগ নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসন কী করবে, কিংবা কী করার ক্ষমতা রাখে সে আলোচনার দরকার মনে করছি না। এর কারণ মূলত বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ নানা বিষয়ে এর আগেও ইঙ্গ-মার্কিনিসহ অনেকের পক্ষ থেকে নানাভাবে নাক গলানোর চেষ্টা চললেও সেটা ফলপ্রসূ হয়নি। একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধীদের বিচার প্রক্রিয়া, জাতীয় সংসদ নির্বাচনসহ আওয়ামী লীগের প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক নেতাদের ওপর সরকারের নানা পদক্ষেপের বিরুদ্ধে পশ্চিমা দেশগুলো নানা সময়ে নানান কথা বললেও সেগুলোকে খুব বেশি গুরুত্ব দেয়নি শেখ হাসিনার সরকার। এর বাইরে আছে বাংলাদেশের আরেক আলোচিত গ্রামীণ ব্যাংক ও ড. মুহাম্মদ ইউনুস ইস্যু যেখানে সরকারের অভিযোগ শান্তিতে এই নোবেলবিজয়ী বাংলাদেশ সরকারের বিরুদ্ধে বিদেশে অপপ্রচার চালাচ্ছেন। ড. ইউনুসের সঙ্গে মার্কিনিদের ভালো যোগাযোগ থাকার কথা শোনা গেলেও কথিত সেই অপপ্রচারগুলোও বেকায়দায় ফেলতে পারেনি সরকারকে, যদিও ড. ইউনুসের পক্ষ থেকে অপপ্রচারের অভিযোগের কথা বারবার অস্বীকার করা হয়েছে।

বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নির্যাতন নিয়ে অতিরঞ্জিত তথ্য মার্কিন প্রেসিডেন্টের কাছে উপস্থাপন করে অদ্যকার আলোচিত এই নারী আর যাই করুন সুবিবেচনার কাজ করেননি। বাংলাদেশের ৩ কোটি ৭০ লাখ ধর্মীয় সংখ্যালঘু disappear কিংবা গুম হয়েছেন এই তথ্য তার এই নালিশের আগে কেউ সেভাবে উপস্থাপন করেছে বলে জানা নাই। ফলে কোন সূত্রে তিনি এই সংখ্যার উল্লেখ করলেন সেও এক প্রশ্ন। তবে সংখ্যা উল্লেখে অতিরঞ্জনের আশ্রয় নিলেও বাংলাদেশে ধর্মীয় সংখ্যালঘু নির্যাতনের ঘটনা কোনভাবেই মিথ্যা নয়। রামু কিংবা নাসিরনগরের সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো অথবা সংসদ সদস্য সেলিম ওসমান কর্তৃক শিক্ষক শ্যামল কান্তিভক্তকে নির্যাতনের ঘটনা মানুষ এত সহজে ভুলে যায়নি।

এই নির্যাতন, ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের দেশত্যাগের ঘটনা কিংবা প্রিয়া সাহার বাড়িতে হামলার ঘটনা বিচ্ছিন্ন কিছু নয়। এগুলো বরং ধারাবাহিক। হয়ত সমাজের একটা অংশ অতি-ধর্মে আসক্ত হয়ে এইসব করছে, কিন্তু সরকার-প্রশাসন এইসব দুর্বৃত্তদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নিয়েছে সেও প্রশ্ন! তারপরেও বলা যায় এইসব নির্যাতনের সমর্থক দেশের অধিকাংশ লোক নন। এটা সম্প্রীতির উদাহরণ।

এখানে উদ্বেগ ও হতাশার ব্যাপার হচ্ছে প্রিয়া সাহা সংখ্যালঘু ইস্যুতে ট্রাম্পের সাহায্য চেয়েছেন। এই চাওয়ার মধ্যে সৎ উদ্দেশ্য দৃশ্যমান হয়নি। নালিশের সুরে নত মস্তকে করা এই অভিযোগ ও ব্যবস্থা গ্রহণের আকুতি যে ব্যক্তিত্বহীনতার স্মারক তা তার চেহারাতেই ছিল স্পষ্ট।

