“তিনি রোববার ঢাকায় এক অনুষ্ঠানে এই আহ্বান জানিয়ে পৈতৃক সম্পত্তিতে মেয়েদের সমান অধিকার নিশ্চিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার জন্যও সংশ্লিষ্টদের আহ্বান জানিয়েছেন” – ভয়েস অব আমেরিকা ২৮ এপ্রিল, ২০১৯।

(সরাসরি একথা প্রধানমন্ত্রী বলেননি। তিনি বলেছেন,  ‘মেয়েদের যে অধিকারটুকু সম্পদের সেখানেও অন্য কেউ এসে কেড়ে নিয়ে যাওয়া হয়। শরিয়া আইনের দোহাই দিয়ে সম্পদ কেড়ে নেওয়া হয়। এর কোনো সুরাহা করা যায় কিনা তা দেখতে হবে। যদি কারো দুই মেয়ে হয় তাহলে আইনের ক্ষেত্রে জটিলতা তৈরি হয়। তাই মেয়ে বা ছেলে না লিখে সন্তান লিখে দিলে, সেখানে সন্তান ছেলেই হোক বা মেয়েই হোক তার অধিকারটুকু সে পাবে।’- সম্পাদক)

সে যাই হোক, সমান উত্তরাধিকার বা উত্তরাধিকার আইনটি সংস্কারের প্রস্তাবটা যতবারই উঠেছে আলেম সমাজ এর প্রচণ্ড বিরোধিতা করেছেন সুরা নিসা ১১ ও ১৭৬ আয়াতের ভিত্তিতে যেখানে কন্যাকে অর্ধেক উত্তরাধিকার দেওয়া আছে। তাদের দাবি, কোরান-রসূলের (স) কোনও আইন বিন্দুমাত্র বদলানো যাবেনা। এদিকে বিশ্ববরেণ্য অনেক ইসলামী বিশেষজ্ঞ দেখিয়েছেন কোরান-রসূলের (স) কিছু হুকুম শ্বাশত এবং কিছু হুকুম শুধু সেই সমাজের জন্য। পরিবর্তিত সমাজে সেগুলো প্রয়োগ করলে বিপর্যয় ঘটবে। সেজন্যই ১৪০০ বছরে মুসলিম নেতৃত্ব বাইরের কোনও চাপ ছাড়া নিজেরাই সেগুলোকে সমাজ বদলের সাথে সাথে ক্রমাগত পরিবর্তন করেছেন। এর অগ্রপথিক হলেন হযরত ওমর (রা:)। কিছু উদ্ধৃতি দিচ্ছি বিশ্ববরেণ্য ইসলামী বিশেষজ্ঞ থেকে, জানিনা মাদ্রাসায় এগুলো পড়ানো হয় কিনা। কেউ চাইলে কেতাবগুলোর পৃষ্ঠাগুলোর স্ক্যান পাঠানো যেতে পারে।

পৃথিবীর সর্বোচ্চ শারিয়া-বিশেষজ্ঞের একজন ডঃ হাশিম কামালি। তিনি বলছেন- “নবী (দঃ)-এর সময়েই কোরান ও সুন্নাহ-তে কিছু সম্পূর্ণ ও কিছু আংশিক পরিবর্তন করা হয়। পরিস্থিতির পরিবর্তনই ইহার মূল কারণ”। তার বিখ্যাত গবেষণা গ্রন্থ ‘প্রিন্সিপলস অব্ ইসলামিক জুরিসপ্রুডেন্স’ এ এমনটাই বলেছেন হাশিম।

যেমন, (ক) “ইবনে উমর এই আয়াত পড়িত − ‘তাহাদের সুযোগ ছিল রোজা রাখা অথবা কোন দরিদ্রকে প্রতিদিন খাওয়ানো’ এবং বলিয়াছে এই আয়াতের আদেশ রহিত করা হয় – বুখারী ৩য় খণ্ড ১৭০। (খ) “বার্ মাউনাতে যাহারা নিহত হইয়াছিল তাহাদের উপর নাজেলকৃত আয়াতটি আমরা পড়িতাম কিন্তু পরে তাহা বাতিল করা হয়” -বুখারী ৪র্থ খণ্ড ৬৯।  (গ) নবীজীর সাথে একান্তে কথা বলতে হলে কিছু সদকা দিতে হবে এ-আয়াতও আল্লাহ পরে রহিত করেন – মুহিউদ্দিন খানের অনুদিত বাংলা-কোরান পৃষ্ঠা ১৩৪৭।

