আগেই বলে রাখছি আজকের লেখাটি পড়ে কারো কারো মন খারাপ হতে পারে। শুধু মন খারাপ নয়, কেউ কেউ বিরক্ত হতে পারেন এমনকি রাগও হতে পারেন। তবে আমি যেহেতু পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় পদ্ধতির মাঝে প্রায় দুই যুগ কাটিয়ে দিয়েছি তাই আমি অনেক কিছু বুঝতে পারি যেটি হয়তো বাইরের একজন দেখেও বুঝতে পারবে না। তাই মাঝে মাঝে বিশ্ববিদ্যালয় পদ্ধতি নিয়ে কিছু একটা লেখার ইচ্ছা করে!

মনে আছে, বেশ কয়েক বছর আগে আমি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে বলেছিলাম, আমাদের দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলো আসলে মৃত্যু পথযাত্রী, সেটা জেনে শুনেও আমরা তার হাত ধরে বসে আছি, শুধুমাত্র তার মৃত্যু যন্ত্রণা একটুখানি কমানোর জন্য! আমি জানি এটি অত্যন্ত নিষ্ঠুর একটা বক্তব্য- অনেক দুঃখে এরকম একটা বক্তব্য দিয়েছিলাম। তারপর অনেক বছর কেটে গেছে, আমি যদি এখন নিজেকে সেই একই প্রশ্ন জিজ্ঞেস করি তাহলে আমি কী উত্তর দেব? পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের সেই ভয়ংকর দুঃসময় কি কেটে গেছে? এখন কি আমরা বলতে পারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো সত্যিকারের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে মাথা তুলে দাড়াতে শুরু করেছে?

প্রথমেই দেখি আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো সম্পর্কে বাইরের পৃথিবী কী বলে? কিছুদিন আগে অস্ট্রেলিয়া গিয়েছিলাম, সেখানে আমাদের ছাত্র ছাত্রীরা আমাকে ভয়াবহ একটা তথ্য দিয়েছে। আমাদের দেশের দুই একটি বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়া অন্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর স্নাতক ডিগ্রীটাকেও তারা স্বীকার করে না। সেটাকে একটা ডিপ্লোমার সমান ধরে নেয়। কী লজ্জার কথা! এই লজ্জার জন্য নিশ্চয়ই বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র শিক্ষক দায়ী না— এর জন্যে দায়ী হচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এবং বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন! অস্ট্রেলিয়া থেকে আমাদের দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো সম্পর্কে জানতে চেয়েছিল, সেই তথ্য পাঠানো হয়নি। ব্যক্তিগতভাবে আমরা কেউ একজন সেই তথ্য পাঠিয়ে দিলে হবে না। যাদের দায়িত্ব তাদের পাঠাতে হবে এবং শুধু একবার পাঠিয়ে নিশ্চিন্ত হলে হবে না, যতক্ষণ পর্যন্ত বিষয়টি নিস্পত্তি না হচ্ছে ততক্ষণ এর পিছনে লেগে থাকতে হবে। দরকার হলে অস্ট্রেলিয়ার বাংলাদেশ হাই কমিশনকে এর জন্যে একটু কাজ করতে অনুরোধ করতে হবে!

সেগুলো করা হয়নি। শুধু যে অস্ট্রেলিয়া আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের লেখাপড়াকে কোনো গুরুত্ব দিচ্ছে না তা নয়, সারা পৃথিবীর র‌্যাংকিংয়েও প্রথম কয়েক হাজারের মাঝে আমাদের কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম নেই। সেটা নিযে খুব হইচই হচ্ছে বলে শুনেছি। (আমাদের দেশে দুটি ভিন্ন জগৎ রয়েছে একটি হচ্ছে সোশাল মিডিয়ার ভারচুয়াল জগৎ আরেকটি হচ্ছে পত্রপত্রিকা এবং টেলিভিশনের বাস্তব জগৎ। আমি সজ্ঞানে সিদ্ধান্ত নিয়ে ভারচুয়াল জগৎ থেকে দূরে থাকি তাই সেখানকার তাপ উত্তাপ টের পাই না। সেই তাপ উত্তাপের ছিটেফোটা যখন খবরের কাগজে এসে হাজির হয় তখন আমি সেটা জানতে পারি !) এবারেও তাই, অনেকদিন পর যখন পরিচিত সাংবাদিকেরা এই বিষয়ে আমার মতামত জানতে চাইতে শুরু করেছে তখন আমি এই র‌্যাংকিং নিয়ে হইচইয়ের কথা জানতে পেরেছি।

