“কাশ্মীরের আকাশে জঙ্গি বিমানের লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে দক্ষিণ এশিয়ার পরমাণু শক্তিধর দুই প্রতিবেশী ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে যুদ্ধের দামামা বেজে উঠেছে… দুই দেশই পরষ্পরের জঙ্গি বিমান ভূপাতিত করার পাল্টাপাল্টি দাবি করেছে… পাকিস্তান দাবি করেছে, বুধবার সকালে কাশ্মীরে তাদের নিয়ন্ত্রিত অংশে ভারতীয় দুটো মিগ-২১ জঙ্গি বিমানকে গুলি করে ভূপাতিত করেছে তারা। আটক করা হয়েছে ভারতীয় বিমানবাহিনীর এক বৈমানিককে।  অন্যদিকে ভারতের দাবি, তাদের আকাশসীমায় প্রবেশ করা একটি পাকিস্তানি এফ-১৬ জেট ফাইটারকে গুলি করে ভূপাতিত করেছে ভারতীয় বিমানবাহিনী… ওই আকাশযুদ্ধে ভারতীয় বিমানবাহিনীর একটি মিগ-২১ এবং পাইলট নিখোঁজ হয়েছে।  এই পরিস্থিতিতে পাকিস্তান তাদের পুরো আকাশসীমায় বিমান চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে। ভারতও তাদের উত্তরাংশের নয়টি বিমানবন্দর বন্ধ রেখেছে” ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম।

পরমাণু শক্তিধর দুদেশের মধ্যে টানটান উত্তেজনা বিরাজমান। দ্রুত ঘটছে ঘটনা, সারা বিশ্বের দৃষ্টি এর ওপরে নিবদ্ধ, এ নিবন্ধ ছাপা হবার আগে নিশ্চয় ঝিলাম, বিয়াস, চেনাব, রাভী ও শতলেজ দিয়ে অনেক পানি গড়িয়ে যাবে। এই সামরিক রাজনৈতিক ডামাডোলের পেছনে পাকিস্তানে অলক্ষ্যে শক্তিশালীভাবে দাঁড়িয়ে আছে একটি হাদিস যা প্রথম থেকেই পাকিস্তানিদের মন-মগজ সম্পূর্ণভাবে গ্রাস করে রেখেছে।   সেটার নাম “গাজোয়া-এ হিন্দ” অর্থাৎ হিন্দুস্তান বিজয়ের জিহাদ যাতে স্বয়ং নবীজী (স) নেতৃত্ব দেবেন (তার সশরীরে উপস্থিত থেকে যে জিহাদ তাকে গাজোয়া বলে)।  পাকিস্তানিরা এমনিতেই প্রচণ্ড ভারত-বিরোধী।  তার ওপরে মাওলানারা যখন ওয়াজ মাহফিলে মহা উত্তেজিতভাবে এই হাদিস জাতিকে শোনান তখন ঘৃণার সে আগুনে ঝড়ো হাওয়া বয়ে  জাতি আরো বেশি ভারত-বিদ্বেষে ফেটে পড়ে।

“গাজোয়া-এ হিন্দ” হাদিসটা সহি বুখারী, মুসলিম, আবু দাউদ, তিরমিজি ও ইবনে মাজাহ-তে পাওয়া যায়না।  বিভিন্ন নিবন্ধে ওটার উল্লেখ আছে নাসাঈ (আমার নাসাঈ-তে ওটা আমি পাইনি) ও অন্যান্য বইতে ৫টি হাদিসে, একটার অনুবাদ দিচ্ছি। রসূল (স) নাকি বলেছেন –

“অবশ্যই তোমাদের একটি সৈন্যবাহিনী হিন্দুস্তানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করিবে, আল্লাহ তাহাদিগকে বিজয় দান করিবেন এবং তাহারা উহাদের রাজাদিগকে শিকলে বাঁধিয়া টানাহ্যাঁচড়া করিয়া আনিবে…এবং সেই মুসলিমেরা ফিরিয়া আসিয়া শাম দেশে (সিরিয়া) হযরত ঈসা ইবনে মরিয়মকে দেখিতে পাইবে”।

