অনিয়মের নানা অভিযোগ এবং অধিকাংশ প্যানেলের প্রার্থীদের বর্জনের মধ্যে ২৯ বছর পর অনুষ্ঠিত ডাকসু নির্বাচনে ক্ষমতাসীন দল সমর্থিত ছাত্রলীগ অন্য প্রায় সব পদে জয়ী হলেও ভিপি পদটি জিতে নিয়েছেন কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের নেতা নুরুল হক নূর। এবারই প্রথম সরকারি দল সমর্থিত ছাত্র সংগঠনকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদে (ডাকসু) অধিকাংশ আসনে বিজয়ী হতে দেখা গেলেও ভিপি পদের ক্ষেত্রে আগের ধারাবাহিকতাই থাকল। সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে গত বছর বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ ব্যানারে জোরাল আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়ে পরিচিত পান এই ফোরামের যুগ্ম আহ্বায়ক নূর।

ডাকসু নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে এখন কিছু বলা না বলা নিরর্থক। বিশেষজ্ঞের অভাব নাই দেশে। মতামত দেয়ার লোকেরও অভাব নাই। টক শো কলামে মানুষকে বিরক্ত না করা পর্যন্ত এ কাজ চলতেই থাকবে। তাই আমি সেদিকে যাবো না। আমি বলবো একজন প্রবাসী বাংলাদেশীর মনের দুঃখ আর বেদনার কথা। আমাদের এখন পড়ন্ত বয়স। কৈশোরের উন্মাদনা যৌবনের উচ্ছ্বলতা এমনকি পৌঢ় বয়সের আশাও বিগত। প্রায় গোধুলিতে দাঁড়ানো মানুষ আমরা। কত কি দেখলাম এই দেশে। আমাদের সময় আমরা বিশ্বাস করতাম ডাকসু জন্ম দেয় ভবিষ্যত নেতৃত্বের।

বড় বিচিত্র সমাজ আমাদের। এই ডাকসু নিয়ে কত কথা কত স্বপ্ন। সবার আগে বলি বুকে হাত দিয়ে বলুন তো আসলে কি ডাকসুর ইতিহাস জানেন আপনি? উদার গণতান্ত্রিক রাজনীতি আশা করছেন অথচ ডাকসুর প্রথম সম্পাদক বা তাদের উত্তরাধিকারের কথা বলেন না। এখানে দুটো কারণ লুকিয়ে। কারণ এই বিশ্ববিদ্যালয় যখন সত্যি অক্সফোর্ড নামে পরিচিত ছিলো তখন এখানে নূরের মত ছেলেরা থাকলেও লুকোছাপায় থাকতো। তাদের আসল স্বরূপ তখনো উন্মোচিত হয়নি। যেমন গোলাম আজম। আপনি অস্বীকার করতে পারবেন না যৌবনে তিনিও প্রগতিশীলই ছিলেন। ভাষা আন্দোলনেও কিছু কাজ আছে তাঁর। কিন্তু ইতিহাসের ধারাবাহিকতায় পথ হারানো পাকিস্তানের দালালী করতে গিয়ে তিনি হয়েছিলেন দেশবিরোধী। এমন কি আসলেই একজন? সে কথায় পরে আসছি। তার আগে বলি এই যে অতীতের দিকে না তাকানো এবং অস্বীকার করা বা ভুলে যাবার ভান করা তার কারণ ও সাম্প্রদায়িকতা। ইতিহাসের নামগুলো দেখলেই বুঝবেন কেন আমরা তাদের কথা বলি না।

১৯২২ সালের ১লা ডিসেম্বর কার্জন হলে অনুষ্ঠিত শিক্ষকদের একটি সভায় ১৯২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষে ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ’ নামে একটি ছাত্র সংসদ গঠনের সিদ্ধান্ত হয়। ১৯২৩ সালের ১৯শে জানুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন নির্বাহী পরিষদ পূর্বোল্লিখিত শিক্ষক সভার সিদ্ধান্তকে অনুমোদন দেয়। ১৯২৫ সালের ৩০ অক্টোবর সংসদের সাধারণ সভায় খসড়া গঠনতন্ত্র অনুমোদন করা হয়। পরবর্তীতে বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্বাহী পরিষদ অনুমোদন করলে তা কার্যকর হয়। প্রথমবার ১৯২৪-২৫ সালে সম্পাদক ছিলেন যোগেন্দ্রনাথ সেনগুপ্ত, পরের বছর অবনীভূষণ রুদ্র। ১৯২৯-৩০ সালে সম্পাদক নির্বাচিত হন আতাউর রহমান খান।