পরের পরিবর্তনগুলো অনেক, কিছু উদাহরণ দিচ্ছি:-

১. অমুসলিমদের ওপরে জিজিয়া কর – সূরা তওবা ২৯।

আয়াতটা স্পষ্ট, এতে কোনও শর্ত নেই, পরিমাণও দেয়া নেই। রসূল (স) নিজেই জিজিয়া কর নিতেন। কিন্তু হজরত ওমর (রা:) বিভিন্ন কারণে কিছু ব্যক্তি ও ইরানের এক গোত্রের কাছ থেকে জিজিয়া কর নেননি। তিনি নারী, শিশু, বিকলাঙ্গ, বৃদ্ধ ও যাজকদের কাছ থেকেও জিজিয়া নেয়া বন্ধ করে দেন – বিস্তারিত দেখুন মুহিউদ্দিন খানের অনুদিত বাংলা-কোরান, পৃষ্ঠা ৫৬৭।

অন্যান্য সূত্রে আমরা দেখি এমনকি এক মুসলিম গোত্রের কাছ থেকেও তিনি জিজিয়া কর নিয়েছেন। আরও দেখুন-

“সামরিক চাকরি হইতে রেহাই দিবার জন্য সক্ষম মুসলিম পুরুষদের উপর জিজিয়া ধার্য করা হইয়াছিল। খ্রিস্টান গোত্র আল্ জুরাজিমাহ-কে এই চুক্তিতে জিজিয়া হইতে অব্যাহতি দেওয়া হইয়াছিল যে তাহারা মুসলিমদিগের সহিত যোগ দিয়া যুদ্ধ করিবে ও গণিমতের অংশীদার হইবে” − ‘ইসলাম দ্য মিস্আণ্ডারস্টুড রিলিজিয়ন’, বিশ্ববিখ্যাত শারিয়া-নেতা সৈয়দ কুতুব।

উসমানীয় খেলাফত ১৯শ শতকে জিজিয়া সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেয়। সুরা তওবা আয়াত ৬০-এর ভিত্তিতে নবীজী (দঃ) মুয়ালাফা গোত্রকে যে জাকাত দিতেন সেটাও হজরত ওমর (রা:) বন্ধ করে দেন – ডঃ হাশিম কামালী, পৃঃ ২০৩।

এগুলোকে কি আমরা কোরান- রসূলের (স) লঙ্ঘন বলব? মোটেই নয়। কারণ যে মঙ্গলের জন্য বিধানগুলো এসেছিল তা আর সম্ভব হচ্ছেনা সমাজ পরিবর্তনের ফলে। তাই বিধানগুলোর পরিবর্তনে সমাজের মঙ্গল হয়েছে যেজন্য বিধানগুলো এসেছিল।

২. চোরের হাত কেটে দিতে হবে – মায়েদা ৩৮ – কোনও শর্তের উল্লেখ নেই।

কিন্তু হযরত ওমর (রা:) দুর্ভিক্ষের সময় চোরের হাত কাটা বন্ধ করেছিলেন – ডঃ হাশিম কামালী, পৃঃ ৩২৫। ইমাম শাফি-কে যখন প্রশ্ন করা হল চুরি প্রমাণিত হলে চোরের হাত কাটা বাধ্যতামূলক কিনা, তিনি জবাব দিয়েছিলেন – “হ্যাঁ, সঠিক” – ‘আল শাফি’স রিসালা’ পৃষ্ঠা ২৯০, অনুবাদ ড: মজিদ খাদ্দুরী।

ইমাম শাফি কোনও শর্ত বা পরিমানের উল্লেখ করেননি। শতাব্দী ধরে আলেমরা এতে অনেক শর্ত যোগ করেছেন। যেমন- চুরির জিনিস এক চতুর্থাংশ স্বর্ণমুদ্রা বা তিন রৌপ্যমুদ্রা বা ওই মূল্যের কিছু বা সফরের সময়ে চুরি হলে শাস্তি প্রয়োগ হবে না ইত্যাদি। এসব পরিবর্তনের একমাত্র কারণ পরিবর্তিত পরিস্থিতি ও সমাজ। মুসলিম নেতৃত্ব বহু আগেই চোরের হাত কাটা বন্ধ করেছেন।

৩. মুসলিম পুরুষদেরকে অনুমতি দেয়া হল ইহুদি-খ্রিস্টান নারীকে বিয়ে করার– মায়েদা ৫। কিন্তু হজরত ওমর (রা:) বিশেষ ক্ষেত্রে ইহুদি-খ্রিস্টান নারীকে বিয়ে করা বন্ধ করেছেন – ডঃ হাশিম কামালী, পৃঃ ৩২৫।

