আমি জানি আমার এই লেখাটির জন্য আমাকে অনেক গালমন্দ শুনতে হবে, তারপরেও লিখছি। লিখে খুব কাজ হয় সে রকম উদাহরণ আমার হাতে খুব বেশী নেই কিন্তু অন্তত নিজের ভেতরের ক্ষোভটুকু বের করা যায় সেটাই আমার জন্যে অনেক।

আগেই বলে রাখছি আমি কোচিং ব্যবসার ঘোরতর বিরুদ্ধে, কাজেই কেউ এখানে কোচিংয়ের পক্ষে বিপক্ষে নিরপেক্ষ নৈব্যক্তিক আলোচনা খুঁজে পাবে না। এই দেশে কোচিংয়ের রমরমা ব্যবসার কারণে ছেলে মেয়েদের শৈশবটি কেমন বিষাক্ত হয়ে যাচ্ছে সেটি নিয়ে আমার ক্ষোভ এবং দুঃখটুকু হয়তো টের পাওয়া যাবে। পাঠকেরা নিশ্চয়ই আমাকে ক্ষমা করে দেবেন, যে কোনও কারণেই হোক আমার অবস্থানটুকু অন্য অনেকের থেকে ভিন্ন। আমি যেহেতু প্রায় পঞ্চাশ বছর ধরে ছোট ছেলে মেয়েদের জন্য লিখছি তাই এই দেশের ছোট ছেলে মেয়েদের আমার জন্যে এক ধরনের মায়া আছে। আমার সঙ্গে কখনো দেখা হয়নি তারপরও তারা আমাকে একজন আপনজন মনে করে অকপটে তাদের মনের কথা খুলে বলে। আমি মাঝে মাঝে তাদের কাছ থেকে এমন অনেক চিঠি কিংবা ই-মেইল পাই যেগুলো পড়লে যে কোনও বড় মানুষের চোখ থেকে টপ টপ করে পানি পড়তে শুরু করবে।

আমি নিশ্চিতভাবে জানি আমাদের দেশের শিশু কিশোরদের শৈশবটি আনন্দহীন, এবং এর প্রধান কারণ আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থা। দেশের একেবারে সাধারণ মানুষটিও শিক্ষার গুরুত্বটি বুঝতে পেরেছে কিন্তু দুর্ভাগ্যক্রমে তারা বেশোরভাগ সময়েই সেটি ভুলভাবে বুঝেছে। তাদের প্রায় সবারই ধারণা ভালো লেখাপড়া মানে হচ্ছে পরীক্ষায় ভালো গ্রেড, কাজেই লেখাপড়ার উদ্দেশ্য এখন শেখা নয়, লেখাপড়ার উদ্দেশ্য হচ্ছে পরীক্ষা দেওয়া। সেই পরীক্ষটি কতো ভালোভাবে দেওয়া যায় সেটিই হচ্ছে জীবনের একমাত্র উদ্দেশ্য। ভালোভাবে শেখা এবং ভালোভাবে পরীক্ষা দেওয়ার মাঝে পার্থক্যটুকু যারা ধরতে পারেননি তাদেরকে একটা উদাহরণ দিতে পারি।

ধরা যাক, একটি ছেলে বা মেয়েকে আমার এই লেখাটিই পড়তে দেয়া হলো। ছেলে বা মেয়েটি যদি লেখাটি মন দিয়ে পড়ে তাহলে তাকে শুধু যে এখানে যেসব কথা বলা আছে সেটি নিয়ে প্রশ্ন করলেই উত্তর দিতে পারবে তা নয়। এর বাইরে থেকে প্রশ্ন করলেও উত্তর দিতে পারবে (যেমন লেখকেরা কোন বক্তব্যটি সঙ্গে তুমি একমত নও? কিংবা লেখকের এই বক্তব্যটি কি সাধারণ মানুষের ভেতর একটি ভুল ধারণার জন্ম দেবে? ইত্যাদি)। এখন যদি এই লেখাটি নিয়ে ছেলে বা মেয়েটিকে পরীক্ষার জন্যে প্রস্তুত করতে হয় তাহলে কোনো একজন অভিজ্ঞ শিক্ষক এই লেখাটি নিয়ে বসে তার থেকে কী প্রশ্ন বের করা সম্ভব এবং তার সম্ভাব্য উত্তরগুলো লিখে ফেলবেন। যেমন, ছেলে মেয়েরা কেন লেখকের কাছে মনের কথা অকপটে খুলে বলে? উত্তর- (ক) হোমওয়ার্কের অংশ হিসেবে (খ) পিতা মাতাকে সন্তুষ্ট করার জন্য (গ) লেখককে আপনজন মনে করে (ঘ) মনের কথা খুলে বললে মন ভালো থাকে। সঠিক উত্তর (গ)।

এরকম অনেকগুলো প্রশ্ন এবং তার উত্তর লেখা হবে এবং ছেলেমেয়েরা পুরোটুকু মুখস্ত করে ফেলবে। পরীক্ষায় এই প্রশ্নগুলো এলে তার চোখ বন্ধ করে উগলে দেবে। শুনে অবিশ্বাস্য মনে হতে পারে, লেখাটির মূল বিষয়টি অনুভব না করেই তারা কিন্তু সব প্রশ্নের উত্তর দিতে পারবে। যারা আমার কথা বিশ্বাস করতে রাজী না তারা ইচ্ছে করলে দেশের যে কোনও একটি সম্ভ্রান্ত দৈনিক পত্রিকা খুললেই দেখতে পারবেন সেখানে এরকম প্রশ্ন এবং উত্তর ছাপা হয়। গাইড বইয়ের সঙ্গে এর কোনো পার্থক্য নেই। গাইড বই বেআইনি এবং গাইড বই প্রকাশ করলে সম্ভবত পুলিশ র‌্যাব কোমরে দড়ি বেঁধে অ্যারেস্ট করে নিয়ে যাবে। কিন্তু সবার চোখের সামনে নিয়মিতভাবে গাইড বই প্রকাশ করার জন্য কোনও পত্রিকার সম্পাদককে কখনও কারো সামনে জবাবদিহি করতে হয়েছে বলে আমার জানা নেই! সব দৈনিক পত্রিকারই আলাদাভাবে শিক্ষা সংক্রান্ত সাংবাদিক আছে (তাদের আলাদা সংগঠনও আছে)। এই সাংবাদিকেরা আমাকে দুই চোখে দেখতে পারে না কারণ তাদের সঙ্গে দেখা হলেই আমি তাদের জিজ্ঞেস করি তাদের সংবাদপত্রটি যে নিয়মিতভাবে বেআইনি গাইড বই ছাপিয়ে যাচ্ছে কখনো তার বিরুদ্ধে তারা কোনও প্রতিবেদন প্রকাশ করে না কেন?

