জীবনের চূড়ান্ত পরিণতি মৃত্যু হলেও বাঙালির জন্য বরাদ্দ বুঝি ‘অপমৃত্যু’ই! কথাটাকে ঘুরিয়ে এভাবেও বলা যায়— ‘দুর্ঘটনা’য় প্রাণহানি আমাদের জাতীয় প্রাত্যহিকী; আর চকবাজার, নিমতলী বা রানা প্লাজা কিংবা তাজরীন ফ্যাশনস আমাদের চকিতে আন্তর্জাতিক ‘খ্যাতি’ এনে দেয়!

জীবননাশের রেকর্ড গড়া সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে যখন সাবেক নৌপরিবহনমন্ত্রী ও বিশিষ্ট পরিবহন শ্রমিকনেতা শাজাহান খানের নেতৃত্বে এনআরসির কমিটি হয়, তখন আমাদের ‘কপাললিখন’ আরও পোক্ত হয় বৈকি! জাতীয় সংসদেও তাই স্বাভাবিকভাবে প্রশ্ন ওঠে এর ভবিতব্য নিয়ে। মাঝখান থেকে ঘোড়ারা হাসি শিখে ফেলে!

এই পরিসরে চকবাজার জানান দিয়ে যায়, আস্তাবলই যদি না থাকে ঘোড়ার কথাই আসবে না, তাদের হাসি তো দূর অস্ত!

২.

গরিবীতে বাংলাদেশের পরিচিতি বরাবরই প্রায় একচেটিয়া, অন্তত দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে। দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়নের রেডর্ক গড়েও বিশ্ববাসীর মনোযোগ কাড়া সারা। নতুন করে শাসনব্যবস্থার দিকে আঙুল তুলে বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলাদাভাবে দাগিয়ে দেওয়ার চেষ্টাও দৃশ্যমান। তবে এই পটভূমিতে অব্যবস্থাপনার স্বর্গরাজ্য হিসেবে আমরা ‘পরিচিতি’ দাবি করতেই পারি! তেমনি পারি প্রতিকারহীন ও ‘প্রণোদনাযুক্ত’ সড়ক দুঘর্টনা নিয়ে বিশেষ ‘মেডেল’ চাইতে; যখন নেতা মোদের শাজাহান খান!

‘প্রতিকারহীন’ নয় তো কী? মহামারির আকার নেওয়া সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে এস্তেমাল করছেন ‘প্যারাসিটামল’! গরু-ছাগলের সঙ্গে মানুষের পার্থক্য নির্ণয় করার ‘বিচক্ষণতা’ যখন চালকের মাপকাঠি হিসেবে ‘স্বীকৃত’, তখন সড়ক দুর্ঘটনা রোধে সরকারের সর্বশেষ উদ্যোগে (এআরসি কমিটি গঠন) সুফল না মিলে উপায় আছে! আর আলবৎ ‘প্রণোদনা’! দিনে-দুপুরে খোদ রাজধানীতে ২০-৫০-১০০ টাকা বেশি কামাতে চূড়ান্ত ঝুঁকিপূর্ণভাবে এক বাসকে ওভারটেক করতে গিয়ে রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকা মানুষের ওপর উঠে যাবে আরেক বাস, কিন্তু এতে তেনাদের কোনও ‘অপরাধ’ হবে না; হত্যার কথা তো মুখে আনাও পাপ! বড়জোর একটু-আধটু ‘দোষ’ বলা যায়। তেনাদের ‘ইনটেনশন’ তো আর হত্যাকাণ্ড ঘটানো নয়। আর কেউ এটা না বুঝলেও শ্রমিকদরদী কিছু শ্রমিকনেতা তা বোঝেন। তাই তেনাদের কিছু বলা যাবে না। বললে গাড়ি-ঘোড়া সব বন্ধ করে দেশবাসীকে জিম্মি করার কায়দা তেনাদের বেহদ রপ্ত। তেনাদের মালিকরা আরও এক কাঠি সরেস, আর তেনাদের মাথায় তো স্নেহের হাত রয়েছেই!

