বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচনকে ঘিরে একটা ব্যাপার বেশ পরিষ্কারভাবে লক্ষ্য করা যাচ্ছে যে, একটি শ্রেণি নির্বাচনী প্রচারণার এক অভিনব ফর্মুলা বের করে তা প্রচার করে বেড়াচ্ছেন। আর এই গোত্রে রয়েছেন, কিছু জ্ঞানপাপী সুশীল বুদ্ধিজীবী, কিছু বাম রাজনৈতিক আদর্শের আঁতেল ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পক্ষের সোচ্চার কণ্ঠের দেশদরদী কিছু নাগরিক।

এইসব ব্যক্তিরা নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী দুই প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বি রাজনৈতিক দলের মধ্য থেকে কোন দলকে বা মার্কায় ভোট দেওয়া জরুরি, তার একটি সারকথা নিজের মতো করে যুক্তি খাঁড়া করে তা জনেজনে বলে চলেছেন অনেকটা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে।

তারা বলছেন, ‘বঙ্গবন্ধুকে জাতির পিতা হিসেবে মেনে নিলেও আওয়ামী লীগকে আর মেনে নেয়া যায় না। এরা একাত্তরে দেশের জন্যে যেই লক্ষ্যে মুক্তিযুদ্ধ করেছেন, যে স্বপ্ন নিয়ে দেশের জন্যে অস্ত্র ধরেছিলেন, বর্তমান আওয়ামী লীগ বা বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা গত দশ বছর ক্ষমতায় থেকে সেই স্বপ্নকে ভেঙে চুরমার করে দিয়েছেন, এরা এখন স্বৈরশাসক সেজে নিজেদের স্বার্থকে প্রতিষ্ঠিত করতেই ব্যস্ত।’

তাদের মতে, এই দল এখন দুর্নীতিবাজ ও শোষক শ্রেণিতে পরিণত হয়েছে। কাজেই নৌকাকে এবার ভোট না দিয়ে দেশ রক্ষায় ধানের শীষ মার্কায় বিএনপি-জামাতকে ভোট দিয়ে স্বপ্নকে পূরণ করতে হবে।

বেশ তো ! গণতান্ত্রিক দেশে ভোট দেয়ার সময় নিজ নিজ চিন্তা চেতনা, বুদ্ধি বিবেচনা বা সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্তটি গ্রহণ করার অধিকার সকল নাগরিকের ক্ষেত্রেই সমান। আর এই স্বাধীন চিন্তা করার এবং বাস্তবায়ন করার পরিবেশটি বর্তমান ক্ষমতাসীন সরকার তৈরি করতে পেরেছে, এটা তো আমাদের জন্যে গর্বের কথা !

কিন্তু কথা হচ্ছে, এইসব জ্ঞানপাপী, বুদ্ধিজীবী, বঙ্গবন্ধুর প্রতি অতিশয় ভক্ত ব্যক্তিরা যদি একাত্তরে দেশের জন্যে সত্যি সত্যি অস্ত্রই ধরে থাকেন, তবে তাদের সেই একই রক্তের ধমনীতে তো জামাত-শিবির যুদ্ধাপরাধীদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর ক্ষিপ্র স্রোতও প্রবাহিত হওয়ার কথা !

আওয়ামী লীগ যদি আজ দুর্নীতিবাজ বা শোষকই হয়ে থাকে, তাহলে তাদের সেই বুদ্ধিদীপ্ত বিবেকের পর্দায় কি খালেদা আর তারেক জিয়ার হাওয়া ভবনের দুর্নীতির বেপরোয়া কীর্তি কলাপের  চিত্রগুলো ভেসে উঠতে চায় না? হাওয়া ভবনের লুটপাটের সেই কারখানার মাধ্যমে শুধু দেশকে বিক্রি করাই নয়, স্বাধীন দেশের অস্থিমজ্জা-স্নায়ুর পরতে পরতে পাকিস্তানের ভূত চাপিয়ে দিয়ে তারা তো বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রকে নিশ্চিহ্ন করার নির্লজ্জ প্রক্রিয়া শুরু করেছিল !

