এক সাথে দুটো ঘটনা দেখলাম মিডিয়ায়। প্রথমটি হামলার আগে। বাকীটা হামলার পরের। প্রথমটায় ড. কামাল হোসেন খুব উত্তেজিত। তিনি গিয়েছিলেন জাতীয় স্মৃতিসৌধে। ঐক্যফ্রন্টের নেতারা সেখানে যাবেন এটাই স্বাভাবিক। এই সৌধ জাতির সকলের। এরা আমাদের জাতির বীর ও পবিত্র সন্তান। যাদের রক্তধারায় শুদ্ধ হয়েছিল এই মাটি।
রায়ের বাজার ঢাকা থেকে খুব বেশি দূরে না। তখনকার এই নির্জন জায়গাটিকে বেছে নিয়েছিলো পাক হানাদার বাহিনী ও তার দোসরেরা। ইতিহাস জানে রাও ফরমান আলীর পরিকল্পনায় বিদেশে পালিয়ে থাকা ঘাতক চৌধুরী মঈনুদ্দীনসহ দালালেরা মিলে আমাদের সেরা সন্তানদের তালিকা করে তাদের ধরে নিয়ে গিয়েছিল। ইসলামী ছাত্রসংঘের তখনকার নেতা ফাঁসিতে যাওয়া নিজামী ছিল এই বাহিনীর হোতা। তারা আমাদের শহীদ বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করে মেধাশূন্য করতে চেয়েছিল। সে বাস্তবতা কাটিয়ে বাংলাদেশ আজ নিজের পায়ে দাঁড়ালেও ইতিহাসের এই ঘাতকদল মাঠ ছাড়েনি। নামে বেনামে তাদের ষড়যন্ত্র চলছে।
স্মৃতিসৌধে যাওয়া সাংবাদিক মিডিয়া বা সাধারণ মানুষের মনে মনে যে ঘৃণা আর ক্রোধ তার বাইরে জামায়াত থাকবে না এটাই স্বাভাবিক। একথা মানতে হবে পদ্মার পানিতে যেমন অনেক ঢেউ গড়িয়েছে তেমনি অনেক বিষয়ে দেশ ও জাতিতে ব্যাপক পরিবর্তনও এসেছে। তার মানে এই না যে, আমাদের ইতিহাস বা অতীতের গর্ব নিয়ে ছিনিমিনি খেলা জায়েজ। এইদেশ পঁচাত্তর থেকে ছিয়ানব্বই পর্যন্ত নানাভাবে পাকি কায়দায় শাসিত হবার কারণে একসময় মানুষ বিভ্রান্ত হয়ে পড়েছিল তারপর ও তারা আবার গদিতে আসে আর হত্যা ও ষড়যন্ত্রের রাজনীতি চালু রাখে।
কিন্তু ইতিহাস বা সময় ছেড়ে কথা বলেনি। তাই বাংলাদেশ ঘুরে দাঁড়িয়ে তাদের কাউকে কাউকে বিচারের মুখোমুখি করেছে। দিয়েছে চরম শাস্তি। আমি বিশ্বাস করি, এই কারণে শেখ হাসিনার প্রতি অন্ধ আক্রোশ আছে কিছু মানুষের। তার ব্যক্তিগত বিরোধী বা দলছুট নেতারা এর সুযোগ নিয়ে দেশের মানুষকে বিভ্রান্ত করতে চায়। যার এখন পুরোভাগে আছেন ড. কামাল হোসেন। তিনি ঐক্যফ্রন্টের হয়ে স্মৃতিসৌধে গিয়েছিলেন- ভালো কথা। যে সাংবাদিক যে তরুণ তাকে সহজ প্রশ্নটি করেছিল তার উত্তর কেন তিনি সহজ ভাবে দিতে পারলেন না? তার কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল নিবন্ধন বাতিল হয়ে যাওয়া জামায়াত কী নির্বাচন করছে?  করলে কী ভাবে?  দেখলাম বয়সী কামাল হোসেন প্রচণ্ড রেগে গিয়ে যুবকটিকে বলছেন, তাকে এ ধরনের প্রশ্ন করার জন্য কত টাকা দেয়া হয়েছে। এখানেই শেষ না। এতবড় একজন আইনজীবী দেশের সম্মানিত মানুষ একটি নিরীহ সাংবাদিককে বলছেন, নাম জেনে রাখলাম। দেখে নেব। খামোশ।