ষোল কোটির দেশের সবচেয়ে ভালো ছেলেমেয়েরা সারা পৃথিবীর সবচেয়ে ভালো ছেলেমেয়ে, শিক্ষকেরা সারা পৃথিবীর সবচেয়ে ভালো শিক্ষক। কাজেই তারা যে ইউনিভার্সিটির ছাত্র এবং শিক্ষক সেই ইউনিভার্সিটিগুলো পৃথিবীর প্রথম কয়েক হাজারের ভেতর নেই এই তথ্যটি কোনোভাবেই সঠিক তথ্য নয়। কিন্তু যেহেতু র‌্যাংকিংয়ে কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না বুঝতে হবে কোথাও আমরা কিছু গোলমাল করেছি। অনুমান করছি কোনো এক ধরনের র‌্যাংকিংয়ে বিবেচিত হতে হলে যে প্রক্রিয়ায় সেই তথ্য পাঠাতে হয় আমরা নিশ্চয়ই সেভাবে সেই তথ্য পাঠাইনি তাই আমরা বিবেচনার মাঝেই আসছি না! যেহেতু সারা দেশে এটা নিয়ে হইচই হচ্ছে এবং বিশ্ববিদ্যালয়গুলো মুখ কাঁচুমাচু করে নানা রকম কৈফিয়ত দিয়ে যাচ্ছে তাই আমি মনে করি এখন সময় হয়েছে আমাদের র‌্যাংকিংয়ে অবস্থানগুলো জানার। প্রতি বছর সারা পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ বিশ্ববিদ্যালয়গুলো থেকে ছাত্রছাত্রীরা আন্তর্জাতিক প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়। সেই প্রথম একশ থেকে একশ পঞ্চাশটি বিশ্ববিদ্যালয়ের মাঝে আমাদের একাধিক বিশ্ববিদ্যালয় নিয়মিতভাবে অংশ নিচ্ছে কাজেই আমরা সারা পৃথিবীর মাঝে নিজেদের র‌্যাংকিং নিয়ে হীনমন্যতায় ভুগব সেটা তো হতে পারে না !

তবে আমি খুব মজা পেতাম যদি দেখতাম আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো বুক ফুলিয়ে বলতো, “আমরা এই র‌্যাংকিংয়ের থোড়াই কেয়ার করি! আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে অমুক অমুক গবেষক নোবেল প্রাইজ পেয়েছেন, প্রতি বছর এতো হাজার পেপার প্রথম শ্রেণির জার্নালে প্রকাশিত হয়, এতোগুলো পেটেন্ট ফাইল করা হয়। অমুক অমুক শিক্ষক আন্তর্জাতিক মানের, তারা অমুক অমুক জার্নালের এডিটরিয়াল বোর্ডের সভাপতি, প্রতি বছর আমাদের এতো হাজার পি. এইচ. ডি. বের হয়, এতোগুলো দেশ থেকে এতোজন ছাত্রছাত্রী নিয়মিতভাবে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে আসে। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এতোগুলো হাইকেট কোম্পানী স্পিন অফ কার বের হয়েছে, এখন তারা এতো বিলিয়ন ডলারের কোম্পানী, সেখানে এতোজন গবেষক ইঞ্জিনিয়ার কাজ করে, ইত্যাদি ইত্যাদি!” দুর্ভাগ্যক্রমে আমরা এগুলো কিছুই বলতে পারছি না তাই সোশাল মিডিয়া এবং খবরের কাগজ গালমন্দ অপমান সহ্য করতে হচ্ছে! (আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সার্চ ইঞ্জিন সংক্রান্ত একটা কোম্পানী স্পিন অফ করে বের করার চেষ্টা করা হয়েছিল। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্তৃপক্ষ সরাসরি না করে দিয়েছে। যখন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের সাথে যোগাযোগ করা হয়েছে তারা জানিয়েছে আগে যেহেতু কখনো এ ধরনের কিছু করা হয়নি তাই তারা কিছুই বলতে পারছে না! যারা জানেন না তাদের জন্য বলছি গুগল হচ্ছে স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটি থেকে স্পিন অফ করা একটি কোম্পানী। সারা পৃথিবীতে যেটাকে সাফল্য হিসেবে দেখা হয় আমাদের দেশে সেটাকে এখনো একটা দুই নম্বুরী কুমতলব হিসেবে বিবেচনা করা হয়! কাজেই পৃথিবীর সমান সমান চিন্তাধারায় পৌছাতে আমাদের আরো বেশি কিছুদিন অপেক্ষা করতে হবে! তারপর না হয় র‌্যাংকিং নিয়ে মাথা ঘামাব!)

যাই হোক, দেখাই যাচ্ছে বাইরের পৃথিবীর সামনে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো ধর্তব্যের মাঝেই নেই, কিন্তু আমাদের নিজেদের মূল্যায়ন কী? একটা বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বময় হর্তাকর্তা হচ্ছেন ভাইস চ্যান্সেলর। তাদের কী পরিমাণ ক্ষমতা সেটি বাইরের মানুষের পক্ষে কল্পনা করা পর্যন্ত সম্ভব নয়। যদিও বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনা করার জন্য নানান ধরনের কমিটি থাকে কিন্তু ভাইস চ্যান্সেলররা চাইলে সেগুলো এমনভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন যে সেই কমিটির কেউ মুখ পর্যন্ত খুলতে পর্যন্ত সাহস পাবেন না! যে একাডেমিক কাউন্সিল শেষ হতে রাত দুপুর হয়ে যেতো সেগুলো আধা ঘন্টায় শেষ হয়ে যায় সেরকম উদাহরণও আছে!

