রবীন্দ্রনাথের গানে চরম সব সত্য থাকে। তাঁর একটি গানে আছে মরণ বলে আমি তোমার জীবন তরী বাই। জন্মানোর পর আপনি কি ডাক্তার হবেন না ইঞ্জিনিয়ার হবেন না সেনা শাসক হবেন কেউ বলতে পারে না। কিন্তু একটা কথা সবাই জানে জন্মিলে মরিতে হয়। সেনা শাসক, জাতীয় পার্টির নেতা, ক্যারিশমেটিক সবচেয়ে বিতর্কিত নিন্দিত ও আলোচিত সরকার প্রধান এরশাদ মারা গেছেন। তিনি যে মারা যাচ্ছেন এটা মোটামুটি সবাই জেনে গিয়েছিলো। কিন্তু কবে বা কখন তা নিয়ে ছিলো জল্পনা কল্পনা। একটা কথা সবাই স্বীকার করেন এমন আনপ্রেডিক্টেবল লিডার বা এমন রহস্যজনক চরিত্র দেশের রাজনীতির ইতিহাসে আর কখনো দেখা যায়নি।

তাঁর মৃত্যুর আগেও গুজব ছিলো তিনি নাকি শুক্রবারে মরতে চেয়েছিলেন। ধর্মীয় হিসেবে এই দিনের গুরুত্ব আছে বলে হয়তো। তখন শোনা গিয়েছিলো সেদিনই তাঁর লাইফ সাপোর্ট খুলে নেয়া হবে। আবার শুনলাম সেদিন বাংলাদেশের খেলা বলে তা না কি করা হয়নি। তবে কয়েকদিনের মধ্যে যে হবে বা হতে যাচ্ছে সেটা জানতো সবাই। সব জল্পনা কল্পনার অবসান ঘটিয়ে চিরবিদায় নিয়েছেন হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ। সাধারণত আমরা পরলোকে পাড়ি দেয়া মানুষদের নিয়ে কোন কথা বলি না। মানে কোন কটু কথা বা সমালোচনা করি না। কিন্তু সেটা সাধারণ মানুষের বেলায় প্রযোজ্য হলেও কিছু কিছু মানুষের বেলায় তা খাটে না। তা মানা সম্ভবও না। ইনি তেমন একজন শাসক।

আমাদের সোনালী যৌবন কেড়ে নেয়া স্বৈরাচার। মনে আছে তাঁকে হটানোর আন্দোলন কতটা বেগবান ছিলো। আর তার বাহিনীর অত্যাচার ছিলো কতটা নির্মম। দেশের এখন মৃতপ্রায় সংস্কৃতি আর শিল্প জগত চাঙ্গা রেখেছিলেন এরশাদ। বাপরে বাপ। কবিতা গান নাটক আর লেখায় তাঁকে তুলোধুনো করে কী শান্তি ছিলো তখন। আমার বয়স তিরিশও পেরোয়নি। সে সময় চট্টগ্রামের মুসলিম ইউনিষ্টিউট হলে জমজমাট এক কবিতা আসরে এরশাদ ও তাঁর হঠাৎ পাওয়া পুত্র নিয়ে ব্যঙ্গাত্মক একটি স্বরচিত সুপার হিট কবিতা পাঠ করেছিলাম। ধারনা ছিলো না সেটি এমন প্রিয়তা পাবে। ব্যস কয়েকদিন বাড়ী থেকে পালিয়ে থাকতে হয়েছিল। এটাতো কোন ঘটনাই না। পার্বত্য জনপদের এক স্কুল টিচার লিখেছিলেন নতুন বাংলাদেশ গড়বো মোরা নামের এক নিরীহ কবিতা। কেমন করে জানি সেটা হয়ে গেলো তাঁর। আর সেটা বহাল রাখতে গিয়ে ঐ মাস্টারকে দেশ ছাড়া করেছিল বাহিনী। ভাগ্যিস জানে বেঁচে গিয়েছিলেন মাস্টার।

তাঁর নয় বছরের শাসনকালে পজেটিভ কিছু ছিলো না এমন না। যেমন উপজেলা, অবকাঠামোর উন্নয়ন। তিনি তোষামোদী আর স্তাবকতার ভেতর ডুবে থাকতে  ভালোবাসতেন। আজ যারা ভোল পাল্টে আওয়ামী লীগ তাদের বেশীর ভাগই সেদিন ঘি মাখন নিয়ে তাঁর পদসেবায় ব্যস্ত ছিলো। ঢাকায় বন্যা হবার পর এরশাদ জায়গা জায়গায় ঘুরে বেড়ালেন আর পয়দা হয়ে গেলো এক গান। তোমাদের কাছে আসার চেষ্টা আমার এমন এক গান চলতো রাতদিন। মনে হতো কোনো এক ত্রাণকর্তা নাজেল হয়েছে দেশে। রুমানিয়ার পতিত কমিউনিষ্ট নেতা চসেস্কু গদীচ্যূত হবার  ক’দিন আগে এসেছিলো ঢাকায়। এটা বললাম এই কারণে যেদেশে যত শয়তান একনায়ক আর স্বৈরাচারী সব ছিলো তাঁর দোস্ত।