যাই হোক, আজকে আমি কোচিং সম্পর্কে লিখতে বসেছি, কাজেই সেই বিষয়টিতেই ফিরে যাই। কীভাবে কীভাবে জানি কোচিং ব্যবসায়ীরা বাংলাদেশটিকে পুরোপুরি দখল করে ফেলেছে। যারা হতদরিদ্র- ছেলে মেয়েদের কোচিং পড়ানোর মতো টাকা পয়সা নেই (এবং এক দুইজন আদর্শবাদী শিক্ষার্থী কিংবা বাতিকগ্রস্থ বাবা মায়ের সন্তান ছাড়া) বাংলাদেশের সব ছেলে মেয়ে কোনও না কোনওভাবে কোচিং করেছে। এতো সফলভাবে সারা পৃথিবীতে অন্য কোনও পণ্য বাজারজাত করা সম্ভব হয়েছে কিনা আমার জানার নেই। আমার ধারণা আমাদের শিল্প-সাহিত্যেও কোচিং বিষয়টি ঢুকে গেছে, গল্প উপন্যাসের চরিত্ররা, দাঁত ব্রাশ করে, স্কুলে যায়, কোচিং করে। আমি নিশ্চিত ‘ক্লাশ ফ্রেন্ড’ বলে যেরকম একটি শব্দ আছে ঠিক সেরকম ‘কোচিং ফ্রেন্ড’ জাতীয় একটি শব্দ আছে এবং স্কুলের কালচারের মতই কোচিংয়ের নিজস্ব একটা কালচার আছে।

কোচিং ব্যবসায়ীরা অত্যন্ত সফলভাবে এই দেশের সকল অভিভাবকদের বোঝাতে সক্ষম হয়েছে যে স্কুল কলেজের লেখাপড়া পরিপূর্ণ নয়, এর সঙ্গে যেভাবে হোক যতখানি সম্ভব কোচিংয়ের স্পর্শ থাকতে হবে। এখন অভিভাবকরা এক ধরনের নিরাপত্তাহীনতায় ভুগে, তারা মনে করে যেহেতু সবার ছেলে মেয়ে কোচিং করছে তাই যদি নিজের ছেলে মেয়েদের কোচিং করতে না দেওয়া হয় তাহলে কোনো এক ধরনের অপরাধ করা হয়ে যাবে। সেই অপরাধের কারণে তাদের ছেলেমেয়েদের কোনও একটা ক্ষতি হয়ে গেলে তারা কখনোই নিজেদের ক্ষমা করতে পারবে না। সেজন্যে ভালো হচ্ছে, না মন্দ হচ্ছে- সেটা নিয়ে তারা মাথা ঘামায় না। নিজের ছেলে মেয়েদের চোখ বন্ধ করে কোচিং করতে পাঠায়। এই কোচিং করার কারণে তাদের ছেলে মেয়েদের জীবনে যে এতোটুকু বিনোদনের সময় নেই সেটি নিয়েও তাদের কোনো মাথাব্যথা নেই। নিজের সন্তানদের এভাবে নির্যাতন করার আর কোনও উদাহরণ আছে কী না আমার জানা নেই।

কোচিং বিষয়টি আমাদের সমাজে কিংবা শিক্ষা ব্যবস্থায় কতো গভীরভাবে ঢুকেছি আমি সেটা টের পেয়েছিলাম কয়েক বছর আগে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের শিক্ষা আইনের খসড়া দেখে। যেখানে কোচিং ব্যবসাকে শুধু জায়েজ করা হয়নি, এটাকে ‘ছায়া শিক্ষা’ নাম দিয়ে একটা সম্মানজনক জায়গায় নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। আমাদের সম্মিলিত তীব্র প্রতিবাদের কারণে শেষ পর্যন্ত সেটা বন্ধ করা হয়েছিল।

একবার যখন দেশের সব ছাত্র-ছাত্রী এবং তাদের বাবা মাদের বোঝানো সম্ভব হয়েছে যে এই দেশে লেখাপড়া করতে হলে কিংবা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে হলে কিংবা মেডকিলে ভর্তি হলে কোচিং করতেই হবে তারপর কোচিং ব্যবসায়ীদের জীবনটুকু খুবই সহজ হয়ে গেছে। সবাই তাদের কাছে আসছে এবং তারা সবাইকে ‘কোচিং’ করে যাচ্ছে। যদিও এই ছাত্র-ছাত্রীরা শুধু একটুখানি সাহস করে কোনও কোচিং ব্যবসায়ীর কাছে না গিয়ে নিজেরা নিজেরা লেখাপড়া করতো তাহলে তাদের জীবনটা অন্যরকম হতো। তাদের ভেতর একধরনের আত্মবিশ্বাসের জন্ম হতো, লেখাপড়া করার বাইরে তাদের নিজেদের জন্য প্রচুর সময় থাকতো, যেই সময়টিতে তারা গল্পের বই পড়তে পারতো, ছবি আঁকতে পারতো, গান গাইতে পারতো, বন্ধুর সঙ্গে মাঠে ফুটবল খেলতে পারতো! এখন তারা স্কুলের শেষে এক কোচিং থেকে অন্য কোচিংয়ে ছুটে যায়, তাদের জীবনে বিন্দুমাত্র অবসর নেই। আমরা কেমন করে আমাদের সন্তানদের জন্য এই ভবিষ্যৎ বেছে নিয়েছি?

