অপরাধী না থাকার কারণে এক এক করে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে নেদারল্যান্ডসে কারাগারগুলো। অপরাধীর সঙ্কটে এ পর্যন্ত মোট ১৮টি কারাগার বন্ধ করে দিয়েছে সরকার। আশ্চর্য মনে হলেও এমন উদাহরণ সৃষ্টি করেছে ইউরোপের দেশ নেদারল্যান্ডস!

আর আমাদের বাংলাদেশে নতুন নতুন কারাগার তৈরি করেও স্থান সংকুলান হচ্ছে না কয়েদির! এইতো কিছুদিন আরও একটি বড় কারাগার কেরানীগঞ্জে চালু হলো। কিছুদিন আগের এক পরিসংখ্যানে জানা যায়- বর্তমানে দেশের কারাগারগুলোতে ধারণক্ষমতার ৩৪ হাজার ৭৯৬ জনের বিপরীতে ৬৯ হাজার ৭৭৪ জন বন্দি রয়েছেন। তবে তা প্রতিদিন বেড়ে চলেছে। বিশেষ সময়ে বিশেষ অভিযানে হাজার হাজার বন্দির জায়গার সংস্থান করতে হয় আবার কারাগারে!

নেদারল্যান্ডস ও বাংলাদেশের উল্লিখিত এইসব পরিসংখ্যানের তুলনামূলক বিচার থেকে থেকে বোঝা যায়, আমাদের দেশে অপরাধপ্রবণতা কতটা সামাজিক ক্ষত হিসেবে জায়গা দখল করে আছে! আমরা কতটা সভ্য ও উন্নত হয়ে এখানে জীবনের স্বাদ গ্রহণ করছি। আমাদের নাগরিক দায়িত্ব ও কর্তব্যের জায়গাটা কতটা নৈতিক ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে আছে। রাষ্ট্র, সরকার, রাজনৈতিক দল ও সমাজের অন্যান্য সংগঠন আমরা কতটা আমাদের গড়ে তুলছি- সুসভ্য মানুষ হিসেবে!

নেদারল্যান্ডসে এমনি এমনি এটা হয়নি। এর পেছনে দীর্ঘমেয়াদি পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও উদ্যোগ রয়েছে। জেলে পচিয়ে শাস্তি  দেওয়ার দিকে না ঝুঁকে বরং দোষীকে সামাজিক কাজেই ব্যবহার করেই তাকে মূল স্রোতে ফেরানো হয়। নেদারল্যান্ডসে প্রযুক্তির সাহায্যে অপরাধীদের ওপর নজর রাখা হয়। অন্যদিকে সামাজিক এবং দৈনন্দিন কাজে উৎসাহ দেওয়া হয় দোষীদের। শুধু তাই নয়- নেদারল্যান্ডসের মানুষের মধ্যে সামাজিক অভিন্ন কিছু দৃষ্টিভঙ্গি দৃঢ়ভাবে তৈরি হয়েছে, নৈতিকবোধ তাদের মধ্যে উন্নত ও দৃঢ়, যা তাদের মধ্যে অপরাধ প্রবণতা কমিয়ে ফেলেছে। এছাড়া ব্যক্তির শৃংখলাবোধ ও ব্যক্তির স্বাধীকারবোধ এবং রাষ্ট্রের প্রতি জনগণের দায়, ঠিক তেমনি ব্যক্তির প্রতি রাষ্ট্রের দায়, যা সমন্বিতভাবে একীভূত হয়ে সামগ্রীকভাবে মানুষের কল্যাণের পথকে প্রশস্ত করেছে।

