অক্সফোর্ড ডিকশনারিতে রেইপ শব্দের অর্থ বলা হয়েছে, এটি একটি অপরাধ যা একজন পুরুষের (man) দ্বারা হয়ে থাকে যেখানে অপর ব্যক্তির (person) ইচ্ছার বিরুদ্ধে গিয়ে অপরাধী তার সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করে।

কেমব্রিজ ডিকশারি রেইপ শব্দের অর্থ ব্যাখ্যায় বলছে,  অনিচ্ছুক হওয়ার পরও কাউকে (someone) নিপীড়ন-নির্যাতনের মাধ্যমে যৌন সম্পর্কে বাধ্য করা।

ইংরেজিতে পুরুষকে ‘হি’ আর নারীকে ‘শি’ বলা হলেও রেইপ শব্দটি নারী বা পুরুষের জন্য আলাদা করে নেই। ‘রেইপ ভিকটিম’ ব্যবহার করা হয় যিনি ধর্ষণের শিকার হচ্ছেন তার জন্য, রেপিস্ট  ব্যবহার করা হয় যিনি ধর্ষক তার জন্য।

অবশ্য বাংলা ভাষায় আমরা অনেক গভীরে চলে গেছি ধর্ষণ নিয়ে। শব্দ উৎপত্তির প্রয়োজনীয়তা ও এর প্রচলন গবেষণা করে সামাজিক মনস্তত্বকেও যে চেনা যায় তার জলন্ত দৃষ্টান্ত আমাদের সমাজে ‘ধর্ষিতা’ শব্দটি। ধর্ষকের দ্বারা ধর্ষণের শিকার হওয়া নারীকে পরিচয় করিয়ে দিতে ‘ধর্ষিতা’ শব্দটি চালু করতে হয় যে সমাজকে সে সমাজ দৈন্য।

তবে ধর্ষিতা শব্দের মধ্যে বিপুল পুলকবোধ খুঁজে পাওয়া সমাজেও দিনে দিনে অধিকার সচেতনতা বাড়তে থাকায় তুলনামূলকভাবে কাগজে-কলমে কমে আসছে এই শব্দের ব্যবহার।  এখানে মিডিয়ার ভূমিকা প্রশংসনীয়। সংবাদে এখন ধর্ষিতা নয়, শিরোনামে-বিবরণে লেখা হয় ‘ধর্ষণের শিকার’। ভিকটিম অথবা নির্যাতিত নারীকে ‘ধর্ষিতা’ হিসেবে পরিচয় করিয়ে তাকে পুনরায় অবমাননা করা থেকে সরে আসার মত দায়িত্ব দেখাচ্ছে অনেক মিডিয়া হাউজ।

এরপরও কিছু আগডুম-বাগডুম ডটকম ও ফেইসবুক পেইজ সর্বস্ব পত্রিকা পরিচয়দানকারী খবরের সাইট সমাজের কতিপয় অসুস্থ মানসিকতার মানুষকে পাঠতৃপ্তি দিতেই বোধহয় সংবাদের শিরোনামে-বিবরণে ‘ধর্ষিতা’ জুড়ে হিট কামিয়ে নেন। তাদেরই বা দোষ কী? ধর্ষিতা শব্দটি তো বাংলা একাডেমির অভিধানেই রয়েছে।

বাংলা একাডেমির ব্যবহারিক বাংলা অভিধানে (দ্বাদশ মুদ্রণ, ২০১০) ধর্ষিতা একটি স্ত্রীবাচক শব্দ।  ‘বলপূর্বক (কোনো নারীর) সতীত্ব নষ্ট করা হয়েছে এমন’ হচ্ছে বাংলা একাডেমির ধর্ষিতা শব্দের ব্যাখ্যা।

আমাদের সমাজে নারীর সতীত্ব এতটাই বদ্ধমূল ধারণা যে, ধর্ষণের শিকার হওয়া নারীটিকে সমাজ প্রথমেই বিচার করে নেয় সতীত্ব নষ্ট হওয়া নারী হিসেবে। ধর্ষণ নিয়ে সমাজের যেটুকু উৎকণ্ঠা সেটা আসলে নারীর মর্জির বাইরে গিয়ে নির্যাতনের মধ্যে দিয়ে যৌন সম্পর্ক করে তাকে শারীরিক ও মানসিকভাবে অবমাননা করা নিয়ে নয়। একটি ধর্ষণ ঘটনার পর সমাজের হায় হায় রব আসলে  ‘গেল গেল হাইমেন ছিঁড়ে গেল’ নিয়ে। ধর্ষিতা অর্থ সতীত্ব নষ্ট হওয়া নারী উল্লেখ করে ভাষার মর্যাদা ধরে রাখার পীঠস্থান বাংলা একাডেমি সেই সমাজের অংশ হয়ে উঠতে পেরেছে।

