ক্রিকেট ম্যাচে ‘ম্যারি মি আফ্রিদি’ প্ল্যাকার্ড বা অন্য দেশের পতাকা নিয়ে নাচানাচিতে বিতর্কের অন্ত নাই। কৈশোরেই টের পাই-ক্রিকেটে পাকিস্তান বা ভারতের পক্ষ-বিপক্ষ দিয়ে রাজনৈতিক চিন্তাধারা মাপা যায়। কেউ কেউ পণ্ডিতি ঢঙে বলেন-খেলার সাথে রাজনীতি মেশাবেন না। এ কথা শুনতে যত সুন্দর, কার্যত কি তাই?

বিশ্ব ক্রিকেটে নাম লেখানোর পর বাংলাদেশের বিপরীতে যে দেশই খেলুক না কেন ছেলে-বুড়ো সবাই দেশের পতাকাই হাতে নেয় ঠিকই, সব সময় মনে বহন করে তো? পাকিস্তান বা ভারতের ক্রিকেট টিমের খেলা হলেই জানান দেয়- এখনও ওই পক্ষপাত বহমান। এখনও নির্লিপ্ততা আসেনি, আসার সম্ভাবনাও কম, বাংলাদেশিরাও যে চেতনায় উপমহাদেশের রাজনীতির অংশ।

শুধু বাংলাদেশি দর্শক নয়, ভারত ও পাকিস্তানের মিডিয়া বা সোশ্যাল মিডিয়ায় ক্রিকেট উন্মাদনা বলে খেলার অতিরিক্ত খোরাক আছে এতে। এক টিকিটে দুই সিনেমা দেখার মতো খেলার নৈপুণ্যের সাথে আরও অনেক কিছুই দর্শককে নাচায় ভেতরে ভেতরে।

বিশ্বমঞ্চে অনেক আগেই দুই ভাগে বিভক্ত হয়েছে খেলা- পেশাদার আর শৌখিন। শিল্প বিপ্লবের পর নিয়ম-বিধির বেড়াজালে কাঠামোয় গড়া খেলাকেই আমরা এখন খেলা হিসেবে চিনি। এককালে বিলেতে ক্রিকেটকে অভিজাতদের খেলা হিসেবে দেখা হতো, আর ফুটবল ছিল শ্রমজীবীর হুল্লোড় সংস্কৃতির দখলে। ইতিহাস ঘাটলে দেখা যাবে বিলেতি এক বিশ্ববিদ্যালয়ে ফুটবলের নিয়ম-কানুন তৈরি হলেও যেই না শ্রমিকরা বলে পা ছোঁয়ালো অমনি ওরা এই খেলা থেকে সরে যায়। ছোটলোকরা খেলছে যে!

শিল্পায়নের যুগ শুরুর পর সেদেশের গাঁও থেকে শহরে উঠে আসা মানুষ ঐতিহ্যগত বিনোদনের অবারিত সুযোগ হারাতে থাকে। নতুন নিয়মের এসব খেলায় মাততে শুরু করে তারা। সুঠাম শরীরের শ্রমিক প্রাপ্তির কামনায় খেলাকে উৎসাহিত করা হলেও এক সময় জনপ্রিয়তায় বাণিজ্যের গন্ধ পায় ব্যবসায়ী। শুরু হয় পেশাদার খেলা। খেলোয়াড়রা পেতে শুরু করেন মজুরি, কারখানার কাজের চেয়ে একটু বেশিই তা। এখন তো তেমন খেলোয়াড় হলে ধনী বনে যায় রাতারাতি। শুধু ব্যবসায়ী নয় খেলার জনপ্রিয়তায় ভাগ বসাতে নেমে পড়েন রাজনীতিকরাও।

মাঠে বল নিয়ে ছোটাছুটির আনন্দর বদলে দেখেই সুখি হওয়া দর্শকই হয়ে ওঠে এসব খেলার অংশ। খেলার বিভাজনের সংজ্ঞায়নে ‘দর্শকনন্দিত খেলা’ যুক্ত হয়ে যায়। খেলা আর মাঠে সীমাবদ্ধ থাকে না। খেলা দেখার বিনোদন বেচা হয়ে দাঁড়ায় বিশাল ইন্ডাস্ট্রি। কোন খেলার দর্শক বেশি তা নির্ধারণ করছে সেই খেলার গুরুত্ব। পপকর্ন খেতে খেতে খেলা দেখাই এখন শ্রমজীবীর কাজ। যত দর্শকনন্দিত তত বাণিজ্য। তবে কি চৌকস শ্রমিক প্রাপ্তির লক্ষ্য উবে গেল?

