বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত খবর থেকে জানা যাচ্ছে যে, জুন মাসের ১৩ তারিখে আগামি অর্থবছরের (২০১৯-২০) বাজেট পেশ করা হবে। এবারের বাজেট হবে প্রায় সোয়া ৫ লাখ কোটি টাকার। বিভিন্ন ধরনের কর-শুল্ক থেকে আসবে ৩ লাখ ৩৯ হাজার কোটি টাকা (৬৪.৫%)। কর বর্হিভূত উৎস (সরকারের বিভিন্ন সম্পদ ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে আয়, টোল-ফি ইত্যাদি) থেকে আসবে ৩৮ হাজার কোটি টাকা (৭.৪%) এবং বাকি ১ লাখ ৪৮ হাজার (২৮%) কোটি টাকা আসবে ধার-কর্জ ও বৈদেশিক অনুদান থেকে। আনুষ্ঠানিকভাবেজাতীয় সংসদে বাজেট পেশ হবার পরে পত্র-পত্রিকা থেকে শুরু করে অনেকেই এটাকে ‘বিশাল‘ অংকের বাজেট হিসেবে আখ্যায়িত করবে। বিশেষজ্ঞরা বলতে শুরু করবেন, এতো বড় অংকের বাজেট বাস্তবায়ন করার ক্ষমতা সরকারের নেই ইত্যাদি ইত্যাদি।

প্রশ্ন হলো, বাংলাদেশের অর্থনীতির আকার ও জনসংখ্যার বিবেচনায় সোয়া ৫ লাখ কোটি টাকার বাজেট কি ‘বিশাল‘ বাজেট? মোটেই না। বাংলাদেশের জন্য এটা খুবই ‘ছোট‘ বাজেট। এই বাজেট হওয়া উচিত কমপক্ষে ৮ থেকে ১০ লাখ কোটি টাকার। চমকে ওঠার মতো কোনও কথা নয়। আমাদের অর্থনীতির সেই সামর্থ্য আছে। এটা মনে রাখতে হবে।

কোনও দেশে টাকার অংকে বাজেটের আকার কেমন হবে সেটা নির্ভর করে দু‘টি বিষয়ের ওপর- ১.সরকার কী পরিমাণ কাজ করবে এবং ২. সে সব কাজ করার জন্য খরচ যোগাবার সামর্থ্য জাতীয় অর্থনীতির আছে কিনা।

আমাদের মতো ‍উন্নয়নশীল দেশের অর্থনীতিতে সব সময়ই বিপুল ‘চাহিদা‘ থাকে। তার মানে এ ধরনের সমাজ-অর্থনীতির ‘ক্ষুধা’ অত্যন্ত বেশি। এই ক্ষুধা নিবৃত্তির বড় একটা অংশের দায়িত্ব সরকারের। সরকার সরাসরি সব ধরনের ক্ষুধা নিবৃত্তি করে না বটে; তবে এমন সব কাজ সরকারকে করতে হয় যার ফলে মানুষ নিজেই নিজের ক্ষুধা নিবৃত্তি করতে পারে। এই ক্ষুধা শুধু ভাতের ক্ষুধা নয়; শিক্ষা-স্বাস্থ্য-নিরাপত্তা-নিরাপদ যোগাযোগসহ সব ধরণের ক্ষুধা। ফলে সরকারকে প্রচুর কাজ করতে হয়- অবকাঠামো নির্মাণ থেকে সেবাদান। গরীব মানুষের জন্য ভাতা দেওয়াসহ আরও নানা ধরনের কাজ। এর জন্য বিরাট একটা প্রশাসনকেও পুষতে হয়।