এই পরিসরে— যখন চকবাজারের অগ্নিকাণ্ডের আঁচ থেকে শরীরে ক্রিয়াশীল— দুর্জনেরা বলাবলি করতেই পারেন, অপঘাত মৃত্যুকে ‘স্বাগত’ জানানোর আয়োজন কেবল সড়কে নয়, পাক্কা সবখানেই; ঘরে-বাইরে, পথে-ঘাটে, যানে-কর্মস্থলে, মাটিতে-পানিতে-বাতাসে। কীভাবে? রাস্তায় আপনার আনন্দযাত্রা হবে শেষযাত্রা। বাবার হাত থেকে সন্তান চলে যাবে বাস-ট্রাকের চাকার নিচে। আপনার ঘুমকে চিরনিদ্রা করে ছাড়বে অগ্নিকাণ্ড, রাসায়নিকের বিস্ফোরণ, ধস। কলে-কারখানায় কর্মরত শ্রমিকরা যখন তখন বেরোবেন কয়লা হয়ে। পথচলতি মানুষ আর গন্তব্য ফিরবেন না, পাড়ি দেবেন পরপারে।

এসব পাশ কাটিয়ে বেঁচে থাকবেন? জীবনের দৈর্ঘ্য কমাতে আছে ভিন্ন আয়োজন! খাদ্যে-ওষুধে-পানীয়তে বিষ। হররোজ সেই বিষ একটু একটু করে ঢুকছে শরীরে। অল্পে অল্পে কমজোরি, বিকল বা অকার্যকার হচ্ছে অঙ্গপ্রত্যঙ্গ। লাখ লাখ মানুষের শরীরে ডোজ ডোজ ঢুকছে আর্সেনিক নামের আরেক ‘বিষ’। নিঃশ্বাসে নিঃশ্বাসে নিচ্ছি বায়বীয় বিষ, দূষণ-দীর্ণ বাতাস।

ধুঁকে ধুঁকে মৃত্যুর এমন আনুষ্ঠানিক আয়োজন, জাতীয়ভাবে এমন ‘গণমৃত্যু’র এমন সুচারু বন্দোবস্ত আর কোথায় আছে! রাষ্ট্রের চোখের সামনে ভোগান্তির ‘মন্থরমৃত্যু’র এত বিপুল আয়োজনের নজির কোথায় পাওয়া যাবে!

প্রতিবছর এক সড়ক দুর্ঘর্টনাতেই বেঘোরে মারা পড়ছে ২০-২২ হাজার মানুষ। শাজাহান খানরা অবশ্য অন্যান্য দেশের তুলনা টেনে এটাকে খুবই নগণ্য সংখ্যা হিসেবে চিহ্নিত করেন। কিন্তু তাদের মাফলারে ঢাকা কানে এ কথা পৌঁছায় না যে দুর্ঘটনায় এমন ‘দায়মুক্তি’র ব্যবস্থা পৃথিবী নামক গ্রহের কোথাও নেই; তাদের ঠুলি ঢাকা চোখে এটা পড়ে না যে এমন ‘অসম্মানের’ মৃত্যু আরও কোথাও ঘটে না।

দেশের গর্ব, অর্থনীতির শিরোমণি পোশাকশিল্পসহ বিকাশমান নির্মাণশিল্প, জাহাজভাঙাসহ বিভিন্ন খাতের কলকারখানায় ফিবছর প্রাণ হারান শত শত শ্রমিক (বাংলাদেশ অকুপেশনাল সেফটি, হেলথ অ্যান্ড এনভায়রনমেন্ট ফাউন্ডেশন, ২০১৮)।

কর্তৃপক্ষের অবহেলাজনিত এসব প্রাণহানি কি ‘হত্যাকাণ্ড’ থেকে কোনও অংশে কম? যখন জানি প্রতিরক্ষাব্যবস্থা না নিলে প্রাণহানি ঘটতে পারে, তখন হাতপা গুটিয়ে রাখা কি হত্যাকাণ্ড মঞ্চস্থ করতে দেওয়া নয়? একই কথা কি প্রযোজ্য নয় চকবাজারের ক্ষেত্রেও?