এর ভিত্তিতেই পাকিস্তানি মওলানারা দৃঢ়ভাবে ভারত- বিজয়কে  অভ্রান্ত ও অবশ্যম্ভাবী সত্য হিসেবে বিশ্বাস করেন ও জাতিকে বিশ্বাস করান, ওদের সেনাবাহিনীও দৃঢ়ভাবে এ হাদিস বিশ্বাস করে।  পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর ওয়েবসাইটে দেখলাম ইংরেজী অনুবাদের সাথে হাদিসগুলোর আরবী স্ক্যান দেয়া আছে।  সেই সাথে কোরান হাদিসের সুগভীর গবেষণা (‘কা’না যাহুকা’ শব্দ, সূরা বনি ইসরাইল আয়াত ৮১, ইমাম মেহেদী, হযরত ঈসা আ: ইত্যাদি) ও পশ্চিমা বই “সিনারিওজ অব দ্য ফিউচার টেকনোলজি অ্যাণ্ড ইন্টারন্যাশন্যাল ডেভেলপমেন্ট” (রকফেলার ফাউণ্ডেশন)-এর উল্লেখ করে বলা আছে যে এই বিজয় হবে ২০২৭ – ২০২৮ সালে।

আরো একধাপ এগিয়ে সেখানকার এক মেগা মওলানা ইরফানুল হক বলেছেন,  “আল্লাহ পাকিস্তানি মুসলিমকে ভারত ও কাফিরকে ধ্বংস করার সম্মান দিয়াছেন… পাকিস্তানিদের উচিত নিজেদেরকে সম্মানিত বোধ করা কারণ আল্লাহ তাহাদিগকে ভারতের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার সম্মান দিয়াছেন……. ভবিষ্যদ্বাণী আছে যে মুসলিমের হাতে ভারত ও হিন্দুত্বের পরাজয়ের জন্যই পাকিস্তানের জন্ম হইয়াছে “।

তার এই ভয়াবহ উস্কানিমূলক হিংস্র বক্তৃতাটা সম্প্রতি ইউটিউব থেকে মুছে দেয়া হয়েছে।

পাকিস্তানে এই হুংকারের বিপরীতে ঠিক পাশের দেশ ভারতের মওলানাদের অবস্থান বড়ই লবেজান। তারা জাতির সামনে এ হাদিস কখনো উল্লেখ করেন না। কারণ ভারতে পাকিস্তানের মতো কথাবার্তা বললে হিন্দুরা, বিশেষ করে উগ্র হিন্দুরা তাদেরকে পিটিয়ে তক্তা করে দেবে। ভারতীয় টিভিতে অনেকবার দেখেছি কেউ এ হাদিস নিয়ে প্রশ্ন করলে তারা স্রেফ কথা পেঁচিয়ে পিছলিয়ে যান কিংবা “হিন্দু-মুসলিমের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা বাধানোর ষড়যন্ত্র হচ্ছে” বলে গালাগালি শুরু করেন।  দিল্লী জামে মসজিদের ইমাম সৈয়দ বুখারী কিংবা কলকাতার টিপু সুলতান মসজিদের ইমাম নুরুর রহমান বরকতী এর মতো নামকরা মওলানাদের সাধারণ বক্তব্য হলো, কোনও রকম হিংস্রতা বা হিন্দুদেরকে কাফের বলাটা কোরান-সমর্থিত নয়।  যখন এই হাদিসটা তাদের দেখানো হয় তখন তারা বলেন- এটা ইসলামী নয়, ‘ব্যাস’।   কিন্তু ভারতের কোনো মওলানাকে পাকিস্তানের মওলানাদের নাম ধরে কিংবা কোনও বিশেষ বক্তৃতা উল্লেখ করে দাবী করতে শুনিনি এটা একটা জাল হাদিস।

