একটি আততায়ী বন্দুক…যার গায়ে জড়িয়ে থাকা এক একটি শব্দ আমাদের সভ্যতাকে, মানবতাকে জর্জরিত করে দিয়ে গেছে। দেশহারা, ঘরহারা মানুষের নিরাপদ ভূমিকেও আজ অনিরাপদ করে দিয়ে গেল। স্রষ্টার কাছে নিজেকে সমর্পণ করতে আসা মানুষগুলো রেহাই পেল না তার হাতে বানানো আরেক সৃষ্টি থেকে। তবে কি আমাদের হিংস্রতা দেখে স্রষ্টাও মুখ ফিরিয়ে নিলেন? ব্রেন্টন ট্যারেন্ট আমাদের কী বুঝাতে চেয়েছেন?

পৃথিবীর এক প্রান্তের রক্তের দায় অন্য প্রান্ত কি তবে মেটাতে পারে? ঠিক যেমন বৈশ্বিক উষ্ণতায় উত্তর দক্ষিণ মেরুর বরফ গলা পানিতে ডুবে মরবে নিচু ভূমির বাসিন্দারা। প্রকৃতি কি আমাদের দিয়েই আমাদের প্রতিশোধ নিতে চায়? ব্রেন্টন ট্যারেন্টের বন্দুকের লেখাগুলো অতিবাস্তবতাকে হার মানিয়ে দাঁড় করিয়েছে এমন এক বাস্তব পৃথিবীর সামনে, যেখানে রক্তের ঋণ রক্তে নিতে হয়, যেখানে শান্তির ধর্মকে একদল লোক উঠে পড়ে সন্ত্রাসবাদের ধর্ম বানায় । আজকের এই ক্রাইস্টচার্চের ৪৯ টি প্রাণের দায় তবে কার?

এ দায় ব্রেন্টন ট্যারেন্ট এর একার নয়। এ দায় যারা নিজেদের স্বার্থ চরিতার্থ করতে সন্ত্রাসবাদের ধর্ম হিসেবে ইসলামকে প্রতিষ্ঠিত করতে চায় তাদের… যারা সন্ত্রাস দমনের নামে নির্বিচারে হত্যা করছে লাখ লাখ নিরপরাধ শিশুকে। রক্তের বন্যায় ভেসে যে মানুষগুলোকে জীবন বাঁচাতে ছুটে আসতে হয়েছে ব্রেন্টন ট্যারেন্টদের দেশেই। ব্রেন্টন ট্যারেন্টদের বন্দুকের সামনে মানবতাকে কারা দাঁড় করিয়ে দিচ্ছে? এই ব্রেন্টন ট্যারেন্টদের রক্ত পিপাসু ড্রাকুলার মতো তৈরি করছে কারা? কারাই আবার জীবনের মায়ায় রক্তের বানে ভেসে আসা মানুষদের ড্রাকুলার খাদ্য বানাচ্ছে? আমাদের এই প্রশ্নগুলোর জবাব আছে তাদের কাছে?

সিরিয়া কিংবা ফিলিস্তানি যে শিশুটি আজ জন্মগ্রহণ করল সেই শিশুটির ভবিষ্যৎ লিখছে বসে আজ এই সব রক্তপিপাসু ড্রাকুলার অনুসারীরা । এই ড্রাকুলাদের স্রষ্টাদের টেবিলের কলমের খোঁচায় মুসলিম শরণার্থীদের প্রবেশ বন্ধের নির্বাহী আদেশ লিখিত হয়। সন্ত্রাসবাদের কোনও ধর্ম থাকতে পারে না, কোনও দেশ থাকতে পারে না এ সহজ সত্যের সামনে কুজ্ঝটিকা যারা তৈরি করে তারা কি আজকের ৪৯টি প্রাণ নাশের দায় এড়াতে পারে?

