আমি জানি আমার এই লেখার শিরোনাম দেখে সবাই চমকে উঠবে। অনেকে ভাববে আমি মনে হয় পাগল হয়ে গেছি। যারা আমাকে চেনেন তারা ভাববেন, এটি নিশ্চয়ই এক ধরনের কৌতুক কিংবা স্যাটায়ার। আমাদের লেখাপড়ার পুরো ব্যাপারটিই হচ্ছে পরীক্ষা নির্ভর। সারা বছর ছেলেমেয়েরা পরীক্ষা দেয়, যে স্কুল যত ভালো তাদের পরীক্ষা তত বেশি। বারো বছর লেখাপড়া করার সময় তারা একবার কিংবা দুইবার নয় চার চারবার পাবলিক পরীক্ষা দেয়। স্কুলের লেখাপড়ার (কিংবা পরীক্ষার) উপর অভিভাবকদের ভরসা নেই তাই তাদের ছেলেমেয়েদের কোচিংয়ে ঢুকিয়ে দেন, সেখানেও তারা পরীক্ষার পর পরীক্ষা দেয়। নানা নামে গাইড বই বিক্রি হয়। সেখানে প্রশ্ন এবং উত্তর লেখা থাকে, ছেলেমেয়েরা সেগুলো মুখস্ত করে পরীক্ষা দেবার জন্য। দেশের নামী দামী পত্রিকাগুলো শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে আহাজারি করে কুম্ভিরাশ্রু বিসর্জন করে। কিন্তু তারা নিজেরা নিয়মিত গাইড বই ছাপিয়ে যায়, ছেলে মেয়েরা যেন ঘরে বসে পরীক্ষা দিতে পারে। দেশের অভিভাবকদের বেশির ভাগই মনে করেন লেখাপড়ার মানে হচ্ছে পরীক্ষা দেওয়া। ভালো লেখাপড়া মানে পরীক্ষায় ভালো গ্রেড পাওয়া। কাজেই আমি যদি বলি পরীক্ষা না থাকলে কী হয়, তাহলে দেশের সকল মানুষ যদি আমাকে উম্মাদ ভাবেন- তাহলে তাদের দোষ দেওয়া যায় না। কিংবা তারা যদি মনে করেন আমি একটা রসিকতা করছি এবং এই লেখার মাঝে সেই রসিকতাটি খুঁজতে থাকেন তাহলেও তাদের মোটেও দোষ দেওয়া যায় না।

আমি কিন্তু উম্মাদ হয়ে যাইনি কিংবা রসিকতা করার জন্য এই লেখাটি লিখছি না, আমি যথেষ্ট সিরিয়াসলি এটা বলছি। বর্তমান যে শিক্ষা নীতিটি আছে সেটি তৈরি করার জন্য যে কমিটি তৈরি করা হয়েছিল আমি তার একজন সদস্য ছিলাম এবং আমার স্পষ্ট মনে আছে আমরা সেখানে বলেছিলাম প্রাইমারি স্কুলের প্রথম তিন বছর কোনো পরীক্ষা থাকবে না।

আমরা যে খসড়াটি জমা দিয়েছিলাম তার অনেক পরিবর্তন করে সেটা পাশ করানো হয়েছিল কারণ আমরা মাত্র দুইটি পাবলিক পরীক্ষার কথা বলেছিলাম। কিন্তু এখন আমরা সবাই জানি এই দেশের বাচ্চাদের অনেক কষ্ট দিয়ে চারটি পাবলিক পরীক্ষা নেয়া হয়। কাজেই লেখাপড়ার প্রথম তিন বৎসর কোনও পরীক্ষাই থাকবে না এই সিদ্ধান্তটি শিক্ষানীতিতে আদৌ আছে কিনা আমি জানি না। কিন্তু যেহেতু মনে করা হয় লেখাপড়া মানেই হচ্ছে পরীক্ষা, কাজেই আমরা সবাই জানি এই দেশের একেবারে দুধের বাচ্চাটিকেও পরীক্ষা দিতে হয় এবং সেই পরীক্ষায় একটু উনিশ বিশ হলে অভিভাবকেরা বাচ্চাদের জীবনটিকে ওলট পালট করে ফেলেন।

