বাংলাদেশ ৪৮ বছরে পা দিল। প্রায় পঞ্চাশ বছর। আমরা তখন ছিলাম তরুণ, এখন বৃদ্ধ, কী ভাবে সময় চলে গেল বুঝলাম না। তারাশংকর বন্দ্যোপাধ্যায় যে ‘কবি’-তে লিখেছিলেন-‘জীবন এতো ছোট ক্যানে?’ বা ‘কালো যদি মন্দ তবে কেশ পাকিলে কান্দ ক্যানে?’ এসব বাক্য যে কতো সত্য তা’ এখন হাড়ে হাড়ে বুঝি। আমাদের জেনারেশন এতো ঝড়ঝাপ্টা পেরিয়েছি যে বলার নয়। পৃথিবীর খুব কম জেনারেশন এতো ঝঞ্চামুখর সময় পেরিয়েছে। তবে, আমাদের সৌভাগ্য, বাংলাদেশের ইতিহাসের পথ ধরে এগিয়েছি, আমাদের বাদ দিয়ে বাংলাদেশের ইতিহাস নির্মাণ করা যাবে না।

নিজেদের জেনারেশনকে আমরা বলি মুক্তিযুদ্ধের জেনারেশন। আমাদের যৌবনের সংগ্রামের ফল মুক্তিযুদ্ধ। স্বাধীনতার দিন বেঁচে থাকা এক অপার সৌভাগ্য।

আমরা যখন মুক্তিযুদ্ধকে পরবর্তী ঘটনাসমূহ বিচারে মাপকাঠি হিসাবে ধরি তখন অনেকে বলেন, এটি বাড়াবাড়ি। আজ প্রায় ৫০ বছর হলো বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে, এখনও মুক্তিযুদ্ধকে মাপকাঠি হিসেবে বিচার করা অযৌক্তিক। আজ থেকে ৪০ বছর আগে মোশতাক এবং পরবর্তীকালে জেনারেল জিয়ার মতো স্বাধীনতা বিরোধীরা যখন ক্ষমতা দখল করেছিলেন তখনও প্রায় একই ধরণের কথা বলতেন। কবে কী হয়েছে তা এখনও মনে রাখতে হবে? সব ভুলে নতুন ভাবে অগ্রসব হতে হবে। এই ভুলিয়ে দেওয়ার চেষ্টাটা শাসক/স্বাধীনতা বিরোধীদের একটি বড় অস্ত্র। ভুলিয়ে দেওয়া বা ভুলে যাওয়াটা মৃত্যুর শামিল। স্মৃতি বিলুপ্ত বা ডিমেনশিয়া যে মানুষের, সে কি বেঁচে থাকে? না, তাকে বেঁচে থাকা বলে?

মুক্তিযুদ্ধের চাওয়া পাওয়ার বিষয়টি বিধৃত হয়েছিল ১৯৭২ সালের সংবিধানের মূলনীতিতে। বঙ্গবন্ধুর প্রজ্ঞার নিদর্শন এই সংবিধান। বিশ্বের কোন রাষ্ট্রনেতা স্বাধীনতার পরপর সংবিধানে যুক্ত করতে পারেননি যে, রাজনীতিতে ধর্ম নিষিদ্ধ করা হবে। ধর্ম ভিত্তিক রাজনীতি নিষিদ্ধ হলো। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হবে। রাষ্ট্রের মূলনীতি হবে ধর্ম নিরপেক্ষতা। এগুলি বঙ্গবন্ধুর তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত নয়। শেখ হাসিনা সম্পাদিত ‘সিক্রেট ডকুমেন্টস’-এর প্রথম খ- পড়লে বোঝা যায় শেখ মুজিব ১৯৪৬-৪৭ সাল থেকেই এ বিষয়গুলি নিয়ে ভেবেছিলেন। অভিজ্ঞতার চেয়ে বড় জ্ঞান নেই। বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশের পরিপ্রেক্ষিতে অভিজ্ঞতাই অবলম্বন করেছিলেন।

১৯৭৫ না হলে, প্রবন্ধের এই শিরোনাম প্রয়োজন হতো না। ১৯৭৫ সালে সপরিবারে বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধের চার নেতা হত্যা স্বাধীনতার সব অর্জনকে বিনষ্ট করেছিল। আজ পর্যন্ত কোন দেশে যেটি হয়নি সেটি হয়েছিল ১৯৭৫ সালে। জেনারেল জিয়া, মোশতাক, এরশাদ, খালেদা জিয়া ও নিজামীর আমলে ধরে ধরে মুক্তিযুদ্ধের সাফল্য ও চেতনা ধ্বংস করে দেয়ার প্রচেষ্টা নেয়া হয়েছিল। এরা বাংলাদেশের যে ক্ষতি করেছিলেন আর কেউ তা করতে পারেননি। তাদের দর্শনের মূল কথা ছিল, ১৯৭১ ছিল বিচ্যুতি। ১৯৪৭ সালের ধারাবাহিকতা রক্ষা করতে হবে। সুতরাং ১৯৭১ সালের বিচ্যুতি থেকে ‘মূলপথ’ অর্থাৎ পাকিস্তানের দিকে যাত্রা করার জন্য ১৯৭৫ ছিল প্রয়োজন। সংবিধান থেকে চার মূলনীতি বাদ, যুদ্ধাপরাধী রাজনীতি করার অধিকার ও ক্ষমতায় বসানো, ইতিহাস জোর করে বদলানো, শেখ হাসিনাকে ২৩ বার হত্যা প্রচেষ্টা, রাষ্ট্রীয় মদতে জঙ্গিবাদের বিকাশ— এসব ছিল পাকিস্তানে ফেরার স্ট্যাটেজি।

পাকিস্তান একটি ব্যর্থতার নাম, একটি ব্যর্থতার কনসেপ্ট বা প্রত্যয়। কিন্তু এ প্রত্যয় জিয়া, খালেদা, নিজামীরা কেন আঁকড়ে ধরেছিলেন? কারণ, ব্যর্থতা সাফল্য তাদের ব্যাপার ছিল না। ক্ষমতা ভোগ করা, একক কর্তৃত্ব বজায় রাখাই ছিল মূল বিষয়। আর ধর্মের অপব্যবহার ছিল তাদের বড় হাতিয়ার। একটি জাতি, একটি রাষ্ট্র তখনই আধুুনিক বলে বিবেচিত হয় বা উন্নতির পথে এগিয়ে যায় যখন সবধরণের বর্ণবিদ্ধেষ, সাম্প্রদায়িকতাকে প্রতিরোধ করে। ইউরোপ বা আমেরিকা যে আধুনিক হলো বা এগিয়ে গেল এটি তার একটি কারণ। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর, ইউরোপ ক্রমে বর্ণবৈষম্য, সাম্প্রদায়িক দৃষ্টিভঙ্গি পরিহারের চেষ্টা করেছে, তার প্রবৃদ্ধি বৃদ্ধি পেয়েছে সঙ্গে সঙ্গে উদারনীতি। আমেরিকাকে এ পথে এগুতে হয়েছে বাধ্য হয়ে, তার উন্নয়নের কারণে, সে জন্য চরম সাম্প্রদায়িকতাকে পরিহার করতে হয়েছে।

