গত পাঁচ বছরে কোটিপতির সংখ্যা বেড়েছে প্রায় ৩৬ হাজার। ব্যাংকগুলোতে জমা থাকা এবং আগাম অর্থের হিসাবে দেশে কোটিপতির সংখ্যা ১ লাখ ১৪ হাজার ২৬৫ জন।

আশংকাজনকভাবে কোটিপতির সংখ্যা বাড়ছে দেশে। হুম, আশংকাজনক ই বলবো। কারণ আর্থিক প্রগতি কোটিপতির সংখ্যা দিয়ে বিবেচনা করা হয় না। আমরা জানি দুনিয়ার অনেক দেশে কোটিপতি উপচে পড়ছে। কিন্তু সেখানে শান্তি নাই। সাউথ আফ্রিকার মতো দেশে আপনি একা সন্ধ্যায় বের হলে কোন বিপদে পড়বেন বলা মুশকিল। মানিব্যাগ কেড়ে নেবে না চাকুর শিকার হয়ে জান হারাবেন কেউ জানে না। জানেন নিশ্চয়ই ব্রাজিলে দেয়াল আছে। সমাজ ব্যবধানের দেয়াল। সাল পাওলোর একদিকের জনগণ আরেকদিকে যেতে ভয় পায়। একদিকে ধনীদের স্বর্গ। আরেকদিকে মধ্যবিত্ত গরীবের হাটখোলা। এমনও আছে একদিকের মানুষ যায় আরেকদিকে বডিগার্ড নিয়ে। এটাই দস্তুর। এমন কোটিপতি তার দেশেও ভালোভাবে নিরাপদে থাকতে পারে না। সেদিক থেকে আমরা কিছুটা হলেও ভালো আছি। কিন্তু জানেন কি কিভাবে সমাজে মোটামুটি সাম্য বজায় আছে দেশে? আমি বলি ধর্ম এখানে নিয়ামকের কাজ করছে। যদি পরকালে বিশ্বাস না থাকতো যদি গরীব না জানতো ভালো কাজ করলে বেহশতে যাওয়া যায়, অতপর ভালো জীবন পাওয়া যায় আমি নিশ্চিত এতদিনে রক্তের বন্যা বয়ে যেতো হয়তো। তারা ধৈর্য ধরে আছে সে জীবনের আশায়।

তারপরও কত মনখারাপের ঘটনা ঘটে। একদিকে সেতু উড়ালপুল রাস্তায় উন্নয়নের ছড়াছড়ি। আকাশচুম্বি দালানের সমারোহ। ঢাকার ভবনগুলো চোখ ধাঁধানো। এদের সৌন্দর্য বিদেশের ভবনগুলোকেও হার মানায়। অথচ এরসাথেই আছে বস্তি। আছে হাহাকার। হুমায়ূন আহমেদ নাই ঢাকার ফুটপাতে ষ্টেশানে বাস টার্মিনালে লঞ্চঘাটে রাতে শুয়ে থাকা মানুষগুলোর ছবিও কেউ তোলে না। তুললে বোঝা যেতো এখনো অনেক ফাঁক। অনেক ব্যবধান। এই যে লিচু খাওয়াতে না পেরে এবং ঈদে জামা কিনে দিতে না পারার জন্য পিতা তার দু কন্যাকে গলাটিপে হত্যা করেছে। এমন একটা খবর দেখলাম জাতীয় মিডিয়ায়। ঘটনা সত্য হলে এটা মারাত্মক আর বড় বেদনার খবর। আমরা তো জানি যে, দেশ আর্থিকভাবে তরতর করে এগিয়ে চলেছে। ইফতারের যেসব খবর বা ছবি ছাপা হয় সেগুলো দেখলে তো এই বিদেশেও নিজেদের ফকির মনে হয় আমাদের। দেশের টিভি চ্যানেলে এমনও দেখি রোজ নানা রেঁস্তোরায় গিয়ে হানা দিচ্ছে মিডিয়ার মানুষ। দোকানীরা বেশ আদবের সাথে জানাচ্ছে, আরে না না। দাম বেশী না মাত্র হাজার বারশ টাকা দিলেই আপনি পাবেন একশ পদের ইফতার। সেসব ইফতারে লিচু থাকে। খেতে খেতে ক্লান্ত মানুষের অনেকে লিচু ফেলেও যায় তারপরও এক দরিদ্র পিতা লিচুর জন্য কন্যার জান নিলো এটা কেমন কথা? খবরটা মিথ্যা হোক এটাই আশা করি।