কিন্তু অবিশ্বাস্য মনে হলেও সত্যি পৃথিবীর অনেক দেশে বাচ্চাদের জীবন থেকে পরীক্ষা নামক অভিশাপটি দূর করে দেওয়া হয়েছে। পৃথিবীর কোন দেশে সবচেয়ে ভালো লেখাপড়া হয় জিজ্ঞেস করা হলে সাধারণত ফিনল্যান্ডের নামটি বলা হয়। সেই দেশের বাচ্চারা তাদের জীবনের প্রথম পরীক্ষাটি দেয় ষোল বছর বয়সে। কোনো পরীক্ষা না দিয়েই তারা যেটুকু শেখার কথা সেটুকু শিখে যাচ্ছে। তাহলে আমরা কেন আমাদের দেশের লেখাপড়া এবং পরীক্ষা সমার্থক করে ফেলেছি?

এব্যাপারে কিছুদিন আগে আমার একটি চমকপ্রদ অভিজ্ঞতা হয়েছে। একদিন আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন ছাত্র আমার সাথে দেখা করতে এসেছে। সে কোনো একটি ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে পড়াশোনা করে। যারা পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি প্রক্রিয়া জানেন তারা সবাই অনুমান করতে পারবেন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে ভর্তি হওয়া চাট্টিখানি কথা নয়। তার সাথে কথা বলতে বলতে আমি প্রায় হঠাৎ করে জানতে পারলাম সে পিতৃমাতৃহীন একজন পথশিশু হয়ে বড় হয়েছে। তার বয়স যখন তের কিংবা চৌদ্দ তখন তার হঠাৎ লেখাপড়া করার শখ হয়েছে। নিজে নিজে বর্ণ পরিচয় করে প্রথম ভর্তি হয়েছে অষ্টম শ্রেণিতে অর্থাৎ প্রথম থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত তার কোনো লেখাপড়া নেই। পড়াশোনায় যথেষ্ট মনোযোগী ছিল ভর্তি হয়েছে। শুধু তাই নয় সে জীবনেও কোনো কোচিং বা প্রাইভেট পড়েনি এবং পথে ঘাটে ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে অভ্যাস হয়ে গেছে বলে এখনো বালিশ ছাড়া ঘুমায়।

নিঃসন্দেহে এই ছেলেটি মোটেও আর দশজন সাধারণ ছেলেমেয়ের মতো নয় কিন্তু তার জীবন থেকে আমি একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় শিখেছি। একজন ছাত্র বা ছাত্রী যদি অষ্টম শ্রেণি থেকে তার লেখাপড়া শুরু করে, সে যদি চায় তাহলে সে স্কুল কলেজ শেষ করে বিশ্ববিদ্যালয় শুরু করে দিতে পারবে। সেই থেকে আমি ভাবছি তাই যদি সত্যি হয় তাহলে কেন আমরা প্রথম থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পরীক্ষার পর পরীক্ষা নিয়ে একজন ছাত্র বা ছাত্রীর জীবনটিকে বিষময় করে তুলি?

কেন তাকে আনন্দময় একটা পরিবেশে বড় হতে দিই না, কোনো চাপ না দিয়ে তাকে নিজের মত করে পরবর্তী জীবনে লেখাপড়া করার জন্য প্রস্তুত হতে দিই না? এমন নয় যে এটি খুবই আজগুবি একটা কথা, পৃথিবীতে এই মুহূর্তে অনেক দেশে এমনটি করা হয়। পরীক্ষা নেই বলে, সবাই ফাঁকি দিয়ে চূড়ান্ত একটি করে গবেট তৈরি হচ্ছে না, বরং উল্টো ব্যাপারটি ঘটছে। তাদের শৈশবটি হচ্ছে সানন্দময় এবং অন্য দেশের ছেলেময়েদের থেকে তারা ভালো শিখছে। কারণ তারা শিখছে নিজের ইচ্ছায়, নিজের আনন্দে।

দুই.

