প্রতি বছর এর  মতো এবছরও পালিত হয়ে গেল বিশ্ব আবহাওয়া দিবস। বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা এবার বিশ্ব আবহাওয়া দিবসের প্রতিপাদ্য ঠিক করেছে- সূর্য, পৃথিবী এবং আবহাওয়া।

সূর্যের জোগান দেওয়া শক্তিতে এ পৃথিবীর সমস্ত জীবন চক্র পরিচালিত হয়। সূর্য আমাদের গ্রহের বায়ুমণ্ডলের তাপ ও শক্তির উৎস। এ শক্তি পরিচালিত করে আবহাওয়া, সাগরের জলস্রোত এবং জলীয় চক্র। আবহাওয়া-জলবায়ু, জলচক্র এগুলো কোনো রাজনৈতিক সীমারেখা মেনে পরিচালিত হয়না। প্রতিদিনের আবহাওয়া আমাদের জলবায়ু পরিবর্তন সম্পর্কিত সমস্যা বুঝতে ও সঠিক ধারণা পেতে সাহায্য করে। আবহাওয়ার অবস্থা আবহাওয়া বিজ্ঞানী ও মহাকাশচারীদের বায়ুমণ্ডলের চাপ ও পারিপার্শ্বিকতা সম্পর্কে একটি যথাযথ ধারণা দিয়ে থাকে যা আমাদের প্রতিদিনের জীবন যাপনের সাথে সম্পর্কিত।  আবহাওয়ার সঠিক তথ্য জনগণকে প্রাকৃতিক দুর্যোগ এবং জন জীবনে এর প্রভাব সম্পর্কে আগাম জানান দিয়ে সতর্ক করে।  আবহাওয়ার তথ্য আমাদের প্রকৃতিক দুর্যোগের প্রকৃত সময় ও স্থান সম্পর্কে ধারণা দেয় যা থেকে আমরা সচেতন হয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে পারি।

মানুষ ও জীব-জগতের জন্য প্রাকৃতিক দুর্যোগ খুবই বিপজ্জনক যা থেকে মৃত্যু  ও ঘটে  এবং হারাতে পারে তাদের সহায়-সম্বল বাসস্থান প্রভৃতি।  প্রাকৃতিক দুর্যোগের কোনো দিন, মাস, তারিখ  নেই, এটি যেকোনও সময় যেকোনও জায়গায় ঘটতে পারে।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সরকার প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে তাদের জনগণের সুরক্ষার্থে কার্যকর পদক্ষেপ নিয়ে থাকে।  হঠাৎ আসা এসকল দুর্যোগ থেকে নিরাপদে বেঁচে থাকার জন্য অনেক সময় নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়া জরুরী হয়ে উঠে এবং সেটা মেনে চলা উচিত।

জনগণ যাতে প্রাকৃতিক দুর্যোগ, সেসবের সমূহ বিপদ ও সমস্যা সম্পর্কে জানতে পারে সেজন্য  সরকার ও বিভিন্ন সংস্থা বিভিন্ন আধুনিক তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তা নিয়ে কাজ করে। আবহাওয়ার নানাবিধ আধুনিক প্রযুক্তি ও উপকরণ আবহাওয়া সম্পর্কিত অবস্থা জানতে-বুঝতে ব্যবহার করা হয়। পাশাপাশি যথাযথ গবেষণা ও প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার আবহাওয়া সংশ্লিষ্টদের জনগণের আস্থা অর্জনে ভূমিকা রাখে। উচ্চতর ও সুন্দর জীবনের অভিলাষী মানুষ সব সময় সঠিক জ্ঞান নিয়ে এগিয়ে যেতে চাই ও তাদের প্রয়োজনীয় কাজ যথাসময়ে শেষ করতে চায়।  এ জন্য সমন্বিত গবেষণা খুবই প্রয়োজন।

আবহাওয়া ও জলবায়ু সম্পর্কিত হুমকিগুলোর অন্যতম হলো- ঘূর্ণিঝড়, বজ্র-ঝড়, ভারী বৃষ্টি, তাপমাত্রা, খরা, সাগর পৃষ্টের উচ্চতা বৃদ্ধি  যা বিশ্বব্যাপী জনসাধারণকে আতংকিত করে রেখেছে। আবহাওয়া, জলবায়ু এবং জলবায়ু সম্পর্কিত ঝুঁকিগুলি থেকে জীবন, জীবিকা এবং সম্পত্তি রক্ষা করার জন্য সমন্বিত গবেষণা অন্যতম অগ্রাধিকার হওয়া উচিত।

১৯৯৫ সাল থেকে ২০১৫ সাল  পর্যন্ত দক্ষিণ এশিয়ার  আবহাওয়া-জলবায়ু নিয়ে উচ্চতর গবেষণা কার্যক্রম চালিয়ে আসছিল ঢাকার শের-ই -বাংলা নগরে  অবস্থিত সার্ক আবহাওয়া গবেষণা কেন্দ্র (এস এম আর সি)।  এই আবহাওয়া-জলবায়ু গবেষণা কেন্দ্রটি বন্ধ করে দিয়ে দক্ষিণ এশিয়ার আবহাওয়া-জলবায়ু নিয়ে আর কোনও গবেষণা কার্যক্রম গত তিন বছরে নেয়া হয়নি। ফলে দক্ষিণ এশিয়ার দেশ সমূহের মধ্যে আবহাওয়া-জলবায়ু সম্পর্কিত খুবই গুরুত্বপূর্ণ ডাটা শেয়ার, প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তি বিনিময়ের মাধ্যমে গাণিতিক মডেলিং এর সাহায্যে  উন্নত ও উচ্চতর গবেষণার ধারাবাহিকতা ধ্বংস করা হলো।

আবহাওয়া-জলবিজ্ঞান এর সম্পর্কিতরা মানুষকে প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে  নিরাপদ রাখতে ও অনেক সময় বাঁচাতে সাহায্য করে। এজন্য আবহাওয়া ও জলবায়ু বিষয়ক সমন্বিত গবেষণা কার্যক্রম প্রয়োজন। এজন্য আঞ্চলিক সহযোগিতা, তথ্য আদান-প্রদান, প্রযুক্তির যথযথ ব্যবহার, সক্ষমতা উন্নয়ন ঘটাতে আবহাওয়া-জলবায়ু বিষয়ে গবেষণা কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করে এর সঠিক পরিচালনা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। প্রতিক্রিয়া লেখার সময় লক্ষ্য রাখুন--

  • ১. স্বনামে বাংলায় প্রতিক্রিয়া লিখুন।
  • ২. ইংরেজিতে প্রতিক্রিয়া বা রোমান হরফে লেখা বাংলা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না।
  • ৩. প্রতিক্রিয়ায় ব্যক্তিগত আক্রমণ গৃহীত হবে না।

দরকারি ঘর গুলো চিহ্নিত করা হয়েছে—