নয়ন বন্ড নামের সন্ত্রাসীর ক্রসফায়ারে মৃত্যুর খবর পড়ে প্রথমেই আমার মনে যে প্রতিক্রিয়া জেগেছিল সেটা হলো ‘বেশ ভালো হয়েছে, উচিত শাস্তি হয়েছে’। আমি নিশ্চিত আরো অনেক মানুষের মনে এটাই ছিল তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া। কিন্তু এর কিছুক্ষণ পরই আমার মনে হয়েছে, সন্ত্রাসের জবাবে ক্রসফায়ার বা কথিত বন্দুক যুদ্ধ কখনও সমাধান নয়।

নয়ন বন্ড ও তার সহযোগিরা রিফাতকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা করেছিল। এই ঘটনা প্রমাণ করে দেশের আইন-শৃংখলা পরিস্থিতির নাজুক অবস্থা। একদল সন্ত্রাসী জনবহুল সড়কে দিনের বেলায় যখন হত্যার মতো ভয়াবহ অপরাধ করতে সাহসী হয় তখন একথাই প্রমাণ হয় যে রাষ্ট্রের আইন শৃংখলা পরিস্থিতি অত্যন্ত দুর্বল। সন্ত্রাসীরা অকুতোভয় এই কারণে যে, তারা জানে আইন তাদের স্পর্শ  করতে পারবে না। তাদের খুঁটির জোর এতই বেশি যে তারা আইনের ফাঁক গলে ঠিকই বের হয়ে যেতে পারবে। এই ভয়াবহ ঘটনা আইনের ও ন্যায়বিচারের প্রতি আস্থাহীনতা তুলে ধরে।

নয়ন বন্ডকে ক্রসফায়ারে হত্যা করা আইনের শাসনের ও বিচারের প্রতি অধিকতর আস্থাহীনতার প্রমাণ। এই ঘটনায় বোঝা যায়, পুলিশ প্রশাসনও মনে করছে আইনমাফিক পথে নয়ন বন্ডের মতো সন্ত্রাসীদের দমন করা সম্ভব নয়। তাই তারা বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের পথ অবলম্বন করছে। আর জনগণ যে, ক্রসফায়ারকে মানসিক সমর্থন দিচ্ছে সেটি আরও ভয়াবহ প্রবণতা। এটি প্রমাণ করে যে, জনগণও আইনের প্রতি আস্থাহীনতায় ভুগছে। তারা আইনের ফাঁক গলে সন্ত্রাসীদের রেহাই পাওয়া দেখে হতাশ। তারা ধর্ষণ  ও হত্যার মতো ভয়াবহ অপরাধের কোন প্রতিকার না দেখে দেখে হতাশ হয়ে পড়েছে। তারা দেখেছে রিশা হত্যার মামলা এখনও আদালতে ঝুলছে। তারা দেখেছে সাগর-রুনি ও তনুর হত্যাকারীরা ধরাই পড়েনি। তারা দেখেছে, নুসরাত হত্যার মতো ভয়াবহ অপরাধের পরও সেটাকে আত্মহত্যা বলে চালানোর অপকৌশল ও অপরাধীদের বাঁচানোর তৎপরতা। তারা আরও অনেক হত্যা, ধর্ষণ ও অনেক রকম ভয়াবহ অপরাধ  ও তার বিচারহীনতা এবং বিচারের দীর্ঘসূত্রিতা দেখে দেখে ক্লান্ত। তারা ক্ষমতার আশ্রয়-প্রশ্রয়ে সন্ত্রাসীদের আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখানোর তামাশা দেখে ক্ষুব্ধ, ক্লান্ত, বিরক্ত ও হতাশ। এই কারণেই যখন রিফাত হত্যার মতো ভয়াবহ অপরাধ তারা দেখে তখন সন্ত্রাসী নয়ন বন্ডের ক্রসফায়ারে মৃত্যুর সংবাদে তারা উল্লসিত হয়। কিন্তু এই উল্লাস কি আইনের শাসনের প্রতি, বিচার ব্যবস্থার প্রতি আস্থাহীনতার প্রকাশ নয়? এটা কি লিঞ্চিং মবের অনুরূপ আচরণ নয়?