শ্রমিকের শারীরিক সক্ষমতা বৃদ্ধির চিন্তায় গড়া খেলা মেটাতে শুরু করে সামাজিক অন্যান্য প্রয়োজনও। বিধিবদ্ধ  খেলা দেখাকে ভাবতে শুরু করা হয় গণপাঠশালা। ‘ফেয়ার প্লে’ বা খেলায় শুদ্ধাচারের মধ্য দিয়ে নিয়ম মানার চেতনা দর্শকের মননে দানা বাঁধবে, সমাজে পরস্পরের প্রতি আচরণে বিধি মান্য করার প্রবনতা বাড়বে- এই যেমন, কাচ্চামি ছাড়া ‘ফেয়ার প্লে’ জনগণের মনে ‘ফেয়ার ইলেকশন’-এর কামনাও জাগাবে। নিজের দল হেরে গেলেও সুষ্ঠু নির্বাচন কেন ভালো লাগে জানতে চাইলে লোকে যেন বলে- ‘এই ঠেলায়-আনন্দে-ঘোরতে।’ ক্রিকেট প্রতিনিয়ত শেখায় যতবড় ভুল সিদ্ধান্তই দিক না কেন আম্পায়ার নামক কর্তৃপক্ষর মতামত বিনা বাক্য ব্যয়ে মাথা পেতে নাও। আজকাল একটু বদলেছে- রিভিউ চাওয়ার কিঞ্চিৎ সুযোগ জুড়েছে- তাই আর নিঃশর্ত আনুগত্যর শিক্ষা চালানো যাবে কি? কর্তৃপক্ষকে কী দিয়ে কী হলো জিজ্ঞেস করার জবাবদিহিতার সংস্কৃতি শক্তি পাবে নিশ্চয়।

খেলার জন্য খেলোয়াড় তৈরি, কূটকৈৗশল শেখানোর বিদ্যাই নয় শুধু, মনোবিজ্ঞান, বিপণন, ব্যবস্থাপনাসহ অনেক অনেক বিদ্যাই এখন বিশ্ববিদ্যালয়ে পর্যায়ের পাঠ্য। এমন কী ধনতান্ত্রিক সমাজে জীবনের অপরিহার্য অংশ হয়ে ওঠায় খেলার সমাজবিজ্ঞান শাখাও সৃষ্টি হয়ে গেছে। বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের পাঠ্য হতে হলে গণপাঠকের বোধের অতিরিক্ত গভীরতা নিশ্চয় বিষয়টির জন্য দরকার পড়ে। ব্যাপারটা তাহলে কোন হেলাফেলার ব্যাপার নয়।

আমাদের দৈন্যতা গণমাধ্যম নামক গণপাঠশালায় চার-ছক্কা মারা ছাড়া অন্যান্য বিষয়াবলি স্থান পায় না। খেলার পত্রিকা দশর্কের প্রাথমিক উত্তেজনা মেটানো অব্দি দৌড়। তাই দর্শকনন্দিত খেলায় খেলোয়াড়ের সাথে দর্শকও যে গিনিপিগ বোধে ধরা দেয় না। পত্রিকায় এসব বিষয় উঠে আসলে পণ্ডিতি ঢঙে বলা – খেলার সাথে রাজনীতি মেশাবেন না – কথাটা যে মূর্খ বচন বুঝতে অসুবিধা হতো না কারো। অথচ ১৯৬৩ সালে প্রকাশিত জগৎ খ্যাত ‘বিঅন্ড আ বাউন্ডারি’ বইটি লেখার উদ্দেশ্য বলতে গিয়ে মুখবন্ধে সি এল আর জেমস বলেছেন, যারা শুধু ক্রিকেট জানে তারা আদতে ক্রিকেটের কী জানে? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই তিনি কলম ধরেছেন। বইটি প্রকাশের পঞ্চাশ বছরপূর্তির বিশেষ সংস্করণের প্রারম্ভ বক্তব্যে হেনরি লেখেন- সমাজ ও সংস্কৃতিতে খেলার বিশেষ করে ক্রিকেটের গুরুত্ব তুলে ধরা এই বই এখনও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

