হুমায়ুন ফরীদির এই ভিডিও সাক্ষাৎকারটি ধারণ করা হয়েছিল ২০১১ সালের ১৫ অগাস্টে তার বাসায়। অর্থাৎ সড়ক দুর্ঘটনায়  তারেক মাসুদ ও মিশুক মুনীর নিহত হওয়ার ঠিক দুদিন পরই।  আসলে এ দুজনের মৃত্যুতে তার প্রতিক্রিয়া জানার জন্যই তার বাসায় গিয়েছিলাম। এদের মৃত্যু তাকে ভীষণভাবে ক্ষুব্ধ ও ব্যথিত করেছিল। এই দুর্ঘটনা ছিল তার কাছে এক  বিরাট আঘাত। এ নিয়ে তিনি  বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম-এর মতামত বিভাগে ‘দেশটা ক্রমশ বসবাসের অযোগ্য হয়ে গেছে’ শিরোনামে একটা ভীষণ ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া লিখেছিলেন ২০১১ সালের ১৬ অগাস্ট। সেই প্রতিক্রিয়ার পাশাপাশি আজ পর্যন্ত অপ্রকাশিত তার এই কথাগুলোও ভিডিও করে নিয়েছিলাম।
হুমায়ুন ফরিদীর এই  অপ্রকাশিত সাক্ষাৎকারটিই বলে দেয় বিগত ৮ বছরে পরিস্থিতি একেবারেই পরিবর্তিত হয়নি।
রাজু আলাউদ্দিন: সড়ক দুর্ঘটনা তো বহুদিন থেকেই আছে, এটা নতুন কোনও বিষয় না। এই দুর্ঘটনা এড়াবার জন্য আপনার প্রস্তাবগুলো কী কী?
হুমায়ুন ফরীদি: সড়ক দুর্ঘটনা এড়াবার কী উপায় …আই  অ্যাম নট অ্যান এক্সপার্ট, আমি বিশেষজ্ঞ না। যারা বিশেষজ্ঞ তারা বলতে পারবে।
রাজু : কিন্তু আপনি যখন রাস্তায় বের হন, আমরা যখন রাস্তায় বের হই…
হুমায়ুন: আমি সারাক্ষণ ভয়ে থাকি। আমি সারাক্ষণ ভয়ের মধ্যে থাকি রাস্তায় যখন থাকি। আর যেই ধরনের ট্রাফিক জ্যাম ঢাকা শহরে… শহর পরিকল্পনা করার সময় এসব আগেই কি ভাবা উচিৎ ছিল না?
রাজু: যেটা সবচেয়ে বড় সমস্যা তা হলো আমরা কেউ ট্রাফিক আইন মানি না।
হুমায়ুন: আমরা নিজেরাই মানি না, অন্যদের কথা আর কী বলবো।
রাজু: আমরা নিজেরা মানি না। এবং দেখা যায় যে-ট্র্যাক দিয়ে গাড়ি একদিকে যাওয়ার কথা ওই একই ট্র্যাক দিয়ে বিপরীত দিক থেকে গাড়ি আসছে। পুলিশ কিন্তু দেখছে, কিন্তু পুলিশ নির্বিকার। অবশ্য পুলিশের কিছুই করার নেই।
হুমায়ুন: পুলিশ কী বলবে, বল? আমাদের দেশের পুলিশের ইনকাম এত কম, তারাতো ডিজ্অনেস্ট হতে বাধ্য। কিছু করার নাইতো। পুলিশকে দোষ দিয়ে লাভ নাই। সে যা বেতন পায়, ওই বেতনে তার  বাড়ি ভাড়াই তো হবে না। একটা মানুষ সভ্যভাবে বেঁচে থাকার জন্য ন্যূনতম যে-জিনিসগুলো প্রয়োজন, সেটা নিশ্চিত করতে তাকে যে-পরিমাণ উপার্জন করা দরকার পুলিশ সেটা পায় না।
রাজু: এরপর আরেকটা জিনিস যেটা আমার মনে হয় তাহলো, যেমন ধরুন, আপনি গাড়ি নিয়ে বের হলেন, আপনার ড্রাইভার রং ওয়েতে গাড়ি চালাচ্ছে; পুলিশ এসে ধরলো । কিন্তু আপনি উল্টো রেগে গিয়ে পুলিশের উপর চড়াও হবেন। ব্যাপারটাতো এরকম হয়ে গেছে।
হুমায়ুন: আমি তো সবসময় আইন মেনে চলি।
রাজু: না, আমি আপনার কথা বলছি না, ..
হুমায়ুন: হ্যাঁ, অনেকেই দেখছি এটা মানে না। পুলিশের সাথে তর্ক করে।
রাজু: শুধু তর্কই করে না, পুলিশকে পিটাও, এমন ঘটনাও ঘটেছে। দেখা গেল যার গাড়ি আটকালো সেটা কোনো এমপির ছেলে কিংবা ভাগ্নে। এখন আপনি বলুন কী কী প্রস্তাব দিতে পারেন।
হুমায়ুন: আমি কোন প্রস্তাব দিতে পারবো না। যারা এ ব্যাপারে বিশেষজ্ঞ তারা প্রস্তাব দিবেন। তারা ঠিক করবে এটা। ঢাকা শহর একটা আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত নগরী। এবং  এটা হচ্ছে ক্যাপিটাল সিটি। রাজধানী। এইখানে কেন রিকশা থাকবে, আমাকে বোঝাও? এখন তুমি বলতে পারো, ঢাকা শহর থেকে রিকশা তুলে দিলে অনেক মানুষ বেকার হবে।
রাজু: তাদের কর্মসংস্থান করুক অন্য কোথায়ও।
হুমায়ুন: আরে, কতজন বেকার হবে? তুমি ১০ হাজার রিকশা চালককে যদি বাদ দিয়ে দাও ধানমণ্ডির ৫ লাখ লোক আরামে থাকতে পারবে। ৫ লাখ লোকের স্বার্থ বড় নাকি ১০ হাজার লোকের স্বার্থ বড়?
রাজু : অবশ্যই ১০ লাখ লোক।
হুমায়ুন: অনেক সময় সুন্দর জীবন যাপনের জন্য ত্যাগ আমাদের করতে হয়, করতে হবে। ভোট পাওয়ার জন্য রিকশা  তোলে না, এটা কোনো কথা!
রাজু: মূলত তো তা-ই হয়েছে।
হুমায়ুন: যাই হোক, মেজাজটা খারাপ, মনটা খুবই খারাপ। এরই মধ্যে অনেক কথা বলে ফেলছি, সাধারণত এভাবে আমি কথা বলি না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। প্রতিক্রিয়া লেখার সময় লক্ষ্য রাখুন--

  • ১. স্বনামে বাংলায় প্রতিক্রিয়া লিখুন।
  • ২. ইংরেজিতে প্রতিক্রিয়া বা রোমান হরফে লেখা বাংলা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না।
  • ৩. প্রতিক্রিয়ায় ব্যক্তিগত আক্রমণ গৃহীত হবে না।

দরকারি ঘর গুলো চিহ্নিত করা হয়েছে—