বছর তিনেক আগে আমার বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন সহপাঠির সাথে কথা হচ্ছিল। কথার ফাঁকে এক ইন্দোনেশিয়ার বন্ধু জানতে চাইলো, তুমি যে এখানে পড়াশুনা করতে এসেছো, তার খরচ কোথায় থেকে পাও? তুমি কী তোমার দেশের সরকারের বৃত্তি নিয়ে পড়াশোনা করতে এসেছো?
সরকারের বৃত্তি নিয়ে উচ্চশিক্ষায় আসবো, এমন প্রশ্ন শুনতে প্রস্তুত ছিলাম না। জাপান সরকার যে আমার পড়াশোনা ও থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা করে দিয়েছে তা ওই বন্ধুকে জানালাম।
এরপর অনেকটা আগ্রহ নিয়ে জিজ্ঞাসা করলাম, তুমি তাহলে ইন্দোনেশিয়া সরকারের বৃত্তি নিয়ে পড়াশোনা করতে এসেছো?
 
আমার প্রশ্ন শুনে, একটু গর্বিত গর্বিত সুরে বলে উঠলো, হ্যাঁ, ইন্দোনেশিয়া সরকার আমার যাবতীয় ব্যয় বহন করছে। আমার মাস্টার্স ও পিএইচডির খরচ তারাই দিবে।
 
শুধু আমার ওই বন্ধুই নয়, অন্তত ১০-১২ জন ইন্দোনেশিয়ার শিক্ষার্থী তাদের নিজ দেশের সরকারের দেওয়া বৃত্তি নিয়ে উচ্চশিক্ষা আমার বিশ্ববিদ্যালয়ে করছে।
 
এমন কথা শোনার পর সহসা মনের ভিতর প্রশ্ন এসে উঁকি দেয়, আমাদের বাংলাদেশ সরকার কবে আমাদের দেশের ছেলে-মেয়েদের নিজ খরচে দেশের বাইরে পড়াশোনা করার সুযোগ দেবে!
 
কয়েক বছর আগের সেই ধারণার পরিবর্তন হয়েছে গত বছর সেপ্টেম্বরে। বিশ্ববিদ্যালয়ের এক বাঙালি সহপাঠির মুখে যখন শুনলাম, যে বাংলাদেশ থেকে একজন এই বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করতে আসছে যার পড়াশোনার যাবতীয় খরচ বাংলাদেশ সরকার বহন করবে। 
 
‘বঙ্গবন্ধু বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ফেলোশিপ ট্রাস্ট’ অধীনে এক ঝাঁক বাঙালি দেশের বাহিরে উচ্চশিক্ষায় সুযোগ পাচ্ছে তা জানার পর সত্যি বুকটা গর্বে ফুলে উঠেছিল।
 
যে টাকা দিয়ে জাপান সরকার আমাদের পড়াশোনা করার সুযোগ দিচ্ছে প্রায় ‘সমতুল্য’ অর্থে দিয়ে বাংলাদেশ থেকে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নামকরা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে স্নাতকোত্তর ও পিএইচডি করানোর হিম্মত দেখিয়েছেন বাংলাদেশ সরকার। । অক্সফোর্ড, কেমব্রিজের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে বাংলাদেশ সরকারের খরচে পড়াশোনা করানো উদ্যোগকে সাধুবাদ জানাই।
 
স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে এতো বড় ফেলোশিপের ব্যবস্থা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ব্যতিত আর কেউ করেছে বলে আমার জানা নেই। নিঃসন্দেহে এটি বাংলাদেশ এগিয়ে যাওয়ার দুরন্ত ফল হিসেবে বিবেচনা করাই শ্রেয়।
 