এবার বাংলাদেশের দিকে তাকান। ১৭ কোটি মানুষের বিপুল জনসংখ্যার একটি দেশ। অর্থনীতির ‘সাইজ’ও অনেক বড়। চলতি বাজার মূল্যে (২০১৮-১৯) জিডিপি‘র আকার প্রায় সোয়া ২৫ লাখ কোটি টাকা। জিডিপি‘র হিসেবে বিশ্ব র‌্যাংকিং-এ বাংলাদেশের অর্থনীতির অবস্থান ৪১তম। গত ৫ বছর ধরে জিডিপি’র প্রবৃদ্ধি ৭ শতাংশের ওপরে আছে। আইএমএফ এর মতে, বিশ্বের দ্রুত বর্ধনশীল ৫টি অর্থনীতির মধ্যে বাংলাদেশ একটি। এখন প্রশ্ন হলো, এতো বড় একটা অর্থনীতি থেকে কর আকারে কতো টাকা তোলা সম্ভব? কর-জিডিপি অনুপাত থেকে এটা আন্দাজ করা যায়। ২০১৮-১৯ অর্থ বছরে কর-জিডিপি অনুপাত দেখানো হয়েছে ১২ দশমিক ২ শতাংশ (যদিও প্রকৃত হিসেবে এটা নেমে যাবে)। ২০১৪-১৫ অর্থ বছরে ছিল ৮ দশমিক ৫ শতাংশ। গত ৫ বছরে যদিও ধীরে ধীরে এই হার ওপরের দিকে উঠছে, তবে এটা দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশের তুলনায় এখনও নিচে পড়ে আছে। ২০১৬-১৭ অর্থ বছরে ভারত, ভুটান, পাকিস্তান, মালদ্বীপ, শ্রীলঙ্কা ও নেপালে এই হার ছিল যথাক্রমে ১৬ দশমিক ৫, ১৩ দশমিক ২, ১১দশমিক ৬, ২০ দশমিক ২, ১২ দশমিক ৫ এবং ১৮ দশমিক ৭ শতাংশ। আমাদের সপ্তম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০১৮-১৯ এ এই হার ১৩ দশমিক ১ শতাংশে ওঠার কথা। কিন্তু তা হয়নি।

বাজেটে আয়ের দিকটি ভালোভাবে বুঝতে গেলে কর-জিডিপি অনুপাত একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আমাদের জিডিপি‘র প্রবৃদ্ধি ‘ঈর্ষণীয়‘। তার মানে দেশে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বেড়েছে, ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের আয়-সম্পদ বেড়েছে। কিন্তু সেই আয়-সম্পদ থেকে যথাযথ মাত্রায় কর আহরণ করা যাচ্ছে না। এর জন্য প্রথমত, দায়ী জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) নিজে। নিজেদের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দুর্নীতি ইত্যাদি। ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে যে অর্থ তোলা হয় তার সবটা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা হয় না। বিদ্যমান আইন-কানুনের ভেতরে থেকেই তারা অনেক টাকা পকেটস্থ করতে পারে।

দ্বিতীয় কারণ, বিদ্যমান কর সংক্রান্ত আইন-কানুন। যার ভেতর দিয়ে কর ফাঁকি দেবার যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে। তাছাড়া ধনাঢ্য ও ক্ষমতাবানদের কাছ থেকে কর তোলা যাচ্ছে না এবং তৃতীয়ত, কর প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রযুক্তি ব্যবহারে অনীহা। এসবই অবশ্য পুরানো কথা, পুরানো অভিযোগ। নতুন কিছু নয়।

তবে সরকারের তরফে আরেকটা অভিযোগ সব সময় তোলা হয়- জনগণ কর দিতে চায় না। মানুষ সুযোগ পেলেই কর ফাঁকি দেয়। কথাটা একেবারে মিথ্যা নয়। কিন্তু জনগণ কেন কর দিতে চায় না?

সরকারের তরফে সুষ্ঠুভাবে এইটার ‘কারণ‘ অনুসন্ধান করা হয়নি। মনে রাখতে হবে, জনগণ কর আকারে সরকারকে যে টাকা দেয়, সেটা তার ‘কষ্টার্জিত’ টাকা। কষ্টার্জিত টাকা কেউ কাউকে এমনি এমনি দিতে চাইবে না- এটাই স্বাভাবিক। ফলে যে লোক পকেটের টাকা সরকারকে দেবে, সে সবার আগে নিশ্চিত হতে চাইবে যে, টাকাটা দেবার ফলে তার কী ‘উপকার‘ হবে। কী ধরনের ‘বেনিফিট’ সে পাবে। কী সেই বেনিফিট? নানান ধরনের ‘সেবা’- শিক্ষা, স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা, নিরাপদ যোগাযোগ, নির্বিঘ্নে ব্যবসা-বাণিজ্য করার পরিবেশ ইত্যাদি। পাশাপাশি জনগণ এটাও দেখতে চায়, তার টাকাটা ‘যথাযথভাবে’ ব্যবহার হচ্ছে; কেউ দুর্নীতির মাধ্যমে এই টাকা ‘মেরে‘ খাচ্ছে না।

