ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) এবং হল সংসদ নির্বাচনের দিন সকাল বেলা কবি সুফিয়া কামাল হলে পৌঁছে আমার প্রথম যা মনে হয়েছিল তা হলো, লাইনে দাঁড়ানো এত ছাত্রীর ভোট নিয়ে শেষ করতে কটা বাজবে? ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ডাকসু নির্বাচনে আইন-শৃংখলা তদারক করার জন্য সিনিয়র শিক্ষকদের নেতৃত্বে অনেকগুলো  টিম গঠন করেন। এই টিমগুলোতে তিনি সহকারী প্রক্টরদের সাথে বিভিন্ন পর্যায়ের শিক্ষকদের দায়িত্ব দেন। সেরকম একটি টিমে আরও কয়েকজন সহকর্মীর সাথে আমারও দায়িত্ব ছিল কবি সুফিয়া কামাল হলে আইন-শৃংখলা তদারক করে হল প্রশাসনকে সহযোগিতা করার।

নির্বাচন পরিচালনার মূল কাজটি করেন প্রভোস্ট এবং আবাসিক শিক্ষকরা। হলের কাছে পৌঁছানোর আগেই দেখি হাইকোর্টের মোড় পর্যন্ত লম্বা লাইনগুলো। ভেতরে গিয়ে দেখি সারি সারি লাইন। প্রভোস্টের তত্ত্বাবধানে আবাসিক শিক্ষকরা শুধু ভোট পরিচালনাই করছেন না, ছাত্রীদের খালি বুথ পর্যন্ত দেখিয়ে দিচ্ছেন। কাজ করছেন সাবেক আবাসিক শিক্ষকরা এবং অন্যান্য শিক্ষকরা। সকল ব্যালট বাক্স খুলে দেখিয়ে ভোট শুরু হয়। পরবর্তীতেও ব্যবহারের অপেক্ষায় রাখা ব্যালট বাক্স খুলেই রাখা হয়।

সুশৃংখল ভোট চলছিল। এর মধ্যে হঠাৎ লাইনের বাইরের কিছু ছাত্রী উত্তেজিত হয়ে গেল। আমরা শিক্ষকরা এগিয়ে গেলাম কথা বলতে। ওদের দাবি, যেহেতু বাংলাদেশ-কুয়েত মৈত্রী হলে কিছু একটা ঘটেছে বলে ওরা শুনেছে, সুতরাং কেন্দ্রসহ পুরো প্রশাসনিক ভবন ছাত্রীদের দেখতে দিতে হবে এবং প্রার্থীদের কেন্দ্রের ভেতর থাকতে দিতে হবে। আমরা বললাম, এটা আচরণবিধির লঙ্ঘন হবে, নির্বাচন শুরু করার আগে ব্যালট বাক্স দেখানো হয়েছে। ছাত্রীরা দাবি জানাতেই থাকলো। প্রভোস্ট আপা ছাত্রীদের পাঁচজন প্রতিনিধিকে ভেতরে গিয়ে সব ঘুরে দেখার অনুমতি দিলেন।

আমরা পাঁচজন প্রতিনিধির জন্য ছাত্রীদের ম্যানডেট নিলাম। ওই পাঁচজন প্রতিনিধির মধ্যে বাম সংগঠনের প্রার্থী, কোটা সংস্কার আন্দোলনের সমর্থক স্বতন্ত্র প্রার্থী এবং প্রার্থীদের সমর্থক ছিল। তাদের ভেতরে যাওয়ার নিয়ম না থাকলেও ছাত্রীরা যেহেতু অবিশ্বাস ও হট্টগোল করছিল, আমরা ওদের ভেতরে নিয়ে গেলাম।

ছাত্রীরা ব্যালট বাক্স, প্রশাসনিক ভবনের সকল রুম, যার মধ্যে ছিল ভোটের বুথ, প্রভোস্টের রুম, আবাসিক শিক্ষকদের রুম, ডিবেটিং সোসাইটির রুম, বাঁধনের রুম, স্টোর রুম, কম্পিউটার রুম এবং অন্য অনেক রুম। ছাত্রীরা আবাসিক শিক্ষকদের ফাইলের আলমারি পর্যন্ত চাবি নিয়ে খুলে দেখলো। বাথরুমের উপরের ফলস সিলিং পর্যন্ত দেখলো। আমি এবং দুজন আবাসিক শিক্ষক ওদের সব দেখালাম। চারতলা পর্যন্ত দেখানোর শেষে নিচে এলাম। সাংবাদিক এবং ছাত্রীদের সামনে প্রতিনিধিরা বললো ওরা কোন অসঙ্গতি পায় নি। এই ফুটেজ কি কেউ মিডিয়াতে খুব একটা দেখেছে? মনে হয় না। ছাত্রীরা লিখিত দিলো যে, ওরা কোনও অসঙ্গতি পায়নি। এরপরও বার বার উত্তেজনা সৃষ্টির চেষ্টা ছিলো। পরে কিছু ছাত্রী ভোট বর্জনের ঘোষণা দিলো। এই পুরো সময়টা ভোটের লাইনে থাকা শত শত ছাত্রী নিরবে অপেক্ষা করেছে। একজনও লাইন থেকে চলে যায়নি। ভোট দেবে, তাই অনেকে নাস্তা না করে শুকনো মুখে লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেছে।