যেহেতু একটা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভালোমন্দ, লেখাপড়া, গবেষণা ভবিষ্যৎ একজন ভাইস চ্যান্সেলরের ওপর সাংঘাতিকভাবে নির্ভর করে তাই মোটামুটি ঢালাওভাবে বলে দেওয়া যায় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ভাইস চ্যান্সেলরদের যদি ঠিকভাবে নিয়োগ দেওয়া হয় তাহলে সেগুলো ভালোভাবে চলবে। এখন প্রশ্ন বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ভাইস চ্যান্সেলরদের কী ঠিকভাবে নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে?

আমি নিজের কানে শোনা দুইজন ভাইস চ্যান্সেলরের দুইটি উক্তির কথা বলি। একজন সরাসরি আমাকে বলেছেন, “যদি কোনো ভাইস চ্যান্সেলর দাবী করে সে কোনো ধরনের লবিং না করে ভাইস চ্যান্সেলর হয়েছে তাহলে বুঝতে হবে হি ইজ এ ড্যাম লায়ার (সে হচ্ছে চরম মিথ্যাবাদী!)” আরেকজন ভাইস চ্যান্সেলর দায়িত্ব নেওয়ার পর তার আগের ভাইস চ্যান্সেলর সম্পর্কে বলেছেন, “তিনি এই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কম পক্ষে ত্রিশ কোটি টাকা নিয়ে গেছেন!” শুনে আমার চোখ কপালে উঠে গেছে!

কেউ যেন আমাকে ভুল না বোঝেন, আমি মোটেও দাবী করছি না আমাদের সব ভাইস চ্যান্সেলর এরকম। কিন্তু আমি অবশ্যই যথেষ্ট ক্ষোভের সাথে বলছি, যদি একজন ভাইস চ্যান্সেলরও এরকম হয় আমি সেটাও মানতে রাজী নই। অন্য সব পেশার মানুষ এরকম হতে পারে কিন্তু পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয় তার সর্বময় দায়িত্বে যিনি থাকবেন তিনি এরকম হতে পারবেন না।

আমি অবশ্য আমার জীবনে একজন অসাধারণ ভাইস চ্যান্সেলর পেয়েছিলাম। তিনি প্রফেসর মোহাম্মদ হাবীবুর রহমান। একবার বিশ্ববিদ্যালয়ে গুণ্ডামি করার কারণে ছাত্রলীগের ছেলেদের শাস্তি দেওয়ার অপরাধে তারা আমাকে এবং তাঁকে বিশ্ববিদ্যালয়ে অবাঞ্চিত ঘোষণা করেছিল। দেখতে ছোটখাটো কিন্তু দুঃসাহসী মানুষ ছিলেন। কখনো কোনো চাপের মুখে মাথা নোয়াতেন না। যাই হোক একবার কোনো একটি একাডেমিক কাউন্সিলে তার সাথে আমার তুমুল তর্কবিতর্ক ঝগড়া হলো, (আমরা শিক্ষকেরা একাডেমিক বিষয় নিয়ে অনেক ঝগড়াঝাটি করতাম)। একাডেমিক কাউন্সিল শেষ হওয়ার পর আমি বের হয়ে ফিরে যাচ্ছি তখন বিএনপি-জামাত পন্থী একজন শিক্ষক আমার কাছে এসে গলা নামিয়ে বললেন, “আপনি চালিয়ে যান, আমরা আপনার সাথে আছি!”

আমি কয়েক সেকেন্ড তার দিকে হা করে তাকিয়ে রইলাম তারপর সাথে সাথে ঘুরে ভাইস চ্যান্সেলর হাবিবুর রহমানের কাছে ফিরে এলাম। তাকে বললাম,“ স্যার, আমি আপনার সাথে অনেক ঝগড়াঝাটি করেছি, ভবিষ্যতে মনে হয় আরো করব। কিন্তু স্যার আপনাকে বলতে এসেছি আমি আপনাকে অসম্ভব শ্রদ্ধা করি। এই ঝগড়াঝাটি করি বলে কিন্তু মনে করবেন না আপনার প্রতি আমার শ্রদ্ধা এতাটুকু কমবে। আমি কী করব না করব সব আপনাকে দেখে ঠিক করি।”
প্রফেসর হাবীবুর রহমানের চোখ মূহুর্তের জন্যে অশ্রু সজল হয়ে গিয়েছিল, আমার মনে হল, ভাগ্যিস আমি তার ভুল ভাঙ্গাতে ফিরে এসেছিলাম। আমার বিশ্ববিদ্যালয় জীবন শেষ হয়ে গেছে, এরকম অনেক মিষ্টি মধুর স্মৃতি নিয়ে পরের জীবনে ফিরে যাব, চিন্তা করেই ভালো লাগে।

