রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘ তাদের তাত্ত্বিক ভিত্তির মূল উপাদান হিসেবে ১৯৩৯ সালে প্রকাশিত এম এস গোলওয়ালকরের- ‘উই অর আওয়ার নেশনহুড ডিফাইন্ড’ নামক পুস্তিকাটিকে সবথেকে বেশি গুরুত্ব দেয়। এই পুস্তিকাতেই ভারতের সংখ্যাগুরু সাম্প্রদায়িক, মৌলবাদী শক্তির সংখ্যালঘুদের প্রতি, বিশেষভাবে মুসলিম, খ্রিস্টানদের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি এবং ফ্যাসিবাদের প্রতি তাদের কী ধারণা – তা অত্যন্ত পরিষ্কারভাবে লিপিবদ্ধ আছে। গণতন্ত্রের প্রতিটি বা সংখ্যাগুরু সাম্প্রদায়িক শক্তির দৃষ্টিভঙ্গী কেমন হতে পারে – তারও একটা রূপরেখা গোলওয়ালকর তার ওই বইতে নির্দিষ্ট করে উল্লেখ করেছেন।

এসব দৃষ্টিভঙ্গির তাত্ত্বিক ভিত্তি নির্মাণ প্রসঙ্গে প্রথমেই গোলওয়ালকর অত্যন্ত খোলাখুলিভাবে হিটলারের নাৎসি সাংস্কৃতিক জাতীয়তাবাদের প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়েছেন। গোলওয়ালকর লিখছেন, ‘এখন একটা আলোচনার বিষয়বস্তু হিসেবে উঠে আসছে জার্মানদেশের মানুষদের জাতিগত গর্বের বিষয়টি। সেমেটিক জাতিগুলিকে জাতি এবং জাতির সংস্কৃতিজনিত বিশুদ্ধতা বজায় রাখবার আঙ্গিক থেকে, পরিষ্কারভাবে বলতে গেলে ইহুদিদের সাফ করে দেওয়ার ভিতর দিয়ে গোটা বিশ্বকে একদম তাক লাগিয়ে দিয়েছে জার্মানেরা।”

“জাতিগর্বের যে চরম প্রকাশ সম্প্রতি জার্মানিতে দেখা গিয়েছে- তেমনটা আর কোনও দেশে ই আমরা আজ পর্যন্ত দেখতে পাই নি। মূলগত পার্থক্য থাকা স্বত্ত্বেও জাতি এবং সংস্কৃতির ভিতরে কীভাবে একটা একাত্মতা এবং সমগ্রতা গড়ে তোলা সম্ভব – সেটা সাম্প্রতিক জার্মানি খুব ভালো করে দেখিয়ে দিয়েছে। এই শিক্ষা আমাদের হিন্দুস্তানের শেখা একান্তভাবেই জরুরি এবং সেই শিক্ষাকে কাজে লাগিয়ে আমাদের হিন্দুস্তানের মানুষদের লাভবান হওয়া দরকার।” (উই অর আওয়ার নেশনহুড ডিফাইন্ড- এম এস গোলওয়ালকর, ১৯৩৯, পৃ- ৩৫) ।

হিটলারের ফ্যাসিস্ট চেতনায় কিভাবে গোলওয়ালকর ‘হিন্দুরাষ্ট্রে’ চেতনাকে লালন পালন করেছিলেন – তার দিশাও আমরা আলোচ্য এই বইটি থেকেই পাই। তিনি লিখছেন- “প্রাচীনকালে রাষ্ট্রগুলি তাদের সংখ্যালঘু সমস্যাগুলির সমাধান কোন পথে করেছে – সেদিকে দৃষ্টি দেওয়া আমাদের প্রথম থেকে দরকার। প্রাচীন রাষ্ট্রগুলি তাদের স্ব স্ব রাষ্ট্রকাঠামোর ভিতরে কোনও পৃথক উপাদানকে প্রথম থেকেই বিন্দুমাত্র স্বীকৃতি দেয়নি। বহিরাগত অভিবাসীদের দেশের বৃহত্তম জনসংখ্যা, যাকে এক কথায় রাষ্ট্রীয় জাতি হিসেবে অভিহিত করা যায়, সেই রাষ্ট্রীয় জাতির সঙ্গে মিশে যেতে হয়েছে। বহিরাগত অভিবাসীদের গ্রহণ করতে হয়েছে রাষ্ট্রীয় জাতির ভাষা এবং সংস্কৃতিকে। রাষ্ট্রীয়ভাবে জাতির আশা-আকাঙক্ষার অংশীদার হতে হয়েছে বহিরাগত অভিবাসীদের। তাদের নিজেদের পৃথক অস্তিত্বের কথা সম্পূর্ণভাবে ভুলে যেতে হয়েছে। নিজেদের অপরদেশের মাটিতে উৎসের কথাও এইসব বহিরাগত অভিবাসীদের ভুলে যেতে হয়েছে।”