বিচার ব্যবস্থা হলো একটি দেশের মেরুদণ্ড। আইনের শাসন, বিচার ব্যবস্থার দৃঢ়তা, সুবিচার এবং দ্রুত বিচার জনজীবনের নিরাপত্তা ও প্রশান্তির জন্য অত্যাবশ্যক। আইন, প্রশাসন ও বিচারের স্তম্ভের উপরেই দাঁড়িয়ে থাকে দেশ। এর কোন একটি স্তম্ভ দুর্বল হয়ে গেলেই বিপদ। বাঘের চেয়েও ভয়াবহ হলো অরাজকতায় পূর্ণ দেশ।  দেশের জনগণ যদি বিচার ব্যবস্থার প্রতি আস্থা হারায় তাহলে উন্নয়ন ও অর্জনের যত গৌরবই আমরা করি না কেন, সকলি গরল ভেল।

অতীতে আমরা এনকাউন্টার, অপারেশন ক্লিন হার্ট, ক্রসফায়ার কম দেখিনি। রাজনৈতিক কর্মী, কথিত সন্ত্রাসী, সত্যিকারের সন্ত্রাসী, দুচারজন নিরীহ মানুষ, ভুল মানুষসহ অনেকেরই মৃত্যু হয়েছে এই বিচার বহির্ভুত বন্দুকের গুলিতে। বিচার বহির্ভুত এসব হত্যা কি নতুন সন্ত্রাসীর জন্মকে রোধ করতে পেরেছে? সন্ত্রাসীরা রক্তবীজের মতো, রাক্ষসের মতো। এক সন্ত্রাসীর পতিত রক্ত আরও সন্ত্রাসীর জন্ম দেয়। দরকার হলো রাক্ষসদলের প্রাণভোমরাকে হত্যা করা। সন্ত্রাসীরা হলো ক্ষমতার অপব্যবহার নামক বিষবৃক্ষের বিষাক্ত ফল। ফল ছিঁড়ে লাভ নেই, দরকার বিষবৃক্ষটিকে উপড়ানো। ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য গড ফাদাররা বাবা-মায়ের নয়নমণি সন্তানদের বানায় নয়ন বন্ড। তাদের হাতে তুলে দেয় অস্ত্র। তারা ক্ষমতার স্বাদ পেয়ে হয়ে ওঠে মানুষখেকো বাঘের চেয়ে হিংস্র। এই নয়ন বন্ডের নামে এলাকায় মাদক ব্যবসা, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, ছিনতাইয়ের আরও বেশ কয়েকটি মামলা ঝুলছিল। তাহলে কেন এতদিন এই সন্ত্রাসীকে গ্রেপ্তার করা হয়নি? কার ইশারা ও আশ্রয় প্রশ্রয়ে এই সন্ত্রাসী এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব করতো? গড ফাদাররা নিজেদের স্বার্থে সৃষ্টি করে মাস্তানরুপী কিলিং মেশিন। দুর্নীতিবাজ ক্ষমতাশালীরা এই কিলিং মেশিনদের নিজেদের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে। সেই সব খুঁটির জোরেই নয়ন বন্ড ও ফরাজীদের আস্ফালন। দরকার কিলিং মেশিন তৈরির এসব কারখানাকে সিলগালা করার। দরকার বিচার ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করে সন্ত্রাসীদের দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা। আইনের মারপ্যাঁচে এরা যেন বের হতে না পারে সেটা নিশ্চিত করা দরকার। দ্রুত বিচার ও দ্রুত সাজা বাস্তবায়ন দরকার। দরকার পুলিশ প্রশাসনকে দুর্নীতিমুক্ত ও তত্পর করা। প্রতিটি ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ কেন লাগবে? রাষ্ট্র ব্যবস্থা যদি সক্রিয় ও গতিশীল থাকে, দুর্নীতিমুক্ত থাকে তাহলে তার আপন গতিতেই দেশ এগোতে পারে।

