ধর্ষণের ইচ্ছা কতটা অদম্য? কতটা প্রবল, নিয়ন্ত্রণহীন? ধর্ষণের উত্তেজনা কতটা তৃপ্তিদায়ক? কী সেই প্রাপ্তি, কতটা আকাঙ্ক্ষিত সেই শারীরিক আনন্দ যা একা বা দলবেঁধে উপভোগ করার মতো ঘটনায় পরিণত হয়? এমনকি কাউকে কাউকে  নিজের সন্তানকেও ধর্ষণ করতে ধাবিত করে?

না, আমি শুধু একজন সাবেক সেনা কর্মকর্তার নিজের দশ বছরের কন্যাকে ধর্ষণের কথা বলছি না। পৃথিবীতে অসংখ্য বাবা আছেন যারা বুক দিয়ে নিজের কন্যাকে আগলে রাখেন। বাবাই তাদের পরম আশ্রয়। একজন বিকৃতমনস্ক পিতাকে দিয়ে সকল পিতাকে বিচার করা যায় না। যদিও কোনও সন্তানবৎসল পিতা অন্য কারও সন্তানের ধর্ষক হিসাবে আবির্ভূত হবে না, এ কথা হলফ করে বলা যায় না। যাহোক,  এই সেনা কর্মকর্তার মানসিক বিকৃতির ব্যাখ্যা নিশ্চয়ই মনোবিজ্ঞানীরা দিতে পারবেন।

কিন্তু এই ধর্ষণকে ঘিরে আমাদের সমাজের যে বিকৃতি, তার ব্যাখ্য কে দেবে? ইতিমধ্যে কিছু মানুষ দাঁড়িয়ে গেছে ধর্ষক পিতার পক্ষে। চরিত্রহনন করতে বসেছে শিশুটির মায়ের। যেমন তারা করতে বসে যেকোনও ধর্ষণের ঘটনার পর ধর্ষণের শিকার নারীটির। তর্কের খাতিরে যদি ধরেও নেই, শিশুটির মা চরিত্রহীন (!), তাহলেও নিজের কন্যাকে বা যেকোনও শিশুকে বা নারীকে ধর্ষণ করা যে জায়েজ হয়ে যায় না, এই সহজ কথাটা বুঝতে পুরুষ সমাজের অনেকেই অপারগ।

এইদেশে একটা দিনও বাদ যায়না যেদিন কোন ধর্ষণের ঘটনা পত্রিকার পাতায় প্রকাশ হয় না। আর অপ্রকাশিত শত ঘটনার কথা না হয় বাদই দিলাম। তবুও এর প্রতিবাদে মানুষের ঢল নামে না। বৃহত্তর আন্দোলন দানা বাঁধতে মানুষের লাভ ক্ষতির হিসাব আর আবেগের মিশেল লাগে। ধর্ষণের প্রতিবাদে এই দুটোরই অভাব আছে।  ধর্ষণ এই সমাজের কাছে কেবলই ধর্ষণের শিকার নারী আর তার পরিবারের ব্যক্তিগত বিষয়। বৃহত্তর সমাজের, বিশেষ করে, পুরুষের ধর্ষণে কোনও ক্ষতি নেই।

সমাজ (এবং প্রধানত পুরুষজাতি) নারীকে বরং সাত কাপড়ের মোড়কে ঢাকতে বেশি আগ্রহী। নারীর পোশাক নিয়ে তারা ফতোয়া জারি করে, ওয়াজ মাহফিলে মাইক ফাটায়। শত শত শ্রোতাকে ওয়াদা করিয়ে নেয় মেয়েকে স্কুলে না পাঠানোর। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নোংরা চিৎকার করে। মানব বন্ধন করে বাল্যবিয়ের দাবিতে। রাস্তাঘাটে হেনস্তা করে ন্যুনতম সুযোগে। শুধু নিজেদের বিকৃতির দিকে তাকায় না ভুলেও। একটি তিনমাসের কিংবা দশ বছরের শিশুকে (ছেলে শিশুসহ) ধর্ষিত হতে দেখেও তাদের হুঁশ ফেরে না। তাদের এতোসব দাবীর অসারতা বুঝতে তারা নিদারুণভাবে অক্ষম।