সেই কারণে আমি যখন দেখেছি হাইকোর্ট থেকে রায় দিয়েছে স্কুলের শিক্ষকেরা কোচিং করাতে পারবে না আমি অসম্ভব খুশি হয়েছি। শুধু খুশি হইনি, আমি এই ভেবে আনন্দিত হয়েছি যে এই দেশে আমাদের ছেলে মেয়েদের ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তা ভাবনা করার মতো মানুষ আছে। আপাতত রায়টি হচ্ছে স্কুল কলেজের শিক্ষকেরা তাদের ছাত্র-ছাত্রীদের কোচিং করাতে পারবে না। এটি অনেক বড় একটি পদক্ষেপ। কারণ আমরা সবাই জানি বিখ্যাত এবং অখ্যাত সব স্কুলেরই একটা বড় সমস্যা যে শিক্ষকেরা তাদের স্কুলে কিংবা কলেজে ঠিক করে পড়ান না যেন তার ছাত্র ছাত্রীরা তাদের কাছে কোচিং করে। এই রায়ের পর পত্রপত্রিকায় লেখালেখিতে অনেককেই শিক্ষকদের জন্যে মায়া প্রদর্শন করতে শুরু করেছেন। দেখেছি, তারা বলছেন এই শিক্ষকেরা আর কতোই বা বেতন পান, যদি একটু বাড়তি টাকা উপার্জন করতে পারেন তাতে সমস্যা কী? এই যুক্তিটি সঠিক যুক্তি নয় কারণ, সব বিষয়ের কিছু বিষয়ের শিক্ষকদের অনেক চাহিদা। যারা এই ধরনের ‘সেলিব্রেটি কোচিং শিক্ষক’ তারা আসলে তাদের স্কুল কিংবা কলেজের চাকরিটি ছেড়ে দিয়ে চুটিয়ে কোচিং করাতে পারবেন তাদের টাকার কোনো অভাব হবে না, এবং তখন কেউ তাদের কিছু বলবে না।

ইদানিং কোচিংয়ের পক্ষে আমি নতুন আরেকটি যুক্তি দেখতে শুরু করেছি, যুক্তিটি হচ্ছে, উন্নত দেশে ছেলেমেয়েরা কোচিং করছে কাজেই এটি নিশ্চয়ই খুবই ভালো একটি কাজ। দীর্ঘদিন কলোনি হিসেবে থেকে এটা আমাদের রক্তের মাঝে ঢুকে গেছে, বিদেশিরা যেটা করে আমাদেরকেও সেটা করতে হবে। আর বিদেশিদের চামড়া যদি সাদা হয় তাহলে তো কথাই নেই, যে কোনও মূল্যে সেটা আমাদের করতেই হবে। কেউ কী লক্ষ্য করেছে ইউরোপের সাদা চামড়ার মানুষ কতো নির্দয়ভাবে শরণার্থীদের খেদিয়ে দিচ্ছে সে জায়গায় আমরা একজন নয়, দুইজন নয়, দশ লাখ রোহিঙ্গাদের জায়গা দিয়েছি, খেতে পড়তে দিচ্ছি? আমেরিকার কথা শুনলে আমাদের মুখে ফেনা উঠে যায়। অথচ সেই দেশে একজন মানুষ ইচ্ছে করলেই দোকান থেকে একটা একেফোরটি সেভেন কিনে এনে একটা স্কুলে হামলা করে ডজন খানেক বাচ্চাকে মেরে ফেলতে পারে। গড়ে মাসে একটা করে এরকম হামলা হয় এবং সেটা নিয়ে কারো মাথা ব্যথা নেই! সেই দেশেও কোচিং ব্যবসা শুরু হয়েছে, যারা জানে না তাদেরকে বলে দিতে পারি বিষয়টা আমরা সেখানে রপ্তানি করেছি। সেখানে জ্যাকসন হাইটস হচ্ছে বাংলাদেশির ঘাঁটি, সেখানে কোচিংয়ের রমরসা ব্যবসা! জাপানের উদাহরণও দেওয়া হচ্ছে, সেখানে প্রায় পনেরো লক্ষ তরুণ তরুণী হিকিকোমোরি! হিকিকিমোরি একটি নতুন শব্দ, যারা জগৎ সংসারের সবকিছু ছেড়ে ছুড়ে নিজেকে একটা ঘরের মাঝে বন্ধ করে রাখে তাদেরকে বলে হিকিকোমোরি। যে দেশের সমাজটি এরকম তরুণ তরুণী তৈরি করে যাচ্ছে তাদেরকে আমরা চোখ বন্ধ করে অনুকরণ করে যাব? সবাই কী জানে বাংলাদেশের ধড়িবাজ তরুণেরা ডলারের বিনিময়ে অস্ট্রেলিয়ার ফাঁকিবাজ ছাত্র ছাত্রীদের থিসিস লিখে দেয়? কাজেই বিদেশকে অনুকরণ করতে হবে কে বলেছে?