এক নয়ন বন্ডের মৃত্যু হয়েছে বিচার বহির্ভূত গুলিতে। দরকার ছিল দ্রুত বিচারের আওতায় এনে দ্রুত শাস্তি কার্যকর করা। প্রকৃত সত্য হলো নয়ন বন্ড ও ফরাজিদের সৃষ্টি করে আইন শৃংখলা পরিস্থিতির অবনতি, ক্ষমতা টিকিয়ে রাখার জন্য মাস্তান তৈরির প্রক্রিয়া এবং সমাজের নৈতিক অবক্ষয়, ক্ষমতার অপব্যবহার। বিষবৃক্ষের শিকড় না কাটলে নয়ন বন্ডদের জন্ম হতেই থাকবে। ক্রসফায়ারে কয়টাকে মারা হবে? এবং বিচার বহির্ভূত হত্যা জনমনে গ্রহণ যোগ্যতা পাওয়ার ভয়াবহ ফলাফল জাতিকে কোন দিকে নিয়ে যাবে? ক্রসফায়ার নয়, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা চাই। আইন শৃংখলা পরিস্থিতির উন্নয়ন চাই। এবং আইনের কঠোর প্রয়োগ চাই, দ্রুত বিচার ও দ্রুত শাস্তি কার্যকর চাই। এই সমাজে যেন ক্ষমতার আশ্রয়-প্রশ্রয়ে নয়ন বন্ড ও ফরাজিদের জন্ম না হয়। রিফাতদের যেন মরতে না হয় চাপাতির কোপে।

শান্তা মারিয়ালেখক; সাংবাদিক।

Responses -- “বন্দুকযুদ্ধ: ভালো না মন্দ?”

