একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন বিএনপির জন্য ছিল তার ইতিহাসে সবচেয়ে কঠিনতম পরিস্থিতিতে নির্বাচনে অংশগ্রহণ। এর পূর্বে এরকম কঠিন অবস্থার মধ্যে বিএনপিকে আর কোনও নির্বাচনে অংশ নিতে হয়নি। এমনকি, ১/১১ সরকারের অধীনে ২০০৮ সালের নির্বাচনও তাদের জন্য এতটা প্রতিকূল ছিল না। নির্বাচনে অংশগ্রহণের পূর্বে বিএনপি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে আকস্মিক ভাবে সংলাপে বসবার সিদ্ধান্ত নেয়।

সংলাপে অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত বিএনপির সমর্থকসহ অনেককেই বিস্মিত করেছিল। তখন অনেকেই ভেবেছিলেন বেগম খালেদা জিয়াকে জেলে রেখে দলটি প্রধানমন্ত্রীর সাথে সংলাপে বসবে না। তারপরেও অনেকে ধরে নিয়েছিলেন কৌশল হিসাবে দলটি সংলাপে গেলেও সংলাপের মূল এজেন্ডা থাকবে দলীয় প্রধানকে মুক্ত করে আনবার বিষয়টি।কিন্তু দেখা গেল, দুই-দুইবারই সংলাপে বিএনপি খালেদা জিয়ার মুক্তির বিষয়টিকে শুধুমাত্র আনুষ্ঠানিকতার মাঝেই সীমাবদ্ধ রাখল।

দ্বিতীয়বার সংলাপে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মহাসচিব মির্জা ফখরুলের স্বাস্থ্যের অবনতি দেখে উদ্বিগ্ন হন, তার স্বাস্থ্যের খোঁজখবর নেন এবং এর কারণ জানতে চান। মির্জা ফখরুলও প্রধানমন্ত্রীকে জানান দলীয় কাজের চাপসহ নানাবিধ কারণে তার স্বাস্থ্য ভালো যাচ্ছে না।

দ্বিতীয় দফার সংলাপের যে ছবি গণমাধ্যমে প্রকাশ হয়েছিল তাতে দেখা গিয়েছিল দুই হাতে ফাইল ধরে ফখরুল প্রধানমন্ত্রীর সামনে দাঁড়িয়ে আছেন। ফখরুলের দাঁড়াবার এ ভঙ্গিটি দেখে তখনই কারও কারও মনে হয়েছিল, বিএনপি বোধহয় নির্বাচনে যাচ্ছে। যদিও বিএনপির সমর্থকসহ তৃণমূলের বড় অংশটি তখনও ধরে বসেছিল যে, খালেদা জিয়াকে ছাড়া দলীয় নেতারা নির্বাচনে যাবার সিদ্ধান্ত নিবেন না।

দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের একটা অংশও খালেদা জিয়াকে ছাড়া নির্বাচনে যাবার বিরোধী ছিলেন। খালেদার মুক্তির প্রশ্নটি উত্থাপিত না হওয়ায় দ্বিতীয় সংলাপে গয়েশ্বর রায় অংশগ্রহণ করেননি। গয়েশ্বর রায়সহ দলীয় নেতৃত্বের একটা অংশ সংলাপ বা নির্বাচনের মাধ্যমে দলীয় প্রধানের মুক্তি ঘটানো যাবে না, এরকম একটা অবস্থান নেন, এবং আন্দোলন গড়ে তোলবার বিষয়টার উপর জোর দেন।

এরকম অবস্থা মহাসচিব হিসাবে মির্জা ফখরুলকে এক কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি করে। প্রতিষ্ঠা হবার পর থেকে এতদিন পর্যন্ত দলীয় গুরুত্বপূর্ণ সব সিদ্ধান্ত এককভাবে দলীয় প্রধানই নিয়ে এসেছেন। দলের ভালো-মন্দের দায়িত্ব এককভাবে অন্য কোনও নেতাকে নিতে হয়নি। অন্য নেতারা ক্ষেত্র বিশেষে দলীয় প্রধানকে বড় জোড় সিদ্ধান্ত নেবার ব্যাপারে সাহায্য করেছেন।

দলীয় প্রধানের সব সিদ্ধান্তই কেন্দ্র থেকে তৃণমূল, এক বাক্যে, বিনা প্রতিবাদে মেনে নিয়েছে। তার সব সিদ্ধান্তকেই তারা সঠিক মনে করেছেন। তিনি কখনো ভুল করতে পারেন বা ভুল সিদ্ধান্ত দিতে পারেন, এটা তারা কখনোই বিশ্বাস করেননি। এ ধরনের কোন সংস্কৃতিও দলে গড়ে উঠেনি।

১৯৮১ সাল থেকে আওয়ামী লীগও একইভাবে সব সিদ্ধান্ত নেবার দায়িত্ব দলীয় প্রধানের উপর দিয়ে বসে আছে। তারাও বিএনপির মতো মনে করে যে,তাদের দলীয় প্রধানও কোনও ভুল সিদ্ধান্ত নিতে পারেন না বা কোন বিষয়ে ভুল করতে পারেন না। তবে, সিদ্ধান্ত নেবার ক্ষেত্রে আওয়ামী লীগ এবং বিএনপি প্রধান শেখ হাসিনা এবং খালেদা জিয়ার মধ্যে একটা বড় দাগে পার্থক্য রয়েছে।

দল এবং সরকার দুই জায়গাতেই শেখ হাসিনাকে সব সময় দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে দেখা গেছে। এর বিপরীতে খালেদা জিয়া অনেক সময়ই সিদ্ধান্ত হীনতায় ভুগেছেন,যার প্রভাব দলটিতে পড়েছে সব সময়।খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতিতে এটা আরো বেশি অনুভূত হয়েছে। খালেদার মুক্তির প্রশ্নে আন্দোলন,সংলাপ,নির্বাচন,সংসদে যাওয়া না যাওয়ার প্রশ্ন ইত্যাদি সব কিছুতেই দলের নেতৃত্বকে দোদুল্যমান মনে হয়েছে।

এখানে একটি বিষয় উল্লেখ না করলেই নয়। খুব অদ্ভুত শোনালেও বাস্তবতা হচ্ছে, বিএনপি, আওয়ামী লীগ দুটো দলই নিজেদের গণতান্ত্রিক দাবি করলেও, উভয়েই পরিচালিত হয় সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়ন এবং গণচীনের কমিউনিস্ট পার্টির মতো এক ব্যক্তির নেতৃত্বে।

এক ব্যক্তির নেতৃত্বে পরিচালিত হয় বলেই সেই নেতার অনুপস্থিতি দলগুলোতে এক ধরনের দিশেহারা অবস্থা তৈরি করে। তাই যখন সংলাপের বিষয়টা আসল তখন বিএনপি কার নেতৃত্বে সংলাপে যাবে এ প্রসঙ্গটাও চলে আসে। একক নেতৃত্বের দলগুলো নেতা নয় মূলত অনুগামী তৈরি করে। ফলে, সংলাপে নেতৃত্ব দেবার জন্য বিএনপির নেতা খুঁজে বের করবার প্রয়োজন হয়।