ব্রেন্টন ট্যারেন্টদের মনে পুঞ্জিভুত ঘৃণাকে পুঁজি করে তাদেরকে রক্ত বুভুক্ষ করে ছেড়ে দেয়ার নাম কি সন্ত্রাস নয়? ‘দ্য গ্রেট রিপ্লেসমেন্ট’ শিরোনামের ৮৭ পৃষ্ঠার দীর্ঘ একটি মেনোফেস্টো আমাদের কী বার্তা দিয়ে যায় ? ৪৯টি নিরপরাধ প্রাণ কি ব্রেন্টন ট্যারেন্ট এর পুঞ্জিভুত ঘৃণার রিপ্লেসমেন্ট হতে পারে? ২০১৭ সালের ৭ এপ্রিল এর  রিপ্লেসমেন্ট ২০১৯ সালের ১৫ মার্চ হতে পারে? সুইডেনের স্টকহোমর শহরের রিপ্লেসমেন্ট কি নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চ হতে পারে? ট্রাক চাপার রিপ্লেসমেন্ট কি এই  আততায়ী বন্দুক হতে পারে?

প্রধানমন্ত্রী অ’ডুর্ন মসজিদে হামলার এ ঘটনাকে ‘নজিরবিহীন’ এবং ‘সন্ত্রাসী হামলা’ বলে বর্ণনা করেছেন। কিন্তু পশ্চিমা মিডিয়াগুলোর ব্রেন্টন ট্যারেন্টকে সন্ত্রাসী বলতে এত বাঁধল কেন? সে অস্ট্রেলিয়ান বংশোদ্ভূত বলে, সে হামলাকারী শ্বেতাঙ্গ বলে?

ব্রেন্টন ট্যারেন্ট বলেছেন, শ্রমিক শ্রেণির স্বল্প-আয়ের পরিবারে জন্ম নিলেও সে জনগণের ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। এই হামলার মাধ্যমে কী করে জনগণের ভবিষ্যৎ নিশ্চিত হলো?

সে তার হামলার কারণ হিসেবে মেনিফোস্টেতে উল্লেখ করে, ইউরোপের ভূমিতে অভিবাসীর সংখ্যা একেবারে কমিয়ে ফেলতে সে এই হামলাটি চালিয়েছে। অভিবাসীদের সে বলেছেন বিদেশি ‘দখলদার’। ইংরেজি রিফিউজি শব্দে ট্যারেন্ট যাদের দখলদার বলেছেন তাদের ভূমিকে কারা রক্তাক্ত ও অনিরাপদ করে তুলেছে সেই দিকে ভাবার চিন্তাশক্তি তার ছিল কি? অবশ্যই ছিল না। কারণ, ড্রাকুলাদের কেবল রক্ত নেশা পায়। রক্ত নেশায় উন্মত্ত ড্রাকুলাদের চিন্তাশক্তি কাজ করবে না তাই তো স্বাভাবিক।

ব্রেন্টন ট্যারেন্টের বন্দুকের গায়ের লেখাগুলো আমার শরীরের প্রত্যেকটি লোমকূপে ভয়ার্ত কাঁটা হিসেবে জানান দিয়েছে। বন্দুকের গায়ের লেখা এক একটি নাম, এক একটি শব্দ যেন এক একটি আগ্নেয়াস্ত্র। ব্রেন্টন ট্যারেন্টদের পুঁজি করেই মুনাফা বানাতে ব্যস্ত আজকের যুদ্ধব্যবসায়ীরা। ব্রেন্টন ট্যারেন্ট ‘ To take revenge for Ebba Akerlund’ লিখে এবা আকারলাউন্ড নামের ১২ বছরের এক সুইডিশ শ্রবণ প্রতিবন্ধী মেয়ের মৃত্যুর প্রতিশোধ নিয়েছেন লিখেছেন। স্কুল থেকে ফেরার পথে যে মেয়েটি স্টকহোমে ট্রাকচাপায় প্রাণ হারায়। ক্রাইস্টচার্চে হামলা করে যে এবার মৃত্যুর প্রতিশোধ নিলেন টেরেন্ট তাতে কি এবা ফিরে এসেছে? ক্রাইস্টচার্চের আল নূর মসজিদে নিহত ৪৯ জনের মধ্যে এবার দুজন শিশুও ছিল। এই দুইজনের জন্যেও কি পৃথিবীর অপর মেরুতে ব্রেন্টন ট্যারেন্ট এর মতো নতুন রক্তপিপাসু ড্রাকুলার অপেক্ষা করে আছে!