গত শতকের ষাটের দশকের শেষ ভাগে, আমরা যখন মাত্র কৈশোর পেরিয়েছি তখন সারা পৃথিবী জুড়ে উদারনীতির ঢেউ। ঔপনিবেশিক জোয়াল থেকে অনেক দেশ মুক্তি পাচ্ছে, তরুণরা রক্ষণশীলদের হটিয়ে দিচ্ছে, নতুন সংস্কৃতি নাড়া দিচ্ছে, চতুর্দিকে যুদ্ধ বিরোধী শ্লোগান, বর্ণ বৈষম্য নিপাত যাক- তরুণদের কণ্ঠে কণ্ঠে। বিটলসের ‘আই লাভ ইউ ইয়া ইয়া ইয়া’ সবার মুখে মুখে বা ‘হোয়ার হ্যাভ অল দা ফ্লাওয়ার্স গন’ গিটারে গিটারে গুঞ্জরিত। বাংলাদেশ যে ন’মাসে স্বাধীন হয়েছিল তার একটি বড় কারণ, সারা পৃথিবীর সিভিল সোসাইটির বাংলাদেশের পক্ষে অবস্থান।

উদারনীতির সঙ্গে প্রবৃদ্ধির একটি যোগসূত্র আছে। সম্প্রতি সিএনএনের একটি জরিপে তাই মনে হলো। ইউরোপের মানুষ হলোকাষ্ট বা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় সংঘটিত গণহত্যা মনে রেখেছে কী রাখেনি। এটি ছিল জরিপের বিষয়। এর ফলাফলে বিশ্বের সাম্প্রতিক চেহারাটা স্পষ্ট হয়েছে। সিএনএন বলছে, ইউরোপের শতকরা ৩০ ভাগ তরুণ গণহত্যার বিষয়টি জানে না। ৩০ ভাগ এ সম্পর্কে টুকরো টাকরা শুনেছে। বাকী ৪০ ভাগ মোটামুটি জানে। যারা মোটামুটি জানে তারা তরুণতম জেনারেশন নয়। স্মৃতির এই অবলুপ্তি ইউরোপ জুড়ে আবার বর্ণবাদ, বিদ্বেষ সাম্প্রদায়িকতাকে ফিরিয়ে আনছে। এর সঙ্গে আমি যোগ করব তাদের প্রবৃদ্ধি হ্রাস করছে।

ইউরোপ গত ৭০ বছরে যে উন্নয়ন করেছিল তার কারণ বর্ণবিদ্বেষ ও ধর্মজাত  রাজনীতি প্রতিরোধ প্রচেষ্টা। হিটলার মানবজাতীর শত্রু-এ কথাটিই ইউরোপের শিক্ষা সংস্কৃতিতে প্রতিফলিত হয়েছিল। হলোকাস্ট বা গণহত্যার সঙ্গে যুক্ত প্রতিটি স্মৃতিচিহ্ন সংরক্ষিত হয়েছিল, শিক্ষা সংস্কৃতিকে দৃঢ়ভাবে প্রতিফলিত করার চেষ্টা হয়েছে যে, ফ্যাসিবাদ বা নাজিবাদ বা বর্ণবিদ্বেষ সভ্যতা বিরোধী। অনেক দেশে আইন করে বলা হয়েছে হলোকাস্ট অস্বীকার দন্ডনীয় অপরাধ। তা সত্ত্বেও যে বর্ণবিদ্বেষ মাথাচাড়া দিয়ে ওঠেনি তা নয়। মনে হয় বর্ণ বা ধর্মবিদ্বেষ বোধহয় মানুষের জন্মগত। আমরাও বর্ণবাদী নই? না হলে, বিয়ের সময় প্রথম প্রশ্ন হয় কেন, মেয়ে ফরসা কিনা? বা টিভির সিংহভাগ জুড়ে বিজ্ঞাপন থাকে কেন ফেয়ার এন্ড লাভলি’র?

আজ ইউরোপ আমেরিকা জুড়ে চরম ডানের যে উত্থান দেখা দিচ্ছে তার সঙ্গে গণহত্যা বা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের স্মৃতি ভুলে যাওয়ার যোগসূত্র থাকলেও একটি প্রশ্ন থেকে যায় সেটি হলো ইউরোপে তো বিজয়ের, গণহত্যার স্মৃতি সংরক্ষিত হয়েছে, শিল্প-সংস্কৃতিতে রক্ষিত হয়েছে তা’হলে? সমাজতত্ত্বিকরা এর কারণ বলতে পারবেন। প্রযুক্তিগত উন্নয়ন এর কারণ হতে পারে। ইন্টারনেট, ফেসবুক- এ সবে বিরোধীরা প্রবলভাবে সোচ্চার। উদারনীতিবাদীরা হয়তো এতটা নন বা আত্মতৃপ্তিতে ভোগেন বা সবসময় সজাগ থাকেন না তাদের আর্দশ রক্ষায় বা বিস্তারে। বিরোধীরা সবসময় ঐক্যবদ্দ ও সচেষ্ট ঐ ধারা ধ্বংসে।