  1. নাজমুল

    মধ্যরাত। দুরন্ত গতিতে বাস ছুটছে। এলোমেলো। যেমন খুশি। গুটিকয় যাত্রী উৎকণ্ঠা নিয়ে বসে আছে। দু-একজন কণ্ঠ উঁচুতে তুলে মাঝেমধ্যে সাবধান হতে বলছে চালককে। চালকের সেদিকে কান নেই, তিনি কথা বলছেন হেলপারের সঙ্গে। কান খাড়া করতেই শোনা গেল, ‘আইজ একটাও ক্যালাশ (ক্ল্যাশ) হইল না’, হতাশ কণ্ঠে বলছেন চালক। হেলপার ‘হুম’ বলে সম্মতি দিচ্ছেন। এই আলাপ শোনাটা গায়ের রোম খাড়া হয়ে যাওয়ার জন্য যথেষ্ট। হচ্ছেও। আর হচ্ছে বলেই, কেউ আর কোনো রা করল না। দৃশ্যটি কোনো কল্পনা থেকে আসেনি। বাস্তব কথোপকথন। চলতি বছরের প্রথমার্ধে একনাগাড়ে যেসব হত্যা, ধর্ষণ, হামলাসহ নানামাত্রিক অপরাধের বিবরণ খবর হয়ে এসেছে, তার একটি বড় অংশের সঙ্গেই জড়িত তরুণেরা। শুধু তরুণ বললেও ভুল হবে, শিশু–কিশোরেরাও রয়েছে এ দলে। তাদের কার্যক্রম দেশের আইনি কাঠামোটি নিয়েই প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। সমাজের এই অংশটির ওপর কোনো ধরনের নিয়ন্ত্রণ যেন কাজ করছে না। তারা প্রকাশ্য রাজপথে ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলা করছে, দুই পক্ষ সংঘর্ষে লিপ্ত হচ্ছে, প্রবীণ শিক্ষককে লাঞ্ছিত করেই থামছে না, তাঁর গায়ে কেরোসিন ঢেলে দিচ্ছে, এমনকি নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরাও পার পাচ্ছেন না। এই যখন অবস্থা, তখন প্রশ্ন উঠতেই পারে যে তরুণদের তবে কী হলো? তরুণেরা কি কোনো ‘রাজ’ আর মানতে চাইছে না? যেকোনো দেশের জন্যই তরুণেরা বড় সম্পদ। শারীরিক সক্ষমতা, উদ্দীপনা, নতুন ভাবনা—সব বিচারেই রথের চাকাকে সামনের দিকে এগিয়ে নেওয়ার দায়টা থাকে তাদের ঘাড়েই। তাই তাদের প্রবণতাকে গুরুত্বের সঙ্গে ধর্তব্যে নিতেই হয়। আর সেভাবে তাদের দিকে তাকাতে গেলে একটু শঙ্কিতই হতে হয়। নিয়মিতই এমন সব অঘটনের খবর পাওয়া যাচ্ছে, যার সঙ্গে তরুণেরা জড়িত। কোনো আইন কিংবা সামাজিক রীতিনীতির ধার তারা ধারছে না। সমাজের সব শ্রেণি ও সব অঞ্চলের তরুণদের মধ্যেই এমন প্রবণতা রয়েছে। অবশ্য এ কথায় এমন ভাবার কারণ নেই যে সব তরুণের ক্ষেত্রেই এ কথা বলা হচ্ছে। দেশের সাম্প্রতিক বিভিন্ন অর্জন তরুণদের হাত ধরেই আসছে, যাকে সাধুবাদ দিতেই হয়। কিন্তু একটি অংশ যে নানা অঘটনের সঙ্গে জড়িয়ে যাচ্ছে, তা তো সত্যই। বিভিন্ন অঘটনে তরুণদের সম্পৃক্তিতে মনে হতে পারে যে রাষ্ট্রের কাঠামোটিকেই তারা আর মানছে না। কিন্তু বিষয়টি মোটেই তেমন নয়। তাদের কর্মকাণ্ড যতটা না আইন না মানা, তার চেয়ে বেশি আইনকে অগ্রাহ্য করা। তারা নিজেদের নিয়ন্ত্রণহীন মনে করছে। কিন্তু এই নিয়ন্ত্রণহীন মনে করাটা ক্ষমতার ছত্রচ্ছায়ায় থেকে। অর্থাৎ এ ক্ষেত্রে তারা রাষ্ট্রের ক্ষমতা-কাঠামো ও নিয়ন্ত্রণ স্পৃহাকে কোনোভাবেই প্রশ্নের আওতায় আনছে না। ফলে একে ঠিক নৈরাজ্যবাদের জায়গা থেকে নৈরাজ্য বলা যাবে না। কারণ নৈরাজ্যবাদ একটি মুক্ত কাঠামোর প্রস্তাব করে। বিপরীতে এই তরুণেরা কোনো মুক্ত কাঠামো নয়, বরং বিদ্যমান ভয়ের সংস্কৃতিকেই পুনঃ প্রস্তাব করছে। এ ক্ষেত্রে তারা রাষ্ট্রের ক্ষমতাকাঠামোকেই নিজেদের ক্ষমতার উৎস হিসেবে কাজে লাগাচ্ছে। এই পরিস্থিতিকে