পুরুষেরা কবে নাগাদ তবে নিজেদের বিকৃতিটা বুঝতে পারবে? কবে নাগাদ জুতা আবিস্কারের গল্পের মতো পৃথিবীকে নয়, নিজের পা’ কে ঢাকতে শিখবে? কবে নাগাদ পুরুষ শুধুমাত্র পুরুষ থেকে মানুষ হয়ে উঠবে? পুরুষের বোধোদয় এখন সময়ের দাবি।

ধর্ষণ বন্ধে পুরুষকেই জাগতে হবে সবার আগে। তাদের বুঝতে হবে, নারীর পোশাক বা অন্য কিছু নয়, পুরুষের অনিয়ন্ত্রিত ও বিকৃত যৌন আকাঙ্ক্ষাই ধর্ষণের সবচেয়ে বড় কারণ এবং পুরুষের সবচেয়ে বড় অসুস্থতা।

অনেক তো হলো, আর কত? এবার জাগুন পুরুষ বন্ধুরা। এতটুকু সৎ সাহস দেখান। লাগাম পড়ান নিজের বিকৃত যৌনাকাঙ্ক্ষায়। যতদিন পর্যন্ত না আপনারা নিজেরা নিজেদের বিরুদ্ধে দাঁড়াবেন, ততদিন ধর্ষণের এই মহামারী বন্ধ হবে না। যতই আইন হোক, যতই কঠোর থেকে কঠোরতর শাস্তির বিধান রাখা হোক, যতই হারকিউলিসের আবির্ভাব ঘটুক, কিচ্ছু হবে না।

আপনাদের শুভবুদ্ধির উদয় হোক।

১১ Responses -- “ধর্ষণের বিরুদ্ধে পুরুষের বোধোদয় হোক এবার”

  1. Not applicable

    rape is not a rape. it’s a business. don’t want to talk about it in details. that;s it. child pornography or child abuse is not in that category. parents should get punished if they can’t take care of their children.

    Reply
  2. Sajjadur Rahman

    একটু ভিন্ন প্রসঙ্গ টানি। আমি বাংলাদেশের মানুষ। তাই অধিকাংশের মতোই আমি খুব অহংকার করে বলি আমার একজন আত্নীয় বড় সরকারি চাকুরে। আড্ডায় খুব বড়াই করে আমার সেই আত্নীর ক্ষমতার (টাকা/প্রশাসনিক) গল্প করি। বলি, তিনি ঢাকায় কোটি টাকার ফ্ল্যাট বুকিং দিয়েছেন। শেয়ার ব্যবসা (!) থেকে প্রচুর লাভ করছেন। আরও আছে গ্রামের বাড়িতে মসজিদ, স্কুল, পাকা দালান, প্রচুর জমিজমা।
    কিন্তু বিবেকবান মাত্রই বুঝবেন, আমার আত্নীয় কোন না কোন ভাবে দুর্নীতির আশ্রয় নিচ্ছেন। সমস্যা থেকে পরিত্রাণের উপায় দু’টো:
    ১ – তার দুর্নীতির চর্চা বন্ধ করা।
    ২ – আমার মতো আর সব আত্নীয়ের সেই দুর্নীতিবাজের প্রতিবাদ করে, তার কাজকে ঘৃণা করা এবং নিজেও দুর্নীতি থেকে দূরে থাকা।