শেখ হাসিনা ১৯৯৬ সালে এবং তারপর একদশক ধরে ক্ষমতায় আছেন। প্রথমবার তিনি তেমন কিছু করতে পারেননি কেননা রাষ্ট্রের কাঠামো এবং সব পর্যায়ে ছিল বাঙালি পাকিস্তানীদের দাপট। তবে, গত দশ বছরে তিনি এতো কাজ করেছেন যে তার ফিরিস্তি দিতে গেলে শ’খানেক পৃষ্ঠার একটি প্রবন্ধ লিখতে হবে। সরকার থেকে গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে সার্বিক উন্নয়নের ওপর। এটি ঠিক, গত দশ বছরে বাংলাদেশ যে উন্নতি করেছে তা গত ষাট বছরে হয়নি। এখন আমরা সগর্বে সবুজ পাসপোর্ট নিয়ে ঘোরাফেরা করতে পারি। বিশ্ব নেতৃবৃন্দ স্বীকার করেছেন, শেখ হাসিনা যা করেছেন এক দশকে তা অভূতপূর্ব। হ্যাঁ, এটা ঠিক এবং আমরা তা সগর্বে স্বীকারও করি। উন্নয়ন একটি প্রক্রিয়া, এ প্রক্রিয়া যথাযথভাবে শেখ হাসিনা অনুসরণ করেছেন এবং দেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা থাকলে আর কয়েক বছরে বাংলাদেশ মধ্য আয়ের দেশে পরিণত হবে। আমাদের জেনারেশন যতোটা না এর সুফল পাবে তার চেয়ে বেশি লাভবান হবে নতুন প্রজন্ম। কারণ তখন তারা উন্নত দেশের নাগরিক। যে উন্নত দেশের নাগরিক, উন্নয়ন তার কাছে স্বাভাবিক মনে হবে। আমরা পরাধীনতা ও স্বাধীনতার বিষয়টি যে ভাবে অনুভব করি, যার জন্ম স্বাধীন দেশে সে কি ঐ ফারাকটা বোঝে? আবার অনুন্নয়ন ও উন্নয়নের তারতম্য এখন আমরা যেভাবে অনুভব করি তা কি পরবর্তী প্রজন্ম অনুভব করবে? শেখ হাসিনা যে প্রক্রিয়ায় দেশকে নিয়ে যাচ্ছেন, তিনি না থাকলেও দেশ এগিয়ে যাবে কারণ, ভিত্তিটা তিনি তৈরি করে দিয়েছেন। কিন্তু, দেশ যদি মুক্তিযুদ্ধের পথ বেয়ে ১৯৭২ এর বাংলাদেশের দিকে যাত্রা না করত তা’হলে কি এই উন্নয়ন এভাবে সম্ভব হতো? পাকিস্তানের উদাহরণ দিই। পাকিস্তান আয়তনে, সম্পদে, জনসংখ্যায় বাংলাদেশের দ্বিগুণ। কিন্তু, পাকিস্তান পাকিস্তান থাকায় বা থাকতে চাওয়ায় আজ প্রায় দেউলিয়া, সন্ত্রাসী একটি রাষ্ট্রের পরিণত হয়েছে। সম্প্রতি, পাকিস্তানের সংসদে প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান ঘোষণা করেছিলেন, দেশকে তিনি সুইডেনে পরিণত করবেন। এক সংসদ সদস্য উঠে দাঁড়িয়ে বলেছিলেন, পাকিস্তানকে সুইডেনে পরিণত করুন আপত্তি নেই। কিন্তু তার আগে পাকিস্তানকে বাংলাদেশে পরিণত করুন।

আজ ৫০ বছর পরও মুক্তিযুদ্ধ আমাদের রাজনীতির কেন্দ্র কারণ, ১৯৭৫ সালে দেশের মানুষকে দু’ভাগে বিভক্ত করা হয়েছে— বাঙালি—বাংলাদেশি; স্বাধীনতার পক্ষের এবং স্বাধীনতার বিপক্ষের শক্তি। আজ উন্নয়ন আরো হতো যদি রাজনীতির এই বিপরীতমুখী দ্বন্দ্ব না থাকত। পৃথিবীতে বাংলাদেশ একমাত্র দেশ, যেখানে স্বাধীনতার পরও স্বাধীনতার বিপক্ষের শক্তি হিসেব কমপক্ষে শতকরা ৩০ ভাগ মানুষের সৃষ্টি হয়েছে। এর কারণ, পাকিস্তান বা স্বাধীনতার বিপক্ষের শক্তির যে ধারার সূচনা করেছিলেন জেনারেল জিয়া পরবর্তী বছরগুলিতে তার উত্তরাধিকাররা সে ধারা পুষ্ট করেছে। অন্যান্য দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের পার্থক্য হলো বিপরীতমুখী আদর্শ। রাজনীতি, সমাজ, রাষ্ট্রে অশান্তির সৃষ্টি করেছে। অন্যান্য দেশে সবাই স্বাধীনতার পক্ষে, এমন কী ভারতেও রাজনীতিক আদর্শটা হচ্ছে দেশের মানুষ রক্ষণশীল, উদার না প্রগতিশীল ধারা গ্রহণ করবে সেটি। এবারও নির্বাচনে আমরা দেখতে পাচ্ছি— দু’টি ভাগে দেশ ভাগ হয়েছে। একদিকে আওয়ামী লীগ ও জোট এবং মহাজোট অন্যদিকে বিএনপি-জামায়াত ও তাদের ধারার অনুসারীদের মিলে ঐক্যফ্রন্ট। এটা খুবই স্বাভাবিক যে, যে ধারা জিতবে সে ধারাই ঠিক করবে কোন পথে আমরা এগোব। বিএনপি-জামায়াত জিতলে আবার পাকিস্তানের দিকে যাত্রা শুরু হবে এবং পাকিস্তানে যা যা হয়েছে তাই হবে। শেখ হাসিনা জিতলে দেশ মধ্য আয়ের দেশ শুধু নয়, রক্ষণশীল ধারা থেকে বেরিয়ে আসবে।

ইতোমধ্যে বিষয়গুলি স্পষ্ট হয়ে উঠছে। বিএনপির নজরুল ইসলাম খান ঘোষণা করছেন জামায়াতে মুক্তিযোদ্ধা আছে। মানুষ কতটা নষ্ট হলে এ ধরণের মন্তব্য করতে পারে। জামায়াত নেতারা বুক ফুলিয়ে ধানের শীষ নিয়ে নির্বাচন করছেন। নিবন্ধন বাতিলের অর্থ কি? নির্বাচন কমিশনের এবং আদালতের  এ বিষয়টি দেখা উচিত ছিল যে, নিবন্ধন বাতিলের পর কেউ বাতিলকৃত দলের সদস্য হিসেবে নিজেকে জাহির করে যে কোন প্রতীকে নির্বাচন করতে পারে কি না? আদালত এত বিষয়ে স্বপ্রণোদিত হয়ে রুল জারি করে আর এ প্রক্রিয়া যে আদালত অবমাননা এ বিষয়টি তাদের মনে হয়নি। তা’হলে এ রায়ের কী দরকার ছিল। কামাল হোসেন আজ শহীদ জিয়া অমর হোক, স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ জিয়া, এ কথা বলতেও হয়তো দ্বিধা করবেন না। ধানের শীষ যখন মেনে নিয়েছেন তখন সেটি বলতে দ্বিধা কই? ধানের শীষ বিষ হলেও শেখ হাসিনা নিপাত যাক সেটিই কাম্য। কাদের সিদ্দিকী বা স্বঘোষিত বঙ্গবীরের আজ কী পরিণতি। প্রথম আলো বিশাল এক প্রতিবেদনে দেখিয়েছিল কিভাবে সেতুগড়ার ঠিকাদারি নিয়ে সেতু না গড়ে তিনি বিল নিয়েছেন। সেই থেকে তিনি সেতু কাদের বা সেতু সিদ্দিকী হিসেবে খ্যাত। ডা. ব.দ. চৌধুরীর মতো সাম্প্রদায়িক লোক এখন জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু বলতে দ্বিধা করেন না। রাজনীতি কতেটা নষ্ট হয়ে গেছে! আসলে ১৯৭৫ সালের পর এ সব রাজনৈতিক বর্জ্য জমা শুরু হয়। আজ তা রাজনীতির পরিছন্ন পানি প্রবাহের পথ রুদ্ধ করে দিয়েছে। আজ সময় এসেছে নির্বাচনে এদের ভোট না দিয়ে এদের ক্ষমতায় যাওয়ার পথ রুদ্ধ করা যাতে এই বর্জ্যগুলি পরিষ্কার করে নালার পথ পরিষ্কার করতে পারি।