ব্যক্তিগতভাবে আমার বিশ্বাস তিনি তাঁর আগের সেনাশাসক জেনারেল জিয়ার চাইতে উত্তম। এই কারণে যে ব্যক্তিগতভাবে এরশাদ ছিলেন একজন অসাম্প্রদায়িক ও উদারমনের শাসক। নিজে লিখুন আর ফজল শাহাবুদ্দীনের মত কবি লিখে দিক কবিতা ভালোবাসতেন। বঙ্গভবনে ধর্মীয় অনুষ্ঠানের তোড়েও কবিতার আসর বসাতেন। সে কারণে তাঁর অতিথি হয়ে এসেছিলেন সমরেশ মজুমদার। বুদ্ধদেব গুহ ছিলেন তাঁর প্রিয় লেখক। কিন্তু ঐ যে স্বভাব। খাইয়ে দাইয়ে আর উল্টা পাল্টা ভিডিও দেখিয়ে সমরেশ মজুমদারকে দিয়ে লেখালেন আজগুবি কাহিনী। যাতে নাকি স্পষ্ট প্রমাণিত এরশাদ নূর হোসেন হত্যার ব্যাপারে দায়ী ছিলেন না। কতটা সত্য মিথ্যা জানি না তবে তিনি এসব পারতেন। পারতেন আরো অনেক কিছু।

আমি তখন চন্দ্রঘোনায় কাজ করতাম। এরশাদ আসবেন বলে হৈ হৈ রব। এলেন এসে চলেও গেলেন। যাবার পর রটে গেলো সেখানকার এক সামান্য দারোয়ান নাকি তাঁর কাণ্ড দেখে মূর্ছা গিয়েছিলেন। কারণ? তখন ছিলো রোজার মাস। এরশাদ সেদিন রোজা ছিলেন না। তাঁকে ডাব কেটে পেঁপে কেটে খাওয়ানো দারোয়ান ভদ্রলোক সভায় গিয়ে শুনলেন তিনি কসম করে বলছেন আজ তিনি উপোস ছিলেন। এমন ঘটনা একটা না। বৃষ্টিহীন খরার সময় আবহাওয়া দপ্তরের আগাম বার্তা সম্বল করে তিনি ঘোষণা দিতেন প্রার্থনা হবে। যাতে মনে হতে পারে তাঁর প্রার্থণার কারণে বৃষ্টি নেমে আসতো।

সবচেয়ে মারাত্মক ছিলো দুটি কাজ। নব্বই শতাংশ মুসলমানের দেশে হঠাৎ করে রাষ্ট্রধর্ম ঘোষণা করে তিনি দেশ ও জাতিকে আজীবনের জন্য এক গ্যাঁড়াকলে ফেলে দিয়েছেন। যা থেকে মুক্তির উপায় নাই। তেমনি বিতর্কিত বাংলা পঞ্জিকা পরিবর্তন। এতে বিজ্ঞান যতটা ততটাই দূরভিসন্ধি। যে কারণে আজকাল রবীন্দ্রনাথ নজরুল কারো জন্ম মৃত্যু দিন উভয় বাংলায় একসাথে পালিত হতে পারে না। এরশাদ আমাদের জাতীয় জীবনের আরো একটি মারাত্মক বিপদ টেনে এনেছিলেন। শেষদিকে যখন দেখলেন পরিণাম ভয়াবহ তখন পরিকল্পিতভাবে দাঙ্গা লাগিয়ে দিলেন। সে দাঙ্গাই বাংলাদেশের এখন অবধি একমাত্র দাঙ্গা। আশ্চর্যজনকভাবে এমন দুর্ঘটনা ঘটিয়ে তিনি গিয়েছিলেন নোয়াখালী গান্ধী আশ্রমে।

চরম স্ট্যান্টবাজ এরশাদ ছিলেন রমনী মোহন। এ জায়গাটায় তাঁকে স্যালুট করতেই হবে। এত নারী তাঁর জন্য কেন পাগল হয়েছিল? তিনি চাইলেই তারা রাজী হবে এটা ঠিক মানা যায় না। বরং তাঁর কথাই সত্য মনে হয় যে তারাই তাঁর কাছে আসতো, তিনি যেতেন না। জীবনভর নানা নাটকে নিজেকে লাইম লাইটে রাখতে পারাটা কম কিছু না। আমাদের দেশে বেশকিছু রসিক ভাঁড় নেতা আছেন। এরশাদ এদের নিয়ে খেলেছেন আজীবন। কাজী জাফর থেকে মওদুদ আহমেদ বা শাহ মোয়াজ্জেম থেকে আ স ম রব সবাই ছিলো তাঁর খেলার পুতুল। সে পুতুলগুলোর কেউ কেউ এখনো পাপেট ।