পরীক্ষা নির্ভর লেখাপড়া তো অনেকদিন থেকেই হচ্ছে। আমরা ছেলেমেয়েদের পরীক্ষার ফলাফল নিয়ে ভয় দেখিয়ে চাপ দিয়ে তাদের পড়াশোনা করিয়ে যাচ্ছি। গাইড বইয়ের ব্যবসায়ী, আর প্রাইভেট এবং কোচিং ব্যবসায়ীদের ছাড়া অন্য কারো খুব বড় লাভ হয়েছে বলে তো মনে হয় না। কিছুদিন হলো আমি টের পেয়েছি কোচিং ব্যবসায়ীরা যথেষ্ট সংগঠিত। কোচিং ব্যবসা বন্ধ নিয়ে আলাপ আলোচনা শুরু হওয়ার পর হঠাৎ একদিন ঘণ্টাখানেকের মাঝে আমার কাছে অসংখ্য ইমেইল এসে হাজির। প্রত্যেকটা ইমেইলের বক্তব্য একই ধরনের। কোচিং যে আমাদের দেশের ছেলে মেয়েদের লেখাপড়া কতো এগিয়ে গেছে সেটাই হচ্ছে মূল বক্তব্য। আমি খুবই অবাক হয়ে তাদের সবার ইমেইলের উত্তর দিয়ে তাদের কাছে জানতে চাইলাম হঠাৎ করে তারা এই ব্যবসার গুণকীর্ত্তন করতে শুরু করেছে কেন? কোনো কোচিং ব্যবসায়ী কি তাদের আমার কাছে এরকম লবিং করার জন্য প্ররোচিত করেছে? বলতে গেলে কেউ সেই ই-মেইলের উত্তর দেয়নি একজন ছাড়া। তিনি লিখেছেন যে তিনি মোটেও এই ই-মেইলটি পাঠান নি। অন্য কেউ তার ই-মেইল হ্যাক করে আমার কাছে এই মেইলটি পাঠিয়েছে। আমি অনুমান করছি কোচিং ব্যবসায়ীরা আধুনিক তথ্য প্রযুক্তিতে যথেষ্ট দক্ষ, তারা শুধু এই ব্যবসা করে ছাত্র ছাত্রীদের বারোটা বাজিয়েই সন্তষ্ট নন, তাদের ব্যবসা যেন বন্ধ না হয়ে যায় সেজন্যে যত রকম প্রচারণা চালানো যায় সেগুলোও খুবই দক্ষতার সাথে করে যাচ্ছে।

যাই হোক, আমি আবার মূল বক্তব্য ফিরে যাই। আমরা বহুদিন থেকে পরীক্ষাকেন্দ্রিক লেখাপড়া করে যাচ্ছি তাতে আমাদের সাফল্য কতো খানি? ২০১৫ সালের একটা রিপোর্ট অনুযায়ী তৃতীয় শ্রেণির ছেলেমেয়েদের শতকরা ৩৫ ভাগই যেটুকু বাংলা পড়ার কথা সেটুকু বাংলা পড়তে পারে না। শতকরা ৬০ ভাগই যেটুকু গণিত জানার কথা সেটুকু গণিত জানে না। যখন তারা পঞ্চম শ্রেণিতে উঠেছে তখন আগের সমস্যা কাটিয়ে ওঠার বদলে সমস্যা আরো বেড়ে গেছে। তখন শতকরা ৮০ ভাগ ছেলেমেয়ে যেটুকু জানার কথা সেটুকু জানে না। সংখ্যাটি অবিশ্বাস্য, মেনে নিতে কষ্ট হয়। মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগে ওয়ার্ল্ড ব্যাংকের একটা রিপোর্ট বের হয়েছে। সেখানে তারা আমাদের ছেলেমেয়েদের লেখাপড়ার অবস্থাটা একটু অন্যভাবে উপস্থাপন করেছে। তাদের হিসেব অনুযায়ী, আমাদের ছেলেমেয়েদের জীবনের প্রথম ১১ বছরের লেখাপড়ার মাঝে সাড়ে চার বছর পরিমাণ সময় লেখাপড়া হয় না। অর্থাৎ আমরা তাদের ১১ বছরে সাড়ে ছয় বছরের সমান পড়িয়েছি।