হাদিসেও আছে অনেক, যেমন: “আলী ইবনে আবু তালিব বলিয়াছেন – মদ্যপানের জন্য আলাহ’র রসুল (সাঃ) এবং আবু বকর (র) চল্লিশ বেত্রাঘাত দিয়াছেন এবং ওমর (র) তাহা আশি করেন” − সহি আবু দাউদ হাদিস নং ৪৪৬৬। নবীজির (সাঃ) সময়ের তামাত্তু হজ্জের পদ্ধতিও বদল করেছেন হযরত ওসমান (র)- সহি বুখারি ২য় খণ্ড হাদিস ৬৩৪।

নবীজি (সাঃ) পরের নেতা জনগণের ইচ্ছের ওপর ছেড়ে গিয়েছিলেন, হজরত আবু বকর (র) রসুলের অনুকরণ না করে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন হজরত ওমরকে (রা:)। হজরত ওমরও (রা:) রসুলের (সা:) অনুকরণ না করে ছয়জনের কমিটি বানিয়ে তার ওপর ভার দিয়েছিলেন ওই কমিটির ভেতর থেকেই পরের খলিফা ঠিক করতে। সমাজ বদলের সাথে কোরান-রসূলের (সাঃ) কিছু বিধানের এই পরিবর্তনে সমাজের স্থিরতা বজায় ছিল ও বিপর্যয় থেকে রক্ষা পেয়েছিল।

মওলানা মওদুদি বলেছেন -“বিভিন্ন পয়গম্বরের প্রচারিত বেহেশতী কেতাবে নির্দেশিত ইবাদতের পদ্ধতিতে, হালাল-হারামের বিধানগুলিতে ও সামাজিক আইনগুলির বিস্তারিত কাঠামোতে ভিন্নতা আছে কেন? (কারণ) স্বয়ং আল্লাহ বিভিন্ন সময়ের, বিভিন্ন জাতির ও বিভিন্ন পরিস্থিতির সাথে খাপ খাওয়াইবার জন্য আইনের ধারা বদলাইয়াছেন’’ – (It is God Himself Who altered the legal prescriptions to suit different nations at different times and in different circumstances) – তাফহিমুল কুরান, মায়েদা ৪৮-এর ব্যাখ্যা। গত ১৪০০ বছরে সমাজের আমূল পরিবর্তন ঘটেছে। তাই কোরানের উত্তরাধিকার বিধানও বিদ্যমান পরিস্থিতি অনুযায়ী সংশোধন করাটা গুরুত্বপূর্ণ।

‘‘আমি কোন আয়াত রহিত করিলে বা ভুলাইয়া দিলে তাহা অপেক্ষা উত্তম বা সমপর্যায়ের আয়াত আনি’’ -বাকারা ১০৬ এবং ‘‘যখন আমি এক আয়াতের স্থলে অন্য আয়াত আনি এবং আল্লাহ যা নাজিল করেন তা তিনিই ভালো জানেন’’ – নাহ্‌ল আয়াত ১০১। একে বলে নস্‌খ্‌। এর মধ্যেই নিহিত আছে ইসলামের গতিময়তা, এজন্যই ইসলাম চির আধুনিক।

ডঃ কামালি বলছেন, ‘‘মানুষের উপকারের জন্য সমাজের বিদ্যমান পটভূমি ও আইনের সমন্নয় করার প্রয়োজনে নস্‌খ্‌‌ আসিয়াছে। কোরান ও হাদিসে নখ্‌স্‌-এর সর্বপ্রধান কারণ হইল স্থান-কালের বিষয়টি- নবী (দঃ)-এর সময়েই কোরান ও সুন্নাহ-তে কিছু সম্পুর্ণ ও কিছু আংশিক পরিবর্তন করা হয়। পরিস্থিতির পরিবর্তনই ইহার মূল কারণ।’’ – প্রিন্সিপল্‌স অব ইসলামিক জুরিস্প্রুডেন্স। এই গতিময়তার কারণেই কোরান-রসুলের (স) অনেক নির্দেশ এখন মওলানারাও হয় মানবেন না বা ইচ্ছে করলেও মানতে পারবেন না যেমন রসুলের সামনে উঁচু গলায় কথা না বলা (হুজরাত ২), দাসীসংসর্গ (মুমিনুন ৫, ৬), সম্মানিত মাসে যুদ্ধ (বাকারা ২১৭), উটের মূত্র পান করা (বুখারী ৮ম খণ্ড ৭৯৭), ইত্যাদি।

