মিডিয়া জুড়ে ভেসে বেড়াচ্ছে এ কে খন্দকারের মাফ চাওয়ার খবর। এনিয়ে নতুন করে বলাও আসলে এক ধরনের পাপ। এই ভদ্রলোক আমাদের ইতিহাসের একটি বড় ঘটনার অন্যতম সাক্ষী। আত্মসমপর্ণের ঘটনায় সেনাকর্মকর্তাদের মধ্যে কেবল তিনিই হাজির ছিলেন আমাদের হয়ে। ‘মেলবোর্ন এইজ’ পত্রিকার সাংবাদিক ব্রুস উইলসন-কে একবার আমি ইন্টারভিউ করেছিলাম। তিনি তখন লন্ডনের এক হাসপাতালে শয্যাশায়ী। জানি না এখনো বেঁচে আছেন কিনা! ভদ্রলোক মুক্তিযুদ্ধের সময় মুক্তিযোদ্ধাদের সাথে সাথে থাকতেন। কষ্ট করে শ্রম দিয়ে কাভার করতেন খবর। মেলবোর্ন এর এই সাংবাদিক বাংলাদেশকে ভালোবাসতেন। মুক্তিযুদ্ধের সময় তাজউদ্দীন আহমদ এবং এ কে খন্দকার একই সাথে ছিলেন। এ কে খন্দকার এসেছিলেন সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে।  সারেন্ডার পর্বের প্রতিনিধি হয়ে। ব্রুস উইলসন বিএনপি ও এরশাদ জামানার ইতিহাস বিকৃতি নিয়ে ভীষণ বিরক্ত ছিলেন। তিনি আমাকে বলছিলেন- এ কে খন্দকার পারেন অনেক বিতর্কের উত্তর দিতে। এই খন্দকারই কিনা মোশতাকের পথ ধরে ‘বেঈমানি’ করতে ভুল করলেন না! শেষ বয়সে একটি বই লিখে নিজেকে তো বিতর্কিত করলেনই, আমাদের ইতিহাসেরও বারোটা বাজানোর সংকেত দিয়ে রাখলেন। কেন তারা এমন করেন কে জানে? এখন তো মনে হয় কোথাও কি কোনও ভুল ছিল আসলে?

বিচারপতি সাত্তারকে মনে পড়ে? বিএনপি আমলের প্রেসিডেন্ট। মরার আগে বলেছিলেন, ‘ইতিহাস বিকৃতির জন্য দুঃখিত।’ তাদের আরেক রাষ্ট্রপতি আবদুর রহমান বিশ্বাস। জীবনভর অবিৃশ্বাসের কাজ করলেও শেষ সময় টুঙ্গিপাড়া গিয়ে মাফ চেয়ে বলেছিলেন, ‘ভুল হয়ে গেছে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবই স্বাধীনতার মূল নায়ক!’ এমন কি মোশতাক, সেই খুনিও বারবার বলতো, তার হাতে নাকি রক্তের কোনও দাগ নাই! এরা সবাই শেষ বয়সে মানসিক রোগী হয়ে গিয়েছিল। মোশতাক নাকি মলও খেয়ে ফেলতো ভুলে। এবার সে তালিকায় যোগ হলেন এ কে খন্দকার। সাংবাদিক ব্রুস উইলসন কম করে হলেও তিন-চারবার এ কে খন্দকারের প্রসঙ্গ টেনে বলেছিলেন, ‘সে বেঁচে থাকতে এত বিকৃতি হয় কি করে? সে তো ষোল ডিসেম্বরের জীবন্ত সাক্ষী!’

সেই ‘খন্দকার’-ও এক সময় প্রমাণ করে দিলেন মোশতাকই একমাত্র নন। আরও আছেন। এ কে খন্দকার  মুক্তিযোদ্ধা সেক্টর কমান্ডারদের নেতা ছিলেন। জিয়ার দূত, এরশাদের মন্ত্রী- সবসময় ভোগীদের দলে। তারপর আওয়ামী লীগের এমপি এবং মন্ত্রী। পরের দফায় বাদ পড়ার পরই বই লিখে ফেললেন। জানালেন- মুক্তিযুদ্ধ নাকি জনযুদ্ধ ছিল না! সব কৃতিত্ব সেনাদের! বঙ্গবন্ধুর ভাষণের শেষে- ‘জিও পাকিস্তান’ আছে বলার মতো  ধৃষ্টতাও দেখালেন। এসব কি একদিনে হয়?

