আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে আওয়ামী লীগ এবং বিএনপি বিভিন্ন জায়গায় একে অন্যের উপর ক্রমাগত হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। এ সমস্ত হামলার লক্ষ্য মিছিল, প্রতিপক্ষের অফিস, নির্বাচনী ক্যাম্প, পথসভা ইত্যাদি। এমনকি ছিঁড়ে ফেলা হচ্ছে প্রতিপক্ষের পোস্টারও।

নির্বাচনী হামলায় শুরুর দিকে আওয়ামী লীগের কয়েকজন নিহত হয়েছে। তবে, বিভিন্ন সংবাদ অনুসরণ করলে যেটা বোঝা যায় তাহলো, বিএনপি নেতৃত্বাধীন ঐক্যফ্রন্টকে যেহেতু চাপের মধ্যে থেকে নির্বাচন করতে হচ্ছে, তাই তারা বেশি হামলার শিকার হচ্ছেন। একটি রাষ্ট্রে গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি গড়ে না উঠা এবং গণতন্ত্রকে দেশ স্বাধীন হবার সাতচল্লিশ বছর পরেও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে না পারার ব্যর্থতার ফল হচ্ছে এ সমস্ত হামলা।

একটি দল আরেকটি দলের উপর তখনই হামলা চালায় যখন তাকে প্রতিপক্ষ মনে করে এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় নির্বাচনে তার সাথে পেরে উঠবে না বলে ধরে নেয়। বাংলাদেশের প্রধান দুইটি দল যেহেতু একে অন্যকে প্রতিপক্ষ মনে করে এবং একই সাথে তাদের মাঝে যেহেতু গণতান্ত্রিক চর্চা ও চেতনার প্রবল অভাব তাই নির্বাচনকে সামনে রেখে তাদের একে অন্যকে হামলা করাটা অস্বভাবিক কিছু নয়।

তবে, অবাক করা ব্যাপার হল এবারের নির্বাচনে বিভিন্ন স্থানে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) প্রার্থীদের উপর হামলা করা। তাছাড়া, ঢাকাসহ বিভিন্ন জায়গাতে সিপিবি প্রার্থীদের গণসংযোগে বাধা এবং প্রচারপত্রও ছিঁড়ে ফেলা হচ্ছে। সিপিবির তরফ থেকে এ সমস্ত কিছুর জন্য ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগকে দায়ী করা হয়েছে।

এখানে উল্লেখ্য যে, একানব্বই পরবর্তী কোনও নির্বাচনেই সিপিবিকে গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক দল হিসাবে কেউ মনে করেনি। প্রায় সিকি শতাব্দী ধরেই সিপিবি বাংলাদেশের রাজনীতি এবং নির্বাচনে অতীব প্রান্তীয় দল হিসাবেই বিবেচিত হয়ে আসছে। ফলে, নির্বাচনী হামলা ইত্যাদির তালিকাতে প্রধান রাজনৈতিক দল দুইটি সিপিবিকে লক্ষ্যবস্তু করতো না।

কিন্তু, এবারের নির্বাচনে এমন কি ঘটলো যে আওয়ামী লীগকে সিপিবির মতো একটি অতীব প্রান্তীয় দলকে বিবেচনায় নিতে হচ্ছে? দক্ষিণ এবং ডানপন্থার দলগুলি রাজনীতিতে ক্রমশ কোণঠাসা অবস্থানের দিকে ধাবিত হবার ফলে সেকুলার, বাম ধারার একটি দল থেকে  ভবিষ্যতে চ্যালেঞ্জ আসতে পারে বলে কি আওয়ামী লীগের কেউ কেউ ভাবছেন? যদি কেউ এরকম ভেবে থাকেন, সে ভাবনার সাথে বাস্তবতার সম্পৃক্ততা কতটুকু?

বাংলাদেশের সবচেয়ে পুরানো রাজনৈতিক দল হল সিপিবি। সন্দীপের মোজাফফর আহমেদের নেতৃত্বে ব্রিটিশ ভারতে বাংলায় ১৯১৮ সালে প্রথম কমিউনিস্ট গ্রুপ গড়ে উঠেছিল। এর কিছু সময় পরে ১৯২৫ সালে সর্বভারতীয় কমিউনিস্ট পার্টি গঠিত হয়। সিপিবি হল সে পার্টির উত্তরাধিকার। সে হিসাবে ধরলে বাংলায় কমিউনিস্ট আন্দোলনের ইতিহাস প্রায় শতবর্ষব্যাপী।

বাংলাদেশের সন্দীপের বাসিন্দার হাত ধরেই ভারতীয় উপমহাদেশে কমিউনিস্ট আন্দোলনের সূচনা হলেও এ দেশের বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর কাছে এ আন্দোলন কখনওই তেমন আবেদন সৃষ্টি করতে পারেনি। বাংলাদেশে এ আন্দোলনের জনপ্রিয়তা না থাকলেও পাশের পশ্চিমবঙ্গ, ত্রিপুরা এবং কাছের নেপালে কমিউনিস্ট পার্টি পরিণত হতে পেরেছে মূল ধারার রাজনৈতিক দলে।