আমরা যারা ১৯৭১ এর জেনারেশন বা একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সঙ্গে যুক্ত, আমাদের কাছে শেখ হাসিনার বাংলাদেশে ফেরা বা মুক্তিযুদ্ধের অর্জন বিকশিত করা ও সমুন্নত রাখাটাই গুরুত্বপূর্ণ। উন্নয়নের ডামাডোলে শেখ হাসিনার এই অর্জনগুলি ঢাকা পড়ে গেছে। আমরা মনে করি, তার উন্নয়নের শ্লোগানের সঙ্গে মুক্তিযুদ্ধের অর্জনের শ্লোগানগুলিও যথাযথ গুরুত্ব পাওয়া উচিত।

আমাদের মনে হয়েছে দেশে স্থিতিশীলতা বজায় থাকবে যখন আমরা গণহত্যাকারী ও তাদের সহযোগীদের রাজনীতি প্রতিরোধ করে মুক্তিযুদ্ধের অর্জনগুলি প্রতিষ্ঠা করি যা এখনও করা যায়নি। শেখ হাসিনার বড় অবদান পাকিস্তানিকরণের বিপক্ষে মুক্তিযুদ্ধের বা বাংলাদেশে ফেরার প্রচেষ্টা। সর্বাত্মক প্রচেষ্টা না হলেও ঐ প্রচেষ্টাও তো আর কেউ নেননি। এ জন্য আবারও দরকার শেখ হাসিনার সরকার।

শেখ হাসিনা ক্ষমতায় থাকার সময় মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে যে কাজগুলি করেছেন তার একটি সংক্ষিপ্ত ফিরিস্তি দেয়ার চেষ্টা করব। এগুলিতে দু’ভাগে ভাগ করা যেতে পারে— মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা পুনরুজ্জীবন।

মুক্তিযোদ্ধারা যাতে সমাজে রাষ্ট্রে সম্মানের সঙ্গে বসবাস করতে পারেন তার জন্য তিনি কতগুলি পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিলেন—

১. খালেদা জিয়ার আমলে মুক্তিযোদ্ধারা সম্মানীভাতা পেতেন মাত্র ৫০০ টাকা। যদ্দুর মনে পড়ে তখন শাহরিয়ার কবির ও আমি কয়েকটি লেখায় আহ্বান জানিয়েছিলাম, তাদের ভাতা অন্তত ১০ হাজার টাকা করা হোক। নির্মূল কমিটির এই দাবি নিয়ে দেন-দরবার করেছে। সবাই তখন উপহাস করেছেন। শেখ হাসিনা মুক্তিযোদ্ধাদের ভাতা ঠিকই ১০ হাজার করেছেন।

২. কোন মুক্তিযোদ্ধা মারা গেলে তাকে যাতে রাষ্ট্রীয় সম্মানে দাফন করা হয় এই রীতি শেখ হাসিনা চালু করেছেন। আগে এই সম্মান সীমিতকারে, যারা উচ্চপদে ছিলেন তাদের দেয়া হতো। আজ, রাষ্ট্রীয় সম্মানে ধনী ও গরীব মুক্তিযোদ্ধার কোন পার্থক্য নেই। এভাবেই রাষ্ট্রে মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান দিয়েছেন যা স্বাভাবিকভাবে পাকিস্তানি বাঙালিরা দেয়নি।

৩. বীরাঙ্গনাদেরও মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। বীরাঙ্গনাদের এদেশের সমাজ রাষ্ট্র কখনও সম্মান করেনি। ১৯৭১ সাল থেকেই তারা নিপীড়নের শিকার। শেখ হাসিনা তাদের বীরাঙ্গনা মুক্তিযোদ্ধা করায় তারাও ভাতা পাচ্ছেন।

৪. প্রতিটি উপজেলায় মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স করা হয়েছে। যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য পুনর্বাসনের ব্যাপক ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। মুক্তিযোদ্ধারা চাকুরি ক্ষেত্রে এক বছরের সিনিয়রিটি পেয়েছেন।

মুক্তিযুদ্ধের চেতনা সমুন্নত ও বিকশিত রাখার জন্যও তিনি বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছিলেন—

১. বঙ্গবন্ধু হত্যা ও মুক্তিযুদ্ধের চার নেতা হত্যার বিচার কাজ শুরু করেছিলেন এবং সেটি করার জন্য ইনডেমনিটি অ্যাক্ট বাতিল করেছিলেন। বিশেষ ট্রাইবুনালে তিনি বিচার করতে পারতেন কিন্তু তিনি তা না করে প্রচলিত বিচার প্রক্রিয়া বেছে নিয়েছিলেন। এ বিচার সম্পন্ন হতে দু’দশক লেগেছে। কিন্তু এ কথা তিনি প্রমাণ করেছেন যে, অপরাধ করলে শাস্তি পেতে হবে।

২. এ দেশে জিয়া, ওসমানীর নামে সরকারিভাবে জাদুঘর হয়েছিল। জাতির জনকের নামে নয়। তাঁর নাম তারা স্মৃতি থেকে উৎপাটন করতে চেয়েছিল। শেখ হাসিনা যখন ক্ষমতায় ছিলেন না, তখন বঙ্গবন্ধুর বাড়িটি জাতিকে দান করে বঙ্গবন্ধু জাদুঘর প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। প্রতি বছর হাজার হাজার মানুষ এ জাদুঘর পরিদর্শনে আসে বঙ্গবন্ধুকে অনুভব করার জন্য।

৩. বিএনপি আমলে ইতিহাস উধাও করা হয়েছে স্বাধীনতার দলিলপত্র থেকে, পাঠ্যবইয়ে ইতিহাস বিকৃতি ঘটিয়েছে। তাঁর প্রথম আমলে শেখ হাসিনা দু’জায়গাতেই ইতিহাস ফিরিয়ে এনেছেন। ইতিহাস সম্মিলনীর প্রচেষ্টায় স্নাতক পর্যায়ে মুক্তিযুদ্ধের একটি কোর্স বাধ্যতামূলক করা হয়েছে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত সব কলেজে। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় এ পাঠক্রম চালু করেছে। মঞ্জুরি কমিশন বিশ্ববিদ্যালয়ে এ কোর্স চালু করেছে। এক্ষেত্রেও উদ্যোগ নিয়েছিল ইতিহাস সম্মিলনী। তবে, শেখ হাসিনা ক্ষমতায় না থাকলে পাঠক্রমে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বাধ্যতামূলক করা যেত না।