বিষয়টি নিয়ে যে পরিমান হইচই আলোচনা হওয়ার কথা ছিল সেটি হয়নি। অবাক হওয়ার কিছু নেই, সমস্যার সমাধান করা কঠিন, জেনে নেওয়া অনেক সহজ। তখন কাউকেই কিছু করতে হয় না, এক দুইটা দীর্ঘশ্বাস ফেললেই নিজের কাছে নিজে দায়মুক্ত থাকা যায়। নানা প্রতিষ্ঠানের নানা ধরনের জরিপ নানা পরিসংখ্যানের কতোটুকু খাঁটি কিংবা কতোটুকু বিশ্বাসযোগ্য আমি সেই আলোচনায় যাচ্ছি না। আমি শুধু সবাইকে মনে করিয়ে দিতে চাই এই দেশের প্রায় পাঁচকোটি ছেলেমেয়ে স্কুল কলেজ মাদ্রাসায় পড়াশোনা করে। তাদের সবাইকে যদি একটুখানিও ঠিক করে পড়াশোনা করানো যায় সেটি বিশাল একটি ব্যাপার। ঠিক সেরকম আমরা যদি তাদেরকে লেখাপড়া করাতে একটুখানিও ব্যর্থ হই সেটা ঠিক সেরকম বিশাল একটা বিপর্যয়। কতোটুকু লেখাপড়া হয়েছে তার সঠিক পরিমাপ করার জন্য সবাই মিলে গবেষণা করতে থাকুক কিন্তু কোনো রকম গবেষণা না করেই আমরা অন্তত একটা বিষয় বলে দিতে পারি।

সেটি হচ্ছে আমাদের দেশের ছেলেমেয়েদের জীবনটি হচ্ছে আনন্দহীন। পরীক্ষার জন্য ছুটতে ছুটতে যে জীবনটা গাইড বই আর কোচিং সেন্টার দিয়ে বেঁধে ফেলা হয়েছে, সেই জীবনে একটা শিশুর জীবনকে উপভোগ করার সময় কোথায়? মস্তিষ্কের মাঝে তথ্য ঠেসে দেওয়াটা শিক্ষা নয়। বইপত্রে তথ্য আছে যখন দরকার সেই তথ্য দেখে নেয়া যাবে। মুখস্ত করে সেটা মাথায় ঢোকাতে হবে কেন? শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য মস্তিষ্ককে শান্ত করে রাখা যেন সেটি সমস্যার সমাধান করতে পারে। অনেকগুলো তথ্য দিয়ে দিলে সেটা বিশ্লেষণ করতে পারে, নতুন কিছু করতে পারে। শিক্ষার উদ্দেশ্য মোটেও তথ্য মুখস্ত করা নয়।

তিন.

কেউ যেন মনে না করেন আমি বলছি আগামীকাল থেকে বাংলাদেশের সব স্কুল কলেজ থেকে হুট করে সব পরীক্ষা তুলে দেওয়া হোক। শুধু তাই নয় ফিনল্যান্ডে যে মডেল কাজ করেছে আমাদের দেশেও সেই মডেল কাজ করবে তারও কোনো নিশ্চয়তা নেই। ফিনল্যান্ডে সবচেয়ে লোভনীয় চাকরি হচ্ছে স্কুল শিক্ষকতা, আমাদের দেশে ঠিক তার উল্টো! আমাদের দেশে শিক্ষকের চাকরিতে সম্মান নেই, অর্থ বিত্ত বা সুযোগ সুবিধে নেই, বড় হওয়ার সুযোগও নেই। ফিনল্যান্ডের শিক্ষকেরা প্রত্যেকটা ছাত্রছাত্রীকে আলাদা আলাদা করে বড় করে তুলেন, আমাদের দেশে স্কুলে গিয়ে দেখা যায় সেখানে শিক্ষক নেই বাচ্চারা নিজেরা নিজেরা হইচই চেঁচামেচি করে সময় কাটাচ্ছে! শিক্ষার জন্যে আরো অনেক টাকা খরচ না করলে আমরা এর চাইতে বেশি কী আশা করতে পারি?