আগে হিন্দি সিনেমায় ইংরেজিতে রেইপ বা রেইপড শব্দটি বলা হতো না খুব একটা। হিন্দিতে ‘বলাৎকার’ শব্দটিই শোনা যেত নিয়মিত। এর বাইরে শোনা বা পড়া হয়নি বলে বলাৎকার যে বাংলা শব্দ তা বুঝে ওঠার সুযোগ হয়নি।

আজকাল খবরে নিয়মিত বলাৎকার বা বলৎকার শব্দটির ব্যবহারে বুঝি এটাও তাহলে বাংলা শব্দ। বাংলা অভিধানে ধর্ষণের যে কয়েকটি অর্থ উল্লেখ করা আছে তার একটি বলাৎকার। এই বলাৎকারের অর্থ বলা হয়েছে ‘বলপূর্বক গ্রহণ’। এর অর্থ বা উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে নারীধর্ষণ। আমাদের মনোজগতে ধর্ষণ অপরাধে নিপীড়িত হিসেবে শুধু নারীকেই ভাবা হয় বলেই বুঝি সরাসরি নারীধর্ষণ লেখা যায় অভিধানে।

বিভিন্ন মিডিয়ার সংবাদ খুঁজে-পড়ে বুঝতে পারলাম,  যখন ছেলে বা কিশোর বা পুরুষ ‘ধর্ষণের শিকার’ হচ্ছে তখন তাকে ‘ধর্ষিত’ তো বলছেই না, ধর্ষণের শিকারও বলা হচ্ছে না। মনস্তত্বটা খুব স্পষ্ট এখানে- নারীর ক্ষেত্রে  ধর্ষণ ও ধর্ষণের শিকার; পুরুষের ক্ষেত্রে বলাৎকার ব্যবহার করা হচ্ছে।

কেন এমন শব্দগত পার্থক্য করা হলো? এর মধ্যে দিয়ে নারী ও পুরুষকে ধর্ষণে এই যৌন প্রক্রিয়াটির বিশেষ কোনো পার্থক্য বোঝাতে চাওয়া হচ্ছে কি? পুরুষের হাইমেন নষ্ট হচ্ছে না বুঝিয়ে পুরুষকে আলাদা রাখতে কি বলাৎকার শব্দের ব্যবহার?

মি-টু আন্দোলনকে  পুরোপুরি নারীমুখী করে দেওয়ায় হতাশ হয়েছিলাম। তারপর যখন অনেক পুরুষ যৌন নিপীড়িত নারীর পক্ষে আছেন বলে ঘোষণা দিয়ে বেড়াচ্ছিলেন, তখনও মনের মধ্যে খচ খচ চলছিল। নারীকে সমর্থন দিযে বেড়ানোর বদলে পুরুষ কেন নিজের জন্য ‘হ্যাশট্যাগ মি টু’ লেখেনি?

পুরুষ নারীকে ধর্ষণ করে নারীর কর্তৃত্ব নিতে চায়। পুরুষ ধর্ষণের শিকার নারীর পাশে দাঁড়িয়েও নারীর কর্তৃত্ব নিতে চায়। অথচ বাস্তব তো এটাও যে শুধু নারী নয়, পুরুষও হতে পারে যৌন নিগ্রহের শিকার। পুরুষ নিজেও যে পুরুষ দ্বারাই ধর্ষণ হচ্ছে এবং হতে পারে সে কথা কই? পুরুষ কি মেল-ইগোতে ভুগে চেপে যাচ্ছে সে সব কথা?

নারী যৌন হয়রানির শিকার হবে তা নিয়ে কন্যা সন্তানের জন্মের পর থেকেই বিচলিত হয়ে ওঠে পরিবার। এরপর রয়েছে সমাজও। নারীর সঙ্গে এমন ভয়াবহ অপরাধ হয়ে গেলে রাষ্ট্রও তৎপর হয়।  মাদ্রাসার শিক্ষার্থী নুসরাতের বেলায় যেমন বিচলিত হয়েছে রাষ্ট্র। উচ্চ আদালত এই বিচার প্রক্রিয়ায় ঢিমেতাল হলে প্রয়োজনে হস্তক্ষেপ করারও ঘোষণা দিয়েছে। প্ল্যাকার্ড হাতে ছবি তুলে নারীবাদী আর প্রগতিশীলরাও রাজপথে নেমেছেন। কী বলছে রাজপথে-পত্রযাত্রায় তাদের ব্যানার আর প্ল্যাকার্ড?