সারাজীবন আওয়ামী  ভাত খেয়ে নিমক হালালির জন্য বেছে নিলেন জিয়াকে। যে মানুষ- ‘একাত্তরের মানুষ’, তিনি কী করে এমন ভুল করেন?
একটি প্রকাশনী আর একজন সম্পাদক বললেই- তিনি সব ফেলে তাদের কথা মতো এমন করবেন? তাও এই বয়সে? যে কারণেই করুক না কেন, এর পেছনে নিশ্চয়ই দেশি-বিদেশি হাত ছিল। তখন আমরা প্রতিবাদ করলাম, লিখলাম। টনক নড়লো না। দুনিয়া থেকে চলে যাবার আগে এখন নব্বই বছর বয়সে বৌ-কে সাথে নিয়ে বলাচ্ছেন- দোষ নাকি ‘প্রথমা’-র!

দায়ী অন্য কেউ। কেউ লিখিয়ে নিলেই আপনি লিখে ফেলবেন? আহা খোকাবাবু- যে হাউজ, যে লোকগুলোর নাম এসেছে, তারা যেমন চলে, ডালে ডালে আপনার মতো ‘বেঈমান’-রাও চলে পাতায় পাতায়। এখন এটা অনেকেই বিশ্বাস করে টাকা পয়সার ঝামেলা ছিল। যে পরিমাণ রয়্যালটি পাবার কথা- তা মেলেনি বলেই নাকি এই রাগ! এই পাগলের অভিনয়। এ কে খন্দকারের স্ত্রীর ভাষ্যে সাংঘাতিক একটা সত্য আছে। এই যে বললেন- ‘তিনি মানসিক রোগী, প্রায় উন্মাদ’- এর মানে বোঝা কঠিন? আবার সময় সুযোগ মতো যেন বলা যায়, পাগল বলে তখন মাফ চেয়েছিলেন- আসলে যা লিখেছেন তাই সত্য। আর একটা কথা আপনাকে দেখে কি মনে হচ্ছে আপনি পাগল হয়ে গেছেন?

জানি না এ কোন অভিশাপ। এ কোন পাপ। এদেশে এই সমাজে ইতিহাসে খন্দকারের দল মীরজাফর হয়েই থেকে যায়। খন্দকারের পর খন্দকার ইতিহাসের অন্ধকারে জাতিকে ফেলবে আর আমরা ক’দিন হৈ হৈ করে ঠাণ্ডা হয়ে যাবো। এর নাম চেতনা? এ কে খন্দকার-কে আমরা ক্ষমা করলেও এই দেশ, এই মাটি- জীবনেও ক্ষমা করবে না। মরণেও মীরজাফর হয়েই থাকতে হবে তাকে।

অজয় দাশগুপ্তকলামিস্ট।

Responses -- “মোশতাক থেকে এ কে খন্দকার, আর কত অন্ধকার?”

  1. সৈয়দ আলি

    পিতার হাত ধরে যখন প্রানভয়ে সীমান্ত পেরিয়ে কাকা-মামার বাড়িতে ছুটছিলেন, তখন এই একে খন্দকার অপদার্থ ওসমানীর দায়িত্ব পালন করে চলেছেন। আজ তাকে দিয়ে কোন চাপে মাফ চাওয়ানো হলো সেটি নিয়ে আমাদের প্রশ্ন আছে। মনে রাখা দরকার, স্বাধীনতার অব্যবহিত পরের সরকার কিছু মেঠো বক্তৃতা দেয়া ছাড়া মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে বিন্দুমাত্র আগ্রহ দেখায়নি। এমনকি নামাঙ্কিত রাজধানীতেও কেউ যায়নি। যেমন তাজউদ্দিনকে খাটো করার প্রচেষ্ঠায় মুক্তিযুদ্ধকে আলোকিত করা হতোনা, তেমনি এ কে খন্দকারকে খাটো করা হচ্ছে।
    দাস বাবু, ক্ষমতা থাকলে তোফায়েলের উপস্থিতিতে আতাউস সামাদের টিভি টক শো টি খুঁজে বের করুন, দেখুন কী সাবলীলভাবে আতাউস সামাদ বলেছেন, ‘তোফায়েল সাহেব বিব্রত হতে পারেন…….।’ তোফায়েল মাথা নীচু করে বসেছিলেন। ইরেজার দিয়ে ইতিহাস মোছা যায়না।