লজ্জায় মাথা হেঁট হয়ে যায়। আইনজীবীদের শিরোমনি যদি এভাবে থ্রেট করে কথা বলেন মানুষ যাবে কোথায়? প্রশ্ন পছন্দ না হলে কিংবা আপত্তি থাকলে তিনি তা ভালোভাবেই জানাতে পারতেন। বলতে পারতেন, আমি এর উত্তর দেব না। এই যে তিনি বললেন, শহীদ মিনারে এসেছো। শহীদদের সম্মান করো। এর মানে কী? শহীদদের তো তিনিই অপমান করলেন। তাদের রক্তপিপাসু ঘাতক দলের নাম শুনলেই রেগে যেতে হবে? একেই কী বলে, ঠাকুর ঘরে কে রে? আমি কলা খাইনা।
কামাল হোসেন সাহেবরা ভালো জানেন তাদের আঁতাত কার সাথে। বিএনপি ও জামায়াত যে একছত্রে, এক সূত্রে গাঁথা- এটা তারা জানেন বলেই রেগে গেছেন। হিতাহিত জ্ঞান শূন্য হয়ে স্মৃতিসৌধ কে বলছেন শহিদ মিনার। যে নেতা সৌধ আর মিনারের তফাৎ বোঝেননা তাঁর কাছে শহিদের স্মৃতি কতটুকু নিরাপদ?
সামনে নির্বাচন। নির্বাচনের আগে কিসের জোরে কোন বলে তারা এমন মারমুখি আচরণ করছেন? মানুষতো নির্বাচনের সময় নরম নেতাদের কোমল রুপ দেখতে অভ্যস্ত। তারা অন্যসময় রাগ করলেও এসময় নরম থাকেন। ভোটের আশা থাকলে এমন আচরণ এমন উগ্রতা মানায়না। আমরা তাই ধরে নিতে পারি এর ভেতর কোন কিছু রহস্য আছে। যা এখন বোঝা না গেলেও পরে টের পাওয়া যাবে। দেশের স্বাধীনতা সাতচল্লিশ বছরে দাঁড়ালেও দিকভ্রান্ত নেতাদের আচরণে এখনো বালখিল্যতা আর দেশপ্রেম নিয়ে সংশয় আছে।
এরপর দেখলাম ফেরার পথে তার গাড়িবহরে নাকি হামলা হয়েছে। আহত হয়েছেন আ স ম রবের ড্রাইভার। যারাই হামলা করুক বেচারী নিরীহ ড্রাইভারের জন্য মায়া লাগছে। স্বাভাবিকভাবেই এর দায় যাবে সরকারী দলের কাঁধে। তাদের অতি উৎসাহী ক্যাডারেরা হামলা করলেও করতে পারে। যা কোনওভাবেই সমর্থনযোগ্য না। আবার রাজনীতির খেলায় নিজেরা হামলা করে সহানুভূতি কুড়ানোর চেষ্টা ও বাদ দেয়া যাবেনা। যে ভাবেই হোক হামলা বাদ দিতে হবে। এর মাধ্যমে সবার অকল্যাণ আর নির্বাচনের বারোটা বাজানো ছাড়া কিছু নাই।
ড. কামাল হোসেনর আচরণে মর্মাহত হবার পাশাপাশি মনে হলো সাধে কী শাস্ত্রে বলেছে- চল্লিশের পর বানপ্রস্থে যাবার কথা। কোন বয়সে ত্যাগ করতে  হয়  আর কোন বয়সে বাড়িতে থেকে সম্মান পেতে হয় সেটাও গুলিয়ে ফেলেছে রাজনীতি। ড. কামাল হোসেনের ‘বাচ্চা সাংবাদিক’কে দেখে নেয়ার আস্ফালনে স্তব্ধ স্মৃতিসৌধ কী ভাবছিলো জানিনা। তবে শহীদের আত্মা নিশ্চয়ই মনে মনে বলছিলো: এ জন্যেই কী আমরা প্রাণ দিয়েছিলাম? যেমনটা গয়েশ্বর বলেছিল এক সভায়। শহীদরা নাকি ‘বোকা মানুষ’। নাহলে তারা কেন চৌদ্দ ডিসেম্বর বাড়িতে বসে ছিলেন। কেন তারা যুদ্ধের সময় পাকিস্তানি বেতনে চলতেন? ধারণাটা এই সেসময় গয়েশ্বরের বাবার টাকা চালু ছিল দেশে। এই রাজনীতির উত্তরাধিকার বহন করতে হলে এমন অপ্রস্তুত হতেই হবে ড. কামাল হোসেন। বাকি চয়েস আপনার।
অজয় দাশগুপ্তকলামিস্ট।