সুফিয়া কামাল হলে ৩৭২০ ভোটের মধ্যে ২৪৯৯ ভোট পড়েছে, যা শতকরা ৬৭ দশমিক ১৮ ভাগ। তুমুল প্রতিযোগিতা হয়েছে। মাত্র ৬৯ ভোটের ব্যবধানে জিতেছে স্বতন্ত্র সহ-সভাপতি প্রার্থী। ২২১ ভোটের ব্যবধানে জিতেছে স্বতন্ত্র সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী। বর্জন করার ঘোষণা দিলো, অথচ পরে দেখা গেল নির্বাচনে ১০ টি পদ পেয়েছে কোটা সংস্কার আন্দোলনসহ অন্যান্য স্বতন্ত্র প্রার্থীরাই। ছাত্রলীগের প্রার্থীরা ৩ টি সদস্য পদ পেয়েছে। তবে বাম সংগঠনগুলোর যে মেয়েরা সবচেয়ে বেশি উত্তেজিত ছিল, তারা কোনও পদ পায়নি; তাদের একজন সহ-সভাপতি পদে মাত্র ৭২ ভোট পেয়েছে।

এই হলটির বিস্তারিত তথ্য উল্লেখ করলাম ডাকসু নির্বাচনের একটি কেইস হিসেবে, যেহেতু আমি সেখানে কিছু নির্বাচনী দায়িত্বে ছিলাম এবং যা যা হয়েছে নিজে প্রত্যক্ষ করেছি। অন্যান্য হলেও একইভাবে ভোট হয়েছে বলে জেনেছি। মৈত্রী হলের ঘটনাটা অনাকাঙ্ক্ষিত ছিল। বিশ্ববিদ্যালয় সেই ঘটনায় কী ব্যবস্থা নিয়েছিল সেটা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠে আসা উচিত ছিল। বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে ছাত্রত্ব-শিক্ষকতা মিলিয়ে আমি বিশ বছর আছি, তাৎক্ষণিকভাবে কোন প্রভোস্টকে অব্যাহতি দেয়ার ঘটনা আমার মনে পড়ে না। সেই হলে পরবর্তীতে সুষ্ঠু ভোট হয়েছে। রোকেয়া হলে যে ট্রাংকে করে ব্যালট হলে আনা হয়েছিল, সেই ট্রাংকেই সুরক্ষিত সাদা ব্যালট পেল উত্তেজিত ছাত্র-ছাত্রীরা। যে ব্যালট তখনও দরকার পড়েনি, সেগুলো তো ট্রাংকেই সুরক্ষিত থাকবে, বাইরে সাজানো থাকবে না। এটাই তো স্বাভাবিক। তারপরও সেখানে হট্টগোল হলো। ভোট বন্ধ রাখতে হলো। পরবর্তীতে সেখানে সন্ধ্যে ৬টা ৪৫ মিনিট পর্যন্ত নির্বাচন হলো। লাভ একটাই হলো, গণ্ডগোলের কারণে বহু অনাবাসিক ছাত্রী ভোট না দিয়ে চলে গেল। ভোট পড়ার শতকরা হারও এই হলে কম হলো।

মৈত্রী হলের ঘটনাটা কারা ঘটিয়েছিল সেটা আশা করি তদন্তে বের হবে এবং ব্যবস্থা নেয়া হবে। এই ঘটনাটা ছাড়া (যেটার ব্যাপারে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে), বিশ্ববিদ্যালয়ের আর কোথাও কোনও বড় ধরনের ব্যত্যয় কেউ খুঁজে পেয়েছেন? কোথাও বেশ কিছু ছাত্র-ছাত্রী কেউ পেয়েছেন, যারা ভোট দিতে চেয়ে দিতে পারেনি? আমি নির্বাচনের একদিন পরে ক্লাসসহ অন্যান্য জায়গায় বিভিন্ন বিভাগের শখানেক ছাত্র-ছাত্রীকে জিজ্ঞাসা করেছি, ভোট নিজের পছন্দমতো দিতে পেরেছিল কিনা। রোকেয়া হলের কয়েকজন অনাবাসিক ছাত্রী, যারা হট্টগোলের কারণে ভোট বন্ধ থাকায় বাসায় চলে গিয়েছিল, তারা ছাড়া সকলে বলেছে ভোট দিয়েছিল, নিজের পছন্দমতো দিয়েছিল এবং ফলাফলে তার প্রতিফলন তারা দেখেছে। একটি নির্বাচন ভালো হলো কিনা সেটার মাপকাঠি কী? মূল মাপকাঠি হলো ভোটাররা ভোট দিতে পারলো কিনা! কতভাগ ভোট পড়লো। ফলাফলে প্রাপ্ত ভোটের সংখ্যা দেখে সুস্থ প্রতিযোগিতা হয়েছে বলে মনে হয় কিনা। ছাত্ররা ভোট দিতে পারেনি এটা কোথাও দেখা গেছে? ছাত্র-ছাত্রীরা লম্বা লাইনে দাঁড়িয়ে ভোট দিতে গেলে কেউ কী তাদের বাধা দিয়েছে- এমন কোনও উল্লেখযোগ্য খবর কোনও হল থেকে পাওয়া গেছে? যায়নি। এই নির্বাচনে ৫৯ দশমিক ৫ ভাগ ভোট পড়েছে, যা অতীতে হয়নি। তাহলে নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন কী করে ওঠে?