যারা কোচিং ব্যবসা করে টু পাইস কামাই করছেন এবং কামাই করে যেতে চান তাদের কাছে করজোড়ে নিবেদন করে বলছি আপনাদের ব্যবসাতে খুব সহজে কেউ হাত দিতে পারবে না। আপনারা যেভাবেই এই দেশের ছেলেমেয়েদের আষ্টেপৃষ্টে বেঁধে ফেলেছেন সেখান থেকে তাদের ছুটে যাবার কোনো উপায় নেই, কাজেই আপনারা নিশ্চিন্তে আপনাদের ব্যবসা করে যেতে পারবেন। তবে দোহাই আপনাদের, এই কোচিং ব্যবসা কতো মহান এবং এই মহত্বের অবদানে এই দেশের ছেলেমেয়েদের কতো উপকার হচ্ছে সেই কথাগুলো বলে আমাদের অপমান করবেন না।

লেখাপড়ার একটা বড় উদ্দেশ্য হচ্ছে শেখা। কাজেই আমরা সবাই চাই আমাদের ছেলেমেয়েরা শিখুক। কী শিখেছে তার চাইতেও গুরুত্বপূর্ণ একটি ব্যাপার হচ্ছে কীভাবে শিখেছে। কারণ একজনকে কোচিং করে জোর করে কিছু একটা শিখিয়ে দেওয়া হয়তো সম্ভব কিন্তু একবার শিখলেই তো বিষয়টা শেষ হয়ে যায় না। একজন মানুষকে সারা জীবন শিখতে হয়। কাজেই যে নিজে নিজে শিখতে পারে সে সারাটি জীবন শিখতে পারবে। একটি প্রবাদ আছে, কাউকে একটা মাছ কিনে দিলে সে সেইদিন মাছ খেতে পারে। কিন্তু তাকে মাছ ধরা শিখিয়ে দিলে সে সারা জীবন মাছ ধরে খেতে পারবে। শেখার বেলাতেও সেটি সত্যি। কোচিং করে কাউকে কিছু একটা শিখিয়ে দিলে সে সেই বিষয়টি শিখতে পারে। কিন্তু কীভাবে শিখতে হয় কাউকে সেটি জানিয়ে দিলে সারা জীবন সে শিখতে পারবে। আমরা চাই আমাদের ছেলেমেয়েদের ভেতর সেই আত্মবিশ্বাসটুকু গড়ে উঠুক যে কোনো রকম কোচিং ছাড়াই তারা নিজেরাই নতুন কিছু শিখতে পারবে। তথ্যপ্রযুক্তি-ই বলি কিংবা অটোমেশান বা আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সই বলি না কেন খুবই দ্রুত এগুলো পৃথিবীর মানুষের জায়গা দখল করে নিতে থাকবে। আমরা চাই আমাদের দেশের ছলেমেয়েগুলো আত্মবিশ্বাস সৃজনশীল মানুষ হিসেবে বড় হোক, ভবিষ্যতের পৃথিবীতে কোনো একটা যন্ত্র এসে যেন তাদের অপ্রয়োজনীয় করে ফেলতে না পারে।

যদি আমাদের স্কুল কলেজে ঠিক করে লেখাপড়া করানো হতো তাহলে কখনই এই দেশে এভাবে কোচিং ব্যবসা শুরু হতে পারতো না। যখনই আমরা কোচিংয়ের বিরুদ্ধে কোনও কথা বলি তখনই সবাই স্কুল কলেজের লেখাপড়ার মান নিয়ে অভিযোগ করতে শুরু করেন। আমরা যে লেখাপড়ার মান নিয়ে অভিযোগ করব তারও সুযোগ নেই, কারণ এই দেশে লেখাপড়ার জন্যে যতো টাকা বরাদ্দ হওয়া উচিৎ তার তিনভাগের এক ভাগ অর্থ বরাদ্দ হয়। পৃথিবীর আধুনিক দেশগুলোর ভেতরে কোনও দেশেই এতো কম টাকায় এতো বেশি ছেলেমেয়েকে লেখাপড়া করানো হয় না, আমার ধারণা এতো কম টাকায় এর চাইতে ভালো লেখাপড়া করানের উদাহরণ আর কোথাও নাই। তাই সত্যিই যদি আমরা আমাদের দেশের ছেলেমেয়েদের ঠিক করে লেখা পড়া শিখাতে চাই তাহলে আমাদের চিৎকার আর চেঁচামেচি করতে হবে, যতক্ষণ পর্যন্ত পড়ালেখার জন্যে আরও টাকা বরাদ্দ করা না হয়।

আমাদের দেশে যতরকম কোচিং ব্যবসা হয় তার মাঝে এক ধরনের ব্যবসা রাতারাতি বন্ধ করে দেওয়া সম্ভব সেটি হচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি কোচিং। দুই বছর হয়ে গেলো যখন আমাদের মহামান্য রাষ্ট্রপতি সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষার কথা বলেছিলেন। একটি সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষা না হওয়ার কারণে আমাদের দেশের ছেলে-মেয়েদের যে অচিন্ত্যনীয় কষ্ট সহ্য করতে হয়। সেই কষ্ট দেখে আক্ষরিক অর্থে পাষাণের হৃদয় গলে যাবে, কিন্তু আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মনে এতোটুকু দাগ কাটে না। তাই মহামান্য রাষ্ট্রপতির অনুরোধের পরেও বছরের পর বছর প্রত্যেকটা বিশ্ববিদ্যালয় আলাদা আলাদাভাবে ভর্তি পরীক্ষা নিয়ে যাচ্ছে। অবশ্যই এর কারণে সব বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা কিছু বাড়তি টাকা রোজগার করতে পারছেন, তার সঙ্গে সঙ্গে লাভবান হচ্ছে কোচিং ব্যবসায়ীরা। তারা চুটিয়ে ভর্তি কোচিংয়ের নাম করে টাকা উপার্জন করে যাচ্ছে। ভর্তি কোচিং করছে কারা? বিত্তশালী মানুষের ছেলে মেয়েরা। দরিদ্র মানুষের ছেলে মেয়েরা পিছিয়ে পড়ছে, সেটা কী কারো চোখে পড়েছে?

যদি মহামান্য রাষ্ট্রপতির অনুরোধের প্রতি সম্মান দেখিয়ে সবগুলো বিশ্ববিদ্যালয় মিলে এইচএসসি পরীক্ষা শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে একটি সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষা নিয়ে নিতো তাহলে আমরা যে শুধু আমাদের ছেলে মেয়েদের প্রতি একটু ভালোবাসা দেখাতে পারতাম তা নয়, কোচিং ব্যবসাটুকু রাতারাতি বন্ধ করে দিতে পারতাম।

আমরা সেটা পারছি না। কোচিং ব্যবসায়ীরা অনেক শক্তিশালী, সেটাই কী কারণ?