এরশাদের আরেকটা দিক ছিলো চমক দেয়া। এই সেদিনও নির্বাচনে যাবেন কি যাবেন না, নিজে দাঁড়াবেন কি দাঁড়াবেন না এসব বিষয়ে এমন চমক দিতেন যে জাতির পিলে চমকে যেতো। বিশেষ করে তাঁর মিত্র বা দুশমন কেউই বুঝতো না কি করতে চলেছে জাতীয় পার্টি। নিজেকে হাস্যকর করে হলেও তিনি এসব বজায় রাখতেন। এই বাড়ীতে তো এই হাসপাতালে আবার এই কেবিনে তো এই গলফ কোর্সে। এমন চটকদার যে আওয়ামী লীগের নির্ঘুম রাতের সময় ঘোষণা দিলেন মতিঝিলে আসা হেফাজতীদের তাঁর দল পানি সরবরাহ করবে। বড় জটিল আর বড় রহস্যময়ভাবে করলেন পাকিস্তানপন্হীদের উপকার আর সারাজীবন শুনলাম তিনি নাকি ছিলেন ইন্ডিয়ান লবিং এর লোক।

একটা কথা মনে পড়ছে। আমি যেদিন অভিবাসন নিয়ে সিডনি আসি সেদিন দুপুরের খবরে দেখলাম তিনি জেলখানা থেকে বেরিয়ে সংসদে ভাষণ দিচ্ছিলেন। বারবার জোর দিয়ে বলছিলেন কারো সাধ্য নাই তাঁকে ফাঁসি দেয়। কারো সাধ্য নাই তাঁর বাহিনী বেঁচে থাকতে তাঁকে আবার জেলে পুরে। কথাটা কিন্তু সত্যি করে দেখিয়েছেন তিনি। উল্টো বেগম জিয়া জেলে যাবার পর বলেছিলেন তিনি যে গাছ পুঁতে এসেছেন তার ফল খেতে।

অস্বীকার করা যাবে না গদীচ্যূত হবার পরপরই রংপুরের সব কটা আসন থেকে বিপুল ভোটে জেতা এরশাদ নির্বাচনে হারেননি কোনদিন। তাঁর দল থাকবে কি থাকবে না রওশন এরশাদ জি এম কাদের কে হবেন আগামী নেতা এসব নিয়ে যাই বলি না কেন পার্টি না থাকলেও এরশাদ থেকে যাবেন। নিন্দিত এরশাদও থাকবেন ইতিহাসে। তাঁর মা জননী ছেলের নাম শুনে ভড়কে গিয়ে জানতে চেয়েছিলেন হুসাইন মুহাম্মদ এরশাদ কে? তিনি জানতেন তাঁর এই পুত্র পেয়ারার নাম এরশাদ হুসাইন।

এভাবেই নিজেকে একাধারে বিতর্কিত আবার নিজের ক্যারিশমায় উজ্জ্বল ও নিন্দিত এরশাদ চিরবিদায় নিয়েছেন। গুড বাই জেনারেল।

অজয় দাশগুপ্তকলামিস্ট।

১১ Responses -- “এরশাদ: সত্য মিথ্যার ককটেল ক্যারেকটার”

  1. সোনালী অতীত

    দাদা
    এই স্বৈরাচারকে নিয়েই কিন্তু আপনার দল গত ১১ বছর ক্ষমতায়। মন্জু হত্যা মামলা ২৫ বছর ধরে অধিকতর তদন্তের পর তদন্ত নিয়ে আপনার দল কেবল তামাশা করেছে। বেচারা মন্জু হত্যার দায় নিয়েই মরতে হলো। স্বৈরাচারের সাথে এতো সুন্দর ঘর করা যায় তা কেবল মাত্র আপনার দল থেকে শিক্ষনীয়!

    Reply
  2. সৈয়দ আলি

    নেত্রী জিয়াকে গালি দিলে খুশী হন। তাই দাস বলছেন জিয়ার চেয়ে এরশাদ ভালো। এরশাদ এই দেশের রাজনীতিকে জঘন্য চরিত্র দিয়েছে, ধর্মান্ধ শক্তিকে প্রণোদনা দিয়েছে, নিজে স্বাধীনতাবিরোধী হয়ে অন্য স্বাধীনতাবিরোধীদের প্রতিষ্ঠা করেছে, নারীকে ভোগ্যপণ্যে রূপান্তর করেছে, শিল্পাঙ্গনকে কলুষিত করেছে, লাম্পট্যের চুড়ান্ত করেছে, কমিশন খেয়ে বিশ্বব্যাঙ্ক-আইএমএফের দাসে পরিনত করেছে, তবু এরশাদ ভালো। কারন এরশাদ যে নেত্রীর অতিপ্রিয় উপদেষ্ঠা ও মন্ত্রী।