‘নুসরাত হত্যার বিচার চাই’।’অপরাধীর ফাঁসি চাই’। নুসরাত যখন থেকে প্রাণ সঙ্কটে তখন থেকে ঘটনাটি আমলে রেখেছে সরকার। অবশ্য নুসরাতের সঙ্গে আগেও যৌন হয়রানির ঘটনা ঘটেছে যা সে প্রশাসনের নজরে আনতে গিয়ে সহযোগিতার বদলে হেনস্তা হয়েছে।  তখন ব্যবস্থা নিলে নুসরাত হয়ত বেঁচেই যেত। এমন নির্লিপ্ততার দায় একা প্রশাসনেরই কি?  নুসরাত যতক্ষণ জীবন-মৃত্যুর সঙ্কটকাল পার করছিল হাসপাতালে, তখনও তো অপরাধীর বিচার চেয়ে পদযাত্রা হয়নি নারীবাদী-প্রগতিশীলদের। নুসরাত মরে গেলে তবেই না অপরাধীর ফাঁসির দাবিতে তপ্ত হবে পদযাত্রা!

রাষ্ট্র যখন দায় নিয়েছে নুসরাত হত্যার বিচারের তখন গতানুগতিক স্লোগানগুলো আরো বেশি ক্লিশে ঠেকে। বরং নারীবাদী-প্রগতিশীলরা আরো গভীরে ভাবতে পারেন ঘটনার। সময় থাকতে ব্যবস্থা নিলে যদি এই ভয়াবহতা, এই হত্যা ঠেকানো যায়, তাহলে সময়ের কথা, সময়ের দাবি নিয়ে পদযাত্রা করতে হবে নারীবাদী-গ্রগতিশীলদের। এবং মানবাধিকার কমিশনকেও।

যখন মাদ্রাসার কিছু মেয়ে শিক্ষার্থীদের নুসরাতকে যৌন হয়রানি করা মাদ্রাসার শিক্ষক সিরাজ-উদ-দৌলার পক্ষে মিছিল করতে দেখি, তখন উপলব্ধি হয়, কী বিচিত্র মনোজগতে, মানসিক চাপে আবদ্ধ রেখে এদের বড় করা হচ্ছে। এই শিশুদের শারীরিক-মানসিক নিরাপত্তার জন্য পদযাত্রা কে করবে? এই শিশুদের সঙ্গে আজ হওয়া ও আগামী হতে চলা যৌন অত্যাচার আগাম ঠেকাতে এগিয়ে আসবে কি মানবাধিকার কমিশন?

অবশ্য এই এগিয়ে আসার ঠিক আগের পদক্ষেপটি হচ্ছে, ধর্ষণ আসলে কী তা বোঝার মত পরিপক্কতা আনা। নারীর সতীত্ব নষ্ট হচ্ছে এই ধারণা নিয়ে ধর্ষণ-ধর্ষকের বিচার চাওয়া মানে নারীকে পুনরায় হেয় করা। নারীকেই ধর্ষণ করা যায়, এমন চিন্তার প্রতিষ্ঠা করে  নারীকে সামাজিক-মানসিকভাবে দুর্বল করেও ফেলা হচ্ছে। আর এসবের মধ্যে আড়ালে থেকে যাচ্ছে ছেলেশিশু-কিশোরকে ধর্ষণের ঘটনাও।

মিরপুর শেওড়াপাড়ার মাদ্রাসা থেকে কেরানীগঞ্জের মাদ্রাসার ছেলেশিশু; দিনাজপুরের বীরগঞ্জের মাদ্রাসা হোক অথবা ঢাকার মোহাম্মদপুরের মাদ্রাসার কিশোর; এদের সঙ্গেও প্রতিনিয়ত ঘটছে যৌন অত্যাচার। ঘটছে যৌন হয়রানি সংশ্লিষ্ট আত্মহত্যা ও হত্যার ঘটনাও। 

যৌন হয়রানি শুধু নারীকেই করা যায় এমন ধারণা থেকে বেরিয়ে আসার প্রক্রিয়ায় রয়েছে ভারত। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যৌন হয়রানির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া নিশ্চিত করতে  ২০১৬ সালে ভারতের বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের দেওয়া নির্দেশনায় স্পষ্ট করে বলা হয়েছিল, যৌন হয়রানি জেন্ডার নিরপেক্ষ (sexual harassment is gender neutral)। তাই শিক্ষার্থী যে লিঙ্গেরই (all sexes) হোক না কেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে তার অভিযোগ আমলে নিয়ে ব্যবস্থা নিতে হবে।

হ্যা, এর অর্থ তাহলে এও দাঁড়াচ্ছে যে একজন হিজড়া, যাকে আমাদের রাষ্ট্র লৈঙ্গিক মর্যাদা দিলেও সমাজে লিঙ্গহীন বলেই যিনি বিবেচিত, তিনিও যৌন হয়রানির শিকার হতে পারেন এবং আইনগতভাবে এর বিচার পাবার অধিকার রাখেন। কিন্তু যৌন হয়রানি ও ধর্ষণ নিয়ে নারী ও শিশু জন্য আইন থাকলেও পুরুষ ও হিজড়াদের জন্য আমাদের দেশের আইনে কিছু নেই।