যাই হোক আন্তর্জাতিকভাবে র‌্যাংকিংয়ে বিবেচিত হবার আগে আমরা কী জিজ্ঞেস করতে পারি দেশের সাধারণ মানুষ তাদেরকে কীভাবে র‌্যাংকিং করবে? প্রতি বছর ভর্তি পরীক্ষার সময় এই দেশের বাচ্চা ছেলেমেয়েদের এবং তাদের অভিভাবকদের কী পরিমাণ কষ্ট করতে হয় সেটা জানতে দেশের কোনো মানুষের বাকী নেই। এই কষ্টটুকু শুধুমাত্র বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক প্রশাসকরা জানতে পারেননি কিংবা জানতে পারলেও অনুভব করতে পারেননি। আমাদের মহামান্য রাষ্ট্রপতি পর্যন্ত ছেলেমেয়েদের এই কষ্টটুকু বুঝতে পেরেছেন এবং অনেকবার সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষা নিয়ে তাদের কষ্টটুকু লাঘব করার কথা বলেছেন। কিন্তু আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তাঁর কথায় কর্ণপাত করেননি। কাজেই এই দেশের ছেলেমেয়ে এবং তাদের অভিভাবকদের বিশ্ববিদ্যালয় র‌্যাংকিংয়ের দায়িত্ব দেওয়া হলে তারা যে র‌্যাংকিংয়ে খুব উঁচু স্থান দেবে সেটি মনে হয় না।

২.

এতক্ষণ পর্যন্ত ক্রমাগত নেতিবাচক কথা বলে এসেছি, কিন্তু এরকম মনখারাপ করা কথা বলে লেখাটা শেষ করতে মন চাইছে না, কোনো একটা ভালো কথা বলে লেখাটি শেষ করতে চাই।

কয়েকদিন আগে খবরের কাগজে দেখেছি আমাদের দেশের আটটি কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় মিলে সম্মিলিতভাবে ভর্তি পরীক্ষা নেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। খবরটি পড়ে আমার বুকটি আনন্দে ভরে গেছে। মনে হয়েছে এই দেশে অন্তত আটটি বিশ্ববিদ্যালয়ের আটজন ভাইস চ্যান্সেলর আছেন যারা তাদের শিক্ষকদের নিয়ে এই অসাধারণ কাজটি করতে রাজী হয়েছেন। এই ভাইস চ্যান্সেলর শিক্ষক এবং প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের দেশের সাধারণ ছেলেমেয়েদের জন্য ভালোবাসা রয়েছে। কী চমৎকার একটি ব্যাপার।

আমি কীভাবে তাদের কাছে আমার কৃতজ্ঞতাটুকু প্রকাশ করব বুঝতে পারছি না। যদি সামনা সামনি গিয়ে প্রকাশ করার সুযোগ কখনো নাও পাই তারপরেও তাদের জন্য রইল আন্তরিক ভালোবাসা। শুধু আমার নয়, এই দেশের লক্ষ লক্ষ ছেলেমেয়ে এবং তাদের অভিভাবকদের কৃতজ্ঞাটুকু নিশ্চয়ই তারা অনুভব করবেন।

আমাদের শিক্ষামন্ত্রী বলেছেন তিনি সবগুলো বিশ্ববিদ্যালয় মিলে সমন্বিত একটি ভর্তি পরীক্ষা দেখতে চান। আমরা সবাই জানি আগে হোক পরে হোক সবাইকেই এই পথে আসতে হবে, কিন্তু সবার আগে পথ প্রদর্শনের এই সম্মানটুকু বাংলাদেশের আটটি কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্যেই থেকে যাবে। দেশের মানুষের র‌্যাংকিংয়ে তারা এখন সবার উপরে!

মুহম্মদ জাফর ইকবাললেখক ও অধ্যাপক, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়।

১৩ Responses -- “বিশ্ববিদ্যালয় র‌্যাংকিং: দেশের মানুষের চোখে”

  1. A.B.M. Saifur Rahman

    যার নিজেরই জ্ঞান পিপাসা নেই সে কি জ্ঞান দান করবে তা নিয়ে প্রশ্ন থাকার কথা নয়; বরং ধ্রুব সত্য; যে নিজেই নৈতিকতা প্রশ্নে আবদ্ধ সে কিভাবে জাতিকে সঠিক পথে নেবে তা মিলিয়ন ডলার প্রশ্ন। উল্টোঃ চিরস্থায়ী চাকুরী রক্ষা করে আর এক শ্রেণীর পদ -পদবী পাওয়ার যে সুপ্ত বাসনা সেখান থেকে আরও জঘন্যতম সমস্যাগুলোর শুরু; যা লিখলে বিডিনিউজ আর আমার কমেন্টস ছাপবে না।
    সুতরাং, পারলে গোঁড়াটাই ভেঙ্গে দেন; যারা পিএইচডি করতে দেশের বাইরে যান; তারা জানেন- বিদেশের কোন বিশ্ববিদ্যালয়ের চাকুরী চিরস্থায়ী নয়। চিরস্থায়ী চাকুরিকে পূঁজি করে এনারা একটি সংঘবদ্ধ চক্র গড়ে তুলেছেন অবশ্য দেশের সর্বোচ্চ পদগুলোই যেখানে নিজেদের করে ফেলছেন সেখানে কার কাছে প্রতিকার চাবেন আমার জানা নেই; ভাগ্য/ নিয়তই সম্বল।