মওদুদ আহমেদ, মির্জা ফখরুলের মতো নেতা থাকা সত্ত্বেও দলটিতে আত্মবিশ্বাসের প্রবল অভাব দেখা দেয়। তাদেরকে গণফোরামের মতো একটি সাইনবোর্ড সর্বস্ব দলের দ্বারস্থ হতে হয়, যাতে দলটির প্রধান ড. কামাল হোসেন সংলাপে নেতৃত্ব দিতে পারেন। এ দলটি গঠিত হয়েছিল আওয়ামী লীগ, সিপিবি এবং ন্যাপের (মোজাফফর) কয়েকজন দলছুটের হাত ধরে,যার কথা সাম্প্রতিক সময়ে অনেকেই ভুলে গিয়েছিলেন।

উল্লেখ্য যে, এক অর্থে একাদশ সংসদ নির্বাচনে সবচেয়ে লাভবান দল হলো গণফোরাম। যে দলের কারও পক্ষে ইউনিয়ন পরিষদে নির্বাচন করে জিতে আসবার সম্ভাবনা নেই, সে দলটিই বিএনপির কাঁধে ভর করে একটি বিতর্কিত নির্বাচনে দু’টি আসন বের করে নিয়ে আসতে সক্ষম হয়েছে। ড. কামাল হোসেনের রাজনৈতিক জীবনে নিজ নেতৃত্বে এটি সবচেয়ে বড় অর্জন বললে বোধহয় ভুল হবে না।

বিএনপির অনেকটা যুগ সন্ধিক্ষণে এককভাবে সিদ্ধান্ত নিতে পারবার অনভিজ্ঞ মির্জা ফখরুলসহ দলটির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের উপরে দায়িত্ব বর্তায় নির্বাচন সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেবার। তৃণমূলে অনেকটা এ প্রস্তুতিই ছিল যে, বিএনপি এবারও নির্বাচন বর্জন করতে যাচ্ছে। কিন্তু, তৃণমূলের আকাঙ্ক্ষার বিপরীতে গিয়েই দলকে নির্বাচনে যাবার কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হয়।

এককভাবে আন্দোলন গড়ে তুলতে অক্ষম বিএনপির সামনে নির্বাচন সংক্রান্ত যতগুলো বিকল্প ছিল এর সবগুলিই ছিল আত্মহত্যামূলক। নির্বাচনে না গেলে দলের নিবন্ধন বাতিল হত। বিএনপির মতো দলের পক্ষে নিবন্ধন বাতিল হলে সিপিবি বা জামায়াতের মতো দল টিকিয়ে রাখা হয়ত সম্ভব হত না। এর মূল কারণ হচ্ছে, সিপিবি বা জামায়াতের মতো বিএনপি একটা বিশেষ মতাদর্শকে প্রতিষ্ঠা করার লক্ষ্য নিয়ে রাজনীতি করে না।

সামরিক শাসকের ক্ষমতা ধরে রাখবার মাধ্যম হিসাবে, রাষ্ট্রযন্ত্রের সহায়তায়,ক্ষমতার কেন্দ্র থেকে দলটি গঠিত হলেও, দলটি ক্রমান্বয়ে ভোট নির্ভর,গণ রাজনৈতিক দলে পরিণত হয়েছে। এ ধরনের দল আত্মগোপনে যেয়ে বা নিবন্ধন বাতিল করে সাধারণত টিকে থাকতে পারে না। তাই, বিএনপি নেতৃত্বের পক্ষে দল টিকিয়ে রাখবার স্বার্থে নির্বাচনে যাওয়া ছাড়া আর কোনও বিকল্প ছিল না।

একটা বিষয় বিএনপির নেতৃত্ব বুঝতে পেরেছিলেন, মুখে যতই আন্দোলন বা খালেদার মুক্তির কথা বলুক, এককভাবে আন্দোলন গড়ে তুলবার কোন ঐতিহ্য দলটিতে না থাকবার ফলে আন্দোলনের মাঠে তৃণমূলের কাউকে তেমন ভাবে পাওয়া যাবে না। মির্জা ফখরুল তার দলের কর্মীদের এ একটি জায়গায় হয়ত সঠিক ভাবে বুঝতে পেরেছিলেন। তার দলের কর্মীরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আন্দোলন,খালেদার মুক্তি,সরকার পতন, বিএনপির ভবিষ্যত ইত্যাদি ইস্যুতে যতটা কল্পনাবিলাসী,মাঠের লড়াইয়ের প্রশ্নে ততটাই নীরব—যা গুণগতভাবে আওয়ামী লীগের সাথে দলটির কর্মীদের পার্থক্যের একটা মাত্রা তৈরি করেছে।

এরশাদ এবং ১/১১সরকারের আমলে,বিএনপি তার সহযোগী হিসাবে পেয়েছিল আওয়ামী লীগসহ অন্যান্য দলগুলোকে। বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকারের সময় তারা একটা দীর্ঘসময় জামায়াতকে পেয়েছে মাঠের সহযোগী হিসাবে।

জামায়াত বৈধ, অবৈধ নানা পন্থায় চেষ্টা করেছে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে। এর মূল উদ্দেশ্য ছিল যুদ্ধাপরাধের বিচার বানচাল করে দলের নেতাদের মুক্ত করে আনা। কিন্তু,দলীয় নেতাদের সাজা হয়ে যাবার পর জামায়াত প্রতিরোধের পথ থেকে সরে এসে পাকিস্তান আমলের বামদলগুলির মতো পুরো সংগঠনকে আত্মগোপন অবস্থায় নিয়ে যায়, প্রতিকূল পরিস্থিতিতে দলকে টিকিয়ে রাখবার কৌশল হিসাবে।

এমতাবস্থায়, বিএনপি রাজনীতির মাঠে অনেকটাই একা হয়ে যায়। তার সহযোগী হিসাবে থাকে কিছু ছোট এবং সাইনবোর্ড সর্বস্ব দলসমূহ। এর বিপরীতে প্রতিপক্ষ শুধু আওয়ামী লীগের মতো বড় রাজনৈতিক দলই নয়, এর সাথে যুক্ত হয় সরকার এবং রাষ্ট্রযন্ত্র।

আওয়ামী লীগের দুই পর্বের ধারাবাহিক শাসনামলে রাষ্ট্রযন্ত্র, সরকার ও দল যেভাবে একে অপরের পরিপূরক এবং পারষ্পারিক অঙ্গীভূত হয়েছে, তাতে অনেক সময় একে অন্যের মাঝে পার্থক্য করা দুষ্কর হয়ে উঠে। সরকার, রাষ্ট্র এবং দলের এ ধরনের আন্তঃসম্পর্ক সাধারণত সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্র ব্যবস্থাতে দেখা যেত, যেমন বর্তমানে দেখা যায় গণচীন এবং উত্তর কোরিয়ায়।

এসব কিছু বিবেচনায় মির্জা ফখরুল সঠিক ভাবেই বুঝতে পেরেছিলেন যে, যেখানে দলীয় প্রধানের গ্রেপ্তারের পরেও তৃণমূলে তার মুক্তির প্রশ্নে তেমন সাড়া মেলেনি, সেখানে তাদেরকে নিয়ে নির্বাচন বর্জন করলে আন্দোলন কেন, কোনও কিছুই করা সম্ভব হবে না। এতে,দলের অনেকেই হয়ত বেরিয়ে যেয়ে স্বতন্ত্র বা অন্য প্ল্যাটফরম থেকে নির্বাচন করবে।