“এইসব বিষয় ভুলতে না পারলে নিছক একজন বহিরাগত হিসেবেই তাদেরকে থেকে যেতে হবে। থাকতে হবে রাষ্ট্রের অধীনস্ত হয়ে। কোনও রকম বিশেষ সুযোগ সুবিধা এই ক্ষেত্রে তারা কোনোদিনও পেতে পারবে না। কোনও বিশেষ সুরক্ষার অধিকার ও এইসব বহিরাগতদের কোনদিনও থাকবে না।”

“বহিরাগতদের জন্যে কেবলমাত্র দুটি পথ খোলা আছে। একটি পথ হলো: রাষ্ট্রীয় জাতির সঙ্গে মিশে যেতে হবে। রাষ্ট্রীয় জাতির সংস্কৃতিকে গ্রহণ করতে হবে। অথবা রাষ্ট্রীয় জাতির ইচ্ছের উপর নির্ভর করে, তাদের করুণার উপর নির্ভর করে এইসব বহিরাগতদের বাঁচতে হবে। রাষ্ট্রীয় জাতি যখনই এইসব বহিরাগতদের দেশ থেকে বহিষ্কার করতে চাইছে, বহিরাগতেরা তখনই দেশ থেকে চলে যেতে বাধ্য থাকবে।সংখ্যলঘু সমস্যার বিষয়ে এইটিই একমাত্র যুক্তিনিষ্ঠ সমাধান। নিজেদের রাষ্ট্র ক্ষমতার ভিতরে রাষ্ট্রের অভ্যন্তরে রাষ্ট্র তৈরির ক্যান্সার রোগের মতো বিপদের হাত থেকে জাতিকে রক্ষা করবার জন্যে এইটিই একমাত্র প্রতিষেধক।”( ঐ- পৃষ্ঠা-৪৭)।

সংখ্যালঘুদের প্রতি এই দৃষ্টিভঙ্গি নিয়েই আরএসএস জন্মলগ্ন থেকে নিজেদের পরিচালিত করে আসছে। এই দৃষ্টিভঙ্গির প্রসারণই তারা তাদের রাজনৈতিক সংগঠন  হিন্দু মহাসভা, ভারতীয় জনসঙ্ঘ বা তার বর্তমান বিবর্তিত রূপ ভারতীয় জনতা পার্টির ভিতরেও সংক্রমিত করে আসছে। এই দৃষ্টিভঙ্গীর প্রসারণের তাগিদ থেকেই অতীতে হিন্দুত্ববাদী শক্তি এদেশের বুকে অস্ট্রেলিয় মিশনারী ফাদার গ্রাহাম স্টুয়ার্স স্টেইনসকে দুই নাবালক শিশুপুত্রসহ নির্মমভাবে খুন করেছে। গুজরাট গণহত্যা ঘটিয়েছে। মালেগাঁও বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে। পরবর্তীতে মুজফফরনগরে দাঙ্গা করেছে। সাম্প্রতিক অতীতে শেখ আখলাখ থেকে শুরু করে পহেলু খান, আফরাজুল কে হত্যা করেছে।

এসব অপকর্মের মূল তাত্ত্বিক ভিত্তি হিসেবে এদের মাথাতে সব সময়েই অতীত থেকে বর্তমান কাল পর্যন্ত অবিচ্ছিন্নভাবে কাজ করেছে ফ্যাসিবাদ এবং নাৎসিবাদের প্রতি অচলা ভক্তি। সঙ্ঘের প্রথম যুগের ব্যক্তিত্ব কেশব বলিরাম হেডগেওয়ার বা বি এস মুঞ্জে, যিনি নিজে ইতালিতে গিয়ে ফ্যাসিস্টদের নানা কীর্তি স্বচক্ষে দেখে এসেছিলেন, মুসোলিনীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তাদের সশস্ত্র ফ্যাসিস্ট প্রশিক্ষণের আদলে ভারতে একটি সশস্ত্র জাতি বিদ্বেষী প্রশিক্ষণ দল গড়ে তোলার বিষয়ে বিস্তারিত শলাপরামর্শ করে এসেছিলেন- বা পরবর্তীকালে সঙ্ঘ প্রধান গোলওয়ালকর সার্বিক ভাবে ফ্যাসিবাদ এবং নাৎসিবাদের প্রতি তাদের অচলা ভক্তির পরিচয় রেখে গেছেন।