    Reply
  2. রাশেদ হাসান

    বি জেড খসরুর বইটির পুরো নাম ‘মিথস অ্যান্ড ফ্যাক্টস: বাংলাদেশ লিবারেশন ওয়ার- হাউ ইন্ডিয়া, ইউএস, চায়না অ্যান্ড দি ইউএসএসআর শেপড দ্য আউটকাম’। এটি বাজারে এসেছে গত ১ নভেম্বর। বিশদ গবেষণার মাধ্যমে লেখক তুলে ধরেছেন বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধের প্রয়োজনীয়তা, যুদ্ধের কারণ, কীভাবে এর বিস্তার ঘটে এবং এর পেছনে বিশ্বশক্তির সম্পৃক্ততা। বইটির শুরুতে লেখক তুলে ধরেছেন, বাঙালি জাতির ওপর প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খানের নির্মম ও নগ্ন হামলার আগে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের প্রতি মার্কিন প্রশাসনের দৃষ্টিভঙ্গি। লেখক বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনের ঘটনাগুলো পর্যায়ক্রমিকভাবে তুলে ধরেন।
    বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ সংক্রান্ত মার্কিন দলিলের ওপর ভিত্তি করে লেখা বইটিতে লেখক প্রচুর তথ্য সন্নিবেশিত করেছেন। তিনি যুদ্ধের আগে ও পরে অনেক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলেছেন এবং সেগুলো বইটিতে অন্তর্ভুক্ত করেছেন। তিনি দেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ সংক্রান্ত প্রচলিত বিভিন্ন গল্প থেকে বাস্তবতাকে পৃথক করেছেন।
    বইটিতে বিশেষ করে লেখা আছে, কী কারণে মুজিব-ইয়াহিয়া আলোচনা ব্যর্থ হয়, কেন নির্বাসিত আওয়ামী লীগ নেতারা ভারতে বসে মার্কিন কূটনীতিকদের সঙ্গে গোপনে দেন-দরবার করেছিলেন, এবং কেন আমেরিকার গোপন দূতিয়ালী ব্যর্থ হয়েছিল। বইটিতে আরো আছে কীভাবে তৎকালীন ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধি কাশ্মীরের ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ আনার জন্যে পশ্চিম পাকিস্তানকে অকেজো করার ঘোষিত যুদ্ধনীতি থেকে সরে এসেছিলেন। খসরু এই বইটিতে দেখিয়েছেন কীভাবে চীন ও তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়ন বঙ্গোপসাগরে মার্কিন রাষ্ট্রপতি রিচার্ড নিক্সনের সপ্তম নৌবহর পাঠানোর সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তাদের কৌশল প্রয়োগ করেছিল।পরিশেষে, লেখক জেনারেল এ কে নিয়াজির ঢাকায় আত্মসমর্পণ সংক্রান্ত রহস্যের উদঘাটন করেছেন। নিয়াজী আত্মসমর্পণের মাত্র দুই দিন আগে আমরণ যুদ্ধ করার ঘোষণা দিয়েছিল। এসব ঘটনায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় কীভাবে প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছিল? স্নায়ুযুদ্ধকবলিত বিশ্বে তখন বৃহত্ রাষ্ট্রগুলোর ভূমিকা কী ছিল? কারা সেদিন বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে ছিল? কারা বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছিল? বিভিন্ন দেশের বই, পত্রপত্রিকা ও দলিলপত্রে এর কিছু বিবরণ ও বিশ্লেষণ আমরা পাঠ করেছি। এ সম্পর্কে বাংলাদেশের রাজনীতিবিদ-লেখক-বুদ্ধিজীবী-গবেষকেরা লিখেছেন, ভারতীয় লেখক-গবেষকেরা লিখেছেন, লিখেছেন পাকিস্তানের রাজনীতিক ও সাবেক সেনা কর্মকর্তারাও। আবার বাংলাদেশের ঘটনায় সম্পৃক্ত ছিলেন এ রকম কয়েকজন বিদেশি কূটনীতিকও বই লিখেছেন। অবমুক্ত হয়েছে মার্কিন দলিলপত্র। এসব তথ্য-উপাত্ত থেকে আমরা ধারণা করতে পারি, একাত্তরে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ আন্তর্জাতিক রূপ নিয়েছিল। পৃষ্ঠা ৪২৮-৩০: ৩১ জুলাই ১৯৭১, আওয়ামী লীগ গণপরিষদ সদস্য কাজী জহিরুল কাইউম কলকাতায় মার্কিন কূটনীতিকদের জানান, আওয়ামী লীগের নেতারা ঘটনাবলিতে উদ্বিগ্ন এবং পাকিস্তানের সঙ্গে একটি রাজনৈতিক মীমাংসায় আসতে আগহী। কেননা ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ বেধে গেলে এবং বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ প্রলম্বিত হলে বামপন্থীরা তা দখল করে নেবে।