তারপরও আমাদের লেখাপড়ার পুরো বিষয়টা আলাদা আলাদা করে ভেবে দেখার সময় হয়েছে। যখনই আমরা গতানুগতিক নিয়মের বাইরে গিয়ে ছেলেমেয়েদের কিছু একটা শেখানোর চেষ্টা করেছি তারা সেই সুযোগটা গ্রহণ করেছে। এই দেশের অলিম্পিয়াডগুলো হচ্ছে তার উদাহরণ। সারা পৃথিবীর সাথে প্রতিযোগিতা করে অলিম্পিয়াড়ের প্রতিযোগিরা সোনা, রূপা কিংবা ব্রোঞ্চ পদক নিয়ে আসছে। আমি খুবই আনন্দিত হয়েছি যখন দেখেছি আমাদের প্রাইমারি স্কুলগুলোতে গণিত অলিম্পিয়াড পদ্ধতি ব্যবহার করে ছেলেমেয়েদের গণিত শেখানো যায় কিনা সেটি নিয়ে একটি পাইলট প্রজেক্ট শুরু হয়েছে। সত্যি সত্যি সেটা যদি কাজে লাগানো যায় তাহলে অন্ততপক্ষে গণিত শেখার সময় ছেলেমেয়েরা বাধাধরা নিয়মের বাইরে গিয়ে একটু খানি হলেও আনন্দমুখর পরিবেশে শিখতে পারবে।

লেখাপড়ার ব্যাপার সারা পৃথিবীতেই একটা পরিবর্তন আসছে। আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স কথাটা আমরা খুব ঘন ঘন শুনতে পাচ্ছি। অটোমেশান এবং আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের কারণে পৃথিবীতে খুব তাড়াতাড়ি মানুষের গতানুগতিক প্রয়োজন কমে আসবে। সবাই আশংকা করছে দেখতে দেখতে কোনো একদিন সাধারণ গতানুগতিক মানুষেরা আবিষ্কার করতে পারবে এই পৃথিবীতে তার প্রয়োজন নেই। পৃথিবীর সবাই সেই সময়টার মুখোমুখি হবার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে, আমাদেরও নিতে হবে। সেই সময়টাতে যান্ত্রিক মুখস্তবিদ্যার পারদর্শী মানুষের কোনো প্রয়োজন থাকবে না, তাই আমাদের ছেলেমেয়েদের এমন ভাবে প্রস্তুত করতে হবে যেন তারা সমস্যার মুখোমুখি হতে পারে, সমস্যার সমাধান করতে পারে প্রয়োজনে নতুন নতুন ধারণা দিতে পারে।

তার জন্যে যদি পরীক্ষা তুলে দিতে হয় সেটাও নিশ্চয়ই তুলে দেয়া যাবে। তবে আগে যেভাবে হুট করে একজন আমলা কিছু একটা বড় পরিবর্তন করে ফেলতেন সেভাবে নয়। চিন্তা ভাবনা করে পরীক্ষা নিরীক্ষা করে আলাপ আলোচনা করে গাবেষণা করে পরিবর্তন করতে হবে। তার কারণ আমাদের সবার সবচেয়ে বড় লক্ষ্য হতে হবে এই দেশের শিশু কিশোরদের একটা আন্দময় শৈশব উপহার দেয়ার। সেটি যদি করতে না পারি তাহলে তারা আমাদের কোনোদিন ক্ষমা করবে না।

মুহম্মদ জাফর ইকবাললেখক ও অধ্যাপক, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়।