৪. শেখ হাসিনা মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের জন্য বিশাল ভবন গড়ে দিয়েছেন। একই সঙ্গে খুলনায় গণহত্যা জাদুঘর করার জন্য জমি ও ইমারত দিয়েছেন। সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সাহায্যে গণহত্যা জাদুঘর মুক্তিযুদ্ধের চেতনা সজীব রাখার জন্য নানা কার্যক্রম গ্রহণ করেছে। মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর বধ্যভূমিতে স্মৃতিসৌধ নির্মাণের জন্য প্রকল্প গ্রহণ করেছে।

৫. শাহরিয়ার কবির, জেনারেল শফিউল্লাহ ও আমার করা কয়েকটি রিটের ফলে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি সংরক্ষণের জন্য সোহরাওয়ার্দী উদ্যান, বধ্যভূমি সংরক্ষণ ও যুদ্ধাপরাধীদের নামে কোন স্থাপনা বা সড়ক করা যাবে না বলে রায় দিয়েছেন। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে স্বাধীনতা স্তম্ভ শেখ হাসিনাই গড়েছেন।

৬. সংবিধানে শেখ হাসিনা চার রাষ্ট্রীয় মূলনীতি ফিরিয়ে এনেছেন এবং এই চারনীতির আলোকে কাজও করেছেন। দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছেন যার ফলে আজ নির্বাচন হতে যাচ্ছে। বাঙালি জাতীয়তাবাদকে সজীব করেছেন। তাঁর প্রচেষ্টায়ই বঙ্গবন্ধুর ভাষণ ইউনেস্কোর স্বীকৃতি পেয়েছে। শীতল পাটি, মঙ্গল শোভাযাত্রা সহ অনেক কিছু বিশ্ব ঐতিহ্য তালিকায় স্থান পেয়েছে। অসাম্প্রদায়িক মনোভাব যাতে বিরাজ করে তার ওপর জোর দিয়েছেন। সংখ্যালঘুরা তাঁর আমলে এখন নিজেদের নিরাপদ মনে করেন। অনেকে এ পরিপ্রেক্ষিতে হেফাজত এর সঙ্গে সখ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলতে পারেন। বলে রাখা ভালো, হেফাজতের ১৩ দফা দাবি যা ছিল সাম্প্রদায়িক ও নারী বিরোধী তার আমরা বিরোধিতা করেছি। কওমী মাদ্রাসার সনদের স্বীকৃতি দিয়ে কওমীদের তিনি মূল ধারার সঙ্গে যুক্ত করতে চাচ্ছেন এবং এটি ইতিবাচক দিক। কওমীরা তাঁকে কওমী জননী শুধু আখ্যা দেয়নি। স্বীকার করেছেন তাদের অনেক নেতা যে, ‘ঢাকা দখল অভিযান’ ভুল ছিল। কওমি জননী উপাধি দেয়ার সময় তারা যে সমাবেশ করেছিলেন তখন তারা তাদের সাম্প্রদায়িক ও নারী বিরোধী দাবি তোলেননি। ইসলাম রাষ্ট্রধর্ম থাকলেও শেখ হাসিনার সময় দেশে এক অসাম্প্রদায়িক পরিবেশ বিরাজ করছে। বাংলাদেশ শেখ হাসিনার আমলে যেভাবে দারিদ্র্য হ্রাস করেছে তা অভূতপূর্ব।

৭. শেখ হাসিনার সবচেয়ে বড় অবদান যুদ্ধাপরাধীদের বিচার। বাংলাদেশে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ও শাস্তি হবে ১৯৭৫ সালের পর এ কথা কেউ কখনও ভাবেননি। নির্মূল কমিটি দীর্ঘদিন এ আন্দোলন করেছে এবং তরুণদের উজ্জীবিত করতে পেরেছিল। যে কারণে, গত নির্বাচনে জোটের সব দল যুদ্ধাপরাধ বিচারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। যেখানে কম্বোডিয়ায় দু’দশকে মাত্র তিনজনের বিচার হয়েছে সেখানে শেখ হাসিনার আমলে প্রায় ৩০ জনের বিচার সম্পন্ন হয়েছে। দক্ষিণ এশিয়ায় এ ধরনের বিচার প্রথম। শেখ হাসিনা এ কারণে ইতিহাসের পাতায় স্থান করে নিয়েছেন।

৮. বাংলাদেশে পাকিস্তানের এজেন্ট হিসেবে কাজ করছে জামায়াত। সেই জামায়াত এখন রাজনৈতিক দল হিসেবে নিবন্ধন হারিয়েছে। শুধু তাই নয় বাংলাদেশকে পাকিস্তান বানানোর এজেন্ডা নিয়ে তারা জঙ্গিবাদের শুধু উত্থান নয় বিকাশও ঘটিয়েছিল। শেখ হাসিনার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির কারণে জঙ্গি মৌলবাদ উৎপাটিত না হলেও সীমিত।

শেখ হাসিনার রাজনীতির দিক থেকে বাংলাদেশে যাত্রা দেশে এক ধরনের শান্তি প্রতিষ্ঠা করেছে। এ শান্তি ভঙ্গ করতে, অস্থিরতা সৃষ্টি করতে বিএনপি-জামায়াত শুধু নির্বাচন বানচাল নয়, আগুন সন্ত্রাসের সৃষ্টি করেছিল। কানাডার আদালত দু’টি মামলায় বিএনপিকে সন্ত্রাসী দল হিসেবে ঘোষণা করেছে। একটু ছাড় দিলেই তারা সন্ত্রাসে মেতে ওঠে যার সর্বশেষ উদাহরণ পল্টনে পুলিশের গাড়ি জ্বালিয়ে দেওয়া ও সন্ত্রাস সৃষ্টি করা।

তরুণরা শেখ হাসিনাকে গত নির্বাচনে প্রভূতভাবে জিতিয়েছে একটি কারণে তিনি তরুণদের জন্য সম্ভাবনার দ্বার খুলে দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। তাঁর স্বপ্নের ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তুলছে তরুণরাই। শেখ হাসিনা নির্বাচনে জিতলে এই সম্ভাবনার দ্বার আরো প্রসারিত হবে। শেখ হাসিনা জিতলে তরুণরা তারেক জিয়ার সন্ত্রাসী পথে পা বাড়াবে না।

বাংলাদেশে ইতিহাসের ধারা প্রগতির দিকে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে তরুণরাই সব সময় অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছে। ১৯৫২, ১৯৫৪, ১৯৬২, ১৯৬৬, ১৯৬৯, ১৯৭০-১৯৭১, ১৯৯০— প্রতিটি ক্ষেত্রে তরুণরাই ছিলেন অগ্রপথিক। ২০০৮ সালে শেখ হাসিনা ক্ষমতায় আসতে পেরেছিলেন তরুণদের কারণেই।