স্নায়ুযুদ্ধের সেই টালমাটাল সময়ে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকে সামনে রেখে যুক্তরাষ্ট্র, সোভিয়েত ইউনিয়ন, চীন ও অন্যান্য দেশ নিজ নিজ স্বার্থকে বড় করে দেখেছে, সন্দেহ নেই। যারা বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে ছিল, তারা এ থেকে সুবিধা নিতে চেয়েছে, যারা বিরোধিতা করেছে, তারাও। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ব্যাপারে সবচেয়ে বিতর্কিত ও প্রশ্নবিদ্ধ ভূমিকা রেখেছেন প্রেসিডেন্ট রিচার্ড নিক্সন ও তাঁর নিরাপত্তা উপদেষ্টা হেনরি কিসিঞ্জার। তাঁরা পররাষ্ট্র দপ্তরের অনেক সিদ্ধান্ত পাল্টে দিয়েছেন কিংবা বাস্তবায়ন করতে দেননি। তাঁরা বিভিন্ন মিশনে ভুল বার্তা পাঠিয়েছেন। আবার অপছন্দের কূটনীতিককে ফেরত নিয়ে গেছেন (যেমন ঢাকায় নিযুক্ত কনসাল জেনারেল আর্চার কে ব্ল্যাড)। কূটনীতিতে কিসিঞ্জার কখনো কখনো স্ববিরোধী ভূমিকাও পালন করেছেন। তিনি ভারতকে সাবধান করে দিয়ে বলেছেন, ‘বাংলাদেশ হলে তাদের কোনো লাভ নেই। সেখানে বামপন্থীরা জয়ী হলে ভারতেও প্রবেশ করবে।’ চীনকে বলেছেন, ‘দক্ষিণ এশিয়ায় সোভিয়েত প্রভাব বাড়তে দেওয়া হবে না।’ আবার পাকিস্তানকে বলেছেন, ‘পূর্ব পাকিস্তানে তারা নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে পারলে আমেরিকার আপত্তি নেই।’তবে মার্কিন প্রশাসন, পররাষ্ট্র দপ্তর একটি বিষয়ে একমত ছিল যে শেখ মুজিবের বিচার বা মৃত্যুদণ্ড হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবে। বি জেড খসরু অবশ্য মন্তব্য করেছেন, একাত্তরের সূত্রেই খোন্দকার মোশতাক পঁচাত্তরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আস্থা লাভ করেছিলেন। মোশতাক একাত্তরে মার্কিনিদের এই বলে সতর্কও করে দিয়েছিলেন, যুদ্ধ প্রলম্বিত হলে নকশাল বা কমিউনিস্টদের হাতে কর্তৃত্ব চলে যাবে। এই আশঙ্কা ভারত সরকারের একাংশের মধ্যেও ছিল। প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা হেনরি কিসিঞ্জার যখন ভারতীয় রাষ্ট্রদূত ঝাঁর সঙ্গে কথা বলেন, তখন বারবার সোভিয়েত প্রসঙ্গ এসেছে। একপর্যায়ে ভারতীয় রাষ্ট্রদূত নিজেকে আমেরিকাপন্থী প্রমাণের জন্য সব দোষ চাপান প্রধানমন্ত্রীর সোভিয়েতপন্থী সচিব পি এন হাকসারের ওপর। ভারত সরকারের নানামুখী নীতির কথা জানা যায় মঈদুল ইসলামের বইয়েও। বামপন্থীদের ঠেকাতে সে দেশের গোয়েন্দা সংস্থার সক্রিয় সহযোগিতায় মুজিব বাহিনী গঠন করা হয় বলে অভিযোগ আছে। ভারত সরকার একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের অনেক দলিলপত্র নষ্ট করে ফেলেছে। এ ধরনের দলিলপত্র ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। ভারতের যুক্তি, তাদের যুদ্ধকৌশল প্রকাশ না করার জন্যই এটি করা হয়েছে। কিন্তু সেই কৌশল কি পাকিস্তান-ভারত যুদ্ধের, না বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের? যদি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের হয়, এর ওপর আমাদেরও হক আছে।
    তথ্যসূত্র

