- মতামত - https://opinion.bdnews24.com/bangla -

গবেষণা ফেলোশিপ: একটি প্রস্তাবনা

২০১২ সালের শুরুর দিকে তিনজন ছাত্র ‘এম ফিল’ ডিগ্রি প্রোগ্রামের জন্য আমার তত্ত্বাবধানে গবেষণা শুরু করেছিল। এই তিনজন ছাত্র দেশের ভিন্ন দুটি  বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পদার্থবিজ্ঞানে ‘বিএসসি অনার্স’ এবং ‘এমএসসি’ ডিগ্রি সম্পন্ন করে ‘এমফিল’ ডিগ্রি প্রোগ্রামে বুয়েটের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি হয়েছিল। তিনজনের মধ্যে দুইজন বেশ কয়েক বছর পূর্বে তাদের ‘এমএসসি’ সম্পন্ন করেছিল, শুধু একজন ছাত্র ‘এমএসসি’ ডিগ্রি শেষ করার পর পরই আমাদের বিভাগে ‘এমফিল’ প্রোগ্রামে ভর্তি হয়েছিল। আমি সদ্য ‘পিএইচডি’ সম্পন্ন করে যুক্তরাজ্য থেকে দেশে ফেরত এসেছি, এই তিনজন ছাত্র নিয়ে গবেষণা শুরু করার জন্য পূর্ণ উদ্যমে প্রস্তুতি নিচ্ছি। স্বভাবতই আমার প্রত্যাশা ছিল তিনজন ছাত্রই সর্বোচ্চ শ্রম দিয়ে তাদের গবেষণা কর্ম সম্পন্ন করবে।  কিন্তু দুঃখের বিষয় হল, ঐ ছাত্রদের আমি বিভাগে পাই না বললেই চলে। আমিই তাদের মাঝে মাঝে ফোন দিয়ে নিয়ে আসি, বিভিন্ন কাজের অগ্রগতি জিজ্ঞেস করি। একসময় এই তিনজন ছাত্রের দুইজনই লাপাত্তা হয়ে গিয়েছিল। তৃতীয় জন দুই বছরের ডিগ্রি, প্রায় চার বছরে সম্পন্ন করেছিল। বিভাগের অন্য সহকর্মীদেরও  প্রায় একই অভিজ্ঞতা, যারা ‘এম ফিল’ ডিগ্রি প্রোগ্রামে ভর্তি হয় তাদের বেশিরভাগই ডিগ্রি সম্পন্ন করে না, কয়েকজন নির্ধারিত সময়ের অনেক পরে ডিগ্রি সম্পন্ন করে, কদাচিৎ দুই একজন নির্ধারিত সময়ে ‘এম ফিল’ ডিগ্রি অর্জন করে।

এ পরিস্থিতিতে আমাদের বিকল্প চিন্তা করতে হয়েছিল। বুয়েটের একাডেমিক কাউন্সিল এবং সিন্ডিকেটের প্রয়োজনীয় অনুমোদন নিয়ে ২০১৪ সালের অক্টোবর সেমিস্টার থেকে পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন এবং গণিত বিভাগে তিন সেমিস্টার মেয়াদী রিসার্চ বেইজড ‘এমএসসি’  ডিগ্রি প্রোগ্রামে আমরা ছাত্র ভর্তি করলাম। পাশকৃত অর্ডিন্যান্স অনুযায়ী তিন সেমিস্টার মেয়াদী উক্ত ‘এমএসসি’ ডিগ্রির জন্য একজন ছাত্রকে সর্বমোট ৩৬ ক্রেডিট সম্পন্ন করতে হবে, যার মধ্যে ১৮ ক্রেডিট থিওরি কোর্স এবং বাকি ১৮ ক্রেডিট রিসার্চ। প্রথম সেমিস্টারে ১২ ক্রেডিট থিওরি কোর্স সম্পন্ন হলে বিভাগের ‘বোর্ড অব পোস্ট গ্র্যাজুয়েট স্টাডিজ’ এর মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘কমিটি ফর অ্যাডভান্সড স্টাডিজ অ্যান্ড রিসার্চ’ এ ছাত্রের গবেষণা প্রস্তাবনা পেশ করতে হয়। উপাচার্যের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় উক্ত কমিটি সন্তুষ্ট হলেই ওই ছাত্রের গবেষণা প্রস্তাবনা অনুমোদিত হয় এবং পরবর্তীতে তা অ্যাকাডেমিক কাউন্সিলে চূড়ান্তভাবে অনুমোদন করা হয়। গবেষণা প্রস্তাবনা অনুমোদিত হবার পরে একই কমিটি উক্ত ছাত্রের জন্য চার থেকে পাঁচ সদস্যের একটি পরীক্ষা কমিটি পাশ করে। প্রত্যেক ছাত্রের জন্য গঠিত পরীক্ষা কমিটিতে একজন সদস্য বিভাগের বাইরে থেকে (সাধারণত বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরে থেকে) বহিরাগত সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সংশ্লিষ্ট ছাত্র কোর্স ওয়ার্ক এবং ডিগ্রির জন্য অনুমোদিত গবেষণা কর্ম সম্পাদন করে থিসিস সাবমিট করে। অনুমোদিত পরীক্ষা বোর্ডের সদস্যবৃন্দ উক্ত থিসিস পরীক্ষা করেন। পরবর্তীতে পরীক্ষা বোর্ডের সদস্যবৃন্দের উপস্থিতিতে একটি মৌখিক পরীক্ষা হয় এবং সেখানে ছাত্র তার গবেষণা উপস্থাপন করে। পরীক্ষা বোর্ডের সকল সদস্য উক্ত ছাত্রের থিসিস এবং মৌখিক পরীক্ষায়  সন্তুষ্ট হলেই তাকে ডিগ্রি প্রদানের জন্য সুপারিশ করেন। এভাবেই একজন ছাত্র বিভাগ থেকে ‘এম এস সি’ ডিগ্রি লাভ করে। বুয়েটের প্রকৌশল এবং স্থাপত্য বিভাগ সমূহের ছাত্রদের ঠিক একইভাবে দীর্ঘদিন থেকে মাস্টার্স ডিগ্রি দেওয়া হয়। আমার জানা মতে, দেশের অন্য কোনও বিশ্ববিদ্যালয়ে ঠিক এই রকম ভাবে বিজ্ঞানের কোন ছাত্রকে ‘এমএসসি’ ডিগ্রি দেওয়া হয় না। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই থিসিস গ্রুপের ছাত্ররা এক বছরের (দুই সেমিস্টার) ‘এমএসসি’ ডিগ্রি  সম্পন্ন করে, যার একটি বড় অংশ থাকে কোর্স ওয়ার্ক, সাথে অল্প কিছু ক্রেডিটের একটি থিসিস । একটি কথা বলা উচিৎ, ক্রেডিট অল্প হলেও কিছু বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু ছাত্র ‘এমএসসি’ লেভেলেই যথেষ্ট ভালো মানের থিসিস করে এবং পিয়ার রিভিউড ‘আইএসআই’ জার্নালে তাদের গবেষণা প্রকাশ করে।