এখানে উল্লেখ্য যে, একমাত্র ইন্দোনেশিয়া ছাড়া আর কোনও মুসলিম প্রধান দেশেই কমিউনিস্ট পার্টি মূলধারার রাজনৈতিক শক্তি হওয়া তো দুরের কথা তৃতীয় ধারার শক্তিই হয়ে উঠতে পারেনি। এমতাবস্থায়, সোভিয়েত সমাজতান্ত্রিক ব্যবস্থার পতনের পর থেকে যেখানে বিশ্বব্যাপীই কমিউনিস্ট আন্দোলনের নিস্প্রভতার কাল চলছে, সেখানে মুসলিম প্রধান বাংলাদেশে সিপিবির অদূর ভবিষ্যতে উল্লেখ্যযোগ্য রাজনৈতিক দল হয়ে উঠবার সম্ভাবনা কতটুকু?

কমিউনিস্ট আন্দোলনের পথটা সূচনালগ্ন থেকেই মসৃণ ছিল না। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই কমিউনিস্ট আন্দোলনকে যেতে হয়েছে বন্ধুর পথ ধরে। সোভিয়েত ইউনিয়নে বিপ্লবের পর কমিউনিজমের ভয়ে আতঙ্কিত বৃটিশরা চায় নাই তাদের উপনিবেশেই শক্তিশালী কমিউনিস্ট পার্টি গড়ে উঠুক।

পাকিস্তান আমলের প্রায় পুরো সময়টাই নিষিদ্ধ অবস্থায়, আন্ডারগ্রাউন্ডে থেকে গোপনে কাজ করতে হয়েছে কমিউনিস্ট পার্টিকে। সরকার এবং ‘ইসলামপন্থী’ দলগুলো ওইসময় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ পাশ্চাত্যের অনুকরণে কমিউনিস্ট আন্দোলনকে ‘নাস্তিক্যবাদী’, ‘শয়তানের আদর্শ’ হিসেবে জনগণের সামনে তুলে ধরত। এর সমস্ত কিছুই বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর মাঝে দলের গণভিত্তি গড়ে তোলবার অন্তরায় হিসাবে কাজ করেছে।

নিষিদ্ধ ঘোষিত হলেও সিপিবি, ন্যাপ (মো) এবং ছাত্র ইউনিয়নের সাথে ১৯৭১ সালে মোহাম্মদ ফরহাদের নেতৃত্বে ১৭ হাজার গেরিলা বাহিনী গড়ে তোলে। এ বাহিনী দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

দেশ স্বাধীন হবার পর সিপিবি প্রকাশ্যে কাজ করবার সু্যোগ পায়। স্বাধীন দেশে পার্টির প্রথম কংগ্রেসে (সিপিবির দ্বিতীয় কংগ্রেস) ১৯৭৩ সালে প্রথম কোনও সরকার প্রধান হিসাবে বঙ্গবন্ধু বক্তব্য দেন। কিন্তু, পার্টির যখন নতুন উদ্যমে পথ চলার কথা, তখন সবাইকে অবাক করে দিয়ে এর অল্প কিছুদিন পরেই মণি সিংহ এবং ফরহাদের নেতৃত্বে সিপিবি তার পুরো সংগঠনকে আরেকটি দল বাকশালে বিলুপ্ত করে দেয়।

বিশ্ব কমিউনিস্ট আন্দোলনের ইতিহাসেই এটি একটি অভূতপূর্ব ঘটনা। কেননা এর পূর্বে আর কোনও কমিউনিস্ট পার্টি নিজের অস্তিত্ব বিলোপ করে এভাবে অন্যদলে বিলীন হয়ে যায়নি। ১৯৭৫ সালে সিপিবি এমন একটি দলে নিজেদেরকে বিলোপ করে দেয়, যাদেরকে কিছুদিন আগেও তারা পুঁজিবাদী, বুর্জোয়া দল হিসাবে চিহ্নিত করত।

পঁচাত্তর পরবর্তী সময়ে, সামরিক শাসক জিয়ার রাজনৈতিক দলবিধির আওতায় ছাত্র ইউনিয়নকে অঙ্গ সংগঠন ঘোষণা দিয়ে সিপিবির আনুষ্ঠানিক পুনরুজ্জীবন ঘটানো হয়। এ দলবিধির অন্যতম শর্ত ছিল রাজনৈতিক দল হিসাবে রেজিস্ট্রেশন পেতে হলে তার ছাত্র এবং যুব সংগঠন থাকতে হবে। এর পূর্বে ১৯৭৭ সালে কিছু সময়ের জন্য সিপিবিকে নিষিদ্ধ করা হয়।