পরবর্তীতে ১৯৫৩-৫৪ শিক্ষাবর্ষে গঠনতন্ত্র সংশোধনের মাধ্যমে পূর্বনাম পরিবর্তন করে বর্তমান নাম ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ’ গ্রহণ করা হয়। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৭২ সালের ডাকসুর সহসভাপতি হিসেবে নির্বাচিত হন বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন থেকে মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম এবং সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন মাহবুবুর জামান।

এই  নামগুলো কেবল বিশেষ কোন ধর্মের নাম না। এখানে আতাউর রহমান থেকে মুজাহিদুল ইসলাম সেলিমের নামও আছে। এরা রাজনীতিতে কৃতিত্ব দেখানোর পরও আজকাল তেমন ভাবে সমাদৃত নন। আমাদের দুর্ভাগ্য আমরা দুধ  ও পানিকে এক করে ফেলি। পরে আর দুধকে দুধ পানিকে পানি বলে চিহ্নিত করতে পারি না। কে পরে কোন দল করলো কেন করলো বা কিভাবে কার কি হলো সেটা যেমন জরুরী তেমনি ইতিহাস ও অতীতকে স্বীকার করাও জরুরী। না হলে কেউ ডাকসুর সঠিক শক্তি বা তেজ বিষয়ে ধারণা পাবে না। বলছিলাম নেতৃত্বের কথা। অতীতে  ডাকসু আমাদের ইতিহাস ও মুক্তিযুদ্ধকে পথ দেখিয়েছে বলে আমরা গর্ব করি। এটা সত্য। এখানে  অনেক বড় বড় কাজ হয়েছে। আইউব বিরোধী আন্দোলনে তোফায়েল আহমেদ বা দেশের অগ্নিকন্যা মতিয়া চৌধুরীর অবদান ভোলা যাবে না। অপরাধ হবে যদি রাশেদ খান মেননদের কথা না বলি। একাত্তরে আ স ম রবের ভূমিকা চার খলিফার ভূমিকা বলতেই হবে। স্বাধীন দেশের পতাকা উত্তোলন থেকে মুক্তিযুদ্ধ সর্বত্র আছে তাদের ত্যাগ আর সাহসের পথ চলা। কিন্তু এখানেই শেষ না।

দেশ স্বাধীনের পর বঙ্গবন্ধু সরকারের প্রবল বিরোধিতা আর ষড়যন্ত্রে আ স ম রব জাসদ করতে গিয়ে আজ রাজনৈতিক এতিম। তাঁর মত নেতা এরশাদের দালালী করেছে। গৃহপালিত নেতা হিসেবে এদেশের রাজনীতি ও বিরোধী দল ধ্বংসের নায়ক আ স ম রবও কিন্তু ডাকসু নেতা। আ স ম আবদুর রব ডাকসুর ডাকসাইটে নেতা। পরে কি হলো? যে বঙ্গবন্ধুর নাম ভাঙিয়ে নেতা তাঁর দুশমন। এরশাদের মতো জান্তার দালাল আর এখন? পারলে মুক্তিযুদ্ধ চিবিয়ে খায়।

ডাকসু নেতা আখতারুজ্জামান। সমাজতন্ত্র চুলোয় তুলে আওয়ামী ধামা ধরায় ব্যস্ত। দু’বার জেতা নেতা মাহমুদুর রহমান মান্না। পঁচতে পঁচতে এখন গন্ধও ছড়াতে পারেন না। হেন কোন শক্তি অপশক্তি নাই যাদের সাইজ মতো ফিট হননি। মনে পড়ে জিয়াউদ্দিন বাবলুকে? সেই তেজ এখন এরশাদের কবলে এমন বন্দী যে দ্বিতীয় ধারা গ্রহণে এরশাদ আত্মীয়তায় পরিপূর্ণ। সুলতান মোহাম্মদ মনসুরও ভিপি ছিলেন। ধানের শীষে জিতে নৌকার কোলে আশ্রয় নিয়েছেন। কেউ ফকির হতে চায় না। সবাই হালুয়া রুটির সুলতান। এককালে পথ দেখাতো বলতে বলতে ক্লান্ত আর আত্মতুষ্ট মিডিয়া ও জাতির ইহাও জানা উচিৎ যে কলা গাছে আঙুর ফলে না।