২০১৪ সালের অক্টোবর সেমিস্টারে বুয়েটের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগে যে সকল ছাত্র দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে চার বছর মেয়াদী ‘বিএসসি অনার্স’  ডিগ্রি সম্পন্ন করে ‘এমএসসি’ ডিগ্রি প্রোগ্রামে ভর্তি হয়েছিল তার মধ্য থেকে তিনজন আমার তত্ত্বাবধানে গবেষণা শুরু করে। এই তিনজন ছাত্র সার্বক্ষণিক আমার ‘ন্যানোটেকনোলজি রিসার্চ ল্যাবরেটরি’তে কাজ করতো, গবেষণা ল্যাবের নানা ধরনের এক্সপেরিমেন্টাল সেট আপ তৈরি থেকে শুরু করে সার্বিক উন্নয়নে যথেষ্ট ভূমিকা রাখতো। সবচেয়ে অবাক করার মতো বিষয় ছিল তিনজনের মধ্য থেকে দুইজন ঠিক তিন সেমিস্টার শেষেই ডিগ্রি লাভ করেছিল। একজনের নির্ধারিত সময় থেকে অল্প কিছু সময় বেশি লেগেছিল। পরবর্তী সেমিস্টারে যারা ভর্তি হয়েছিল তারাও প্রায় সবাই নির্ধারিত সময়ে তাদের ডিগ্রি সম্পন্ন করেছিল। এইসব ছাত্ররা ‘এমএসসি’  থিসিসের জন্য সম্পাদিত গবেষণা থেকে মানসম্মত  অনেকগুলো গবেষণাপত্র প্রতিষ্ঠিত বিভিন্ন পাবলিশারের জার্নাল, যেমন- আমেরিকান ইনস্টিটিউট অব ফিজিক্স, ইনস্টিটিউট অব ফিজিক্স ইউকে, রয়্যাল সোসাইটি অব কেমিস্ট্রি, এলসেভিয়ার ইত্যাদিতে প্রকাশ করেছে। ভিন্ন আঙ্গিকে তিন সেমিস্টার মেয়াদী এই রিসার্চ বেইজড ‘এমএসসি’ ডিগ্রি প্রোগ্রাম চালুর পর আমাদের বিভাগে গবেষণায় এক নতুন যুগের সূচনা আমি লক্ষ্য করলাম। এই রকম একটি সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং বাস্তবায়নের জন্য বুয়েটের একাডেমিক কাউন্সিল এবং সিন্ডিকেটের বিজ্ঞ সদস্যবৃন্দকে কৃতজ্ঞতা জানাই।

প্রায় দুই যুগ পূর্বে আমাদের দেশে অনার্স ডিগ্রি প্রোগ্রাম ছিল তিন বছর মেয়াদী। যুগের সাথে তাল মিলিয়ে উক্ত ডিগ্রি প্রোগ্রামকে চার বছর মেয়াদী করা হয়েছে। চার বছরের অনার্স ডিগ্রি এবং এক বছর কিংবা দেড় বছর মেয়াদী মাস্টার্স ডিগ্রি শেষে ‘এমফিল’ করা সার্বিক বিচারে অনর্থক। এই মুহূর্তে যা করা যেতে পারে তা হল, যে সব বিশ্ববিদ্যালয়ে এক  বছরের (দুই সেমিস্টার) মাস্টার্স প্রোগ্রাম রয়েছে তা দেড় বছরে  (তিন সেমিস্টার) উন্নীত করা। সকল অনুষদের সকল বিভাগে এক সাথে সম্ভব না হলে অন্তত বিজ্ঞান অনুষদ থেকে শুরু করা। মাস্টার্সে এখনকার মতো থিসিস এবং নন-থিসিস গ্রুপ থাকবে। তবে থিসিস গ্রুপের থিসিস ক্রেডিট যৌক্তিকভাবে বৃদ্ধি করতে হবে। একজন ছাত্র যেন গবেষণার জন্য ভালো মানের একটি ট্রেনিং মাস্টার্স লেভেলেই পেয়ে যায় তার জন্য উপযুক্ত সুযোগ-সুবিধা, পরিবেশ এবং সহযোগিতা নিশ্চিত করতে হবে। এই ক্ষেত্রে বুয়েটের অর্ডিন্যান্স অনুসরণ করা যেতে পারে এবং প্রয়োজন মোতাবেক এটিকে আরো যুগোপযোগী করা যেতে পারে।