এবার আসি ফলাফলে। ডাকসুর প্রতিটি পদে তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়েছে। সহ-সভাপতি পদে কোটা সংস্কার আন্দোলনের নেতা নূর ১১০৬২ ভোট পেয়েছে। ছাত্রলীগের সভাপতি শোভন ৯১২৯ ভোট পেয়েছে। সাধারণ সম্পাদক পদে রাব্বানী ১০৪৮৪ ভোট পেয়েছে, নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী রাশেদ ৬০৬৩ ভোট পেয়েছে। এই পদে বিভিন্নমুখী প্রতিযোগিতা হয়েছে। প্রথম আলোর সাংবাদিক আসিফও প্রচুর ভোট পেয়েছে – ৪৬২৮। এই দুজনের সম্মিলিত ভোট কিন্তু রাব্বানীর ভোটের চেয়ে বেশি। তার মানে দ্বি-মুখী প্রতিযোগিতা হলে রাব্বানীর জেতা সহজ হতো না। সহ-সম্পাদক পদেও অনেকের মধ্যে ভোট ভাগ হয়েছে। দেখা যাচ্ছে, জিতুক আর না জিতুক, অনেক প্রার্থী প্রতিযোগিতায় এসেছে। প্রতিযোগিতায় আসতে পারেনি ছাত্রদল এবং বাম সংগঠনগুলো। আর ছাত্রলীগের প্রার্থীদের প্রাপ্ত ভোটেও বেশ তারতম্য আছে। সহ-সম্পাদক পদে সাদ্দাম ডাকসুর সর্বোচ্চ ভোট ১৫৩০১ ভোট পেয়েছে, কিন্তু ছাত্রলীগ প্রার্থীদের মধ্যে সর্বনিম্ন ৬৫১৭ ভোট পেয়েছে ১৩তম সদস্য পদে। ব্যক্তিগত ইমেজ ও যোগাযোগ ভোটের এই তারতম্যে ভূমিকা রেখেছে নিশ্চয়ই। মূল প্রতিযোগিতা হয়েছে ছাত্রলীগ এবং কোটা সংস্কার আন্দোলনে নেতৃত্বদানকারী ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে। যে নির্বাচনে ভোটার ভোটদানে বাধাপ্রাপ্ত হয় নি, উল্লেখযোগ্য ভাগ ভোট পড়েছে এবং হাড্ডাহাড্ডি প্রতিযোগিতা হয়েছে, সেই নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন তোলা অনুচিত। আঠারোটি হলের মধ্যে আমার জানামতে, নয়টি হলে স্বতন্ত্র সকল প্রার্থী বা কেউ কেউ জিতেছে। ছয়টি হলে ভিপি নির্বাচিত হয়েছে স্বতন্ত্র প্রার্থী, চারটি হলে জিএস হয়েছে স্বতন্ত্র প্রার্থী। বিজয়ী এই ছাত্র-ছাত্রীদের বেশির ভাগই কোটা সংস্কার আন্দোলনের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিল। প্রশ্ন হলো নির্বাচন সুষ্ঠু না হলে ওরা জিতল কী করে? প্রশ্ন হলো কেউ কারচুপি করলে ডাকসুর মূল ভিপি পদটিতে না করে অন্যত্র কারচুপি করবে? কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ নির্বাচনের পূর্ণাঙ্গ ফলাফল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে আছে। যে কেউ পর্যালোচনা করে দেখতে পারেন।

নির্বাচন নিয়ে যারা রাজনীতি করছেন তাদের প্রসঙ্গে আসি। বিশ্ববিদ্যালয়ের বামপন্থী আটজন শিক্ষক একটি পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন, যা প্রকাশ হয়েছে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমসহ অন্যান্য প্রচার মাধ্যমে। সেখানে তারা মৈত্রী হলের ঘটনাটি উল্লেখ করেছেন। রোকেয়া হলের ঘটনাটি নিয়ে তারা লিখেছেন, “নানান প্যানেলের শিক্ষার্থীরা ভোটকেন্দ্রের পাশের রুমে ব্যালট পেপারের সন্ধান পান এবং সেগুলোকে দেখানোর জন্য কর্তৃপক্ষকে বাধ্য করেন। কিন্তু সেগুলো ছিল সাদা ব্যালট পেপার।” তারা নিজেরাই লিখেছেন সেগুলো ছিল সাদা ব্যালট পেপার। সেগুলো আসলে ব্যবহারের জন্য ট্রাংকে সুরক্ষিত সাদা ব্যালট পেপার ছিল। তাদের বাকি অভিযোগ নিতান্তই গৎবাঁধা এবং মামুলি। তারা যদি বলতে পারতেন যে, তারা দেখেছেন ছাত্ররা ভোট দিতে পারেনি, তাঁরা যদি বলতে পারতেন, মৈত্রী হলে পরে ভোট হয়নি বা জালিয়াতি করা ব্যালটগুলো গণনায় ধরা হয়েছে, তারা যদি বলতে পারতেন, শুধু একটি দল ভোট পেয়েছে, তারা যদি বলতে পারতেন, তাদের পর্যবেক্ষণ করতে দেয়া হয়নি, তাহলে আমি তাদের সাথে যোগ দিতাম। এসব কিছুই পাননি, অথচ তারা নতুন নির্বাচনের দাবি জানালেন। এদিকে সাড়ে চারশ শিক্ষক নির্বাচনে দায়িত্ব পালন করেছেন। অন্তত দুই মাস ধরে দিন-রাত পরিশ্রম করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, প্রো-উপাচার্যরা, কোষাধ্যক্ষ, রিটার্নিং কর্মকর্তা শিক্ষকরা, প্রক্টর ও সহকারী প্রক্টরগণ, হল প্রভোস্ট ও আবাসিক শিক্ষকগণ এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। অনেক শিক্ষককে স্বতপ্রণোদিত হয়ে নির্বাচনে সহযোগিতা করতে দেখেছি। আর বামপন্থী কয়েকজন শিক্ষক শুধু পর্যবেক্ষক বনে গেলেন।