কিন্তু এমন খবর কি একটা? আমার জানামতে এমন সব মানুষ আছেন যারা এখনো সারাদিন রোজা রাখার পর কোন রকমে ইফতার করে রোজা ভাঙেন। মধ্যবিত্তদের অনেকে মাসে একটা দিন হয়তো ভালো কিছু ম্যানেজ করে বাকী সব কটা দিন খুব সাধারণ খাবার খায় তারা। এই যে ইফতারের দাওয়াত বড় বড় ভবনে মেহমানদারী এগুলো কমিয়ে এনে একদিন সে টাকায় দেশের সব গরীব শিশুদের লিচু খাওয়ানো যায় না? এতে আর যাই হোক লিচুর জন্য হত্যা এমন নিউজ তো আর হবে না। একদিন কি সবাইকে ডেকে সাধারণ পোশাক দেয়া যায় না? যেসব গার্মেন্টস মালিকরা বিদেশে ঈদ করবেন তারাও তা করতে পারেন। কত আর একসপ্তাহ বিদেশ সফরের খরচ হয়তোবা।

বেদনা আরও প্রগাঢ় হয় যখন নামকরা মানুষজন সুশীলরা বড় বড় জায়গায় দাওয়াত পেয়ে ইফতারীতে যাবার আগে সবাইকে মনে করিয়ে দিতে থাকেন এই যে যাচ্ছি। আপনি তো যেতে পারলেন না। বা যারা সেসব খাবার কোনোদিন খেতে পারবেন না তাদের ফটো দেখিয়ে প্রলুব্দ করে তোলেন। সাম্য মানবতা সমবেদনা বা অংশীদার হয়ে দুঃখ কষ্ট ভাগ করার কথা কি সব মুখে মুখে? বলছিলাম হতভাগ্য পিতার কথা। হয়তো ঘটনাটা সত্য হয়তো পিতা অভাবে অভাবে মানসিক রোগী বলে এমনটা করেছে। তারপরও এতো নিদারুণ। এইতো দুদিন ও হয়নি কাজী নজরুলের জন্মদিন পালন করলাম আমরা। কি ভয়ংকর স্বপ্নদ্রষ্টা কবি রা। কবেই লিখে গেছেন “লিচু চোর” কবিতা। আমরা কি লিচু চুরি করে সন্তানদের খাওয়ানোর সমাজ দেখতে চাই আসলে?

উন্নতির সাথে সাথে ব্যবধান কমার কাজ কি হচ্ছে? সবকিছু কেমন যেন গোলমেলে। মানুষের নাকি টাকার অভাব নাই। আবার যখন যাকাত দেয়ার সময় আসবে আমরা কি নিশ্চিত যে পদদলিত মানুষের লাশ দেখবো না আমরা? আমরা কি দেখবো না দরিদ্র মানুষ ফটকে মাথা ঠুকছে একটা প্যাকেটের জন্য? বা একটা জামার জন্য হাত বাড়িয়ে আছে অজস্র কিশোর কিশোরী। এই দৃশ্য উন্নয়নের সাথে যায় না। মানতে হবে দেশে কোটিপতি বাড়ছেই। কিন্তু তারা কারা? মনে আছে পাকিস্তান আমলের কথা। পশ্চিম পাকিস্তানের নেতা পূর্ব পাকিস্তানে এসে হাভাতে মানুষ দেখে বলেছিলেন: ইয়ে আদমীলোগ ভাত কি লিয়ে এয়স্যা কিউ করতা? ভাত নাই তো পোলাও খাও টাইপের সাজেশান দিয়ে হাসির খোরাক যোগানো সে নেতার দেশের হাল বড় খারাপ এখন। সে তুলনায় আমরা কাগজে কলমে এগিয়ে। কিন্তু সমাজ এখনো মাথা তুলতে পারেনি। সত্যি পারেনি। সংস্কৃতি বিনোদন সাহিত্য খাবার পোশাক সবকিছুতে কি চলছে কেন চলছে কেউ জানে না। তারপর ও মানুষ চুপ। কারণ মানুষ খেয়ে বেঁচে আছে। আর বললেই বা শুনছে কে? বলবেই বা কার মাধ্যমে তারা বার্তা পাঠাবে?