প্রিয়া সাহার পরিচয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ হয়েছে। তিনি একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের (এনজিও) শীর্ষ ব্যক্তি। এছাড়াও তিনি সংখ্যালঘুদের অধিকার রক্ষা বিষয়ক পরিচিত সংগঠন হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক। এই সংগঠনের একমাত্র সাংগঠনিক সম্পাদক তিনি নন, আবার ট্রাম্পের সঙ্গে তার এই সাক্ষাৎ সংগঠনের পক্ষ থেকেও নয়। ব্যক্তিগত উদ্যোগে তিনি ট্রাম্পের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন বলে দাবি করেছেন হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের রানা দাশগুপ্ত। একটি গণমাধ্যমকে দেওয়া প্রতিক্রিয়ায় রানা দাসগুপ্ত প্রিয়া সাহার বক্তব্যকে সাংগঠনিক বক্তব্য হিসেবে মানতেও নারাজ। ফলে ধরে নেওয়া যায় ব্যক্তি প্রিয়া সাহার বক্তব্যের দায় তার নিজের; এটা যেমন হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের বক্তব্য নয়, তেমনি নয় দেশে থাকা অগণন হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের।

প্রিয়া সাহা দেশের সংখ্যালঘু নির্যাতনের কথা বলেছেন। তার সেই বক্তব্যে সৎ উদ্দেশের ঘাটতি ছিল, ছিল ভুল তথ্যও। তিনি যে ভঙ্গিতে ট্রাম্পের সাহায্য চেয়েছেন সেটা আপত্তিকর। তার এই সাহায্য চাওয়া কিংবা ভুল তথ্যের সমালোচনা হচ্ছে, হোক। তবে সমালোচকদের অনেকেই যেভাবে এই বিষয়টিকে দেখছেন তাতে মনে হয় দেশে সংখ্যালঘু নির্যাতনের ঘটনাগুলো মিথ্যা! আদতে তা নয়।

বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ- এটা সত্য। এবং এও সত্য যে এখানে ধর্মীয় সংখ্যালঘুরা নির্যাতিত হয়ে আসছে। প্রিয়া সাহার বক্তব্যের সমালোচনা আমরা করছি আমেরিকার প্রেসিডেন্টের কাছে তিনি এভাবে দেশকে ভুল তথ্যে উপস্থাপন করে সংখ্যালঘু নির্যাতন বন্ধে ট্রাম্প প্রশাসনের সাহায্য চেয়েছেন এই কারণে। তার আকুতি ভঙ্গিমা আমাদেরকে পীড়া দিয়েছে।

এনজিও ব্যক্তিত্ব প্রিয়া সাহার তথ্য, ভঙ্গি ও বক্তব্য ট্রাম্পের কাছে বাংলাদেশকে ছোট করেছে। তিনি ভুলভাবে ভুল তথ্য দিয়ে আমাদেরকে লজ্জায় ফেলে দিয়েছেন। এই লজ্জা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ক্ষোভে রূপান্তরিত হয়েছে। ক্ষোভকালীন যোগাযোগ মাধ্যম আবেগে বুঁদ অদ্য; আবেগটা উবে গেলে যেন সংখ্যালঘু নির্যাতন বন্ধে ধর্মীয়-দুর্বৃত্তদের বাধ্য করতে এবং সরকার-প্রশাসনকে ধর্মনিরপেক্ষ ভূমিকায় অবতীর্ণ হওয়ার মত প্রেক্ষাপট তৈরির সামাজিক আন্দোলনের পথরেখাটা দেখিয়ে দেয়। আর এটাই হতে পারে প্রিয়া সাহার প্রতি আমাদের মধুর প্রতিশোধ!