মওলানা মুহিউদ্দিনের কোরানের অনুবাদেও এটা আছে ৩৩৪ ও ৫৩ পৃষ্ঠায়- ‘‘নাসিখ ও মনসুখের অবস্থা একজন বিজ্ঞ হাকিম ও ডাক্তারের ব্যবস্থাপত্রের মতো। ডাক্তার যখন পূর্ববর্তী ব্যবস্থাপত্র রহিত করে নূতন ব্যবস্থাপত্র দেন তখন এরূপ বলা ঠিক নয় যে পূর্বের ব্যবস্থাপত্রটি ভুল ছিল। বরং আসল সত্য হচ্ছে এই যে, বিগত দিনগুলোতে সে ব্যবস্থাপত্রই নির্ভুল ও জরুরি ছিল এবং পরবর্তী পরিবর্তিত অবস্থায় পরবর্তী পরিবর্তিত এ ব্যবস্থাপত্রই নির্ভুল ও জরুরি’’।

৪. কোন কোন পরিস্থিতিতে কোরান অনুযায়ী মৃতের কে কে কী কী উত্তরাধিকার পাবে সেই চিত্রগুলো উল্লেখ করে অনেকে দেখান যে সবগুলো পরিস্থিতি একত্রে দেখলে নারীরাই বেশি পান। কাগজের হিসেবে অঙ্কটা ঠিক। কিন্তু যেসব ক্ষেত্রে নারীরা বেশী পান সেগুলো প্রায় ঘটেই না, প্রায় ১০০ শতাংশ ক্ষেত্রেই মৃতের পুত্রকন্যা ও স্ত্রী বা স্বামী থাকে যেখানে কন্যারা অর্ধেক পায়।

৫. স্বামীর ভরণপোষণের দায়িত্বের যুক্তিটা সর্বগ্রাসী বেকারত্ব, দারিদ্র্য ইত্যাদির ঝড়ে উড়ে গেছে সেই কবে! আর, শারিয়া আইনে সেই দায়িত্ব হলো – ‘‘স্বামী খাবার, বাসা ও পোশাক দিবে বাধ্য স্ত্রীকে, অবাধ্য স্ত্রীকে নহে। বাচ্চা হইবার সময় ব্যতীত অন্য সময়ে ডাক্তার-ওষুধের খরচ বা সাবান-প্রসাধন কিংবা দিতে স্বামী বাধ্য নহে’’ – (হানাফি আইন হেদায়া পৃষ্ঠা ১৪০ ও শাফি’ আইন এম-১১-৪)। বলাইবাহুল্য স্ত্রী বাধ্য কিনা তা কিন্তু ঠিক করবে ওই স্বামীই। মুহিউদ্দিন খান অনুদিত কোরান পৃষ্ঠা ৮৬৭ – ‘‘স্ত্রীর যে প্রয়োজনীয় ব্যয়ভার বহন করা স্বামীর জিম্মায় ওয়াজিব তা চারটি বস্তুর মধ্যে সীমাবদ্ধ – আহার, পানীয়, বস্ত্র ও বাসস্থান। স্বামী এর বেশি কিছু স্ত্রীকে দিলে অথবা ব্যয় করলে তা হবে অনুগ্রহ, অপরিহার্য নয়’’।

এসব আইন ‘ইসলাম নারীকে সর্বোচ্চ মর্যাদা দিয়েছে’ এ দাবি নস্যাৎ করে ফেলে। তালাকপ্রাপ্তা স্ত্রী খরপোষ পাবে তিনমাস, তাৎক্ষণিক তালাকে খরপোষের কোনো বালাই-ই নেই। তারপর সে কি খাবে পরবে তার হদিস নেই; তার সম্ভাব্য গন্তব্য পতিতালয়। এইসব কারণে নারীকে অর্থিক দিক দিয়ে শক্তিশালী করার দরকার আছে।

৬. স্ত্রীর মোহরানা তার রক্ষাকবচ হলে ভালো হতো কিন্তু শারিয়া আইনে দেনমোহর টাকা ছাড়াও হতে পারে একজোড়া জুতো বা কোরান থেকে কিছু তেলাওয়াত -শারিয়া দি ইসলামিক ল’ পৃষ্ঠা ১৬৩, ১৬৪ ও বিধিবদ্ধ ইসলামী আইন ৩য় খণ্ড পৃষ্ঠা ৯৭৬, বুখারী ৭ম খণ্ড ২৪ ও তিরমিজি ৯৫১। তাছাড়া নারীর সারাজীবনের খরচ চালাবার মতো দেনমোহর কমই ধার্য করা হয়, নারী তা কম ক্ষেত্রেই পায়।