এই উপমহাদেশে প্রথম থেকেই অন্য সব দেশের ঘাড়ে ভারত ‘বড় ভাই’ হয়ে বসে আছে। এবং সেটা মোটেই স্নেহময় কোনও বড়ভাই নয়, সেটা একটা মারাত্মক স্বার্থপর এবং হিংস্র বড়ভাই।  আপাতত আমাদের সেটা রাজনীতি দিয়ে সামলানো ছাড়া উপায় নেই।  ওদিকে ভারতের পরাক্রান্ত সামরিক শক্তির সামনে পাকিস্তানের সেনাবাহিনী কিছুই নয়।  দেশটা প্রায় সর্বদাই হয় আর্মির বুটের নিচে বা আর্মি সমর্থিত ছায়া সরকার দ্বারা শাসিত।  তাছাড়া মুখে যত ফুটানি-ই করুক চারবার ভারতের কাছে আর একাত্তরে আমাদের কাছে পরাজয়ের কলঙ্কতিলক তাদের সেনাবাহিনীর ললাটে রক্তাক্ত হয়ে ফুটে আছে, ফলে তাদের মনোবলও ভাঙা।   গরীব পাকিস্তানের বাক্যনবাব সেনাবাহিনী এ ছাড়া আর কিছুই করতে পারেনি:

জনতা ঘোরায় পরিশ্রমে অর্থনীতির চাকা,

ওদের শুধু লেফট-রাইট আর মুখের বুলি ফাঁকা।

প্রতিরক্ষা শিকেয় তুলে গদির লোভে ক্রমে,

নিজেরই দেশ জয় করে সে বিপুল বিক্রমে !

আহার-বিহার, পোশাক-বাড়ী খাচ্ছে মুফৎ সব,

গরীব জাতির রক্তমাংসে ওদের মহোৎসব।

খায় যত তার কোনো কিছুই দেয়না ফেরৎ তো,

নিরস্ত্র জনতার ওপর ওদের বীরত্ব !!

 

পাক-ভারতের বিস্ফোরক সামরিক পরিস্থিতিতে পাকিস্তানে হুংকারী মওলানারা আবারো “গাজোয়া-এ হিন্দ” নিয়ে দাপাদাপি করছে, জনগণকে উস্কিয়ে ভারত-বিজয়ের অবাস্তব স্বপ্নে ভোলাচ্ছে।  কিন্তু প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান তাদের গায়ে এখন হাত দেবেন বলে মনে হয়না।  কারণ মাত্র কিছুদিন আগে তিনি আসিয়া বিবি মামলায় “তেহরিক-এ লাব্বায়েক” দলের বিকট হিংস্র মওলানাদের জেলে ঢুকিয়েছেন, এখন তিনি আর কোনও মওলানাকে ঘাঁটাবেন বলে মনে হয়না।  এই থিন রেড লাইন থেকে  আমাদের রাজনীতিকদের কি শেখার আছে?

প্রবাদ থেকে শেখার আছে কারণ সব দেশের প্রবাদগুলো আমাদের পূর্বপুরুষদের অনেক জ্ঞান ও প্রজ্ঞার ফসল।  সেটা হলো, ধর্মগুরুদেরকে রাজনৈতিকভাবে শক্তিশালী করাটা “বাঘের পিঠে সওয়ার” হবার মতো।  সওয়ার হওয়াটা হয়ত সোজা ও স্বার্থসিদ্ধি করতে পারে, কিন্তু ওই বাঘের পিঠ থেকে নামা যায়না, নামলেই সেই বাঘ তোমাকেই খেয়ে ফেলবে।

ইতিহাস আমাদের কানে কানে ফিসফিস করে কিছু একটা সতর্ক সংকেত শেখাচ্ছে, আমাদের রাজনীতিকেরা কি কিছুই শিখবেন না?

হাসান মাহমুদমুসলিম রিফর্ম মুভমেন্ট-এর প্রতিষ্ঠাতা সদস্য, সাংস্কৃতিক ও মানবাধিকার কর্মী, শারিয়া আইনের ওপর গবেষক, লেখক ও আন্তর্জাতিক সম্মেলনের বক্তা।

Responses -- “পাক-ভারত যুদ্ধ: হাদিস কী বলে?”