কবির য়াহমদপ্রধান সম্পাদক, সিলেটটুডে টোয়েন্টিফোর ডটকম

২১ Responses -- “অপ্রিয় প্রিয়া”

  1. আবু সালেহ

    প্রিয়া সাহার বিরুদ্ধে সরকার কোনো ব্যবস্থা নিবে বলে মনে হয় না। আওয়ামীলীগের কাছে দেশের ভাবমূর্তি বা প্রিয়া সাহার থেকেও সংখ্যালঘুদের ভোটের ব্যাপারটি বেশি গুরুত্বপূর্ণ বলেই মনে হয়।

    Reply
  2. আসিফ কবির

    আপনার লেখা পড়ে আপনার সততা ও বোধ সম্পর্কে ধারনা পাওয়া যায়। সব দেশেই দেশের ব্যপারে নেতিবাচক ধারনাকারী পাওয়া যায়। এটা অন্যান্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশে অত্যন্ত বেশি।সাংগঠনিকভাবে দুইটা দল এই নেতিবাচক আচরণ করে থাকে। এক জামাত আর অন্যটা হিন্দু বৌদ্ধ খৃস্টান ঐক্য পরিষদ। এই দুইটা দলই দেশের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অন্যায়ের সাথে যুক্ত ছিলো বা আছে। এদের অপরাধ প্রকাশিত হওয়ার পর এরা অন্য ব্যাখ্যা দাঁড় করায়। মূলত এরা অতিরিক্ত সুবিধা পায়। এই সমস্যা রাস্ট্রীয়ভাবে মোকাবেলা না করে ব্যক্তি ঊদ্যোগে সমাধান করা উচিত।

    Reply
  3. মোঃ লিয়াকত আলী

    ভারতের সর্বশেষ লোকসভা নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি অনেক ভালো ফল করেছে এর পেছনে তাদের একটি প্রচারণা ছিল তারা নির্বাচিত হলে পশ্চিমবঙ্গ হতে বহিরাগতদের বের করে দিবে, তাদের এই প্রচারণা পশ্চিমবঙ্গের একশ্রেণীর ভোটারদের কাছে টানতে সমর্থ হয়েছে তারা আশা করতেছে আগামী বিধানসভা নির্বাচনে এই ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে পারবে, বিজেপির হিসাবে বহিরাগতদের যে সংখ্যা, আমাদের সুপ্রিয়া সাহার উল্লেখিত সংখ্যা অনেকটা কাছাকাছি আবার একাত্তর টেলিভিশনে এক সাক্ষাৎকারে সুপ্রিয়াদের এক নেতা তার অভিযোগ সম্পর্কে মন্তব্য করতে গিয়ে তিনি তিন কোটি 70 লাখ সংখ্যালঘু হারিয়ে যাওয়ার ব্যাপারটি সামনে আনার চেষ্টা করেছেন।

    Reply
  4. আরিক

    লেখকের করোটিতে বোধহয় এটা প্রবেশ করেনি যে প্রিয়া সাহা ৩৭ মিলিয়ন বলেছেন, ৩৭ জন নয়।

    Reply
  5. Rajib Das

    “আমি বাংলাদেশ থেকে এসেছি। সেখানে ৩৭ মিলিয়ন (৩ কোটি ৭০ লাখ) হিন্দু-বৌদ্ধ খ্রিস্টানকে গুম (disappear) করা হয়েছে। এখনো সেখানে ১৮ মিলিয়ন (১ কোটি ৮০ লাখ) সংখ্যালঘু জনগণ রয়েছে। দয়া করে আমাদের সাহায্য করুন। আমরা আমাদের দেশ ত্যাগ করতে চাই না। আমি আমার ঘর হারিয়েছি, আমার জমি নিয়ে নিয়েছে, আমার ঘরবাড়িতে আগুন লাগিয়ে দিয়েছে কিন্তু সে সবের কোনো বিচার নেই”। এই কথাগুলোতে মিথ্যা টা কি? কতগুলি example লাগবে?