মুহম্মদ জাফর ইকবাললেখক ও অধ্যাপক, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়।

১৫ Responses -- “এই দেশের কোচিং ব্যবসা”

  1. রানা

    একটা কথা ঠিক
    যে, কোচিং এবং বিদ্যালয়িক শিক্ষা ব্যবস্হা যুগপৎ চালানো বা চলতে পারে না। এটা শিক্ষার নামে শিশুকিশোরদের উপর এক মহাজুলুম। শিশুদের মেধা, মনন, মনীষা এবং ধীমত্তার সম্যক ও যথোচিত উপযোগের মাধ্যমে বুদ্ধিমত্তার প্রস্ফুটন ও বিকাশার্থে খেলাধূলা, বিনোদন, বহির্পাঠ্যক্রম কর্মকান্ড, সামাজোসাংস্কৃতিক ক্রিয়াকর্ম ইত্যাদিতে স্ব-কর্তৃক অংশগ্রহণ যেমন অত্যাবশ্যক,
    ঠিক তেমনি ভাবুক ও অনুভবমান মনের প্রকৃতির পবিত্র নিসর্গে অবগাহনের মাধ্যমে মানবাত্মার নান্দনিক, সুকুমার ও চারুশীল বৃত্তিসমুহকে সৌন্দর্যর স্নাতকতা প্রদান শিশুদের প্রকৃত মানুষ রুপে গড়ে উঠার জন্য অপরিহার্য।
    দিনের অধিকাংশ সময় বিদ্যালয় ও কোচিং কেন্দ্রে ধাবমান শিক্ষার্থীদের, ধরা যাক শিক্ষণের জন্যই, নিজের মনন ও মেধাকে ব্যবহারের সময়টাই বা কোথায়? আমরা কি ছাত্রদের য্ন্ত্র এবং মানুষের মাঝামাঝি এক সংকর ভবসত্ত্বায়( hybrid being) পরিণত করছি না? তাই কোচিং এবং বিদ্যালয় একসাথে চলতে পারে না। যারা কোচিং এর পক্ষে যুক্তি দিচ্ছেন তাদের জন্য বলতে চাই, এখনও বিদ্যালয়ের শ্রেণীশিক্ষা ব্যবস্হার বিকল্প নাই।
    If school classrooms are not providing any education, then it may be better to lay off all the teachers from our schools and keep only the coaching centres. At least, free market and capitalistic competition will improve some quality in education. Good news for the students, they will be spared the hassle of running back and forth in-between coaching centres and the schools. We can keep some librarians for school libraries to be used by students and some lab instructors for the lab. Our school will no more need classrooms and teachers except for providing with lab and library services. Our government coffers will save a lot of money. So if we don’t want to do away with coaching system, this will be a better compromise, to my mind. But these two systems just cannot go hand in hand. This tyranny need to stop.
    N.B. Sorry that I had to switch back to English. My typing in Bangla is really slow.

    Reply
  2. Nasah

    সৃজনশীল পদ্ধতির নামে এমন এক বোঝা চাপিয়ে দিলেন এখন প্রত্যেক বিষয়ের জন্য ভাল করে বুঝে পড়তে আলাদা আলাদা শিক্ষক রাখতে হয় বাসায়, আর সবার তো সব বিষয়ের জন্য আলাদা শিক্ষক রাখার সামর্থ্য নেই তাই তাদের অল্প টাকায় কোচিং এ যেতে হয় যেখানে সব বিষয় পড়ানো হয়। কোচিং বন্ধ করে দিলে বাসায় শিক্ষক রেখে সন্তানদের পড়াবে সমাজের এলিট শ্রেণীর লোকেরা, মধ্যবিত্তরাতো সেটা পারবেনা। এই বৈষম্য কিভাবে বন্ধ করবেন তখন?? শিক্ষার মান না বাড়িয়ে শুধু কোচিং বন্ধ কোচিং বন্ধ করলে সেটার ফলাফল তো ভাল কিছু হবেনা।
    আপনি কি জানেন আপনার লেখা ক্লাস নাইন এর পদার্থ বিজ্ঞান পড়াতে শিক্ষকদের কি অবস্থা। কি লিখছেন এইসব। ছাত্রদের মাথা তো নষ্ট করে দিছেন।
    আপনি আগে স্কুল কলেজের শিক্ষার মান এমন পর্যায়ে নিয়ে যান যেখানে শুধু স্কুল কলেজে ক্লাস করেই ছাত্ররা সব বুঝে যাবে, তখন আর কেঊ কোচিং এ ছুটবে না।

    Reply
  3. নাহিদ

    আপনি বলেছেন কোচিং ব্যবসায়ীরা অত্যন্ত সফলভাবে এই দেশের সকল অভিভাবকদের বোঝাতে সক্ষম হয়েছে যে স্কুল কলেজের লেখাপড়া পরিপূর্ণ নয় । সত্যি বলতে আসলেই স্কুল কলেজের লেখাপড়া পরিপূর্ণ নয় এই বিষয়ে আমি আপনাকে অনেকগুলো কারণ দেখাতে পারব। শিক্ষক নিয়োগে অধিকাংশক্ষেত্রে যোগ্যতা ও মেধা প্রাধান্য পায় না। আবার মেধা থাকলেও টাকা না দেয়ায় অনেক ক্ষেত্রে চাকরি হচ্ছে না। তাছাড়া নিম্নমানের বিনিয়োগ, অদক্ষ শিক্ষক, সিলেবাসের ঘন ঘন পরীক্ষণ, শিক্ষক-শিক্ষার্থীর অনুপাতে বিশাল ব্যবধান। এতো সমস্যা নিয়ে কিভাবে পরিপূর্ণ শিক্ষা সম্ভব?? আপনি যদি কখনো স্কুল কলেজের বারান্দাতে হাটেন তবেই দেখতে পারবেন সেখানে কি অবস্থা।