    Reply
  3. প্রবচনগুচ্ছ

    ১। এরশাদের প্রধান অপরাধ পরিবেশদূষন : অন্যান্য সরকারগুলো পুরুষদের দূষিত করেছে, এরশাদ দূষিত করেছে নারীদেরও।
    ২। বাঙালি একশো ভাগ সৎ হবে, এমন আশা করা অন্যায়। পঞ্চাশ ভাগ সৎ হ’লেই বাঙালিকে পুরস্কার দেয়া উচিত।
    ৩। পরমাত্মীয়ের মৃত্যুর শোকের মধ্যেও মানুষ কিছুটা সুখ বোধ করে যে সে নিজে বেঁচে আছে।
    ৪। বাঙালি মুসলমান জীবিত প্রতিভাকে লাশে পরিনত করে, আর মৃত প্রতিভার কবরে আগরবাতি জ্বালে।
    ৫। মানুষ মরণশীল, বাঙালি অপমরণশীল।
    ৬। বাঙালি আন্দোলন করে, সাধারণত ব্যর্থ হয়, কখনোকখনো সফল হয়; এবং সফল হওয়ার পর মনে থাকে না কেনো তারা আন্দোলন করেছিলো।
    ৭। মানুষের ওপর বিশ্বাস হারানো পাপ, তবে বাঙালির ওপর বিশ্বাস রাখা বিপজ্জনক।
    ৮। বুদ্ধিজীবীরা এখন বিভক্ত তিন গোত্রে। ভন্ড, ভন্ডতর, ভন্ডতম।
    ৯। ব্যর্থরাই প্রকৃত মানুষ, সফলেরা শয়তান।
    ১০। পা, বাঙলাদেশে, মাথার থেকে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। পদোন্নতির জন্যে এখানে সবাই ব্যগ্র। কিন্তু মাথার যে অবনতি ঘটছে, তাতে কারো কোনো উদ্বেগ নেই।
    ১১। মানুষ যখন তার শ্রেষ্ঠ স্বপ্নটি দেখে তখনি সে বাস করে তার শ্রেষ্ঠ সময়ে।
    ১২। অভিনেতারা সব সময়ই অভিনেতা; তারা যখন বিপ্লব করে তখন তারা বিপ্লবের অভিনয় করে। এটা সবাই বোঝে, শুধু তারা বোঝে না।
    ১৩। পৃথিবী জুড়ে প্রতিটি নরনারী এখন মনে ক’রে তাদের জীবন ব্যর্থ; কেননা তারা অভিনেতা বা অভিনেত্রী হতে পারে নি।
    ১৪। তৃতীয় বিশ্বের নেতা হওয়ার জন্যে দুটি জিনিশ দরকার : বন্দুক ও কবর।
    ১৫। কোন দেশের লাঙলের রূপ দেখেই বোঝা যায় ওই দেশের মেয়েরা কেমন নাচে, কবিরা কেমন কবিতা লেখেন, বিজ্ঞানীরা কি আবিষ্কার করেন, আর রাজনীতিকেরা কতোটা চুরি করে।
    ১৬। বাঙলার প্রতিটি ক্ষমতাদখলকারী দল সংখ্যাগরিষ্ঠ দুর্বৃত্তের সংঘ।
    ১৭। আমাদের প্রায়-প্রতিটি মার্ক্সবাদী তাত্ত্বিকের ভেতরে একটি ক’রে মৌলবাদী বাস করে।
    ১৮। এদেশে সবাই শিক্ষানুরাগী ও সমাজসেবক : দারোগার শোকসংবাদেও লেখা হয়, ‘তিনি শিক্ষানুরাগী ও সমাজসেবক ছিলেন’।
    ১৯। যতোদিন মানুষ অসৎ থাকে, ততোদিন তার কোনো শত্রু থাকে না; কিন্তু যেই সে সৎ হয়ে উঠে, তার শত্রুর অভাব থাকে না।