    ১. শামসুল হুদা চৌধুরী: একাত্তরের রণাঙ্গন, আহমদ পাবলিশিং হাউস, ১৯৮২

    ২. বদরুদ্দীন উমর: পূর্ববাংলার ভাষা আন্দোলন ও তত্কালীন রাজনীতি, মাওলা ব্রাদার্স, ১৯৭৯

    ৩. হাসান হাফিজুর রহমান (সম্পাদিত): ‘পাকিস্তান গণপরিষদ বিতর্ক’, স্বাধীনতাযুদ্ধের ইতিহাস: দলিলপত্র, হাক্কানী পাবলিশার্স, ১৯৮১

    ৪. আর্চার কে ব্ল্যাড: দি ক্রুয়েল বার্থ অব বাংলাদেশ: মেমোয়ার্স অব অ্যান অ্যামেরিকান ডিপ্লোম্যাট, ইউপিএল, ঢাকা, ২০০২

    ৫. ইত্তেফাক, শহীদ সোহরাওয়ার্দী সংখ্যা, ১৯৬৩

    ৬. রেহমান সোবহান: ‘হাউ টু বিল্ড পাকিস্তান’

    ৭. অধ্যাপক নুরুল ইসলাম, ড. বিনায়ক সেনের সঙ্গে সাক্ষাত্কার, ২০০৯

    ৮. সিদ্দিক সালিক: উইটনেস টু সারেন্ডার, অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি প্রেস, ১৯৯৭