    এদেশের স্কুল কলেজের লেখাপড়া যদি পরিপূর্ণই হতো তাহলে আপনি কেন আপনার সন্তানদের বাইরের দেশে পড়াশুনা করাতে পাঠালেন??? তাছাড়া আপনার সন্তানরা তো ইংলিশ মিডিয়ামে পড়াশুনা করেছে, আপনি তাদের কেনো ইংলিশ মিডিয়ামে দিলেন? আপনি আপনার সন্তানকে ইংলিশ মিডিয়ামে দিয়েছেন এবং দেশের বাইরে পাঠিয়েছেন এতেই প্রমাণিত হয় যে এদেশের শিক্ষাব্যবস্থা পরিপুর্ণ নয়।

    Reply
  4. নাহিদ

    আপনার ধারনা কোচিং ব্যবসায়ীরা বাংলাদেশটিকে পুরোপুরি দখল করে ফেলেছে। যারা হতদরিদ্র- ছেলে মেয়েদের কোচিং পড়ানোর মতো টাকা পয়সা নেই (এবং এক দুইজন আদর্শবাদী শিক্ষার্থী কিংবা বাতিকগ্রস্থ বাবা মায়ের সন্তান ছাড়া) বাংলাদেশের সব ছেলে মেয়ে কোনও না কোনওভাবে কোচিং করেছে। কিন্তু এই বিষয়ে আমি আপনার সাথে মোটে ও একমত না । কারন কোচিং সেন্টার বন্ধ হলেই বাড়বে বৈষম্য । কোচিং সেন্টার বন্ধ হলে যেখানে মাসে ২০০০-৩০০০ টাকা খরচ করে ৪-৫টি সাবজেক্ট পড়তে পারতো সেখানে বাসায় স্যার রেখে প্রতিমাসে ১১০০০-১২০০০ টাকা খরচ করে পড়ার সামর্থ্য কয়জনের আছে?

    Reply
  5. রানা

    চতুর্থতঃ, we should focus on reviving and rejuvenating teacher-student(গুরু-শিষ্য/mentor-disciple) humanistically spiritual and entrepreneurial comradeship and instill a sense of fellowship in the whole enterprise of learning. A teacher should never allow themselves to stop being a learner because a teacher’s best teacher is his own student; a teacher should always keep an attitude of childly openness to admit agnosia and unknowledge as well as to allow circumspective curiosity;he should see in every student an innate potential and immense portent of a Eisenstein, a Newton or a Buddha: a teacher can facilitate the way of a child to becoming a great man only when he can allow the acumen and perspicacity to look up to a child with the same love and respect that he would reserve for any great man that ever existed. I should call this teacher a Shishu-Guru, a child(learner)and a teacher at the same time. So should a student have also the dual identity of Shishya-Guru – a disciple/teacher, because the way of learning starts with asking a simple, unbiased and unprejudiced question. It is not always necessary to know the answer, but it is absolutely essential that a good question be asked. And who is better prepared to ask a good question than our little kids without any baggage of prejudice? Thus, we have to restore the pleasure of learning if we are ever to dissuade ou teachers as well as our students from this vicious cycle of coaching business.
    Speaking of not following everything from the west in blind faith, we need to pay extreme caution not to downgrade a teacher to the job of a baby sitter – which unfortunately is more and more of a practice in the west now a days.

    Fifthly, we should make sure we have a big big really very big library full of books both in bangla and in any other language bofeore we have even class rooms for our students. Ours is a very low-maintanence country. We can always arrange our classes under a tree or in the open air, if we have to. But a big and magnificent library in every school and in every village, we have to have if we want to again reclaim the title of a nation of pundits.

    Reply
  6. সরকার জাবেদ ইকবাল

    স্যার,

    কোচিং-এর প্রয়োজনীয়তা আছে এবং এর উপকারিতা অস্বীকার করা যায় না। তবে কোচিং বাণিজ্য কখনও সমর্থনযোগ্য নয়। আমরা প্রাত্যহিক জীবনে প্রতিনিয়ত একে অপরকে কোচিং করে যাচ্ছি। একটুখানি লক্ষ্য করে দেখবেন, আপনি কোন না কোনভাবে প্রতিদিন আপনার গিন্নিকে কোচিং করছেন এবং তিনিও আপনাকে কোচিং করছেন। আমরা সারাজীবন আমাদের সন্তানদেরকে কোচিং করেছি, এখনও করে যাচ্ছি। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, আমাদের বড় ছেলে আপনারই বিষয়ে আমেরিকায় একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা করছে। আমরা এখনও তাকে বিভিন্ন বিষয়ে কোচিং করে থাকি।

    আপনার বক্তব্য-বিষয়ের প্রতি সমর্থন জানিয়েই বলছি, আমাদের দেশে শিক্ষক-সমাজে একটি সাধারণ অভিব্যক্তি আছে, অনেকটা এ রকম, – ’এই ছেলেকে দিয়ে কিচ্ছু হবে না, ওর মাথায় শুধু গোবর।’ কিন্তু কোন শিক্ষকই কখনও বলেন না, – ‘I could not teach him well and he failed. I am responsible for that.’ এই দায় এড়ানো প্রবণতা বন্ধ করতে হবে।

    Reply
  7. Not applicable

    lower budget in education for any countries of the world is the worse thing we can ever imagine. true hurts. coaching business in education is dangerous for any nations. whoever involved in coaching business they must go to prison, no exception. they are the real national enemies. to buy a fish can be a meal for a day however to learn how to catch fish will help you to eat fish for life. I liked that example,