    তেমনিভাবে, দেশে ধর্ষণ একটি নিত্তদিনের ঘটনা। ধর্ষণের শিকার হচ্ছে শিশু (ছেলে-মেয়ে), বোরখা পরা নারী, বোরখা না পরা নারী। ধরে নিচ্ছি, নারীর পোশাক পুরুষকে ধর্ষণে উ‌ৎসাহিত করে। প্রশ্ন হচ্ছে, ধর্ষক তাহলে শিশুর কোন দিকটা দেখে ধর্ষণে উ‌ৎসাহিত হচ্ছে?
    কোন সমস্যা সমাধানের প্রথম শর্ত হলো, সমস্যাটাকে ‘সমস্যা’ হিসেবে মেনে নেওয়া। ধর্ষণ বাংলাদেশের একটা খুব বড় একটি সমস্যা। একজন ধর্ষিত ও তাঁর পরিবার এই অপরাধের শিকার হয়ে চিরতরে মানসিক পঙ্গু হয়ে যায়। আসুন সবাই স্বীকার করে নেই, ধর্ষণ আমাদে অন্যতম জাতীয় সমস্যা। কবে না কবে ধর্মীয় অনুশাসন প্রতিষ্ঠা হবে তার আশায় বসে না থেকে, “ধর্মীয় অনুশাসন দেশে থাকলে” – এই বাণী মনে ধরে না রেখে বড়ং এখনই কিছু একটা করি। নিজের সন্তান, ভাই, ভাগ্নে, ভাতিজা এদের নারীকে সম্মান করতে শেখাই। সবাই আরেকবার মনে করি, ‘৭১-র দুই লাখ মায়ের হারিয়ে যাওয়ার ক্ষতিটুকু। দুই লাখ (আমার বিশ্বাস, আরও বেশি) মা, তাঁদের পরিবারের কষ্ট একটু চোখ বুজে ভাবতে গেলেই গা শিউরে ওঠে। গড়ে একজন করে হলেও দেশে গত আটচল্লিশ বছরে প্রায় কুড়ি হাজার মানুষ ধর্ষণের শিকার। আমরা পুরুষেরাই সংখ্যাটাকে এই মাত্রায় বাড়তে দিয়েছি। আর না!

    Reply
  3. মনিরুল ইসলাম

    সুমন ভাই,
    চমৎকার কথা বলেছেন আপনি। আমাদের দেশ প্রায় ৯০ ভাগ মুসলমানের দেশ। এই দেশ যদি ইসলামী অনুশাসন মেনে চলত তাহলে দেশে ধর্ষণের মত ঘটনা ঘটত না।

    Reply
  4. সুমন মিয়া

    শাশ্বতী বিপ্লব, বাঁকা চোখে অনেক সোজা কথা সহজেই বলে ফেললেন। একটু গবেষণা করে, কিছুটা সময় ফিল্ড করে তারপরে নাহয় বলুন।

    বিদ্যমান সমাজের দুটি অবিচ্ছেদ্য অংশ নারী ও পুরুষ। প্রাকৃতিক কারণেই এরা একে অপরের প্রতি আকর্ষিত। তাই বলে তাঁরা পশুর মতো আচরণ করবে তা আমি বলছি না। আমি শুধু বলতে চাচ্ছি নারী-পুরুষের সামাজিক সম্পর্কটা দোতলা ভবনের ছাদে একটি কাঠের গুড়ি উত্তোলনের মতো। পুরুষ জাতিকে কাঠের গুড়িটি নিচে থেকে ওপরের দিকে ঠেলতে হবে অপরদিকে নারী জাতিকে ছাদের ওপর বসে রশি দিয়ে কাঠের গুড়িটিকে উপর দিকে টানতে হবে। তাহলেই কাঠের গুড়িটি তার অভীষ্ট লক্ষে পৌঁছে যাবে। তদ্রূপ,পুরুষ জাতি যদি তাঁদের চোখকে হেফাজত করে অপর দিকে নারী জাতি যদি তাঁদের আবরূ ঢেকে রাখে তবে ধর্ষণের মতো নানাবিধ সমস্যা অনেকাংশে হ্রাস পাবে। এর জন্যে সর্বাগ্রে প্রয়োজন ধর্মীয় শিক্ষা। দেশ ও জাতিকে অস্থিরতা থেকে স্থিরতায় ফিরিয়ে আনতে উপর্যুক্ত শিক্ষার বিকল্প নাই।

    Reply
  5. Anonymous

    No one can stop the urge of Procreation. It is the ultimate goal of life. It is too powerful. Religion tries to suppress it for thousands of years but failed even during Victorian era Christian introduced skirt on a table to hide the legs of a table(resemble women’s leg and provoke sexual thought) in Europe. Monogomy is artificial thus you can control up to a limit. European scholar tried so many ideas for thousands of years before come to conclusion that more you suppress sex more pervasive it becomes; therefore, sex between consenting adults should be open and only rape should be punished severely. Stop suppressing sex in the society. It is a basic need and it was never meant to be monogamous. Monogamy is a social construct it worked well during agrarian society but it will fail in this internet-based open society. You can not fool people anymore by artificial fear or punishment but you can educate people. Faster you accept this reality better the society will become.