কিন্তু এসব বিষয়ে জনগণের দৈনন্দিন অভিজ্ঞতা মোটেই ভালো নয়। যেমন শিক্ষা ব্যয় মারাত্মক আকারে বেড়েছে। শিক্ষার ‘কোয়ালিটি’ খুব খারাপ। স্বাস্থ্য ব্যয় বেড়েছে। স্বাস্থ্য সেবার জন্য জনগণকে মোট ব্যয়ের ৬৭% নিজের পকেট থেকে খরচ করতে হয়। জনগণ প্রতিনিয়ত দেখছে, বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে টাকা ‘লুটপাট‘ হচ্ছে। কোনও কাজ না করেও প্রকল্প বাস্তবায়নের নামে সরকারি অর্থ তুলে নেয়া হচ্ছে। সড়ক, রেলপথ, ওভার ব্রিজ ইত্যাদি বানানোর খরচ ‘বড়‘ আকারে দেখিয়ে প্রকল্প ব্যয় বাড়ানো হচ্ছে এবং এর ভেতর দিয়ে একদল সুবিধাভোগী টাকা বানাচ্ছে। এসবই জনগণের কষ্টার্জিত টাকা। ফলে কষ্টার্জিত টাকার ‘নয়-ছয়‘ চোখের সামনে দেখার পরেও, মানুষ কর দিতে আগ্রহী হবে কেন? মানুষতো আর বোকা নয়!

সরকারের রাজস্ব ব্যবস্থাপনা, বাজেট ইত্যাদি নিয়ে যারা চিন্তা-ভাবনা করেন, তারা এ বিষয়টিকে দেখেন ভিন্ন আঙ্গিকে। সরকার যেমন কর-জিডিপি অনুপাত বাড়িয়ে বাজেট বড় করতে চায়; তেমনি জনগণও অন্য আরেকটি অনুপাত দেখতে চায়- ‘কর-সেবা‘ অনুপাত। যে পরিমান কর দিচ্ছি, সেই অনুপাতে সেবা পাচ্ছি কিনা। আমাদের মতো উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য এটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এই কর সেবার অনুপাত একটা ‘কাম্য‘ লেভেলে না আসা পর্যন্ত, কর ফাঁকির জন্য সাধারণ জনগণকে দোষারোপ করে খুব একটা লাভ হবে না বলেই মনে হয়।

আবার বাজেটের আকারের কথায় আসা যাক। বিদ্যমান ব্যবস্থার মধ্যেও কতো টাকা তোলা সম্ভব? সবাই বলবেন, আরো অনেক টাকা তোলা যায়। তবে এটা নির্ভর করছে এনবিআর এর লোকজনের দুর্নীতির মাত্রা কতোটা কমানো যাবে- তার ওপর। তাছাড়া নতুন কিছু ক্ষেত্রে করারোপ দরকার- যেমন সম্পদের ওপর কর। নামে-বেনামে প্রচুর সম্পদ আছে বহু লোকের কাছে। এর ওপর এখন সামান্য একটা ‘সারচার্জ’ আরোপ করা হয়। এটাও ফাঁকি দেবার প্রচুর সুযোগ আছে। এই সুযোগের ‘সদ্ব্যবহার’ করে ধনী আর ক্ষমতাবানরা। কর প্রশাসনের লোকজন এ কাজে তাদের সহায়তাও করে। যাইহোক, প্রযুক্তি ব্যবহার করে কর ফাঁকি বেশ খানিকটা বন্ধ করা যায়। ফলে সরকারের কোষাগারে বাড়তি টাকা চলে আসতে পারে। আরও একদিক দিয়ে সরকারের আয় বাড়ানো যায়। সরকারের হাতে যেসব সহায়-সম্পদ আছে সেগুলো থেকে আয় হয় (যা মূলত: কর-বর্হিভূত আয় হিসেবে পরিচিতি) মোট বাজেটের মাত্র ১১-১২ শতাংশ। এসব সম্পদের ‘প্রুডেন্ট’ ব্যবস্থাপনার ভেতর দিয়ে ইনকাম আরো বাড়ানো সম্ভব। যেমন ধরুন, বাংলাদেশে রেলওয়ে-বিমান কিংবা সরকারি পাটকল- এগুলো বছরের পর বছর লোকসান দিয়ে চলে। ব্যবস্থাপনা ঠিক করলে এবং দুর্নীতি কমাতে পারলে- এগুলো লাভের মুখ দেখতে পারে এবং সরকারের আয় বাড়তে পারে।