ট্যারেন্ট এর বন্দুকের গায়ে লেখা ছিল Anton Lundin Pettersson এর নাম।

এন্থন লুনদিন পিটারসন একজন ২১ বছর বয়সী তরুণ যে কিনা ২০১৫ সালের ২২ অক্টোবর সুইডেনের ট্রলহাটনে একটি স্কুলে অতর্কিত আক্রমণ করেন। তার তলোয়ারের আঘাতে স্কুল শিক্ষক, সহকারী ও একজন শিক্ষার্থী নিহত হয়। পরে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর গুলিতে সে নিহত হয়। ট্যারেন্ট এই ঘটনার কোন বদলের ইঙ্গিত দিলেন এন্থন লুনদিন পিটারসন এর নাম লিখে। এন্থন লুনদিন পিটারসন কিংবা ওই স্কুলের যারা নিহত হয়েছিলেন তাদের সাথে তো ইসলামের কোনও যোগসূত্র নেই। তাহলে ট্যারেন্ট মুসলিমদের গুলি করে কিসের প্রতিশোধ নিলেন?

ট্যারেন্ট এর বন্দুকের গায়ে লেখা ছিল Alexandre Bissonnette এর নামে ২৯ বছর বয়সী একজন রাজনীতি নিয়ে পড়া শিক্ষার্থীর নাম। ২০১৭ সালের জানুয়ারি মাসে কানাডার কিউবেক সিটির একটি মসজিদে সে হামলা করে যাতে ১৭ এর অধিক লোক আহত ও নিহত হয়। কানাডার আদালত তাকে ৪০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে। আলেকজান্ডার পড়াশোনা করত প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এর উপর যেখানে সে মুসলিম ও তাদের দূরবর্তী অধিকার নিয়ে বিদ্বেষ দেখিয়েছি। তবে কি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এর মুসলিম শরণার্থী বিদ্বেষী মনোভাব তাকে মসজিদের মুসল্লিদের উপর সন্ত্রাসী হামলায় উৎসাহিত করেছে? সেই উৎসাহ আরও একবার ট্যারেন্টকে একই সন্ত্রাসী কার্যক্রমে তাড়িত করেছে?

Odo the Great এর নাম সুস্পষ্টভাবে দেখতে পাই ট্যারেন্ট এর বন্দুকের গায়ে। ফ্রান্সের এই রাজা সাতশ খ্রিস্টাব্দে ক্ষমতায় ছিলেন। ৭২১ খ্রিস্টাব্দে আরব সরকারের সাথে যুদ্ধে জয়ী হন যিনি । মুসলিমদের সাথে এই বিজয়কে পোপের আশীর্বাদ বলা হতো তখন। এছাড়াও ট্যারেন্ট এর বন্দুকের নলে ফ্রান্সের দিউক Charles Martel  এর নাম লেখা ছিল। যিনি ৭০০ শতকের দিকে পশ্চিম ইউরোপে সাম্রাজ্য পুনর্প্রসারিত করেছিলেন। আজকের বেলজিয়াম, লুক্সেমবার্গ, ইতালি, সুইজারল্যান্ড তখনকার গল নামে পরিচিত।

লক্ষ্য করলে দেখবেন বন্দুকের গায়ে  Battle of Tours ও ৭৩২ ইংরেজিতে লেখা রয়েছে। এই যুদ্ধের পর আরবরা আর মুসলিম সাম্রাজ্য বাড়াতে পশ্চিম দিকে আসেনি। প্রাচীন পুরো গলে খ্রিস্টান সাম্রাজ্য হিসেবে অধিকার করা চার্লস মারটেল এর নাম উল্লেখ করে কি নিজেকে তাদের মতো ধর্ম ও সাম্রাজ্য পুনর্দখলের বার্তাই দিয়েছেন ট্যারেন্ট?