৫. সুরা নিসা আয়াত ১১ অবতীর্ণ হয় সাহাবী আউস বিন সাবেত নাবালক এক পুত্র ও বালেগ দুই কন্যা রেখে মারা গেলে – মওলানা মুহিউদ্দিনের অনুদিত কোরান পৃষ্ঠা ২৩৪। আইন দুর্বলকে অগ্রাধিকার দেবে এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু বিশ্বের সব মুসলিম পুরুষ নাবালক নয়, তাই আয়াতটাকে সবার ক্ষেত্রে প্রয়োগ করা যায়না। নিসা ১৭৬-এর পটভূমি ইমাম ওয়াহিদি’র “আসবাব আল নুযুল” কিতাবেও পেলাম না, কেউ জানালে বাধিত হবো।

অতীতের গোত্র-ভিত্তিক পারিবারিক কাঠামো পার হয়ে একান্নবর্তী কাঠামোতে বহু সদস্যের কারণে নারীর কিছুটা হলেও সাহায্যকারী ছিল। বর্তমানের একক পরিবারে সেটা নেই, নারীর ওপর আজ বহু দায়িত্ব। দুজনের আয় ছাড়া সংসার চলেনা, বাচ্চাদের শিক্ষার খরচ জোটেনা। বৃদ্ধ বয়সে বাবা-মায়ের যত্নও কন্যারা পুত্রের চেয়ে কম নেয় না। তাই তার আর্থিক শক্তির দরকার আছে। দায়িত্ব থাকবে অথচ অধিকার থাকবেনা তা হয়না। রসূলের (স) পরে পরেই সমাজকল্যাণের কারণে কোরান-রসূলের (স) তাৎক্ষণিক কিছু বিধানকে যদি হযরত ওমর (র) পরিবর্তন করতে পারেন, তার পদাঙ্ক অনুসরণ করে যদি ৯৮ শতাংশ মুসলিমের দেশ তিউনিশিয়ার আলেমদের সহায়তায় সরকার সমান উত্তরাধিকারের আইন করতে পারে, তাহলে সেটা আমাদের সরকার ও আলেমরাও পারবেন।

সবাইকে সালাম।

হাসান মাহমুদমুসলিম রিফর্ম মুভমেন্ট-এর প্রতিষ্ঠাতা সদস্য, সাংস্কৃতিক ও মানবাধিকার কর্মী, শারিয়া আইনের ওপর গবেষক, লেখক ও আন্তর্জাতিক সম্মেলনের বক্তা।

১১ Responses -- “প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ ও হজরত ওমরের (রা:) শাসন: সমান উত্তরাধিকার”

  1. আহম্মেদ

    ওমর রা: ইসলামের বিধানের কোনই পরিবর্তন করেননি, বরং উনি ইসলামের বিধান আরো প্রায়োগিক করেছেণ। যুদ্ধলদ্ধ সম্পদের ব্যাপারে ইজমা আস সাহাবা যা ভুমি সংক্রান্ত বিধানের ব্যাপারে নেয়া হয়েছে তাকেও উনি সংস্কার বলে চালিয়ে দিবেন? ওনারা সেক্যুলারিস্ট সবসময় সেক্যুলার মানে কিছু বিধান গ্রহণ ও কিছু বিধান বর্জনের ওকালতিই করেন।
    ২য়ত নারী সম্পদের পূর্নাঙ্গ অধিকার যা শরিয়া আইন নারীকে প্রদান করেছে তা নিশ্চিত করতে হলে ইসলামের অর্থণীতির সম্পূর্ন বিধান বাস্তবায়ন করতে হবে। নিষিদ্ধ সুদের উপর ভিত্তি করে কেমন করে উনি নারীর সম্পত্তির বিধান বাস্তবায়ন করবেন? একদিকে সুদ অন্যদিকে নারীর সম্পত্তির অধিকার হাস্যকর তুলনা।
    ৩য়ত হানাফী আইন ও শাফী আইন বলে কি বোঝাতে চাইছেন তা স্পষ্ঠ নয়। হেদায়া নামক কোন এক গ্রন্থের রেফারেন্স টেনেছেন, ইসলামের কোনো বিধানই ওহি ও সুন্নাহর দলিল ব্যতিরেকে পালন বর্জনীয়। বিভ্রান্ত করার জন্য কিংবা সেক্যুলার চিন্তার সাপো্র্ট পাবার জন্য তা টেনেছেন।