বিশ্বমানের খেলোয়াড় তৈরি হওয়ায় ক্রিকেট দক্ষিণ এশিয়ার প্রধান দর্শকনন্দিত খেলায় পরিণত হয়েছে। এ অঞ্চলের চার-চারটি দেশ বিশ্বমানের ক্রিকেটে নাম লেখানোতেই থেমে থাকেনি। শ্রমিক পাড়ার হুজ্জতিতে গড়া ফুটবল সংস্কৃতির বিপরীতে গড়া বিলেতের ভদ্দরলোকী আভিজাত্যের ক্রিকেটকে টেনে পথে নামিয়ে এনেছে এরা। সেই জমিদারি ভাব আর ক্রিকেটের নাই। দক্ষিণ এশিয়ায় খনিশ্রমিক, প্রহরী, মুটে-মজুরের ছেলেরাও দখল নিয়েছে এই খেলার। আর দর্শক হিসেবে তো বটেই। দর্শকনন্দিত ক্রিকেটের ক্ষমতা-কেন্দ্র এখন শতকোটি মানুষের ভারত, বিলেত নয়। ক্রিকেটে সত্তরে ক্যারিবিয়ান (ওয়েস্ট ইন্ডয়ান) আর আশির দশকে এশিয়ার উত্থানের পর বিলেতের লর্ডস থেকে ভারতে ক্রিকেটের কেন্দ্র সরে আসার স্বস্তি পাকিস্তানের প্রভাশালী পত্রিকা ডনের কলামনিস্ট আহমের নাকভির কলমেও ফুটে উঠছে। ক্রিকেট একদা ঔপনিবেশিক স্বার্থরক্ষার হাতিয়ার ছিল বলেই মনে করেন তিনিও। বিশ্ব ক্রিকেটের ক্ষমতা ভারতের হাতে চলে আসাকে ‘চিরশত্রু দেশ’ পাকিস্তানেও আগ্রহের ব্যাপার হয়ে উঠেছে। ফলে ক্রিকেটকে নতুন বিন্যাসে সাজানোর তাগিদ ভেতর থেকেই অনুভূত সন্দেহ নাই।

সীমান্তে যুদ্ধ উত্তেজনার বাইরে পাকিস্তান ও ভারতের মধ্যে ক্রিকেট ম্যাচই এখন উত্তেজনার সুনামি ঘটনায়, অন্য আর কোন দেশের মধ্যে ম্যাচে এমন ধারার উত্তেজনা দর্শক অনুভব করে কি? খেলা নিয়ে এই মানসিক পরিস্থিতি বিশ্বের সেরা সব ক্রিকেটার এ তল্লাটে বাস করে তার জন্য কিন্তু নয়। দুটো পৃথক স্বতন্ত্র দেশ হলেও তাদের জনগণের ভেতর ঐতিহাসিক রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের বাঁধন এখনও অটুট- সেটা দ্বিজাতি তত্ত্ব। একাত্তর উত্তরকালেও বাংলাদেশিদের মধ্যেও এই বিভাজন তাড়িত রয়েছে অনুমান করা যায়- যেন বনবাসে গিয়েও সেই চেতনাই সিংহাসনে রামের জুতোজোড়া হয়ে রাজত্ব চালাচ্ছে।

তারপরও ক্রিকেটে বাংলাদেশের অভ্যুদয় উপমহাদেশীয় ক্রিকেটের বাজারই সম্প্রসারণ করেনি ক্রিকেটীয় গণপাঠশালায় নতুন পাঠ সংযোজনের সূচনার সম্ভাবনাও জাগাচ্ছে। ‘এই সেদিনের ছেলে’ বাংলাদেশ ক্রিকেট টিম টেস্ট, ওয়ান-ডে ও টি-টোয়েন্টি তিন ফরম্যাটেই উপরে উঠতে শুরু করেছে। র‌্যাংকিঙে বাংলাদেশের খেলোয়াড়রাও জায়গা করে নিচ্ছে পাল্লা দিয়েই। এতে ক্রিকেটিয় লড়াইকে কেন্দ্র করে দক্ষিণ এশিয়ায় দ্বিজাতি তত্ত্বে গড়া সাম্প্রদায়িক চেনতায় যে বাতাস পাচ্ছিল তাতে ভাটা হয়তো পড়বে। যদিও ভারত ও বাংলাদেশের ম্যাচেও দুই দেশের সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচলিত ঘৃণা চর্চার ছায়া উদগীরণ হতেও দেখা যায়।