  1. Khokan Miah

    আপনি বলছেন – সুনানে আন নাসায়ীতে হাদিসটি পান নাই।
    কথাটি ভুল নাসায়ী শরিফের ৩১৭৩-৩১৭৪-৩১৭৫ নং হাদিসে হিন্দুস্তানে হিন্দু মুসলিম যুদ্ধের কথা বলা আছে।

    Reply
  2. এস এম রহমান

    আমি মনে করি ভারত কখনই কারো সাথে যুদ্ধের মত ভয়ংকর জালে জড়াবে না। কারণ শুধু কশ্মীরই নয়, ভারতের আরো কয়েকটি প্রদেশ স্বাধীনতা চেয়ে আসছে অনেকদিন আগে থেকেই। যুদ্ধ হলে ভারত ভেঙ্গে যাওয়ার সম্ভাবনা খুব বেশি। তাছাড়া ভারতের সংখ্যা লঘু সম্প্রদায়গুলো উগ্রবাদী হিন্দুদের উপর প্রচন্ডভাবে খেপে আছে। সবচেয়ে বড় কথা ক্ষমতাসীন বিজেপি নিজেদেরকে হিন্দু উগ্রবাদী রাজনৈতিক দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে জনসমর্থন হারিয়েছে। তাই তাদের থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়া জনগণের আস্থা আর্জনের মাধ্যমে পূনরায় ক্ষমতায় আসার কৌশল হচ্ছে এই যুদ্ধ যুদ্ধ খেলা—-আসলে এটা যুদ্ধ নয়। তবে সে যাই হোক দ্বন্ধ,কলহ বা যুদ্ধ কোনও সমাধান নয়।

    Reply
  3. H.M Arzue

    ইমরান খান তার দুরদর্শিতা দিয়ে মোদিকে চ্যালেঞ্জ দিলো, এখন দেখার বিষয় ধর্মান্ধতার উস্কানি দিয়ে মোদী কতটুকু ফায়দা নিতে পারে, উপরন্তু, একজন পাইলটকে হাতে পাওয়ার পরও ইমরান খান নাটকীয়ভাবে আবারও ভারতের প্রতি সংলাপের আহ্বান জানিয়ে বিশ্ব প্রচারমাধ্যমে কিছুটা সুবিধাজনক ইমেজ তৈরি করে নিয়েছেন। ভারতের বুদ্ধিজীবীদের একাংশও ইমরানের এই আহ্বানকে ইতিবাচক মনে করে টুইটারে মন্তব্য করেছেন। বাংলাদেশী হিসেবে চাওয়া এটুকুই৷

    Reply
  4. Hossain

    তাছাড়া মুখে যত ফুটানি-ই করুক চারবার ভারতের কাছে………..but I think not right information.