গত শতাব্দীর তিনের দশকে আরএসএসের প্রতিষ্ঠাতা এবং প্রথম সারির নেতাদের ভিতরে ফ্যাসিবাদ এবং নাৎসিবাদ সম্পর্কে কৌতুহলটা নিছক কাকতালীয় ছিল না।সাদামাটা কৌতুহলের আস্তরণ ভেদ করে সঙ্ঘ নেতৃত্বের হিটলার, মুসোলিনী এবং তাদের আত্মঘাতী দর্শন ও সশস্ত্র প্রশিক্ষণ সম্পর্কে যোগাযোগ এবং সম্পর্কটা ছিল অনেক গভীর। এই সম্পর্ক এবং কৌতুহলের বিষয়টিকে যদি আমরা সাম্প্রদায়িক হিন্দু রাজনীতিকদের কয়েকজনের ব্যক্তিগত অভিরুচি হিসেবে ধরে নিই, তাহলে আমরা ইতিহাসের প্রতি অবিচার করব। ইতালি, জার্মানির একনায়কতন্ত্রের সঙ্গে আমাদের দেশের রাজনৈতিক হিন্দু সাম্প্রদায়িক , যাদের একটা বড়ো অংশ নিজেদের মহারাষ্ট্র কেন্দ্রিক জাতীয়তাবাদী নেতা হিসেবে পরিচয় দিতো, তাদের ভিতরে একটা পারস্পরিক বোঝাপড়া এবং চিন্তা- চেতনার বিনিময়ের অধ্যায়।ভারতের রাজনৈতিক হিন্দু সাম্প্রদায়িক নেতাদের কাছে ফ্যাসিবাদ প্রথম থেকেই রক্ষণশীল বিপ্লবের একটি দৃষ্টান্ত হিসেবে উঠে এসেছিল। এই দৃষ্টিভঙ্গি থেকে ভারতের সংখ্যাগুরু সাম্প্রদায়িক, মৌলবাদী শিবির আজ পর্যন্ত অবস্থানগত কোনও বদল করেনি।

বিজেপির মূল চালিকা শক্তি আর এস এসের প্রতিষ্ঠাকালের অন্যতম নেতা ডা. বি এস মুঞ্জে ১৯৩১ সালের ১৯ শে মার্চ দুপুর তিনটের সময়ে ফ্যাসিস্ট সরকারের সদর দপ্ত পালাজ্জো ভেনজিয়াতে মুসোলিনীর সঙ্গে একটি দীর্ঘ বৈঠক করেছিলেন। সেই বৈঠকের বিবরণ মুঞ্জে নিজেই তার সেই বছরের ২০ মার্চের ডায়েরিতে রেখে গিয়েছেন।

বি এস মুঞ্জে তার ১৯৩১ সালের ২০ মার্চের ডায়েরিতে লিখছেন- “মুসোলিনীর সঙ্গে করমর্দন করে জানালাম, আমার নাম ড. মুঞ্জে। আমি দেখলাম, আমার সম্বন্ধে মুসোলিনীর প্রায় সব কিছুই নখদর্পনে। ভারতবর্ষের স্বাধীনতা সংগ্রামের ঘটনাবলী সম্পর্কেও মুসোলিনীর যে সম্যক ধারণা আছে তা আমি তার সঙ্গে পরিচয়ের সূচনাপর্বেই বেশ ভালো করে বুঝতে পারলাম।”

“আমি বিশ্ববিদ্যালয় দেখেছি কিনা- তা আমার কাছে জানতে চাইলেন মুসোলিনী।ছেলেদের সামরিক প্রশিক্ষণের বিষয়ে আমি খুব আগ্রহী- আমার কাছ থেকে এই কথা শোনবার পর তার মুখ খুব উজ্জ্বল হয়ে উঠলো। আমি তাকে এও জানালাম যে, ইংল্যান্ড, ফ্রান্স এবং জার্মানির প্রশিক্ষণ শিবিরগুলি, তাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলি সব দেখে এসেছি। সেই উদ্দেশ্য নিয়েই যে আমি ইতালিতে এসেছি- তা অকপটে জানালাম মুসোলিনীকে। এখানকার বিদেশ দপ্তর এবং সমর দপ্তর যে আমাকে ইতালির বিশ্ববিদ্যালয়গুলো দেখবার সুন্দর বন্দোবস্ত করে দিয়েছেন – সে কথাও মুসোলিনীকে বললাম।”