১৩ Responses -- “পরীক্ষা না থাকলে কী হয়?”

  1. আজিজুল হক

    আমি কিছু সহজ সরল মন্তব্য করতে চাই । পরীক্ষা না থাকলে বৃত্তি দেবেন কিভাবে ? নিচের ক্লাসে বৃত্তি না দিলে গরিবের সন্তানরা কিভাবে উঁচু ক্লাসে গিয়ে পড়বে? প্রাথমিক বৃত্তি প্রাপ্ত ছাত্র ছাত্রীরা হাইস্কুলে আর্থিক সাহায্য পেয়ে পড়াশোনা করতে পারে একই ভাবে জুনিয়র বৃত্তি প্রাপ্তরা নবম দশম শ্রেণীতে শিক্ষায় সাহায্য পাচ্ছে। তদ্রুপ মেধাবীরা ডক্টরেট ডিগ্রি পর্যন্ত এভাবেই করে, ডঃ জাফর ইকবাল স্যার নিজেও এর ব্যতিক্রম নন। বৃত্তি পরীক্ষাকে সবার জন্য উন্মুক্ত করতেই পিইসি ও জেএসসি পরীক্ষা চালু করা হয়েছিল। কারণ এসএসসি ও এইচএসসিতে আগে থেকেই বৃত্তি নির্ধারণ করা হতোএখন প্রশ্ন হল প্রশ্ন ফাঁস, কোচিং-বাণিজ্য এগুলো শিক্ষাঙ্গনের ব্যাধি ।এগুলো না সারিয়ে মাথা কেটে মাথা ব্যথা সারানো কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না, বরঞ্চ যেটা হতে পারে নিচের ক্লাসে পরীক্ষা বাদ দেওয়া যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তাঁর যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত দিয়ে জানিয়েছেন যে তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত পরীক্ষা থাকবে না। এরপর পিইসি পরীক্ষা মৌখিক ভাবে নেওয়া। এরপর জেএসসি পরীক্ষা এক মাসআগে প্রশ্ন সম্পূর্ণ প্রকাশ করে দিয়ে বই দেখে পরীক্ষা দেওয়া এবং পরীক্ষার প্রাপ্ত নম্বর অনুযায়ী অভিভাবককে একসাথে বসিয়ে মৌখিক পরীক্ষা নিয়ে যাচাই করা । আর মাধ্যমিক ও এইচএসসি বর্তমানের মতোই চলুক। প্রয়োজনে প্রাথমিক পর্যায়ের ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য কোচিং নিষিদ্ধ করে অভিভাবকদের জন্য কোচিং চালু করা হোক যাতে অভিভাবকরা প্রতিদিন বাচ্চাদের পড়ালেখা দেখাশুনা করে এবং মৌখিক পরীক্ষাগুলো দিতে সাহায্য করে। এছাড়া অভিভাবকদের জন্য মূল্যায়ন পরীক্ষা নেওয়া উচিত। শিক্ষকদের জন্যও কড়াকড়িভাবে মূল্যায়ন পরীক্ষা নেওয়া উচিত । অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত কোচিং সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করে দেওয়া উচিত । স্কুলের শিক্ষকরা ক্লাসে ভালোভাবে পড়াবে যাতে কোচিং এর প্রয়োজন না পারে। আর শিক্ষকদের বার্ষিক মূল্যায়ন পরীক্ষা দিতে হবে – পরীক্ষার ফল খারাপ হলে ডিমোশন ভালো হলে প্রমোশন

    Reply
  2. কাজী ফয়জুস সালেহীন

    জনাব রুহুল আমীন
    কাঠাল পাতা কথাটি লিখে আপনি কি আপনার বংশ পরিচয় দিলেন না শিক্ষাগত যোগ্যতা দিলেন বোঝাগেলো না !

    Reply
  3. মোহাম্মদ মাসুম উদ্দিন

    স্যার, আসসালামুআলাইকুম। আপনাকে অসংখ্য ধণ্যবাদ জানাই, এই গুরুত্বপূর্ণ লেখাটির জন্য। স্যার, আমি আপনার সাথে ১০০% একমত আছি। আমিও সবসময় এইটাই চাই। সত্যি বলতে, এই পরীক্ষা আমার নিজের জীবনের উপরও অনেক খারাপ প্রভাব ফেলেছে। আমি যখন-ই নতুন কিছু নিয়ে চিন্তা করতে চাই, সেটা করতে পারি না। কারণ, মনের মাঝে সবসময় এইটা থাকে যে, এইসব নিয়ে চিন্তা করলে তো পরীক্ষায় পাস করতে পারবো না। আর, এইভাবেই আমাদের নতুন কিছু নিয়ে চিন্তা করার ক্ষমতাটা হারিয়ে যাচ্ছে।

    Reply
  4. Truth

    Sir, I support your writing. But the people who are related to coaching business will be very upset and most of the kindergartens will be stopped. My daughter is three years old and she is going to be admitted into a school after two years. Now I am anxious about the present educational institutions basically Kindergartens because they have no premises, nice classrooms at Shanir Akhra in Dhaka. So, the development of the students is to some extent impossible. This schools supply a lot of books to the students and bound them to learn the lessons. They frequently take exams which are irritable. It is one of the tricks which bound the students to go to their teachers for coaching.