নেদারল্যান্ডস গণতন্ত্রের চর্চায় দীর্ঘদিন হলো এক ধরনের শাসনব্যবস্থায় এগিয়ে চলেছে, এই শাসনব্যবস্থায় উচ্চশ্রেণি ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির সমঝোতায়- এক ধরনের সামাজিক ও মানবিকবোধের ঐক্য গড়ে তুলতে পেরেছে। এর ফলে তাদের মধ্যে রাষ্ট্রের নাগরিক হয়ে ওঠার জন্য দায়িত্ব ও কর্তব্যের পাশাপাশি অধিকার চেতনাও কাজ করেছে। মনস্তাত্ত্বিকভাবে নিজেদের মধ্যে এক ধরনের বন্ধন তৈরি করে- কালের চাহিদা ও পরিবর্তনকে স্বাগত জানানোর মতো সহনশীল পরিবেশ বজায় রাখার চেষ্টা দীর্ঘকাল ধরে চলছে। নেদারল্যান্ডসে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান ও নিয়মনীতিও স্থায়ীভাবে জনগণের আচরণের সাথে সমন্বিত হয়ে কার্যকর হয়েছে। অন্যদিকে আধুনিক যুগের পরিবর্তিত শিক্ষা, প্রযুক্তি, অর্থনীতি, আবিষ্কার ও অন্যান্য দিককেও সফলভাবে উন্নতস্তরে নিয়ে নিজেদের জীবনকে বিকশিত করতে পারছে। বাংলাদেশে এই পরিস্থিতি এখনো সেভাবে বিকশিত হতে পারেনি বলেই- গণতন্ত্রের বিভিন্ন দিক নিয়ে মানুষও সন্তুষ্ট নয়, মানুষের কল্যাণও গণতান্ত্রিকভাবে সেভাবে বিকশিত হচ্ছে না।

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে দলে গণতন্ত্র, নির্বাচন কমিশন ঢেলে সাজানো ও নির্বাচন-বিধি পরিবর্তন ছাড়াও নতুন রাজনৈতিক শক্তি ও নেতৃত্ব প্রয়োজন। আমাদের প্রতিষ্ঠানগুলোকে কার্যকর করার জন্য জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করাও প্রয়োজন। শুধু অতীত-আশ্রয়ী না হয়ে ভবিষ্যৎমুখী উদ্যোগ গ্রহণে সক্রিয় হওয়ার মানসিকতা জরুরি হয়ে পড়েছে। আজকের সময়কালে জগতের রূপান্তর ঘটেছে, মানুষ এগিয়েছে। মানুষের  মনোজগতের পরিবর্তন হয়েছে- আশা ও আকাঙক্ষারও। চাহিদা বেড়েছে প্রবহমান জীবনে। মানুষের দাবি মেটানোর জন্য বাংলাদেশের রাষ্ট্র ও সরকার কতটুকু প্রস্তুত ও সামর্থ্য রাখে- তাও বিবেচনায় এনে গণতান্ত্রিক পরিবেশ তৈরি, জনগণের কল্যাণ ও সমর্থনের প্রতিফলন ঘটানো আমাদের দেশে বড় একটা  চ্যালেঞ্জ।

আরও একটি পরিসংখ্যান থেকে জানা যায়, বিভিন্ন দেশে অপরাধের সঙ্গে জড়িত থাকার কারণে আটক ও বিচারাধীন বাংলাদেশি নাগরিকের সংখ্যা ১৩ হাজারের উপর। তবে আরও কিছু বাংলাদেশি নাগরিক বিভিন্ন অপরাধজনিত কারণে বিদেশের কারাগারে আটক থাকতে পারেন।  শুধু বড় বড়  চোখ ধাঁধানো অব কাঠামোর উন্নতি করলে চলবে না, আমাদের অপরাধমুখী প্রবণতা কমানোর দিকে সবার নজর দিতেই হবে- নাহলে অর্থনৈতিক উন্নতির কোনও বিশেষ তাৎপর্য মানুষের জীবনকে সমৃদ্ধ করতে পারবে না! নেদারল্যান্ডসের কারাগার বন্ধ হয়ে যাওয়ার বিভিন্ন অনুঘটকের  প্রভাব ও ধারণাগুলো আমরা বিশ্লেষণ করে তা থেকে অভিজ্ঞতা গ্রহণ করে আমরাও উপকৃত হতে পারি।

গোলাম কিবরিয়া পিনুকবি, প্রাবন্ধিক, গবেষক

১৩ Responses -- “নেদারল্যান্ডসে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে কারাগার, আর বাংলাদেশে বাড়ছে!”

  1. Pallab

    Actually no where we find Democracy, Good governance , Human right, Accountability and transparency! Irregularities and corruption has been doubled . Various way we people are cheated & deprived. So called Police & Politicians are become desperate for money hiking . Child & women are completely unsafe due to injustice every where…..