গত কয়েক বছর ধরে ‘বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতি‘ সরকারের পাশাপাশি ‘বিকল্প বাজেট‘ পেশ করে আসছে। তারা দেখাচ্ছে, কীভাবে আয় বাড়ানো সম্ভব; কোথা থেকে বাড়তি অর্থ আসতে পারে এবং এটা সংগ্রহ করার জন্য সরকারকে আইন-কানুন ও ব্যবস্থাপনাগত কী কী পরিবর্তন আনতে হবে। ২০১৮-১৯ অর্থ বছরে অর্থনীতি সমিতি প্রস্তাবিত ছিল ১২ লাখ ১৬ হাজার ৪০০ কোটি টাকার যা সরকারের ২০১৭-১৮ অর্থবছরের বাজেটের তুলনায় ৩.০৪ গুণ বড় ! বিকল্প এ বাজেটে দেখানো হয়েছিল, সরকার চাইলে নানা ধরনের কর ও কর-বর্হিভূত উৎস থেকে সর্বমোট প্রায় ১০ লাখ কোটি টাকা আয় করতে পারে। অথচ সরকারের টার্গেট ছিল মাত্র ৩ লাখ কোটির কাছাকাছি ! ফলে অর্থনীতিবিদদের হিসাব মতে, বাংলাদেশের অর্থনীতি থেকে এখন যে পরিমাণ টাকা কর আকারে উঠছে তার তিনগুণ টাকা তোলা সম্ভব।

এখানে যে বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সেটি হলো, কোন্ কোন্ উৎস থেকে এ টাকা আসবে। এটা বাজেটের একটা ‘রাজনৈতিক‘ দিক। ধনাঢ্য ও ক্ষমতাবানদের কাছ থেকে সরকার কর তুলতে পারে না। সংগঠিত ব্যবসায়ী, শিল্পপতিরা নানা ধরণের কার-ছাড়ের সুযোগ নিয়ে নেয়। ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা এই সুযোগ পায় কম। ফলে সরকারের মোট আয়ে যে ঘাটতি দেখা দেয়, সেটা পূরণ করতে সরকার একটা ‘সহজ’ পদ্ধতির আশ্রয় নেয়- ভ্যাট আদায় বাড়িয়ে দেয় এবং ভ্যাটের আওতা সম্প্রসারিত করে। পাশাপাশি বৈদেশিক ও দেশীয় উৎস থেকে কর্জ করে। ভ্যাটসহ এরকম নানা ধরনের ‘পরোক্ষ কর’ বাড়িয়ে দিয়ে কার্যত ধনী ও ক্ষমতাবানদের বাঁচানো যায়, কেননা চূড়ান্ত বিচারে এর প্রভাব গিয়ে পড়ে ভোক্তার ঘাড়ে- যার সিংহভাগই মধ্যবিত্ত বা নিম্ন-মধ্যবিত্ত মানুষ। এইটা বাজেটের ‘রাজনৈতিক-অর্থনীতি’র একটা গুরুত্বপূর্ণ দিক, যা নিয়ে বিস্তর আলাপ-আলোচনা হওয়া দরকার।

যাইহোক, সবশেষে মূল কথাটা বলা দরকার। এটা সবাইকে স্বীকার করতে হবে যে, বাংলাদেশের ১৭ কোটি জনসংখ্যা ও বর্তমান অর্থনীতির সাইজের তুলনায় প্রস্তাবিত সোয়া পাঁচ লাখ কোটি টাকার বাজেট খুবই ছোট বাজেট। এর চেয়ে বড় বাজেট বানানোর সামর্থ্য আমাদের আছে। কর কাঠামো ও প্রশাসনে প্রয়োজনীয় সংস্কার আনতে পারলে, দুর্নীতি কমাতে পারলে- কর জিডিপি অনুপাত ২০ শতাংশে টেনে তোলা সম্ভব। ৭ম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় ২০২০ সালের মধ্যে কর-জিডিপি অনুপাত ১৪.১ শতাংশে উত্তরণের যে প্রস্তাব করা হয়েছে, তা খুবই ‘রক্ষণশীল‘ হিসাব বলেই মনে হয়। যদিও কর প্রশাসন সেটাও পারবে না। কর-জিডিপি অনুপাত ২০ শতাংশ ধরলে কম পক্ষে ৫ লাখ কোটি টাকা শুধু কর থেকেই আহরিত হতে পারে। এর বাইরে কর বহির্ভূত খাত থেকে আরও দেড় লাখ কোটি টাকা আয় করতে পারলে (যা খুবই সম্ভব- যদি সরকার পরিচালিত কলকারখানা, রেলওয়ে-বিমান ইত্যাদিকে লাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করা যায়) সরকারের মোট আয় দাঁড়াবে সাড়ে ৬ লাখ কোটি টাকা। এর সাথে আরো কমপক্ষে দেড় লাখ কোটি টাকা দেশি-বিদেশি সোর্স থেকে ধার-কর্জ ও বৈদেশিক অনুদান থেকে আসলে বাংলাদেশের বাজেটের আকার দাঁড়াবে ৮ লাখ কোটি টাকা। সমিতি প্রস্তাবিত ১২ লাখ কোটি টাকার বাজেটকে ‘উচ্চাভিলাষী‘ মনে হলে, এই ৮ লাখ কোটি টাকার বাজেটকে নিশ্চয়ই খানিকটা ‘আমলযোগ্য’ বলা যেতে পারে !