এছাড়াও বন্দুকের একপাশ থেকে যতটুকু দৃশ্যমান তাতে কমপক্ষে ৩ বারের মতো লেখা আছে 14 words। ১৪ শব্দ অভিধাটি জার্মান শাসক এডলফ হিটলার ‘মাই ক্যাম্প‘ থেকে নেয়া। যাতে বলা হয়ে থাকে, আমাদেরকে আমাদের নিজেদের অস্তিত্ব ও আমাদের শ্বেতাঙ্গ শিশুদের ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবতে হবে। বর্তমান সময়ে দাঁড়িয়ে কী পরিমাণ ভয়াবহ এই শ্লোগান আমরা ভাবতে পারি কি? আমরা ভাবতে পারি বা না পারি ট্যারেন্ট এর মতো ঘৃণিত সন্ত্রাসবাদী মন ঠিকই ভাবতে পেরেছে। তাই প্রার্থনারত মানুষের উপর নির্বিচারে গুলির উৎসব করতে তার হাত কাঁপেনি। কারণ সে কেবল শ্বেতাঙ্গ শিশু এবির প্রতিশোধ নিতে এসেছিল। শ্বেতাঙ্গ কৃষ্ণাঙ্গ বিভাজন তবে কেবল খোলস বদলেছে।

ট্যারেন্ট কেন তার বন্দুকের গায়ে লেখা ছিল ইতালীয় জঙ্গিবাদী Luca Traini এর নাম যে কিনা এই কিছুদিন আগেও ফেব্রুয়ারি ২০১৮ তে ৬ জন কৃষ্ণাঙ্গ শরণার্থীদের আহত করেছিল।

স্প্যানিশ Josue Estebanez নাম হয়ত কেউ কেউ শুনে থাকতে পারেন  নাৎসি সমর্থক যে কিনা অ্যান্টি-ফ্যাসিবাদি পোস্টার প্রদর্শনের জন্য মাদ্রিদে ১৬ বছরের এক কিশোরীকে ছুরিকাঘাত করে। এছাড়াও John Hunyadi , Konstantin II Asen কিংবা Iosif Gurko এর নাম দিয়ে ট্যারেন্ট কী বলতে চেয়েছে? সে কাদের অনুসারী কিংবা কাদের পথে সে হাঁটছে? আজকের আধুনিক যুগে এতখানি ইতিহাস জানা একজন ব্রেন্টন ট্যারেন্টকে কেবল সন্ত্রাসী বা জঙ্গিবাদী অথবা মানসিক রোগী পরিচয়ে শেষ করে দেয়া যায়?

ট্যারেন্ট কেন তার বন্দুকের গায়ে Battle of Clavijo এর উল্লেখ করেছেন আমার জানা নেই। স্পেনীয় ইতিহাস বলে যে, এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ যুদ্ধ যা অস্ট্রিয়ান রাজা রামিও (প্রথম) ও স্প্যানীয় মুসলিম সুলতান আব্দুর রহমান (দ্বিতীয় ) এর মধ্যে সংগঠিত হয়। ইতিহাস বলে সুলতান আব্দুর রহমান দ্বিতীয় মুসলিম সাম্রাজ্যের প্রসারণের সাথে যুক্ত ছিল। খ্রিস্টানদের নিজেদের সাম্রাজ্যের পুনর্বিজয় বিষয়েরও ইঙ্গিত বহন করে এই যুদ্ধ । ট্যারেন্ট কি মুসলিমদের হত্যা করে পুনরায় খ্রিস্টানদের বিজয়ের আভাস দিয়েছেন এভাবে? যদি তাই হয় তবে নিকট ভবিষ্যৎ আরও অন্ধকার। প্রধানমন্ত্রী অ’ডুর্ন কি সেই শঙ্কা থেকেই শোক প্রকাশ করে বলেছেন , এটা নিউজিল্যান্ডের অন্ধকারতম দিনগুলোর একটি। এখানে যে ঘটনা ঘটেছে সেটা পরিষ্কারভাবেই অস্বাভাবিক এবং অপ্রত্যাশিত নৃশংসতা।