পুনরুজ্জীবন পাওয়ার পর ১৯৭৯ সালে পার্টির তৃতীয় কংগ্রেসে আত্মসমালোচনা করে দল বিলুপ্ত করে বাকশালে যোগদানের সিদ্ধান্ত ভুল ছিল বলে সিপিবি উল্লেখ করে। উল্লেখ্য যে, সিপিবি বাকশাল সম্পর্কে একটা মূল্যায়ন দাঁড় করাতে পারলেও দলগতভাবে আওয়ামী লীগ এখন পর্যন্ত বাকশাল গঠন সঠিক না ভুল ছিল- এ সিদ্ধান্তে আসতে পারে নাই । এ নিয়ে দলীয় ফোরামে তারা কখনো আনুষ্ঠানিক আলোচনাও করে নাই।

বাকশালে যোগদানের সিদ্ধান্ত ভুল ঘোষণার আগে সিপিবি জিয়ার খাল কাটা কর্মসূচিতে অংশ নেয় এবং গণভোটে (হ্যাঁ, না ভোট) তাকে সমর্থন দেয়। সিপিবির এ ধরনের সিদ্ধান্ত সাধারণ জনগণের চোখে সুবিধাবাদিতা হিসাবে প্রতিভাত হয়।

অপরদিকে, জিয়াকে সমর্থন করলেও জিয়া সিপিবিকে সন্দেহের চোখে দেখতেন এবং তাদের নেতৃবৃন্দকে সোভিয়েত ইউনিয়নের এ দেশিয় এজেন্ট বলে মনে করতেন। জিয়া ভারত-সোভিয়েত বলয় থেকে দেশকে চীন-মার্কিন বলয়ে নিয়ে যান এবং সমাজতান্ত্রিক অর্থনীতির ধারার বিপরীতে পাকিস্তান আমলের মুক্তবাজার অর্থনীতি ফিরিয়ে আনেন। সেকুলার এবং বামদলগুলির বিরুদ্ধে কার্যকর হাতিয়ার হিসাবে ব্যবহারের পরিকল্পনা থেকে মুসলিম লীগ, জামায়াতসহ নিষিদ্ধ ঘোষিত ‘ইসলামপন্থী’ দলগুলোর পুনরুজ্জীবন ঘটান।

এমতাবস্থায়, তৎকালীন সিপিবির সাধারণ সম্পাদক ফরহাদ নারায়ণগঞ্জে এক জনসভায় হঠকারীভাবে বাংলাদেশে আফগান স্টাইলে বিপ্লব করা হবে বলে মন্তব্য করেন। সময়টা শীতল যুদ্ধকালীন বিশ্বব্যাপী সমাজতান্ত্রিক আন্দোলনের জোয়ারের সময়। একের পর এক রাষ্ট্র তখন সোভিয়েত বলয়ভুক্ত হচ্ছে। ফরহাদের এ ধরনের বক্তব্য জিয়াকে ভীত করে তোলে। তিনি এটাকে মাঠের বক্তৃতা হিসেবে না ধরে ফরহাদকে বিচারের মুখোমুখি করেন এবং হাতকড়া পড়িয়ে আদালতে দাঁড় করান। এসময় সারা দেশে সিপিবির নেতাকর্মীরা ব্যাপক ধর-পাকড়ের সম্মুখীন হন। নিষিদ্ধ না হলেও অনেকটাই নিষিদ্ধ ঘোষিত দলের মতো সিপিবিকে আণ্ডারগ্রাউন্ডে চলে যেতে হয়।

খুব সম্ভবত জিয়া সরকারের নিপীড়ণ এবং ধর-পাকড়ের কারণে এরশাদের সামরিক শাসন বিরোধী আন্দোলনের সময় বিএনপির জোটে না গিয়ে সিপিবি আওয়ামী লীগের সাথে ১৫ দলে সামিল হয়। প্রতিষ্ঠা হবার পর এ কালপর্বেই দলের সবচেয়ে বিকাশ ঘটে। এরশাদবিরোধী আন্দোলনে সিপিবি অত্যন্ত সক্রিয় ভূমিকা পালন করে। আওয়ামী লীগের পরেই এ দলের সবচেয়ে বেশি কর্মী এরশাদ বিরোধী আন্দোলনে প্রাণ দেয়। এরশাদের অধীনে বিতর্কিত সংসদ নির্বাচনে নৌকা প্রতীকে এসময়ই বাংলাদেশে প্রথম ফরহাদসহ সিপিবির পাঁচজন নির্বাচিত হন।

এরশাদবিরোধী আন্দোলন যখন তুঙ্গে তখন হঠাৎ আন্দোলন স্থগিত করে আওয়ামী লীগসহ কিছু দলকে নির্বাচনে নিয়ে যাবার পেছনে ফরহাদ গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করেন। নৌকা প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করবার জন্য সমালোচকরা ব্যঙ্গ করে তখন সিপিবিকে ‘নৌকা মার্কা কমিউনিস্ট’ হিসাবে অখ্যায়িত করত। এ সময় জনগণের বড় একটি অংশের কাছে সিপিবি আওয়ামী লীগের ‘বি-টিম’ হিসাবে প্রতিভাত হয়।