এই সত্যটিও কি কখনো অন্তরে নাড়া দেয় না? এইসব জ্ঞানপাপী, আঁতেলদের বিবেকের কাছে কি দেশদ্রোহী ঘাতক দালাদের মন্ত্রিত্ব লাভের চিত্রগুলো ভেসে ওঠে না? যুদ্ধাপরাধীর গাড়িতে স্বাধীন দেশের জাতীয় পতাকাটি পত পত করে উড়তে থাকার চিত্র কি তাদের স্মৃতিতে কখনো ফিরে আসে না ? ওদের এহেন তৎপরতা দেখে মনে হচ্ছে,  স্ববিরোধী আচরণের এক চরম অবস্থানে এরা বিচরণ করছেন আজ।

আমার দৃঢ় বিশ্বাস, এইসব জ্ঞানপাপীদের বিবেকে সবকিছুই স্পষ্ট হয়ে গেঁথে আছে, মনে আছে প্রতিটি দু:সহ ঘটনার স্মৃতি। কিন্তু ওই যে সহজ ব্যাপারটি শুধু ওইখানেই, যেখানে নিহিত আছে ওদের ব্যক্তিগত বা গোষ্ঠীগত স্বার্থসংশ্লিষ্ট সংঘাত, যেটি কারণে অকারণে বাসা বেঁধেছে মনের গহীনে কিংবা চক্রান্তকারীদের প্রচারনায় বেহুস হয়ে ‘চিলে কান নিয়েছে’ বলে চিলের পেছনে দৌড়ানোর এক ব্যর্থ চেষ্টা।

আর সেই থেকে তৈরি হয়েছে আওয়ামী লীগের প্রতি বা বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার প্রতি বিদ্বেষ, ক্ষোভ আর প্রতিহিংসার অগ্নিস্ফূরণ। আর এই প্রতিহংসার ধিকিধিকি আগুনে জ্বলতে জ্বলতে অবশেষে এইসব তথাকথিত জ্ঞানপাপীদের কণ্ঠ থেকে আওয়ামী লীগকে দুর্নীতিবাজ, শোষক বা রাষ্ট্রের ভক্ষক এমনকি চোর বলেও আখ্যায়িত করা হচ্ছে এবং বর্জন করতে বলা হচ্ছে নৌকা মার্কাকে।

একথা স্বীকার করি যে, মানুষের ভেতরে ভালো-মন্দ দুই-ই রয়েছে, ভালো গুণাবলীর পাশাপাশি খারাপ রিপু তো থাকবেই এবং যুগে যুগে এ ভালো আর মন্দের ভেতর দিয়েই মানব সভ্যতা এগিয়ে চলেছে। একইভাবে দেশের জন্যে বা জাতির জন্যে যারা কাজ করেন বা করতে চান, জননেতা হচ্ছেন, তাদের কারো কারো ভেতরে তো ভুল-ত্রুটি কিংবা লোভ-লালসার জন্ম হতেই পারে! তাই বলে এইসব বিচ্ছিন্ন কিছু বিষয়কে মুখ্য গণ্য করে আকাশচুম্বী উন্নয়নের দেশপ্রেমিক একটি রাজনৈতিক দলকে দূরে ঠেলে দেয়া? বিষয়টি কোন্ভওবেই উড়িয়ে দেয়ার নয়। কাজেই শেখ হাসিনার আজকের এই অভাবনীয় সাফল্যের ধারাবাহিকতাকে সরিয়ে রেখে দেশবিরোধী সন্ত্রাসী ও পাকিস্তানের পরম বন্ধুদের কাছে প্রিয় জন্মভূমিকে ধানের শীষে ভোটের মাধ্যমে বিক্রি করে দেয়ার অপচেষ্টার বিরুদ্ধে ভাববার সময় এসেছে আজ।