    ২০। সৎ মানুষ মাত্রই নিঃসঙ্গ, আর সকলের আক্রমনের লক্ষ বস্তু।
    ২১। ধনীরা যে মানুষ হয় না, তার কারণ ওরা কখনো নিজের অন্তরে যায় না। দুঃখ পেলে ওরা ব্যাংকক যায়, আনন্দে ওরা আমেরিকা যায়। কখনো ওরা নিজের অন্তরে যাতে পারে না, কেননা অন্তরে কোনো বিমান যায় না।
    ২২। বিশ্বের নারী নেতারা নারীদের প্রতিনিধি নয় ; তারা সবাই রুগ্ন পিতৃতন্ত্রের প্রিয় সেবাদাসী।
    ২৩। কোন বাঙালি আজ পর্যন্ত আত্মজীবনী লেখে নি, কেননা আত্মজীবনী লেখার জন্যে দরকার সততা। বাঙালির আত্মজীবনী হচ্ছে শয়তানের লেখা ফেরেশতার আত্মজীবনী।
    ২৪। জীবনের সারকথা কবর।
    ২৫। সব ধরনের অভিনয়ের মধ্যে শ্রেষ্ঠ হচ্ছে রাজনীতি; রাজনীতিকেরা অভিনয় করে সবচেয়ে বড় মঞ্চে ও পর্দায়।
    ২৬। উচ্চপদে না বসলে এদেশে কেউ মূল্য পায় না। সক্রেটিস এদেশে জন্ম নিলে তাঁকে কোনো একাডেমির মহাপরিচালক পদের জন্যে তদ্বির চালাতে হতো।
    ২৭। ইতিহাস হচ্ছে বিজয়ীর হাতে লেখা বিজিতের নামে এক রাশ কুৎসা।
    ২৮। মানুষের ওপর বিশ্বাস হারানো পাপ, তবে বাঙালির ওপর বিশ্বাস রাখা বিপজ্জনক।
    ২৯। বুদ্ধিজীবীরা এখন বিভক্ত তিন গোত্রে। ভন্ড, ভন্ডতর, ভন্ডতম।
    ৩০। গত দু-শো বছরে গবাদিপশুর অবস্থার যতোটা উন্নতি ঘটেছে নারীর অবস্থার ততোটা উন্নতি ঘটে নি।
    ৩১। আমি বেঁচে ছিলাম অন্যদের সময়ে।
    ৩২। ঐতিহ্য বলতে এখানে লাশকেই বোঝায়। তবে লাশ জীবনকে কিছুই দিতে পারে না।
    ৩৩। গাধা একশো বছর বাঁচলেও সিংহ হয় না।
    ৩৪। সবচেয়ে হাস্যকর কথা হচ্ছে একদিন আমরা কেউ থাকব না।
    ৩৫। পাপ কোনো অন্যায় নয়, অপরাধ অন্যায়। পাপ ব্যক্তিগত, তাতে সমাজের বা অন্যের, এমনকি পাপীর নিজেরও কোনো ক্ষতি হয় না; কিন্তু অপরাধ সামাজিক, তাতে উপকার হয় অপরাধীর, আর ক্ষতি হয় অন্যের বা সমাজের।
    ৩৬। ক্ষমতায় যাওয়ার একটিই উপায়; সমস্যা সৃষ্টি করা। সমস্যা সমাধান ক’রে কেউ ক্ষমতায় যায় না, যায় সৃষ্টি করে।
    ৩৭। পৃথিবীতে রাজনীতি থাকবেই। নইলে ওই অপদার্থ অসৎ লোভী দুষ্ট লোকগুলো কি করবে?
    ৩৮। পৃথিবীতে যতোদিন অন্তত একজনও প্রথাবিরোধী মানুষ থাকবে, ততোদিন পৃথিবী মানুষের।