নিমতলীর ঘটনার পরদিন ২০১০ সালের ৪ জুন গঠিত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কমিটি যে ১৭ দফা সুপারিশ করেছিল, এর একটিও কি প্রতিবেদনের পৃষ্ঠা থেকে বাইরে এসেছে? অথচ আরেকটি নিমতলীর পর (পড়ুন চকবাজার) বিস্ফোরক পরিদপ্তরের প্রধান বিস্ফোরক বলবেন, ‘ব্যর্থতা পুরো অস্বীকার করব না’, ডিএসসিসি মেয়র বলবেন, মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে রাসায়নিকের গুদাম সরানোর কাজ শুরু হলেও এফবিসিসিআইয়ের বাগড়ায় তা বাস্তবায়ন করা যায়নি। আর ন্যাশনাল ফায়ার কোড প্রণয়নে যুক্ত বিশেষজ্ঞ জানাবেন, ফায়ার কোড লঙ্ঘনে কখনও কারো সাজা হয়েছে বলে তার জানা নেই। অথচ চকবাজার ইত্যাদি অকুস্থলের কোথাও অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা বলতে যা বোঝায় তা ছিল না! আর পোড়া-আধপোড়া নানাবিধ রাসায়নিকের উগ্র গন্ধও যখন পোড়া মনুষ্যমাংসের তীব্রতা রোধ করতে পারছে না, সেসময়ও ব্যবসায়ীরা মানছেন না, রাসায়নিকেরই কারণেই আগুন। তাদের ভাষ্য, এর সূত্রপাত গ্যাসসিলিন্ডার বা ট্রান্সফরমার বিস্ফোরণ বা অন্যকিছু থেকে!

হায়, চকবাজারের আগুনে পোড়া মানুষেরা! তোমরা যখন আর দেহাবশেষও নয়, চেনার অযোগ্য দগ্ধ মাংসপিণ্ড কেবল, তোমাদের পরিচয় শনাক্তে যখন স্বজনদের না জানি বুকে পাথর চেপে অপেক্ষা করতে হবে আরও কতদিন, তখনও তোমাদের মৃত্যুর কারণ নির্ণয়ে ‘বাহাস’ চলে!

দায় কার? যাদের অবকাঠামো দেখার কথা, যাদের অগ্নিনির্বাপনের ব্যবস্থা দেখার কথা, যাদের রাসায়নিকের ব্যবসার অনুমোদন দেওয়ার কথা, পুলিশ, প্রশাসন, করপোরেশন ইত্যাদি ইত্যাদি, নাকি এইসব অব্যবস্থার মধ্য দিয়ে বেঁচে থাকার চেষ্টা করা সাধারণ মানুষেরই দায়? বিশেষ করে যারা অকুস্থলে উপস্থিত থেকে প্রাণ দিয়ে বেনামি হলেন! রানা প্লাজার ঘটনাতেও অনেকের জীবন শুধু কেড়ে নেওয়াই হয়নি, তাদের পরিচয়শূন্যও করা হয়েছিল। এবারও বেনামে দাফন হওয়ার জন্য মর্গে অপেক্ষমাণ লাশ। এত অসম্মানের শেষ বিদায়ের আয়োজন আর কোথায় পাওয়া যাবে!

৩.

পরিবেশ সুরক্ষায় ১৮০টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান—এনভায়রনমেন্টাল পারফরম্যান্স ইনডেক্স-২০১৮ অনুযায়ী—১৭৯! সালফারডাই-অক্সাইড বা কার্বন মনো-অক্সাইড নির্গমনে আমাদের রাজধানী ঢাকা বিশ্বের দ্বিতীয় শীর্ষে (ইউএস এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স-২০১৮)।

কোনোরকম বৈজ্ঞানিক গবেষণা বা পরীক্ষা ছাড়াই এ কথা বলার হক দেশবাসীর আছে বৈকি— রাজধানীর চারপাশের নদীগুলোসহ দেশের অনেক নদীই আজ আর খরস্রোতা নয়, দূষণস্রোতা। আর্সেনিক-ক্যাডমিয়াম-সিসার ভয়াবহ মণ্ডে পরিণত এসব নদীর পাড়ে দুদণ্ড দাঁড়ানো যায় না পর্যন্ত! বিশেষ করে যারা এসব নদীসংলগ্ন এলাকায় বাস করেন, কিম্বা যাদের প্রতিদিন নদী পারাপার করতে হয়, তারা জানেন, আমাদের নদীর নাম আজ ‘ড্রেন’; নদীগুলোকে বড় আকারের পয়োনালা, নর্দমা ছাড়া অন্য কিছু বলা কতটা দুষ্কর।