    যারা বেশি লাফালাফি করতেসে, খোঁজ নিলে দেখা যাবে, তারা বা তাদের পূর্বপুরুষরা জমিজমা দখল করে আজকের বড়লোক।

    বাংলাদেশের ভাবমূর্তি কোনদিনই ভালো ছিলো না। প্রিয়া সাহার কথায় সেটা নতুন করে মনে করানো হল যে ওই দেশে বেঈমান – ধর্মান্ধ মানুষ বাস করে।

    Reply
  6. MD SELIM RAHMAN

    How much money do Priya saha and her husband earn a month that may support for educating two of their children in USA? What is the source of money really? Is that source Bangladesh? If yes, how come is it, because she told all her property was occupied by the terrorist group of people supported by the government! Question is what is the price of her home in Dhaka and how she did get it? Dudok should double check if there is any wrong with that. Moreover, Dudok should also check their USA account through the Bangladesh embassy. Probably Dudok will fail to do so, reason Bangladesh embassy already failed to recognize that team members, speaker of the team and the subject of speaking! Embassy, I believe, they are so relaxed and irresponsible to be loyal to the country! They should be asked for explanation, too.

    Md Selim Rahman

    Reply
  7. Mr Dipu

    ভারতে সংখ্যালঘুদের নির্যাতন হত্যায় হিন্দু উগ্রবাদী সম্পর্কিত একটা কলাম চাই। একটা সংগঠনের নামে প্রিয়া এতটুক পৌছালো আর সংগঠন কিছু জানবে না!! মানুষ তো পাগল!

    Reply
  8. MD SELIM RAHMAN

    Dear writer,

    It is completely a biased writing, because the writing totally failed for focusing critically on the absolute subject matter.

    Md Selim Rahman

    Reply
  9. ফাহিম

    প্রাঞ্জল উপস্থাপনা। কাউকে আক্রমণ না করেও যে সমালোচনা করা যায় এ প্রবন্ধে সেটা দেখলাম।
    লেখার শেষের অংশটা খুব সুন্দর। আসুন সেই ধরনের প্রতিশোধটা নিই।

    Reply
  10. Md. Mahbubul Haque

    ইনারা (ব্যক্তি অর্থে) এদেশেই জন্মান, দেশের শষ্য-জল-হাওয়া খেয়ে বেড়ে ওঠেন, দেশের সমস্ত সুযোগ-সুবিধা ভোগ করেন, কিন্তু দেশটাকে নিজের মনে করেন না। আয় রোজগার এদেশেই করেন, সম্পদ গড়েন ভিনদেশে। গোড়াটা এদেশে গেঁথে রেখে ডালপালা, শাখাপ্রশাখা ছড়ান বিদেশে। ইনাদের মনটা পড়ে থাকে অন্য জায়গায়, শুধু শরীরটা এদেশে।
    এদেশের হাজারো সমস্যা আছে (সকল দেশেই কমবেশি থাকে)। এদেশের রাজনীতি নোংরা, রাজনীতিবিদরা তার চেয়েও নোংরা। নোংরা রাজনীতির বলি হন সাধারণ মানুষ, সুবিধাবাদী ও সুবিধাভোগীরা নিরাপদ দূরত্বে সুখে থাকেন। রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হন পরাজিত অংশ, ধর্ম-বর্ণ-গোত্র-সামাজিক অবস্থান কোন অর্থই বহন করেনা।
    হু দ্য হেল আর আমি-তুমি-সে? হু কেয়ারস ফর দ্য ম্যাঙো পিপল?
    কিন্তু বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফোরামে দেশের বিভিন্ন সমস্যার কথা বলতে যেয়ে কোন অদৃশ্য কারণে এরা দেশটাকেই অপমান করে বসেন। এরা ভুল করে অথবা ইচ্ছে করেই দেশ মাতৃকার সাথে ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা দলের অতি উৎসাহীদের কুকর্মকে গুলিয়ে ফেলেন। এরা নিজেরা হীনমন্যতায় ভোগেন এবং সেটাকে সবার মাঝে ছড়িয়ে এক ধরনের বিকৃত আনন্দ লাভ করেন। এরা হয় মানসিক রোগী অথবা সুচতুর, স্বার্থান্বেষী। রাষ্ট্র ও জনগণকে এদের চিনতে হবে এবং যথোপযুক্ত ব্যবস্থাও নিতে হবে।
    বাংলাদেশ কোন নির্দিষ্ট ধর্মের নয়, বর্ণের নয়, গোষ্ঠীর নয়, দলেরও নয়। বাংলাদেশ – এদেশে জন্মগ্রহণকারী প্রতিটি মানুষের। আমরা এক উদার, মানবিক, মুক্তহস্ত, অসাম্প্রদায়িক জাতি। এদেশটাকে যারা অপমান করার চেষ্টা করবে তাদের ক্ষমা নেই।

    Reply
  11. Talukder

    I don’t think she will come back,maybe greedy woman wants US citizenship, probably going to apply for asylum in US.