শুধু বঙ্গবন্ধু বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ফেলোশিপ ট্রাস্ট ফেলোশিপ নয়, গত ফেব্রুয়ারিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দপ্তর থেকে ‘টেকসই উন্নয়ন অভিষ্ট জন প্রশাসনের দক্ষতা বৃদ্ধিকরণ প্রকল্পের অধীনে ‘প্রধানমন্ত্রী ফেলোশিপ’ যাত্রা শুরু করেছে, যা উচ্চশিক্ষার লক্ষ্য অর্জনের উদারতার প্রতিচ্ছবি বলে মনে হচ্ছে।
গত কয়েক বছর ধরে উচ্চশিক্ষা ও গবেষণা নিয়ে লেখালেখি হলেও তা কিছুটা হলেও বিবেচনা হচ্ছে। এ কথা অনস্বীকার্য যে, দক্ষিণ এশিয়ায় যে কয়েকটি দেশ অর্থনৈতিক মুক্তির সংগ্রাম করছে, তার মধ্যে বাংলাদেশ কয়েক ধাপ এগিয়ে গেছে। তার ফসলই হচ্ছে উচ্চশিক্ষা ও গবেষণায় ‘আংশিক’ নজর।
২০১৬ সালের ৪ মে যে বঙ্গবন্ধু বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ট্রাস্ট ফেলোশিপ যে গঠন করা হয়েছে তার নীতিমালায় এই ফেলোশিপের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যে বলা হয়েছে, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির ক্ষেত্রে যোগ্য, দক্ষ ও প্রশিক্ষিত জনবল তৈরির মাধ্যমে নেতৃত্বের উৎকর্ষ  ও বিকাশের মধ্যে দিয়ে লব্ধ জ্ঞান দেশের সার্বিক উন্নয়নে ব্যবহার করা। (তথ্যসূত্র-২)
সুতরাং বোঝাই যাচ্ছে যে, সরকার এই দেশে দক্ষ ও বিজ্ঞানমনষ্ক জনগোষ্ঠি তৈরির একটি বড় ধরনের বার্তা দিচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ চুকিয়ে লাখ লাখ শিক্ষার্থী যে চাকরির জন্য বছরের পর বছর পার করে দিচ্ছে, সেই বৃহৎ বেকার জনগোষ্ঠির জন্য এটি বড় ধরনের সু-খবরই বটে। 
 
আর্থিক অসঙ্গতির কারণে ক্লাসের মেধাবী ছাত্রটি যখন গবেষণা কিংবা উচ্চশিক্ষা গ্রহণ না করে দু-বেলা খাবারের জন্য করণিকের চাকরি পেতেও কুণ্ঠাবোধ করে না, সেই ঝরে পড়া মেধাবীদের উচ্চশিক্ষামুখী করতে ‘ফেলোশিপ’টি হতে পারে আলাদীনের জাদুর চেরাগ। 
তবে পরিতাপের বিষয় হলো, যে উদ্দেশ্যে নিয়ে বিজ্ঞান ট্রাস্ট গঠন করে নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়েছে, সে নীতিমালার যে ফাঁক তৈরি হয়েছিল, সেটি ফাঁক গলিয়ে এই ফেলোশিপের সুবিধা নিচ্ছে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী, বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আর আমলা।
 
নীতিমালায় বলা হয়েছে, জাপান, অস্ট্রেলিয়া ও ইউরোপের দেশগুলোতে কেউ মাস্টার্স কিংবা পিএইচডি করতে গেলে তাকে প্রতি মাসে ৯৬ হাজার টাকা করে অ্যালাউন্স, বাড়ি ভাড়া, টিউশন ফি, বই ও স্বাস্থ্য বীমা, থিসিস ফি, কনফারেন্স বা সেমিনার ফি থেকে শুরু করে বিমান ভাড়া পর্যন্ত দিচ্ছে বাংলাদেশ সরকার। আর দেশে কেউ পিএইচডি করতে চাইলে তার জন্য প্রতি মাসে ২৫ হাজার টাকা করে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
ফেলোশিপের আবেদন যোগ্যতায় বলা হয়েছে, আগ্রহী প্রার্থীকে সার্বক্ষণিকভাবে অধ্যয়নরত/ গবেষণারত থেকে সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কিংবা সুপারভাইজার মাধ্যমে অফারপ্রাপ্ত (সুযোগ প্রাপ্ত) হলে শিক্ষাগত যোগ্যতার শর্ত পূরণ  হতে হবে। 
একই ধরনের কথা আবেদনপত্রের সঙ্গে জমা দেওয়া কাগজপত্রের সঙ্গে ‘ আবেদনকারী একজন সার্বক্ষণিক শিক্ষার্থী/গবেষক’ মর্মে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বিভাগীয় প্রধান কর্তৃক প্রত্যয়নপত্র জমা দেয়ার কথা বলা হয়েছে।
 