নিরুপায় এক অনুভূতি নিয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে চোখ বুলিয়ে পেলাম নারীর জন্য প্রণিত একটি রাষ্ট্রীয় আইনে ধর্ষণের শিকার নারীকে পরিচয় করাতে তিনবার ‘ধর্ষিতা’ শব্দটি ব্যবহার করা হয়েছে।

যদি কোন ব্যক্তি কর্তৃক ধর্ষণ বা উক্ত ধর্ষণ পরবর্তী তাহার অন্যবিধ কার্যকলাপের ফলে ধর্ষিতা নারী বা শিশুর মৃত্যু ঘটে’ অথবা ‘যদি পুলিশ হেফাজতে থাকাকালীন সময়ে কোন নারী ধর্ষিতা হন’ অথবা ‘সেই ব্যক্তি বা ব্যক্তিগণ ধর্ষিতা নারীর হেফাজতের জন্য সরাসরিভাবে দায়ী ছিলেন

এসব বাক্যে নারীকে ‘ধর্ষিতা’ হিসেবে পরিচয় করিয়ে দিয়ে আইনই নারীকে সামাজিকভাবে অরক্ষিত করে দিল। আইনই যখন নারীকে ধর্ষিতা বলে ডাকে, তাহলে সমাজ তো ওই নারীকে তার বাকি জীবন  ‘ধর্ষিতা’ পরিচয় থেকে নিস্তার দেবে না কখনই।

আইনে শিশু বলতে কন্যাশিশু না ছেলেশিশু তা স্পষ্ট করা হয়নি।  আমি কিছুটা আশ্বস্ত হয়েছিলাম এই ভেবে, তাহলে এই আইনেই মাদ্রাসায় যৌন নির্যাতন ও ধর্ষণের শিকার ছেলেশিশুদের জন্য বিচার চাওয়া যেতে পারে। আমার যুক্তিকে নিমিশেই পরাহত করে কেউ কেউ জানালেন, এমন সুযোগ নেই;  এই আইন কন্যাশিশুর জন্যই। ছেলেশিশুদের যৌন নির্যাতক  ও ধর্ষকের বিচার চাওয়ার জন্য এই আইন ব্যবহারের কোনো নজির নেই।

কিন্তু কেন? আমাদের সমাজ ২০১৯ সালে এসেও মনে করে পুরুষকে ধর্ষণ করা যায় না; পুরুষকে যৌন হয়রানি করা যায় না; পুরুষকে যৌন নির্যাতন করা যায় না। তাহলে আর আইন করার ভাবনাটা আসবে কোথা থেকে?

এই যে মাদ্রাসার ছেলেশিশুরা অকথ্য যৌন নির্যাতনের শিকার হচ্ছে সেই সব ধর্ষকের বিচার চাওয়ার উপায় কী তবে? বাংলাদেশের দণ্ডবিধি আইনের ৩৭৭ ধারায সমকামকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করে যে শাস্তির বিধান আছে, মাদ্রাসার ছেলেশিশুকে যৌন হয়রানির অপরাধগুলোকে ‘সম্ভবত’ এই আইনে ফেলা হয়ে থাকে। সম্ভবত বলার কারণ এটাই যে, এ ধরনের ঘটনাগুলোতে পরে আইনগতভাবে কীভাবে-কী প্রমাণ হলো, কী শাস্তি হলো তা নিয়ে কখনই কোনো খবর চোখে পড়ে না সাধারণত। অথবা শাস্তি চেয়ে কখনই শাহবাগে বড় ব্যানারে আন্দোলনে নামেনি কেউ; টকশোতে গলা তোলেনি কোনো বক্তা।

অথচ ৩৭৭ ধারায় এমন অপরাধ ফেলার অর্থ রাষ্ট্র পুরুষ ধর্ষণের অপরাধটি নিয়ে লুকোচুরি করছে।

উন্নয়ন মানে কংক্রিটের উঁচু উঁচু সেতু নয়; উন্নয়ন মানে শুধু হাই স্পিড ইন্টারনেটে যোগাযোগ নয়; সমাজে মানবিক অধিকারগুলো কতটা উঁচু স্তরে উঠেছে, আইন এর ভাষা ও প্রয়োগ নিয়ে সর্বস্তরের অধিকার রক্ষায় যোগাযোগ করতে কতটুকু সক্ষম হচ্ছে তা দিয়েও উন্নয়নকে চুলচেরা মাপতে হবে।