    Because, ‘red hot chilli pepper awaits at home’ – ha ha ha

    Reply
  12. আব্দুল হালিম

    প্রিয়া সাহা অতিরঞ্জিত, ভুল, মিথ্যা তথ্য দিয়ে কিছু মানুষকে সংখ্যালঘু নির্যাতনের বিষয়টাকে আড়ালে নিতে সহায়াতা করেছে।

    লেখক কোথায় প্রিয়া সাহার অপরাধকে হালকা করার চেষ্টা করেছেন বুঝলাম না।

    Reply
  13. সৈয়দ আলি

    মোদ্দা কথা হলো, লেখক প্রিয়া সাহার ধারনাকে সাবস্ক্রাইব করছেন।

    Reply
    • পারভেজ সুমন

      ভাই সৈয়দ আলি, সব কিছুকে বাঁকা চোখে দেখার দরকার কী?
      আপনার মন্তব্যগুলো সব সময় নেতিবাচক। আমার তো মনে হয়নি, লেখক ওই মহিলাকে সাবস্ক্রাইব করেছেন।

      Reply
      • সৈয়দ আলি

        প্রিয় পারভেজ সুমন, আমার মতামতে যদি নেতিবাচক দৃষ্টি ফুটে উঠে, তবে তা’ কোন নেতিবাচক ঘটনারই প্রতিফলন। ব্যক্তিগত বদ মতলব নয়। এই নিবন্ধে লেখক স্ববিরোধী ভূমিকায় নেমে একদিকে প্রিয়া সাহার অভিযোগ (হিন্দু দলন) স্বীকার করছেন, অন্যদিকে জনমতের ভয়ে প্রিয়া সাহার নিন্দা করছেন। নিবন্ধটি দয়া করে আবার পড়ুন।

  14. Md:Rubel Hossain

    আপনার আর্টিকেলটি পড়লাম এবং তা প্রত্যাখ্যান করলাম। বাংলাদেশের কোথায় ৩ কোটি ৭০ লাখ ধর্মীয় সংখ্যালঘু গুম হয়েছেন? আর বাংলদেশে যে দুই একটা বিছিন্ন ঘটনা ঘটেছে, এরকম ঘটনা বিশ্বের অনেক দেশে প্রতিনিয়ত ঘটতেছে। অমাদের প্রতিবেশি দেশগুলোতে যে পরিমান মুসলিম ভাইদের নির্যাতন করা হচ্ছে, সে তুলনায় বাংলাদেশে কিছুই হচ্ছে না। তারা শান্তিতে বসবাস করছে, ইন্ডিয়াতে তো মুসলিমরা প্রকাশ্যে ধর্মীও কিছু পালন করতে পারে না।