    ইসলামী ব্যাংক নামের যে সুদি প্রতিষ্ঠান এসব ভ্রান্ত চিন্তার ফসল ঠিক তেমনি এসব নতুন নতুন বিতর্ক সৃষ্টি করে ইসলাম উৎখাতের অপচেষ্ঠা তাদের অ্যারাবিয়ান জাহেল রাজতন্ত্র যে ভার্সন সৃস্টি করেছে তার নব্য সংস্করণ

    ওমর রা: সহ পরবর্তী সকল সাহাবা মিলে কুরআন সুন্নাহর আলোকে যে সব বিধানেেঐক্যমত্য হয়েছেন তাও শরীয়া দলিল যেমন চোরের হাত কাটার ১০ শর্ত পূরন বা চুরি কৃত পন্যের নিসাব নির্ধারন কিংবা মদ পানের শাস্তি এসবই ইজমা আস সাহাবা যা শরিয়া বিধানের উৎস, সাহাবী রা: কোন হারাম কিংবা পবিত্র কোরআনে কিংবা রাসূল স: কতৃক দেখানো সুন্নাহর এক দন্ডও বরখেলাপ করে ভিন্ন মনগড়া বিধান গ্রহণ করেননি।

    পুঁজিবাদী রীতিনীতিকে খাপ খাওয়ানোর জন্য ইসলামের বিধানকে নিয়ে অপপ্রচার প্রতিহতের আহবান জানাচ্ছি।

    Reply
  2. কাজী নুরুজ্জামান

    হাসান ভাই, এ ব্যাপারে একটি টক শো করলে কেমন হয়।

    Reply
  3. আতীকুর রহমান

    আপনার লেখা পড়ে বুঝলাম, আপনার কুরআন হাদীস বিষয়ক জ্ঞান একেবারে প্রাথমিক পর্যায়ের, অথচ লিখেছেন একটি স্পর্শকাতর ব্যাপার নিয়ে। পাশাপাশি সম্ভবত আপনি আরবী ভাষা বুঝেন না এবং আপনার কাছে এ বিষয় সংক্রান্ত মৌলিক কোন বই ছিল না। কেবল অনুবাদের সময় নির্ভরশীল হয়ে লেখাটি প্রস্তুত করেছেন। এটি কোনভাবেই কাম্য নয়। আপনি চাইলে, আপনার ভুলগুলো আমি চিহ্নিত করে দিব এবং আপনার না বুঝার জায়গাগুলো স্পষ্ট করে দিব।

    Reply
    • Mukaddis

      আতীকুর সাহেব, আপনি বলেছেন হাসান মাহমুদ সাহেবের কোরান হাদিস বিষয়ে জ্ঞান প্রাথমিক পর্যায়ে তো আপনার গভীর জ্ঞানের কথাগুলো লিখলে ভাল হত, উনি চান আর না চান। কারণ পাঠক হিসাবে আমার জানার আগ্রহ কার জ্ঞানের গভীরতা কত। তবে উনি যে যুক্তি ও রেফারেন্স দিয়েছেন সেটা মিথ্যা নয়।

      Reply
    • হাসান মাহমুদ

      ধন্যবাদ। ব্যক্তিগত আক্রমণ আমি নিজেও করি না প্রশ্রয়ও দিই না। নিবন্ধের ওপরে শালীন ভাষায় মতামত পোস্ট করতে পারেন কিংবা আলাদা নিবন্ধ লিখতে পারেন।

      Reply
  4. AB

    Enjoyed the article. If equal rights in paternal property execute, would be one of the greatest success by Hasina government. Moderate Muslims should support it.