এ সমাজ এও ভাবতে জানে না একজন নারীও পুরুষকে যৌন হয়রানি করতে পারে। অথচ আমেরিকা, যুক্তরাজ্য এমনকি  ভারতও নারীর দ্বারা পুরুষের যৌন হয়রানি হওয়ার ঘটনাগুলো আমলে নিয়ে প্রমাণ পেয়ে শাস্তি নিশ্চিত করেছে।

অর্থ্যাৎ ধর্ষণ জেন্ডার সংবেদনশীল হতে পারে না। একজন ব্যক্তি  মর্জির বাইরে গিয়ে, ধোঁকা দিয়ে অথবা নির্যাতন করে অপর ব্যক্তির সঙ্গে  যে শারীরিক প্রক্রিয়াতেই যৌন সম্পর্ক করে থাকুক, সেটাকে ধর্ষণ বলতে দ্বিধা করা যাবে না। এখানে ব্যক্তি মানে নারী অথবা পুরুষ অথবা হিজড়া– যে কেউ হতে পারে।

শিশু নির্যাতন আইনে শিশু বলতে কন্যাশিশু ও ছেলেশিশুকেও যে গণ্য করা হচ্ছে তা স্পষ্ট করে উল্লেখ করতে হবে।

ধর্ষণের অর্থ কোনোভাবেই নারীর সতীত্ব নষ্ট হওয়া নয়। নারীকেই ধর্ষণ করা যায় এ কথা প্রতিষ্ঠা করে ধর্ষকামী মানসিকতাকেও আশকারা দেওয়া যাবে না।

বলাৎকার অথবা ধর্ষিতা শব্দে পুরুষ ধর্ষণ ও নারী ধর্ষণকে আলাদা করার ট্যাবু থেকে বেরিয়ে এলেই বোঝা যাবে ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ  ও সর্বোপরি রাষ্ট্র উন্নতির কোন স্তরে এসে ঠেকেছে। আর এজন্য পুরুষ ধর্ষণকে আমলে নিতে হবে, ধর্ষণকে ধর্ষণই বলতে হবে, ধর্ষককে ধর্ষক। মনোজগত, সমাজ, আইন আর অভিধান থেকে মুছে ফেলতে হবে ধর্ষিতা শব্দের অস্তিত্ব।

Responses -- “ধর্ষিতা-বলাৎকার ট্যাবু এবং ‘ধর্ষণের শিকার’ হয় পুরুষও  ”

  1. sats1971

    This is very secret news so that such type of news should not be published .When a news published than crime quickly changed to another crime. Just inform or case filed in police station and police will do their jobs. Crime Awareness training mandatory for all than it reduced step by step.