স্বভাবতই প্রশ্ন উঠতে পারে তিন সেমিস্টারের রিসার্চ বেইজড মাস্টার্স ডিগ্রি চালু করে লাভ কী? আমার গত চার বছরের অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি ফলাফল প্রত্যাশার চেয়ে অনেক ভালো। আমি যেসব ছাত্রদের নিয়ে কাজ করেছি তাদের অনেকেই ঢাকার বাইরের নতুন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে চার বছরের অনার্স ডিগ্রি শেষ করে এসেছে। ‘ন্যানোটেকনোলজি রিসার্চ ল্যাবরেটরি’তে বছর খানেক নিবিড়ভাবে গবেষণা কর্ম করার পর এদের অনেকের মধ্যেই অভূতপূর্ব উন্নতি দেখেছি। কিছুদিন পূর্বে একজন ছাত্র আমার তত্ত্বাবধানে মাস্টার্স শেষ করলো। সে ঢাকার বাইরের নতুন একটি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অনার্স শেষ করে বুয়েটে পদার্থবিজ্ঞানে মাস্টার্সে ভর্তি হয়েছিল । গত সপ্তাহে জানলাম সে বিখ্যাত একটি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ‘পিএইচডি’ ডিগ্রি করার জন্য ফেলোশিপ পেয়েছে। একদম নতুন একটি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অনার্স করা একজন ছাত্রী আমার তত্ত্বাবধানে মাস্টার্স করে আমেরিকার একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ফেলোশিপ নিয়ে পড়তে গেলো। আরও কয়েকজন দেশের বিভিন্ন পাবলিক এবং প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগদান করেছে এবং ফেলোশিপ নিয়ে পিএইচডি করতে যাবার জন্য চেষ্টা করছে।

উল্লেখ্য যে,  বুয়েটের বিভিন্ন বিভাগের ছাত্রছাত্রীদের একটি বড় অংশ প্রতি বছর বিশ্ব সেরা বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিভিন্ন ধরনের ফেলোশিপ নিয়ে উচ্চ শিক্ষার জন্য পাড়ি জমায়। এই বছর বুয়েটের একজন ছাত্রী জানালো সে ‘এমআইটি’, ‘স্ট্যানফোর্ড’ এবং ‘ইউসি বার্কলে’ র মতো তিনটি বিশ্ববিদ্যালয় থেকেই ফুল ফান্ডসহ এডমিশন পেয়েছে। ইদানিং যারা বিশ্বসেরা বিশ্ববিদ্যালয়গুলি থেকে ফেলোশিপ পাচ্ছে, তাদের প্রায় সবাই দেশে থাকাকালীন অবস্থায় ভালো মানের কিছু গবেষণা করেছে এবং ওই গবেষণা পত্র পিয়ার রিভিউড ‘আইএসআই’ জার্নালে পাবলিশ করে গবেষণায় তাদের পারদর্শিতা প্রমাণ করেছে। আমার ‘ন্যানোটেক রিসার্চ ল্যাবে’ বুয়েটের বিভিন্ন বিভাগের যে সকল ছাত্রছাত্রী এক্সপেরিমেন্টাল গবেষণা করছে তাদের প্রায় সবাইকে দেখলাম বিশ্ব র‌্যাঙ্কিংয়ের একদম  প্রথম দিকের বিশ্ববিদ্যালয়গুলি থেকে পুরো ফাইন্যান্সিয়াল সাপোর্টসহ এডমিশন পেয়েছে। গবেষণায় পূর্ব অভিজ্ঞতা ফান্ড পেতে বিশেষ সহায়ক ছিল বলেই তারা সবাই জানিয়েছে।

এখনকার যুগে গবেষণায় একদম নবিশ এমন কোন ছাত্রকে ইউরোপ, আমেরিকা, জাপান কিংবা অস্ট্রেলিয়ার কোনও বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনও প্রফেসর বৃত্তিসহ ভর্তির জন্য ভর্তি কমিটিকে সুপারিশ করেন না।  কারণটা খুব স্বাভাবিক। প্রতিযোগিতামূলক বর্তমান বিশ্বের কেউ চায় না গবেষণায় একদম নতুন একজন ছাত্রকে নিয়ে গবেষণার ‘এ বি সি ডি’ শেখাতে। বিশেষ করে চীন কিংবা ভারতের মতো দেশ থেকে যে সকল ছাত্র আবেদন করে তাদের গবেষণার পূর্ব অভিজ্ঞতা সত্যিকার অর্থে আমাদের বেশিরভাগ ছাত্রদের থেকে ভালো। তাই আমাদের দেশের যে সকল ছাত্রছাত্রী অনার্স কিংবা মাস্টার্স লেভেলে কিছু ভালো মানের গবেষণা করেছে তারাই খুব ভালো মানের বিশ্ববিদ্যালয়ে বৃত্তিসহ ভর্তির জন্য বিবেচিত হয়। এই রকম ভাবে প্রতি বছর আমাদের দেশ থেকে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের ভালো ভালো বিশ্ববিদ্যালয়ে  বৃত্তি নিয়ে উচ্চ শিক্ষার সুযোগ পায় বড় জোর কয়েক শত ছাত্রছাত্রী। ষোল কোটি মানুষের এই দেশে কিছু বিশেষ বাস্তব পদক্ষেপ নিলে বিদেশের বিশ্ববিদ্যালয়ে বৃত্তিসহ পড়তে যাওয়া ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা কয়েক শত থেকে অতি সহজেই কয়েক হাজারে উন্নীত করা যেতে পারে।