আজও আবার সেই বাঁক ফেরানোর দিন ফিরে এসেছে। আসন্ন নির্বাচনে ড. কামাল হোসেন ও মির্জা ফখরুলের নেতৃত্বে ঐক্যফ্রন্ট জিতলে বাংলাদেশে তরুণদের সব অর্জন বৃথা যাবে। পাকিস্তানের দিকে ফের যাত্রা শুরু হবে, জঙ্গি মৌলবাদ বিকশিত হবে, সংখ্যালঘুরা ও মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি শুধু নিপীড়ন নয়, কঠোর বিধিনিষেধের আওতায় থাকবেন। অনেককে দেশ ত্যাগ করতে হবে। গণতন্ত্র বিলুপ্তিতে সন্ত্রাস হবে প্রধান হাতিয়ার। রাষ্ট্রীয় শক্তি ব্যবহার করে প্রথিতযশাদের খুন করা হবে যার উদাহরণ শেখ হাসিনার ওপর গ্রেনেড আক্রমণ। উন্নয়নের ধারা ব্যহত হবে। তরুণরা কি এই বাংলাদেশ চান? যদি না চান তা’হলে এখনই খুনী, সন্ত্রাসীদের রাজনীতি প্রতিরোধ শুধু নয়, নির্বাচনে সকলকে নিয়ে নৌকায় ভোট দিতে হবে।

এ প্রসঙ্গে আরেকটি বিষয়ের উল্লেখ করতে চাই। সম্প্রতি স্বদেশ রায়ের একটি লেখা পড়েছি যেখানে তিনি একটি মূল্যবান মন্তব্য করেছেন। তিনি লিখেছেন, আমার ভোট যাকে খুশি তাকে দেব-এ শ্লোগান গ্রহণযোগ্য নয়। এ মন্তব্য আমার যুক্তিযুক্ত মনে হয়েছে। আমাদের এখানে একটি সমস্যা সবকিছু আমরা ব্যক্তি নিরিখে বিবেচনা করি। কোন মন্ত্রী, এম. পি বা নেতা আমার সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করেছেন, অনুরোধ রাখেননি, পুরস্কৃত করেননি। তদবির করেননি-এসব নিরেখে অনেক সময় ভোটের ভাগ্য নির্ধারিত হয়। আসলে নির্বাচন প্রশ্নে এসব সেন্টিমেন্ট জলাঞ্জলি দিয়ে বিচার করা উচিত শেখ হাসিনা সরকার সামগ্রিক ভাবে কী করেছেন। তাতে রাষ্ট্র, সমাজের উন্নতি হয়েছে কী না। সে কারণে, আমার ভোট যাকে তাকে দেয়া যাবে না, দিতে হবে শেখ হাসিনাকেই।

সবশেষে একটি ঘটনার কথা বলি। শেখ হাসিনার আমলে বাংলাদেশের অভাবনীয় পরিবর্তন দেখে পাকিস্তানের এক রাজনীতিবিদ আল্লাহর কাছে আকুতি জানিয়ে বলেছেন, হাসিনাকে পাকিস্তানে এনে দিতে যাতে তিনি পাকিস্তানকে বাংলাদেশ বানিয়ে দিতে পারেন। এর চেয়ে বড় জয় আর কী হতে পারে? পাকিস্তানীরা এখন শেখ হাসিনাকে চান আর আপনারা চাইবেন না? তরুণ প্রজন্মের বন্ধুরা কী বলেন?

মুনতাসীর মামুনলেখক ও গবেষক

৩৭ Responses -- “শেখ হাসিনার সরকার এখন কেন দরকার”

  1. Sabir Khan

    জনাব আপনাকে যদি দলটি প্রচারের দায়িত্ব না দিয়ে যিনি প্রতিদিন বাহিরে চলাচল করেন এমন একজনকে দিতেন তাহলে ঐ ব্যক্তি-ই আপনার চাইতে অনেক বেশি সত্যিকারের বাস্তব উন্নয়নের উদাহরণ দিতে পারতেন। কারণ আসলেই এই সরকারের আমলে দেশের অনেক অনেক ফিজিক্যাল উন্নয়ন হয়েছে যেগুলো বলে শেষ করা যাবে না। কিন্তু আপনি এইগুলা কি সব উন্নয়নের কথা বলছেন?

    মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান জানালে আমরা নিজেরাই নিজেদের সম্মানিত অনুভব করি। আমরা চাই তাঁদের সকল ধরনের সুযোগ দেয়া হোক রাষ্ট্র থেকে। কিন্তু এই দিয়ে পুরো দেশের উন্নয়ন রিপ্রেসেন্ট করা উচিত না। কারণ এসব তো দেশের উন্নয়ন নয়। তাঁদের সম্মান জানানোর একটি প্রক্রিয়া যেটা হয়তোবা আগে থেকেই জানানো উচিত ছিল কিন্তু জানানো হত না।!

    আপনার মতামত আপনি দিতেই পারেন “দল”-টিকে যেন সবাই ভোট দেয়। কিন্তু মনে রাখা উচিত আপনার ব্যক্তিগত মতামত সবার মনের কথা নাও হতে পারে। এবং গণতন্ত্রের খুবই Root level এর কথা এটাই যে, স্বাধীন দেশে আপনি আপনার নিজের বিবেক, বুদ্ধি, বিবেচনা, লোভ, লালসা বা যাই দিয়েই হোক আপনি নাগরিক হিসেবে আপনার রাষ্ট্রীয় অধিকার “ভোট” নির্বিঘ্নে প্রদান করতে পারবেন এবং এতে যদি আপনি যেকোনো বাঁধার সম্মুখীন হন তবে বুঝে নিতে হবে আপনি যে দেশে বসবাস
    করছেন আপনার সেই দেশে গণতন্ত্র নেই।

    Reply
    • Iq

      May be you Doesn’t know or doesn’t to admit today highest renitence coming from garments and manpower Business.Just recall your mind when it was started ?
      2ndly mr Mamun has forgotten to write about hefazot islam. Tetul hujur touching handshake Hasina. If it is khaleda Zia then Mr Mamun will be opposed in a different way. No idea why he ignored to say about this relationship.

      Reply
  2. Jahangir Kabir Bappi

    স্যার, নষ্ট মানুষে ভরে গেছে দেশ। এদের জন্য দেশটা সোনা দিয়ে মুড়ে দিলেও হবে না। বুটের লাথি খাওয়া আর গো ভাগাড়ে পড়ে থাকা এদের অদৃষ্টে আছে, আর কিছু বলার নেই।

    Reply
    • কাজী হারুনুর রশিদ

      বাপ্পী দাদা
      দেশটা সোনা দিয়ে মুড়বেন কিভাবে? সোনা কয়লা সব তো গায়েব হয়ে গেছে। হা হা হা!