তবে, এ নির্বাচনের সিদ্ধান্ত জায়েজ করবার জন্য ফখরুলসহ নেতাদেরকে খালেদা জিয়ার নাম ব্যবহার করতে হয়েছে। তারা দাবি করেছেন, জেলে বন্দি খালেদা জিয়া তাদেরকে নির্বাচন করবার অনুমতি দিয়েছেন বলেই তারা নির্বাচন করেছেন।

নির্বাচনে অংশগ্রহণ করলে দল ক্ষমতায় যাবে না এটা তারা নিশ্চিত ছিলেন। তবে, সম্মানজনক আসন না পেলেও, দল দ্বিতীয় অবস্থানে থাকবে বলেই বিএনপি নেতৃত্ব ধরে নিয়েছিলেন। কিন্তু, কয়েকটি আসন পেয়ে দল যদি তৃতীয় অবস্থানে চলে যায় তাহলে দলের রাজনীতিকে কী করে ধরে রাখতে হবে, এ ধরনের কোনও চিন্তা নির্বাচনের পূর্বে তাদের কারো মাথায় আসেনি। কেউই তখন ভাবতে পারেননি যে, দলের এ ধরনের শোচনীয় বিপর্যয় ঘটবে, মির্জা ফখরুল বাদে দলের কোনও নেতাই জিতে আসতে পারবেন না।

তারা এটাও ভাবতে পারেননি যে, এতটা প্রতিকূল অবস্থায় তাদের নির্বাচনী প্রচার চালাতে হবে। যদিও,এ কঠিন অবস্থার মাঝেও, যেখানে দল টিকিয়ে রাখাই বড় চ্যালেঞ্জ, সেসময়ও মনোনয়নপ্রত্যাশীদের কাছ থেকে অভিযোগ আসে, কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের নির্বাচনী বাণিজ্যের।

অপরদিকে, আওয়ামী লীগ শুরু থেকেই সতর্ক অবস্থানে ছিল। তারা কোনও ঝুঁকি নিতে চায়নি। আওয়ামী লীগের দশ বছরের শাসনামলে ব্যাপক অর্থনৈতিক এবং সামাজিক উন্নয়ন হলেও দুর্নীতি রোধ এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হয়নি। তাদের পক্ষে সম্ভব হয় নাই বিপুল পরিমাণ অর্থপাচার রোধ করাও। সমালোচকরা বলেন, তারা এ ব্যাপারে সেরকম সচেষ্টও ছিলেন না। তদুপরি, এ দশ বছরে আওয়ামী লীগ উন্নয়নের যে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছিল, দুর্নীতি এবং অন্যান্য কারণে তারা সে জায়গায় দেশকে নিয়ে যেতে পারেনি। ফলে, দলটির জনপ্রিয়তা থাকলেও, আস্থার সঙ্কট ছিল প্রবল।

শতভাগ বিশুদ্ধ নির্বাচন হলে দলটি ক্ষমতায় ফিরে আসতে পারবে কিনা, নেতৃবৃন্দ নিশ্চিত হতে পারছিলেন না। তাঁরা ভরসা রাখতে পারছিলেন না নানা জরীপের উপর, যেগুলিতে আওয়ামী লীগকে বিপুল ভোটে বিজয়ী দেখান হয়েছিল।

২০০১ এর নির্বাচনী অভিজ্ঞতা- যেখানে তারা ভেবেছিলেন যে বিজয়ী হয়ে আবার ক্ষমতায় ফিরে আসবেন, তাদের মাঝে প্রবল আস্থার সঙ্কট তৈরি করে। কোনও কারণে তারা বিজয়ী হতে না পারলে, তাদেরকে আবার ২০০১—০৬ এর কঠিন অভিজ্ঞতার মধ্যে দিয়ে যেতে হতে পারে, এ আশঙ্কা তাদের পেয়ে বসে। ফলে, তফসিল ঘোষণার সাথে সাথে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা নির্বাচনী মাঠ দখলে রাখবার উদ্যোগ নেয়। কোনওভাবেই মাঠে বিএনপি যাতে দাঁড়াতে না পারে তারা সে চেষ্টা করে।

এ কাজে অনেক জায়গায় তারা সহযোগিতা পায় রাষ্ট্রযন্ত্রের (প্রশাসন)। অপরদিকে, জামায়াতকে সাথে নিয়ে দুই দুইবার পেট্রোল বোমা সন্ত্রাস নির্ভর আন্দোলন এবং আওয়ামী লীগের নিজের ২০০১-০৬ এর অভিজ্ঞতার ফলে—২০০৯ এ ক্ষমতায় এসে শুরু থেকেই আওয়ামী লীগ মামলা, হুলিয়া, জেল ইত্যাদি নানা ভাবে বিএনপিকে চাপে রাখার কৌশল নেয়।

ক্ষমতার কেন্দ্রে জন্ম নেয়া, তুলনামূলক বিচারে আয়েশী রাজনীতিতে অভ্যস্ত বিএনপি এ চাপ মোকাবেলা করতে না পেরে এমনিতেই কোণঠাসা অবস্থানে ছিল। তাদের অবস্থা এতটাই নাজুক ছিল যে দলীয় প্রধানের মুক্তির দাবি করে তারা সরকারের চাপ অগ্রাহ্য করে একটা মিছিল পর্যন্ত করতে পারেনি। নির্বাচনী প্রচার শুরু হবার পর তাই আওয়ামী লীগ যখন সারা দেশে মাঠ দখল রাখবার কৌশল নেয়, এর বিপরীতে বিএনপির প্রতিরোধ গড়ে তোলাতো দূরের কথা, বরং অনেক জায়গায় নূন্যতম প্রচারের কাজ থেকেও সরে আসে। এর চেয়ে কর্মীরা অনলাইনে নিরাপদ জায়গায় বসে নির্বাচনে কারচুপি ঠেকাবার অলীক স্বপ্নে বিভোর থাকে।

এ অলীক স্বপ্নের ফল হলো নির্বাচনের আগের দিন পর্যন্তও বিএনপির অনেকে ভাবতে শুরু করেছিলেন, যেকোনও ভাবে বিএনপি হয়তো নির্বাচনী বৈতরণী পার হয়ে যাবে। কিন্তু, নির্বাচনী ফল বিএনপির নেতাকর্মীদের স্তম্ভিত, কিংকর্তব্যবিমূঢ় করে দেয়। তাৎক্ষণিকভাবে তারা নির্বাচনী ফল প্রত্যাখান করে সংসদে না যাওয়ার ঘোষণা দেয়।

তৃণমূল তো বটেই জনগণের একটা বড় অংশও ধরে নিয়েছিল যে, আর যাই করতে পারুক, না পারুক, ছয়টি আসন নিয়ে বিএনপি অন্তত তৃতীয় দল হিসাবে সংসদে যাবে না। তবে, বিএনপির রাজনীতি সম্পর্কে যারা ওয়াকিবহাল তাদের মনে সন্দেহ ছিল সংসদে না যেয়ে বিএনপির মতো দল তাদের সাংসদদের ধরে রাখতে পারবে কিনা। অথবা যারা সংসদে যাবে তাদের বাদ দিয়ে রাজনীতি করবার মত নৈতিক মনোবল দলটির আছে কিনা।