১৩ Responses -- “ড. কামালের খামোশ হুঙ্কার: স্তব্ধ স্মৃতিসৌধ”

  1. Md. Mahbubul Haque

    দাদা আপনাকে মনে করিয়ে দিই – ‘খামোশ’ এবং ‘আওয়ামী’ শব্দ দুটোই উর্দু তথা পাকিস্তানি।

    Reply
  2. Not applicable

    i saw the video. i think our journalists need to learn how to ask question. he was not able to breath in that video, on the other hand journalist was giving the rain of questions to Dr. Kamal to make him heart attack. are there any rules for the journalists to behave like that? i do not know what was the other way to stop it. that was probably the reason he said “Khamos”. Everyone has the right to do the politics. it should be the same for Dr Kamal. Too many corruptions are in the present government. Dr, Kamal did the right thing to make everyone together to go opposite of corruptions of this present government. is that really wrong things to do?

    Reply
  3. Samir deb nath

    এই একজন চ্যাম্পিয়ন তেলবাজ বুদ্ধিজীবি হতে ইচ্ছুক লেখক (কিন্তু আদতে ফাঁপা)

    Reply
  4. Reza

    Mr. Ajay, Please correct your title. You wrote national memorial but it should be memorial for martyred intellectuals. That memorial is not national memorial. Only two memorials are national. Shahid Minar & national memorial located at Savar. It is very much eye irritating to see such gross mistake in your writing.

    Reply
  5. মো. গাওসেল এ. রাসেল

    গতকালকের বিবিসি বাংলা নিউজ পোর্টালে “ভারতের নেতা-মন্ত্রীদের বিজয় দিবসের টুইটে প্রায় উল্লেখই নেই বাংলাদেশ বা মুক্তিযুদ্ধের” শিরোনামে যে খবরটি প্রকাশিত হয়েছে- সে বিষয়ে এরকম জ্বালাময়ী একটি লেখনী চাচ্ছি মি. অজয় দাশগুপ্ত।

    পাক হানাদার বাহিনী ১৪ই ডিসেম্বর ১৯৭১ আমাদের দেশের মেধাবী সূর্যসন্তান ও সত্যিকারের বুদ্ধিজীবিদের শহীদ করেছিল বলেই আজ থলের ভিতরে বসে থাকা তথাকথিত বুদ্ধিজীবিদের লেখা আমাদেরকে পড়তে হচ্ছে।
    আমি মনে করি ২০০৮-এ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগকে জনগণ নির্বাচিত করেছিল তাদের ভালোবেসে নয়; বরং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের উপর বীতশ্রদ্ধ হয়ে। ২০১৪ এর নির্বাচন শ্রেফ একটা প্রহসন ছিলো।

    আর ২০১৮-এ যদি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলকে যদি জনগণ নির্বাচিত করেই ফেলে (জনগণ কি আদৌ ভোট দিতে পারবে?)- তবে তা ওদেরকে ভালোবেসে নয়; বরং বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এর উপর সাধারন মানুষের বীতশ্রদ্ধ হওয়ার কারণে।

    আর এই বীতশ্রদ্ধ হওয়ার পেছনে সুযোগ সন্ধানী এবং থলের ভিতরে বসে থাকা বুদ্ধিজীবিরাও কম দায়ী নয়।

    ধন্যবাদ।

    Reply
  6. Anwar A Khan

    A quite few years ago, Prof Dr. Muntassir Mamamun Sir having grossed out, wrote in an article that ‘everything is possible in Bangladesh.’ Yes, tout de suite it has come out that you wrote it aright. A fraction of seasoned Bangladesh liberation force has now melted down with the criminal outfit of Anti-Bangladesh liberation force, the war criminals and their batrachians. They have now taken sanctuary in their den before the 11th national polls to bring the country back to the public slaughter house like 1971 and with a primal design only to slice up power for their own interests. These unblushing ring-leaders are no one else but Dr. Kamal Hossain, ASM Abdur Rob, Kader Siddiqui, Dr. Zafrullah Chowdhury and their compadres. On the one hand, they have encamped them with the anti-Bangladesh liberation force which brutally murdered three million of our people including the best intellectuals and molested 3 hundred thousand of our mothers and sisters in 1971; on the other hand, they went to place the floral wreaths on the sanctified graveyards of martyred intellectuals at Mirpur, Dhaka on December 14. Look at their irremissible temerities! They have made them dunghill and can be thought of as third rater highwaymen and these midgets deserve to be excoriated in the most abrasive language. Policemen also should have ruthlessly stamped down the assaulters on the motorcade of Dr. Kamal Hossain and his chums.