নীতিমালায় ফেলোশিপ প্রত্যাশীদের এমন যোগ্যতার কথা বলা থাকলেও বাস্তবে বঙ্গবন্ধু বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ট্রাস্ট কর্তৃপক্ষ যাদের কে নির্বাচিত করেছে তা বেমালুম এই ফেলোশিপের উদ্দেশ্যেকে প্রশ্নবিদ্ধ করে তুলেছে।
 
২০১৭-১৮ সেশনে দ্বিতীয় দফায় যেসব শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষা অর্জনে ফেলোশিপ প্রাপ্তদের যে তালিকা প্রকাশ করেছে, সে তালিকা দেখলে যে কারও মনে হতে পারে, এই ফেলোশিপ পেশাজীবীদের জন্য।
তালিকাটি হাতে নিয়ে দেখলাম, এবার বিদেশে  ৪৬ জন পিএইচডি করার যে সুযোগ পেয়েছে সেখানে মাত্র ৫ জন সাধারণ (পদবী বিহীন) আর অন্যরা সরকারি চাকরিজীবী, ১৭ জন স্নাতকোত্তরের মধ্যে অনেকেই কর্মজীবী। আর দেশের ভিতর পিএইচডি করার সুযোগ পাচ্ছে ৬৪ জন যার সিংহভাগই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, আমলা ও সরকারি কর্মকর্তারা।
প্রশ্ন করা যেতে পারে, যারা পিএইচডি করার সুযোগ পাচ্ছেন, তারা যে উচ্চশিক্ষা লাভ করলে তো দেশেরই লাভ। তাদের লব্ধ জ্ঞানে দেশের কাজেই লাগবে। এছাড়া প্রশ্ন করা যেতে পারে, যারা এই ফেলোশিপের আওয়তায় এসেছেন, তারা উচ্চশিক্ষা নিয়ে দেশে ফিরে নিজ নিজ কর্মক্ষেত্রে আর ভাল করবেন।
 
বিষয়টি অত্যন্ত সহজভাবে ব্যাখ্যা করা যেতে পারে। প্রথমত, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও কিছু সরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান ব্যতিত সিংহভাগ ফেলোশিপ প্রাপ্ত সরকারি কর্মচারীদের সার্বক্ষণিকভাবে গবেষণারত কিংবা অধ্যয়নরত হওয়ার কোনও সুযোগ নেই। ফলে এটি নীতিমালার পরিপন্থী বলে বিবেচিত হচ্ছে।
অন্যদিকে নীতিমালায় যে উদ্দেশ্যে সার্বক্ষণিক গবেষণা করার কথা বলা হয়েছে তা এজন্য যে, বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গবেষণা কিংবা শিক্ষারত শিক্ষার্থীদের দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য উচ্চশিক্ষা গ্রহণে ফেলোশিপ হতে পারে অনন্য পদক্ষেপ।
একজন সরকারি কর্মকর্তা কিংবা কর্মচারী যখন কোনও কর্মক্ষেত্রে যোগ দেন, স্বাভাবিকভাবে তারা শিক্ষা বিরতিতে পড়েন। সুতরাং চলতি শিক্ষার্থীদের সাথে তাদের দূরত্বটা বেশি।
সরকারি চাকরির বেতন ভাতা গ্রহণসহ উচ্চশিক্ষা নিতে ফেলোশিপ পাওয়া অনেকটা ‘তেলা মাথায় তেল’ দেওয়ার সমতূল্য। 
কারণ সহজ, আমাদের দেশের মানুষদের সহজাত প্রবৃত্তি হলো, আপনার পেটে যখন খাবার থাকবে তখন আপনার সামনে অতি উপাদেয় খাবার এনে দিলেও আপনার তেমন আগ্রহ থাকবে না। 
 