“তাকে আরও বললাম যে, আজ সকালেই বালিল্লাসহ অন্যান্য ফ্যাসিস্ট সংস্থাগুলি খুব ভালো ভাবে দেখেছি। নিজেদের বিকাশ এবং উন্নতির জন্যে এই ধরনের সংগঠন যে ইতালিতে খুব ই প্রয়োজনীয় সেকথাও আমি অকপটেই মুসোলিনীকে বললাম।খবরের কাগজে অনেক সময়ে এইসব সংস্থা এবং সংগঠন ও স্বয়ং মুসোলিনীর সম্পর্কে বেশ কিছু প্রতিবেদন পড়েছি যেগুলিকে আদৌ বন্ধু মনোভাবাপন্ন বলা যায় না। সেই প্রসঙ্গের উল্লেখ করে আমি মুসোলিনীকে বললাম, আমি তো আপত্তিকর কিছু খুঁজে পেলাম না আপনাদের ভিতরে।”

মুসোলিনী আমার কাছে জানতে চাইলেন যে ওইসব বিষয়গুলি সম্পর্কে আমার কী অভিমত?

আমি তাকে বললাম, “গোটা বিষয়গুলি দেখে এবং শুনে আমি অত্যন্ত খুশি হয়েছি।প্রত্যেকটি উচ্চাকাঙ্খী জাতি, উন্নতিশীল জাতির ভিতরে এই ধরণের সংগঠন থাকা একান্ত ভাবে জরুরি। আমার জবাব শুনে আমাকে ধন্যবাদ জানিয়ে মুসোলিনী বললেন যে; আপনাদের কাজ খুব ই কঠিন।তবে আমি চাই আপনাদের কাজ সার্বিক ভাবে সফল হোক।এরপর মুসোলিনী উঠে দাঁড়ালেন। আমিও উঠে তাকে অভিবাদন জানিয়ে বেরিয়ে এলাম।”

আরএসএস এর তাত্ত্বিক ভিত্তি নির্মাণের অন্যতম ব্যক্তিত্ব তথা তাদের রাজনৈতিক সংগঠন বিজেপির অন্যতম শ্রদ্ধেয় ব্যক্তিত্ব ভি ডি সাভারকরের কাছেও হিটলারের নাৎসিবাদ এবং মুসোলিনীর ফ্যাসিবাদ ছিল অত্যন্ত প্রিয় এবং গ্রহণযোগ্য একটি বিষয়।

আর এস এসের প্রথম যুগের রাজনৈতিক সংগঠন হিন্দু মহাসভার ২২ তম অধিবেশন উপলক্ষে মাদুরাইতে ১৯৪০ সালে সভাপতির ভাষণে সাভারকর বলেন, “নিজেকে নাৎসি বলেন বলেই হিটলারকে একজন নররাক্ষস আর নিজেকে গণতন্ত্রী বলেন বলেই চার্চিল একজন দেবতার মতো মানুষ- এমনটা ভেবে নেওয়ার আদৌ কোনও যুক্তিগ্রাহ্য কারণ নেই। আজ জার্মানি যে অবস্থাতে নিজেদের তুলে ধরতে পেরেছে , তাতে নাৎসিবাদই যে জার্মানির সবথেকে যুক্তিগ্রাহ্য পরিত্রাতা – একথা মেনে নিতে আমাদের বিন্দুমাত্র সমস্যা নেই।”

পণ্ডিত নেহরু এবং কমিউনিস্টদের নাৎসিবাদ ও ফ্যাসিবাদের বিরোধিতাকে ওই বক্তৃতায় তীব্র ভৎর্সনা করে সাভারকর বলেছিলেন, “আমাদের বইপড়া বিদ্যা থেকে কোনও কোনও বিশেষ সরকারের নীতির প্রতি আমাদের পক্ষপাতিত্ব থাকতে পারে।কিন্তু জার্মান বা জাপান কিংবা রাশিয়া (সোভিয়েট ইউনিয়ন – শব্দটি হিন্দুত্ববাদীরা সাধারণত ব্যবহার করতেন না) অথবা ইতিলিরও যে সেই এক ই নীতি গ্রহণ করা উচিত- এমন ফতোয়া জারি করবার অধিকার বা যোগ্যতা আমাদের আছে কী? জার্মানির জন্যে কোনটা উপযুক্ত সেটা কমিউনিস্ট বা পণ্ডিত নেহরুর থেকে হিটলার অনেক বেশি এবং অনেক ভালো করে জানেন। নাৎসিবাদ বা ফ্যাসিবাদের জাদুদণ্ডের স্পর্শে ইতালি এবং জার্মানি এতো সুন্দরভাবে নিজেদের সমৃদ্ধ করেছে, নিজেদের শক্তিশালী করেছে- তেমনটা এর আগে অন্য কোথাও ছিল না। এই দেশগুলির সমৃদ্ধির এই খতিয়ানই প্রমাণ করে তাদের সার্বিক শ্রীবৃদ্ধিতে তাদের নিজস্ব রাজনৈতিক মতবাদই সবথেকে উপযুক্ত এবং প্রয়োজনীয় টনিক ছিল।