স্বভাবতই প্রশ্ন আসবে, ওই পদক্ষেপগুলো কী কী? সম্প্রতি সংবাদপত্রের মাধ্যমে জানতে পারলাম, দেশে ফেরত আসার শর্তে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার “প্রধানমন্ত্রী ফেলোশিপ ২০১৯’’ ঘোষণা করেছে যার আওতায় সরকার থেকে মাস্টার্সের জন্য ৬০ লাখ টাকা ও পিএইচডির জন্য ২ কোটি টাকা দেওয়া হবে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের গভরনেন্স ইনোভেশন ইউনিটের “টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট অর্জনে জনপ্রশাসনের দক্ষতা বৃদ্ধিকরণ” প্রকল্পের আওতায় উচ্চতর শিক্ষায় (মাস্টার্স এবং পিএইচডি) ‘প্রধানমন্ত্রী ফেলোশিপ’ দেওয়ার লক্ষ্যে বাংলাদেশের নাগরিকদের নিকট থেকে আবেদনপত্র আহ্বান করা হয়েছে (দৈনিক আমাদের প্রতিদিন, ২০ ফেব্রুয়ারি ২০১৯)। মাস্টার্সের জন্য ৬০ লাখ টাকা ও পিএইচডির জন্য ২ কোটি, ফেলোশিপের এই অর্থের পরিমাণ আমাদের অর্থনৈতিক উন্নতির সুস্পষ্ট ইঙ্গিত বহন করে। সরকার উচ্চ শিক্ষার জন্য বিনিয়োগ করতে আগ্রহী, সরকারের এমন সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানাই। একইসাথে ফলপ্রসূ বিনিয়োগের লক্ষ্যে একজন অধ্যাপক এবং গবেষক হিসেবে প্রাসঙ্গিক কিছু  প্রস্তাব তুলে ধরতে চাই।

আমার প্রথম প্রস্তাব হবে দেশে মাস্টার্স ডিগ্রি দেড় বছর (তিন সেমিস্টার) মেয়াদী করা। রিসার্চ বেইজড মাস্টার্স  ডিগ্রির কোর্স ওয়ার্ক এবং থিসিসের লোড সমান করা। যারা রিসার্চ বেইজড (থিসিস গ্রুপ) মাস্টার্স ডিগ্রি করবে তাদেরকে অন্তত এক বছর বৃত্তি হিসেবে প্রতি মাসে বিশ  হাজার টাকা দেওয়া। কয়জন ছাত্রকে এই বৃত্তি দেয়া হবে এটি নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের ওই বিভাগে কয়জন যোগ্য গবেষণা তত্ত্বাবধায়ক রয়েছেন তার উপর। একটি কথা মনে রাখা উচিৎ কোন ছাত্রের তত্ত্বাবধায়ক গবেষণায় সক্রিয় না হলে ওই ছাত্রের পক্ষে মানসম্মত গবেষণা সম্পাদন অসম্ভব। ধরুন, কোন একটি বিভাগে পাঁচজন শিক্ষক সক্রিয়ভাবে গবেষণা করেন, তাহলে ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের ওই বিভাগে অন্তত দশজন শিক্ষার্থী পেতে পারে এই গবেষণা বৃত্তি।

আমি ‘পিএইচডি’ ডিগ্রি করেছি যুক্তরাজ্যের গ্লাসগো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। গবেষণার খরচ, টিউশন ফি ইত্যাদি ছাড়াও আমাকে প্রতি মাসে দেওয়া হতো প্রায় এক লক্ষ ষাট হাজার টাকা (১২৫০ পাউন্ড)। সাড়ে তিন বছর থাকা খাওয়ার জন্য বৃত্তি হিসেবে প্রাপ্ত টাকা হিসেব করলে দাঁড়ায় প্রায় সাতষট্টি লাখ টাকা। স্ত্রী, কন্যা নিয়ে গ্লাসগো শহরে বাস করেছি এবং ডিগ্রি শেষ করে দেশে ফেরত আসার সময় কয়েক লক্ষ টাকা নিয়ে এসেছি (প্রসঙ্গক্রমে ব্যক্তিগত কথা বলার জন্য ক্ষমাপ্রার্থী)। এইবার হিসেব করুন, মাস্টার্সের দশজন ছাত্রকে একবছর মাসে বিশ হাজার করে টাকা ফেলোশিপ দেওয়া হলে সর্বমোট খরচ হবে চব্বিশ লাখ টাকা। ওই দশজন ছাত্রের মধ্যে তিনজনও যদি মাস্টার্সে ভালো মানের গবেষণা করে বিদেশে ‘পিএইচডি’ ডিগ্রি অর্জন করতে বিদেশের বৃত্তি নিয়ে যায় তাহলে ওই তিনজন শুধু থাকা খাওয়ার খরচ হিসেবে পাবে কমপক্ষে এক কোটি আশি লাখ টাকা। ‘পিএইচডি’ কালীন অবস্থায় যদি পরিবারের সদস্যদের তাদের বৃত্তির টাকার ছোট একটি অংশ উপহার হিসেবেও পাঠায় তাহলে আমাদের সরকার যে দশজনকে মাস্টার্সে চব্বিশ লাখ টাকা বৃত্তি দিয়েছিলেন ওই টাকা দেশে ফেরত চলে আসবে। একই সাথে তিনজন ছাত্রের ‘পিএইচডি’ ডিগ্রিও হয়ে যাবে। তিনজনের মধ্যে একজন ছাত্রও যদি দেশে ফেরত আসে তাহলে সরকারের বেঁচে যাবে আরও দুই কোটি টাকা। অন্তত বিজ্ঞান এবং প্রকৌশলের বিভিন্ন বিষয়ে পৃথিবী ব্যাপী কোটি কোটি পাউন্ড/ ডলারের বৃত্তি রয়েছে, উপযুক্ত লোক আবেদন করলে বৃত্তি না পাবার সম্ভাবনা শূন্য।

আর মাত্র কয়েক বছর পর আমরা মহান  স্বাধীনতার সুবর্ণ  জয়ন্তী পালন করতে যাচ্ছি। অন্তত মাস্টার্স লেভেলের রিসার্চ করানোর, ভালো মানের মাস্টার্স ডিগ্রি করানোর মতো দক্ষ শিক্ষক, গবেষক এবং সর্বোপরি অবকাঠামো আমাদের কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ে রয়েছে নিঃসন্দেহে। আমাদের দেশে গত কয়েক বছরে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়, শিক্ষা মন্ত্রণালয়, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন- ‘হেকেপ’ এর আওতায় কয়েক হাজার কোটি টাকা রিসার্চ গ্রান্ট প্রদান করা হয়েছে। এখন বিশ্ববিদ্যালয়গুলি যদি গবেষণার জন্য উপযুক্ত এবং আগ্রহি ছাত্র না পায়, তাহলে এই অবকাঠামোগত উন্নয়ন কার জন্য?