এ নৈতিক মনোবল যে বিএনপির নেই সংসদে যোগদানের সিদ্ধান্তের মধ্যে দিয়ে দলটি সেটিই বরং প্রমাণ করল। ক্ষমতার কেন্দ্রে জন্ম নেয়া বিএনপির নেতাকর্মীরা ক্ষমতার আশেপাশে থাকতেই পছন্দ করেন। এ সংসদে যাবার প্রশ্নে কেন্দ্র থেকে প্রান্ত পর্যন্ত বিএনপির নেতা কর্মীদের মাঝে স্পষ্ট দ্বিধা-বিভক্তি ছিল। যারা নির্বাচিত হতে পারেন নাই তারা তো বটেই, দলের বেশির ভাগের অবস্থান ছিল সংসদে না যাওয়ার পক্ষে।

ফলে,মির্জা ফখরুলকে অত্যন্ত প্রতিকূল অবস্থার মধ্যে দিয়ে সাংসদদের সংসদে যোগদানে সায় দিতে হয়েছে এবং তা জায়েজ করবার জন্য ব্যবহার করতে হয়েছে তারেক রহমানের নাম। যদিও অত্যন্ত বিচক্ষণতার সাথে তিনি নিজে সংসদে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। কেননা, এতে তিনি নিজ দল থেকে পুরো বিছিন্ন হয়ে যেতেন, যার পরিণতিতে তিনি হয়ত তার মহাসচিব পদটি হারাতেন। তবে, তিনি তার কর্মীদের সামনে ব্যাখ্যা করতে পারেননি সংসদে যাওয়ার সিদ্ধান্ত সঠিক হলে তিনি নিজে কেন গেলেন না। অর্থাৎ,নানা অস্পষ্টতা বিএনপির রাজনীতিতে এখন প্রকট।

আর এ অস্পষ্টতার সবচেয়ে বড় দিকটি যা দলমত নির্বিশেষে দেশবাসীকে অবাক করেছে সেটি হলো বিএনপি কেন তাদের দলীয় প্রধানের মুক্তির জন্য কোনও আন্দোলন করল না। যে দলটি কারণে অকারণে এত হরতাল করল, দুই দুইবার পেট্রোল বোমা নির্ভর ‘আন্দোলন’ করল, সে দলটি কেন তাদের দলীয় প্রধানের মুক্তির জন্য আধাবেলা হরতালও ডাকল না। যেখানে জাতীয় পার্টির মতো দল খালেদা জিয়ার প্রথম শাসনামলে এরশাদের মুক্তির প্রশ্নে সব সময় রাজপথে তাদের সীমিত সামর্থ্য নিয়ে সক্রিয় থেকেছে, সেখানে বিএনপির মতো বিপুল জনসমর্থন ভিত্তিক বড় দল তাদের দলীয় প্রধানের মুক্তির প্রশ্নে কেন এরকম নীরব— এ বিষয়টা জনগণের অনেকের মনেই একটা বড় প্রশ্নবোধক হয়ে রয়েছে।

অস্পষ্টতার আরেকটি দিক হলো কেনই বা বিএনপি ১৮০ ডিগ্রি ঘুরে গিয়ে সংসদে যোগ দিলো। যে দল থেকে বিভিন্ন সময়ে বহু নেতাকর্মী বেরিয়ে গেছে, সে দলের জন্য পাঁচজন সাংসদকে ধরে রাখা কি খুব গুরুত্বপূর্ণ ছিল। ফলে,বিশ দল এবং ঐক্যফ্রন্টের শরীকদের পাশাপাশি, বিএনপির অনেকের মাঝে এ সন্দেহ দানা বাঁধতে শুরু করেছে, বিএনপি নেতৃত্বের একাংশ সরকারের সাথে  আপসের পথে হাঁটছেন কিনা, ব্যক্তিগত এবং অন্যান্য সুবিধার বিনিময়ে।

খালেদার জিয়ার মুক্তির বিষয়টিকে ব্যবহার করে সংসদে যেয়ে প্রথম দিন সাংসদ হারুনুর রশীদকে খালেদার জিয়াকে মুক্তি দেবার জন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদন নিবেদন করে দীর্ঘ বক্তব্য দিতে দেখা গেছে। জাতীয় পার্টি, এমনকি সিপিবির মতো ছোট দলও তাদের নেতা মোহাম্মদ ফরহাদকে জিয়া সরকারের সময় জেল থেকে মুক্ত করবার জন্য আন্দোলন গড়ে তোলবার উপর জোর দিতে দেখা গেছে। কিন্তু, দেখা যাচ্ছে সাংসদদের পাশাপাশি বিএনপি নেতৃত্বের একটি অংশও এখন প্রকাশ্যে বলতে শুরু করেছেন সরকারের সাথে আপস করেই দলীয় নেত্রীকে মুক্ত করে আনতে হবে।

কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের একটি অংশ পরিষ্কার করে দিচ্ছেন যে, খালেদার মুক্তির দাবিতে তারা ন্যূনতম কোনও আন্দোলন করবেন না। বিচার বিভাগ নয়, খালেদার মুক্তির বিষয়টি তারা সরকার প্রধানের মানবিক দৃষ্টিভঙ্গির উপর ছেড়ে দিতেই আগ্রহী। এর পূর্বে বাংলাদেশের কোনও রাজনৈতিক দলকে তাদের নেতাদের মুক্তির ব্যাপারে এরকম নতজানু অবস্থান নিতে দেখা যায়নি।

১/১১ এর সময়ও সাবেক মহাসচিব আব্দুল মান্নান ভূঁইয়া, সাইফুর রহমান, মেজর (অবঃ) হাফিজ প্রমুখ বিভিন্ন দলছুটদের নিয়ে গঠিত হওয়া বিএনপিকে সংস্কারের নামে বিলুপ্ত করে ‘কিংস পার্টি’র অংশে পরিণত করতে চেয়েছিলেন। সেসময় অসুস্থ অবস্থায় খন্দকার দেলোয়ার যদি শক্ত অবস্থান না নিতেন, তাহলে দলটিকে টিকিয়ে রাখা কঠিন হত।

খন্দকার দেলোয়ারের উত্তরাধিকার মির্জা ফখরুলের সামনেও আজকে বাংলাদেশের মাটিতে বিএনপির রাজনীতি টিকিয়ে রাখা যাবে কিনা এ কঠিন চ্যালেঞ্জ উপস্থিত। তারেক রহমানের নেতৃত্বের প্রজ্ঞার উপরে তৃণমূলের প্রায় সবার আবেগী আস্থা থাকলেও, বাস্তবতা হচ্ছে রাজনীতির জটিল সমীকরণ বুঝতে তিনি চূড়ান্ত ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছেন।