    Reply
  2. Abu hena Md. Mohsin

    স্যার, আপনি শুনে বিস্মিত হবেন এখনকার উপাচার্যরা টাকা খেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক পর্যন্ত নিয়োগ দেন । অবশ্যই সেটা দু, চার পাঁচ লাখ টাকা না । কমপক্ষে পনেরো থেকে বিশ লাখ । এতে অনেক মেধাবী ছাত্ররাও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হওয়ার স্বপ্ন স্বপ্নই থেকে যায় ।

    Reply
  3. Alam

    আপনার রাজনৈতিক লেখাগুলো যতটা অপছন্দ করি শিক্ষা নিয়ে লেখাগুলো ঠিক ততটাই পছন্দ করি।

    Reply
  4. Shafiul

    স্যার সময় পেরিয়ে যাচ্ছে! আপনি ইউজিসির দায়িত্ব নিয়ে বাংলাদেশের সকল বিশ্ববিদ্যালয়কে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীতকরণের প্রক্রিয়াটি শুরু করুন।

    Reply
  5. হবু রাজা গবু মন্ত্রী

    শিক্ষা পরীক্ষার্থীদের দয়া করে আবার শিক্ষার্থী করুন—- একটা ব্যাপার একটু খেয়াল করে দেখবেন থার্ড ওয়ার্ল্ড কান্ট্রির মানুষজন কি কি ব্যাপার নিয়ে রিএকশন দেখায় আর উন্নত বিশ্ব সেটাকে কিভাবে ইউজ করে । আমাদের হাতে ধরায় দেয়া হলো সেলাই মেশিন । তৈরি পোশাকে আমরা হইলাম টপার । আর ওরা হইলো টেকনোলোজিতে টপার । আমাদের ইউনিভার্সিটিতে ঢুকিয়ে দেয়া হলো ছাত্র রাজনীতি । এই পলিটিক্সে আমরাই সেরা । আর ওরা টপার হইলো মেধার চর্চায় ।
    আমাদের কালচার হইলো স্যাটেলাইট কালচার । নিজেদের বলতে কিছুই নাই । আর তাঁদের কালচার দেখার জন্য বিশ্বব্যাপী চলে কম্পিটিশন । আমাদের ধর্মটাকে ইউজ করে আমাদেরকেই জঙ্গি বানিয়ে দেয়া হলো । এখন ধর্মের কথা শুনলেই লোকে কয় জঙ্গি । শত কোটি ডলার সাহায্যের নাম করে মাথায় চাপিয়ে দেয়া হলো অপরিশোধযোগ্য ঋণের বোঝা ।
    _____________________________________
    ভাগিনা বলিল, ‘মহারাজ, পাখিটার শিক্ষা পুরা হইয়াছে।’
    রাজা শুধাইলেন, ‘ও কি আর লাফায়।’
    ভাগিনা বলিল, ‘আরে রাম!’
    ‘আর কি ওড়ে।’
    ‘না।’ ‘আর কি গান গায়।’
    ‘না।’
    ‘দানা না পাইলে আর কি চেঁচায়।’
    ‘না।’
    রাজা বলিলেন, ‘একবার পাখিটাকে আনো তো, দেখি।’ পাখি আসিল। সঙ্গে কোতোয়াল আসিল, পাইক আসিল, ঘোড়সওয়ার আসিল। রাজা পাখিটাকে টিপিলেন, সে হাঁ করিল না, হু করিল না। কেবল তার পেটের মধ্যে পুঁথির শুকনো পাতা খসখস গজগজ করিতে লাগিল।
    [তোতা কাহিনী, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।]