    Reply
  3. রাশেদ হাসান

    ভারত প্রথমে পাকিস্তানি বাহিনীর আত্মসমর্পণ নয় বরং যুদ্ধবিরতি চেয়েছিল। কিন্তু আত্মসমর্পণের প্রস্তাব অনুমোদন করে নিয়াজিকে পাঠানো পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খানের একটি বার্তা ভারতীয় গোয়েন্দাদের কাছে পৌঁছার পর থেকে ভারত নিঃশর্ত আত্মসমর্পণের চাপ দেয় পাকিস্তান বাহিনীকে। অন্যদিকে পাকিস্তান বাহিনী ভারতীয়দের কাছে আত্মসমর্পণ করলে জেনেভা কনভেনশন অনুযায়ী সুরক্ষা, অধিকার ও মর্যাদা দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল। বাংলাদেশ তখনো স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে ব্যাপকভাবে স্বীকৃতি পায়নি, জেনেভা কনভেনশনেও সই করেনি। এ কারণে বাংলাদেশের কাছে আত্মসমর্পণে নিয়াজির রাজি না হওয়ার ঝুঁকি ছিল। এসব তথ্য উঠে এসেছে এ বছর ‘দ্য বাংলাদেশ মিলিটারি ক্যু অ্যান্ড দ্য সিআইএ লিংক’ গ্রন্থে। বইটি লিখেছেন যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক লেখক বি জেড খসরু। ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর ঢাকায় সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে পাকিস্তান বাহিনীর আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানে মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক আতাউল গনি ওসমানীর না থাকার কারণ হিসেবে যুদ্ধে কর্তৃত্ব নিয়ে মুজিবনগর সরকার ও ভারতের সঙ্গে তাঁর বিরোধের কথা তুলে ধরা হয়েছে বইটিতে। ওই বিরোধিতার কারণে ওসমানী মুক্তিযুদ্ধের সময় সর্বাধিনায়কের পদ ছাড়ার আবেদন করেছিলেন বলেও উল্লেখ করা হয়। এতে আরো বলা হয়, জেড ফোর্সের কমান্ডার জিয়াউর রহমান মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক ওসমানীকে ওই পদ থেকে সরাতে চেয়েছিলেন। বি জেড খসরু নিউ ইয়র্কে দ্য ক্যাপিটাল এক্সপ্রেসের সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি ‘মিথস অ্যান্ড ফ্যাক্টস বাংলাদেশ লিবারেশন ওয়ার, হাউ ইন্ডিয়া, ইউএস, চীন অ্যান্ড দ্য ইউএসএসআর শেইপড দ্য আউটকাম’ বইয়েরও লেখক। বিক্রির দিক দিয়ে এটি সেরা বই। পাকিস্তান বাহিনীর আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানে ওসমানীর অনুপস্থিতির প্রেক্ষাপট প্রসঙ্গে বি জেড খসরু লিখেছেন, মুক্তিযুদ্ধের শুরুর দিকে প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ সর্বশক্তিমান হয়ে ওঠা তরুণ নেতা শেখ মণি, তোফায়েল আহমেদ, সিরাজুল আলম খান ও আবদুর রাজ্জাককে নিয়ন্ত্রণে রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। কিন্তু ওই উদ্যোগে ক্ষুব্ধ হয়ে ওই নেতারা তাজউদ্দীনের বিরুদ্ধে ক্ষমতা আঁকড়ে ধরার অভিযোগ তোলেন। তরুণ ওই নেতারা ছিলেন বঙ্গবন্ধুর খুব কাছের। তাঁরা নয়াদিল্লির কাছে প্রতিবাদ জানালেন। প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীকে তাঁরা বললেন, শেখ মুজিবকে সরিয়ে তাজউদ্দীন নিজেকে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চাইছেন। এই অভিযোগে উদ্বিগ্ন হয়ে ভারত অনুধাবন করল, বাংলাদেশে স্বাধীনতা আন্দোলন নিয়ে বামপন্থী ও ডানপন্থী ধারার মধ্যে কেবল জোরালো মতানৈক্যই নয়, আওয়ামী লীগের ভেতরেও তিক্ত বিরোধ রয়েছে। এসব বিবেচনায় নয়াদিল্লি উপলব্ধি করে থাকতে পারে, স্বাধীন বাংলাদেশের ওপর কর্তৃত্ব দৃঢ় নাও হতে পারে। মুজিবের ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করার সম্ভাব্য একটি উপায় ছিল, তাঁর (মুজিব) প্রতি নিবেদিত লোকদের দিয়ে বিশেষ বাহিনী গঠন করা। এ অবস্থায় মুজিব বাহিনী গড়ার ধারণা আসে ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’-এর মাথায় । খসরুর মতে, তাজউদ্দীন ও জেনারেল এম এ জি ওসমানী- কেউই ভারতের ওই