আমার প্রশ্ন, তবে কারা যোগ্য এসব জ্ঞানপাপীদের চোখে ? তারা আজ কাদেরকে ক্ষমতায় বসাতে চান ? আওয়ামীলীগ যদি চোর হয়, সেই চোরদেরকে সরিয়ে ডাকাতদের ক্ষমতায় নিয়ে আসার পরিকল্পনা ? এরা আজ মুখে ধানের শিষের পক্ষে সোচ্চার হতে চাইলেও ‘বিবেক’ নামক অনুভূতিটি কি একই কথা বলছে ওদের কানের কাছে এসে? তাদের বিবেক কি ঠিক ঠিক মনে করিয়ে দিচ্ছে না হাওয়া ভবনের পুকুর চুরির কথা? বিএনপি-জামাতের দুর্নীতির পাহাড় নির্মাণের কথা ! দুর্নীতির দায়ে যে নেত্রী খালেদা আজ জেলের অন্তরালে, সবেধন নীলমণি একমাত্র কুলাঙ্গার পুত্র তারেকও একই ধারায় সাজাপ্রাপ্ত হয়ে পালিয়ে বেরাচ্ছে, এরা কিসের প্রত্যাশায় সেই বিএনপি-জামাতের পিছু নিয়েছেন আজ ? অতীতের কিছুই কি মনে পড়েনা এইসব বিপথগামীদের বিবেকের দরজায় ?

মোট কথা, বিএনপি-জামাতের অতীতের তিক্ত অভিজ্ঞতার স্মৃতি ওদের ভুলবার কথা নয়, আবার ইগো বা জেদের কারণে বর্তমান সরকারকেও নতুন করে ক্ষমতায় আসতে দিতে চাইছেন না ওরা। অথচ ওরা বুঝতেই চাইছেন না যে,তাদের এই ক্ষোভ বা ঘৃণার কারণে নৌকাকে ভোট না দিয়ে ধানের শিষের কাছে যাওয়া মানেই দেশকে আবারও নিকষ কালো অন্ধকারের দিকে ঠেলে দেয়া।

এপর্যন্ত শেখ হাসিনার সরকার বাংলাদেশের অবস্থানকে সমৃদ্ধির ব্যারোমিটারে যে কতটা উপরে নিয়ে গেছে, তা একটি নিবন্ধে লিখে শেষ কর যাবেনা। সেসব নিয়ে লেখালেখিও হচ্ছে বিস্তর, দেশবাসীও তা জানেন, আমি সেসব আর উল্লেখ করতে চাই না। আমি শুধু বলতে চাই, এবারে নৌকার বিজয় সুনিশ্চিত না হলে আমাদের স্বাধীন বাংলাদেশটিকে আবারও পাকিস্তানের কাছে বিক্রি করার নগ্ন তৎপরতায় নেমে যাবে যুদ্ধাপরাধীসহ বিএনপি-জামাতের কাণ্ডারিরা। আবারও ইতিহাস মুছে যাবে, তৈরি হবে মিথ্যা, স্বরচিত আর বিকৃত ইতিহাসের প্রহসন, নতুন প্রজন্মের কাছে এই প্রাণপ্রিয় স্বাধীন ভূমি আবারও অস্পষ্ট আঁধারে তলিয়ে যাবে সহজেই, সেই সাথে একাত্তরের চেতনাকে চিরতরে মুছে দিতে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার তথা আওয়ামী লীগের সকল বিশ্বাসীদের একে একে দেশছাড়া কিংবা গুম করে নিশ্চিহ্ন করে দিয়ে আপদমুক্ত করবে এইসব পাকিস্তানি প্রেতাত্মারা। আর তারই যোগানদাতা হিসেবে মাঠে নেমেছেন এইসব স্ববিরোধীরা।