    Reply
    • নাজমুল

      সাহা নিজের বক্তব্যের শুরুতেই ট্রাম্পকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, ‘স্যার, আমি বাংলাদেশ থেকে এসেছি।’
      তিনি বলেন, ‘৩৭ মিলিয়ন (৩ কোটি ৭০ লাখ) সংখ্যালঘু হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান এখান থেকে গুম হয়ে গেছে। দয়া করে আমাদের সাহায্য করুন। আমি আমার দেশে থাকতে চাই।’
      ট্রাম্প বলেন, ‘বাংলাদেশ?’
      সাহা তখন জবাব দেন, ‘হ্যাঁ। এখনও এখানে ১৮ মিলিয়ন (১ কোটি ৮০ লাখ) সংখ্যালঘু মানুষ বসবাস করে। আমার অনুরোধ, দয়া করে আমাদের সাহায্য করুন। আমরা আমাদের দেশ ছাড়তে চাই না। আমি আমার বাড়ি হারিয়েছি। তারা পুড়িয়ে দিয়েছে। আমার জমি ছিনিয়ে নিয়েছে। কিন্তু কোনো বিচার হয়নি।’
      ট্রাম্প তখন সাহার কাছে জানতে চান, ‘কারা জমি নিয়ে গেছে? কারা বাড়ি ও জমি দখল করেছে?’
      সাহা একটু ভেবে বলেন, ‘মুসলমান উগ্রপন্থীরা এবং তারা সবসময় রাজনৈতিক আশ্রয় পাচ্ছে। সবসময়।’
      ট্রাম্প মনোযোগ দিয়ে সাহার কথা শুনলেও আর কোনো জবাব দেননি। অন্য এক নারীর অভিযোগ শুনতে শুরু করেন।
      প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কাছে তুলে ধরা ওই নারীর বক্তব্য এবং ভিডিও ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। ‘মিসেস সাহা’ নামে ওই মহিলার পরিচয়ও পাওয়া গেছে এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনার ঝড় উঠেছে। এদিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে বাংলাদেশের নারী প্রিয়া সাহা সংখ্যালঘুদের নিয়ে যে অভিযোগ করেছেন তা সঠিক নয় বলে জানিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত আর্ল রবার্ট মিলার।
      এদিকে, ভারতে সংখ্যালঘু মুসলিমদের ওপর নির্যাতনের অভিযোগ দ্ব্যর্থহীনভাবে অস্বীকার করেছে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্টের বার্ষিক প্রতিবেদনে বলা হয়, ভারতে ধর্মীয় স্বাধীনতা মারাত্মকভাবে বিঘ্ন হচ্ছে। রিপোর্টে আরো বলা হয়, সংখ্যালঘুদের ওপর আক্রমন ঠেকাতে ভারতের সরকার পুরোপুরি ব্যর্থ হয়।কিন্তু ভারত এ অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করে। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয় এমন এক সময় এ বিবৃতি দিল যখন আগামী মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের সেক্রেটারি অব স্টেট ভারতে রাষ্ট্রীয় সফরে আসছেন।
      এদিকে, এ ব্যাপারে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেন, ধর্ম নিরপেক্ষতা নীতির জন্য ভারত সারা বিশ্বে প্রশংসিত। এছাড়া, ভারত পৃথিবীর সর্ববৃহৎ গনতান্ত্রিক ও বহুমাত্রিক দেশ।

      Reply
  15. Aktar

    প্রিয়া সাহাকে সাপোর্ট দেওয়ার কিছু নেই। ভদ্রমহিলা আমাদের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করার চেষ্টা করেছে।

    Reply
    • আবদুল আওয়াল

      যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে এক বাংলাদেশি সংখ্যালঘু নির্যাতন বিষয়ে যে তথ্য দিয়েছেন তা সঠিক বলে মনে করেন না ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত রবার্ট মিলার। তিনি বলেন, বাংলাদেশের বিভিন্ন ধর্মীয় সম্প্রদায় একে অপরকে শ্রদ্ধা করে। শুক্রবার (১৯ জুলাই)বিকেলে রাজধানীর মেরুল বাড্ডায় বৌদ্ধ মন্দিরে এক অনুষ্ঠান শেষে তিনি এসব কথা বলেন। মার্কিন রাষ্ট্রদূত বলেন, আমার প্রথম ৮ মাসের দায়িত্ব পালনকালে আমি বাংলাদেশের আটটি বিভাগেই ঘুরেছি। মসজিদ, মন্দির ও চার্চে গিয়ে ইমাম পুরোহিতদের সঙ্গে কথা বলেছি। এখন আমি এসেছি একটি বৌদ্ধ মন্দিরে, আমার কাছে যেমনটা মনে হয়েছে, এখানকার ভিন্ন ভিন্ন বিশ্বাসের লোকজন একে অপরকে শ্রদ্ধা করে। তাই আমি মনে করি, তার অভিযোগ সঠিক নয়, বরং ধর্মীয় সম্প্রীতির ক্ষেত্রে বাংলাদেশ একটি উল্লেখযোগ্য নাম। যদিও কোন দেশই সংখ্যালঘুদের অধিকার দিতে সফলতা পায়নি। তিনি আরও বলেন, এ অঞ্চলের প্রধান ইস্যুগুলো কী তা যুক্তরাষ্ট্র ভালোভাবেই জানে। উল্লেখ্য, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত সপ্তাহে ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সহিঞ্ঝুতার জন্য বিশ্বের বিভিন্ন ধর্মীয় নেতা ও প্রতিনিধিদের সঙ্গে তাঁর অফিসে বাংলাদেশি পরিচয় দিয়ে এক নারী ট্রাম্পের কাছে অভিযোগ করেন, বাংলাদেশে প্রায় ৩ কোটি ৭০ লাখ হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান নিখোঁজ হয়েছেন। বর্তমানে এখানে ১ কোটি ৮০ লাখ সংখ্যালঘু রয়েছে উল্লেখ করে তিনি ট্রাম্পের সহায়তা চান। হোয়াইট হাউজের ওয়েব সাইটের বিবৃতিতে বাংলাদেশি ওই নারীকে মিসেস সাহা পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়। আর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে জানা যায় ওই নারীর নাম প্রিয়া সাহা। তিনি একজন মানবাধিকার কর্মী।