আট শিক্ষক নিশ্চয়ই জানেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের সব শিক্ষকের প্রক্টরিয়াল ক্ষমতা আছে। যে কোনও ছাত্র বিশৃংখলা করলে, যে কোনও শিক্ষক আইনের মধ্যে থেকে শাস্তি এবং রিপোর্ট দিতে পারেন। তারা বিশৃংখলা দেখে থাকলে সেই ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারতেন। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্যেক শিক্ষক কোনও একটি হলের সাথে সংযুক্ত। হলের প্রভোস্টরা সংযুক্ত শিক্ষকদের সাথে নির্বাচনের আগে সভা করেছেন, নির্বাচনে সহযোগিতা চেয়েছেন। আট শিক্ষকের উচিত ছিল তারা প্রত্যেকে যে হলের সাথে সংযুক্ত, সেই হলে উপস্থিত থেকে নির্বাচনে সহযোগিতা করা। তারা কোনও দায়িত্ব পালন করেননি। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হিসেবে যেখানে তাদের দায়িত্ব পালনের কথা, সেখানে তারা স্বঘোষিত পর্যবেক্ষক বনে গেলেন এবং এমন আচরণ করলেন, যেন তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরে থেকে এসেছেন। তারা মূলত একটি ঘটনার ভিত্তিতে “এত বছর পরে অনুষ্ঠিত এই ডাকসু নির্বাচন সফলভাবে না করতে পারার ব্যর্থতা…” খুঁজে পেয়েছেন। তারা মনগড়া, পর্যবেক্ষণহীন বক্তব্য দিয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হয়ে, তথ্য-প্রমাণ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয় সম্পর্কে হীন ধারণা তৈরি করার চেষ্টা করা তাদের উচিত হয়নি, শিক্ষকসুলভ তো নয়ই। বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির নির্বাহী কমিটির সভায়ও তাদের আচরণ নিন্দিত হয়েছে।

আরও অনেক বিজ্ঞজন মূলত মৈত্রী হলের ঘটনার উল্লেখ করেই পুরো নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন তুলে ফেলেছেন। কেউ কেউ একাডেমিক ভবনে ভোট নেয়ার দাবি মেনে নেয়া উচিত ছিল বলে মন্তব্য করেছেন। তারা মনে হয় জানেন না, কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের সঙ্গে প্রতিটি হল সংসদের নির্বাচন হয়, বিভাগীয় সংসদের নয়। তারা মনে হয় ভুলে গেছেন, নির্বাচন হল প্রশাসন পরিচালনা করেন, ডিন বা বিভাগীয় চেয়ারম্যানরা করেন না। তারা মনে হয় ভুলে গেছেন, ছাত্রদের প্রশাসনিক কাজ হল-কেন্দ্রিক। ভোটার লিস্ট হল-কেন্দ্রিক, বিভাগ-কেন্দ্রিক নয়। তাহলে একাডেমিক ভবনে ভোট কী করে নেয়া যেত? অনেকে স্বচ্ছ ব্যালট বাক্সের কথা বলেছেন। ভোট হয়েছে ওএমআর ব্যালটে, যা ভাঁজ করা যায় না। গণনা হয়েছে কম্পিউটারে। স্বচ্ছ ব্যালট বাক্সে ভাঁজবিহীন ব্যালট জমা হলে প্রদত্ত ভোটের গোপনীয়তা থাকতো না।

নির্বাচন এবং প্রার্থীদের নিয়ে মনগড়া এবং তথ্যহীন বক্তব্য দেওয়া থেকে সবার বিরত থাকা উচিত। বিরত থাকা উচিত চরিত্রহনন থেকে। ভিপি নূরকে শিবির বানানোর চেষ্টা বা শোভনকে সন্ত্রাসী আখ্যা দেয়ার কোন মানে হয় না। কেউ কি কোথাও প্রমাণ দেখাতে পেরেছে নূর শিবির করতো? আমি কোথাও কোনও প্রমাণ দেখি নি। নূর আমার বিভাগের ২০১৩-১৪ শিক্ষাবর্ষের ছাত্র। সাধারণ পরিবারের ছেলে, নিজের নেতৃত্বের গুণে ভিপি নির্বাচিত হয়েছে। অন্যদিকে, কেউ বিশ্বাস করবে শোভন সন্ত্রাসী? সন্ত্রাসী আখ্যা শুনে ওর হেসে চলে যাওয়াতেই তো এর উত্তর রয়ে গেছে। শোভনের সাথে অরণির ব্যবহার এবং পরবর্তীতে অরণিকে নিয়ে অশালীন মন্তব্য অনাকাঙ্ক্ষিত ছিল। ভাষাই কিন্তু ব্যক্তিত্বের জানালা।