সংসদে যোগদানের মধ্যে দিয়ে বিএনপি ইতিমধ্যে নির্বাচনের বৈধতা দেয়াসহ আওয়ামী লীগ সরকারকে স্বীকৃতি দিয়েছে। এর পাশাপাশি আইনগতভাবে তৃতীয় দল হিসাবেও তারা নিজেদের মেনে নিয়েছে। এমতাবস্থায়, বিএনপির রাজনৈতিক অস্তিত্বের প্রশ্নটি অনেকাংশেই নির্ভর করছে একটি উচ্চ প্রবৃদ্ধির অর্থনীতিতে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে ন্যূনতম আন্দোলন তারা গড়ে তুলতে পারবে কিনা তার উপর। উচ্চ প্রবৃদ্ধির অর্থনীতিতে জনগণ এমনিতেই আন্দোলন বিমুখ থাকে।

দলের এ কঠিনতম মুহূর্তে মির্জা ফখরুল এ চ্যালেঞ্জ কতটুকু মোকাবেলা করতে পারবেন তার উপর দাঁড়িয়ে আছে দলটির রাজনৈতিক ভবিষ্যত। তিনি যদি ব্যর্থ হন তাহলে বিএনপিকেও তাদের আদর্শগত পূর্বসূরি মুসলিম লীগের মতো অপমৃত্যুর পরিণতি বরণ করতে হতে পারে।

এ পরিণতি বরণ করলেও, মুসলিম লীগের যে উত্তরাধিকার বিএনপি বহন করে চলছে তার ধারাবাহিকতা আরও দীর্ঘদিন সমাজে থাকবে। তবে, বিএনপির প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে এ রাজনীতিকে হয়তো আর এগিয়ে নেয়া সম্ভব হবে না।

সাঈদ ইফতেখার আহমেদশিক্ষক, স্কুল অব সিকিউরিটি অ্যান্ড গ্লোবাল স্টাডিস, আমেরিকান পাবলিক ইউনিভার্সিটি সিস্টেম, পশ্চিম ভার্জিনিয়া, যুক্তরাষ্ট্র

Responses -- “বিএনপির রাজনৈতিক অপমৃত্যু”

  1. duphun

    nice writing hope they will think of their self too. as i know for last 12 years all the journalist are dead so do the think tank of Bangladesh. we promote the corrupted Govt by writhing and don’t stand beside countries welfare. we are making Bangladesh autocratic country. JOY BANGLA

    Reply
  2. সৈয়দ আলি

    ‘তফসিল ঘোষণার সাথে সাথে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা নির্বাচনী মাঠ দখলে রাখবার উদ্যোগ নেয়। কোনওভাবেই মাঠে বিএনপি যাতে দাঁড়াতে না পারে তারা সে চেষ্টা করে।’ – এ কথা বলার পরে মৃতপ্রায় বিএনপিকে আর দোষ দেয়া যায়না।

    Reply
  3. আজিজুল হক

    আপনার শিরোনামটির সাথে একমত নই বিএনপি’র এখনো মৃত্যু হয়নি। রাজনৈতিক মৃত্যু হয়নি, স্বাভাবিক মৃত্যুও হয় নি। তবে স্বাভাবিক মৃত্যুর পথেই আছে, আর আওয়ামী লীগের ব্যর্থতার কারণেই বিএনপি’র মৃত্যু হবে না। রাজনৈতিকভাবে বি এন পির সহজে মৃত্যু হবে না কারণ যে কারণে বিএনপি’র জন্ম হয়েছিল সেটা এখনো বহাল আছে আর সেটা হচ্ছে রাজনৈতিক শূন্যতা। ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান ও স্বাধীনতা যুদ্ধ যে রাজনৈতিক চেতনার উপরে শক্তি অর্জন করেছিল – সেই চেতনাকে ধারণ করতে স্বাধীনতার পক্ষের শক্তি গুলো ব্যর্থ হয়েছিল বলেই দেশে রাজনৈতিক শূন্যতা সৃষ্টি হয়েছে । রাজনৈতিক শূন্যতার কারণে অনিচ্ছাসত্ত্বেও বঙ্গবন্ধু বাকশাল করেছিলেন, যা তিনি জাতীয় সংসদে বাকশাল গঠনের দিনে বক্তৃতায় বলেছিলেন। ষড়যন্ত্রকারীরা বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পরে ফেব্রিকেটেড বা কৃত্রিম ভাবে সৃষ্টি রাজনৈতিক ধারার জন্ম দেয় – সেই ধারাবাহিকতায় বিশেষ কোন রাজনৈতিক মতাদর্শ ছাড়া রাজনৈতিক দল হিসেবে যথাক্রমে বিএনপি জাতীয় পার্টি গণফোরাম এ ধরনের কিছু রাজনৈতিক দলের জন্ম হয়। অনেক সুযোগ থাকা সত্ত্বেও বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে নেতৃত্বদানকারী দল আওয়ামী লীগ এবং এর পাশাপাশি জাসদ বাসদ সিপিবি ন্যাপ কোন দলই সঠিক চেতনাকে ধারণ করে নিঃস্বার্থভাবে সাংগঠনিক শক্তি অর্জন করতে পারেনি ।অতিসম্প্রতি কালে গণজাগরণ মঞ্চের আন্দোলনটিকেও শূন্যে মিলিয়ে যেতে দেখেছি। দেশজুড়ে এখন রাজনৈতিক শূন্যতা – শিক্ষিত সচেতন মানুষেরা কে কোন দল সমর্থন করেন সেটা প্রকাশ্যে স্বীকার করতে চান না। এরশাদ বিরোধী আন্দোলনের সুফল ঘরে তুলতে পারলেও খালেদা জিয়া বা বিএনপি ২০১০ থেকে ২০১৫ পর্যন্ত লাগাতার আন্দোলন করেও কোনও সুফল আনতে পারেনি। নিজেদের ভুলের কথা পুরোপুরি স্বীকার না করলেও এটা বলার অপেক্ষা রাখে না যে বিএনপি’র আন্দোলন সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। মজার ব্যাপার হলো আন্দোলন ব্যর্থ হওয়ার পরে সংগঠন স্বাভাবিকভাবেই দুর্বল হয়ে গেছে, কিন্তু রাজনৈতিক মৃত্যু হচ্ছে না বরং দেশের প্রধানতম একটি রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে বিএনপি আরো অনেক দিন হয়তো টিকে থাকবে। এখানে বিএনপি’র কোন সাফল্য যেমন নেই , আওয়ামী লীগ ও কোনো সুবিধা পাচ্ছে না – কারণ, আওয়ামী লীগ উদ্ভূত পরিস্থিতির কারণে কোন সুফল ঘরে আনতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে, আর সেই ব্যর্থতার জন্য আওয়ামী লীগ নেতৃত্বের রাজনৈতিক দেউলিয়াত্ব দেখা যাচ্ছে। গত ডিসেম্বরের নির্বাচনে মাঠ পর্যায়ে আওয়ামী লীগের কর্মীদের উপস্থিতি অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক ছিল আর পাশাপাশি বিএনপির কার্যত কর্মীশূন্য অবস্থায় ছিল। বিএনপি তখনই ব্যর্থতার পরিচয় দিয়ে গুটিয়ে গেছে , আর আওয়ামী লীগ লক্ষ লক্ষ কর্মীদের মধ্যে সৃজনশীল কর্মকাণ্ডের প্রেরণা যোগাতে ব্যর্থ হচ্ছে। কর্মীরা ব্যস্ত চাঁদাবাজি, দলীয় কোন্দল, সংগঠনের পদ দখল, রাস্তায় দখলবাজি, টেন্ডারসহ নানা ধরনের স্বার্থান্ধ কাজ নিয়ে। নেতারা নিজেরা সাদামাটা জীবন যাপনের চেষ্টা যেমন করেন না তেমনি কর্মীদেরকেও সৎ বা স্বচ্ছ জীবনের দীক্ষা দেন না। ফলে রাজনীতির মাঠে কোন রাজনীতি নেই আদর্শ নেই চেতনা নেই আর এটাকেই বলে রাজনৈতিক শূন্যতা। যেহেতু রাজনৈতিক শূন্যতা বিদ্যমান সেহেতু সাংগঠনিক শক্তি না থাকলেও বিএনপি জাতীয় পার্টি গণফোরাম এরা ভালোভাবেই রাজনীতি নামক বাণিজ্য করে যাবে।