আসলে এদেরকে ঠিক স্ববিরোধী বললেও ভুল বলা হবে, তার আগে একটি ছোট্র উদাহরণ দেই। একটা গাড়ির ইঞ্জিনের ভেতরে ব্যাটারি নামক যে হেভি-ওয়েটের সেল থাকে, সেটির চার্জ কখনো নি:শেষ হয়ে গেলে নেগেটিভ-পজেটিভ তারের সমন্বয়ে তৈরি করা বুস্টার ক্যাবল নামের একটি ক্যাবল দিয়ে সেখানে চার্জ দিতে হয়, যার ফলে সেই চার্জ পেয়ে ব্যাটারি তার জীবনি শক্তি ফিরে পায়। অচল গাড়িটি আবারও হয়ে ওঠে সচল। আমাদের এইসব তথাকথিত জ্ঞানপাপী আঁতেলরা আজ ড. কামাল গংদের নির্দেশে সেই বুস্টার ক্যাবল হিসেবেই বিএনপি-জামাতকে চার্জ দিয়ে তাদের জীবনী শক্তি ফিরিয়ে আনার ব্যর্থ চেষ্টায় মাঠে নেমেছেন। ফলে বিপদ থেকে দেশকে উদ্ধারের নামে ডেকে আনতে চাইছেন মহাবিপদ।

১৭৫৭ সালে নবাব সিরাজ-উদ-দৌলাহ’র ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির বিরুদ্ধে অস্তিত্ব রক্ষার যুদ্ধে নামার সময় থেকেই সেনাপতি মীর জাফর যুদ্ধে অংশ না নিয়ে বেঈমানির জন্ম দিয়েছিলেন। মীরজাফর বাঙালি না হলেও বাঙালিদের মস্তিষ্কের রন্ধ্রে রন্ধ্রে তার সেই বেঈমানিটি ‘মীরজাফরী’ আচরণ হিসেবেই গণ্য হয়ে আসছে যুগ যুগ ধরে। ফলে খাজা নাজিমুদ্দিন, মোনায়েম খান থেকে শুরু করে একাত্তরের নুরুল আমীন, গোলাম আজম, মতিউর নিজামী, মুজাহিদ, কাদের মোল্লা কসাই, সা কা চৌধুরীসহ তাদের অনুসারী অসংখ্য আল বদর, রাজাকার সদস্যরা বাংলাদেশ নামক স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার নয়মাসের মুক্তিযুদ্ধে করেছে চরম বেঈমানি, যা ঘৃণিত ‘মীরজাফরী’ আচরণ বলেই সকলের কাছে গণ্য হয়েছে।

স্বাধীনতার পরও এই মীরজাফরী আচরণ অব্যাহত রেখেছেন একে একে আসম রব, মেজর জলিল, সিরাজুল আলম খান গং এবং পঁচাত্তরে বঙ্গবন্ধুকে নৃশংসভাবে হত্যা ঘটনায় মীর জাফরের খাতায় আরও যুক্ত হয়েছেন সেনাবাহিনীর কতিপয় অফিসারসহ খন্দকার মোস্তাক ও সেনাশাসক জিয়াউর রহমান। আর দীর্ঘ স্বৈরশাসনের অবসানের পর আবারও যখন শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশে ফিরে এসেছে গণতন্ত্রের সুস্থ ফল্গুধারা, সমৃদ্ধির পথে যখন দেশ এগিয়ে যেতে শুরু করেছে অতীতের সকল রেকর্ড অতিক্রম করে, ঠিক তখনি আবারও দেখা যাচ্ছে সেই মীরজাফরদের উত্থান।

মূলত বঙ্গবন্ধুর অন্যতম সহযোগী ড. কামাল, বঙ্গবীর মুক্তিযোদ্ধা কাদের সিদ্দিকী ও রেজা কিবরিয়া গংদের মত যেসব ঐক্যফ্রন্টের নেতারা নাটের গুরু সেজে বঙ্গবন্ধুর নাম ভাঙ্গিয়ে, একাত্তরের চেতনার কথা পুনঃব্যক্ত করে বিএনপি-জামাতের এজেন্ট হয়ে তাদের সাথে নির্দ্বিধায় নির্লজ্জের মাথা খেয়ে নির্বাচনের মাঠে নেমে যে ভূমিকা রাখছেন, তাদের সেই আচরণ আর কিছু নয়, নি:সন্দেহে এসময়ের সর্বশেষ মীরজাফরী আচরণ। মীরজাফরের ভূমিকায় তারা অপেক্ষায় আছেন নব্য ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানিরূপী যুদ্ধাপরাধী ঘাতক দালাল জামাত বিএনপিকে খোশ আমদেদ জানানোর জন্যে।