ডাকসু নির্বাচনের সঙ্গে আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ও অনুভব জড়িত। ২০১৭ সালে অসম্পূর্ণ সিনেটে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্যানেল নির্বাচন করাকে চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে একটি রিট পিটিশন হয়েছিল। রেজিস্টার্ড গ্র্যাজু্য়েটদের সেই মামলাটি তৈরিতে ব্যারিস্টার রোকনউদ্দিন মাহমুদ ও তার টিমের সাথে কাজ করেছিলাম আমরা কয়েকজন। সেই রিটটিই সামনে নিয়ে আসে যে, বিশ্ববিদ্যালয় সিনেটে ডাকসুর পাঁচজন প্রতিনিধি থাকার কথা। সেই রিটের রায়ে সিনেট পূর্ণ করার আদেশ ছিল। ছিল ডাকসু নির্বাচন দেয়ার প্রয়োজনের কথা। অন্য একটি রিটের রায়ে আদালত ডাকসু নির্বাচন দেয়ার জন্য সময় বেঁধে দেন। যেহেতু নির্বাচনের প্রেক্ষাপট তৈরি করা রিটটির সাথে আমি জড়িত ছিলাম, তাই ডাকসু নির্বাচনের ব্যাপারে আমার আগ্রহ ছিল অনেক বেশি। বিশ্ববিদ্যালয় প্রদত্ত দায়িত্ব পালন করার চেষ্টা করেছি। প্রত্যক্ষভাবে নির্বাচন পরিচালনা দেখেছি। শিক্ষকদের নিষ্ঠা দেখেছি।

আর সেজন্যই মর্মাহত হয়েছি, হতবাক হয়েছি, যখন দেখেছি একটি সামাল দেয়া অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার রেফারেন্স দিয়ে পুরো নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। মনে হয়েছে, যে ডাকসু নির্বাচন এত চেয়েছি, সেই নির্বাচন আর কখনও হলে আমি দায়িত্ব পালন করবো না। আমি শিক্ষক – পড়াবো, পরীক্ষার খাতা দেখবো এবং গবেষণা করবো। নির্বাচনী দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করেও দুর্নাম নেব কেন? ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করতে এসেছিলাম ভালোবেসে, টাকা-পয়সা নেই জেনেও, সম্মানের জন্য। সম্মানই যদি না থাকল, তাহলে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকের আর কী থাকলো? এই অনুভূতি আমার একার নয়, নির্বাচনে দায়িত্বপালনকারী সকল শিক্ষকের। নির্বাচনে যদি কারচুপি হয়ে থাকে, তাহলে তো সাড়ে চারশ শিক্ষক কোনও না কোনভাবে এটার সাথে জড়িত থেকেছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাড়ে চারশ শিক্ষক নির্বাচনে কারচুপিতে সহযোগিতা করলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বলে আর কিছু থাকতো না। এ বিশ্ববিদ্যালয় আমাদের গর্বের প্রতিষ্ঠান, প্রাণের ধন। এ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা নৈতিক উচ্চতায় অনেক উপরে। তথ্য-প্রমাণ ছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে নিয়ে যারা কুৎসা রটাচ্ছেন, তাদের থামা উচিত।

২১ Responses -- “ডাকসু নির্বাচন: কী করলাম, কী দেখলাম”

  1. Tomal

    ম্যাডাম, আপনাকে অনেক ধন্যবাদ নিজের অভিজ্ঞতা লেখার জন্য। কিছুটা হলেও জানতে পারলাম। মিডিয়া তো তাদের নিজের বায়াসের জন্য সত্য বলছে না। কারণ মিডিয়া ডমিনেইট করছে আপনাদের সাবেক ভিসির লোকরা। আরেফিন সিদ্দিক স্যার মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের স্যারদের বাদ দিয়ে বিএনপি জামাতের অনেক শিক্ষককে নীল দল থেকে সিনেট সদস্য বানায়ে দিলেন। বিডিনিউজেই তো এই সব নিউজ আছে।

    এই সব করার কারণেই তিনি থাকতে পারলেন না । যাদেরকে বাদ দিয়ে আরেফিন সিদ্দিক বিএনপি জামাতকে আওয়ামী বানাইলেন, তারা এখন ভিসি, প্রোভিসি। কবি সামাদ স্যার (ঢাবি প্রোভিসি), ইমরান কবির চৌধুরী (কুমিল্লায় ভিসি), আনোয়ার হোসেন স্যার (যশোরে ভিসি)।

    আপনারা যারা সত্যিকারের মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের বুদ্ধিজীবী, তাদের বাদ দিয়ে আরেফিন সিদ্দিকের কি লাভ হইলো? এখন তার কোথাও কোন দাম আছে? শেখ হাসিনা দিবেন আর কোন পদ?