    Reply
  4. dorra

    বেগম জিয়া কারাগারে থাকলে বিএনপির “নেতারা” দৈনিক সংবাদ সম্মেলন করতে পারে, আর গণমাধ্যমের শিরোনামে থাকে। মৃত্যুপথযাত্রী বেগম জিয়াকে মুক্ত করাই প্রথম লক্ষ্য হলে বিএনপি যেকোনো শর্তে তার মুক্তি চাইতো। কিন্তু বিএনপি চায় তাদের শর্তে বেগম জিয়ার মুক্তি, যা কোনো দিন যে হবে না সেটি বিএনপির নেতারা ও লন্ডন খুব ভালো করে বোঝে।

    Reply
    • আজিজুল হক

      যে কোন শর্তে রাজি হলে খালেদা জিয়ার মুক্তি এখনই সম্ভব – এ ধরনের একটা মন্তব্য অনেকেই করছেন। তাহলে কি বিএনপি’র হাইকমান্ড খালেদা জিয়াকে জেলে রেখে নিজেরা রাজনীতি করতে চায়? ‘আগে খালেদা জিয়ার মুক্তি এবং পরে অন্য কিছু’ এই অবস্থান থেকেও বি এন পি’র উচিত যে কোন শর্ত মেনে নিয়ে খালেদা জিয়াকে মুক্ত করা। তবে অবশ্যই এ ধরনের শর্তে আপত্তিকর কিছু থাকলে সাধারণ মানুষের কাছে নিন্দনীয় হবে – সে ক্ষেত্রে সরকারী দল’ই ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং বিএনপি’ই সহানুভূতি পাবে।