তারচেয়ে ঢের ভালো সবাই মিলে মাঝামাঝি ভালো থাকা। সবাইকে নিয়েই তো সমাজ। এত স্বার্থপর আপনস্বার্থে মগ্ন কোটিপতি নিয়ে দেশ কি করবে? যারা কথায় কথায় বিদেশ যায়, যাদের ভ্রমণ আনন্দ বাজার চিকিৎসা সব বিদেশে আর উপার্জনের জন্য দেশ- তাদের দিয়ে কি দেশের কিছু হয়? বঙ্গবন্ধু হোক তাজউদ্দীন হোক বিজ্ঞানী হোক সাহিত্যিক হোক খেলোয়াড় হোক আর বেকার হোক সে হোক দেশের মাটিতে গড়া দেশের মানুষ। বিদেশের বাঙালিদের যারা দুচোখে দেখতে পারেন না তাদের বলি প্রবাসীদের বেশীরভাগই বরং দেশ দেশ করে অস্হির। আর দেশের ধনী কোটিপতিদের স্বর্গ স্বপ্ন আদর্শ বিদেশ। এমন কোটিপতির বদলে সবার জন্য মায়াময় একটা সমাজ কামনাতেই স্বাধীন হয়েছিল বাংলাদেশ। আমরা কি সে জায়গা থেকে সরে যাচ্ছি ক্রমশ??

অজয় দাশগুপ্তকলামিস্ট।

Responses -- “এত কোটিপতি দিয়া দেশ কি করিবে? ”

  1. আশিকুর রহমান

    এভাবেই লিখতে হবে প্রতিনিয়ত কারন, যে ভাবেই হোক আমরা কিছুটা হলেও ইনফরমেশন জানতে পারছি । আমার মতে সমাজ পরিবর্তনের মুল সমস্যাটা এখানে উল্লেখ করা হয়েছে । আমাদের সমাজের মুল সমস্যা এখানেই, মুখে যা বলি বাস্তবে তা পালটে যায় ।মানুষ সহানুভুতি প্রকাশ করতে ভুল করেনা কিন্তু এই সহানুভুতি প্রকাশ করা মানুষ গুলোই আবার রাস্তায় মানুষ পিষে রক্ত চুষছে ! একটা উদাহরন হল, যারা দুর্নীতি নিয়ে কথা বলে তারা কি একবারও ভেবে দেখেছেন ? ঢাকা শহরে যারা বাড়ি বা ফ্লাট বানিয়েছেন তাদের কি সব বাড়ি সঠিক ভাবে , হালাল রুজি করে বানানো সম্বব ? ঢাকায় হোক সরকারী বা প্রাইভেট তাদের থাকা খাওয়া বাদ দিয়ে কি খুব বেশি আয় করা সম্বব ? আর তা দিয়ে কি রাতা-রাতি ,বারি – গাড়ী কেনা যায় ? উত্তরটা যদি- না হয় , তাহলে আমাদের কাছে তো সব বাড়ী অলার তথ্য আছে , কেন পারিনা , প্রতিটি বাড়ি বানানোর পেছনের ইতিহাস প্রকাশ করতে কেন আমাদের এতো ভয় ? তাহলে কি আমার তথ্যও পাশ হবার ভয়ে আছি ???? আমাদের ইনকাম টেস্ক জমা করার জন্য রেদিও, টিভি, খবরের কাগজ বড় করে প্রকাশ করতে হয়, অথচ যিনি তেস্ক না দিয়ে টেস্ক সাটিত্তফিকেট নিয়েছেন তাকে কোন মাধ্যমেই খবরটা দেওয়া কি অত্যন্ত কঠিন ? আমরা পারিনা, আর পারিনা এই ভয়ে যে আমার কাজ আমি করেছি কিনা তাই জানিনা ।