    Reply
  2. রাশেদ হাসান

    “যুগে যুগে আমরা এটাই দেখে এসেছি নারী পুরুষের মধ্যে যে বৈষম্য রয়েছে সেটি আরো শক্তিশালী করার জন্য যৌন নির্যাতনকে একটি হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হয়। ধর্ষণ যৌন নির্যাতনের মধ্যে সর্বোচ্চ একটি ধরন। এর মাধ্যমে নারীকে নিয়ন্ত্রণ করা হয়। আর সেটা করে পুরুষ। কিন্তু আমাদের সমাজে আমরা যে বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে চাইনা সেটি হল নারী শিশুকেই শুধু ব্যবহার করা হয়না। পুরুষ শিশুকেও যৌন আকাঙ্ক্ষা হাসিল করার জন্য বা যৌন উত্তেজক ছবির জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে”।
    ছেলে শিশুদের যৌন নির্যাতন নিয়ে কথা বার্তা বলার ক্ষেত্রে এমন সামাজিক অনীহার কারণে এমন ঘটনা ঘটলেও সেটির বিচার একদমই হচ্ছে না। কারণ বাংলাদেশের প্রচলিত আইনে পুরুষের বা ছেলে শিশুর বিরুদ্ধে যৌন নির্যাতন সম্পর্কে কিছুই বলা নেই। “যদি স্পষ্ট করে বলতে চান পুরুষের বিরুদ্ধে সেক্সুয়াল হ্যারাসমেন্ট হলে তার শাস্তি কি? এইভাবে বাংলাদেশে কোন আইন নেই। পুরুষকে ভিক্টিম করার জন্য কোন শাস্তি বাংলাদেশে এখনো দেয়াও হয়নি । এর মানে কি কোন ছেলেকে যদি কেউ যৌন নির্যাতন করে বা ধর্ষণ করে সেটি কি আদৌ ধর্ষণ হিসেবে বিবেচিত হয়? “না……বাংলাদেশে প্রচলিত আইনে রেপ বা যৌন নির্যাতনের যে ক্রাইটেরিয়া সেখানে দেখা যাচ্ছে প্রতিটি যায়গাতেই নারী ও মেয়েদের কথাই বলা আছে”। বাংলাদেশে শিশুদের প্রতি নির্যাতন প্রতিরোধে যে আইন রয়েছে তার নাম নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন। সেখানে শিশুর প্রতি যৌন নির্যাতনের শিকার হিসেবে শুধু কন্যা শিশুর কথাই বলা হয়েছে। তাদের কথা মাথায় রেখেই এমন নির্যাতনকে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে। এর বিচার ও শাস্তির কথাও বলা হয়েছে শুধু নারী ও কন্যা শিশুদের কথা মাথায় রেখেই। যদিও পাশের বাড়ির ছেলেটি তার থেকে কম বয়সী কোন বালকের দু পায়ের মাঝখানে চেপে ধরার ঢের নমুনা বাংলাদেশে পাওয়া যাবে। অথবা শিক্ষক বা আত্মীয়র কাছে ধর্ষণের খবর। কিন্তু ছেলে শিশুদের যৌন নির্যাতনের বিচারের বিষয়টি নিয়ে বাংলাদেশে ব্যাপক ধোঁয়াশা রয়েই গেছে। বরং ছেলে বা কোন পুরুষ যৌন নির্যাতনের শিকার হলে তা নিয়ে কথা বললে উল্টো তাকে হাসির পাত্র হতে হচ্ছে। বাংলাদেশে পুরুষদের বিরুদ্ধে নির্যাতন, বৈষম্যের ব্যাপারটি এখন বিরাট সামাজিক ইস্যুতে পরিণত হয়েছে। “বাংলাদেশে সবার জন্য প্লাটফর্ম আছে। নারীদের জন্য, শিশুদের জন্য, তৃতীয় লিঙ্গের জন্য। এমনকি পশু অধিকার রক্ষার জন্য। কিন্তু পুরুষদের জন্য কোন প্লাটফর্ম নেই। বাংলাদেশে পুরুষ এখন এতটাই ভালনারেবল যে তার নামে একটি মামলা দিলে, একটা অভিযোগ করলে, সেটা অনেক বড় হয়ে যাচ্ছে। সত্য মিথ্যে যাচাইয়ের কোন ব্যাপার এখন আর নেই এখানে।” ‘বাংলাদেশ মেন’স রাইটস ফাউন্ডেশনের’ কাছে প্রতিদিন অনেক ফোন আসে। বিভিন্ন বিষয় নিয়ে। তবে এর মধ্যে পারিবারিক সমস্যাই বেশি। “যেমন ধরা যাক, স্বামী স্ত্রীর মধ্যে বনিবনা হচ্ছে না, স্বামী স্ত্রীর সম্পর্কে যখনই কোন টানাপোড়েন তৈরি হচ্ছে, তখন স্ত্রী গিয়ে নারী নির্যাতনের মামলায় ফাঁসিয়ে দিচ্ছে একটা ইস্যু তৈরি করে। এরকম ক্ষেত্রে পুরুষরা একেবারে অসহায়। অনেকের ক্ষেত্রে, দেনমোহরের অংক যদি অনেক বড় থাকে, তখন পুরুষরা চাইলেও বিবাহ বিচ্ছেদও ঘটাতে পারছেনা। কিন্তু এটা তো বাস্তবতা যে বাংলাদেশে এই আইনগুলো করাই হয়েছে নারীকে সুরক্ষা দেয়ার জন্য। কারণ বাংলাদেশে তো তারাই বেশি নির্যাতিত হন। আমরাও মানি, নারীদের জন্য বিশেষ আইন তৈরি করা উচিৎ। কিন্তু আইনটা এমনভাবে তৈরি করা উচিৎ, যেন কেউ এটা পুরুষের বিরুদ্ধে অপব্যবহার করতে না পারে। ‘বাংলাদেশ মেন’স রাইটস ফাউন্ডেশন’ এখন আইন বদলানোর জন্য আন্দোলন করছে।বাংলাদেশে এখন যে মি টু আন্দোলন শুরু হয়েছে, সেটিও নির্দোষ পুরুষদের হয়রানির জন্য ব্যবহৃত হতে পারে । আমাদের কথা হচ্ছে, প্রমান ছাড়া যেন কাউকে ভিক্টিম করা না হয়। আমরা সব নির্যাতনের বিপক্ষে। সেটা পুরুষ হোক, নারী হোক। কিন্তু কোন নির্দোষ যেন ভিক্টিম না হয়। যেন সামাজিকভাবে হেয় না হয়। যুক্তরাজ্যে প্রতি বছর ৭২ হাজার পুরুষ ধর্ষণের শিকার হয়ে থাকেন। যার অর্থ হলো, দেশটিতে শতকরা ১২ ভাগ বা প্রতি দশজনের মধ্যে একজন বা তারও বেশি পুরুষ ধর্ষিত হচ্ছেন। এবার পুরুষ নির্যাতন ঠেকাতে বিভিন্ন কর্মসূচি নিচ্ছে ব্রিটিশ সরকার। বুধবার প্রকাশিত এক সরকারি পরিসংখ্যান থেকে এ তথ্য জানা যায়। ওই পরিসংখ্যানে উল্লেখ করা হয়, গত বছর ব্রিটেনের ২১৬৪ জন পুরুষ ধর্ষণ ও নানা রকম যৌন নির‌্যাতনের শিকার হয়েছিলেন।এদের মধ্যে ১৩ বছরের শিশু থেকে শুরু করে বেশি বয়সীরাও রয়েছেন। পুরুষদের বিরুদ্ধে যৌন নির্যাতন ঠেকাতে ব্রিটিশ সরকার আগামী অর্থ বছরে পাঁচ লাখ ইউরো বরাদ্দের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এসব অর্থ সোস্যাল কাউন্সিলিং, পরামর্শ এবং ধর্ষিত পুরুষদের সহায়তায় ব্যয় করা হবে বলে জানা গেছে। বুধবার এক ঘোষণায় ব্রিটিশ সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ধর্ষণ এবং যৌন সহিংসতার শিকার পুরুষেরা এখন থেকে নজিরবিহীন সহায়তা পাবেন। মন্ত্রী ডেমিয়েন গ্রিন বলেন, ‘আমরা অবশ্যই সকল নির্যাতিত পুরুষকে সহায়তা করবো,বিশেষ করে যারা ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। তিনি আরো বলেন, ‘সামাজিক নিষেধাজ্ঞার কারণে পুরুষেরা যৌন নির্যাতনের বিষয়টি প্রকাশ করতে চান না। তারা যাতে এই নিরবতা কাটিয়ে ওঠতে পারে এ ব্যাপারেও আমি তাদেরকে সাহায্য করবো।’