    ২০০৯ সালে কোনো রকম গবেষণা, সম্ভাব্যতা এবং ফলাফলের তোয়াক্কা না করে প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের ওপর প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী নামে একটি অদ্ভুত পরীক্ষা চাপিয়ে দেওয়া হয়। বলা
    হয়েছিল, এর ফলে শিক্ষার শনৈঃ শনৈঃ উন্নতি হবে। প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষার ফলাফল যখন ছাপা হয়, তখনই আমরা জানতে পারি আমাদের প্রায় সব শিক্ষার্থীর মেধা আর মননের প্রভূত উন্নতি হচ্ছে। প্রতিবছরই জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীর সংখ্যাও বাড়ছে বৈকি। তবে শিক্ষার সামগ্রিক উদ্দেশ্য তো কেবল জিপিএ-৫ পাওয়া নয়। শিক্ষার্থীদের জ্ঞানের ভিত্তি মজবুত হচ্ছে তো?
    বিশ্বগ্রামের নাগরিক হিসেবে তারা তাদের বৈশ্বিক প্রতিপক্ষদের বিরুদ্ধে জয়ী হতে পারবে তো? নাকি তারা কেবলই পরীক্ষার্থী হিসেবে নিজেদের ভাবছে, শিক্ষার্থী হওয়ার চেষ্টা করছে না? সম্প্রতি সংস্কৃতিমন্ত্রী আমাদের পরীক্ষা আর সনদপ্রবণতার কথা বলতে গিয়ে বলেছেন, ‘দেশে কোনো শিক্ষার্থী নেই, আছে কেবল পরীক্ষার্থী?’ কেবল পরীক্ষা দিয়ে যেকোনোভাবেই একজন সংস্কৃতিমান
    কিংবা নিদেনপক্ষে একজন জ্ঞানকর্মীকে গড়ে তোলা যায় না, সেটা তাঁর মতো একজন সংস্কৃতিমান ব্যক্তিত্ব ভালোই জানেন। জানেন বলেই হয়তো তিনি তাঁর হতাশার কথা বলেছেন। সম্প্রতি বাংলাদেশের বিজ্ঞানী জামাল নজরুল ইসলামের স্মরণে চট্টগ্রামে কিশোর বিজ্ঞান সমাবেশের আয়োজন করা হয়। সেখানে অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলে এই পরীক্ষার আরও ভয়াবহ দিকটি আর একবার টের পেয়ে এসেছি। আগে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের নানান বিষয়ে নানানভাবে সময় কাটানোর সুযোগ ছিল। কারণ, কোনো তথাকথিত সার্টিফিকেট পরীক্ষা তাদের ছিল না। শিক্ষার্থীদের
    প্রথম পরীক্ষাটা ছিল মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট পরীক্ষা। এখন এটা শুরু হয় পঞ্চম শ্রেণিতে। এবং দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের মাত্র চার চারটি পাবলিক পরীক্ষা দিতে হয়, যা আমার জানা বিশ্বব্রহ্মাণ্ডে কেবল বাংলাদেশেই আছে। এই প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষা বা পিটিই-এর জন্য শিক্ষার্থীদের জানুয়ারি মাস থেকেই তোড়জোড় শুরু করতে হয়। কোচিং সেন্টারে যাওয়া, বাসায়
    গৃহশিক্ষকের আমদানি এবং এখন গোঁদের ওপর বিষফোড়া হয়েছে ‘মডেল টেস্ট’। এই মডেল টেস্টের অত্যাচার এমনকি সব দৈনিক পত্রিকার শিক্ষা পাতাতেও থাকে। কাজেই, যে কেউ যদি একজন পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীর সারা বছরের কর্মকাণ্ড দেখেন তাহলে তিনি দেখবেন ওই শিক্ষার্থীর কাজ হলো নিজেকে পিটিই পরীক্ষার জন্য তৈরি করা এবং পরীক্ষার হলে গিয়ে কিছু প্রশ্নের উত্তর উগরে দিয়ে আসা। মজার বিষয় হচ্ছে, এই প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষা কিন্তু আমাদের শিক্ষানীতিতে ছিল না। ২০০৯ সালে সম্ভবত মন্ত্রী-আমলাদের উর্বর মস্তিষ্ক থেকে এটির উদয় হয়েছে। কোনো এক সভায় একজন শিক্ষা কর্মকর্তা বলেছিলেন, আগের প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় মাত্র ২০% ছেলেমেয়ে অংশ নিত। এ কারণে অনেক বিদ্যালয়ে কেবল ওই ২০ শতাংশকেই দেখভাল করা হতো এবং
    প্রাথমিক ফলাফলের ভিত্তিতে স্কুলগুলোর সঠিক মূল্যায়ন করা সম্ভব হতো না। স্কুল মূল্যায়ন ও তদারক করার জন্য শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার্থী বানিয়ে ফেলতে হবে—এ ধারণা পৃথিবীতে ইউনিক
    এবং এর উদ্যোক্তাকে ডারউইন পুরস্কার দেওয়া যায়!