    Reply
  6. হাসান মাহমুদ

    এ নিবন্ধ সময়ের দাবী, লেখককে ধন্যবাদ। এটা এখন জাতীয় মহা দুর্যোগ। হাইফাই নারীরা ছাড়া আমাদের নারীরা ভয়াবহভাবে অরক্ষিত হয়ে পড়েছে, বাংলাদেশ ধর্ষকদের স্বর্গরাজ্যে পরিণত হয়েছে, ৯৭% ধর্ষকের শাস্তি হয়না। যদিও ধর্ষণের মহামারীর বিরুদ্ধে জেগে আছে পুরো জাতি, জেগে আছে নারী-পুরুষ সবাই এবং সমাজের শুভশক্তি কিন্তু ঘুমোচ্ছে শুধু সরকার – এ ব্যাপারে সরকারের উদাসীনতা ক্ষমাহীন। ধর্ষিতার পরিবার মামলা করার পর ধর্ষক গ্রেপ্তার হয়ে ও জামিন পেয়ে ধর্ষিতাকে আবার গণধর্ষণ করে হত্যা পর্যন্ত করেছে, এমন বীভৎস ঘটনার পরেও সরকারের উদাসীনতা চূড়ান্ত ক্ষমাহীন। প্রথমেই দরকার “ধর্ষকের একমাত্র শাস্তি মৃত্যুদন্ড” এ আইন করে কঠিন হাতে সেটা প্রয়োগ করা, এ মামলা এফ-আই-আর নিয়ে পুলিশের ছলচাতুরীর বিরুদ্ধে কঠিন শাস্তির বিধান করা।

    এটা নুতন কিছু নয়, ধর্ষণের মহামারী ঠেকাতে গত সপ্তাহে কঠিন পদক্ষেপ নিয়েছে সিয়েরা লিওন, জাতীয় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন প্রেসিডেন্ট জুলিয়াস মাদাবিও।

    Reply
    • সৈয়দ আলি

      হাসান মাহমুদ, আহা একথা বলতে গেলেন কেন যে, ‘……ঘুমোচ্ছে শুধু সরকার – এ ব্যাপারে সরকারের উদাসীনতা ক্ষমাহীন।’ সরকারের চাকরবাকর নয়া কলামবাজদের প্রানে আঘাত লাগবেতো!

      Reply
  7. Harry J

    This is a wonderful article to read but does not provide any practical solution. Historically, this ideal goal of self purification is never achieved in any society around the world. What is needed is a strong law and its blind application. There are societies like in BD, Who will either learn from or fear about consequences of such act. At the same time, it is not just about rape, it is about the outlook about women too. For example, eve teasing or after watching a girl int he street, the desire to have her is the problem. Only way to stop it significantly is by huge punishment. It will not be 100% but it will make a mark. The the awareness campaign like you suggested may find its way into the resolution.
    Not sure if I wasted my time here because this kind fo online newspapers have a strange editorial staff who often does not publish things which they don’t understand or think useful. Hoping for the best.

    Reply
  8. সৈয়দ আলি

    লেখকের বিশ্বাস তাবৎ পুরুষ জাতিই নারী ধর্ষক অতএব তিনি ঢালাও পুরুষদের ডাকছেন, ‘অনেক তো হলো, আর কত? এবার জাগুন পুরুষ বন্ধুরা। এতটুকু সৎ সাহস দেখান। লাগাম পড়ান নিজের বিকৃত যৌনাকাঙ্ক্ষায়। যতদিন পর্যন্ত না আপনারা নিজেরা নিজেদের বিরুদ্ধে দাঁড়াবেন, ততদিন ধর্ষণের এই মহামারী বন্ধ হবে না’। কি নির্বোধের মত বিশ্বাস! সমাজে, মিডিয়ায়, সংঘে যে পুরুষেরা ধর্ষনের বিরূদ্ধে দাঁড়াচ্ছেন, তা’ তার চোখেই পড়ছে না? আশ্চর্য্য!

    Reply

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। প্রতিক্রিয়া লেখার সময় লক্ষ্য রাখুন--

  • ১. স্বনামে বাংলায় প্রতিক্রিয়া লিখুন।
  • ২. ইংরেজিতে প্রতিক্রিয়া বা রোমান হরফে লেখা বাংলা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না।
  • ৩. প্রতিক্রিয়ায় ব্যক্তিগত আক্রমণ গৃহীত হবে না।

দরকারি ঘর গুলো চিহ্নিত করা হয়েছে—