    আপনার বিশ্লেষণে তথ্য আছে,ভাষা সহজ। ফলাফল বিশ্লেষণ বসতুনিষ্ঠ। তবে আপনি বিশ্ববিদ্যালয়ে বাম ছাত্রদের হিপোক্রেসি নিয়ে লিখলেন না। যারা ইভনিং কোর্সের বিরুদ্ধে আন্দোলন করে, আবার ইভনিং কোর্সে ভর্তি হয়ে ডাকসু নির্বাচন করে- লিটন নন্দী, বেনজির সবাই।

    Reply
  2. Rubel

    “ওই সুপারিশে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন সাংবাদিক কবীর কানন। প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিরুদ্ধে ভূমিকা রেখে ঢাবি ক্যাম্পাসের আলোচিত ওই ছাত্র ফেইসবুক স্ট্যাটাসে লিখেছেন…

    স্বেচ্ছায় ছাত্রত্ব ত্যাগ করে চলে যাব

    সুযোগ-সুবিধা হাতছাড়া হওয়ার আশঙ্কায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকাংশ শিক্ষক ন্যায়-নীতির তোয়াক্কা না করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সকল ধরনের সিদ্ধান্তে মোসাহেবি করেন। কিন্তু হাতে গোনা কিছু শিক্ষক আছেন যারা সব সুবিধার মোহ ত্যাগ করে সর্বাদা সত্য কথা বলেন, সত্য পথে চলেন।”

    Reply
  3. Rubel

    নীলদলের নেত্রী! ভিসি আরেফিনের বদান্যতায় নেত্রী হয়ে এখন শিক্ষক সমিতির সভাপতির ছায়াতলে! লেখার মানটাও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকের মানের সাথে যায় না!
    ১১০৩ জন শিক্ষকের একজন, যারা জাতীয় নির্বাচনের ফলপ্রকাশের আগেই মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানিয়েছিলেন। ইনাদের কলমে আবার ন্যায়-অন্যায়! তাবেদারী ছাড়া আর কী জানেন?

    Reply
  4. সজল কান্তি

    রোমান চৌধুরী
    ২৮ বছর পর ডাকসু নির্বাচন কে চেয়েছে কে চায়নি আমরা সবাই জানি, নির্বাচন হয়েছে হাইকোর্টের নির্দেশে । আমার কথা হলো এটা নিয়ে বিতর্ক হবে কেন? কেন ভোট নিয়ে এতো বিশৃংখলা হবে, রাতের বেলা টিনের বাক্সে ভোট হবে ? আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকরা বিভিন্ন দলাদলী করেন যেমন লালদল নীলদল করেন ব্যক্তিগত সুবিধার জন্য, তাদের পক্ষে দলের নির্দেশ মানা ছারা কোন উপায় থাকেনা । দেশের নির্বাচন ব্যবস্থা যেখানে ধ্বংশ হয়ে গেছে সেখানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দেশের বাইরে নয় । কে কত পরিশ্রম করেছেন তা বিবেচ্য নয় বিবেচ্য হলো কতটা স্বার্থক কতটা নিরেপেক্ষ ছিলো সে নির্বাচন । সে হিসাবে ডাকসু নির্বাচন ব্যর্থ । দায়ী দলবাজ শিক্ষকরা !

    Reply
  5. হাফিজ মোহাম্মেদ

    একটা সময়ে আসবে এই দেশে ভোটের জন্য দ্বারে দ্বারে ঘুরবে কিন্তু মানুষ তখন ওই সব নেতাদেরকে ঘৃণা ভরে প্রথাখান করবে এর দায়ভার এই সরকারকেই নিতে হবেই হবে, এর কোনই বিকল্প নেই। উত্তর মেয়র নির্বাচনে আমি নিজেই যা দেখেছি তাতে আমি নিজেই ঠিক করেছি আর ভোট দিতে যাব না , নির্বাচন ব্যাবস্থাটাই সম্পূর্ণ ভাবেই নকল পরীক্ষার মতনই হয়েছে।

    Reply
  6. সজল কান্তি

    যে বিশ্ববিদ্যালয় ১০ টাকার ” ছা ছিঙারা ছপ” এর জন্য বিখ্যাত সেখানে ভোট কেমন হবে তা সহজে অনুমেয় । সন্মানিত বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকরা লালদল সাদাদল নীলদল করেন, এই দলাললী করতে গিয়ে ছাত্রদের জীবন যে ধুসর রং হয়ে যায় এটা উনারা আর খেয়াল করেন না । ডাকসুতে নিরেপেক্ষ নির্বাচন না হওয়ার লজ্জা সমগ্র জাতীর, দায়ী লালদল সাদাদল নীলদল করা শিক্ষকরা !

    Reply
  7. SKamal

    “এ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা নৈতিক উচ্চতায় অনেক উপরে” ….What a Joke!!

    Reply
  8. Monir Ahmed

    What an introduction of university teacher !!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক নীলিমা আকতার বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকারপন্থী শিক্ষকদের প্যানেল নীল দলের সাথে যুক্ত। তিনি নীল দল থেকে নির্বাচিত হয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।

    Reply
    • Alamin

      সরকারপন্থী শিক্ষক এর চেয়ে বড় পরিচয় এ মুহূর্তে আর কি হতে পারে!!!!!!!!!!!!!