তাই নৈরাজ্য নয়, বরং ‘আদর্শহীন নৈরাজ্য’ হিসেবেই আখ্যা দেওয়া যায়। কথা হচ্ছে তরুণদের মধ্যে এই ‘আদর্শহীন নৈরাজ্যিক’ প্রবণতা সৃষ্টি ও এর বিস্তৃতির কারণ কী? এর কারণ খুঁজতে গেলে রাষ্ট্রের কাঠামোর দিকেই তাকাতে হবে। মোটাদাগে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনমনের কথা বলা যেতেই পারে। কিন্তু এটি ঠিক কতটা, তা বোঝা যাবে কোনো একটি অপরাধ বেড়ে গেলে এর সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের তথাকথিত ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিয়ে যাওয়ার যে জনস্পৃহা তৈরি হয়েছে, তার কার্যকারণ সূত্রের মধ্যে। ২০১২ সালে ঢাকায় প্রকাশ্যে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা কুপিয়ে হত্যা করেছিল বিশ্বজিৎকে। ৭ বছরেও কোনও আসামির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়নি। বছরের পর বছর আদালতের বারান্দায় ঘুরতে ঘুরতে অনেকে বিচারের আশা ছেড়ে দেন। বিচারের বাণী নিভৃতে কাঁদে। বিচারব্যবস্থার এই জটিলতার কারণেই সাধারণ মানুষ ক্রসফায়ারকেই সমাধান মনে করে। কিন্তু ক্রসফায়ার কখনোই একটা সভ্য দেশে সমাধান হতে পারে না। নয়ন বন্ডের ক্রসফায়ারের পর হাইকোর্ট বলেছেন, ‘আমরা বিচারবহির্ভূত হত্যা পছন্দ করি না। এতে পাবলিকের কাছে ভুল বার্তা যেতে পারে।’ ক্রসফায়ার দিয়ে কখনো আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হবে না। যত বেশি ক্রসফায়ার, ধরে নিতে হবে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি তত খারাপ। ক্রসফায়ার মানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ব্যর্থতা, ক্রসফায়ার মানে বিচারব্যবস্থার প্রতি অনাস্থা। এটা চলতে দেওয়া, সমর্থন করা আমাদের এক ভয়াবহ দিনের দিকে নিয়ে যাবে। আজ আপনি নয়ন বন্ডের ক্রসফায়ারে উল্লাস প্রকাশ করছেন, কাল যখন আপনার কোনও নিরপরাধ বা স্বল্প অপরাধী ভাই ক্রসফায়ারে মারা যাবে; আপনি প্রতিবাদ করবেন কোন মুখে? বেশ কিছুদিন ধরেই ধর্ষণের মতো ঘটনা নৈমিত্তিক হয়ে উঠেছে। শুরুতে ধর্ষকদের বিচারের আওতায় আনার দাবি উঠলেও রাষ্ট্রের পদক্ষেপে সাধারণ মানুষ ঠিক সন্তুষ্ট হতে পারেনি। এর মধ্যে এ ধরনের ঘটনার হার বেড়ে গেলে সাধারণ মানুষের একাংশের মধ্যে অপরাধীকে বন্দুকযুদ্ধে নিয়ে যাওয়ার দাবি উঠতে থাকে। এই একই প্রতিক্রিয়া এখন যেকোনো সিরিজ অপরাধের ক্ষেত্রে নিয়মিত দেখা যাচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে শুরু করে প্রতিটি অনলাইন ও অফলাইন ফোরামে এ ধরনের বক্তব্য শোনা যায়, যা রাষ্ট্রের আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার প্রতি জন-অনাস্থারই প্রমাণ। এ পরিস্থিতিতে রাষ্ট্রের এই অনাস্থা কমাতে সক্রিয় হওয়ার কথা থাকলেও তা করেনি। বরং এই বেআইনি পথটিতেই সমস্যার তাৎক্ষণিক সমাধান খুঁজতে দেখা গেছে তাকে। যেন রাষ্ট্র নিজেই আর নিজের আইনি কাঠামোর ওপর ঠিক ভরসা পাচ্ছে না। এটা নিজের আইনি কাঠামোর দুর্বলতার বিষয়ে রাষ্ট্রের স্বীকারোক্তি বলা যায়। সাধারণ আইনি পথে না হেঁটে, রাষ্ট্র যে পথে হাঁটছে, তা প্রকারান্তরে তরুণদের অনিয়ন্ত্রিত করে তুলছে।