    Reply
  8. আজিজুল হক

    রোগের উৎস ঠেকাতে হবে- কোচিং এর উৎস হল স্কুল কলেজের নিয়মিত শিক্ষাক্রমের অনুপস্থিতি। তাই উপসর্গ নয় উৎস ঠেকাতে হবে – আর তা হচ্ছে শহরে গ্রামে সব স্কুলের মান প্রায় সমান করতে হবে ভালো ভালো শিক্ষকদের বিভিন্ন স্কুলে ছড়িয়ে দিতে হবে । ছাত্র ছাত্রীদের বাধ্য করতে হবে নিজ পাড়া বা গ্রামের স্কুলে পড়ার জন্য। এতে করেই বড় বড় শহর কেন্দ্রিক কোচিংয়ে যথেষ্ট ছাত্র বা শিক্ষক পাওয়া কঠিন হবে।

    Reply
  9. ঈশান আরসালান

    মুহম্মদ জাফর ইকবালের কোচিং ব্যবসায়ীর ধুয়ে দিলেন, অথচ এই ব্যবসা বন্ধ করার জন্য সরকারের যে দায় আছে, সে ব্যাপারে ‘টু’ শব্দটিও করলেন না। ব্যবসায়ীরা যেমন খুশি টাকা বানানোর ধান্ধা করবে, সেটাই স্বাভাবিক। কিন্তু সেটা বন্ধ করার দায়িত্ব সরকারের। শিক্ষা মন্ত্রণালয়গুলোতে দুর্নীতির কোন সীমা-পরিসীমা নেই। কোচিং ব্যবসা ছাড়াও আরও একশ একটা কারণে যে দেশের শিক্ষাব্যবস্থার বারোটা বাজছে, এ ব্যাপারে তাদের ভূমিকা কী? সরকারের ভূমিকা কী? এ নিয়ে মুহম্মদ জাফর ইকবালদের কোন প্রশ্ন নেই।

    বিদ্যালয়ের শিক্ষক হতে গেলে লাখ লাখ টাকা ঘুষ দিতে হয়। তারপর তারা বেতন যা পান, তা দিয়ে সংসার চালানোই মুশকিল। তো সেই শিক্ষকগণ কীভাবে নৈতিকতার চর্চা করবে? পুলিশের চাকরি পেতে গেলেও বিশাল অংকের ঘুষ দেওয়া ছাড়া কোন কথা নেই। সেই পুলিশের কাছ থেকে কীভাবে আইনের প্রয়োগ আশা করা যায়?

    মুহম্মদ জাফর ইকবাল বললেন, কোচিং ব্যবসায়ীরা অনেক শক্তিশালী। কিন্তু সরকার যে তাদের চেয়েও শক্তিশালী এবং চাইলেই এ ব্যবসা বন্ধ করতে পারে, তা কিন্তু তিনি বলবেন না। সমস্যার গোঁড়া কোথায়, তা নিয়ে যখন কথা বলেন না, তখন তাঁর এসব লেখা নিতান্তই ন্যাকামো আর ভণ্ডামি ছাড়া আর কিছু মনে হয় না।