Responses -- “বাংলাদেশের বাজেট এতো ‘ছোট’ হবে কেন?”

  1. নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক

    বিশ্বের কোন কোন শহর বসবাসের জন্যে সবচেয়ে ভালো এবং সবচেয়ে খারাপ – তার একটি তালিকা প্রকাশ করেছে লন্ডনভিত্তিক ম্যাগাজিন দ্য ইকোনমিস্টের ইন্টেলিজেন্স ইউনিট বা ই আই ইউ। সেই তালিকার দুই নম্বরে আছে ঢাকা। এতে মোটেই অবাক হননি নগর পরিকল্পনাবিদ ইকবাল হাবিব। গত কয়েক বছর ধরেই এই জরিপে ঢাকার অবস্থা এরকমই। আর এই অবস্থার জন্যে দায়ী জনঘনত্ব অর্থাৎ একই পরিমাণ জায়গায় সবচেয়ে বেশি সংখ্যক লোকের বসবাস। “মেলবোর্ন বা ভিয়েনার সাথে তুলনা করলে দেখা যাবে ওই দুটো শহরে জনঘনত্ব এতোটাই কম যে ওই দুটো শহরের সাথে সরাসরি ঢাকার মতো অতি জনঘনত্বের একটি শহরকে তুলনা করা যায় না।” সরকারি হিসেবে ঢাকায় বর্তমান জনসংখ্যা এক কোটি ৬৫ লাখ। আর প্রতি বর্গকিলোমিটারে বাস করেন ৪৫ হাজারেরও বেশি মানুষ। “এই বিপুল সংখ্যক মানুষের কারণে ঢাকা শহর বারবার পিছিয়ে পড়ছে। কিন্তু যুদ্ধে বিধ্বস্ত একটি শহর দামেস্কের পরেই কেন ঢাকার অবস্থান এই প্রশ্নের জবাবে হাবিব বলেছেন, ” ব্যাপক জনঘনত্বের কারণে সব ধরনের সেবা, সুযোগ, সম্ভাবনা সবকিছু একটা বড় রকমের চাপের মুখে পড়ে গেছে। আর একারণেই ঢাকার অবস্থা যুদ্ধবিধ্বস্ত অন্যান্য শহরের মতোই হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রচুর উন্নয়ন হচ্ছে। শহরেরও উন্নয়ন হচ্ছে। কিন্তু নীতিগত এসব পরিবর্তন খুব ধীর গতিতে হচ্ছে বলে এই উন্নয়নকে সর্বব্যাপী করা সম্ভব হচ্ছে না।, ঢাকার মতো একটি শহরকে জনবান্ধব করা যতোটা কঠিন, পৃথিবীর আর কোন শহরকে জনবান্ধব করা এতোটা কঠিন নয়। ঢাকার অবস্থা একদিনেই এরকম হয় নি এবং খুব তাড়াতাড়ি এই অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসা সম্ভব না। ঢাকাকে যে সংস্থা গুলো দেখভাল করে এদের কমিটমেন্ট আর সক্ষমতার অভাবের কারণে ঢাকার এ অবস্থা। নাগরিকদের অসচেতনতা, আইন না মেনে চলার প্রবণতা, অতিরিক্ত জনসংখ্যার চাপ আর বিকেন্দ্রীকরণের অভাবেই এর দুরবস্থা। যে শহরে ৮ কিলোমিটার রাস্তা যাতে ২ ঘণ্টা সময় লাগে, যেখানে সামান্য বৃষ্টি হলে জলাবদ্ধতা হয় আর রৌদ্রোজ্জ্বল দিনে ধুলার কুয়াশা, ফুটপাতের বেহাল দশা, অপরিকল্পিত স্থাপনা, অপরিকল্পিত ব্যবসায়িক ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, অপরিকল্পিত যোগাযোগ ব্যবস্থা, এরকম একটি শহর অবশ্যই বসবাস অনুপযোগী শহরের উত্তম উদাহরণ হওয়া উচিৎ যা ঢাকা শহরের বর্তমান অবস্থা। এমনিতেই নানা সমস্যায় জর্জরিত রাজধানী শহর ঢাকা। জনসংখ্যার ভারে কার্যত ঢাকা এখন নুইয়ে পড়ছে। উপরন্তু জনসংখ্যার চাপ ক্রমাগত বাড়ছেই। কিন্তু সে অনুযায়ী সুযোগ-সুবিধা বাড়ছে না। সত্যি বলতে সে ধরনের অবস্থায়ও নেই। সবচেয়ে দুঃখজনক হচ্ছে, বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা শহর গড়ে উঠেছে একেবারেই অপরিকল্পিতভাবে। নাগরিক সুযোগ-সুবিধার অনেক কিছুই এখানে অনুপস্থিত। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন জরিপ সংস্থার মতে, বিশ্বের বসবাসের উপযোগিতার বিবেচনায় সবচেয়ে অযোগ্য শহর ঢাকা। আসলে পরিকল্পিত নগর বলতে বুঝায় একটি পরিকল্পিত জনবসতি, যার সবকিছু হবে পরিকল্পনা অনুযায়ী। কোথায় স্কুল-কলেজ-হাসপাতাল হবে, অফিস আদালত কোথায় হবে, কোথায় হবে বসবাসের জায়গা- এসবকিছুই হবে পরিকল্পনামাফিক। পরিকল্পনামাফিক সবকিছু হলে শহরে বসবাসরত মানুষ শৃঙ্খলাপূর্ণ নাগরিক সুযোগ-সুবিধা ভোগ করে। এতে তার নাগরিক জীবন হয় মর্যাদাপূর্ণ ও স্বস্তিদায়ক। কিন্তু এ নগরই আবার পরিকল্পনাহীনভাবে গড়ে উঠলে তাতে নাগরিকদের জীবন অস্বস্তিকর হয়ে ওঠে। জনজীবনকে করে তোলে বিপর্যস্ত। মানুষের ভোগান্তির কোনো শেষ থাকে না। এ থেকে উত্তরণের জন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। শুধু ঢাকা নয়, দেশের অন্যান্য শহরকেও পরিকল্পনামাফিক গড়ে তুলতে হবে। সুষম উন্নয়ন করতে হবে গ্রামেও। ঢাকা শহরের ওপর জনসংখ্যার চাপ কমাতে হলে এর কোনো বিকল্প নেই।