দলকে সামনে এগোবার কৌশল হিসেবে অথবা রাজনৈতিক বিশ্লেষণের অংশ হিসাবে ফরহাদ ১৯৮৬ সালে পার্টির চতুর্থ কংগ্রেসে ২০০০ সাল নাগাদ সিপিবির নেতৃত্বে বাংলাদেশে সমাজতান্ত্রিক বিপ্লব হবে বলে ঘোষণা দেন। কিন্তু, ফরহাদ বা সিপিবি কেউ এ বিষয়টি কখনো পরিষ্কার করেনি তারা কিভাবে এ বিপ্লব করবেন—তারা কি গণঅভ্যুথান সংগঠিত করবেন, নাকি গেরিলা কায়দায় সশস্ত্র গৃহযুদ্ধ করবেন; অথবা, চারু মজুমদারের পথ ধরে গলা কাটার ‘শ্রেণি শত্রু’ খতম বা ধনী ব্যক্তিদের হত্যা করবেন। বিপ্লবের পর তারা যদি ক্ষমতা দখল করতে পারেন তাহলে তারাও কী গণচীন, সোভিয়েত ইউনিয়নের মতো একদলীয় স্বৈরাচারী শাসন কায়েম করবেন, নাকি সব দলের অংশগ্রহণের মাধ্যমে লিবারেল,গণতান্ত্রিক ধারার চর্চা করবেন!

এ সমস্ত অনেক কিছু পরিষ্কার না করতে পারলেও ফরহাদের এ বক্তব্য পার্টির নেতাকর্মীদের মাঝে ব্যাপক আশার সঞ্চার করে এবং দলের কাজে গতি পায়। বাংলাদেশেও কেউ কেউ ভাবতে শুরু করেন অচিরেই সিপিবি হয়তো রাজনীতিতে তৃতীয় ধারা হয়ে উঠবে। কিন্তু, এ আশাবাদিতা অচিরেই ব্যাপক হতাশার জন্ম দিয়ে নিভে যায় ১৯৯০ সালে- যে দেশটির কারণে সিপিবিকে ‘মস্কোপন্থি’ দল বলা হতো, সেই সোভিয়েত ইউনিয়নেরই পতনের ফলে।

সোভিয়েত সমাজতান্ত্রিক ব্যবস্থার অবসান সিপিবিকে দল হিসেবে তার ইতিহাসে সবচেয়ে সঙ্কটে নিপতিত করে। প্রতিষ্ঠা হবার পর থেকে সিপিবি সোভিয়েত ইউনিয়নের জাতীয়, আন্তর্জাতিক সমস্ত সিদ্ধান্ত এবং কাজের প্রতি  অন্ধ সমর্থন ব্যক্ত করে। স্তালিন যখন ক্ষমতায় ছিল তারা তখন যেমন স্তালিনকে সমর্থন করেছে, আবার ক্রুসচেভ যখন স্তালিনকে সমালোচনা করেছেন সেটিকেও তারা সমর্থন দিয়েছে।

ব্রেজনেভের সময় সিপিবি ব্রেজনেভের সব কাজ এমনকি আফগানিস্তানে অভিযান, প্রেসিডেন্ট হাফিজুল্লাহ আমিনকে হত্যা ইত্যাদিকে যেমন সমর্থন দিয়েছে, তেমনি গরবাচেভ ‘খোলা হাওয়ার’ (গ্লাসনস্ত) নীতির পক্ষেও অন্ধভাবে তারা দাঁড়িয়েছে। কোনও বিদেশি রাষ্ট্রের উপর এ ধরনের মনোজাগতিক নির্ভরতা আওয়ামী লীগ, বিএনপিসহ কোনও রাজনৈতিক দলের কখনই ছিল না অথবা এরকম অন্ধভাবে কোনও বিদেশি রাষ্ট্রকেও তারা সমর্থন করেনি।

সোভিয়েত ইউনিয়নের উপর এরকম নির্ভরশীল একটি দল সে দেশটিই দুনিয়ার মানচিত্র থেকে নিশ্চিহ্ন হয়ে গেলে রাজনৈতিকভাবে এতিম হয়ে পড়বে এটাই স্বভাবিক। সোভিয়েত আমলে কেন্দ্র থেকে জেলা পর্যন্ত নেতাকর্মীদের নানা কর্মসূচিতে সোভিয়েত পয়সায় ঘন, ঘন  সোভিয়েত ইউনিয়নসহ পূর্ব ইউরোপ সফর ছিল নিত্য ব্যাপার। অসুস্থ হলে সিপিবি এবং ন্যাপের (মো) অনেক নেতারা বিনা পয়সায় চিকিৎসা করাতেন সোভিয়েত ইউনিয়ন বা পূর্ব ইউরোপে। এসব দেশে তারা প্রতি বছর পার্টি সমর্থকদের ছেলেমেয়েদের পড়তে পাঠাতেন। বিনিময়ে দলের ফান্ডের জন্য তাদের কাছ থেকে নিতেন বিপুল পরিমাণ ডোনেশন।