এবার ভি পি পদে জিতে আসা যুবকটিকে আমি চিনি না।  কেউ বলছে সে নাকি ছাত্র শিবিরের নেতা, কোটা  আন্দোলনের নেতা। কোটা আন্দোলনের নামে যে উত্তেজনা যুবককে ‘আমি রাজাকার’ বুকে লিখে মাঠে নামিয়েছিল সে আন্দোলনের নেতার রাজনৈতিক অতীত বা ইতিহাস বিবেচনা করে ভূমিকা রাখা বা কাজকর্মের গতি ঠিক করা উচিৎ ছিলো। কিন্তু সে সময় আছে কারো? এক দলের ধারণা যেন তেন প্রকারে তাদেরকে জিতিয়ে আনা হবেই। ভোট পড়ুক আর না পড়ুক তারা জিতবে। কাজেই কষ্ট করার কি দরকার? এই সমস্যা আজকের না। ছাত্রলীগের তো কিছু হলেও আছে। আছে অতীত গৌরব, বর্তমান সরকারের সাফল্যের অংশ। নতুন বাংলা ছাত্র সমাজের কি ছিলো? তারপরও এরশাদ আমলে তারাই জিততো এভাবে। ছাত্রদল তো মেয়েদের বুকের ওড়না কেড়ে নিয়েও জিতেছিল। আজ যারা মুখে বড় বড় কথা বলছে তারা ভুলে যায় ডাকসুতে বরাবর এসব হয়েছে। কিন্তু শিবির নামধারী বা স্বাধীনতা বিরোধী বলে সন্দেহজনক কেউ জেতেনি। আজ  চেতনার পরিবেশ এতটাই ভালো যে তার জয়ও মানতে হয় । ক’দিন আগে আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতা মোহাম্মদ নাসিম সংসদে বলেছেন চারদিকে এখন আওয়ামী লীগার। সবাই রাতারাতি আওয়ামী লীগার বনে গেছে। তাঁর মতে তাঁর মত সিনিয়র নেতাও এসব দেখে ভড়কে যান। তিনি এটিকে উদ্বেগজনক বলে মনে করেন। উদ্বেগ থাকার কারণ আছে কি নাই তার প্রমাণ সবাই দেখছে এখন।

ডাকসুর যে সব ছাত্র ছাত্রীরা নির্বাচন সঠিক হয়নি বলে বর্জন ও আবার নির্বাচন চেয়েছিল তারা কি নূরকে মেনে নেবে? মেনে নেবে বাকীদের? না তাদের ঘোষণা অটল থাকবে? তেজহীন তেজপাতা রাজনীতিতে এখন সব তেজ তেলে পড়লেই চুপসে যায়। ডাকসু কি পারবে আর কি পারবে না সেটাই দেখার বিষয়।

জিতলে কি আর হারলেই বা কি??

অজয় দাশগুপ্তকলামিস্ট।

১৬ Responses -- “ডাকসুর ফলাফল : নূর এর আলেয়া না সাহসের জ্যোতি?”

  1. shamim

    লেখক ১৯৭৩ সালের ডাকসু নির্বাচনে ব্যালট বাক্স ছিনতাই এবং ২১ ফেব্রুঃ রোকেয়া হলের প্রভাত ফেরীতে হামলার কথা লিখতে জীবনের শেষ প্রান্তে দাঁড়িয়ে কি বেমালুম ভূলে গেছেন?

    Reply
  2. ZAHID

    আমি আপনার সাথে একমত, এই বেহায়াপনা লেখালেখির জন্য দেশটার আজ এই বেহাল দশা।

    Reply
  3. সাইফুল ইসলাম

    ” যতই থাকুক দিনের আলো
    ভোটের জন্য রাত ই ভালো ” ।

    অজয় দা
    আপনার লজ্জা শরম আসলেই আছে কিনা এজন্য তা সুদুর অষ্ট্রেলিয়াতে পরীক্ষা করে দেখার জন্য বিনীত অনুরোধ করছি ।
    বাংলাদেশীরা মোটামুটি নিশ্চিত যে ওটা নাই !