অনেক বছর ধরে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন সংস্থা থেকে মাস্টার্স, এমফিল, পিএইচডি  প্রোগ্রামের ছাত্রদের ফেলোশিপ প্রদান করা হয়। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের ফেলোশিপে মাস্টার্সের একজন ছাত্রকে এক বছরের জন্য একসাথে চুয়ান্ন হাজার টাকা  প্রদান করা হয়।  আমার ছাত্রদের দেখেছি এই টাকা পায় মাস্টার্স ডিগ্রি শেষ হওয়ার মুহূর্তে। পুরো সময়টি আর্থিক টানাপোড়েনের মাঝে বাস করে ডিগ্রি শেষ করার পর্যায়ে একসাথে এই ফেলোশিপের টাকা পায় বিধায় এই অর্থ গবেষণা কর্মে তেমন কোনও সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারে না। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন ছাত্রের সাথে আলাপ করে নিশ্চিত হলাম যে গবেষণা চলাকালীন ফেলোশিপের টাকাটি না পাওয়াতে গবেষণা কার্যক্রম ব্যাহত হয় এবং যে উদ্দেশ্যে এই গবেষণা সহায়তা গ্রান্ট প্রদান করা হয় তা অপূর্ণ থেকে যায়।

আমার প্রস্তাব হচ্ছে এই বৃত্তি আরো সুপরিকল্পিতভাবে দেওয়া হোক। এক বছরের ফেলোশিপ একসাথে  না দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের মাধ্যমে মাস্টার্সের ছাত্রকে  মাসে মাসে অন্তত বিশ হাজার করে টাকা ফেলোশিপ দেওয়া হোক। সরকারের বিভিন্ন সংস্থা থেকে ফেলোশিপ  না দিয়ে পরিকল্পিতভাবে একটি সংস্থা থেকে দেওয়া হোক, অথবা বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সমন্বয় সাধন করে এই ফেলোশিপ দেওয়া হোক। বর্তমানে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় থেকে বিভিন্ন গবেষণা ক্ষেত্রে ফেলোশিপ দেওয়ার জন্য  কয়েকটি অনুমোদিত কমিটি রয়েছে। এই সকল কমিটি কয়েক মিনিটের একটি মৌখিক পরীক্ষা নিয়ে ফেলোশিপের জন্য গবেষকদের নাম প্রস্তাব করেন। আমি মনে করি, এইভাবে মৌখিক পরীক্ষা না নিয়ে অনার্সের ফলাফলের  ভিত্তিতে মাস্টার্সের ফেলোশিপ দেওয়া উচিৎ। এতে করে একজন ছাত্র আগে থেকেই একটি সুস্থ প্রতিযোগিতায় অবতীর্ণ হবে এবং স্বভাবতই অনার্স লেভেলে ভালোভাবে পড়াশুনায় উৎসাহী হবে। রাজশাহী কিংবা চট্টগ্রাম থেকে একজন ছাত্রকে কয়েক মিনিটের একটি মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নিতে ঢাকা আসতে হয়, ফেলোশিপ পেলে চেক নেওয়ার জন্য আবার ঢাকা আসতে হয়, এটি কতটা যুক্তিযুক্ত? আর ফেলোশিপ না পেলে একজন ছাত্রের আসা যাওয়া এবং ঢাকায় একদিন থাকা খাওয়ার খরচটুকু দয়া করে যেন একটু চিন্তা করি ! আমি মনে করি, যে সকল কমিটি ফেলোশিপের জন্য ছাত্র নির্বাচন করেন ওই একই কমিটি বিগত কয়েক বছরের তথ্য উপাত্ত বিশ্লেষণ করে একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের কোন বিভাগে কতটি ফেলোশিপ দেওয়া যেতে পারে  তা প্রস্তাব করতে পারেন।  অন্তত আগামী দুই বছর সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের কোন বিভাগের কতজন ছাত্র মাস্টার্স লেভেলে ফেলোশিপ পেতে পারে তা নির্ধারণ করা খুব কঠিন কাজ নয়।

দুই বছর পরে এই সংখ্যা পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন করা যেতে পারে। এভাবেই আবেদনকারী গবেষকদের মধ্য থেকে অনার্সের ফলাফলের  ভিত্তিতে মাস্টার্সের ফেলো নির্বাচন করা হবে।  যারা মাস্টার্স লেভেলে গবেষণায় যথেষ্ট দক্ষতার স্বাক্ষর রাখবে তারা ‘মাস্টার্স লিডিং টু পিএইচডি’ ডিগ্রির জন্য বিবেচিত হবে। দেশ বিদেশের বর্তমান অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপট চিন্তা করে ‘পিএইচডি’ চলাকালীন অবস্থায় একজন ছাত্রকে মাসে অন্তত পঞ্চাশ হাজার টাকা দেওয়া যুক্তিযুক্ত হবে বলে আমার বিশ্বাস।

পরিশেষে, খুব অল্প কথায় আমার প্রস্তাবগুলি হচ্ছে:

(ক) দেড় বছর মেয়াদী রিসার্চ বেইজড মাস্টার্স  ডিগ্রি চালু করা হোক, (খ) ‘এম ফিল’ ডিগ্রি প্রোগ্রাম লিখিত ভাবে বিলুপ্ত সম্ভব না হলেও পুরোপুরি নিরুৎসাহিত করা হোক, (গ) মাস্টার্স লেভেলের একজন ছাত্রকে সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের মাধ্যমে কমপক্ষে এক বছর মাসে মাসে বিশ হাজার টাকা ফেলোশিপ দেওয়া হোক, (ঘ) ফেলোশিপ দেওয়ার জন্য শুধুমাত্র অনার্সের ফলাফল বিবেচনা করা হোক, (ঙ) মাস্টার্স লেভেলে যারা গবেষণায় মেধা এবং দক্ষতার প্রমাণ দিবে তাদেরকে ‘মাস্টার্স লিডিং টু  পিএইচডি’ ডিগ্রি করার সুযোগ দেওয়া হোক, (চ) ‘পিএইচডি’ চলাকালীন অবস্থায় একজন ছাত্রকে বছর শেষে সন্তোষজনক রিপোর্ট দিতে হবে এই শর্ত সাপেক্ষে অন্তত সাড়ে তিন বছর মাসে মাসে পঞ্চাশ হাজার টাকা  ফেলোশিপ দেওয়া হোক।