    Reply
  4. নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক

    এরশাদের পতনের পর লেখা হতো পতিত স্বৈরশাসক। নিশ্চয় যথার্থ বিশেষণ। কিন্তু এরশাদ এমন একজন স্বৈরশাসক, যিনি সেই প্রথাগত ধ্যান-ধারণাকে অনেকটাই বদলে দিয়ে গেছেন। তিনি প্রমাণ করেছেন, একজন মানুষ বিচিত্র রূপে বেঁচে থাকতে পারে। জেনারেল এরশাদ শুধু ক্ষমতাই ভোগ করেন নি, তার ভোগের তালিকা দীর্ঘ। তিনি পরকীয়ায় মজেছেন। ক্ষমতায় থাকতে তার নৈতিক স্খলন কোনো অজানা বিষয় ছিল না। মরিয়মদের গল্প বিদেশি পত্রিকায় ছাপা হয়েছে। ফেয়ার ফ্যাক্স তদন্ত রিপোর্টের কথা বহুকাল পশ্চিমা সমাজে আগ্রহের বিষয় হয়েছিল। কিন্তু এসবের কোনো কিছুই তার ক্ষমতাকে দীর্ঘায়িত কিংবা তাকে ছেঁটে ফেলার ক্ষেত্রে তেমন কোনো ভূমিকা রাখতে পারেনি। বাংলাদেশের রাজনীতিতে গণতান্ত্রিক আন্দোলনে দুই নেত্রী যৌথভাবে এরশাদবিরোধী আন্দোলন করেছেন। তাদের সেই আন্দোলন বিভিন্নভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করতে এরশাদের রহস্যময় কৌশল কাজ দিয়েছে। জেনারেল এরশাদ প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে কি বিচিত্র ও হেয়ালিভরা কৌশলে সম্পর্ক বজায় রাখা সম্ভব, তিনি তার একটা ধ্রুপদী দৃষ্টান্ত বা মডেল রেখে গেছেন। তার বিরুদ্ধে রাজনীতিকরা সরব হয়েছেন। সর্বতোভাবে বিরোধিতা করেছেন। আবার তার সঙ্গে যোগাযোগও রেখেছেন। তার সঙ্গে সম্পর্ক গড়ার জন্য দৌড়ঝাঁপ করেছেন। কখনো ক্ষমতায় থাকতে করেছেন। আবার কখনো ক্ষমতার বাইরে এসে করেছেন। এভাবে তিনিই আমৃত্যু ছিলেন এক রহস্যময় কিংমেকার। সবাই তাকে নিন্দে, সবাই তাকে পিন্দে। জেনারেল এরশাদ দীর্ঘ সময় দুর্নীতির দায়ে কারাগারে থেকেছেন। কিন্তু কারাগারে থেকেও তিনি রাজনীতি থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাননি। বরং স্বৈরশাসকের জীবনী তাকে সফল রাজনীতিকে পরিণত করেছে। সুতরাং রাজনীতিবিদ হতে হলে তাকে সবসময় রাজনীতির ময়দান থেকে আসতে হবে, সেটা সবসময় যে তা নয়, তিনিই সেটা দেখিয়েছেন। কি করে ক্যান্টনমেন্ট থেকে বঙ্গভবনে, সেখান থেকে কারাগারে নিক্ষিপ্ত হয়েও ৫টি আসনে জয়লাভ করা সম্ভব, তার নজির এই কীর্তিমান ‘অঙপুরের ছাওয়াল’। বাংলাদেশের রাজনীতিতে তিনি বহু রহস্যময় প্রশ্ন রেখে গিয়েছেন। মরিয়মদের সংখ্যা এক দুই নয়। রহস্য জাল কম বিস্তার করেননি জিনাত মোশাররফকে নিয়ে। বান্ধবীকে নিয়ে সংসদে একত্রে বসতে পারা, তাও ক্ষমতা থেকে বিদায়ের পরে, সেটা আরেক মহা রহস্য জাল। তিনি কোথায় রহস্য জাল বিস্তার করেননি, তার তালিকা করলে সেটাই বরং হ্রস্ব হবে। তিনি মসজিদে গিয়ে তার পরদিন স্বপ্নের বিবরণ দিয়েছেন। তিনি বলেছেন- তিনি স্বপ্নে আদিষ্ট হয়েছেন। তার স্ত্রীকে কেউ গর্ভবতী রূপে দেখেনি। কিন্তু সফল সন্তান প্রসবের খবর হজম করতে হয়েছে। বলা হয়ে থাকে বাংলাদেশের সমাজ রক্ষণশীল। ধর্মভীরু। নীতি-নৈতিকতায় আমজনতা সংবেদনশীল। কিন্তু