    Reply
  4. আবদুল্লাহ

    লেখকের শিক্ষাগত যোগ্যতাটা জানতে পারলে উনার বেহায়াপনার একটা সীমা আন্দাজ করা যেত। অবশ্য আজকাল নর্থ আমেরিকান পিএইচডিরই বা ভরসা কি? বুয়েটের ইতিহাসকুখ্যাত ভিসি নজরুলের বিরুদ্ধে বিক্ষোভের সময়ও হাতেগোণা ৭-৮ জন শিক্ষককে দেখা গেছে চক্ষুলজ্জা আর আত্মমর্যাদা ধুলায় মিশিয়ে ভিসিকে সমর্থন দিতে। তাদের কয়েকজনের তো আমেরিকা-কানাডার পিএইচডি ছিল!

    Reply
    • Shamsul Alam

      কাকে কি বলেন?
      Nation has spotted all culprits with all designation.
      CEC-VC and their super mentor/s will get their feedback within a short span of time, this is not speculation, but conviction.
      Jail and gilotin are not very far from power, this is lesson from history. So Mr Ajoy and other psycho-fan of the fascist regime only could expedite their aftermath of their crime against nation.
      Now a days IBLIS and Honuman are also ashamed to see the activities of these spotted guys. Spirit of freedom and democracy are the backbone of our conscience of our great nation. These reality will determine the future of the nation, it’s a matter of time.

      Reply
  5. Rumana

    নিজেই বললেন জিবনের শেষ প্রান্তে দাড়িয়ে আছেন। তাহলে এইবার একটু দলকানামি লেখা বন্ধ করুন। মালা জপ করুন দাদা!!!

    Reply
  6. নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক

    সোমবার দিবাগত রাতে কয়েকটি জাতীয় দৈনিকের প্রথম সংস্করণে সংবাদ ছাপা হয়েছে যে, ডাকসুতে ভিপি-জিএসসহ ছাত্রলীগের জয়জয়কার। কেউ আবার শিরোনাম করেছে বিপুল ভোটের ব্যাবধানে এগিয়ে ছাত্রলীগের প্যানেল। কিন্তু, রাত ৩ টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কোটা আন্দোলনের নেতা নুরুল হক নুরকে ডাকসুর ভিপি হিসেবে ঘোষণা করেন। তবে, অন্যান্য প্যানেলের প্রার্থী, শিক্ষার্থী, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলসহ সকল শ্রেণিপেশার মানুষ মনে করছেন, ব্যাপক জালিয়াতির পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক পরিস্থিতি সামাল দিতেই সরকার নুরুল হক নুরকে ভিপি হিসেবে ঘোষণা করেছে।
    খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ডাকসু নির্বাচনে সীমাহীন ভোটডাকাতি নিয়ে চরম অস্বস্তিতে পড়ে যায় সরকার। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ ছিল ছাত্রলীগকে জেতানো। ছাত্রলীগকে এমন বেপরোয়া হয়ে উঠবে এটা সরকারেরও ধারণা ছিল না। ছাত্রলীগ ছাড়া সবগুলো ছাত্রসংগঠন ভোট বর্জন করে নতুন নির্বাচনের দাবিতে দুপুর থেকেই আন্দোলনে নামে। ঢাবির সার্বিক পরিস্থিতি প্রধানমন্ত্রীর গণভবন থেকে মনিটর করা হচ্ছিল। কখন কি হচ্ছে সব কিছুর আপডেটই প্রতি মুহূর্তে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার লোকজন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অবহিত করেছেন।
    এরপর রাত ১ টার দিকে গোয়েন্দা সংস্থার পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীকে জানানো হয়েছে যে, পরিস্থিতি ভিন্ন দিকে মোড় নিতে পারে। হয়তো নির্বাচন বাতিলের ঘোষণা দিতে হবে অন্যাথায় আন্দোলন দমাতে ভিন্ন কৌশল অবলম্বন করতে হবে। এরপরই আ.লীগ নেতা বাহাউদ্দিন নাছিম এ নিয়ে গণভবনে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে বসেন। ওই সময়ই কোটা আন্দোলনের নেতা নুরুল হক নুরকে ভিপি পদ দিয়ে ছাত্রআন্দোলন দমানোর সিদ্ধান্ত হয়। কারণ, ক্যাম্পাসে ছাত্রদল ও বামজোটের অবস্থা ভাল না। তারা কোনো আন্দোলন করতে পারবে না। এজন্য কোটা আন্দোলনের নেতাদেরকে শান্ত করার পরিকল্পনা করা হয়। ছাত্রলীগ সভাপতি শোভনকেও এ নিয়ে চুপ থাকতে বলেন প্রধানমন্ত্রী। আর ছাত্রলীগ সেক্রেটারি রাব্বানীকেও বলা হয়েছে প্রতিবাদে কিছু বিক্ষোভ অবরোধ করার জন্য। এরপরই রাত সাড়ে ৩ টায় নুরকে ভিপি হিসেবে ঘোষণা করেন ঢাবি ভিসি। এ ঘোষণার পরই প্রতিবাদে বিক্ষোভ শুরু করে ছাত্রলীগ।
    এদিকে, পুরো ঘটনাটিই যে সরকারের তৈরি খেলা ছিল সেটা মঙ্গলবার দুপুরে ছাত্রলীগ সভাপতির বক্তব্যের মাধ্যমেই পরিষ্কার হয়ে যায়। বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীদেরকে শান্ত করতে ছাত্রলীগ সভাপতি বলেই ফেললেন যে, পরিবেশ ঠিক রাখতে কোনো কোনো সময় নিজেকে বলি দিতে হয়। নেতাকর্মীদেরকে শান্ত থাকার নির্দেশ দেয়ার পরই টিএসসিতে গিয়ে নবনির্বাচিত ভিপি নুরুল হক নুরের সঙ্গে কোলাকুলি করেন শোভন। তাৎক্ষণিক আলোচনা করে ধর্মঘট প্রত্যাহারেরও ঘোষণা দেন তারা। মূলত ছাত্রআন্দোলনকে থামাতেই সরকার এই নাটকটি করেছে।