    Political parties or political fronts are targeting the youth, in particular and in the build up to the election, the Bangladesh’s Grand Alliance is leaving nothing to chance. Withal, we want to frontwards to vote down the anti-Bangladesh liberation force and their confederates in the December 30 national elections; must we defeat them; and upraise our glorious National Flag being triumphant.

    From a bantam FF of the 1971 war field, a salute must go to Mr. Dasgupta for this piece of signification.

    Reply
  7. আদিব

    “ধরাকে সরা জ্ঞান” করাটা আমাদের রাজনীতিবিদদের একটা বৈশিষ্ট্য বটে। জনমনে সম্মানবোধ থাক আর না থাক, তারা নিজেদেরই সবচেয়ে সম্মানিত বলে মনে করে থাকেন। কেউ বলেন “রাবিশ”, কেউ ” খামোশ”। দুটোই বিরক্তিকর এবং বর্জনীয়। ক্ষমতার দম্ভে কারও হাতে শিক্ষক লাঞ্ছিত হন, কেউ সাধের গাড়িতে সামান্য আঁচড় লাগানোর জন্যে চ্যালা-চামুন্ডা সহযোগে সাধারণ মানুষের ওপর চড়াও হয়।
    নিজেদের মধ্যে কাঁদা ছোঁড়াছুড়ির বাহার দেখলে মনে হয় এটাই তাদের প্রধান কাজ। ভাব দেখলে আর কথাবার্তা শুনলে মনে হয় কেউ চাক আর না চাক, তারা ক্ষমতায় এসে দেশের “সেবা” করেই ছাড়বেন। ক্ষমতায় আসব, ক্ষমতায় থাকব, “নির্বাচিত হলে” কথাটা সাধারণত নির্বাচন কাছে না আসা পর্যন্ত তেমন শোনা যায় না। সবাই নয়, তবে কেউ ধর্ম ব্যবসায়ী, কেউ চেতনার। এ দুটোকে পুঁজি করে যেন অযোগ্য ব্যক্তিরা এবারে নির্বাচিত না হয়।

    Reply
  8. Fazlul Haq

    খামোশ আর কিছুই নয় স্বাধীনতা বিরোধী পাকিস্তানি কন্ঠের হুঙ্কার। দেশের মানুষ কি এই হুঙ্কার মেনে নিয়ে পাকিস্তানি প্রেতাত্মাদের ভোট দিয়ে নির্বাচিত করবে? মানুষ কি সচেতন নয়?

    Reply
  9. সৈয়দ আলি

    “চল্লিশের পর বানপ্রস্থে যাবার কথা।” আপনি গেছেন?
    কামাল হোসেন উস্কানি খেয়ে নির্বোধের আচরণ করেছেন। তাই এখন তাঁকে জামাতের অংশ বলে প্রচার করার সুবিধা হচ্ছে। দাশশুপ্ত, আওয়ামী লীগ কমপক্ষে ১২ জন যুদ্ধাপরাধীর সন্তানকে নির্বাচনে মনোনয়ন দিয়েছে, সে বিষয়ে কিছু বলবেন?

    Reply
  10. Real

    Dr. Kamal Hossain is not a country builder. He has no contribution to the country. He has enriched himself by earning money from a criminal. Honorable Sheikh Hasina has mission, vission and effort to develop the country. Dr. Kamal Hossain has done nothing and will do nothing for the country. He will establish Jamat to destroy the country soon and it is his mission and vission. So, Dr. Kamal Hossain is a misanthropist. Besides, he is a crazy person and boasts of his merit. He has no quality to be a leader. So, all of us should avoid him.

    Reply

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। প্রতিক্রিয়া লেখার সময় লক্ষ্য রাখুন--

  • ১. স্বনামে বাংলায় প্রতিক্রিয়া লিখুন।
  • ২. ইংরেজিতে প্রতিক্রিয়া বা রোমান হরফে লেখা বাংলা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না।
  • ৩. প্রতিক্রিয়ায় ব্যক্তিগত আক্রমণ গৃহীত হবে না।

দরকারি ঘর গুলো চিহ্নিত করা হয়েছে—