ব্রনো ইউনির্ভাসিটির মজমির হাজেক (নামটি কি সঠিক উচ্চারণ করলাম!) খেলার সমাজবিজ্ঞান ক্ষেত্রটি নিয়ে বলছেন, আধুনিক জীবনের অংশী এই খেলার প্রক্রিয়ার মধ্যে দিয়ে প্রতিযোগিতামূলক পারস্পরিক দ্বন্দ্বকেও নীতিগত সীমায় বেঁধে দেয়- ‘ফেয়ার প্লে।’ তাদের কথায় ভারসা জাগে ব্যক্তি ও যুথবদ্ধ-জীবনে ‘ বীরভোগ্যা বসুন্ধরা’, ‘আপনি বাঁচলে বাপের নাম’ ধারণার পাশাপাশি সহাবস্থানে শৃংখলার শুদ্ধাচারবোধসহ আরও অনেক দিক খেলা সমাজে জাগ্রত করে। যদিও খেলার লড়াই নাকি শুদ্ধাচার নীতি কোনটা ভারত-পাকিস্তানের ‘চিরশত্রুতা’ মূলক সামাজিক-রাজনৈতিক খেলায় প্রভাব ফেলছে বলা মুশকিল। শত্রুতা বাঁচুক শুদ্ধাচার বাঁচুক  পরিস্থিতিটি যেন এমন। খেলায় এই অনুভূতি বিক্রি-বাট্টায় জোয়ার আনাটা উপভোগ করেই থাকেন মুনাফাজীবীরা। ফলে প্রচীনতর সূর্যদেবের উষালগ্নে যে যার বিশ্বাসে এই জোয়ার ধরে রাখার প্রার্থনা না করে পারেন না।

লক্ষ্য করলে দেখা যায়, বিশ্ব টুর্নামেন্টগুলোর বাইরে আঞ্চলিকভাবেও বড় বড় টুর্নামেন্ট হচ্ছে। ভারতের অভ্যন্তরীণ টি-টোয়েন্টি আসর আইপিএল বিশ্বের ক্রিকেটারদের কাছে লোভনীয় হয়ে উঠেছে। ‘একটা চান্স দেন না’ অনুরণীত হতে থাকে সবার মনে। টাকার ঝনঝনানি, স্বল্পবসনা চিয়ারস গার্ল প্রদর্শন আর বোম্বের সেলিব্রেটি নায়ক-নায়িকা দিয়েও দেশের নামে টিমের প্রতি মাদকতা আনতে পারছে কি? ‘জীবন একটাই একে উপভোগ করো’ প্রতিফলিত হয় বটে। এরই ছোট সংস্করণ বিপিএল চলছে বাংলাদেশে। বড়র বিভায় ছোটর আদতে কোনও স্থান নাই। ফলে বাংলাদেশ ভিন্ন মাত্রার অনন্য টুর্নামেন্ট আয়োজনের উদ্যোগ নিতে পারে। টুর্নামেন্টের ধরন ভেদে খেলায় আকর্ষণের কম-বেশি বলে দেয় নৈপুণ্যের চেয়ে অন্য মাদকতায় টানে দর্শককে বেশি। নৈপুণ্য ছাড়াও বাণিজ্যের প্রসারে খেলায় অন্য আরও লক্ষ্মী দরকার।

ভারত-পাকিস্তান ম্যাচে সেই লক্ষ্মীর বাস দ্বিজাতি তত্ত্বে। এর ফেরে পড়ে কী পাকিস্তান কী ভারত দুদেশের মানুষের আর সব পরিচয় চাপা পড়ে গেছে। এরই ছুতোয় দুই দেশে উর্দু আর হিন্দির দোর্দণ্ড প্রতাপ। কিন্তু সেখানে আরও অনেক ভাষাভাষি মানুষ রয়েছে। আছে সাংস্কৃতিক আরও বৈচিত্র্য। আর অবদমনের স্বীকার মানুষদের মাতৃভাষা নিয়ে আছে তৃষ্ণাও। ভাষার জাহাজে চড়েই একেক জনপদের সংস্কৃতি পাড়ি জমায় এক কালের তীর থেকে অন্যকালের সৈকতে। তাই রাষ্ট্রীয় রাজনৈতিক পরিচয়ের বাইরে মাতৃভাষা প্রতি মানুষের অনুরাগ কম নয়। এই আবেগ এসব দেশের সামাজিক মাধ্যমে স্পষ্ট। এর ওপর রয়েছে ইংরেজির আধিপত্য-আমার ছেলের বাংলাটা ঠিক আসে না’ কবিতা বলে দেয় অন্তরের পরিস্থিতি।

অন্য দিকে ভাষা আন্দোলন বাংলাদেশের মানুষের মনন শুধু গড়েইনি, তার ধারাবাহিকতায় দেশ স্বাধীন হওয়ায় এই আবেগকে নিয়ে গেছে অনন্য উচ্চতায়। একুশে ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে আজ স্বীকৃত। একদিন যা ছিল শুধুই বাঙালির অধিকারের দাবী, তা আজ বিশ্বের তাবৎ মানুষের মাতৃভাষা ও সংস্কৃতির জাগরণে প্রাণিত করার উৎস। অসংখ্য জনপদের ভাষার বিলীনের শঙ্কায় বিচলিত বিশ্বে মাতৃভাষা বিষয়ে শিখরে বাংলাদেশের অবস্থান। অথচ ভূ-কূটনীতির কথা বলা হয়, অর্থনৈতিক কূটনীতির কথা বলা হয় কিন্তু মাতৃভাষা নিয়ে কূটনীতির ক্ষেত্র তৈরির ভাবিত হতে দেখা যায় না।