    Reply
  2. জহির

    কোহিনুর কেমিক্যাল কোম্পানি নামে একটি প্রতিষ্ঠান পলাশের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছিল। সেই মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে গত ২৫ মার্চ দুপুরে পরিবারের লোকজন নিয়ে পঞ্চগড় শহরের শের-ই-বাংলা পার্ক সংলগ্ন মহাসড়কে এসে মানববন্ধন শুরু করেন। মানব বন্ধনের একপর্যায়ে হ্যান্ডমাইকে পলাশ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নামে, প্রশাসন ও পুলিশ বাহিনী সম্পর্কেও অশালীন বক্তব্য দেন এই অভিযোগে সদর থানা পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে। ওইদিন বিকালে প্রধানমন্ত্রীকে কটূক্তি করার অভিযোগে স্থানীয় রাজীব রানা নামে এক তরুণ তার বিরুদ্ধে সদর থানায় মামলা করেন। ওই দিনই তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। আইনজীবী পলাশকে গত ২৬ এপ্রিল বিকালে ঢাকায় পাঠানোর কথা ছিল। কিন্তু সকালে হঠাৎ করে হাসপাতালের বাইরে থাকা একটি টয়লেট থেকে তিনি অগ্নিদগ্ধ অবস্থায় দৌড়ে বের হয়ে আসেন। এ সময় কারারক্ষীরা তাকে উদ্ধার করেন এবং শরীরের আগুন নেভান। আগুনে তার শরীরের ৪৭ শতাংশ পুড়ে যায়। রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য পরদিনই তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়। গত ৩০ এপ্রিল দুপুরে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় পলাশ কুমার রায় মারা যান। একজন কারাবন্দী মানুষের শরীরের ৪৭% পুড়ে যাওয়ার জন্য তাকে দীর্ঘ সময় ধরে আগুনে পুড়তে হবে। কারাগারের টয়লেটে এই ধরনের আগুন দুর্ঘটনাবশত লাগতে পারে না। আমরা অনুমান করতে পারি পলাশ কুমার রায় রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়েছে। পলাশের বিরুদ্ধে যে মামলা করেছে তাকে প্রশ্ন করা উচিত, শেখ হাসিনাকে কেউ একজন কটুক্তি করার জন্য সে কেন মামলা করতে গেলো? আদালতকেও বলতে হবে কোন কারণে রাজীব রানা ব্যক্তিগতভাবে সংক্ষুব্ধ হয়েছিলো যে তার মামলা আদালতকে গ্রহণ করতে হল। ঘটনা যেহেতু পঞ্চগড়ে – মাদ্রাসা বা ঢাকাতে নয় – ভিডিও ফুটেজ নেই – তাই এর উত্তাপ কম । বিশ্বজিৎ ভাগ্যিস ঢাকাতে জন্মেছিল ।

    Reply
  3. সুনীল আকাশ

    জেলখানায় যত কয়েদী আছে তার ৬০% বিএনপি বা সরকারবিরোধী ব্যক্তি। এ সংখ্যা আরো বাড়বে বলে ধারনা করা হচ্ছে। জনগণের ট্যাক্সের টাকায় শুধু ইট, কাঠ, পাথরের উন্নয়ন হয়েছে, গনতন্ত্র বা মননের উন্নয়ন হয়নি।