    Reply
  5. ধর্ম ও জিরাফের উদ্ভট কোলাজ

    সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের অনেকগুলো ঝাঁঝালো আলোচনার মধ্যে একটি ছিল সম্পত্তিতে নারীদের সমানাধিকার নিশ্চিত করা বিষয়ক সরকারী প্রস্তাবনা ।
    স্বাভাবিক বিচারবুদ্ধি সম্পন্ন নারী এবং পুরুষগন এই প্রস্তাবনাকে স্বাগত জানিয়েছিলেন । স্বাগত না জানানো কোন কারন নেই । অপরদিকে সংগঠিত ইসলামিক দলগুলো,আলেম,মোল্লা, ইমামগন এই প্রস্তাবনা্র তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে একে প্রতিহত করার জেহাদী ডাক ও দিয়েছেন । জরুরী অবস্থার মধ্যে তারা হাজারে হাজারে/লাখে লাখে সমবেত হয়ে তাদের প্রতিবাদ জানিয়েছেন । তাদের প্রতিবাদ না জানানোর ও কোন কারন নেই । এই দুই বিপরীত পক্ষের মধ্যে দ্বিতীয় পক্ষের অবস্থান আমার কাছে স্পষ্ট,সাবলীল ও আন্তরিক মনে হয়েছে । এরূপ মনে না হওয়ার ও কোন কারন নেই আসলে । প্রথম পক্ষীয়গন-বাংলাদেশের স্বাভাবিক বিচারবুদ্ধি সম্পন্ন নারীসকল ও পুরুষগন,অনুমান না করার কোন কারন নেই যে তাদের প্রায় সকলের ইসলাম ধর্মে প্রতীতি আছে । তাদের মধ্যে বিচ্ছিন্নভাবে কেউ কেউ ব্যক্তিগতভাবে ধর্মের সমালোচনা করতে পারেন কিন্তু ‘আমি মুসলমান নই’,-এরকম উচ্চারনের সাহস কিংবা ইচ্ছে কোনটাই তাদের নেই ।
    অন্যসব ধর্মের মতো চরিত্রগত ভাবে ইসলাম ও বাইনারি নাম্বারের মতো । ০ কিংবা ১ । হ্যাঁ অথবা না । পূর্ন সমর্থন কিংবা পুর্ন অবিশ্বাস । যতোটুকু বুঝি-‘মহিমায় আছি,গ্লানিতে নেই’ এরকম আধাখেঁচড়া সুবিধাবাদী প্রেমিকের স্থান ধর্মে নেই । ইসলাম ধর্মের ক্ষেত্রে বিষয়টা আরো সিরিয়াস কারন এই ধর্মটা সবচেয়ে আধুনিক(সময়ের বিচারে) এবং স্ট্রাকচারড । তার লিখিত সংবিধান কোরান শরীফ,যার প্রতিটি বাক্য বিনা প্রশ্নে মেনে নেয়া মুসলমান হবার অন্যতম প্রধান শর্ত ।
    এই সংবিধানে মুসলমানদের পারলৌকিক বিষয় আশয়ে র পাশাপাশি ইহলৌকিক জটিলতা বিষয়ে সমাধান দেয়া আছে-নিজেকে মুসলমান দাবী করা প্রতিটি নারীপুরুষ এই সমাধান মেনে নিতে বাধ্য যদি না তিনি নিজেকে ইসলাম থেকে বিচ্যুত ঘোষনা করেন । সম্পদের বন্টন সম্পর্কে ও কোরানের নির্দেশ সুস্পষ্ট, দ্ব্যর্থহীন । বলা হয়েছে কোরানের অনেক আয়াতই এবসার্ড,ধরে নিতে পারি ঐ আয়াতগুলো ফিলোসফিক । আইন-কানুন,বিধিবিধান বিষয়ক নীতিমালা তো আর এবসার্ড হতে পারেনা ।
    যাই হোক, সম্পত্তি বন্টন বিষয়ক কোরানের বিধান কি রকম?
    সুরা নিসা আয়াত ১১:
    “আল্লাহ নির্দেশ দিচ্ছেন তোমাদের সন্তানসন্ততি সম্পর্কেঃ এক ছেলে পাবে দুই মেয়ের অংশের সমান;যদি দুই মেয়ের বেশী থাকে তবে তারা পাবে যা সে রেখে গেছে তার দুই-তৃতীয়াংশ,আর যদি একে মেয়ে থাকে তবে সে পাবে অর্ধেক,আর তার যদি সন্তান থাকে তবে তার পিতামাতা প্রত্যেকে পাবে তার ছয়ভাগের একভাগ,কিন্তু যদি তার সন্তান না থাকে,শুধু পিতামাতা তার উত্তরাধিকার হয় তবে তার মা পাবে তিন ভাগের এক ভাগ; কিন্তু যদি তার ভাইয়েরা থাকে তবে তার মা পাবে ছয়ভাগের একভাগ,মৃত ব্যক্তির অসিয়তের দাবি বা ঋন পরিশোধের পরে ।
    তোমাদের পিতামাতা ও তোমাদের সন্তানরা,তোমরা জানোনা এদের মধ্যে কে তোমাদের উপকারের দিক দিয়ে বেশী আপন । এ আল্লাহর বিধান । আল্লাহ সর্বজ্ঞ তত্বজ্ঞানী । সমবন্টনের প্রতিবাদকারী মুসলিমদের প্রতিবাদকে আমার কাছে যৌক্তিক মনে হয় ঠিক এই পয়েন্টে । আল্লাহর বেঁধে দেয়া বিধি-বিধান নিঃশর্তে মেনে নেয়ার অংগীকার করেই তো মুসলমা হওয়া । তো সেই বিধি-বিধান আমার নিজস্ব বিবেচনায় অন্যায্য মনে হলে ও তা লংঘনের কোন সুযোগ কি ধর্ম তার অনুসারীদের দিয়েছে? ”
    যারা সমবন্টনের দাবী করেন কিংবা দাবীকে সমর্থন করেন তাদের কি এই সাহস কিংবা সুযোগ আছে আদৌ যে স্পষ্ট করে বলা- কোরানের এই বন্টন ব্যবস্থায় অন্যায্য,অন্যায্য বলেই আমরা মানিনা । এই বলার পর আবার সেই কোরানের ধর্মে নিজেকে স্থিত করাটা কতোটুকু নৈতিক? এ ছাড়া ভেবে দেখা জরুরী-আজকের পৃথিবীতে ধর্মের বিধান না মানলে ও চলেকিন্তু রাষ্ট্রে বাস করতে হলে রাষ্ট্রের বিধান তো মানতেই হবে । বাংলাদেশ রাষ্ট্রের বিধানই তো প্রত্যেক নাগরিককে বাধ্য করে কোরানের বিধান মানতে । রাষ্ট্রধর্ম ইসলামের কথা বাদই দিলাম- রাষ্ট্রীয় মুল নীতির একটা যে -‘আল্লাহর উপর পুর্ন আস্থা’ আল্লাহর উপর পুর্ন আস্থা রেখে তার বিধিবিধান বিনাপ্রশ্নে না মানলে তো আপনি রাষ্ট্রের মুলনীতিকে ই অস্বীকার করলেন । সে আপনি জনাব হাসান মোরশেদই হোন কিংবা শ্রী রাধামাধব ব্যানার্জীই হোন । এই পুন্যভূমে জন্মলাভের মাহেন্দ্রক্ষনেই তো আপনি নাকে খত দিয়েছেন আল্লাহর উপর পুর্ন আস্থা রাখবেন । তো?