মাতৃভাষাকে কেন্দ্র করে কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক পদক্ষেপ নিতেই পারে বাংলাদেশ। এমন কি ক্রিকেট টুর্নামেন্ট আয়োজনের কথাও ভাবা যেতে পারে। যেখানে আপন সত্তা খুঁজে পাবে দক্ষিণ এশিয়ার নানা ভাষাভাষী মানুষরা। এতে অবদমিত মানুষ তার নতুন দিশা যে খুঁজে পাবে না সে কথা হলফ করে কেই বা বলতে পারে?

আত্ম-পৌরুষের খোঁজে খেলার প্রতি ঝুঁকে পড়াকে দর্শক প্রিয়তার আঁতুড়ঘর ভাবা হয়ে থাকে। ঘর ছেড়ে বেরিয়ে আসা নারীরাও একদা মাঠে নামে। বাংলাদেশে কিশোরী থেকে নারী সব স্তরের ফুটবল-ক্রিকেট আয়োজন জমজমাট হয়ে উঠেছে। অবগুণ্ঠন ফেলে সমাজের সর্বস্তরে পুরুষের পাশে নারীর সাচ্ছন্দ্য সহাবস্থানের তাগিদ এসব আয়োজনের পেছনে বলার অপেক্ষা রাখে না। শুধু বাংলাদেশই নয় দক্ষিণ এশিয়ার সব দেশেই নারী জাগরণের তাগিদ অনুভূত হচ্ছে। পাকিস্তানি এক ফুটবল-পাগল তরুণী কারিশমা আলির সাথে সম্প্রতি পরিচয় হয়, যে উঠে এসেছে এমন গ্রামাঞ্চল থেকে যেখানে নারীদের এখন বাজারে যেতেও বাধা দেওয়া হয়। পাশতুন অধ্যুষিত ঐ গ্রামীণ বাজারে একদা দুটো বিউটিপার্লারও নাকি ছিল, যা বন্ধ হয়েছে রাজনৈতিক পরিস্থিতির চাপে। গত বছর সাহস করে পাহাড় ঘেরা চিত্রালে কিশোরীদের ফুটবল প্রশিক্ষণ দিতে গিয়ে হুমকির মুখে পড়ে ঐ তরুণী। ধর্মীয় চৈতন্যের পাশাপাশি পাকিস্তানে নানান ভাষাভাষির মধ্যে ভাষাভিত্তিক সমষ্টিক চেতনা খোঁজার প্রবণতা প্রবল হচ্ছে।

সন্ত্রাসবাদের হুমকি থেকে দক্ষিণ এশিয়াকে বাঁচাতে হলে ধর্ম অনুরাগের পাশাপাশি চেতনার অন্যান্য ভিত্তিগুলোর মধ্যে ভারসাম্য আনা জরুরি। মাতৃভাষা সেখানে বিপুল কার্যকর বলেই মনে হয়। দেশ ও ধর্ম মানুষের যেমন আত্মপরিচয় হিসেবে বিবেচিত, মাতৃভাষাও। ভাষাভিত্তিক টিমের ক্রিকেট টুর্নামেন্ট আয়োজন করে ভারতবর্ষে বাংলাদেশ শক্তিশালী অনুঘটক হয়ে উঠতে পারার স্বপ্ন দেখতে দোষ কী? হতে পারলে একুশের চেতনা স্বার্থকতার গৌরব বাড়বে শতগুণ। যেখানে ইংরেজি কেন্দ্রিকতা ভেঙে উঠে আসবে সবার মাতৃভাষা।

মুজতবা হাকিম প্লেটোসাংবাদিক

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। প্রতিক্রিয়া লেখার সময় লক্ষ্য রাখুন--

  • ১. স্বনামে বাংলায় প্রতিক্রিয়া লিখুন।
  • ২. ইংরেজিতে প্রতিক্রিয়া বা রোমান হরফে লেখা বাংলা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না।
  • ৩. প্রতিক্রিয়ায় ব্যক্তিগত আক্রমণ গৃহীত হবে না।

দরকারি ঘর গুলো চিহ্নিত করা হয়েছে—