    Reply
  2. Qudrate Khoda

    বরাবরের মতো লেখিকা এবারেও সংক্ষেপে খুব ভাল লিখেছেন। সাহসের সাথে সত্য কথাটাই বলার চেষ্টা করেছেন। অনেক ধন্যবাদ।
    কিন্তু, সমস্যা একটাইঃ “চোরা না শোনে ধর্মের কাহিনী”।
    আর সত্য ও ক্ষমতার ব্যাকরণ ভিন্ন। ক্ষমতার মন্তর হোলঃ “ সর্প হইয়া দংশন করো, ওঝা হইয়া ঝাড়ো…” কথায় বলেঃ কুইনিন জ্বর সারাবে, কিন্তু কুইনিন সারাবে কে?
    যাহোক, বড় মুশকিলে আছে বাঙালী, আসানের পথ এখনও বন্ধুর ।
    অতএব, একমাত্র আল্লাহতাআলার প্রত্যক্ষ হস্তক্ষেপ ছাড়া এইসব কোপাকুপি ও ক্রস্ফায়ারের হাত থেকে আর কেউ এই অভাগা জাতিকে রক্ষা করতে পারবে বলে মনে হয় না। আমিন।

    Reply
  3. Not applicable

    Guns or curved blade (Ram Dao) . Who knows if his intentions was to kill or to injure or it’s an attempt to murder. They all have curved blades. They just needed one gun to shoot him to kill. We have not seen that gun what police presented after the cross fire because we know that police and Nayan bond were having gun fight according to the police statement. If Nayan bond have those weapons, what police were doing all the time?

    Reply
  4. তুফান সরকার

    বন্দুকযুদ্ধ ফিলিপাইন থেকে বাংলাদেশ; কম উন্নত, কম গণতান্ত্রিক এবং বেশি দুর্নীতির দেশগুলোয় কেন ছড়াচ্ছে? গত বছরের মাঝামাঝি মাদক নির্মূলে সরকার ‘বন্দুকযুদ্ধ’ শুরু করল। এই যুদ্ধের প্রথম ১৩ দিনে ৯১টি লাশ পড়েছে। এর মধ্যে টেকনাফের কাউন্সিলর একরামও নিহত হলেন। কেউ কি বুকে হলফ দিয়ে বলতে পারবেন, মাদকের বিস্তার বা ব্যবসা কমেছে। মৌমাছির চাক অটুট রেখে এদিক-ওদিক কয়েক শ মৌমাছি মারায় রানি মৌমাছি ভয় পায় না। তারা তাদের কাজ চালিয়ে যায়। মাদকযুদ্ধে পোড়খাওয়া কলম্বিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট সিজার গাভিরিয়ার কথা আর ফেলা যায় না। ১৯৯০-৯৪ সাল পর্যন্ত তাঁর আমলে কলাম্বিয়ায় বিরাট মাদকবিরোধী অভিযান চলে। এই যুদ্ধে অস্ত্র, টাকা, গোয়েন্দা দিয়ে পাশে ছিল যুক্তরাষ্ট্র।গাভিরিয়ার স্বীকারোক্তি, আসল কাজ না হলেও এতে সরকারের জনপ্রিয়তা সাময়িকভাবে বাড়ে। কিন্তু অটুট থেকে যায় দুর্বৃত্ত রাজনৈতিক ক্ষমতা ও দুর্নীতিতন্ত্র। দেখা যাবে, এদের আশ্রয়েই থাকে অধিকাংশ অপরাধী। সেই তাদের হাতেই ‘ক্রসফায়ার’-এর নামে নির্বিচার হত্যার অধিকার তুলে দেওয়া কতটা আত্মঘাতী কাজ, তা আরেকবার ভেবে দেখুন। কেমোথেরাপি রোগীকে জীবন দেয় না বরং এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া রোগীর জীবনীশক্তি দ্রুত নিঃশেষ করে তোলে। ক্যানসার রোগীরা ক্যানসারে নয়, মারা যান ক্যানসারের চিকিৎসায়। সমাজের ক্যান্সার থেকে আরোগ্য হতে বন্দুকযুদ্ধ অনেকটা কেমোথেরাপির মত।

    Reply

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। প্রতিক্রিয়া লেখার সময় লক্ষ্য রাখুন--

  • ১. স্বনামে বাংলায় প্রতিক্রিয়া লিখুন।
  • ২. ইংরেজিতে প্রতিক্রিয়া বা রোমান হরফে লেখা বাংলা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না।
  • ৩. প্রতিক্রিয়ায় ব্যক্তিগত আক্রমণ গৃহীত হবে না।

দরকারি ঘর গুলো চিহ্নিত করা হয়েছে—