আপনার সন্তান, আমার সন্তান, কিংবা তাহার সন্তান পড়াশুনা শেষ করে প্রশাসক, শিক্ষক, বিচারক, রাজনীতিবিদ কী হবে তা আমরা কেউ জানিনা। তবে যা নিশ্চিত করে জানি, তা হলো আমাদের সন্তানদের এই শতকের উপযোগী, পরিশ্রমী, দক্ষ, বুদ্ধিদীপ্ত মানব সম্পদ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য ফেলোশিপ দেওয়ার নীতিমালায় প্রয়োজনীয় পরিবর্তনের উদ্দেশ্যে কার্যকরী এবং সময় উপযোগী পদক্ষেপ গ্রহণ করার জন্য এতদ-সংশ্লিষ্ট সকলকে অনুরোধ করছি।

ছবি: ন্যানোটেকনোলজি রিসার্চ ল্যাবরেটরি, বুয়েট

১৬ Comments (Open | Close)

১৬ Comments To "গবেষণা ফেলোশিপ: একটি প্রস্তাবনা"

#১ Comment By Alamin On ফেব্রুয়ারি ২৮, ২০১৯ @ ৮:৩০ অপরাহ্ণ

এমফিল নামক এ উদ্ভট ডিগ্রীর ব্যবসায়ী ছিল প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় সমূহের রিলেটেড সাবজেক্ট গুলো। এখানকার শিক্ষকদের কেবল প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের পড়ানো হয়। কোর্স লোড কম হওয়ায় শিক্ষকদের অফুরন্ত সময় ছিল। তখন ক্ষেপ মারার জন্য প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি ছিল না। তাই তারা টুকিটাকি রিসার্চ করার জন্য বিজ্ঞাপন দিয়ে ছাত্র খুঁজতো। কলেজের শিক্ষকেরা ও ঢাকার বাহিরে বিশ্ববিদ্যালয় সমূহের শিক্ষার্থীরা বুয়েটের হলে থাকার সুবিধা নিয়ে ঢাকায় চাকুরী খোঁজার জন্য এমফিল নামক বিসদৃশ কোর্সে ভর্তি হতো আর এদার কা মাল ওদার করার কাজ করতো। এখন যেহেতু বুয়েটে রিসার্চ বেইজ মাস্টার্স চালু হয়েছে আশাকরি আপনাদের শিক্ষার্থীর অভাব হবে না। দেরীতে হলেও বিষয়টি উপলব্দি করার জন্য লেখকে ধন্যবাদ।

#২ Comment By Mohammed Basith On মার্চ ১, ২০১৯ @ ৩:৪৫ অপরাহ্ণ

জনাব আলামিন,
কষ্ট করে আমার আর্টিকেলটি পড়ার জন্য এবং মন্তব্য করার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ। আপনি জানেন কি না দুই যুগ আগে প্রকৌশল এবং স্থাপত্য বিষয় ছাড়া বাংলাদেশে প্রায় সব বিষয় অনার্স তিন বছরের এবং মাস্টার্স এক বছরের ছিল। তখন রিসার্চ বেইজড মাস্টার্স ডিগ্রী বলতে এম ফিল ছিল। তাই সংগত কারনেই বুয়েটে অনেক ভালো ছাত্র ফিজিক্স, কেমিস্ট্রি এবং গণিতে এম ফিল করার জন্য আসতো। এখন অনার্স চার বছরের আর মাস্টার্স এক বছরের (কোথাও কোথাও দেড় বছরের) হওয়াতে ভালো ছাত্ররা আর এম ফিল করতে আসে না। তাই আমি এম ফিল ডিগ্রী কে নিরুৎসাহিত করতে বলেছি।
আপনি জানেন কোন কিছুই এক দিনে গড়ে উঠে না। দুই তিন যুগ পূর্বে গবেষণার জন্য কোনও ফান্ড ছিল না, দেশে ভালো মানের কোনও যন্ত্রপাতি ছিল না, জার্নাল ছিল না, নিয়মিত কনফারেন্স, সেমিনার সিম্পজিয়াম অনুষ্ঠিত হতো না- সেই সময়ে আমাদের সিনিয়র সহকর্মীগন কিছু একটা শুরু করেছিলেন। ওই শুরুটা খুব দরকার ছিল। তাঁরা শুরু করেছিলেন বলেই আজকে আমরা অনেক উন্নতমানের ল্যব তৈরি করতে পেরেছি, যেখানে গবেষণা করে ছাত্ররা বিশ্ব বিখ্যাত জার্নালে প্রকাশ করছে, আমাদের দেশের সুনাম বৃদ্ধি পাচ্ছে, ছাত্ররা উপকৃত হচ্ছে।
আর রিলেটেড সাবজেক্ট বলতে আপনি কি বুঝাতে চেয়েছেন জানি না। আন্ডার-গ্র্যাজুয়েট নেই এটাই মনে হয়। আপনি হয়তো জানেন, দেশে নতুন অনেক বিশ্ববিদ্যালয় হয়েছে। প্রায় সব বিশ্ববিদ্যালয় এবং বড় বড় কলেজে ফিজিক্সে অনার্স পড়ানো হয়। পোস্ট-গ্র্যাজুয়েট এর জন্য আসলে ঢাকার বাইরে বিশেষ করে নতুন বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে তেমন সুযোগ সুবিধা নেই। তাই বুয়েটে পোস্ট-গ্র্যাজুয়েট রিচ হলে সারা দেশের ছাত্ররা উপকৃত হবে। আর আমরা ওই চেষ্টাই করছি। আপনিতো জানেনই জীবনের শেষ মুহূর্তে আমাদের একমাত্র হিসাব হবে সমাজে, রাষ্ট্রে কতটুকু ভেল্যু অ্যাড করতে পারলাম। দোয়া রাখবেন যেন কিছু অ্যাড করতে পারি। ভালো থাকবেন সব সময়।