      Reply
  9. নাজমুল

    আপনার চিন্তার এবং দৃষ্টিভঙ্গির সীমাবদ্ধতার জন্য হয়তো আপনার লেখাটি একতরফা এবং চাটুকারিতা মনে হচ্ছে। মৈত্রী হলে ঘটা ঘটনা দিয়ে যেমন পুরো বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ মূল্যায়ন করা ঠিক না, তেমনি শুধুমাত্র সুফিয়া কামাল হলের দায়িত্ব পালন করে এবং সেই হলকে মূল্যায়ন করে পুরো বিশ্ববিদ্যালয়ের ভোটের পরিবেশ নিয়ে লেখাটি কতটুকু যুক্তিযুক্ত আমার বোধগম্য নয়। সাদা ব্যালোট আর সিল মারা ব্যালোট দুইটা কিন্তু একজিনিস নয়। ছেলেদের হলে ৫ ঘন্টা একই জায়গায় দাঁড়িয়ে থেকে ভোট না দিয়ে চলে যাওয়ার ঘটনা অনেক, যেইগুলো আপনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এবং মিডিয়ায় খুঁজলে এখনো হয়তো পাবেন। রোকেয়া হলে হামলা, ছেলেদের হলগুলোতে বুথের সামনে জটলা, একই জায়গায় ঘন্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকা ইত্যাদি হাজারো অনিয়মকে আপনি ইচ্ছাকৃত বা অনিচ্ছাকৃত ভাবে এড়িয়ে গেছেন।
    একজন প্রভোস্ট(শিক্ষক) যখন অনৈতিক কাজ করে তখন তাকে তার পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া নিয়মের মধ্যেই পড়ে। প্রভোস্টকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়ে প্রশাসন মহাভারত শুদ্ধ করে ফেলেছে, এমন নয়। যেইসব শিক্ষক অনৈতিক কাজে লিপ্ত ছিলো সবারই একই শাস্তি হওয়া উচিৎ।

    বিঃদ্রঃ ভোট কেন্দ্রে আপনি আপনার দায়িত্ব যথাযথ পালন, করেছেন তাই আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।

    Reply
    • হাফিজ মোহাম্মেদ

      নাজমুল ভাইকে অনেক অনেক ধন্যবাদ , আপনার সাথে আমিও সহমত পোষণ করি, ওনারা একচোখা শিক্ষক, এনারাই নিজেদেরকে আর সমাজকে নষ্ট করে যাচ্ছেন, বেশি কথা বলার দরকার নেই এই শিক্ষকদেরকে নিয়ে।

      Reply
  10. Nurul Amin

    ম্যাডাম, বিশ্বের আর কোন কোন দেশে এভাবে ছাত্র সংসদ নির্বাচন হয় বলবেন কি? ডিজিটাল বাংলাদেশের সেরা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের ডাটাবেজ নাই কেন। মান্ধাতা আমলের নির্বাচন করে আপনার কি বার্তা দিলেন? দেশ এগিয়েছে বটে ঢাবি আগায় নি। অনলাইনে ভোটের আয়োজন করলে এত লটবহর দরকার হতো না। আপনার নাক ডেকে ঘুমাতে পারতেন অথবা গো-এষনা করতে পারতেন। কলঙ্কের ভাগ নিতে হতো না। না পারলে কোন মোবাইল কোম্পানীকে ইজার দিয়ে দিতেন। তারা ভোট নিয়ে রেজাল্ট দিয়ে দিতো। শিক্ষার্থীদের গরু-ছাগলের মত লাইনে দাঁড়াতে হতো না। আপনার ভাষ্যমতে ধরে নিলাম কারচুপি হয়নি। তবে কি এটাও অস্বীকার করবেন যে অব্যবস্থপনা ছিল চরম পর্যায়ে। যেহেতু আপনি কারো পক্ষ নিয়ে কলম ধরেছেন অনয়ম অস্বীকার করবেন জানি। তবে বলি ম্যাডাম বিশ্ববিদ্যালয়কে উন্নত করেন। দেশের উন্নতি হবে। দলকানামি ও চাটুকারিতা বাদ দেন না। আখেরে আপনারা ও বিশ্ববিদ্যালয় লাভবান হবে। মেধা আল্লাহ সবাইকে দেয় না। মেধাবীদের সৎ থাক উচিত। আল্লাহর কাছে দায় আছে। আল্লাহ আপনাকে মেধা দিয়েছেন ও তা কি কাজে খরচ করেছেন তার হিসাব নিবেন একদিন। আপনার জন্য দোয়া করি। যাতে সত্য লিখতে পারেন। আমীন।

    Reply
  11. Priyatishya bhikkhu

    আপনার লেখাটি হুজুগি, নিন্দুক সম্প্রদায় পড়বে কিনা সন্দেহ, আর মিডিয়াতো অসুস্থ প্রতিযোগিতায় মত্ত হয়ে তাদেরই একজনে পরিণত হয়ে পড়ে

    Reply
  12. Avijit

    ভোট হলে হলে না হয়ে প্রশাসনিক ভবনে হলে কি সমস্যা হত? অমোচনীয় কালি দিলে কি ক্ষতি ছিল! স্বচ্ছ ব্যালটে ভাঁজ করা ব্যালটে অসুবিধা কি? ভোটের সময় বাড়ানো হল না কেন। সত্যিই যথেষ্ট মেধাবী গুছিয়ে সাফাই ভাল গেয়েছে।