      Reply
  5. মায়া

    অনেক তো উন্নয়ন হলো, মানুষ কেন তবে পালাচ্ছে? কেন নিচ্ছে করুণ মৃত্যুর পথ? কেন কাজ অথবা মৃত্যুর শপথ করছে আমাদের যুব প্রজন্মের অনেকে? কানাডা বা লস অ্যাঞ্জেলস আসলে কোথায়? মানুষ জীবনের ঝুকি নিয়ে দেশ ছাড়ছে। কারো কোন সহযোগিতা ছাড়াই উপার্জন করে সেই টাকা দেশে পাঠাচ্ছেন। আর সরকার মহোদয় রেমিটেন্স বাড়ছে, উন্নয়ন হচ্ছে বলে বগল বাজাচ্ছেন। যারা এরকম অবৈধভাবে সাগর-মহাসাগর পাড়ি দিতে গিয়ে করুণ মৃত্যু ডেকে নিয়ে আসছেন, তারা অবৈধভাবে সীমান্ত পাড়ি দিয়ে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করছে এমন কথাও বলছেন। অথচ সরকারের যত হাম্বি-তাম্বি সে তো ঐ চাষা-ভূষা, অসহায় গরীব মানুষগুলোর ইনকাম দিয়েই। হয়তো ঐ মানুষগুলো নিজেও জানে না। তার কষ্ট করে উপার্জিত অর্থ দেশে পাঠিয়ে সে দেশের কতটা উপকার করছে। গত পঁয়ত্রিশ বছর ধরে এ দেশে কেবল ইসলামের বিরুদ্ধে প্রচার চালানোকেই অনেকে মনে করেছেন প্রগতিশীলতা। ইসলামপন্থীদের বলা হয়েছে মৌলবাদী, ধর্মান্ধ, অন্ধকারের জীব। এর প্রতিক্রিয়ায় ইসলামপন্থী পক্ষ থেকে ধর্মনিরপেক্ষতাবাদীদের বলা হয়েছে ইসলামবিরোধী, নাস্তিক, মুরতাদ। এই ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়ার মধ্য দিয়ে কেটে গেছে প্রায় চার দশক কাল। এর মধ্যে ঘটেছে অনেক প্রাণহানি।রাজনৈতিক ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়ায় ব্যবহৃত ভাষা কখনো কখনো অত্যন্ত নিকৃষ্ট রুচির, অত্যন্ত নিকৃষ্ট মানসিকতার, অত্যন্ত নিকৃষ্ট চিন্তার পরিচয় দেয়।রাজনীতি এমনভাবে পরিচালিত হচ্ছে যে, বাংলাদেশে ও ভারতে পুরনো সংস্কার-বিশ্বাস ও ধর্মীয় শক্তির পুনরুজ্জীবন ঘটেছে। ভারতে ধর্মীয় শক্তি, সংবিধানের ধর্মনিরপেক্ষতার নীতি মেনে নিয়ে, ভোটের রাজনীতির কল্যাণে ক্ষমতায় এসে গেছে। গণতন্ত্রী ও সমাজতন্ত্রীরা আদর্শগত দিক দিয়ে পরাজিত। বাংলাদেশে নেতৃত্বে বংশানুক্রমিক উত্তরাধিকার ও পরিবারতন্ত্র, মন্ত্রিপরিষদ থেকে ইউনিয়ন পরিষদ পর্যন্ত সুপ্রতিষ্ঠিত হয়ে গেছে। গণতন্ত্রের নামে উত্তরাধিকারভিত্তিক এই ব্যবস্থা ক্রমেই আগেকার রাজতান্ত্রিক-জমিদারতান্ত্রিক ব্যবস্থার চেয়েও অনেক বেশি গণবিরোধী ও শক্তিশালী রূপ নিচ্ছে। সাধারণ মানুষ অসহায়, গণতন্ত্রের নামে গণতন্ত্রবিরোধী শক্তির কাছে জিম্মি। সমাজতন্ত্রীদের বক্তব্য আবেদনহীন। এনজিও ও সিএসও ভীষণভাবে সক্রিয়- যদিও তাদের বক্তব্য জনগণের কাছে আবেদনহীন। গণতন্ত্রী ও সমাজতন্ত্রীরা ইসলামপন্থীদের সঙ্গে আপস করে চলছেন। আদর্শগত অনাচার সীমাহীন। সমাজে ধর্মীয় শক্তি বর্ধিষ্ণু। ভোটাভুটি দ্বারা গঠিত সরকার গণতান্ত্রিক না হয়ে স্বৈরতান্ত্রিকও হয়ে থাকে। হিটলার, মুসোলিনি, সালাজার, ফ্র্যাঙ্কো অসাধারণ জনপ্রিয়তা নিয়ে নির্বাচিত হয়েছিলেন। কিন্তু তারা গণতন্ত্রী ছিলেন না। নির্বাচিত স্বৈরাচার অনির্বাচিত স্বৈরাচারের চেয়ে বেশি অত্যাচারী হয় এবং অনির্বাচিত স্বৈরাচারের রাষ্ট্রক্ষমতায় আসার সুযোগ তৈরি করে দেয়। বাংলাদেশের ইতিহাস কী বলে? দুঃশাসন, নির্বাচিত সরকারেরই হোক আর অনির্বাচিত সরকারেরই হোক, দুঃশাসনই। পৃথিবীতে এখন আদর্শগত শূন্যতা বিরাজ করছে এবং সমাজে ও রাজনীতিতে পুরনো পরিত্যক্ত সব সংস্কার-বিশ্বাসের ও ধর্মের পুনরুজ্জীবন চলছে। ১৯৮০-র দশক থেকেই চলছে এই প্রক্রিয়া। আদর্শগত প্রশ্নে উন্নততর নতুন চিন্তা-ভাবনা এখনো দেখা যাচ্ছে না। প্রচার মাধ্যম উন্নত নতুন কোনো চিন্তাকেই গড়ে উঠতে দিচ্ছে না। জাতীয় পতাকা, জাতীয় সঙ্গীত ও জাতিসংঘের সদস্যপদ বাংলাদেশের আছে। তবে এগুলো এখন আর রাষ্ট্রীয় স্বাধীনতার প্রতীক নয়। চলমান বিশ্বব্যবস্থার কেন্দ্র থেকে প্রান্তীয় বাংলাদেশের জন্য ‘ব্যর্থ রাষ্ট্র’ কথাটা চালু করা হয়েছিল। এখন রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশ কি ‘সফল রাষ্ট্র’? দেশ আছে, জনগণ আছে, মানুষের জীবনযাত্রা চলছে, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ঘটছে, কিন্তু এই দেশে রাষ্ট্র কি গড়ে উঠছে? রাষ্ট্র কাকে বলে? আফগানিস্তান, ইরাক, লিবিয়ারও জাতীয় পতাকা, জাতীয় সঙ্গীত ও জাতিসংঘের সদস্যপদ আছে। কিন্তু এই দেশগুলো পরিচালিত হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছানুযায়ী গঠিত ‘পুতুল সরকার’ দ্বারা। আর যুক্তরাষ্ট্র ও তার সহযোগীরা এসব রাষ্ট্রের ওপর কেবল কর্তৃত্বই করছে না, তাদের তেল, গ্যাস ও অন্যান্য খনিজসম্পদ লুটে নিচ্ছে। এই দেশগুলো কি রাষ্ট্র? সিরিয়ার অবস্থা কী? জনজীবন কেমন? আমাদের কর্তব্য বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় দুর্গতি গভীরভাবে বুঝে উন্নত ভবিষ্যৎ সৃষ্টির জন্য দূরদর্শিতার সঙ্গে করণীয় নির্ধারণ করা এবং কাজ আরম্ভ করা। দল গঠন লাগবে; শুধু চিন্তা হবে না, কাজ লাগবে যেভাবে চলছে, রাষ্ট্রীয় দিক দিয়ে জনগণের জন্য এর পরিণতি সর্বনাশা।
    বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলোর উন্নত রাজনৈতিক চরিত্র অর্জনের কিংবা জনগণের ভেতর থেকে উন্নত চরিত্রের নতুন রাজনৈতিক দল গঠনের বাস্তবসম্মত ও যুক্তিসঙ্গত কোনো প্রচেষ্টা খুঁজে পাওয়া যায় না। ভালো কোনো উদ্যোগের প্রতি জনগণ আস্থা প্রকাশ করে না। এটা কেবল রাজনীতিবিদদেরই ব্যর্থতা নয়, এটা আমাদের গোটা জাতিরই ব্যর্থতা। বিদেশে নাগরিকত্ব গ্রহণের প্রতি, অন্তত সন্তানদের যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, যুক্তরাজ্য ও অস্ট্রেলিয়ার নাগরিক করার সীমাহীন আগ্রহ দেখা যায় শাসক শ্রেণির (সরকারি ও সরকারবিরোধী উভয় অংশের) লোকদের মধ্যে। বাংলাদেশকে নিজেদের রাষ্ট্র রূপে গঠন করার মানসিকতা আছে এই লোকদের মধ্যে? এদের কল্যাণচিন্তা দিয়ে বাংলাদেশে জনগণের রাষ্ট্র গড়ে উঠবে? সংবিধানে লেখা আছে রাষ্ট্রের মালিক জনগণ, কিন্তু বাস্তবে কী দেখা যায়?দেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে যে প্রকৃতি ও রূপ দেয়া হয়েছে, তা নিয়ে বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় ভবিষ্যৎ সম্পূর্ণ অন্ধকার। জনগণের অজ্ঞতাই শাসক-প্রশাসকদের শক্তির উৎস। এই উপলব্ধি বাংলাদেশের শাসকশ্রেণির (সরকারি ও সরকারবিরোধী উভয় ধারার) লোকদের মধ্যে অত্যন্ত প্রবল। শাসকশ্রেণিতে কায়েমি-স্বার্থের চেতনা নিরঙ্কুশ কর্তৃত্বশীল হওয়ার ফলে এই শিক্ষানীতি ও শিক্ষাব্যবস্থা চলছে। এমন বুদ্ধিজীবীও বাংলাদেশে আছেন যারা এই নীতি ও ব্যবস্থার সাফল্য বর্ণনায় পঞ্চমুখ। বিচারব্যবস্থা, প্রশাসনব্যবস্থা কি স্বাধীন রাষ্ট্রের পরিচায়ক। ৩০ ডিসেম্বরের আগের বাংলাদেশ আর পরের বাংলাদেশ এক হবে না।

    Reply
    • Md. Ibrahim

      বাংগাল যেভাবেই হক রাতারাতি বড় লোক (ধনী) হতে চায়। তা তাল বা নারিকেল গাছ না লাগিয়ে কলা গাছ লাগাতেই বেশী আগ্রহী।