সে কথা পাঁচটি বা একাধিক আসনে ক্ষমতা থেকে বিদায়ের পরে ক্রমাগতভাবে নির্বাচিত হওয়ার রেকর্ড কি প্রমাণ করে? মানুষ যে তাকে খুব খারাপ হিসেবে দেখেনি, সেটা অপ্রিয়, অনেকেই মানতে চাইবেন না। কিন্তু সত্যকে কীভাবে অস্বীকার করা যাবে? জেনারেল মঞ্জুর হত্যাকাণ্ডে তার কি ভূমিকা ছিল, সেটা অজানাই থেকে গেল। মঞ্জুর হত্যা মামলার বিচার প্রক্রিয়ার শুনানি, এবং মামলা মুলতবি হওয়া এবং জেনারেল এরশাদের জাতীয় রাজনীতিতে তার ডিগবাজি, সবগুলোর তারিখ পরম্পরা মেলালে দেখা যাবে সেখানেও রহস্যের গন্ধ। সেই গন্ধ বাতাসে মিলিয়ে যায়নি। প্রতিটি নির্বাচন তাকে রহস্য করার সুযোগ দিয়েছে। সবাই তার সঙ্গে রহস্য করেছেন। তাকে রহস্যে আবৃত করে থাকতেও সুযোগ করে দিয়েছেন। বিশেষ করে ২০১৪ সালের নির্বাচন এবং ২০১৮ সালের নির্বাচনে তিনি রহস্য কম করেননি। ২০১৪ সালের নির্বাচনের আগে তার বাসা থেকে রহস্যজনকভাবে অন্তর্ধান ঘটেছিল। তাকে সিএমএইচে খুঁজে পাওয়া যায় আচমকা। এ নিয়ে অনেক গল্প। এটা খুবই পরিষ্কার ফ্রিডম পার্টিকে রাজনৈতিকভাবে পুনর্বাসিত করেছেন তিনিই। বিশেষ করে তিনিই বঙ্গবন্ধুর মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত হত্যাকারী সৈয়দ ফারুক রহমানকে নির্বাচনে টেনে এনে চূড়ান্ত রাজনৈতিক পুনর্বাসন প্রদর্শন করেছেন। কিন্তু সেই তিনিই গত এক দশকের বেশির ভাগ সময় মন্ত্রীর পদমর্যাদায় জীবনযাপনে তার অসুবিধা হয়নি। সুযোগ বুঝে রহস্যময় পুরুষটি শুধু ভোল পাল্টে নিয়েছেন। তিনিই ধর্মকে রাজনীতিতে ব্যবহার করেছেন। মনে করা হয়ে থাকে তিনি যদি রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম ঘোষণা না করতেন, তাহলে বাংলাদেশের অসামপ্রদায়িক রাজনীতি আরো অনেক বেশি এগিয়ে থাকতে পারতো। কিন্তু সেটা হয়নি। জেনারেল এরশাদ যেসব পরিবর্তন করেছেন তার অনেকগুলোই কিন্তু স্থায়ী ছাপ লেগে গিয়েছে। পরবর্তীকালে তা রাজনীতি থেকে উঠে যেতে পারেনি। তার বড় প্রমাণ উপজেলা ব্যবস্থা। তার বড় প্রমাণ ইসলামকে রাষ্ট্রধর্ম হিসেবে ধরে রাখা। পররাষ্ট্রনীতিতেও তিনি চীনকে অন্তর্ভুক্ত করতে বিরাট ভূমিকা রেখেছিলেন। ইতিহাস প্রমাণ করছে যে বাংলাদেশের রাজনীতি সেখানেই থমকে গিয়েছে। কবি হিসেবে ছলনার আশ্রয় নিয়েছিলেন তিনি। কবি ছিলেন না। নিজেকে তৈরি করেছেন। রাজকবিও হয়েছেন। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত সংসদে বিরোধী দল, জাতীয় পার্টি, স্ত্রী এবং ভাইকে নিয়ে নানা রহস্যময় ছলাকলা করে গেছেন। নিজের মন্ত্রীর পদমর্যাদা নিরঙ্কুশ রেখেছেন সুকৌশলে। তিনি প্রমাণ করেছেন যে, তাকে বাদ দিয়ে বাংলাদেশের ক্ষমতার রাজনীতির ইতিহাস লেখা যাবে না। রাজনীতিকরা তাকে টেনে নামিয়ে ছিলেন। সেই রাজনীতিকরা তাকে নিয়ে টানাটানি করেছে। সত্যি এরশাদের সবটাই বড় রহস্যময়। এরশাদ যেন, ‘বাই দ্য মিস্ট্রি, ফর দ্য মিস্ট্রি।’ তার হাত রক্তাক্ত। কিন্তু ব্যক্তিজীবনে সদালাপী, সহাস্যই ছিলেন।