    Reply
  2. শরিফ উদ্দীন

    এরকম অনেকেই লিখছেন আজকাল। কিন্তু যাদের পড়ার কথা, যারা মালাটা গলায় পরাতে পারেন; তারা কি আদৌ এই লেখা পড়বে বা আন্দোলিত হবে? হবেনা। এসব লিখে কোন কাজ হবে না। ক্ষমতায় কোন জ্ঞানী ব্যক্তি্ নেই, তারা জ্ঞানীকে থোড়াই কেয়ার করেন। আপনাদের প্রজন্ম সেই সুখ উপলব্ধি করতে পারবেন কিনা জানিনা।যাইহোক গুটিকয়েক মানুষ পড়ল, কেউ কেউ দু’মিনিট ভাবলো, হয়ত এভাবেই একদিন বিপ্লব আসবে, খুব গহীন থেকে। আসলে ক্ষমতা যতই ক্ষণস্থায়ী এবং হাস্যকর হোক, ক্ষমতাধারীর মনে তা খুব তীব্র উত্তেজক প্রভাব ফেলে। এই উত্তেজনার বশে তরুণ মন ধরাকে সরা জ্ঞান করে, তার সামনে তখন থাকে দু ধরনের মানুষ এক, শত্রু যাকে নিশ্চিহ্ন করতে হবে; দুই, কৃপাপ্রার্থী পরাজিত শত্রু। এই একই উত্তেজনা আবার কামবর্দ্ধকও বটে। ক্ষমতার উত্তেজনার সঙ্গে যৌন উত্তেজনারও একটি নিবিড় সম্পর্ক মনস্তাত্বিকরা খুঁজে পান। ‘৭১ এ দেশ স্বাধীনতা এল অনেক রক্তের বিনিময়ে।সাথে এল পেন্ডোরার বাক্স। ডালা হাল্কাভাবে আট্কানো চিল।গদিনশীনদের কারসাজিতে প্রবল প্রতাপ সহ্কারে অব্মুক্ত হল ভেতরের জীবানুগুলো।কিচু মানুষ সব স্বাধীনতা পেয়ে গেল।তারা সব কিচু লুটে নিতে লাগল।অল্প কিচুদিনের মাঝে খূন,ধরষন, রাহাজানীতে ভরে গেল দেশ।মূল্যবোধের অবখ্ষ্য় হল, কলুষিত হল সামাজিক পরিবেশ,সবকিচুতে ঢুকিয়ে দেয়া হল রাজনীতি,দূষনে ভরে গেল শিষ্খাণঙগন। লেখাপড়া পাটে গেল,শুরু হল অস্ত্রবাজি। যে ছাত্ররা দেশের ভবিষ্যৎ, যারা আইনের শাসনের কথা বলবে, যারা মানবতার সপক্ষে যুক্তি তুলে ধরবে, যাদের থেকে দেশের সাধারন মানুষ ভদ্রতা, সভ্যতা শিখবে, সে ছাত্র নামক কিছু পাষন্ড যখন ছাত্র রাজনীতি নামের ভয়ানক এক অপকৌশলের মাধ্যমে দেশের সমগ্র শিক্ষা ব্যবস্থাকে কলঙ্কিত করে দিচ্ছে, আমাদের দেশের সম্ভাবনাকে ব্যাহত করছে, সেই ছাত্ররাজনীতি আমাদের কেন দরকার? আমরা দেশের জন্য এত নীতি, এত আইন, এত কানুন তৈরি করতে পারি, আর এই ভয়ানক অপকৌশলকে আইন করে থামাতে পারছি না কেন? আমার শুধু মনে হয়েছে, সরকার কি এদের কাছে অসহায় ? একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে এরকম ঘটনা কেমন করে ঘটতে পারে? বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আর সন্ত্রাসীদের মথ্যে পার্থক্য রইল কোথায়? বঙ্গবন্ধুর আদর্শের বর্তমান এই সরকারকে অনুরোধ করবো যেন দ্রুত ছাত্ররাজনীতি নামের এই অপকৌশলকে থামানোর ব্যবস্থা করেন আর দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে বাঁচিয়ে তুলেন। সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ে যে গোলাগুলি, হল দখল, চারতলা থেকে ছুঁড়ে ফেলা, সবুজ ঘাসের বিছানায় অচেতন হয়ে বিক্ষিপ্তভাবে শুয়ে থাকার ঘটনা ঘটলো তা বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়, ছাত্ররাজনীতির একটা ধারাবাহিক উত্তরাধিকার। এই উত্তরাধিকার কর্কটরোগাক্রান্ত এবং সবার স্বার্থেই একে উৎপাটন করতে হবে। ছাত্ররা যত খুশি রাজনীতি করুক কিন্তু সেটা তারা করবে দেশের সচেতন শিক্ষিত সমাজের অংশ হিসেবে, ছাত্র হিসেবে নয়, নয় কোন রাজনৈতিক দলের অঙ্গ সংগঠনের সদস্য হিসেবে। এজন্য প্রথমেই প্রয়োজন খুঁটিতে বাঁধা দড়িটাকে সরিয়ে ফেলা। কিন্তু সরাবেটা কে? বর্তমান সরকার যেহেতু মৌখিকভাবে তাদের অসংগঠনকে পরিত্যাজ্য ঘোষণা করেছে এবং সংসদেও তাদের বিপুল সংখ্যাধিক্য। এই সুযোগে একটা আইন করে কি লেজুড়বৃত্তির ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ করা যায় না? লেজুড়বৃত্তির রাজনীতির বিকল্প হিসেবে যে রাজনীতি বিশ্ববিদ্যালগুলোতে চালু হতে পারে তা হলো বিষয় কিংবা কর্মকান্ডভিত্তিক বিভিন্ন সংগঠনের রাজনীতি। এই সব সংগঠন হবে বহুলাংশে স্বায়ত্বশাসিত, এদের প্রত্যেকের জন্য থাকবে প্রয়োজন মাফিক অর্থ বরাদ্দ; এদের পরিচালনা কমিটি হবে নির্বাচনের মাধ্যমে কিংবা সর্ব সম্মতি ক্রমে, এবং প্রত্যেক সংগঠনের পরামর্শক হিসেবে থাকবেন একজন শিক্ষক। এই সব সংগঠন হতে পারে বিচিত্র বিষয়ক, যেমন সমাজসেবা, সংস্কৃতি, রাজনৈতিক পর্যালোচনা, কম্পিউটার, বিজ্ঞান, নাটক, সিনেমা, আলোকচিত্র ইত্যাদি। এমনকি বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক কার্যক্রম পর্যালোচনা এবং ছাত্রদের বিষয়ে পরামর্শদানের কিংবা হলের ব্যবস্থাপনায় সীমিত আকারে অংশগ্রহণের জন্যও সংগঠন থাকতে পারে। পড়াশোনাকে মুখ্য ভূমিকায় রেখে লেখাপড়ার বাইরে ছাত্রদের এইসব কার্যক্রমে নিয়োজিত রাখলে তারা মোটামুটি দায়িত্বশীল মানুষ হিসেবে ছাত্রত্ব শেষ করে কর্মজীবনে প্রবেশ করতে পারবে। আমার এক স্বনামধন্য শিক্ষক বলতেন বিশ্ববিদ্যালয়ে যে হারে মারপিট হয় তাতে একজন ছাত্র কোনো রকমে বেঁচে জীবন নিয়ে পার হতে পারলেও সেশন জটের কারণে যৌবন নিয়ে বেরুতে পারে না। খুঁটির রাজনীতি যদি উৎপাটন করা যায় তাহলে সে তার জীবন যৌবন জয় নিয়েই বেরুতে পারবে কারণ তখন ভর্তি-বাণিজ্য, টেন্ডারবাজী, চাঁদাবাজী, ফেরেববাজী ইত্যাদির রাজনীতি উৎপাঠিত হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দেবে। ছাত্রত্বের সঙ্গে এই “বাজী” প্রত্যয় নিতান্তই বেমানান। একমাত্র রাজনৈতিক নেতৃত্বের সদিচ্ছা ও শুভ বুদ্ধির জয় হলে এবং শিক্ষক নেতৃত্বেও তা সঞ্চারিত হলে ছাত্র সমাজ এই নষ্ট প্রত্যয় থেকে মুক্ত হতে পারে।