    Reply
    • এনায়েত

      লেখাটি পড়েছেন? প্রত্যেক ভোটারের আইডি ছিদ্র করা হয়েছে। স্বচ্ছব্যালট বাক্সে কি অসুবিধা তা লেখাতেই উল্লেখ আছে। সময় বাড়ানো হয়েছে। এটি আপনি জানেন না, খুবই আশ্চর্য হচ্ছি।

      Reply
    • সৈয়দ আলি

      Avijit, দুর্জনের ছলের অভাব নেই। ইনিয়ে বিনিয়ে সুললিত মিথ্যা কথা বলতে আওয়ামী লীগের চাকরবাকরদের জুড়ি নেই। কি সুললিত সাফাই!
      সবার নিষেধ উপেক্ষা করে রাতেই কেন ব্যালট পেপার পাঠানো হলো? ডাকসু নির্বাচনে কতো মাইল জুড়ে কয় হাজার ভোটকেন্দ্র ছিলো? আসল উদ্দেশ্য ছিলো কুয়েত মৈত্রী হলের মতো সিল দিয়া ব্যালট বাক্স ভরা। মৈত্রী হলে ধরা পড়েছে, অন্যত্র বেঁচে গেছে।
      আসলে মেধার পরিবর্তে দলদাসদের শিক্ষক বানালে ওদের আচরন শিক্ষকসুলভ হবে কি করে? অভ্যাস থাকবে নিজের পাতে ঝোল টানার।

      Reply
  13. Nebedita Dey

    Apa, leftist and BNP supporters all are same. They always behind the evil. Everybody should read the article and respect our teachers who did such hard job.

    Reply
  14. সজল কান্তি

    ম্যাডাম
    আসলে গত ৩০ শে ডিসেম্বর “রাতের নির্বাচন” এর কারণে দেশের নির্বাচনী ব্যবস্থা হতে সবার বিশ্বাস উঠে গেছে। সবাই মনে করে দিনে আসলে আর নির্বাচন হয় না, দিনে হয় নাটক, আসল নির্বাচন হয় ভোটের আগের দিন রাতের বেলা। আপনারা যদি ১৯৭০ সালের টিনের ব্যালট বক্স না দিয়ে স্বচ্ছ ব্যালট বক্স দিতেন, ব্যালট পেপার যদি আগের দিন বিকালে কেন্দ্র না পাঠিয়ে ভোটের দিন সকালে পাঠাতেন তা হলে এমন কি ক্ষতি হতো? এখন সবাই মনে করছে একটি বিশেষ দলের নির্দেশে এগুলো করা হয়েছে! ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় যদি প্রাণের প্রতিষ্ঠান হয় তাহলে বিতর্ক হয় এমন কিছু করা উচিত হয়নি। শুধু ইমোশোনাল কথা বলে দায়িত্ব এড়িয়ে গেলে জাতীর সাথে প্রতারণা করা হয়! এবারের ডাকসু নির্বাচন বিশ্ববিদ্যালয় নির্বাচনের ইতিহাসে কলংকজনক অধ্যায় হিসাবে থাকবে এতে কোন সন্দেহ নাই। দলীয় আনুগত্যের বাইরে গিয়ে কাজ করতে পারলে এ নির্বাচন সবার কাছে গ্রহণযোগ্য হতো।

    Reply
    • Ahmed

      If Shuvon is not terrorist, then who? Who beaten Noor in front of the library? who beaten quota leader in Rajshahi university with the hammer? Are not they BCL people? As head of BCL, all responsibilities go to Shuvon shoulder.

      You partisan people in the name of teacher destroyed DU.

      Reply
    • রোমান চৌধুরী

      জনাব সজল কান্তি, ম্যাডামের লেখাটি আপনি না পড়েই মন্তব্য করেছেন। ডাকসুর সাথে দেশের নির্বাচনের কোন ন্যুনতম সংশ্লিষ্টতা নেই। ব্যালট বাক্সের পুরো তদারকি যথেষ্ট ভাল ভাবে হয়েছে। ম্যাডাম যেটা বলছেন যে একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনার অভিযোগ তোলার পর কড়া ভাবে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা হয়েছে। তারপর পুরো নির্বাচনটি সুস্থভাবে সম্পন্নকরার জন্য শিক্ষকদের অক্লান্ত পরিশ্রমের বদলে একটি সুবিধালোভী গোষ্ঠী পুরো নির্বাচনকে অস্বীকারছেন। বিষয়টি কেন হবে? ছাত্রদের মধ্যে সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করে উত্তেজনা ছড়ানোর সম্ভাবনা কি মনে হয় নি একটি বারও। কার লাভ ডাকসু না হলে? কার লাভ একে ভিন্ন দিকে দেখালে? দুর্ভাগ্য প্রথম্ আলো সহ অনেক পত্রিকা অন্ধের মত একটি দলকে সমর্থন করেছে।

      Reply

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। প্রতিক্রিয়া লেখার সময় লক্ষ্য রাখুন--

  • ১. স্বনামে বাংলায় প্রতিক্রিয়া লিখুন।
  • ২. ইংরেজিতে প্রতিক্রিয়া বা রোমান হরফে লেখা বাংলা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না।
  • ৩. প্রতিক্রিয়ায় ব্যক্তিগত আক্রমণ গৃহীত হবে না।

দরকারি ঘর গুলো চিহ্নিত করা হয়েছে—