পরিকল্পনার কথা জানতেন না। ওসমানী এ বিষয়ে প্রথম জেনেছিলেন মেজর ডালিম, ক্যাপ্টেন নূর চৌধুরী ও লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমানের কাছ থেকে। পাকিস্তান বাহিনী ঢাকায় নির্বিচার হত্যা শুরু করার পর পশ্চিম পাকিস্তান থেকে পালানো বাঙালি সেনাদের প্রথম দলটিতে ছিলেন তাঁরা। তাঁরা নয়াদিল্লিতে যাওয়ার পর ভারতীয় সামরিক বাহিনী তাঁদের জানায় যে তাঁদের মুজিব বাহিনীকে প্রশিক্ষণের দায়িত্ব দেওয়া হবে। তাঁরা পালিয়ে কলকাতায় চলে গিয়ে ওসমানীকে বিষয়টি জানান। ওসমানী ভারতের পরিকল্পনা সম্পর্কে জানতে চাইলে তাজউদ্দীন জানান যে তাঁর কোনো ধারণাই নেই। বইয়ে বলা হয়েছে, তাজউদ্দীন পরে বিষয়টি ভারত সরকারের কাছে তোলেন। কিন্তু ভারতের প্রধানমন্ত্রীর তৎকালীন মুখ্য সচিব পি এন হাকসার, ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নীতি পরিকল্পনা কমিটির চেয়ারম্যান ডি পি ধর ও জেনারেল উবান সিং তাঁর ওই উদ্বেগ অগ্রাহ্য করেন। দিল্লি থেকে তিনি ফেরেন হতাশা নিয়ে। তাজউদ্দীন ও ওসমানী মুজিব বাহিনীকে মুজিবনগর সরকারের অধীনে আনার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন।খসরুর দাবি, ওসমানীর ক্ষমতা কমাতে ভারতের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো তাজউদ্দীন ও ওসমানীর মধ্যে বিভেদ সৃষ্টির চেষ্টা চালায়। আনুগত্য জয়ের জন্য সফল ও জনপ্রিয় বাঙালি সামরিক কমান্ডারদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের চেষ্টা চালায়। এসব উদ্যোগ ধীরে ধীরে প্রকাশ হয়ে পড়লে ওসমানী ক্ষুব্ধ হন। ভারতের নির্দেশনা ছাড়াই তিনি তাঁর মতো করে যুদ্ধ পরিচালনা করতে চেয়েছিলেন। এ নিয়ে অস্থায়ী সরকারের একাংশের বিরোধিতার মুখে পড়েন ওসমানী। কলকাতায় একদিন অস্থায়ী সরকারের মন্ত্রিসভা বৈঠকে ওসমানী বিষয়টি তোলেন। তিনি প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীনকে বলেন, ভারত যদি যুদ্ধে হস্তক্ষেপ বন্ধ না করে তাহলে তিনি সর্বাধিনায়কের পদ ছাড়ার কথা ভাববেন। একপর্যায়ে তিনি পদত্যাগপত্র দাখিল করে বৈঠক ছেড়ে বেরিয়ে যান। ওসমানীর অপ্রত্যাশিত এই উদ্যোগে সবাই স্তব্ধ হয়ে যায়। খসরুর বইয়ে উল্লেখ আছে, ওসমানীর পদত্যাগের জন্য ডালিম যে কারণের কথা বলেছেন এর সঙ্গে ভিন্নমত পোষণ করেন আরেক সেক্টর কমান্ডার জেনারেল কে এম সফিউল্লাহ। তিনি বলেন, জিয়াই ওসমানীকে সর্বাধিনায়কের পদ থেকে সরাতে চেয়েছিলেন। জিয়া ওসমানীকে দুর্বল নেতা বলে মনে করতেন। খালেদ মোশাররফও ওসমানীকে সমর্থন করেছিলেন। সফিউল্লাহ জানান, কমান্ডারদের সম্মেলনে খালেদ মোশাররফ বলেছিলেন, ‘কেউ যদি ওসমানীকে অপসারণ করতে চান তাহলে তিনি শারীরিক প্রতিরোধের শিকার হবেন।’
    খসরুর দাবি, কেবল অস্থায়ী সরকার নয়, ভারতীয়দের সঙ্গেও ওসমানীর সমস্যা হয়েছিল। নভেম্বরের প্রথম দিকে ওসমানী যখন কুড়িগ্রামে সম্মুখ সমরে ছিলেন তখন ভারতীয় সেনাবাহিনী বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনীর নিয়ন্ত্রণ নিতে গোপনে আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করেছিল। ওসমানীর কাছে এটি অযৌক্তিক মনে হয়েছিল। তিনি যুক্তি দেখান, ভারতের ইউনিটগুলো বাংলাদেশের বাহিনীগুলোর নেতৃত্বের অধীনে ও বাহিনীগুলোর সঙ্গে ভালোভাবে কাজ করতে পারে। এ নিয়ে রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে তাঁর তীব্র মতবিরোধ হয়। এর প্রতিবাদে তিনি কখনো তাঁর কর্তৃত্ব দেখাননি। ওসমানী সিলেট সেক্টরে চলে আসেন এবং যুদ্ধের শেষ তিন সপ্তাহে তিনি জেড ফোর্সের সঙ্গে মিলে কাজ করেন। তাজউদ্দীন ও ভারতের প্রতি ওসমানীর অসন্তোষ থেকে পাকিস্তান বাহিনীর আত্মসমর্পণের সময় তাঁর অনুপস্থিতির কারণ সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়।