নির্বাচনে বিএনপি-জামাত এলে এই মীর জাফরের দল বঙ্গবন্ধুর নামের জায়গায় শহীদ জিয়ার নাম বসিয়ে উচ্ছ্বাসের স্লোগান তুলে সন্তুষ্ট করাবেন নবাগত হুজুরদের। স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি হিসেবে জিয়ার নাম উচ্চারণের মধ্য দিয়ে মিথ্যাকে সত্য বলে প্রতিষ্ঠা করার ধৃষ্টতা যে দলটি এখনও দেখিয়ে থাকে, ড. কামাল বা বঙ্গবীর কাদের তো তাদের কাছেই নতজানু হয়ে অপেক্ষায় দিবাস্বপ্ন দেখছেন আজ। নয় মাসের মুক্তিযুদ্ধে অগণিত মা-বোনদের ধরে নিয়ে পাকিস্তানিদের শয্যায় পৌঁছে দিয়েও যারা ক্ষান্ত হয়নি, অগনিত মুক্তিকামী বাঙালির বুকের পাঁজর ঝাঁজরা করে সেইসব অগনিত লাশের বহর ভাসিয়ে দিয়েছে যারা নদীর স্রোতে, এমনকি বিজয়ের দুই দিন আগেও যারা ঢাকা শহরের ঘরে ঘরে তল্লাসি চালিয়ে বুদ্ধিজীবীদের ধরে নিয়ে চোখ বেঁধে মীরপুরের বদ্ধভূমিতে নির্মমভাবে হত্যা করেছে, সেই জামাত, শিবির, আল বদর, রাজাকার প্রার্থীদের নির্বাচনী বিজয়ের প্রহর গুণছেন আজ তারা। দৃশ্যত এই মীরজাফর গংদের অনুসারী হয়েই ঝাঁপিয়ে পড়েছেন নিবেদিতপ্রাণ এইসব জ্ঞানপাপী তোষামোদকারী সুশীল বুদ্ধিজীবীরা।

আজ ড. কামাল বলছেন, নৌকাকে বর্জন করলে দেশের মানুষ আবারও স্বাধীনতা ফিরে পাবে, অধিকার ফিরে পাবে। সত্যি কথাই তো বলছেন তিনি। আসলে কার বুদ্ধিতে একদা এই ড. কামাল হোসেনের মত জাঁদরেল জ্ঞানী গুণী আইনজীবী মানুষটি জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর সান্নিধ্যে এসে মনের ভুলে দীক্ষা নিয়ে বাংলাদেশের স্বাধীনতার সংগ্রামের সাথী হয়েছিলেন, দেশকে স্বাধীন করে দেশের প্রথম সারির নেতা হয়েছিলেন। সেই ড. কামাল এতো দিন পরে আজ নিজের ভুল বুঝতে পেরে ১৯৪৭ সালের পাকিস্তান নামক রাষ্ট্রের অর্জিত স্বাধীনতাকে আবারও ফিরিয়ে দিতে চাচ্ছেন পূর্ব পাকিস্তানবাসীদের কাছে। তার আশ্বাসবাণীটি তো একেবারেই সত্যি ! আর একারণেই তো বাঙালি জাতির মহান মুক্তিযুদ্ধের রণাঙ্গনের যুদ্ধাপরাধী পাকিস্তানের পরম বন্ধু জামাত আর বিএনপির সাথে জোট বেঁধে তাদেরই জয়গান গাইছেন ষোলকলা পূরণ করতে।