    Reply
    • পূজা বেদির ‘মেন টু’ আন্দোলন

      ৬ মে ভারতের ছোট পর্দার জনপ্রিয় তারকা করণ ওবেরয়কে ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার করে মুম্বাই পুলিশ। গণ্যমাধ্যমে প্রকাশিত ঘটনা উল্লেখ করে পূজা বেদি বলেন, ‘অভিযোগকারী নারীর সঙ্গে করণের পরিচয় ২০১৬ সালের শেষ দিকে, একটা ডেটিং অ্যাপের মাধ্যমে। এটি ২০১৭ সালের ঘটনা। তখন কিন্তু বিষয়টি নিয়ে কোনো নিউজ হয়নি। ২০১৮ সালের অক্টোবরে করণ নিজেই ওই নারীর বিরুদ্ধে পুলিশের কাছে হয়রানির অভিযোগ দায়ের করেন। ২০১৮ সালে ওই নারী এক সাক্ষাৎকারে দাবি করেন, তাঁর আর করণের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। এ সময় সে তাঁর বক্তব্যের পক্ষে কিছু উপহার ছাড়া অন্যান্য কিছু দেখান। আর ২০১৯ সালে এসে দেখা গেল, সেই নারী করণের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা করেছেন। এই নারীর ২০১৮ সালের বক্তব্য আর ২০১৯ সালের মামলা সম্পূর্ণ বিপরীত। সে একজন নারী এবং পুলিশ ওই মামলা নিতে বাধ্য। করণ যতই নিরপরাধ হোক না কেন, সব প্রমাণ করণের পক্ষে থাকলেও আইন অনুযায়ী পুলিশকে এখন সব আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে।’ পূজা বেদি বলেন, তিনি ১৫ বছর ধরে করণকে একজন ভদ্র, দয়ালু ও চমৎকার ভদ্রলোক হিসেবেই চেনেন। নারীদের সম্মান করেন করণ। তাঁকে সবচেয়ে কাছের বন্ধু বলে উল্লেখ করেন পূজা বেদি। কয়েক বছর ধরে নারী অধিকারের জন্য লড়াই করছেন। পূজা বেদি আরও বলেন, ‘একজন নারীর কোনো অধিকার নেই একটা পুরুষের জীবন ধ্বংস করার। ধর্ষণ মারাত্মক অপরাধ। এই আইন নারীকে রক্ষা করার জন্য। কিন্তু সেই আইনকে ব্যবহার করে মিথ্যা মামলায় যদি তা একজন পুরুষকে ফাঁসানো হয়, তা জঘন্য অপরাধ। করণকে ধর্ষক বিবেচনায় তাঁর কর্মক্ষেত্রে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে আমরা “মেন টু” আন্দোলনের সূত্রপাত ঘটিয়েছি। কাল যদি সব মিথ্যা প্রমাণিত হয়, সেটা খুব ছোট্ট করে গণমাধ্যমে আসবে। আর করণের ধর্ষক ট্যাগ থেকেই যাবে। করণের পেশা, নাম, সম্মান নষ্ট করার জন্য এবং করণ আর তাঁর পরিবারের মানহানির জন্য ওই নারীর বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি। একজন নারীর আইনের অপব্যবহারের জন্য করণ এখন জেলে।’——‘মেন টু’ আন্দোলন