    Reply
  4. নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক

    আগে আমাদের দারিদ্র্য ছিল, অভাব ও ক্ষুধা ছিল। তারপরও আমরা হতাশ হইনি। বুকে আশা জাগিয়ে রেখেছি এই ভেবে যে, ‘এই দিন দিন নয়, আরও দিন আছে।’ একদিন সুদিন আসবে। সেই সুদিনের জন্য আমরা পাকিস্তান ভেঙে বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করেছি। স্বাধীনতার জন্য ৩০ লাখ মানুষ জীবন দিয়েছেন। এরপর তরুণেরা রক্ত দিয়ে স্বৈরাচারকে হটিয়েছেন। কিন্তু গণতন্ত্র আসেনি। এখন গণতন্ত্রী ও স্বৈরাচার একে অপরের সঙ্গে হাত মিলিয়েছে।স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ের সঙ্গে তুলনা করলে আমরা আর্থিক দারিদ্র্য অনেকটা জয় করেছি। প্রবৃদ্ধি বাড়িয়েছি। মানুষের গড় আয় ও আয়ু বেড়েছে। কিন্তু তার চেয়েও বেড়েছে বৈষম্য। মানুষের মনের দারিদ্র্য যে কী ভয়ংকর রূপে চেপে বসেছে, তা প্রতিদিন পত্রিকা খুললেই টের পাওয়া যায়। অনেক সময় মন্ত্রীরা উষ্মা প্রকাশ করেন, পত্রিকায় কেন আমরা শুধু শুধু নেতিবাচক খবর ছাপি। কেন হত্যা, ধর্ষণ, নারী নির্যাতন, শিশু নির্যাতনের খবরে পাতা ভরে রাখি। তাঁদের সবিনয়ে বলব, না, পত্রিকায় সব নেতিবাচক খবর ছাপা হয় না। যা ছাপা হয়, তা অপরাধ-অনাচারের সামান্য অংশ মাত্র। কত মানুষের কত কান্না, কত দীর্ঘশ্বাস লোকচক্ষুর অন্তরালেই থেকে যায়। এই সমাজে নুসরাত-শাহিনুর তনু-মিতুর মতো অসংখ্য নারী নিয়ত হিংসার বলি হচ্ছেন। রাষ্ট্র তাঁদের নিরাপত্তা দিতে পারেনি।
    আমাদের সমাজ ও রাষ্ট্রের অধিপতিরা প্রায়ই জিডিপির প্রবৃদ্ধি দেখান, উন্নয়নের রথ কত জোরে সামনে এগোচ্ছে, তার নাতিদীর্ঘ বয়ান দেন। কিন্তু আধুনিক মানুষ তো শুধু ক্ষুন্নিবৃত্তি করে বাঁচে না। তারা বেঁচে থাকার জন্য স্বপ্ন দেখে, কথা বলার অধিকার চায়। মানবিক মর্যাদা নিয়ে বাঁচতে চায়। অথচ সেসব চাওয়া ছলনা হয়েই থাকে। বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের দেশ হতে যাচ্ছে, স্বল্পোন্নত দেশের গ্লানি ধুয়েমুছে যাচ্ছে, আমরা কেন তাহলে মানবাধিকারের সূচকে, আইনের শাসনের সূচকে, সংবাদমাধ্যমের সূচকে সমানতালে এগোতে পারছি না। কেন আমরা গণতন্ত্রের সূচকে ক্রমেই পিছিয়ে যাচ্ছি? সাম্প্রতিক কালে রাজনৈতিক দলগুলোতে যে ঝোড়ো হাওয়া বইছে, তার কারণও হতাশা ও আদর্শহীনতা। আওয়ামী লীগ বড় দল বলে সাংগঠনিক ভিতও শক্ত। তাই ধাক্কাকে সহজে টের পাওয়া যায় না। তবে সরকার ও আওয়ামী লীগকেও এক করে দেখলে হবে না। সরকারের দায়িত্ব এক রকম। সরকারি দল হিসেবে আওয়ামী লীগের দায়িত্ব আরেক রকম। কিন্তু সরকারি দলের নেতারা এই ফারাকটা করতে পারেন না। আর পারেন না বলেই দল যখন ক্ষমতায় থাকে না, তখন সবকিছু ভেঙে পড়ার অবস্থা