      Reply
  3. জাকের আহম্মদ খোকন

    পদ্মা সেতু, মেট্রো রেল, পতেঙ্গায় টানেল
    ভারত-বার্মার বিরুদ্ধে মামলা করে পুরো এক বাংলাদেশের সমান সমূদ্রসীমা জয়
    রাখাইনের অসহায় – নির্যাতিত লক্ষ লক্ষ মুসলিম রোহিংগা নারী-শিশু-বৃদ্ধ-বৃদ্ধাদের জীবন বাঁচাতে খাবার – আশ্রয়

    হাতপাখা – মোমবাতি – আইপিএস – জেনারেটর বিল, ডিজিটাল প্রিপেইড মিটার দিয়ে বিদ্যুতের গড়বিল ও লোড শেডিং মুক্ত জীবন,
    বিকাশ – রকেট এ ডিজিটাল লেনদেন
    ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক চার লেন

    মাতৃত্বকালীন ছুটি বাড়িয়ে ছয় মাস
    দেশদ্রোহী, যুদ্ধাপরাধী রাজাকার-বদর কমান্ডারদের গলায় ফাঁস
    ভারত থেকে ছিটমহলের ১০ হাজার একর বাড়তি জমি আদায়
    ডেসটিনি-হলমার্ক-বিসমিল্লাহ-যুবক গ্রুপের মালিকরা সহ শেয়ার কেলেংকারির হোতাদের সাজার রায়

    এছাড়াও বয়স্ক ও বিধবা ভাতা, বছরের প্রথম দিনেই সোনামনিদের নতুন বই দেয়া, সারাদেশে ৬ লাখ ৭৩ হাজার কোরান শরীফ বিতরণ, ৫০০টি মডেল মসজিদ নির্মাণ, ইমাম-মুয়াজ্জিনদের সরকারী স্কেলে বেতন প্রদান সহ আরও হাজার হাজার উন্নয়ন মূলক ও জনকল্যানকর কাজ করা শেখ হাসিনার আওয়ামীলীগের পক্ষে কিছু বললেই দলকানা, ইতিহাস শেখানো হয়ে যায়।

    কিন্তু

    দেশকে পরপর চার বার দূর্নীতিতে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন করা
    ২১ শে আগস্ট গ্রেনেড মেরে আইভি রহমান সহ ২৪জন কে হত্যা করা
    সেই গ্রেণেড হামলায় নিরপরাধ জজ মিয়াকে গ্রেফতার করে বছরের পর বছর জেল খাটানো
    দেশে ট্রাকে ট্রাকে অস্ত্র চোরাচালান করা
    ১০ ট্রাক অবৈধ অস্ত্র যে সার্জেন্ট আটক করেছিলেন তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করে জেলে ঢুকানো
    খালেদা জিয়ার ছেলের চুরি করে সিঙ্গাপুরে পাচারের টাকা সিংগাপুর সরকার এদেশে ফেরত পাঠানো
    এদেশের ত্রিশ লাখ শহীদ ও দুই লাখ মা-বোনের ইজ্জত হরণকারী, এদেশের স্বাধীনতার বিরুদ্ধে অস্ত্র ধারণকারী পাকি দালাল রাজাকার – আলবদর কমাণ্ডার নিজামী – মুজাহিদকে মন্ত্রী বানিয়ে তাদেরই গাড়ীতে শহীদের রক্তে ভেজা জাতীয় পতাকা তুলে দেয়া
    ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য আন্দোলনের নামে জীবন্ত মানুষ পুড়িয়ে মারা
    ও নিবন্ধন বাতিল হওয়া জামায়াতকে প্রতীক দিয়ে নির্বাচনে বাঁচিয়ে রাখাদের পক্ষে বললেই মুনতাসীর মামুন স্যার নিরপেক্ষ, অন্যায়ের বিরুদ্ধে বজ্রকন্ঠ, ইত্যাদি ইত্যাদি হয়ে যেতে পারতেন।
    আফসোস এই জাতির জন্য। নীরদ সি চৌধুরী যথার্থই লিখেছিলেন, “আত্মঘাতী বাংগালী”।

    Reply
  4. Latif

    হ স্যার! এই টার্মে ফারমার ব্যাংক হইছে, নেক্সট টার্মে অন্য কিছু হবে! আমি ভেবেছিলাম লজ্জাতে এইবার কোন পোষ্ট দিবেন না!

    Reply
  5. সৈয়দ আলি

    মিথ্যা কথা বলতে বলতে যখন আ’দত হয়ে যায়, তখন সত্য কথা মুখ দিয়ে বেরই হয় না। মামুন বলেছে, “২. কোন মুক্তিযোদ্ধা মারা গেলে তাকে যাতে রাষ্ট্রীয় সম্মানে দাফন করা হয় এই রীতি শেখ হাসিনা চালু করেছেন” এটি মিথ্যা। আমার সহযোদ্ধা বন্ধু গৌরিপুরের মকবুলকে এরশাদের সময়েই রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন করা হয়। মকবুল সাধারণ মুক্তিযোদ্ধা ছিলো।

    Reply
    • মানহা

      “কোটা সংস্কার আন্দোলনের অন্যতম নেতা নুরুল হক নূর এক ফেসবুক স্ট্যাটাসে লিখেছেন, ‘দহন’ সিনেমায় শুধু রাজনীতির পেট্রোলবোমার বিষয়টি তুলে ধরা হলো। লগি-বৈঠা দিয়ে পিটিয়ে মানুষ মারা, শেয়ারবাজার, ব্যাংক থেকে জনগণের হাজার হাজার কোটি টাকা লুট, দেশের হাজার হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার, হলমার্ক-ডেসটিনি, রাজনৈতিক বিবেচনায় দেয়া হাজার হাজার কোটি টাকা ঋণখেলাপি, গুম-খুন, আইন করে গণমাধ্যমকে নিয়ন্ত্রণ, গণতন্ত্রকে সংকুচিত করা, বাকস্বাধীনতা হরণ, যৌক্তিক, ন্যায়সঙ্গত ও সাংবিধানিক অধিকারের দাবিতে করা আন্দোলন দমাতে রাষ্ট্রীয় বর্বরতা, সচেতন মানুষ ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের মিথ্যা মামলায় জেল-রিমান্ড, নির্যাতন-নিপীড়ন, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোর রাজনৈতিক লেজুড়বৃত্তি, নোংরা রাজনীতির কারণে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর বেহালদশা, রাজনৈতিক কর্মসূচির বিনিময়ে হলে থাকার সিট – এরকম ২/৪টি ঘটনাকেও কানেক্ট করে তুলে ধরা যেত। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে সবাই উপরতলাকে খুশি রেখে কাজ করতে চায়।”
      শুধু “দহন” সিনেমাই নয়, বিবেক বিক্রিকরা বেশীর ভাগ বুদ্ধিজীবীই এ রকম।
      লেখক ও কি এর থেকে ব্যতিক্রম?