বাংলাদেশে ভোটের আগে বরাবরই কিছু মানুষ দ্বিধাদ্বন্দ্বে ভোগেন। এরা ব্যক্তিজীবনে কখনই কোন ব্যাপারে যেমন সুখী নন, নির্বাচনের সময় ভোট দিয়ে গিয়েও সুখি থাকেন না, দোদুল্যমান থাকেন কোন দলটিকে ভোট দেবেন, এই ভাবনায়। মোট কথা তাদের চোখে সব রাজনৈতিক দলই চোর, দুর্নীতিপরায়ণ এবং দেশ পরিচালনার অযোগ্য।

তবে একটা ভালো দিক হলো, এইসব সিদ্ধান্তহীনতায় আক্রান্ত ভোটাররা শেষ মুহূর্তে ভোট দেয়ার সময় এসে একটা সঠিক সিদ্ধান্তে চলে আসেন। ওরা তখন খুঁজে বের করেন মন্দের ভালোকে। এবারও এই শ্রেণির ভোটাররা মন্দের ভালোর বিবেচনা থেকে নৌকা মার্কাকেই বেছে নিয়েছেন। তারাও অন্তত এই কথাটি বলছেন যে, দুই প্রধান রাজনৈতিক দলই তাদের চোখে মন্দ হলেও পাকিস্তানের দোসর, যুদ্ধাপরাধী জামাত-বিএনপি থেকে দেশকে মুক্ত রাখতে নৌকা মার্কাকেই বেছে নিতে হচ্ছে অর্থাৎ সিদ্ধান্তহীনতায় আক্রান্ত মানুষগুলোও আজ সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্তটি গ্রহণ করতে পারছে। অথচ দুর্ভাগা এইসব কতিপয় জ্ঞানপাপী আঁতেল ঘুরেফিরে ‘পাগলে কিনা কয়, ছাগলে কিনা খায়’, এই মর্মবানীকেই সুদৃঢ় রাখছেন।

আমার মতে, যদি সত্যিকারের দেশপ্রেমিক হতে মন চায়, যদি মুক্তিযুদ্ধের চেতনাটিই প্রথম অগ্রাধিকার পায়, যদি মনে পড়ে বিএনপি-জামাতের শাসনামলের সেই দুর্বিসহ দিনগুলির কথা, তবে ব্যক্তিগত ক্ষোভ আর ‘দুষ্ট লোকের মিষ্টি কথায় কান না দিয়ে’ এই জ্ঞানপাপীরা নৌকা মার্কাকেই সঠিক মার্কা হিসেবে গণ্য করে শেখ হাসিনার উন্নয়নের ধারাকে গতিশীল করার যাত্রায় শরীক হতে পারে। কাজেই শেষ কথা একটাই, বাংলাদেশের আগামীর সমৃদ্ধির অগ্রযাত্রায় ভোট হোক শুধু নৌকা মার্কায়।

আশা করি, শেষমেশ জ্ঞানপাপী-আঁতেলদের চিন্তা-চেতনায় শুভবুদ্ধির উদয় হবে। এই শুভবুদ্ধির প্রয়োজন ছিল ড. কামালের জন্য, রেজা কিবরিয়া কিংবা বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকীর জন্যেও। তারা আজ নৌকার পালে ভিড়লেই সঠিক সিদ্ধান্তটি নিতে পারতেন, আর তা না করতে পারলে আমি নিশ্চিত, এই যাত্রায় তাঁদের ‘ষোল আনাই মিছে’ বলে পরিগণিত হবে ইতিহাসের পাতায়।

Responses -- “নির্বাচনের আগে আবারও মীর জাফরের উত্থান”

  1. Nipu

    ‘আর এই স্বাধীন চিন্তা করার এবং বাস্তবায়ন করার পরিবেশটি বর্তমান ক্ষমতাসীন সরকার তৈরি করতে পেরেছে, এটা তো আমাদের জন্যে গর্বের কথা।’ পাগলের প্রলাপ সম্ভবত একেই বলে।