    Reply
  7. oliul

    শোভনের কোলাকুলির পর “শিবির নূর” এখন ছাত্রলীগ!! যাক বাবা ঢা,বি তে কেউ শিবিরের নাম নিতে পারতো না, এখন সাধারণ ছাত্রদের কাছে শিবিরের নাম পৌঁছে দিচ্ছে ছাত্রলীগ, শিবিরের দাওয়াত এভাবেই চলবেই।

    Reply
  8. নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে নানা আলোচনা, সমালোচনা, পর্যালোচনা চলছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এবং পত্র পত্রিকায় ডাকসু নির্বাচন নিয়ে নানা পর্যালোচনা দেখতেছিলাম। তবে, এই নির্বাচন কয়েকটি বিষয় স্পষ্ট করেছে।

    (ক)প্রতিরোধ করা গেলে প্রশাসন যত পক্ষপাতিত্বই করুক সেটা ঠেকানো যায়।
    যেমন- কুয়েত মৈত্রী হলের ছাত্রীরা উদারণ তৈরি করেছে। তারা হল প্রশাসনের সব নীল নকশা জাতির সামনে শুধু উম্মোচন করে আত্মতৃপ্তিত ঢেকুরে নিমগ্ন নিমজ্জিত ছিলেন না। প্রশাসনের নীল নকশা উম্মোচনের পাশাপাশি তারা দাবী আদায় করে নিয়েছেন। হলের প্রভোষ্টকে অপসারন করতে বাধ্য হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কতৃপক্ষ। তাদের দাবী ছিল হলের প্রভোষ্টকে অপসারণ এবং সেদিনই নির্বাচন করা। তাৎক্ষনিত নতুন প্রভোষ্ট নিয়োগ দিয়ে ভোট শুরু করতে হয়েছে। এই হলের সাধারণ ছাত্র ছাত্রীরা ভোট দিয়ে তাদের পছন্দের প্রার্থীকে বিজয়ী করেছেন। ছাত্রলীগের প্যানেলের ভরাডুবি হয়েছে। এটা হচ্ছে প্রতিরোধের সফলতা।

    (খ) বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তথা সরকার যদি পরিস্থিতি সামাল দেয়ার জন্য নূরুর বিজয়কে ছিনিয়ে নিতে ভয় পেয়ে তাঁকে বিজয়ী ঘোষণা করে থাকে, এতেও সাধারণ ছাত্র ছাত্রীদের বিজয় হয়েছে। রুখে দাড়াতে পারলে সরকার ভয়ে থাকে এটা প্রমানিত হয়েছে এখানে। রুখে দাড়ানোর ভয় থাকলে সরকার বিজয় ছিনিয়ে নিতে সাহস করে না, এর দ্বারা প্রমাণিত হয়েছে।