      Reply
  3. হাসান মাহমুদ

    সুন্দর নিবন্ধ।
    (১) নিবন্ধে ফুটে উঠেছে যে, কোন বিষয়কে যথাযথ শব্দ-বাক্যে সংজ্ঞায়িত করার ওপরে অনেক কিছু নির্ভর করে, আইনের ক্ষেত্রে তো বটেই। অপরাধের বিবর্তন হয়, নুতন ধরণের অপরাধের জন্ম হয়, নুতন আইন বানানোর দরকার হয়। শেয়ার-লুটেরারা “চোর” সংজ্ঞার মধ্যে পড়ে কিনা, চুরির আইনে তাদের শাস্তি হতে পারে কিনা এসব প্রশ্নও এক সময় উঠেছিল।
    (২) চিরকাল নারীরাই সিংহভাগ ধর্ষণের শিকার (বিশেষ করে যুদ্ধের ক্ষেত্রে) তাই ওই ট্যাবুর জন্ম। এরকম নিবন্ধ ও আলোচনার ফলে সেই ট্যাবু ভাঙ্গতে শুরু করেছে, এটা শুভ লক্ষণ।
    (৩) মাদ্রাসায় যৌন অত্যাচারের উল্লেখ করে খুব ভালো করেছেন। দেশে এখন “উচ্চ”রা ছাড়া বাকি সবাই অরক্ষিত, নারীরা বেশী অরক্ষিত, কিন্তু সবচেয়ে অরক্ষিত মাদ্রাসায় বন্দী হোস্টেলের অসহায় ছাত্রছাত্রীরা কারণ সেই কারাগারে কারো প্রবেশের অধিকার নেই, এমনকি সরকারেরও। জাতি এখন জানতে পারছে, এরকম নিবন্ধ-আলোচনা চলুক, চিন্তার শালীন সংঘাত চলুক, সেটাই সামাজিক অগ্রগতির চালিকাশক্তি। এভাবে এক্ষেত্রেও আইনের শব্দ-বাক্য বদলাবে নিশ্চয়, সময় দিতে হবে।

    Reply
    • আইরিন ‍সুলতানা

      শ্রদ্ধেয় লেখক হাসান মাহমুদ, আপনি যেভাবে লেখাটির বক্তব্যকে সার-সংক্ষেপ করে
      এর সঙ্গে আপনার দৃষ্টিভঙ্গি ও উদাহরণ যুক্ত করেছেন, তাতে আমার লেখাটি বিশেষ ভাবে সমৃদ্ধ হলো।

      সময় করে লেখাটি পড়ে ফেইসবুকে লেখাটি নিয়ে মন্তব্য করার পর এই কলামেও সাগ্রহে মন্তব্য করে জানিয়েছেন, এটা একটি বাড়তি পাওয়া। আমাকে শেখারও সুযোগ করে দিলেন।

      যে সব প্রসঙ্গে অনেকেই বলতে ইতস্তত করে, তা আপনি অনেক সহজ ও স্পষ্ট করে লিখেছেন বহুবার- আপনার এমন অনেক লেখা পড়েছি। আমি সামান্য পাঠক তাই মন্তব্য করার সাহস করে নেইনি।

      এই বিশেষ প্রসঙ্গে আমার লেখাটিতে আপনার মন্তব্য পাওয়া বিশেষ গুরুত্ব রাখে আমার জন্য।

      এক নদী ধন্যবাদ ও শুভেচ্ছা জানবেন। ভাল থাকবেন।

      Reply
  4. ফকির সেলীম

    খুব সুন্দর বলিষ্ঠ লেখা। ধর্ষিতা শব্দটি চাই না।

    Reply

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। প্রতিক্রিয়া লেখার সময় লক্ষ্য রাখুন--

  • ১. স্বনামে বাংলায় প্রতিক্রিয়া লিখুন।
  • ২. ইংরেজিতে প্রতিক্রিয়া বা রোমান হরফে লেখা বাংলা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না।
  • ৩. প্রতিক্রিয়ায় ব্যক্তিগত আক্রমণ গৃহীত হবে না।

দরকারি ঘর গুলো চিহ্নিত করা হয়েছে—