      Reply
  16. suvro

    আর্টিকেলটি পড়লাম ও ঘৃণাভরে তা প্রত্যাখ্যান করলাম। লেখার প্রতিটি প্যারায় প্রিয়া সাহার দেশদ্রোহীতার ব্যাপারটিকে হালকা করে চালানোর উদ্ভট অপপ্রয়াস লক্ষ্য করলাম। ৭১ এর আলবদর রাজাকার ও এই দেশদ্রোহীতার মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। লেখক ক্ষণিক বাদে বাদে নিজেকে “আমাদের” দলভুক্ত করে নিজ পক্ষ থেকে “আমাদের” হয়ে ক্ষমাসুলভ রায় দিয়ে দিচ্ছেন। আর ক্ষণিক বাদে বাদেই বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নির্যাতনকে বাস্তব বলে জাহির করে যাচ্ছেন। লেখকের লেখনীর উদ্দেশ্য আমার কাছে দুরভিসন্ধিমূলকই মনে হয়েছে। রানা দাশগুপ্ত ও এর সঙ্গে সম্পর্কিত সকলকে কঠিন তদন্তের মধ্যে আনতে হবে। ঐ সংগঠনের পক্ষে ৩ জন গেলেও কেন তারা বাংলাদেশের পক্ষে বক্তব্য না দিয়ে প্রিয়া সাহাকে দিয়ে দেশের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রকে উষ্কে দিলেন। রানা দাশগুপ্ত প্রিয়া সাহার বক্তব্যকে তার ব্যক্তিগত বলিয়ে নিজে এড়িয়ে দায় সারার চেষ্টা করলেও প্রকৃত সত্য বলে ও প্রিয়া সাহার বক্তব্যকে প্রত্যাখ্যান না করার মাধ্যমে তার বক্তব্যকেই প্রকারান্তরে সমর্থন করলো। রাষ্ট্রের নিরাপত্তা ও সরকারের স্থিতিশীলতার স্বার্থেই এ ব্যাপারটার ইতিহাসের সবচেয়ে কঠিন তদন্তের দাবি জানাচ্ছি।

    Reply
    • পারভেজ সুমন

      মনে হয় না।
      লেখক প্রিয়া সাহাকে সমর্থনসূচক কিংবা তাকে উস্কে দেয়ার মতো কিছু লেখেননি।
      আমার মনে হয়, এই মহিলা হয়তে বিকৃত মস্তিষ্ক, নয়তো কোনো ধরনের উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

      Reply

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। প্রতিক্রিয়া লেখার সময় লক্ষ্য রাখুন--

  • ১. স্বনামে বাংলায় প্রতিক্রিয়া লিখুন।
  • ২. ইংরেজিতে প্রতিক্রিয়া বা রোমান হরফে লেখা বাংলা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না।
  • ৩. প্রতিক্রিয়ায় ব্যক্তিগত আক্রমণ গৃহীত হবে না।

দরকারি ঘর গুলো চিহ্নিত করা হয়েছে—