    Reply
  6. হাসান মাহমুদ

    ১. সংশোধনীর জন্য সম্পাদককে ধন্যবাদ। আমি ভয়েস অফ আমেরিকার সাইট থেকে হুবহু উদ্ধৃতি দিয়েছি, বিষয়টা উনাদেরকে আজই জানাচ্ছি।
    ২. আমার উদ্ধৃত সহি বুখারী’র হাদিসগুলো যদি কেউ মিলিয়ে দেখতে চান তাহলে হাদিসের নম্বরে গরমিল পাওয়া যেতে পারে। কারণ অনেকেই সহি বুখারী’র অনুবাদ করেছেন, সেগুলোতে হাদিসের নম্বরে তারতম্য আছে। আমি ব্যবহার করি মদীনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ড: মুহসিন খানের ৯ খণ্ডের ইংরেজী অনুবাদ, আমার ধারণায় ওটাই বিশ্বে সবচেয়ে বেশী ব্যবহৃত।

    Reply
  7. Nino

    ধন্যবাদ। অনেক বিষয়ে জানতে পারলাম। ইসলাম নিয়ে আপনার লেখাগুলো পড়তে অনেক ভালো লাগে। আল্লাহ আপনাকে দীর্ঘজীবন দান করুন, যাতে আমরা আপনার আরও লেখা পড়তে পারি। ভালো থাকবে।

    Reply
  8. suvro

    শরিয়া আইন সংশোধন না করে পৈতৃক সম্পত্তিতে ছেলে মেয়ের সমান অধিকার নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার তাগিদ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। (channelionline)

    Reply

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। প্রতিক্রিয়া লেখার সময় লক্ষ্য রাখুন--

  • ১. স্বনামে বাংলায় প্রতিক্রিয়া লিখুন।
  • ২. ইংরেজিতে প্রতিক্রিয়া বা রোমান হরফে লেখা বাংলা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না।
  • ৩. প্রতিক্রিয়ায় ব্যক্তিগত আক্রমণ গৃহীত হবে না।

দরকারি ঘর গুলো চিহ্নিত করা হয়েছে—