    শুরু হওয়ার পর অনেকেই ভেবেছিলেন এটি আখেরে ভালো হবে। আসলে কিন্তু হয়নি। হওয়ার কোনো কারণও নেই। ১০-১১ বছরের একজন শিক্ষার্থীকে নানান বিষয়ে আগ্রহী করে তুলতে হয়, তাকে লিখন-পঠন-গণনায় হাতেখড়ি নিতে হয়, সমস্যা সমাধানের মূল বিষয়গুলো সম্পর্কে জানতে হয়, যাতে পরের ধাপে সে আরও এগিয়ে যেতে পারে। কেবল কেয়কটি প্রশ্নের উত্তর মুখস্থ করেই এই শিখন-ফল অর্জন করা যায় না। আর স্কুলগুলোকে যখন কেবল জিপিএ–৫ দিয়ে মাপা হয়, তখন সেখানে আর কিছুই থাকে না। থাকে কেবল তোতা কাহিনীর শুকনো পাতার খসখস গজগজ। চট্টগ্রামের ওই কিশোর সমাবেশে অধ্যাপক মুহম্মদ জাফর ইকবাল জানিয়েছেন, তাঁর ভাই অধ্যাপক হুমায়ূন আহমেদ অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত মোটেই পড়াশোনা করতেন না। নানান কিছু করে বেড়াতেন। অষ্টম শ্রেণির পর থেকে তিনি পড়াশোনায় মনোযোগী হয়ে রসায়নে পিএইচডি করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক হয়েছেন। কিন্তু তাঁর অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত মাঠে মাঠে দাপিয়ে বেড়ানো আর যা খুশি তা করার স্বাধীনতা আমাদের একজন অসাধারণ কথাশিল্পী দিয়েছে। বনে-বাদাড়ে ঘুরে বেড়ানোর জন্য কেউ তাঁকে বকা দেয়নি, কেউ তাঁকে স্কুল থেকে কোচিং সেন্টারে পাঠায়নি, কেউ মাত্র ১০ বছর বয়সে তাঁর কপালে জিপিএ–৫–এর ছাপ এঁকে দেয়নি। চট্টগ্রামের ওই সমাবেশে উপস্থিত শিক্ষার্থীদের কাছে জানতে চেয়েছিলাম তারা সাঁতার কাটতে জানে কি না। মাত্র
    দু-তিনজন হাত তুলেছিল! আমার মেয়েকে মাঝেমধ্যে স্কুলে আনা-নেওয়ার কারণে আমি বেশ কিছু অভিভাবককে দেখি, যারা সন্তানের জন্য দুপুরের খবার হাতে নিয়ে স্কুলের সামনে বসে থাকেন।
    স্কুল ছুটির পর সন্তানকে কোচিং সেন্টারে নিয়ে যান এবং বেচারার দুপুরের খাবার খেতে হয় গাড়িতে! সাপ্তাহিক ছুটির দিনেও তাকে অন্তত কয়েক জায়গায় পড়তে যেতে হয়! যে যা-ই বলুক, যে উদ্দেশ্যের কথাই বলুক না কেন, প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা আমাদের শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার্থী বানানো ছাড়া আর কোনো ‘সুফল’ বয়ে আনতে পারেনি। এই উৎপাত থেকে আমাদের
    শিক্ষার্থীদের অতি দ্রুত মুক্তি দেওয়া দরকার। সরকার বাহাদুর ইচ্ছে করলে এই বছরেই এই উৎপাত থেকে শিক্ষার্থীদের এবং তাদের অভিভাবকদের মুক্তি দিতে পারে। যত তাড়াতাড়ি আমাদের পরীক্ষার্থীদের আমরা আবার শিক্ষার্থী বানাতে পারব, ততই আমাদের জন্য মঙ্গল।

    Reply
  6. Razzak

    Well written. Sir you should not forget to tell about how our university teachers are selected and what they are doing compare to other countries? If anyone has this answer then he should know why none of our university is within world’s 500 university?
    You know the situation of our education better than anyone else.
    Think about how much money we are loosing to sending our kids to study abroad? how much money we are loosing to send our patients abroad?
    All this happening because lack of proper education and practice.

    Reply
  7. ড আনিসুর রহমান ফারুক

    যখন পুরো সমাজটাই দুর্নীতিগ্রস্থ হয়, তখন শুধু পাবলিক কেনো, প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থাও একই হবে। আজকে প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের দিকে তাকালেও তাই দেখবেন সেগুলিও কেমন দুর্নীতির আখড়া আর ইন্টারনাল রাজনীতি দ্বারা ব্যাপকভাবে প্রভাবিত। পড়ানোর আর গবেষণার সুষ্ঠু পরিবেশ এখন আর কোথাও নেই। তাই আমাদের মতো যারা ওই পরিবেশে টিকতে না পারে, তারা সুযোগ পেলে দেশান্তরী হয়। পিএইচডি করে দেশে ফিরে, একটা শীর্ষস্থানীয় প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভাগীয় প্রধান হয়েও, অনেক টাকা স্যালারি পেয়েও, গবেষণার জন্য কোনো সুযোগ নেই বলে, এখন বিদেশের বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণা করি। বছরে দুই তিনটা কনফারেন্সে যাই বিশ্ববিদ্যালয়ের ফান্ডে। এই ফান্ডটাও দিতো বাংলাদেশের ইউনিভার্সিটিগুলো। তাদের অনেক শর্ত, চাকরি দুই বছর না হলে দেয়া যাবে না, ইত্যাদি। অথচ তাঁদের টাকার কোনো অভাব নেই। পুরো পরিবার নিয়ে গভর্নিং বডির লোকজন ফান ট্রিপে ইউরোপ আমেরিকায় যায়। নন প্রফিট প্রতিষ্ঠান তো, তাই। আবার ভালো রিসার্চ করলেও অসুবিধা। আমি যখন প্রথম শীর্ষস্থানীয় প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়টি ছেড়ে আরেকটি প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে জয়েন করি তখন বেশ কয়েক মাস আমাকে বিভাগীয় প্রধান করা হয়নি, কারণ আমি নাকি রিসার্চার।