    Reply
  2. Rifat Hasan

    বঙ্গবন্ধু হত্যা পরবর্তী সময়ে সামরিক শাসকেরা আওয়ামী লীগ বিরোধী যেসকল অপপ্রচার চালিয়েছে তা দেশের কিছু গন্ড মুর্খ এবং শিক্ষিত মুর্খ ঐশী বাণী হিসেবে ধারণ করে | এরা কখনই আওয়ামী লীগের ভালো কাজ দেখে না | আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় না আসলে কি আর হবে…পাবলিক যদি মনে করে দেশে খাম্বা বেশি হইছে তাইলে তো রপ্তানির ব্যবস্থা করবে…কত কি দেখবো রে ভাই,,,,উগান্ডা যামু যদি এমন কেউ ক্ষমতায় আসে কারন বলা যায় না আমার পিতৃভুমি ইরাক-সিরিয়ার মতো হতে পারে|

    Reply
  3. মোঃ আহ্সান হাবিব মিলন

    খালেদা তারেকের দুর্নীতি আপনার চোখে লেগেছে কিন্তু শেয়ার বাজার ও ব্যাঙ্ক লুট হয়ে গেলো, রিজার্ভ চুরি হলো, কয়লা ও পাথর চুরি হলো, হত্যা, গুম ও সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করলেন আপনার চোখে পড়েনি। আপনি তো মহান।

    Reply
  4. সেলিম

    আপনার লেখাটি পড়লাম। সময়ই গতিপথ পাল্টে দেয়। যারা জাতির জনকের তীব্র সমালোচক ছিলেন তারাই আজ নেত্রীর খুব কাছের লোক। আর যারা জাতির জনকের ঘনিষ্ঠ সহচর ছিলেন তারাই আজ নেত্রীর বিপক্ষে।
    এ জন্য চাটুকারিতাই দায়ী। চাটুকাররা সব সময়েই এগিয়ে যায়। আর ত্যাগীরা দূরে সরে যায়।
    ধরুন, ইনু ভাই আর মতিয়া আপা। তাদের আগের রাজনীতির ইতিহাস এখনকার ইতিহাস পর্যালোচনা করুণ। সব পরিস্কার হয়ে যাবে।

    Reply
  5. Md. Mahbubul Haque

    শুধু একটি প্রশ্নের উত্তর দিন – অন্যের অপকর্মের বিপরীতে নিজের অপকর্ম কি হালাল হয়ে যায়?

    Reply
  6. ইমন বরুয়া

    জনাব রুমি কবির
    কোন নির্বাচনের কথা বলছেন ? আগামী ৩০ শে ডিসেম্বর ? সারা দেশবাসী জানে এটা গত ৫ জানুয়ারী নির্বাচনের উন্নত ভার্সন! বর্তমান যে পরিস্থিতি তাতে ভয়ে ৮০% লোক ভোট কেন্দ্র যাবে না। অবশ্য তারা যাক বা না যাক, তাদের ভোট দেয়া হয়ে যাবে। আওয়ামী লীগ ছাড়া অন্য কোন দলের পোষ্টার মিছিল কিছুই দেখলাম না। এদেশে বাকশাল প্রতিষ্ঠা হবে ইনশাআল্লাহ। বাকশাল প্রতিষ্ঠা করে সারা বিশ্বে সুনাম কুড়াতে পারবে বাংলাদেশ।

    Reply

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। প্রতিক্রিয়া লেখার সময় লক্ষ্য রাখুন--

  • ১. স্বনামে বাংলায় প্রতিক্রিয়া লিখুন।
  • ২. ইংরেজিতে প্রতিক্রিয়া বা রোমান হরফে লেখা বাংলা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না।
  • ৩. প্রতিক্রিয়ায় ব্যক্তিগত আক্রমণ গৃহীত হবে না।

দরকারি ঘর গুলো চিহ্নিত করা হয়েছে—