শুধু  মনোজাগতিক নির্ভরতাই নয়, সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের ফলে এর সবকিছুই বন্ধ হয়ে যায়, যা দলের নেতাকর্মীদের মাঝে প্রবল হতাশার জন্ম দেয়। এ হতাশাকে পুঁজি করে নিজেদের আখের গোছানোর অংশ হিসেবে তৎকালীন দলের সভাপতি প্রয়াত সাইফুদ্দিন মানিক, সাধারণ সম্পাদক বর্তমান আওয়ামী লীগের শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ, নুহ আলম লেনিন প্রমুখ সিপিবিকে ভেঙ্গে রূপান্তরিত কমিউনিস্ট পার্টির জন্ম দেন। এ পার্টিকে ব্যবহার করে সারা দেশে তারা সিপিবির দলীয় অফিস, সম্পত্তি এবং দলের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ইত্যাদির বড় অংশের দখল নেন। কিন্তু অল্প কিছুদিনের মাঝেই তাদের আসল উদ্দেশ্য প্রকাশিত হয়। তাদের গঠিত দল সম্পূর্ণ বিলোপ করে দিয়ে মানিক গণফোরামে এবং বাকিরা আওয়ামী লীগে যোগ দেন। তারা চাইলে যেকোনও সময় যেকোনও দলে যোগ দিতে পারতেন। কিন্তু,অবাক করা ব্যাপার হল যে দলটি তাদের গড়ে তুলেছে সে দল থেকে প্রাপ্ত সুযোগ সুবিধা বন্ধ হয়ে যাবার পর তারা অন্য দলে যোগদান করবার পূর্বে সে দলটিকেই সম্পূর্ণ নিশ্চিহ্ন করে দিয়ে যেতে চেয়েছিলেন।

দলটি বাংলাদেশ থেকে সম্পূর্ণ নিশ্চিহ্নই হয়ে যেত যদি না মুজাহিদুল ইসলাম সেলিমসহ কিছু নেতাকর্মী সেসময় দল রক্ষায় দৃঢ় অবস্থান নিতে না পারতেন। কিন্তু, ভাঙনের পর আবার পুনর্গঠন করা গেলেও এখন পর্যন্ত সিপিবি ভাঙবার আগে দলের যে সাংগঠনিক অবস্থা ছিল সে অবস্থায় ফিরে আসেনি।

মানিক, নাহিদসহ দলের অধিকাংশ নেতা রূপান্তরিত দলের পক্ষে থাকায় সাধারণ কর্মীদের একটা বড় অংশ সেটি সঠিক পথ মনে করে তাদের সাথে চলে গিয়েছিল। এদের বড় একটা অংশই পরবর্তীতে রাজনীতিতে নিষ্ক্রিয় হয়ে যান। কেউ কেউ আওয়ামী লীগ বা বিএনপিতে যোগ দেন। এখানে উল্লেখ্য যে, দুই দফায় (১৯৮৬ এবং ১৯৯১ সালে) নৌকা প্রতীক নিয়ে যারা সাংসদ হয়েছিলেন তাদের কেউই সোভিয়েতের পতনের পর সিপিবির সাথে থাকেননি।

এ সমস্ত অভিজ্ঞতার ফলে দল ভাঙ্গনের পর অনুষ্ঠিত পঞ্চম কংগ্রেসে সিদ্ধান্ত নেয়া হয় পার্টি আর কখনও অন্য দলের প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করবে না। এর সাথে মূলধারার রাজনীতির বাইরে সিপিবির নেতৃত্বে ধীরে ধীরে সেকুলার বামধারার একটা  বিকল্প গড়ে  তোলবার উদ্যোগ নেওয়া হয়। কিন্তু, ভাঙ্গন পরবর্তী দুর্বলতাসহ বিশ্বব্যাপী সন্ত্রাস নির্ভর ‘ইসলামপন্থা’র রাজনীতির যে  ব্যাপক উত্থান ঘটে তার ঢেউ বাংলাদেশেও এসে লাগে। ফলে, সাবেক বামসহ সিভিল সমাজের অনেকেই ভাবতে শুরু করেন ‘ইসলামপন্থা’র রাজনীতিই বুঝি বাংলাদেশের ভবিষ্যত। এসব কিছুই সিপিবির চলার পথকে আরো বন্ধুর করে দেয়।