    Reply
  8. Shamsul Alam

    প্রিয় জাফর ইকবাল,
    বরাবরের মত তোমার লেখাটি খুব সময়োপযোগী বলে খুব ভাল লাগলো। আমি দশম শ্রেণী সমাপনী পাশ করেছি ১৯৬৬ সালে এবং বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছিলাম ঐ সালেই্। তখন দশম শ্রেণী পাশের পর সরাসরি কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির নিয়ম ছিল। আমাকে কোন ভর্তি পরীক্ষা দিতে হয়নি। দশম শ্রেণীর সমাপনির সময় যে নম্বর পেয়েছিলাম তা দিয়েই সেখানে ভর্তি হয়েছিলাম। আমি জানি না কবে থেকে আলাদাভাবে আরেকটি ভর্তির বাধা তৈরি হয়েছিল। একজন ছাত্রকে এভাবে নাজেহাল করা খুবই অমানবিক বিষয়। আমি তোমার সাথে একমত; ভর্তি পরীক্ষা যদি নিতেই হয়, তা একদিনেই নেয়া উচিত। এজন্য তোমার সাথে আমি বাংলাদেশের আটটি কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সুমতির জন্য তাদেরকে ধন্যবাদ জানাই। সাধারণ একজন কৃষিবিদ হিসেবে আমি এজন্য গর্বিত। কৃষিবিদ শামসুল আলম মুকুল, খাদ্যবিজ্ঞানি

    Reply
  9. আল মামুন

    সব আল্লার ইচ্ছা৷ তিনি চাইলে দেশের অবস্থা অন্যরকম হয়ে যেত৷

    Reply
  10. MD LUTF KABIR

    গণতন্ত্র শুধু আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে নিয়ন্ত্রণই করেনি, মানও কমিয়ে দিয়েছে।
    ধর্মীয় ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কখনো জীবিকার জায়গা হতে পারে না। সমস্যার মূল জায়গাটাই হল শিক্ষকদের চিরস্থায়ী চাকুরী। এই চাকুরী বাগিয়ে নেয়া এবং তা আগলে রাখাঃ এই ২ জায়গাতেই সকল সমস্যার শুরু। এই মধু পানের জন্য এক গ্রুপ মরিয়া আর সুদা পান করিয়ে দিয়ে নিজেদের স্বার্থ উদ্ধারে লেগে আছে আর এক গ্রুপ (মূলত গনতন্ত্রের সূচনা আমল থেকেই এনাদের বেয়ারাপনা শুরু)। ফলাফল কিঃ সত্যিকারের জ্ঞান পিপাসু মানুষ এখন আর বিশ্ববিদ্যালয়ে কতজন আছেন তা নিয়ে আমার সংসয় আছে; সবাই তারা চাকুরীজীবী। যার নিজেরই জ্ঞান পিপাসা নেই সে কি জ্ঞান দান করবে তা নিয়ে প্রশ্ন থাকার কথা নয়; বরং ধ্রুব সত্য; যে নিজেই নৈতিকতা প্রশ্নে আবন্ধ সে কিভাবে জাতিকে সঠিক পথে নেবে তা মিলিয়ন ডলার প্রশ্ন। উল্টোঃ চিরস্থায়ী চাকুরী রক্ষা করে আর এক শ্রেণীর পদ -পদবী পাওয়ার যে সুপ্ত বাসনা সেখান থেকে আরও জঘন্যতম সমস্যা গুলোর শুরু; যা লিখলে বিডিনিউজ আর আমার কমেন্টস ছাপবে না।
    সুতরাং, পারলে গোঁড়াটাই ভেঙ্গে দেন; যারা পিএইচডি করতে দেশের বাইরে যান; তারা জানেন- বিদেশের কোন বিশ্ববিদ্যালয়ের চাকুরী চিরস্থায়ী নয়। চিরস্থায়ী চাকুরিকে পূঁজি করে এনারা একটি সংঘবদ্ধ চক্র গড়ে তুলেছেন অবশ্য দেশের সর্বোচ্চ পদ গুলোই যেখানে নিজেদের করে ফেলছেন সেখানে কার কাছে প্রতিকার চাবেন আমার জানা নেই; ভাগ্য/ নিয়তই সম্বল।

    Reply
    • আমরা অসহায়

      এই কথাগুলো বলে লাভ নাইরে ভাই। কমেন্টগুলো এখন বাংলাদেশের মানুষের বিনোদনের জায়গা হয়ে গেছে। তারা পড়ে আর মজা পায়। আমরা বড় অসহায় যে আমাদের দেশে কোন ভাল মানুষ আর রাজনীতি করে না আর যদি কোন ভাল মানুষ শুরুও করে তাহলে কয়েক দিন পরে শোনা যাবে তাকে কিডন্যাপ করা হয়েছে। তার কয়েকদিন পরে তার লাশ কোন নর্দমায়। আমাদের দেশে চলছে এখন নাটক। সব জায়গায় নাটক।

      Reply

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। প্রতিক্রিয়া লেখার সময় লক্ষ্য রাখুন--

  • ১. স্বনামে বাংলায় প্রতিক্রিয়া লিখুন।
  • ২. ইংরেজিতে প্রতিক্রিয়া বা রোমান হরফে লেখা বাংলা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না।
  • ৩. প্রতিক্রিয়ায় ব্যক্তিগত আক্রমণ গৃহীত হবে না।

দরকারি ঘর গুলো চিহ্নিত করা হয়েছে—