আরএসএস- বিজেপির তাত্ত্বিক ভিত্তির অন্যতম নির্মাতা সাভারকর প্রকাশ্যে মুক্তকণ্ঠে হিটলারের ইহুদি বিরোধী যাবতীয় অভিযানকে সমর্থন করে গিয়েছিলেন। আমাদের দেশের মুসলিম সমস্যার সমাধানের উপায় হিসেবে এই সাভারকর ১৯৩৮ সালের ১৪ অক্টোবর বলেছিলেন, যেকোনও দেশ গড়ে ওঠে তার নিজস্ব ভূখণ্ডে বসবাসকারী সংখ্যাগুরুদের নিয়েই। জার্মানিতে ইহুদিরা কী করছে? তারা সংখ্যালঘু, তাই তাদের জার্মানি থেকে তাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। (‘হিন্দুত্ব’ ফরেন টাই- আপ ইন দ্য ১৯৩০ ‘জ- আর্কাইভ্যাল এভিডেন্স – ই পি ডাব্লিউ, ২২ জানুয়ারি, ২০০০, পৃষ্ঠা- ২১৮-২১৯) ।

এই তত্ত্বকেই আরএসএস, সঙ্ঘ পরিবার এবং তাদের রাজনৈতিক সংগঠন বিজেপি এদেশের মুসলমানদের প্রতি তাদের চিন্তার মূল ভিত্তি হিসেবে ধরে তাকেই প্রয়োগ করে চলেছে।

One Response -- “সঙ্ঘ: বিজেপির সংখ্যালঘু বিদ্বেষের তাত্ত্বিক ভিত্তি”

  1. সৈয়দ আলি

    ধর্মের ভিত্তিতে বিভক্ত রা্ষ্ট্রসমূহে গোপনে ধর্মের আবেশ আছে। হিন্দুরা বীরপুজা করতে ভালোবাসে। তাই, যখন হিন্দুত্ববাদীরা বলদর্পে সংখ্যালঘুদের খুন করে তখন প্রায় সব হিন্দুই একধরনের পুলক অনুভব করে। হিন্দুত্ববাদীরা যখন হর হর মহাদেব বা জয় শ্রীরাম হুঙ্কার ছাড়ে, তখন বেশীরভাগ হিন্দুই অন্তরে সে হুঙ্কারকে বীররসের প্রকাশ হিসেবে দেখে। মুসলমানেরা বাহুবলে ভীতু ও কর্তাভজা হিন্দুদের পরাজিত করে ভারত অধিকার করে প্রায় সাতশো বছর শাসন করেছে। হিন্দুরা অন্তরে মুসলমানদের প্রতি ঘৃণা বজায় রেখে সামনে এসে আলম বরদারদের জুতো চেটে জীবিকা নির্বাহ করেছে। ইংরেজরা এলে ঘৃণার মাত্রা হ্রাস পেলেও জুতাচাটা বৃদ্ধি পেয়েছে। এখন ইংরেজ বা মুসলমান শাসক নেই, কিন্তু মুসলমানদের প্রতি ঘৃণাটি প্রায় সব হিন্দুই অটুট রেখেছে। তাই মুখে উদারতার কলাম লিখলেও একান্তে মোচলাদের চৌদ্দগুষ্ঠি উদ্ধার করে।
    এই দৃষ্টিভঙ্গীর কারনেই ভারতে হিন্দুত্ববাদের অপ্রতিহত জয় রথ চলছে।

    Reply

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। প্রতিক্রিয়া লেখার সময় লক্ষ্য রাখুন--

  • ১. স্বনামে বাংলায় প্রতিক্রিয়া লিখুন।
  • ২. ইংরেজিতে প্রতিক্রিয়া বা রোমান হরফে লেখা বাংলা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না।
  • ৩. প্রতিক্রিয়ায় ব্যক্তিগত আক্রমণ গৃহীত হবে না।

দরকারি ঘর গুলো চিহ্নিত করা হয়েছে—