    Reply
  2. সৈয়দ আলি

    খামাখা বড় বড় কথা বলা। যে তত্ত্ব-উপাত্ত ব্যবহার করে তথাকথিত ‘বিস্ময়কর’ প্রবৃদ্ধি দেখানো হচ্ছে তাতেই তো বিশ্বাস রাখছেন না অর্থনীতিবিদেরা। এগুলো সরকারপক্ষের অপচেষ্টা এটি দেখানো যে, এই সরকারের আমলে কী দারুণ উন্নয়নই না হচ্ছে! অসম সম্পদ পুঞ্জীভূত করে রাম-রহিম-যদুরা সরকারের প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় হাজার কোটিপতি হয়ে উঠছে। লাখ লাখ ডলার বিদেশে পাচার করে দেশকে সম্পদশূন্য করে দিচ্ছে আর তাদের অবৈধ আয়কে প্রবৃদ্ধি বলা হচ্ছে। ইতোমধ্যে অর্থমন্ত্রী ঘোষণা করেছেন (আমি একে হুমকি মনে করছি) যে, মজা টের পাবেন বাজেটের পরে। এরপরেও আরো বড় বাজেটের ওকালতির পিছনে মতলবটি কি? আরো বড় আকারের লুন্ঠন নিশ্চয়ই।

    Reply

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। প্রতিক্রিয়া লেখার সময় লক্ষ্য রাখুন--

  • ১. স্বনামে বাংলায় প্রতিক্রিয়া লিখুন।
  • ২. ইংরেজিতে প্রতিক্রিয়া বা রোমান হরফে লেখা বাংলা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না।
  • ৩. প্রতিক্রিয়ায় ব্যক্তিগত আক্রমণ গৃহীত হবে না।

দরকারি ঘর গুলো চিহ্নিত করা হয়েছে—