#৩ Comment By Momin On ফেব্রুয়ারি ২৮, ২০১৯ @ ৮:৫৯ অপরাহ্ণ

স্যার, এই ফেলোশিপ চাকুরীজীবীদের জন্য শিক্ষার্থীদের জন্য নয়। শিক্ষার্থীরা কি মাস্টার্স ও পিএইচডি গবেষণা করার পর বিসিএস পরীক্ষা দিবে?

#৪ Comment By Mohammed Basith On মার্চ ১, ২০১৯ @ ৩:৫২ অপরাহ্ণ

শেষ বাক্যটি আবার লিখলাম, “আপনার সন্তান, আমার সন্তান, কিংবা তাহার সন্তান পড়াশুনা শেষ করে প্রশাসক, শিক্ষক, বিচারক, রাজনীতিবিদ কী হবে তা আমরা কেউ জানিনা।” ভালো থাকবেন।

#৫ Comment By জয় On মার্চ ১, ২০১৯ @ ২:৩৭ পূর্বাহ্ণ

স্যার, গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় নিয়ে আলোচনার জন্য অনেক ধন্যবাদ। কিন্তু এম এস NST বৃত্তির জন্য Graduation level এর result থেকে HSC result কে বেশি গুরুত্ব দেওয়াটা কতটা যুক্তিসংগত? HSC result একটু খারাপ কিন্তু Graduation level এর result ভাল এবং গবেষণার অভিঞ্জতা রয়েছে তাও কি সে NST বৃত্তি পাওয়ার অযোগ্য হয়ে থাকবে?

#৬ Comment By Mohammed Basith On মার্চ ১, ২০১৯ @ ৬:৪২ অপরাহ্ণ

ধন্যবাদ। মাস্টার্সে ফেলোশিপ প্রদানের জন্য শুধু অনার্সের রেজাল্ট বিবেচনায় নেয়ার জন্য সুপারিশ করেছি।

#৭ Comment By Mohammed Basith On মার্চ ১, ২০১৯ @ ১০:১৮ অপরাহ্ণ

ধন্যবাদ। আমি মাস্টার্সের ফেলোশিপের জন্য অনার্সের ফলাফল বিবেচনা করার জন্য সুপারিশ করছি।

#৮ Comment By Rakib On মার্চ ১, ২০১৯ @ ৭:৪১ পূর্বাহ্ণ

লেখকের এ পর্যন্ত যে কয়টি লেখা দেখলাম সবগুলো আত্মকথন। পৃথিবীতে আমি আর মামুরা ছাড়া কেউ নেই।

#৯ Comment By Sajjad Hasan On মার্চ ১, ২০১৯ @ ৭:০১ অপরাহ্ণ

জনাব রাকিব, লেখক একজন অধ্যাপক এবং গবেষক। সমস্যার ভেতর থেকে যে সমস্যা অনুধাবন করেন তাই নিয়ে লিখেন। এইখানে আত্মকথা আসতেই পারে।

#১০ Comment By Mohammed Basith On মার্চ ১, ২০১৯ @ ১১:৫২ অপরাহ্ণ

আমি কোন লেখক না। ছাত্রদের সাথে একটু কাজকর্ম করি, বিভিন্ন সময় কিছু সমস্যা মোকাবেলা করি, তখন মনে হয় এই কাজটি এইভাবে না হয়ে ওইভাবে হলে ভালো হতো। এইগুলো মাঝে মাঝে লিখে ফেলি। তাই হাবি ঝাবি যা লিখি তা অনেকটা আত্মজীবনী বলতে পারেন।

#১১ Comment By Mohammed Basith On মার্চ ১, ২০১৯ @ ১১:৫৫ অপরাহ্ণ

রাকিব সাহেব। আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ কষ্ট করে আমার লেখাগুলো পড়ার জন্য।

#১২ Comment By মাসউদুল কাদির On মার্চ ১, ২০১৯ @ ৯:৪৮ অপরাহ্ণ

সুন্দর ও দারুণ গবেষণা। ভাবনীয় বিষয়। আমাদের চোখ বন্ধ করে রাখার কোনো সুযোগ নেই

#১৩ Comment By Ayub On মার্চ ২, ২০১৯ @ ১২:২০ অপরাহ্ণ

Many thanks

#১৪ Comment By Muhammad Kamrul Islam On মার্চ ৩, ২০১৯ @ ১০:৫৫ পূর্বাহ্ণ

Through real and reality are not same for everyone….. Thank you dear Sir for your nice opinion.