ধরুন, আপনি একজন সরকারি আমলা/কর্মকর্তা, উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করে  দেশে ফিরে আপনি যে কাজে যুক্ত ছিলেন, সেই কাজগুলো করবেন। আপনার অতিরিক্ত উচ্চশিক্ষার ডিগ্রি আপনার কর্মক্ষেত্রে যতটা না কাজে দেবে তারচেয়ে বেশি কাজে দেবে আপনার পদোন্নতিতে। আপনি নিশ্চয় আপনার নিয়োগকালীন কর্ম পরিধি ছেড়ে আপনি গবেষক কিংবা বিজ্ঞানী হতে পারবেন না।
অন্যদিকে ধরুন, একজন নিয়মিত শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ের পাট চুকিয়ে যাওয়ার পর চাকরির পিছনে চটি ক্ষয় করছেন। নিজের গবেষণা করার আগ্রহ থাকা সত্ত্বেও নেহাত পরিবার-সমাজের চাপে তা ফেলে তাকে চাকরির পেছনে দৌঁড়াতে হচ্ছে।
আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, চাকরি না থাকা এইসব গবেষণায় আগ্রহী শিক্ষার্থীদের পাশে যদি দাঁড়ানো যায়, তারা যে আগ্রহ নিয়ে গবেষণা করবে তা ওই চাকরি আছে এমন ব্যক্তির চেয়ে বেশি হবে।
 
কারণ একটাই- তাকে প্রতিষ্ঠা পেতে হবে। গবেষণায় নিজেদের সেরাটা দিয়ে দেশ ও জাতির পাশে দাঁড়াতে হবে।
 
আমি মনে করি, বঙ্গবন্ধু ফেলোশিপে যদি প্রতি বছর ৫০ জন দেশের বাইরে এইসব ‘ফ্রেশ শিক্ষার্থীদের’ সুযোগ দেওয়া হয় তাহলে অবশ্যই তারা দেশে ফিরে দেশের উন্নয়ন ধারায় যে জ্বালানি দেবে তা দিয়ে এই দেশ অনেক দূর এগিয়ে যাবে।
 
যদি  এই ফেলোশিপ কেবলমাত্র প্রজাতন্ত্রের সরকারি কর্মজীবীদের হয়ে থাকে তাহলে নীতিমালায় স্পষ্ট করে বলা উচিত, যে এই ফেলোশিপ কেবল সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য।
তা না হলে নীতিমালায় কিভাবে লেখা হয়েছে, মাস্টার্স করার জন্য ফেলোশিপে আবেদনকারীদের বয়স অনূর্ধ্ব ৪০ আর পিএইচডি করার জন্য অনূর্ধ্ব ৪৫ বছর?
বিশ্বের সিংহভাগ বিশ্ববিদ্যালয়ে মাস্টার্স ও পিএইচডি করার যে যে বয়সের যোগ্যতা দেওয়া থাকে তার চেয়ে অন্তত ১০ থেকে ১৫ বছর বেশি শিথিলতা দেওয়া হয়েছে এই ফেলোশিপের আবেদনে।
আমি ফেলোশিপ প্রাপ্তদের বিরোধীতা করছি না। আমি শুধু এইটুকু বোঝাতে চাচ্ছি, তরুণদের যদি সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় উচ্চশিক্ষামুখী করা যায়, তারা এক সময় দেশে ফিরে বড় ধরনের পরিবর্তন আনার সুযোগ পাবে।
 
আমরা তো সারা বিশ্বে ছড়িয়ে আছি। দেশের সরকার কোনও টাকা পয়সা আমাদের পড়াশোনার জন্য খরচ করে না বিধায় আমাদের দেশে ফেরার কোনও দায়বদ্ধতা থাকেনা। যে কারণে দেশে ব্রেইন ড্রেন অব্যাহত রয়েছে।
 
কিন্তু আপনি যখন, সরকারি বৃত্তি নিয়ে দেশের বাইরে পড়াশোনা করছেন, তখন আপনাকে ফেরানোর রাস্তটা সহজ হয়। আপনার পেছনে সরকার লাখ লাখ টাকা খরচ করছে, বিনিময়ে আপনি দেশে ফিরে নিজেকে দেশের জন্য সমর্পণ করছেন। আর মেধা পাচার ঠেকাতে এটি এক ধরনের টনিকের মতো কাজ করবে।
 
এটা নিঃসন্দেহে ভাল দিক হতে পারত। কিন্তু ফেলোশিপের বয়সসীমার ফাঁক দিয়ে গলিয়ে ঢুকে পড়ছে সুবিধাভোগীরা। আমরা এটা দেখতে চাই না। দেশের বাহিরে তরুণদের প্রশিক্ষিত করে নিজ ঘরে কাজে লাগানো হোক। কেবল নিয়মিত শিক্ষার্থীদের জন্য উন্মুক্ত হোক এই ফেলোশিপ। 
 