নিউজিল্যান্ডকে বলা হয় শান্তির স্বর্গোদ্যান। সেই শান্তির দেশের অশান্তির ভাষা আজ এই আততায়ী বন্দুকের গায়ে লেখা। যেখানে নিউজিল্যান্ডে মোট জনসংখ্যার মাত্র এক শতাংশ মুসলিম। সেইখানে এই ধরনের ঘটনার আঁচ করা কি আদৌ সম্ভব?

হামলার পর নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জেসিন্ডা আর্ডেন এর কথা দিয়েই শেষ করতে চাই, ‘এই হামলায় নিহতরা শরণার্থী হতে পারেন। হতে পারেন তারা উদ্বাস্তু। কিন্তু তারা নিউজিল্যান্ডকে তাদের নিজের দেশ, নিজের মাতৃভূমি বলেই মনে করতেন। এই হামলায় সেই মর্যাদায় বিন্দুমাত্রও চিড় ধরবে না। যে ব্যক্তি অথবা ব্যক্তিরা সহিংসতা চালিয়েছে, তারা আমাদের কেউ নয়।”

আমরাও তাই বলতে চাই সন্ত্রাসবাদের কোনও ধর্ম নেই, কোনও দেশ নেই এবং কোনও রঙ নেই। ভয় ঘৃণা নিয়ে আর কোন শিশু বেড়ে না উঠুক । ভালবাসা দিয়ে একদিন পুরো পৃথিবীটাকে মুড়িয়ে ফেলা যাক। পৃথিবীর আকাশে আর কোনও রক্তখেকো ড্রাকুলা না উড়ুক। সমস্ত যুদ্ধব্যবসায়ীরা হেরে যাক । কেউ আর ভূমিহারা স্বপ্নহারা না হোক।  আততায়ী বন্দুকের নল দিয়ে গুলির পরিবর্তে ফুলের পাপড়ি ঝরুক। মানব ধর্মের জয় হোক।

 

 

Responses -- “একটি আততায়ী বন্দুক…”

  1. ঝন্টু কুমার মজুমদার

    লেখাটি অনেক তথ্যবহুল। অনেক অজানা বিষয় জানা হলো। ধন্যবাদ লেখিকাকে।

    Reply
  2. আসাদুল হক

    তদন্তমূলক লেখাটি খুব ভালো লেগেছে। ধন্যবাদ লেখিকাকে।

    Reply
  3. Mohammad Mukith

    শান্তা তাওহিদাকে কোটি কোটি বার সালাম ও শুভেচ্ছা। অনেক সুন্দর এই লেখাটির জন্যে। অন্তত প্রায় দুই দশক পর এতো সুন্দর এবং মনঃপুত একটি লেখা পড়লাম। আসলেও লেখাটি সময়োপযোগী এবং অত্যন্ত ভাল। যে কারণে আমার ফেসবুকে লেখাটি শেয়ার করেছি। আবারও শান্তাকে ধন্যবাদ। আপনি দীর্ঘজীবী হোন।