বিশ্বব্যাংকের সমীক্ষা অনুযায়ী, ঢাকায় সিসাদূষণের শিকার কমবেশি ছয় লাখ মানুষ। গ্লোবাল লিভেবিলিটি ইনডেক্সে পরপর কয়েক বছর ধরেই ঢাকা পৃথিবীর সবচেয়ে বসবাস-অনুপযোগী শহরগুলোর ‘ওস্তাদ’। ঢাকার মুকুটে আরও কত না পালক শোভিত। আন্তর্জাতিক এক জরিপে ঢাকা পৃথিবীর সপ্তম বিপজ্জনক শহর। দ্য ওয়ার্ল্ডস মোস্ট ডেঞ্জারাস মেগাসিটিস ফর উইমেন, ২০১৭ (থম্পসন রয়টার্স ফাউন্ডেশন) বলছে, যৌন সহিংসতায় বিশ্বের মধ্যে ঢাকার অবস্থান চতুর্থ। সর্বশেষ একটি সমীক্ষায় (গ্লোবাল ডেটাবেস, নাম্বিও) ঢাকা বিশ্বের সর্বাধিক যানজটের শহরের ‘মর্যাদা’ লাভ করেছে। অর্থাৎ মানুষের কর্মক্ষমতা, উদ্যম শুষে নেওয়ার ব্যবস্থা পাক্কা। সময় নষ্ট, অর্থের অপচয় তো আছেই। পাশাপাশি ঘণ্টার ঘণ্টা অকারণে গাড়িগুলোর জ্বালানি পুড়ে বারোটা বাজছে পরিবেশেরও।

আর অবকাঠামোগত ঝুঁকি? তা বোঝার জন্য বিশেষজ্ঞ হওয়ার দরকার নেই, খোলা চোখে ঢাকা শহরটাকে একটু ভালোভাবে দেখলেই বোঝা যায়। যদিও নতুন গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী কদিন আগে নিজেই জানিয়েছেন, ঢাকার ৬৫ ভাগ ভবনই ঝুঁকিপূর্ণ।

৪.

জাতীয় সংসদে ওঠা শাহাজান খানের নামের সঙ্গে আরেকজনকেও এখানে স্মর্তব্য। তিনি সদ্য সাবেক সংসদ সদস্য বদিউর রহমান বদি। জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য ফখরুল ইমাম আমজনতার মনে ঘুরপাক খাওয়া প্রশ্নটিই পেড়েছেন সংসদে: ‘বদিকে দিয়ে মাদক নিয়ন্ত্রণ আর শাজাহান খানকে দিয়ে সড়ক কন্ট্রোল কতটা সম্ভব?’

মাদকের ভয়াবহতা নিয়ে দ্বিমত যেমন নেই কারো, তেমনি তরুণদের জীবন্মৃত করার অমোঘ দাওয়াই মাদক নিয়ন্ত্রণে বদি সাহেবদের সম্পৃক্ততাও যে ঘোড়ার হাসির কারণ হবে, তা নিয়েও সম্ভবত মতভেদ নেই কারো (অবশ্য যদি আস্তাবল টিকে থাকে!)। পুলিশ-প্রশাসন-আইন সব আছে, তবু মাদক সবখানে। দেশের সবচেয়ে উজ্জ্বল সম্ভাবনাময় তরুণেরা এর ফাঁদে পড়ে দিশা হারাচ্ছেন। প্রাণবিক আয়টুকু নিয়ে বেঁচে থাকছেন তারা; এই বেঁচে থাকা কি ‘অপমৃত্যু’ নয়? এতেও যদি দ্বিমত করেন, তাহলে বলুন, এই অবস্থা মৃত্যু থেকে কম কিসে? এমন বেঁচে থাকায় কিছুমাত্র কি সম্মান আছে? মাদকেও মারার ব্যবস্থা আজ পোক্ত এ বঙ্গদেশে।

৪.