তবে আমি উচ্চশিক্ষায় আগ্রহী সরকারি কর্মকর্তাদের বিরোধী নয়। তাদের জন্য সরকার আরও একটি ফান্ড গঠন করতে পারে। কিংবা সেটা যদি না হয়, ১০ থেকে ১৫ শতাংশ ফেলোশিপ কেবলমাত্র সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য সংরক্ষণ করা যেতে পারে। তাই বলে এইভাবে ৯০ ভাগ ফেলোশিপ সরকারি আমলাদের জন্য দেয়া কখনোই এই ফেলোশিপের উদ্দেশ্যে বাস্তবায়ন হতে পারে না। 
 
ফেলোশিপ প্রাপ্তদের বয়স কখনোই ৩০ অধিক করা উচিত হবে না। কারণ, দেশের প্রচলিত শিক্ষা ব্যবস্থায় স্নাতকোত্তর শেষ করতে একজন শিক্ষার্থীর বয়স ২৫ থেকে ২৭ মধ্যে থাকে। 
সরকার যে আগ্রহ দেখিয়েছি, সেই স্বপ্নকে বাস্তবায়ন করতে বিষয়টির সুষম ব্যবহার নিশ্চিত করা জরুরি। আমার বিশ্বাস সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন, যাতে করে ভবিষ্যতে ফেলোশিপপ্রাপ্তদের সিংহভাগই যেন সদ্য বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়ারা হোন। যাতে করে তারা যেন তাদের ক্যারিয়ার বিজ্ঞান গবেষণায় গড়তে পারে। আর এর জন্য সরকারকে এগিয়ে আসতে হবে। যে সূচনা হয়েছে, তাতে আগামী দুই দশকের মধ্যে বাংলাদেশে অন্যন্য দেশের মতো শিক্ষা ও গবেষণায় বড় ধরনের অগ্রগতি  হবে বলে আমি মনে প্রাণে বিশ্বাস করি। তরুণরা এগিয়ে গেলে তবেই দেশ এগিয়ে যাবে।
নাদিম মাহমুদজাপানের ওসাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যায়নরত

One Response -- “উচ্চশিক্ষায় বঙ্গবন্ধু বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ফেলোশিপ কাদের জন্য?”

  1. duquesne university

    বঙ্গবন্ধু বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ফেলোশিপের নির্বাচনী বোর্ডে কারা থাকে জানেন? যারা কোন দিন বিদেশে পড়তে আসার সাহস করেনি তারা নির্ধারণ করে কারা বিদেশে পড়তে আসবে। যারা আন্ধা তারাই আজ বেশী চোখে দেখে। রাস্তায় ছেড়ে দিলে দুপয়সার কামলাগিরি ঝুটবেনা যাদের তারাও থাকে। যারা নিজে কোনদিন প্রপোজাল লেখেনি তারা অন্যের প্রফোজাল দেখে, বিচার করে। এসব গাঁজাখুরি পদ্ধতির মাধ্যমে নির্বাচন করে বিদেশে পাঠায়। এদের কারণে বাংলাদেশের বদনাম হবে। কিছুদিন পরে বিদেশী ইউনিভার্সিটিতে বাংলাদেশী শিক্ষার্থী নিবে না। যারা নিজ চেষ্টায় পড়তে আসতো তাদের পথ বন্ধ হবে। এসব কেন লেখেন? পারলে ওসব নিয়ে লেখেন। না হয় নিজের গবেষণা করেন। অযথা আপনার মূল্যবান সময় নষ্ট করতেছেন।

    Reply

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। প্রতিক্রিয়া লেখার সময় লক্ষ্য রাখুন--

  • ১. স্বনামে বাংলায় প্রতিক্রিয়া লিখুন।
  • ২. ইংরেজিতে প্রতিক্রিয়া বা রোমান হরফে লেখা বাংলা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না।
  • ৩. প্রতিক্রিয়ায় ব্যক্তিগত আক্রমণ গৃহীত হবে না।

দরকারি ঘর গুলো চিহ্নিত করা হয়েছে—