      Reply
  6. সাইফ

    ৩০ ডিসেম্বরের আগে বিরোধী দলের সঙ্গে ধারাবাহিক সংলাপে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নির্বাচনটি সুষ্ঠু হবে বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। নির্বাচন কমিশনও ঘোষণা করেছিল, তারা নির্বাচনে কোনো অনিয়ম বা দুর্নীতি হতে দেবেন না। নির্বাচন কমিশন স্বাধীনভাবে নির্বাচন পরিচালনা করবে। কিন্তু বাস্তবে তারা যে নির্বাচন করেছে, সেটি দেশ ও জনগণের সঙ্গে মশকরা ছাড়া কিছু নয়। পৃথিবীর সব দেশে নির্বাচনের চরিত্র মোটামুটি এক। কিন্তু বাংলাদেশে যে ১১টি সংসদ নির্বাচন হয়েছে, তার প্রতিটির বৈশিষ্ট্য ভিন্ন। রাজনীতিতে শেষ কথা বলে কিছু নেই। নিউইয়র্কের টু-ইন টাওয়ার ধ্বংসের পর পণ্ডিতেরা বলেছিলেন, ৯/১১-এর আগের পৃথিবী আর পরের পৃথিবী কখনো এক হবে না। গত ১৮ বছরের ঘটনাবলি থেকে নিশ্চিত করে বলা যায়, পণ্ডিতদের সেই ভবিষ্যদ্বাণী মিথ্যা হয়নি। ওই পণ্ডিতদের কথার প্রতিধ্বনি তুলে বলতে চাই, ৩০ ডিসেম্বরের আগের বাংলাদেশ আর পরের বাংলাদেশ এক হবে না। বিএনপির বিকল্প হিসেবে স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় কোনো রাজনৈতিক শক্তির স্বতঃস্ফূর্ত আবির্ভাব ঘটেনি। অথচ ভিন্নমত ছাড়া কোনো সমাজের স্বাভাবিক বিকাশ ঘটে না। ক্ষমতাসীন জোটের সঙ্গে আসন ভাগাভাগির সমঝোতায় টিকে থাকা কোনো দলকে বিরোধী দল মনোনীত করলেই সেই কাঙ্ক্ষিত বিকল্প সৃষ্টি হয় না। দেশ পরিচালনায় এখন রাজনীতির স্থান কোথায়? রাজনীতিকদের ভূমিকাই বা কী? দেশের কোন দলটি সংকটে নেই? এমনকি, সরকারের পছন্দের বিরোধী দলেও নেতৃত্বের উত্তরাধিকার নিয়ে চলছে তোলপাড়। ১০ বছর জোটবদ্ধ হয়ে ছিল যেসব ক্ষুদ্র শরিক, এবার মন্ত্রিসভায় জায়গা না পেয়ে তাদের মধ্যেও চলছে টানাপোড়েন। সংরক্ষিত নারী আসনে পারিবারিক মনোনয়ন নিয়ে একটি দলে মান-অভিমানের পালা যেন থামছেই না। আরেকটি দল তো নির্বাচনের আগেই দ্বিখণ্ডিত হয়েছে এবং একটি ভাগে একজন পুনর্নির্বাচিত হওয়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।
    আওয়ামী লীগেও যে রাজনীতি রমরমা, দলটির প্রবীণ রাজনীতিকদের নিস্পৃহতা-নিষ্ক্রিয়তায় এমন আলামত মেলে না। মন্ত্রিত্ব না থাকায় দলটির ঝানু রাজনীতিকদের এখন সময় কাটে হয় নাতি-পুতিদের সঙ্গ দিয়ে, নয়তো স্মৃতিকথামূলক কলাম লিখে। দলটির ঘোষণাপত্রে একসময় ধর্মনিরপেক্ষ-অসাম্প্রদায়িক রাজনীতি ও শোষণমুক্ত সাম্যের সমাজ প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার ছিল। এখন দেশের সবচেয়ে রক্ষণশীল এবং গোঁড়া ধর্মীয় গোষ্ঠীগুলো খোলামেলাই বলে থাকে যে বর্তমান সরকারের চেয়ে ধর্মবান্ধব সরকার তারা এর আগে পায়নি। শোষণমুক্ত সমাজের অঙ্গীকারের বিপরীতে অর্থনীতিতে বৈষম্য এখন সর্বোচ্চ। ধর্মাশ্রয়ী রাজনীতি এবং মুক্তবাজার অর্থনীতি—এ দুটোর সঙ্গেই একসময় বিএনপির নামটা আপনা-আপনি চলে আসত। এরশাদও সেই ধারাই অনুসরণ করেছেন। এখন আওয়ামী লীগ এই ধারা অনুসরণে সবাইকে যে শুধু ছাড়িয়ে গেছে তা-ই নয়, বরং তারা নিজেদের অবস্থান বেশ সংহত করে ফেলেছে। ব্যাংক-বিমার উদ্যোক্তা পরিচালক কিংবা পোশাক রপ্তানিকারকদের মতো পুঁজিপতি-শিল্পপতিরা এতটা বাজারবান্ধব সরকার আর পায়নি। আবার, প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যেভাবে ভিন্নমত দমনে কার্যকর ভূমিকা রেখে চলেছে, তারও কোনো জুড়ি নেই। এসব ক্ষেত্রেও উন্নয়নের মতোই নতুন নতুন নজির তৈরি হচ্ছে। রাজনীতি রাজনীতিকদের জন্য কঠিন করে দেওয়ার কথা কে বলেছিলেন সেই প্রশ্নটা যদি না-ও করি, তবু নির্দ্বিধায় বলা যায় বিষয়টা এখন আর রাজনীতিকদের হাতে নেই। ডান-বাম-মধ্যপন্থী কারও হাতেই নেই। সরকার পরিচালনায় রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর উপযোগিতা ক্রমেই কমছে। মূলত প্রশাসন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলোই এখন সরকারের প্রতিভূ। ফলে স্বভাবজাত ঋণখেলাপিদের ঋণে ছাড় দেওয়া কিংবা আমলাদের বিনা সুদে গাড়ি-বাড়ির ঋণ দেওয়া যে অগ্রাধিকারের বিষয় হবে, সেটাই তো স্বাভাবিক। বিএনপি ও ঐক্যফ্রন্টের সাংসদেরা যে সরকারের করুণায় সংসদে এসেছেন, সে বিষয়ে সন্দেহের অবকাশ নেই। নাজমুল হুদার মতো সুপরিচিত রাজনীতিকদের দিয়ে সরকারবান্ধব বিএনপি গড়া সম্ভব হয়নি বলেই হয়তো এসব প্রায় অচেনা কয়েকজন নেতার কপাল খুলেছে। গণমাধ্যম এখন যে দৈন্যদশায় নিপতিত হয়েছে, তাতে তাদের কাছে এ রকম ভূমিকা প্রত্যাশা করা অবাস্তব। নির্বাচনোত্তর রাজনীতির সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনাবলি পত্রিকার পাতায় বা টেলিভিশনের পর্দায় জায়গা না পাওয়ার সাম্প্রতিকতম নজিরগুলো এ ক্ষেত্রে স্মরণ করা যেতে পারে। ভোটের অধিকারকে নির্বাচনব্যবস্থার ধ্বংসস্তূপ থেকে তুলে আনার মতো বিষয়ে ন্যূনতম কর্মসূচিতে নতুন রাজনৈতিক মেরুকরণ ছাড়া এই রাজনৈতিক শূন্যতা পূরণের অন্য কোনো বিকল্প নেই। বিএনপিকে নিয়ে যাঁরা শোকবার্তা লিখছেন, তাঁরা অবশ্য কোনো বিকল্পের প্রয়োজনীয়তা বোধ করেন কি না, তা স্পষ্ট নয়।

    Reply

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। প্রতিক্রিয়া লেখার সময় লক্ষ্য রাখুন--

  • ১. স্বনামে বাংলায় প্রতিক্রিয়া লিখুন।
  • ২. ইংরেজিতে প্রতিক্রিয়া বা রোমান হরফে লেখা বাংলা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না।
  • ৩. প্রতিক্রিয়ায় ব্যক্তিগত আক্রমণ গৃহীত হবে না।

দরকারি ঘর গুলো চিহ্নিত করা হয়েছে—