#১৫ Comment By শ. জামান On মার্চ ৩, ২০১৯ @ ৩:৫৭ অপরাহ্ণ

আপনার সুচিন্তিত প্রস্তাবনার জন্য ধন্যবাদ। আপনি ঠিকই বলেছেন ”কোন কিছুই এক দিনে গড়ে উঠে না। দুই তিন যুগ পূর্বে গবেষণার জন্য কোনও ফান্ড ছিল না, দেশে ভালো মানের কোনও যন্ত্রপাতি ছিল না, জার্নাল ছিল না, নিয়মিত কনফারেন্স, সেমিনার সিম্পজিয়াম অনুষ্ঠিত হতো না- সেই সময়ে আমাদের সিনিয়র সহকর্মীগন কিছু একটা শুরু করেছিলেন। ওই শুরুটা খুব দরকার ছিল। তাঁরা শুরু করেছিলেন বলেই আজকে আমরা অনেক উন্নতমানের ল্যব তৈরি করতে পেরেছি, যেখানে গবেষণা করে ছাত্ররা বিশ্ব বিখ্যাত জার্নালে প্রকাশ করছে, আমাদের দেশের সুনাম বৃদ্ধি পাচ্ছে, ছাত্ররা উপকৃত হচ্ছে।” বলতেগেলে আমাদের সময় আমরা গবেষণার কোন সুযোগই পাইনি। কোন প্রকার গবেষণা হয় না বিধায় আমদের দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গুলো বিশ্ব রাঙ্কিঙ্গের নিচে অবস্থান করে। ভাল কিছুর জন্য কাউকে না কাউকে লেগে থাকতে হয়, আপনি যেহেতু শুরু করেছেন অতএব চালিয়ে যান, আপনার জীবদ্দশায় আপনি ফলাফল দেখে যেতে পারবেন এটা আশা না করেই।

#১৬ Comment By আমিত কুমার বসুনীয়া On মার্চ ৩, ২০১৯ @ ৭:১৪ অপরাহ্ণ

“উপযুক্ত সুযোগ-সুবিধা, পরিবেশ এবং সহযোগিতা” এই কয়টি শব্দের ভিতরে অনেক স্বপ্ন ও সম্ভাবনা লুকিয়ে রয়েছে। আমি একজন মাস্টার্স ফেলো। স্বনামধন্য একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে দেড় বছর মেয়াদী মাস্টার্স করছি। বর্তমানে আমার থিসিস সেমিস্টার চলছে। পুরো আর্টিকেল পড়ে আমার বন্ধুবান্ধব ও সিনিয়র জুনিয়র ব্যচের মাঝে প্রতিনিয়ত যেসকল আলাপচারিতা চলে তার সুন্দর করে লিপিবদ্ধ করা হয়েছে মনে হল। আমি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ফেলোশীপ পেয়েছি, চেক পাইনি এখনো। এদিকে আমার থিসিস সেমিস্টার শেষ এর পথে। একটি মান সম্মত রিসার্চ এবং পাবলিকেশন অনেকের স্বপ্ন থাকে। অনেক স্বপ্ন নিয়ে একজন তরুণ গবেষক তার প্রপোজাল লিখেন, বাস্তবে একটি প্রযুক্তি আবিষ্কারের দ্বাড় প্রান্তে এসে থেমে যাচ্ছে। সকল প্রস্তাবনা সময় ও অর্থের অভাবে সঠিক ভাবে প্রকাশিত হতে পারছে না। অনেক তরুণ গবেষক এর উচ্চতর শিক্ষার স্বপ্ন শেষ হয়ে যেতে দেখছি প্রতিনিয়ত। উল্লেক্ষিত প্রস্তাবণা গুলোর সাথে আমিও একমত। তবে ফেলোর সংখ্যাটা বাড়ানো উচিৎ, কোর্সের শুরুতেই বরাদ্দ দেওয়া, বৃত্তি-ভাতা নিশ্চিত হওয়া গেলে অবশ্যই আরো বেশী সংখ্যক প্রযুক্তি তৈরি সম্ভব।

বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া কেউই মাস্টার্স ডিগ্রী হাত ছাড়া করতে চায়না। আবার যারা একবার গবেষণা কার্যক্রমে মনোনিবেশ করেন তাদের সুপ্ত বাসনা থাকে পি এইচ ডি ডিগ্রীর জন্য। কিন্তু কজনার কপালে তা জুটছে বলুন। অনার্স- মাস্টার্স- পি এইচ ডি- বিদেশী বিশ্ববিদ্যালয়ে ডিগ্রী অর্জন এর সু্যোগ সব কিছুর মাঝে একটা মিলবন্ধন দরকার। একমুখী সিস্টেম চালু হওয়া দরকার। তদারকিতে দরকার এমন মানুষের যিনি নিজে গবেষণা করেছেন এনং বোঝেন গবেষণা আসলে কি, কমপক্ষে সাইন্স ব্যগগ্রাউন্ড এর লোকজন থাকতে হবে সাইন্টিফিক গবেষণা কার্যক্রমের পর্যালোচনার জন্য।

দেশে ৩ সেমিস্টার মেয়াদী থিসিস যুক্ত মাস্টার্ট ডিগ্রী প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান অনেক, সেখান থেকে ডিগ্রী পাচ্ছে প্রতিবছর এমন সংখ্যাও নিতান্ত কম নয়। আগামী ৫ বছরে এ হার দ্বিগুণ হবে এবিষয়ে সন্দেহ নেই। স্বায়ত্ব স্বাসিত হওয়ায় প্রতিটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় নিজ নীতির বাইরে যেতে চায়না। কিন্তু সময় এসেছে ট্রেডিশন পাল্টে এক ও অভিন্ন সিস্টেমে গবেষণা কার্যক্রম এর জন্য নিয়মনীতি অনুসরণ করার। হয়তো তা করতে পারে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কনিশন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়, বা অন্য কোন প্রতিষ্ঠান। তবে গতানুগতিক ধারা থেকে অনেক বেশী উন্নতি এসকল ক্ষেত্রে দেখ যাচ্ছে, দরকার সেই সব গুলো অগ্রগতির সমন্বয়। সাথে সাথে নিদির্ষ্ট কিছু প্রতিষ্ঠানের প্রতি বিশেষ নজরের পাশাপাশি অন্যান্য গুলোর প্রতি দৃষ্টিপাতহীনতা কে দূরিভুত করা। তরুণ গবেষকদের তত্ত্বাবধান করবেন যারা তাদের সংখ্যাগত ও গুণগত মান বৃদ্ধি করার কথা ভুলে গেলে চলবে না। সুন্দর আগামির জন্য ভবিষ্যত পরিকল্পনা গুলো বৃদ্ধিপাক, আলোচনা হোক আরও বেশী বেশী।