    Reply
  3. সুমন তালুকদার

    পৃথিবীর অন্যতম দূর্নীতিবাজ দেশে কোটিপতি বাড়বে এটাই তো স্বাভাবিক। উন্নয়নের বালিশ দিয়ে মানুষের মুখ চেপে ধরেছে আপনার দল, কেউ কিছু বলতে পারে না লিখতে পারে না ভয়ে। হায়রে উন্নয়ন হায়রে দুর্নীতি!

    Reply
  4. সৈয়দ আলি

    কেন? এতো কোটিপতি দিয়া আমরা দেশে উন্নয়নের কীর্তিগাঁথা রচিবো! পাকিস্তানি ২২ পরিবারের বদলে ২২০০০ হাজার কোটিপতি তো উন্নয়নের প্রসবিত সন্তান। মাইন্ড করেন কেনো?

    Reply

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। প্রতিক্রিয়া লেখার সময় লক্ষ্য রাখুন--

  • ১. স্বনামে বাংলায় প্রতিক্রিয়া লিখুন।
  • ২. ইংরেজিতে প্রতিক্রিয়া বা রোমান হরফে লেখা বাংলা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না।
  • ৩. প্রতিক্রিয়ায় ব্যক্তিগত আক্রমণ গৃহীত হবে না।

দরকারি ঘর গুলো চিহ্নিত করা হয়েছে—