হয়। অন্যদিকে ডান–বাম সব ছোট দলের লক্ষ্মণরেখাগুলো স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। মনে হচ্ছে পদ-পদবি, সুবিধা ছাড়া কোনো রাজনীতি নেই। এ কারণে আমরা দল দেখি, বড় বড় নেতা দেখি। কিন্তু রাজনীতি দেখি না। কোনো দলেই সুস্থ রাজনীতিচর্চার সুযোগ আছে বলে মনে হয় না। যেকোনো রাজনৈতিক দল গড়ে ওঠে নীতি ও আদর্শের ভিত্তিতে। অথচ আমাদের এখানে পরস্পরবিরোধী আদর্শের দলগুলোর মধ্যে গভীর আঁতাত হতে দেখি। সেটি হলো স্বার্থের আঁতাত। হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের নেতৃত্বাধীন জাতীয় পার্টি এর মোক্ষম উদাহরণ হতে পারে। যাঁরা আশির দশকে এরশাদের বিরুদ্ধে আন্দোলন করে জয়ী হয়েছিলেন, তাঁরাই এখন এরশাদের সহযোগী কিংবা সহমর্মী। তিনি বাংলাদেশের রাজনীতির নষ্ট প্রতীকে পরিণত হয়েছেন। এরশাদ সাহেব একেক দিন একেক সিদ্ধান্ত নেন। তাঁর সর্বশেষ হলো এক দিনে আট নেতাকে প্রেসিডিয়াম সদস্য করা। বিএনপি, জাতীয় পার্টি, বাম, জামায়াত—এবারে এক কাতারে এসে দাঁড়িয়েছে। সব দলেই ওলটপালট অবস্থা। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় নির্বাচন আর রাজনীতি স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় এগোচ্ছে না। এর বড় প্রমাণ জেলা-উপজেলায় সরকারি দলের কর্তৃত্ব সীমিত হয়ে আসছে। প্রশাসনই সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করছে। সরকারি দল আওয়ামী লীগে দৃশ্যত কোনো সমস্যা না থাকলেও নির্বাচনী শরিকদের অবস্থা খুবই নাজুক। ১৪-দলীয় জোট টিকে আছে বিবৃতি ও সংবাদ সম্মেলনে। নির্বাচনের আগে সাবেক রাষ্ট্রপতি ও বিকল্পধারার সভাপতি বদরুদ্দোজা চৌধুরী বিবেকের ভূমিকায় নেমেছিলেন। নানা হিসাব-নিকাশের পর তিনি আওয়ামী লীগের সঙ্গেই ব্র্যাকেটবন্দী হলেন। এখন আর কোনো উচ্চবাচ্য নেই। অথচ ২০০২ সালে যখন বিএনপি তাঁকে গলাধাক্কা দিয়ে বঙ্গভবন থেকে বের করে দিল, তখন তিনি দেশবাসীর সহমর্মিতা পেয়েছিলেন। আমাদের দেশে নন্দিত নেতার নিন্দিত হতে সময় লাগে না। একজন মন্ত্রী বললেন, বিএনপি গণতন্ত্রের শত্রু। তাঁর কথা সত্য হলে এখন গণতন্ত্র শক্তিশালী হওয়ার কথা। কেননা, বিএনপি সাংগঠনিকভাবে খুবই দুর্বল, ন্যুব্জ। গণতন্ত্রের শত্রু দুর্বল হলে তো গণতন্ত্র শক্তিশালী হওয়ার কথা। কিন্তু কোথাও তো তার আলামত দেখছি না। আবুল হাসানের কবিতার পঙ্ক্তি ধার করে বলতে হয়, দল ভাঙছে, তাও রাজনীতি, জোট ভাঙছে, তাও রাজনীতি। তবে সেটি সুস্থ রাজনীতি নয়। অপরাজনীতি। নষ্ট রাজনীতি। কবি আবুল হাসান লিখেছিলেন,
    দালান উঠেছে তাও রাজনীতি, দালান ভাঙছে তাও রাজনীতি
    দেবদারু কেটে নিচ্ছে নরোম কুঠার, তাও রাজনীতি
    গোলাপ ফুটছে তাও রাজনীতি, গোলাপ ঝরছে তাও রাজনীতি!