    Reply
  5. সৈয়দ আলি

    ড. জাফর ইকবালের মতামত প্রকাশের সব চেয়ে বড় দুর্বলতা হলো তিনি অপ্রিয় সত্য এড়িয়ে যান। আর কোন বিষয়ে যদি তাঁর দল বা দলীয়দের সংশ্লিষ্টতা থাকে তাহলে তো তা লেখার বিষয় হিসেবেই আনেননা। বাংলাদেশে পরীক্ষাব্যবস্থা কোটি কোটি টাকার ব্যবসা যার ভাগ অনেক উপর থেকে স্কুলের নিম্নতম কর্মচারী পর্যন্ত বন্টিত হয়। তাই পরীক্ষা নেয়ার উদ্দেশ্য ছাত্র-ছাত্রীর জ্ঞানের পরীক্ষা নয় বরং টাকার ভাগাভাগি। এ নিয়ে কার্য্করী কিছু না করে হুঙ্কার আর সিনাজুরির দৃশ্যই দেখি।

    Reply
    • আজিজুল হক

      বাংলাদেশের পরীক্ষা ব্যবস্থা আওয়ামী লীগ সরকার চালু করেনি এবং সারা পৃথিবীতেই পরীক্ষা ব্যবস্থা নানা ভাবে বিদ্যমান। পরীক্ষা না থাকলে গরীব ছাত্রদের বৃত্তি কিভাবে দিবেন? সাধারণ চাকরি গুলো কিভাবে হবে? মামুদের মাধ্যমে? আর বৃত্তির সব টাকাই সবাই লুটপাট করে খেয়ে ফেলবে। সবখানে দুর্নীতি কমবেশি আছে সেটার জন্য ফাইট করে যেতে হবে। কাপুরুষের মতো বসে বসে সমালোচনা বাদ দিন। মাথা কেটে মাথা ব্যথা সারানো কাম্পুচিয়ার পলপট সরকার চালু করেছিল। পরিণামে দেশ ধ্বংস হয়েছিল, পলপটও সদলবলে ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল

      Reply
  6. Rokon

    সহমত প্রকাশ করছি । আমাদের শিশুদের আনন্দময় শৈশবের প্রধান অন্তরায় আমাদের শিক্ষা ব্যাবস্থা এবং অভিবাবকদের পার্শপ্রতিক্রিয়া ।

    Reply
  7. Sydur Rahaman

    I want to add something to this. Instead of exam and all this unworthy competition, project based learning can be introduced. I noticed I learn new things when I do a project on that topic. So there must be something that drives you to learn new things, a project or end product can be that drive. Instead of written exams and grading n all, project and a showcase of all those beautiful projects on topics can be a healthy competitive way to motivate children or students to learn things.

    Reply
  8. কাজী ফয়জুস সালেহীন

    স্যার
    একজন প্রাক্তন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হিসাবে তথা কথিত “রাতের ভোটে” নির্বাচন ডাকসু নিয়ে কিছু লিখবেন মনে করেছিলাম, যেহেতু আপনি একটি বিশেষ দলের ব্রান্ড এম্বাসেডর সেই কারনে হয়তো সাহস হয়নি ! দেশ দেশ বলে গলা ফাটানো তথাকথিত ব্রান্ড এম্বাসেডরা আসলে এক একজন কমেডি সিরিজের মতো নিজের ইচ্ছা মতো গলাবাজী করে যায় । এরা কবে বুঝবে যে এগুলো পাঠকরা এখন খায়না, বরং এদের লিখা নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে হাসাহাসি করে !

    Reply
    • sharmin

      so true. i was eagerly waiting for his analysis on DUCSU election and got disappointed with his silence. One reason could be because he had expressed his delight and happiness of the National election result and got trolled from people of all walks of life,

      Reply
    • Md. Ruhul Amin

      আপনার মতো লোক দেশে থাকতে কেন ড. জাফর ইকবালের রাজনীতি নিয়ে লিখতে হবে, ঐ কাজটি তো আপনিই ভাল পারেন। ড. জাফর ইকবাল স্যারকে শিক্ষা নিয়ে থাকতে দিন। আপনারা তো সব জায়গায় কাঁঠাল পাতা দেখেন।

      Reply

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। প্রতিক্রিয়া লেখার সময় লক্ষ্য রাখুন--

  • ১. স্বনামে বাংলায় প্রতিক্রিয়া লিখুন।
  • ২. ইংরেজিতে প্রতিক্রিয়া বা রোমান হরফে লেখা বাংলা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না।
  • ৩. প্রতিক্রিয়ায় ব্যক্তিগত আক্রমণ গৃহীত হবে না।

দরকারি ঘর গুলো চিহ্নিত করা হয়েছে—