কিন্তু, সোভিয়েত ইউনিয়নের উত্তরাধিকার রাশিয়ার বিশ্ব রাজনীতিতে পুনুরুত্থান, পুতিন ট্রাম্পের ‘ইসলামপন্থা’র রাজনীতির বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান এবং আমেরিকার ‘সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ’ নীতি থেকে সরে এসে রাশিয়া-চীন ঠেকাও নীতি ইত্যাদি বিশ্বব্যাপী ‘ইসলামপন্থা’র রাজনীতিকে দুর্বল করে ফেলে। অপরদিকে, দীর্ঘ দশ বছর ধরে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের জামায়াতের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান দলটিকে রাজনীতিতে কোণঠাসা অবস্থানে নিয়ে যায়।  তাদের দলীয় প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করবার পথ রুদ্ধ করা হয়। পঁচাত্তর পরবর্তী সময়ে এবারই প্রথম নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে যেখানে দলীয় প্রতীক নিয়ে কোনও “ইসলামপন্থী” প্রার্থী সংসদে আসতে পারবেন কিনা সে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে ।

এসবের পাশাপাশি, আওয়ামী লীগ আমলে উন্নয়ন হলেও তাদের ব্যাপক দুর্নীতির বিষয়টি মানুষের চোখে পড়ে। সম্পদের অসম বণ্টনের বিষয় তো রয়েছেই। এর সাথে বিএনপির শাসনামলের দুর্নীতি ও ব্যর্থতা, ‘ইসলামপন্থী’ দলগুলোর ধর্মকে রাজনীতি এবং ব্যক্তি স্বার্থে ব্যবহার এসবও মানুষের বিবেচনায় আসছে। এসব কিছুই আবার সিপিবির রাজনীতি সামনে এগোবার পরিবেশ তৈরি করেছে।

আজকে সিপিবি নিজেকে জনগণের সামনে বিপ্লবী দলের চেয়ে বামঘেঁষা, সৎ মানুষের সেকুলার, লিবারেল ডেমোক্রাটিক পার্টি হিসেবেই উপস্থাপনা করছে। আওয়ামী লীগ এবং বিএনপির মতোই দলটির মূল কাণ্ডারি হচ্ছে মধ্যবিত্ত শ্রেণী। কায়িক শ্রমজীবীদের পক্ষের দল বলা হলেও কায়িক শ্রমজীবীদের দ্বারা এ দল কখনই পরিচালিত হয় নাই। বিশ্বের কোনও কমিউনিস্ট পার্টিতেও সেটা দেখা যায় নাই।

আওয়ামী লীগ এবং বিএনপির চেয়ে ভিন্ন দেখাবার জন্য সিপিবি নিজেদের দলের নেতাকর্মীরা  সৎ, এ বিষয়টার উপর জোর দেয়। অর্থাৎ, জামায়াতের মতো সিপিবিও মনে করে দেশে পরিচলানার জন্য সৎ মানুষের শাসন অপরিহার্য। এ বিষয়ে বোধহয় বিতর্ক নেই যে কখনো ক্ষমতাসীন বা মূলধারার দল হয়ে উঠতে না পারা সিপিবিতে সবাই না হলেও অধিকাংশ নেতাকর্মী তুলনামূলক বিচারে সৎ। কখনও প্রভাবশালী দল হয়ে উঠলে, এ সততার ধারা তারা ধরে রাখতে পারবেন কিনা- এটি একটি প্রশ্নসাপেক্ষ ব্যাপার। ক্ষমতাসীন দেশের কমিউনিস্ট পার্টির ইতিহাস অবশ্য ভিন্ন কথাই বলে।

সিপিবি যে সেকুলার একটি দল এটি তার পরম শ্ত্রুও স্বীকার করে। এ একটি প্রশ্নে সিপিবি কখনও আওয়ামী লীগের মত আপস করেনি। ‘ইসলামপন্থী’রা তো বটেই এমনকি পারলে বিএনপিও সেকুলারিজমকে নাস্তিক্যবাদের সাথে তুলনা করে। এমতাবস্থায়, সিপিবি সেকুলারিজম শুধু যে রাষ্ট্রীয় নীতির ক্ষেত্রেই চায়, এটি জনগণের সামনে তাদের পরিষ্কার করতে হবে। রাষ্ট্র কোনও ধর্মকে পৃষ্ঠপোষকতা বা কোনও ধর্মের বিরুদ্ধে দাঁড়াবে না, শুধু এ অর্থেই সেকুলার নীতিকে তারা ধারণ করেন, এ বিষয়টা আরও ভালোভাবে তুলে ধরতে হবে। পাশাপাশি, এটাও পরিষ্কার করতে হবে যে সেকুলার নীতি মসজিদ, মন্দিরসহ বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজন অনুযায়ী রাষ্ট্রের সাহায্য করবার নীতির বিরুদ্ধে নয়। এ বিষয়গুলো কতোটা খোলাসা করে সিপিবি মানুষের সামনে উপস্থাপন করতে পারছে তার উপরে আগামী দিনগুলতে দলটির রাজনৈতিক বিকাশের প্রশ্ন অনেকাংশে নির্ভরশীল।