    Reply
  4. Md. Mahbubul Haque

    ব্রেন্টন ট্যারেন্ট যদি কালো বা মুসলিম হতো, তাহলে তার পরিচয় হতো সন্ত্রাসী, নৃশংস খুনী, মানবতার বিপক্ষে অপরাধী। মিডিয়া তার এবং তার চৌদ্দ গোষ্ঠীর বৃন্তান্ত খুঁজে বের করত। তার ছবি বিভিন্ন প্রোফাইলে দেখা যেত। বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধানরা তীব্র ভাষায় নিন্দা, ক্ষোভ, হতাশা এবং এই নৃশংস হত্যাকান্ডের জন্য সমগ্র কালো বা মুসলিম জনগোষ্ঠীকে দায়ী করতেন। সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করতেন। খুনীর দেশের অন্যান্য জনগোষ্ঠীকে অভিবাসনের ক্ষেত্রে কালো তালিকায় ফেলে দিতেন।

    কিন্তু ব্রেন্টন ট্যারেন্ট যেহেতু সাদা চামড়া ও ধর্মে খ্রিস্টান, তাই এখন তার পরিচয় হবে মানসিক ভাবে হতাশাগ্রস্থ, অসুস্থ। তার চেহারা মিডিয়ায় দেখানো যাবে না। বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধানরা কেবলমাত্র হতাহতদের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেই খ্যামা দিয়েছেন, খুনীর বিষয়ে কিছু বলেননি। বিচারের নামে হবে প্রহসন।

    আর ব্রেন্টন ট্যারেন্টের নিজের দেশ অপরাধী রক্তের উত্তরাধিকার বহন করা ক্রিকেট মোড়ল অস্ট্রেলিয়ার কথা নাইবা বললাম।

    Reply
  5. Md Masud Hossain

    ব্রেন্টন ট্যারেন্টরা কোনো ধর্ম, দেশ বা জাতিকে প্রতিনিধিত্ব করে না। এরা ব্লাইন্ড ফোল্ডেড, বিচারবুদ্ধিহীন আন্তর্জাতিক আততায়ী; সমগ্র বিশ্বের জন্য আতঙ্ক।
    চমৎকার বিশ্লেষণী লেখার জন্য ধন্যবাদ।

    Reply
  6. prokash

    একদের্শী এ লেখা ভালো লাগেনি। এ বিষয়ে লিখলে অবধারিতভাবে জিহাদীদের কথাও আসা উচিৎ ছিল। কিন্তু তা আসেনি। খালি ঘৃণা অার প্রতিশোধ আর হত্যা । এগুলো ক্রুসেড- জিহাদের ধারাবাহিকতা বলে মনে হয়। । এর শেষ কোথায়?

    Reply
  7. Rain

    “স্কুল থেকে ফেরার পথে যে মেয়েটি স্টকহোমে ট্রাকচাপায় প্রাণ হারায়। ” That was not a simple accident dear writer. That was also a terrorist attack by a muslim guy. You just simply make the event lower !!! around 8 people were killed by that terrorist attack. Now another terrorist attack for avenging a terrorist attack is not right and irresponsible behavior. But lots of people still follow the holy book where it is written “An eye for an eye” Isn’t it ?

    Reply
  8. রামা রাও

    প্রায় পুরোটাই একমত। বাংলাদেশের হুজুরদের ওয়াজে যেমন হিন্দু, বিধর্মীদের (মুসলমান বাদে সবাই বিধর্মী হুজুরদের মতে) হত্যা, অবজ্ঞা আর কটাক্ষে ভরা তেমনি বিদেশে এর উল্টো। তাই শুরুটা দেশের হুজুরদের গলাবাজি দিয়ে বন্ধ হওয়া জরুরী।
    (কিউবেক না হয়ে শব্দটা কুইবেক হবে)।

    Reply

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। প্রতিক্রিয়া লেখার সময় লক্ষ্য রাখুন--

  • ১. স্বনামে বাংলায় প্রতিক্রিয়া লিখুন।
  • ২. ইংরেজিতে প্রতিক্রিয়া বা রোমান হরফে লেখা বাংলা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না।
  • ৩. প্রতিক্রিয়ায় ব্যক্তিগত আক্রমণ গৃহীত হবে না।

দরকারি ঘর গুলো চিহ্নিত করা হয়েছে—