    Reply
  5. dorra

    দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের পর নেদারল্যান্ডস ১ দশমিক ৮ বিলিয়ন তৎকালীন ডলার যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে পেয়েছিলো পুণর্গঠনের জন্য। বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্র এক ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ সৃষ্টি করে লাখের মতো লোকের প্রাণ সংহার করেছিল যখন বঙ্গবন্ধু চটের বদলে কিউবা থেকে চিনি এনেছিল।

    Reply
  6. সাহেদ

    বাংলাদেশের সাথে নেদারল্যান্ডসের তুলনা করাটা কি মানান সই? আমাদের যেখানে অনেক ক্ষেত্রে অর্জন বা উন্নয়ন এই সব দেশের সমকক্ষতা অর্জন করতে পারেনি? কারাগার এর এই ব্যাপারটা মানানসই হত যদি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের যা অন্য কোন পাশ্চাত্যের দেশের সাথে তুলনা করলে। যুক্তরাষ্ট্রে এইটা অনেকটা ব্যবসা যেহেতু ব্যাক্তিমালিকানায় সেখানে অনেক কারাগার বা সংশোধনাগার চলে। তাই অপরাধের ধরণ আর শাস্তির মাত্রায় লক্ষ্যণীয়ভাবে বেশি এবং এইসব ক্ষেত্রে সাদা চামড়া ছাড়া অন্য কোন রেস এর লোকজন এর শাস্তি পাওয়ার মাত্রাও উল্লেখযোগ্যভাবে বেশী। এই নিয়ে অনেক প্রতিবেদন, ডাটা পাওয়া যাবে অন্তর্জালে। কয়েক বছর আগে কমেডিয়ান জন অলিভার এই প্রতিবেদন টি প্রণিধানযোগ্য।
    https://www.youtube.com/watch?v=_Pz3syET3DY

    সুইডেনেও কারাগার এর সংস্কৃতি অনেক মানবিক। সেইটাও মাইকেল মুরের একটা ডকুমেন্টারিতেও পাওয়া যাবে। সেখানেও বিশ্বের উন্নত রাষ্ট্র যুক্তরাষ্ট্রের তুলনামূলক চিত্রটি খুবই খারাপ।

    অপরাধের প্রবণতা আর সামাজিক সুরক্ষার উন্নতি বিধান না করে অন্য দেশের মত কারাগার বন্ধ করার আশা এই সময়ে যুক্তিসংগত মনে করি না।

    Reply
  7. E A Bari

    এ দেশে মানুষ বেশি, টাকা বেশি, লোভ বেশি, খোদাভীতি কম, ভগবানভীতিও কম, নীতি-নৈতিকতা নেই বললেই চলে- সুতরাং ক্রিমিন্যালও বেশি- তাই এই অবস্থা ভাই!

    Reply
  8. Chandra Bindu

    উন্নয়নকে একহাত নেয়ার কোনো মানে নাই। দেশের অবকাঠামোগত উন্নয়ন তো অপরাধ সৃষ্টি করছে না। বরং নেদারল্যান্ডসের উদাহরণের দিকে অগ্রসর হতে গেলে উন্নয়নও ধনাত্মক ভূমিকা পালন করবে। যদি এমন হতো যে, নেদারল্যান্ডস সমস্ত উন্নয়ন কর্মকাণ্ড বন্ধের ফলেই তাদের অপরাধপ্রবণতা কমছে, তাহলে আমরাও রাস্তাঘাট ভাঙার পক্ষে কাজ করতাম।

    Reply
  9. Shahidul Islam

    বাংলাদেশের সঙ্গে নেদারল্যান্ডসের কেন তুলনা করছেন? আপনি নিজেকে মূল্যায়ন করুন আগে। তারপর নিজ মাতৃভূমির প্রসঙ্গে আসুন। বাংলাদেশ আর নেদারল্যান্ডেসের ভৌগলিক অবস্থান, অর্থনৈতিক, অভ্যন্তরীণ সম্পদ, শিক্ষা ব্যবস্থা তুলনা করেছেন কখনো? ভুলে যাবেন না বাংলাদেশ একটি যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ ছিল। সংগ্রাম করে এ দেশের মানুষ বেঁচে থাকে। এখনো যে দেশের ২৬ ভাগ মানুষ দারিদ্রসীমার নিচে বাস করে সেখানে অপরাধ তো থাকবেই। নেদারল্যােন্ডসের সাথে আমেরিকার তুলনা করুন। মানানসই হবে।

    Reply

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। প্রতিক্রিয়া লেখার সময় লক্ষ্য রাখুন--

  • ১. স্বনামে বাংলায় প্রতিক্রিয়া লিখুন।
  • ২. ইংরেজিতে প্রতিক্রিয়া বা রোমান হরফে লেখা বাংলা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না।
  • ৩. প্রতিক্রিয়ায় ব্যক্তিগত আক্রমণ গৃহীত হবে না।

দরকারি ঘর গুলো চিহ্নিত করা হয়েছে—