সিপিবি যেহেতু গণতন্ত্র এবং মত প্রকাশের স্বাধীনতার কথা বলছে সেহেতু তাদেরকে এ বিষয়টাও স্পষ্ট করতে হবে যে সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়ন, বর্তমান গণচীন, কিউবা, ভিয়েতনাম, উত্তর কোরিয়ার শাসন ব্যবস্থাকে তারা একনায়কতান্ত্রিক শাসন বলে মনে করেন কিনা। নানা কুতর্কে ওইসমস্ত দেশের শাসন ব্যবস্থাকে গণতান্ত্রিক বলার চেষ্টা করা হলে আর যাই হোক সিপিবির নিজেদের গণতান্ত্রিক দাবি করা হিপোক্র্যাসি হিসাবেই প্রতিভাত হবে।

গণতন্ত্রের পাশাপাশি সমাজতন্ত্রের কথা যখন সিপিবি বলে তখন এ বিষয়টাও আজকে পরিস্কার করা উচিৎ সমাজতন্ত্র বলতে তারা আর যাই বুঝুন রাষ্ট্রের মালিকানায় পুরো অর্থনীতি পরিচালিত হবে এ ব্যর্থ মডেল তারা বোঝাচ্ছেন না। সিপিবি এখন রাষ্ট্রের মালিকানার চেয়ে দুর্নীতিমুক্ত, পরিকল্পিত অর্থনীতির কথা বলছে- যেখানে রাষ্ট্র এবং ব্যক্তি দুইয়েরই ভূমিকা পালনের সুযোগ রয়েছে। এর সাথে সিপিবি জোর দিচ্ছে সম্পদের সুষম বণ্টনের প্রতি।

তবে সিপিবির সবচেয়ে বড় দুর্বলতা হল মণি সিংহ, ফরহাদের পর জাতীয়ভাবে পরিচিত এবং গ্রহণযোগ্য নেতা তৈরি করতে না পারা। একটি রাজনৈতিক দল যতই সঠিক বক্তব্য নিয়ে হাজির হোক তার যদি জাতীয়ভাবে পরিচিত, গ্রহণযোগ্য নেতৃত্ব না থাকে তাহলে তার পক্ষে গণমানুষকে আকৃষ্ট করা সম্ভব নয়। তেমনি আকৃষ্ট করা সম্ভব নয় সামাজিক যোগাযোগের বিভিন্ন মাধ্যমে বর্তমান সময়ে তার যদি সক্রিয়তা না থাকে।

নেতৃত্বের পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগের বিভিন্ন মাধ্যমে সিপিবির অনুপস্থিতি এ নির্বাচনে প্রবলভাবে ধরা পড়েছে। অপরদিকে, সিপিবির কর্মীরা যাদেরকে পশ্চাৎপদ, প্রতিক্রিয়াশীল বলেন, সেই ‘ইসলামপন্থী’ দলগুলো নির্বাচনসহ সবসময়ই সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমগুলোতে সবচেয়ে সক্রিয় রয়েছে। এর থেকে একটা বিষয় স্পষ্ট যে পরিবর্তিত বিশ্ব পরিস্থিতিতে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমগুলোর গুরুত্ব এবং অনলাইন অ্যাক্টিভিজমের প্রয়োজনীয়তা সিপিবির নেতারা এখনও বুঝে উঠতে পারেন নাই।

এসব সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও কাস্তে প্রতীকে যে ৭৪টি (তিনটি অন্য দলের) আসনে সিপিবির প্রার্থীরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন তার কয়েকটিতে বৈষম্যহীন, ইনসাফের সমাজ কায়েমের তাদের আহ্বানের প্রতি কিছু মানুষের সাড়া তারা এবার পাচ্ছেন। এই কিছু মানুষের সাড়াই তাদেরকে করে তুলেছে হামলার লক্ষ্যবস্তু। এ ৭৪ জনের কেউ হয়তো এবারও নির্বাচনে জামানত রাখতে পারবেন না, তবে একানব্বই পরবর্তী যেকোনও নির্বাচনের চেয়ে দলগতভাবে তারা এবার বেশি ভোট পাবেন এটা হয়তো বলা যায়।

জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক ভাবে কোণঠাসা ‘ইসলামপন্থা’ বা মুসলিম জাতীয়তাবাদের উপর নির্ভর করা দলগুলো আওয়ামী লীগের রাজনীতিকে প্রতিস্থাপন করবার মত চ্যালেঞ্জ উপস্থাপন করতে পারবে না— যারা একই সাথে সেকুলারিজম এবং ধর্মভিত্তিক রাজনীতির সাথে সমঝোতা করে চলে। আগামী দিনে যদি কোনও শক্তিশালী সেকুলার ধারা গড়ে উঠে সেটিই আওয়ামী লীগের রাজনীতির জন্য কার্যকর চ্যালেঞ্জ হিসাবে উপস্থাপিত হবে।