    Reply
  5. সাইদ মুনির

    বৃটিশ শাসন থেকে মুক্তি পাওয়ার পর বেশিরভাগ দক্ষিণ এশীয় দেশই পারিবারিক নেতৃত্বের সাধ পেয়েছে। ভারতে স্বাধীনতার পর থেকে নেহরু-গান্ধী পরিবারের নেতৃত্বাধীন কংগ্রেস পার্টিই ক্ষমতায় ছিল বেশিরভাগ সময় ধরে, পাকিস্তানে ভুট্টো/জারদারি ও শরিফ পরিবার পালাক্রমে নেতৃত্ব দিয়েছে বহু বছর, শ্রীলংকায় প্রথমে বন্দেরনায়েক ও পরে রাজাপাকসারাই ছিল নেতৃত্বের শীর্ষে। বাংলাদেশেও বেশিরভাগ সময় শেখ মুজিবুর রহরমান ও জিয়া উর-রহমানের পরিবারের দখলেই থেকেছে রাজনৈতিক পটভুমি। পারিবারিক রাজনীতি দক্ষিণ এশিয়ায় প্রাধান্য পেলেও সবসময় তার পরিণতি গৌরবান্বিত হয় না। পাকিস্তানের জুলফিকার আলি ভুট্টো ও তার কন্যা বেনজির ভুট্টোর মৃত্যুর দিকে তাকালেই তা বোঝা যায়। অন্যদিকে, ভারতে ইন্দিরা গান্ধী ও তার ছেলে রাজীব গান্ধীর খুনও সেদিকটাই ফুটিয়ে তোলে। কখনো কখনো এক পরিবারের পতন থেকে শুরু হয় অন্যকোনো পরিবারের উত্থান। শ্রীলংকার পরিস্থিতির দিকে তাকালে তা স্পষ্ট হয়ে ওঠে। একসময় বন্দরনায়েকদের দখলে থাকা রাজনীতি এখন শাসন করছে রাজাপাকসারা। দক্ষিণ এশীয় দেশগুলোর রাজনীতিতে পারিবারিক নেতৃত্বের অবসানের সবচেয়ে বড় নজির স্থাপন করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও পাকিস্তানের ইমরান খান। একজন হচ্ছেন সমাজসেবক ও অন্যজন সাবেক ক্রিকেটার। এছাড়া, কংগ্রেসের সভাপতি হিসেবে রাহুল গান্ধীর পদত্যাগও বেশ গুরুত্বপূর্ণ। গত লোকসভা নির্বাচনে মোদি নেতৃত্বাধীন বিজেপির কাছে বিপুল ব্যবধানে হারে কংগ্রেস। এরপরই পদ ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। ২০০৪ সালে রাজনীতিতে প্রবেশ করা রাহুলকে নিয়ে অনেকের ধারণাই ছিল, ভারতের যুব সম্প্রদায়ের ওপর তার বেশ প্রভাব থাকবে। কিন্তু ২০১৪ ও ২০১৯ সালের নির্বাচনে টানা হারান তিনি। এতে প্রমাণ হয় যে, নিজের দলে তরুণদের টানতে ব্যর্থ হয়েছেন কংগ্রেস সভাপতি। এখানে লক্ষ্যণীয় বিষয় হচ্ছে, অন্যান্যদের মতো রাজনীতিতে দোষ চাপানোর খেলায় নামেননি রাহুল। সরাসরি নিজের কাঁধে ব্যর্থতার গ্লানি নিয়ে পদত্যাগ করেছেন। নির্বাচনে সাফল্য না পেলেও, পদত্যাগ করে নিজের দলের ভবিষ্যৎ নেতাদের জন্য আশা জাগিয়েছেন রাহুল। পারিবারিক নেতৃত্ব থেকে গণতান্ত্রিক ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে গেছে কংগ্রেস। এখন, দলের ভার নেয়ার সুযোগ হয়েছে শিক্ষিত, নেতৃত্বের গুণাবলী সম্পন্ন কোনো নেতার। আর সে নেতা গান্ধী পরিবারের বাইরে থেকেও আসতে পারে।
    নিজের রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীদের চেয়ে রাহুল নিজেকে আলাদা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন তার পদত্যাগপত্রে লেখা কথার মধ্য দিয়ে। লিখেছেন, ‘তারা যেখানে ভিন্নতা দেখে, আমি সেখানে সাদৃশ্য দেখি। তারা যেখানে ঘৃণা দেখে, আমি সেখানে ভালোবাসা দেখি। তারা যা ভয় পায়, আমি সেটাকে আলিঙ্গন করি।’ কথাগুলোর মধ্য দিয়ে রাহুল সত্যিকারেই অসাধারণ ব্যক্তিত্বের ছাপ রেখে গেছেন। তিনি বলেছেন, ভারতে ক্ষমতা আঁকড়ে ধরে থাকা একটি অভ্যাস হয়ে গেছে। কেউ ক্ষমতা ছাড়তে চায় না। কিন্তু আমরা ক্ষমতার লোভ ত্যাগ না করে ও আরো নিগূড় কোনো মতাদর্শের যুদ্ধে না লড়ে আমাদের প্রতিদ্বন্দ্বীদের পরাজিত করতে পারবো না।

    Reply
  6. Md. Mahbubul Haque

    সত্য মিথ্যার ককটেল এক কলাম ফেদেছেন আর নিজের গুণগান গেয়েছেন। এরশাদের মৃত্যুতে সবাই ইন্না-লিল্লাহ..ই পড়েছেন, আলহামদুলিল্লাহ পড়েন নি। অদূর ভবিষ্যতে হয়তো কারো কারো ক্ষেত্রে মানুষ উল্টোটাও করতে পারে।

    Reply
    • হেলাল আহমদ

      এরশাদের তুলনা এরশাদ। স্বৈরশাসনের কথা বলা হচ্ছে, বর্তমানের স্বৈরশাসন এরশাদের শাসনের চেয়েও খারাপ। কিন্তু, সুশীলদের এর বিপক্ষে আন্দোলন করতে দেখা যায় না। একটি কবিতা বা নিবন্ধ লেখতেও দেখা যায় না। কারণ, ‘মুক্তিযুদ্ধের শক্তির’ পক্ষে সবই হালাল। নৈতিক স্খলনের কথা বলা হচ্ছে, বর্তমানে কোন নেতা-নেত্রীর নৈতিকতা ভালো?

      Reply
    • পারভেজ সুমন

      অদূর ভবিষ্যতে হয়তো কারো কারো ক্ষেত্রে মানুষ উল্টোটাও করতে পারে।
      আপনার একথাটাই আপনাকে পরিচিত করে দিয়েছে্
      ঠিক আছে সে আশাতেই থাকেন।
      তবে আমরা কষ্টে নেই।

      Reply
      • Md. Mahbubul Haque

        বিপন্নরাই কেবল আশা করে আর সুবিধাভোগীরা সব সময়েই ভালো থাকে। ইতিহাস তাই বলে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। প্রতিক্রিয়া লেখার সময় লক্ষ্য রাখুন--

  • ১. স্বনামে বাংলায় প্রতিক্রিয়া লিখুন।
  • ২. ইংরেজিতে প্রতিক্রিয়া বা রোমান হরফে লেখা বাংলা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না।
  • ৩. প্রতিক্রিয়ায় ব্যক্তিগত আক্রমণ গৃহীত হবে না।

দরকারি ঘর গুলো চিহ্নিত করা হয়েছে—