    Reply
  5. নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক

    ভারতে সামনে নির্বাচন। মোদির জনপ্রিয়তায় ধ্বস, কারণ ধর্ম নিয়ে রাজনীতি ছাড়া তার হাতে আর কোন অস্ত্র নাই। ১৪ ফেব্রুয়ারি কাশ্মীরে আত্মঘাতী হামলায় ৪৪ আধা সামরিক সেনা হারিয়ে জাতীয়তাবাদী উত্তেজনায় উদ্বেল হয়ে ওঠে ভারত। আরএসএস-বিজেপি পরিবার দীর্ঘদিন এই ভারতই চাইছিল। মোদি সরকার দ্রুত উত্তেজিত নাগরিক সমাজকে আকাঙ্ক্ষামতো পণ্য সরবরাহ করেছে। ১২টি যুদ্ধবিমান সীমান্ত অতিক্রম করে প্রায় ৬০ কিলোমিটার ভেতরে গিয়ে পাকিস্তাননিয়ন্ত্রিত ভূমিতে বোমা ফেলামাত্রই ভারতজুড়ে একরূপ তৃপ্তি ও স্বস্তি নেমে আসে। যদিও ২৬ ফেব্রুয়ারি যেখানে বোমা পড়েছে সেটা জাবা নামের জঙ্গলাকীর্ণ একটি গ্রাম মাত্র। সেখানে ৩৫০ জঙ্গি হত্যার দাবির পক্ষেও কোনো তথ্য-প্রমাণ মেলেনি এখনো। কিন্তু ভারতের ‘বিজয়’ উদযাপনে তাতে কমতি ছিল না। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পাকিস্তান দুটি ভারতীয় যুদ্ধবিমান ফেলে দিয়ে এ ঘটনার প্রতিউত্তর দিয়েছে। এভাবে দুই সপ্তাহের উত্তেজনা শেষে পাকিস্তান-ভারত এখন প্রায় পূর্ণাঙ্গ এক যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে। গান্ধী বিশ্বকে যুদ্ধবিরোধী দর্শন শেখাতে চাইলেও দক্ষিণ এশিয়া এবং বিশেষভাবে নিজ দেশে তিনি যে অনেকাংশে ব্যর্থ সেটাই আবারও প্রমাণিত হলো। যেকোনো দেশে জনসমাজ চরমভাবে আবেগগ্রস্ত হয়ে পড়লে কাণ্ডজ্ঞানের ব্যবহার কমে যায়। জাতীয়তাবাদী রাজনীতির জন্য এটাই মোক্ষম সময়। শান্তি, স্বস্তি ও ন্যায়বিচারের কবর রচিত হয় এতে। ভারতীয়দেরও এ মুহূর্তে এটা বোঝানো দুঃসাধ্য যে কাশ্মীরে আজাদির আন্দোলন চলছে প্রায় ৯০ বছর হলো। তাদের ৪৪ জন জওয়ান নিহত হওয়ার আগেও দশকের পর দশক ধরে সেখানে মানুষ মরছে। সৈনিক নিহত হওয়ার পর থেকে সামান্য ব্যতিক্রম ছাড়া অধিকাংশ ভারতীয় প্রচারমাধ্যম পুরো দেশকে ধর্ম ও জাতিবাদী এক উত্তেজনায় মাতিয়ে তোলে। এটা তাদের কাটতি বাড়তে সাহায্য করে। তবে চলতি যুদ্ধাবস্থার দায় অনেকটা এসব প্রচারমাধ্যমের ওপরও বর্তায়। আসন্ন লোকসভা নির্বাচনে আরএসএস-বিজেপি পরিবারের প্রচারণার পথই কেবল মসৃণ হয়েছে এতে গত দুই সপ্তাহ থেকে মনে হচ্ছিল ইমরান খান সরকার যুদ্ধাবস্থা চাইছে না। পারমাণবিক বোমা ছাড়া সামরিক সক্ষমতায় তারা ভারতের সমকক্ষ নয়। উপরন্তু, দেশটির অর্থনৈতিক অবস্থাও ভালো নেই। কিন্তু ভারতের বিমান হামলা তাদের সশস্ত্র বাহিনীর জন্য মান-মর্যাদার প্রশ্ন তৈরি করে ফেলেছে। ভারতের বিমান হামলা ছিল স্পষ্টতই পাকিস্তানের সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন। ফলে পাকিস্তানিদের আহত আবেগ যেকোনভাবে প্রতিশোধ নেওয়ার চেষ্টা করবে, এটাই স্বাভাবিক ছিল এবং ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ভাগ্য তাদের সহায় হয়েছে। তবে কোনো ধরনের বেসামরিক লক্ষ্যবস্তুতে এখনো হামলা না করে তারা পরিমিতি বোধের পরিচয় দিয়েছে। উপরন্তু, একজন পাইলটকে হাতে পাওয়ার পরও ইমরান খান নাটকীয়ভাবে আবারও ভারতের প্রতি সংলাপের আহ্বান জানিয়ে বিশ্ব প্রচারমাধ্যমে কিছুটা সুবিধাজনক ইমেজ তৈরি করে নিয়েছেন। ভারতের বুদ্ধিজীবীদের একাংশও ইমরানের এই আহ্বানকে ইতিবাচক মনে করে টুইটারে মন্তব্য করেছেন। পাকিস্তান-ভারত সম্পর্কের বর্তমান পর্যায়ে এটা ধারণা করাও কঠিন যে পাকিস্তান একদা (১৯৯০) তার দেশের সর্বোচ্চ বেসামরিক পদক ‘নিশান-ই-পাকিস্তান’-এ ভূষিত করেছিল এক ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীকে। পাকিস্তান এবং ভারতে কেউই এ মুহূর্তে মনে করছে না যে আপাতত দুই দেশের মধ্যে অতীতের সেই হৃদ্যতা আর ফিরে আসবে এবং কোনোরূপ সমঝোতা বা শান্তি আলোচনা সম্ভব। বিশেষ করে ভারতে উগ্র হিন্দুত্ববাদের যে প্রচণ্ড ঢেউ বয়ে যাচ্ছে তাতে ভারতের কোনো রাজনীতিবিদের পক্ষে আর অদূরভবিষ্যতে পাকিস্তানের সঙ্গে বন্ধুত্বের হাত প্রসারিত করার অবকাশ নেই। আবার পাকিস্তানের সামাজিক মাধ্যমগুলোতে ভারতের আহত পাইলটের ছবি যেভাবে প্রতিশোধস্পৃহার সঙ্গে ভাইরাল হচ্ছে তাতেও স্পষ্ট, উভয় দেশের মানুষ ক্রমে ক্রমে তাদের শাসকদের যুদ্ধ উন্মাদনায় শরিক হয়ে পড়ছে। এসবই দক্ষিণ এশিয়ার জন্য দীর্ঘস্থায়ী ক্ষতি।