এই যে দীর্ঘ নেতিবাচক ফিরিস্তি, এর মূলের কথাটি পাওয়া যায় ‘নাগরিক নিরাপত্তা’ সূচকে, যেটাতে ১১৩টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১০২। অর্থাৎ যা হওয়ার নয় তাই দস্তুর এ পোড়া দেশে। জলাশয় বুজিয়ে আবাসন-বসতবাড়ি, নদী ভরাট করে কারখানা, কৃষিজমিতে ইটভাটা, বন-বনাঞ্চলে বিদ্যুৎকেন্দ্র, রাস্তা-ফুটপাত দখল করে দোকানপাট-ব্যবসা। আবাসিক ভবনে বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ড, শোবারঘরের সঙ্গে লাগোয়া কারখানা, মাথার ওপরে রাসায়নিকের গুদাম। উপর তলায় গার্মেন্টস, নিচে হোটেল-মনোহারি দোকান আর মাঝের তলায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ক্লিনিক! যা খুশি তাই করার এমন ‘ইচ্ছে-স্বাধীন’ দেশটি কোথায় খুঁজে পাবে নাকো তুমি!

পরাক্রমশালী ব্যবসায়ী, বেপরোয়া যানচালক, দুর্ধর্ষ মাদক কারবারি, ক্ষমতাবান দখলদার, ঝুঁকিপূর্ণ অবকাঠামো, জবাবদিহিশূন্য কর্তৃপক্ষ আর দায়হীন সরকার— এই রাজযোটকে মানুষের ‘স্বাভাবিক’ মৃত্যুর ওয়াক্ত খতম! সামান্য ঠোকাঠুকির ফল দুর্ঘটনা, একটু এদিক-সেদিক হওয়ার পরিণাম অপঘাত মৃত্যু। কর্ণফুলীর পাড় থেকে বুড়িগঙ্গার তীর— সবখানেই ওত পেতে আছে অসময়ের মৃত্যু, অসম্মানের মৃত্যু।

ভূমি, জল, হাওয়ার সঙ্গে ব্যবস্থা তো দূষিতই, দূষিত আজ মানবিকতাও! অব্যবস্থার স্বর্গরাজ্য গোটা বাংলাদেশই যখন  মৃত্যুকূপে পরিণত, বনের ভেতর করাত কল স্থাপনের মতো পদক্ষেপই তখন কাঙ্ক্ষিত! চকবাজার তখন আর দুর্ঘটনা নয়, মৃত্যুর আয়োজনের অন্যনাম!

হাসান ইমামসাংবাদিক

Responses -- “বাঙালি জীবন: দোলনা থেকে ‘দুর্ঘটনা’ পর্যন্ত!”

  1. Sad Bengle

    I wish I was never born here. Only if I was given a choice before birth, I would have chosen some other place.

    I could leave and go to other country, but if you are not born among them, you will never be one of them (foreign country).

    With love and hate, I will stay among my people

    Reply
  2. আসমা সুলতানা মিতা

    জন্ম-কর্ম-মৃত্যু। এই বৃত্তের মধ্যেই সব উত্তর। আমাদের কর্মের ফল আমরাই ভোগ করবো। যেমন ফসলের বীজ বপন করবো তেমন ফসল ঘরে তুলবো। প্রশ্ন হলো: আমরা কি সেই স্বাভাবিক মৃত্যুর জন্য প্রয়োজনীয় কর্মগুলো করতে প্রস্তুত?

    Reply

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। প্রতিক্রিয়া লেখার সময় লক্ষ্য রাখুন--

  • ১. স্বনামে বাংলায় প্রতিক্রিয়া লিখুন।
  • ২. ইংরেজিতে প্রতিক্রিয়া বা রোমান হরফে লেখা বাংলা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না।
  • ৩. প্রতিক্রিয়ায় ব্যক্তিগত আক্রমণ গৃহীত হবে না।

দরকারি ঘর গুলো চিহ্নিত করা হয়েছে—