    Reply
  10. রানা

    ধন্যবাদ, মহাশয় জাফর ইকবালকে তার এ হতভাগা দেশের প্রতি মমত্ব এবং এর শিক্ষা উন্নয়নের জন্য তার আত্ম-নিয়োজনের জন্য। এ বিভূঁইয়ে বসে তার দীর্ঘয়ু কামনা করি।
    শুধুমাত্র কোচিং সংস্কৃতিই এ দেশের একমাত্র সমস্যা নয়। প্রথমতঃ, বিদ্যালয়িক পাঠ্যপুস্তক প্রনয়ন এবং পাঠ্যসূচী নির্নয়নে যে নামনুসূচী দেখা যায় তা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপকমন্ডলীরা দখল করে রাখেন। শিশুকিশোরদের সাথে মুখোমুখী মিথস্ক্রিয়মান পাঠদাতা শিক্ষকদের দ্বারাই মুখ্যতঃ পাঠ্যপুস্তক,পাঠ্যসূচী, পাঠ্যপ্রদান/কৌমারপ্রাজন(pedagogy), মুল্যায়ন প্রণালী ইত্যাদি নির্ধারিত হওয়া উচিত। অন্যদেশের শিক্ষাপদ্ধতি থেকে শিক্ষণের মানসিক বিনয়ী উদারতা যেমন থাকতে হবে, তেমনি আমাদের মনন ও মনীষায় এহেন সবিচার ও সতর্ক সচেতনতা থাকতে হবে যে, আধুনিক পাশ্চাত্য শিক্ষাপদ্ধতি যে পটভূমি এবং আঙ্গিকে গড়ে উঠে এসেছে তা ছিল ঔপনিবেশিক স্বার্থ প্রসূত এবং দিগ্বিজয়ী উন্মাদনা প্রণোদিত: এই শিক্ষাব্যবস্হার ভিত ছিল অসুস্হ “সামাজিক ডারউইনবাদ” এবং তৎভূত “যোগ্যতমের উদ্বর্তন”-ভিত্তিক নির্নন্দন প্রতিযোগিতা যার উদ্দেশ্য ছিল মানুষের মানবীয় নারীসুলভ দিকগুলোকে অবদমিত করে একশ্রেণীর অতিমর্দামিসম্পন্ন অতিমানব(uberman) তৈরী করা যারা প্রতিনিধিত্ব করবে এক প্রভূ প্রজাত(master race)/যুযুধান প্রজাত(warrior race) -এর যারা গোটা বিশ্বকে শ্বেতাঙ্গী প্রজাতের পদানত রাখবে।হিটলার, মুসোলিনি, চার্চিল, উড্রো উইলসন, মুসলিম ব্রাদারহূড, জিন্নার দ্বিজাতিতত্ব, হিন্দুত্ববাদ এ সবই এই সময়-মানসের(zeitgeist)গর্ভজাত।নারী ও পুরুষ যতটুকু না জীবতাত্বিক তার চেয়েও বেশী সামাজিক সংরচনা(construct)। আমরা ত বৃিটিশদের কাছ থেকে অভিধা পেয়েছিলাম non-martial race এবং effiminate বলে। নারী হওয়া যেমন লজ্জার বিষয় নয় তেমনি পুরুষ হওয়াও মহিমার পরিচয় বহন করে না।তাই মানুষকে মানুষ হওয়ার যে শিক্ষা আমাদেরকে সেই শিক্ষার ব্যবস্হা করতে হবে।
    দ্বিতীয়তঃ, শিক্ষকরা একই বিষয়বস্তু আউর্ধোনিম্নতঃ(from top down) বেধে দেওয়া ছক অনুযায়ী বছরের পর বছর পড়িয়ে যান: এটা কখনই শিক্ষকদেরকে আত্ম-শিক্ষণের জন্য প্রবুদ্ধ করতে পারে না। তাই শিক্ষকদের এমন স্বাধীনতা ও স্বতন্ত্রতা থাকতে হবে যাতে করে তারা বিশেষ-আগ্রহ ও প্রয়োজন বিশেষে স্হানীয় পর্যায়ে পাঠদান পদ্ধতি ও পাঠ্যবিষয়ে পরিবর্তন আনতে পারে।এটা শিক্ষকদের কৌমারপ্রাজনিক(pedagogic) গরেষনা ও পরীক্ষণে প্রনোদিত করবে, এবং সফল শিক্ষাপদ্ধতি উদ্ভাবনে এটা আনিম্নোর্ধ(bottom-up) অংশীদারিত্বের মাধ্যমে অভিনবত্ব ও বৈচিত্র এনে শিক্ষার যথামানকরনে সবল ভূমিকা রাখবে।
    তৃতীয়তঃ, বোর্ড পর্যায়ে পরীক্ষাগ্রহণ এবং সনদপ্রদান ব্যবস্হা বাতিল করার কথা বিবেচনা করা যেতে পারে। তদস্হলে, উপজেলা পর্যায়ে প্রশ্নপত্র তৈরী(এমনকি প্রত্যেক বিদ্যালয় আলাদাভাবে প্রশ্ন তৈরী করতে পারে), পরীক্ষা, সনদপ্দানের ক্ষমতা দেওয়া যেতে পারে,ঠিকক যেমন বিশ্ববিদ্যালয়গুলো করে।এরফলে, শিক্ষা বোর্ডগুলো দায়িত্ব মুক্ত হয়ে শিক্ষক প্রশিক্ষণ ও শিক্ষার গুণবত্তা নিশ্চায়ন সম্পর্কিত কর্মসূচী হাতে নিতে পারে।প্রত্যেক ছাত্রের কাছ থেকে তাদের প্রত্যাশা অনুয়ায়ী শিক্ষা পাওয়া নাপাওয়া, সিলেবাস সম্পূর্ণ করা না করা ইত্যাদিসহ প্রতিটি শিক্ষক ও স্কুলের জরীপ করা। এ সমস্ত জরিপের ফলাফল ও বিভিন্ন স্কুল/উপজেলা হতে দেশের নামকরা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ছাত্রদের ভর্তীসফলতার উপর ভিত্তি করে র্যাংকিং করা যেতে পারে।আজ দেশের সর্বত্র ইন্টারনেট আছে বলে, ছাত্রছাত্রীরা জরিপ ফর্ম অনলাইনেও পূরন করতে পারবে। জরিপ অনুয়ায়ী যে সব শিক্ষক সিলেবাস সম্পূর্ণ না করে শিক্ষাবর্ষ শেষ করে তাদের উপর তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্হা নেওয়া যেতে পারে।

    Reply
    • সৈয়দ আলি

      রানা, আপনাকে ধন্যবাদ যে কোচিং ব্যবসা উদ্ভবের মূল কারণে আঘাত হেনেছেন। হয়তো ড. ইকবালও সেই কারণগুলো জানেন কিন্তু তাঁরা তা বলবেন না। সত্যি কথা বলতে কি, ড. ইকবাল ও তাঁর পুজারীগণ কখনোই কার্যকরী কোন পদক্ষেপ নেন না কারণ তাতে তাঁর সরকার অসুবিধায় পড়বে।

      Reply
    • Not applicable

      I don’t even know who are qualified for certain jobs. why they will do that? they are just fine.our lazy people or teachers will not do that to fix education system. they don’t do their normal jobs properly and you are asking them to fix education system. they seek more money because they have some investment ( bribe) to get the job. they just want to sleep under the apple tree and hope if ever any apple comes to their mouth from tree, they will eat. if not they will stay hungry.

      Reply
  11. সৈয়দ আলি

    ড. জাফর ইকবাল যদি সততার সাথে জানাতেন যে বাংলাদেশের যে কোন সরকার প্রধানের সামান্য ভ্রুভঙ্গিতে কোচিং ব্যবসা বন্ধ হয়ে যাবে। কিন্তু তা’ না লিখে ‘তিনি’ কি ‘করেছেন’ সেই কেচ্ছা বছরের পর বছর শুনিয়ে যাচ্ছেন। কোচিং ব্যবসা বন্ধ না হওয়ার মূল কারণ শত (বা হাজার) কোটি টাকার এই ব্যবসায়ের বেনেফিসিয়ারি হচ্ছে ব্যবসায়ীদের সাথে সরকারী রক্ষক রাক্ষসেরা। নেতারা তাদের চাকর-বাকরদের সমস্যা হতে পারে ভেবে কোচিং বন্ধ করাবেন না।

    Reply

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। প্রতিক্রিয়া লেখার সময় লক্ষ্য রাখুন--

  • ১. স্বনামে বাংলায় প্রতিক্রিয়া লিখুন।
  • ২. ইংরেজিতে প্রতিক্রিয়া বা রোমান হরফে লেখা বাংলা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না।
  • ৩. প্রতিক্রিয়ায় ব্যক্তিগত আক্রমণ গৃহীত হবে না।

দরকারি ঘর গুলো চিহ্নিত করা হয়েছে—