    Reply
  6. নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক

    নরেন্দ্র মোদিকে হোয়াইটওয়াশ করছে ইমরান খান। সমস্যা হল নির্বোধরা ভদ্রতাকে দুর্বলতা মনে করে। যেমন ইমরানের প্রশংসনীয় উদ্যোগকে এখানে অনেকেই আরেক চোখে দেখা শুরু করেছে। আর একটা জিনিস নির্বোধরাই যুদ্ধ এবং হানাহানি চায়। ইন্ডিয়ার মিডিয়া যতই দেখাক এই আছে সেই আছে বাস্তবতা এখন সবাই জানে। মদি ভোটে জিততে যদি পাকিস্তানের সাথে যুদ্ধ করে তবে নিজের দেশকেই শেষ করে দিবে, হীতে বিপরীত হবে ইন্ডিয়ার। দাদারা বিষয়টা বুঝলেই হয় এখন। ইমরান খান তার দুরদর্শিতা দিয়ে মোদিকে চ্যালেঞ্জ দিয়ে দিলো, এখন দেখার বিষয় ধর্মান্ধতার উস্কানি দিয়ে মোদী কতটুকু ফায়দা নিতে পারে। এক সময়ের ধর্ম নিরপেক্ষ ভারত বিজেপির কাণ্ড কারখানায় ধর্মোন্মাদ হতে চলেছে পুরোপুরিভাবে। তাই একদিকে বাংলাদেশী খেদাও বলে মুসলমাদের টার্গেট করে আসামসহ পূর্বের রাজ্যগুলোতে সন্ত্রাসবাদ উস্কে দিচ্ছে আর অন্যদিকে কাশ্মীরে অস্থিরতা ধরে রাখছে নির্বাচনের আগে। ভারত এবং পাকিস্তান অন্তত বাংলাদেশ থেকে এই শিক্ষা নিক যে ধর্মান্ধতা দিয়ে কোনো জাতির স্থায়ী শান্তি আসতে পারে না।

    Reply
  7. রোমান

    পাকিস্তানের অতি জঙ্গি পিরিতি ও ভারতের উগ্রতা বিশেষত বিজেপির মুসলিম ও মুসলিম নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীর নিয়ে বিজেপি নেতাদের উগ্রপন্থায় আজ এই উপমহাদেশের নিরাপত্তা কে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে৷ পাকিস্তান যদি ধর্মের নামে জঙ্গিকে সাপোর্ট করে তাহলে ভারতের বিজেপি ও সেই ধর্মের নামে উগ্রদের সমর্থন করে৷ এটাই এই উপমহাদেশের মাথা ব্যাথার কারণ। তবে পরিস্থিতি বিবেচনায় কৌশলে এখনো পাকিস্তান এগিয়ে। বরং ভারত আগে আক্রমণ করতে গিয়ে তাদের বিমান হারিয়েছে, পাইলট আটক হওয়ার পর ও পাকিস্তান যে ধীর স্থিরতার পরিচয় দিছে আশা করি ভারত ও এই রকম পরিচয় দিয়ে শান্তির জন্য কাজ করে যাবে। বাংলাদেশী হিসেবে এটুকুই চাওয়া৷

    Reply

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। প্রতিক্রিয়া লেখার সময় লক্ষ্য রাখুন--

  • ১. স্বনামে বাংলায় প্রতিক্রিয়া লিখুন।
  • ২. ইংরেজিতে প্রতিক্রিয়া বা রোমান হরফে লেখা বাংলা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না।
  • ৩. প্রতিক্রিয়ায় ব্যক্তিগত আক্রমণ গৃহীত হবে না।

দরকারি ঘর গুলো চিহ্নিত করা হয়েছে—