সিপিবির সবচেয়ে সুবিধা হল তারা মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের, সৎ মানুষের, সেক্যুলার দল হিসাবে পরিচিত। এ ইতিবাচক ইমেজকে কাজে লাগিয়ে বাস্তব পরিস্থিতি বুঝে সিপিবি যদি তার কর্মসূচিকে এগিয়ে নিতে পারে তাহলে আগামী দিনগুলোতে দলটি বাংলাদেশের রাজনীতিতে ভূমিকা পালন করবার মত একটি বিকল্প শক্তি হিসাবে গড়ে উঠতে পারে।

সাঈদ ইফতেখার আহমেদশিক্ষক, স্কুল অব সিকিউরিটি অ্যান্ড গ্লোবাল স্টাডিস, আমেরিকান পাবলিক ইউনিভার্সিটি সিস্টেম, পশ্চিম ভার্জিনিয়া, যুক্তরাষ্ট্র

Responses -- “সিপিবি কেন নির্বাচনী হামলার শিকার”

  1. A Rahman

    স্যার,
    আপনার মুল্যবান লেখা পড়ে অনেক অজানা তথ্য জানা হলো। নিয়মিত আপনার লেখা পড়ি। নতুন প্রজন্ম এতকিছু জানেনা। আপনার লেখা নিরলসভাবে আসতে থাকুক। অনেক অনেক ধন্যবাদ। সুস্থ্য থাকুন দীর্ঘদিন।

    Reply
  2. TARIQUL ISLAM

    আওয়ামী লীগ সিপিবিকে নিজেদের লোকই মনে করে। তাই তারা তাদের মতের বিরুদ্ধে গেলেই হামালা চালায়।

    Reply
  3. লতিফুল

    ধান ভানতে শীবের গীত গাওয়ার মতো অবস্থা। সিপিবি’র সর্বশেষ আকামটা ছিল ২০১৪ সালের নির্বাচন বর্জন। মার্কিন মদদে পরিচালিত জঙ্গিবাদের কারণে তাদের ধারণা হয়েছিল যে আওয়ামী লীগ ফিনিশ্ড এবং যেহেতু বিএনপি জঙ্গিবাদের হাত দিয়ে ক্ষমতায় আসছে কাজেই তাদের সাথে থাকা নিরাপদ। সিপিবি চিরকাল এই নিরাপদ জায়গাটা খোঁজার চেষ্টা করেছে। কথা হলো জামাতি রগকাটা বাহিনীর আক্রমন থেকে ছাত্র ইউনিয়ন যেমন রক্ষা পায়নি, তেমনি হুজিদের গ্রেনেড হামালা থেকেও। কোনো প্রগতিশীল দল যদি বিএনপি-জামাতকে অনুসরণ করে বা ভয় পায়, তাহলে তাদের বিলুপ্তি কেউ ঠেকাতে পারবে না। চিরকালধরে সোভিয়েত বা রাশিয়ার সমর্থন পেলেও পুতিনের সমর্থন পেতে তারা ব্যর্থ হয়েছে, সেটাও একটা কারণ হতে পারে যে জন্য তারা আওয়ামী লীগ বিরোধী অবস্থানে চলে গেছে। সিপিবি একটা বিলুপ্ত দল হতে পারতো, কিন্তু টিকে আছে কেবলমাত্র পল্টনের কোটি টাকা দামের বিল্ডিং-এর জন্য। ট্রাস্টের ওই সম্পত্তি অনেক লাভজনক।

    যাহোক, ভুল তথ্য যেটা আছে, অর্থাৎ বামদের গেরিলা বাহিনীর ১৭ হাজার সদস্য থাকা। ১৯৭১ সালের আগস্ট মাসে সোভিয়েত ইউনিয়ন বাংলাদেশের পক্ষে অবস্থান নিলে তাদের পররাষ্ট্রনীতির আলোকে মস্কোপন্থী বামদলগুলো একটা গেরিলা বাহিনী গড়ে তোলে, তবে তারা যুদ্ধে অংশ নেয়নি। সদস্যসংখ্যা ৫ হাজারের বেশি হবে না। এদের মুক্তিযোদ্ধা স্বীকৃতির জন্য দীর্ঘ আইনি লড়াই চালাতে হয়েছিল এবং মাত্র কয়েক বছর আগে হাইকোর্ট তাদের পক্ষে রায় দিয়েছিল।

    Reply

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। প্রতিক্রিয়া লেখার সময় লক্ষ্য রাখুন--

  • ১. স্বনামে বাংলায় প্রতিক্রিয়া লিখুন।
  • ২. ইংরেজিতে প্রতিক্রিয়া বা রোমান হরফে লেখা বাংলা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না।
  • ৩. প্রতিক্রিয়ায় ব্যক্তিগত আক্রমণ গৃহীত হবে না।

দরকারি ঘর গুলো চিহ্নিত করা হয়েছে—