    Reply
  4. সাজ্জাদ

    জনাব দাশগুপ্ত লিখেছেন, “১৫ই আগস্ট ছিল রবিবার। তার ২৪ ঘন্টা আগেই ’ইনশাল্লাহ’ বলে ফানুসটি ছাড়লেন জিয়া।”। শতকরা ৮০ ভাগ মুসলমানের দেশে একজন মুসলমান ’ইনশাল্লাহ’ বলবে- এতে অবাক হওয়ার কি আছে? ’ধর্ম নিরপেক্ষ’ ভারতে ’জয় হিন্দ’ বললে যদি সমস্যা না হয়, তাহলে ৮০% মুসলমানের দেশ বাংলাদেশে ’ইনশাল্লাহ’ বললে সুখরঞ্জন দাশগুপ্তের সমস্যা হয় কেনো? ‘জয় হিন্দ’ বলবো না এবং ’ইনশাল্লাহ’ বলবো বলেই-তো বাংলাদেশের মানুষ ’মুসলমান’ হিসেবে ১৯৪৭ সালে ভারত থেকে আলাদা হয়ে গিয়েছিলো। এমন কি বঙ্গবন্ধু নিজেও-তো উনার ৭ই মার্চের বক্তৃতায় ’ইনশাল্লাহ’ বলেছিলেন- সুখরঞ্জন দাশগুপ্ত কি আমাদের বঙ্গবন্ধুকেও ’ইনশাল্লাহ’ বলার জন্য তুচ্ছ-তাচ্ছিল্ল করলেন? বাংলাদেশের ব্যপারে সারাক্ষণ খালি জঙ্গীবাদ, রাজাকার, পাকিস্তান আর জিয়াউর রহমানের চৌদ্দ গুষ্ঠি উদ্ধার করে খুব বেশী লাভ হবে বলে মনে হয় না। কারন, ১৯৭১ সালের পর প্রায় অর্ধ শতাব্দী সময় পার হয়ে গেছে, দুনিয়া অনেক পরিবর্তন হয়ে গেছে এবং একবিংশ শতাব্দীর ডিজিটাল সময়ে এখন দুনিয়া চলছে। বাংলাদেশের মানুষ এখন আর সেই অর্ধ শতাব্দী আগের ’অশিক্ষিত’ এবং অন্ধ ’আবেগীয়’ অবস্থায় নেই যে, যা খুশি বললাম এবং লিখলাম- বাংলাদেশের জনগন সবকিছু বিশ্বাস করবে এবং মেনে নিবে; ইতিহাস, ইনফরম্যাশন এবং সংখ্যা এখন সবার হাতের নাগালে- হাত বাড়ালেই কয়েক মিনিটের ভীতর সবকিছু চেক করে দেখা যায়। কাজেই, চাপা মারার সময় এখন আর নেই। ভারতের সাথে আমরা অবশ্যই বন্ধুত্ব চাই এবং আমাদের ভৌগলিক অবস্থানের কারনেই ভারতের সাথে আমাদের যেমন গাঢ় বিশ্বাস এবং বন্ধুত্বের সম্পর্ক অপরিহার্য, তেমনি ভারতেরও সেই কারনে বাংলাদেশের সাথে গাঢ় বিশ্বাস এবং বন্ধুত্বের সম্পর্ক অপরিহার্য। কিন্তু সেই বন্ধুত্ব হবে পারষ্পরিক সম-অধিকার, ন্যায্য হিসাব এবং উভয়ের প্রতি উভয়ের সমান সন্মানের ভিত্তিতে। ভুটান, নেপাল, মালদ্বীপ এবং সিকিমের সাথে ভারতের যে রকম ’বন্ধুত্বের’ সম্পর্ক, সেই রকম একপেশে সার্থের বন্ধুত্ব আমরা চাই না এবং বাংলাদেশের মাটিতে সেটা কত টুকু সম্ভব হবে, তা ভারতকে ভেবে দেখতে হবে। ভারতকে অবশ্যই ভেবে দেখতে হবে যে, বাংলাদেশের ইতিহাস ভুটান, নেপাল, সিকিম বা মালদীপের মতো না। বাংলাদেশের ইতিহাস হলো- ’হয় মারো, নয় মরো’ এর ইতিহাস। কাজেই, বুঝে-শুনে না আগালে বিপদ আছে। ১৯৭৫ সালের ১৫ই অগাস্টে বাংলাদেশে যা ঘটেছে, সেটা শুধু একটা দূর্ঘটনা বা গোটা-কয়েক সামরিক অফিসার এবং রাজনীতিবিদদের কু’কাজ বলে উপসংহার টানলে ভুল হবে। সেই ঘটনা থেকে আমাদের রাজনৈতিক দলগুলোর যেমন অনেক কিছু শিক্ষনীয় আছে, তেমনি, প্রতিবেশী দেশগুলোরও বাংলাদেশ এবং বাংলাদেশের মানুষ সম্পর্কে শিক্ষনীয় অনেক কিছু আছে। সেই শিক্ষা নিলে ভালো- না নিলে সামনের দিনের ইতিহাস সেটা রচনা করবে। আগুন নিয়ে খেলার পরিনতি কখনো ভালো হয় না।

    Reply

Leave a Reply to সাজ্জাদ Cancel reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। প্রতিক্রিয়া লেখার সময় লক্ষ্য রাখুন--

  • ১. স্বনামে বাংলায় প্রতিক্রিয়া লিখুন।
  • ২. ইংরেজিতে প্রতিক্রিয়া বা রোমান হরফে লেখা বাংলা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না।
  • ৩. প্রতিক্রিয়ায় ব্যক্তিগত আক্রমণ গৃহীত হবে না।

দরকারি ঘর গুলো চিহ্নিত করা হয়েছে—