    (গ) আরেকটি বিষয় এখানে প্রমানিত হয়েছে। সাধারণ ছাত্র ছাত্রীদের ইস্যুকে সামনে নিয়ে দাবী আদায়ে নেতৃত্ব দিলে তাঁর পেছনে সমর্থণ থাকে। নূরু সাধারণ ছাত্র ছাত্রীদের ইস্যুতে কোটা সংস্কার আন্দোলনের মাধ্যমে পরিচিত হয়ে উঠা একজন ছাত্র। কোন বড় রাজনৈতিক সংগঠনের লেজুরবৃত্তি করে নেতৃত্বে আসেননি তিনি। সাধারণ ছাত্রছাত্রীদের দাবী নিয়ে সামনে এগিয়ে ছিলেন। তাই সাধারণ ছাত্রছাত্রীরা তাঁর পাশে দাড়িয়েছেন।

    হয়ত: কোটা সংস্কার আন্দোলন থেকে গড়ে উঠা সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের প্যানেল বিজয়ী হয়েছে। নানা কারচুপি এবং ভোট জালিয়াতির মাধ্যমে প্যানেলের অন্যদের বিজয় ছিনিয়ে নেয়া হয়েছে। তারপরও গুরুত্বপূর্ণ পদ ভিপি ছিনিয়ে নিতে সাহস করেনি। এই বিজয় নূরুর নয়। এটা সাধারণ ছাত্রছাত্রীদেরই বিজয়। ভয় নূরুকে নয়, ভয় পেয়েছে সাধারণ ছাত্রছাত্রীদের প্রতিরোধকে।

    Reply
  9. সোলেমান

    সব আল্লাহর ইচ্ছা৷ তিনি যদি দেশটাকে রাজাকারদের হাতে তুলে দিতে চান, তাহলে কার কি করার আছে?

    Reply
  10. অজয় দাশ

    তালগাছটা কার? এটাই দেখার বিষয়। বাকি সব কথার ফুলঝুরিতে পেচানো হয়েছে।

    Reply
  11. সৈয়দ আলি

    মূল কথা হচ্ছে চারদিকে অশণী সংকেত। যতোই চোপাবাজি করেন দাসমহাশয় জমানা খারাব হ্যায়। লক্ষিন্দরের লোহার বাসর ঘরে সুতানলি সাপ ঢুকেছে। এই সাপ বহুগুন বৃদ্ধি পেয়ে গেছে। আর বোধহয় মাস্তানি দিয়ে নতুন ইস্ক্রাকে নির্বাপন করা যাবে না। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় হাতছাড়া হয়ে গেছে।

    Reply
  12. চাণক্য পণ্ডিত

    নবনির্বাচিত ভিপি তাঁর পছন্দসই না হওয়ায় অজয়বাবু একেবারে তাকে কুখ্যাত গোলাম আজমের সাথে তুলনা করেছেন। পুরোপুরি ‘জাজমেন্টাল’ হয়ে যা লিখেছেন তার অন্য অর্থ দাঁড়ায় যে নির্বাচন, গণতন্ত্রে তাঁর আস্থা শুধু ততক্ষণ পর্যন্তই আছে যতক্ষণ পর্যন্ত নিজের পছন্দসই দলের প্রার্থী কোনরূপ ছলে-বলে-কৌশলে নিজের বিজয় দেখাতে পারছে। লেখায় ত বললেনই যে তিনি জীবনের গোধূলিবেলায় দাঁড়িয়ে আছেন। এখনও যদি গণতান্ত্রিক সহনশীলতা অর্জন না করতে পারেন, তাহলে ঐ বস্তু ছাড়াই একটা জীবন কাটিয়ে গেলেন, বলতে হয়। ব্যাপারটা আফসোসের৷

    Reply
    • রোমান

      দালালীর পুরষ্কার পেলেন সাংবাদিক নামধারী জয় বাংলার কর্মী!
      নুর আমার ছোট ভাই, বন্ধু: শোভন
      নুর আমার সঙ্গে রাজনীতি করতো: গোলাম রাব্বানী
      নুরু শিবিরের ভিপি: ছাত্রলীগ

      আসলে দোষ এদের নয়, দোষটা গোড়াইতেই 😅😅

      Reply

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। প্রতিক্রিয়া লেখার সময় লক্ষ্য রাখুন--

  • ১. স্বনামে বাংলায় প্রতিক্রিয়া লিখুন।
  • ২. ইংরেজিতে প্রতিক্রিয়া বা রোমান হরফে লেখা বাংলা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না।
  • ৩. প্রতিক্রিয়ায় ব্যক্তিগত আক্রমণ গৃহীত হবে না।

দরকারি ঘর গুলো চিহ্নিত করা হয়েছে—