      Reply
  6. সৈয়দ আলি

    এই অধ্যাপক বলে পরিচয় দেয়া ব্যক্তি সারাজীবন শক্তিমানের পক্ষে ছিলেন। ৭১ সালে বাপ-চাচার চাকুরি নির্বিঘ্ন করেছেন, নিজে ক্লাস করেছেন, পরীক্ষা দিয়েছেন, দেশ স্বাধীন হওয়ার পরে ডাকসুতে জেতা ছাত্র ইউনিয়নের ল্যাজ হয়েছেব। মতিউল-কাদের হত্যার প্রতিক্রিয়ায় ডাকসু যখন ডাকসুতে শেখ মুজিবের আজীবন সদস্যপদ ও বঙ্গবন্ধু উপাধি প্রত্যাহার করে তখন তিনি সেখানে উপস্থিত ছিলেন।
    শেখ মুজিব হত্যার পরে দুঃসময়ে তিনি কোথায় যেন লুকিয়ে ছিলেন। পরে যখন কুঁড়েঘর ছেড়ে তার নেতারা নৌকায় চড়লেন, তিনি তখন গুটি গুটি বেরিয়ে আওয়ামী লীগার বনে গেলেন।
    ব্যাস, এরপরে থেকে সব রকম আওয়ামী রুটি-হালুয়া-ব্যাঙ্ক মালিকানা-বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ানোর চাইতে দলাদলি-ড. দানীর পান্ডুলিপি নিয়ে প্রশ্নের উত্তর না দেয়া, আর এখন নেমেছেন শেখ হাসিনার ঢোলক হয়ে একদলীয় শাসনের পক্ষে। নিজের বাপ-চাচা সরকারী রাজাকার ছিলেন, কিন্তু অধ্যাপক ছাহেব তাদের নেত্রীকে অই রাজাকারদের কোলে বসিয়ে রাজাকারদেরই গালি দিচ্ছে।

    Reply
  7. আব্দুল করিম

    কমেন্ট যারা দিচ্ছেন তারা লেখা না পড়েই কটুক্তি করে চলেছেন। সব সূচকেই দেশ দ্রুত এগুচ্ছে। অন্য সময়ের তুলনায় নতুন চাকরি পাচ্ছেন অন্তত দশ গুণ। বেতন বাড়ছে দ্রব্য মূল্যের তুলনায় অনেক বেশি। গ্রামের জনগণ ভাল আছেন, মঙ্গা নেই।

    Reply
    • ইমন বরুয়া

      আব্দুল করিম সাহেব
      অন্ধের “হাতি” দেখা গল্পের মতো কমেন্ট করবেন না। আগের চেয়ে দশগুন শিক্ষিত ছেলেমেয়ে যদি চাকরি পেতো তাহলে বাংলাদেশে স্বাধীনতার পর সবচে বেশী শিক্ষিত বেকার থাকতো না। যে পরিমান ব্যাংক লুটপাট হয়েছে দুর্নীতি হয়েছে সে পরিমান চাকরি হয়নি।

      Reply
      • আজিজুল হক

        ইমন সাহেব, দশগুন নয় আর ও বেশি। পোশাক শিল্প, নির্মাণ শিল্প, পরিবহন, ঔষধ শিল্প সহ অনেক ক্ষেত্রে বেড়েছে বহুগুণ। সরকারি চাকরি? তাও বেড়েছে। গ্রামে কৃষি শ্রমিক পাওয়া যায় না। গাড়ি চালক পাওয়া যায় না, মঙ্গা হতো কাজের অভাবে। আজ কাজ আছে মঙ্গা নেই। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় বহুগুণ বেড়ে যাওয়ায় শিক্ষিত বেকার দেখা যায় অনেক, তবে গার্মেন্টসে ম্যানেজার পাওয়া যায় না। কেউ যদি চাকরি পাওয়ার পরও গ্রামে বা দূরে গিয়ে চাকরি না করেন, তিনি অযথা দেশে বেকার বাড়াচ্ছেন। সরকারি ডাক্তারদের অনেকেই গ্রামে পোস্টিং দিলে চাকরি ছেড়ে দেন, সেটা নিরসনের জন্য সরকার নানা ইনসেনটিভ দিচ্ছেন, কোয়ার্টার নির্মাণ করে দিচ্ছেন।

      • ইমন বরুয়া

        আজিজুল হক সাহেব
        এ জন্যই পুরো এশিয়াতে শিক্ষিত বেকারের দিকে ২য় বাংলাদেশ । এবার ক্ষেমা দেন । শিক্ষিত যুবকের ভাগ্য নিয়ে মিথ্যাচার করবেন না । ২৭ লক্ষ শিক্ষিত বেকার কতো কষ্টে আছে তা আপনার মতো অর্বাচীন কখনো বুঝবেনা ! সময় হলে এরাই জবাব দেবে ।

      • আজিজুল হক

        ইমন বড়ুয়া, যে শিক্ষা মানুষকে বেকার করে দেয়, সে শিক্ষা কি যথার্থ? ডিগ্রি লাভ করা আর চাকরি পাওয়া কোন সমীকরণ মেনে চলে না। শ্রমের মর্যাদা বুঝে যে কোন কায়িক পরিশ্রমের মাধ্যমে রিযিকের সন্ধান করাটা জরুরী। যেখানে অল্প শিক্ষিত লোকেরা কাজ পাচ্ছেন বলেই দেশ আজ মঙ্গামুক্ত, সেখানে শিক্ষিত বেকাররা যদি ক্ষুদ্র বিনিয়োগ, অনলাইন ব্যবসা বা চাকরি অথবা উন্নত চাষাবাদ শুরু করেন তা হলে বেকারত্বের সংখ্যা কমবে। যেহেতু বিশ্ববিদ্যালয়ের সীট বহু গুণ বেড়েছে সেখানে সবাই এক সাথে ভালো চাকরি কিভাবে পাবেন। সরকার রাজস্ব ও উন্নয়ন খাতে প্রচুর নতুন পদ সৃষ্টি করে অনেককে চাকরি দিচ্ছেন, তবে পাশাপাশি স্বাধীন পেশা ও ব্যবসা বাড়াতে হবে বৈকি!

  8. সেলিম

    মুনতাসির স্যার আপনাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ এ চমৎকার লেখাটির জন্য। আপনি ইতিহাসের একজন সম্মানিত শিক্ষক হিসেবে অবশ্যই জানেন- বৃটিশরাও যখন বিনা ভোটে এ অঞ্চল শাসন ও শোষন করেছিলো দুইশ বছর ধরে তখনও এক শ্রেণীর অতি নিম্মমানের দালাল বৃটিশ সরকারের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে বক্তব্য, বিবৃতি ও কলাম লিখতো। স্বৈরচার এরশাদ সরকারেরও অনেক তস্কর লেখক ছিলো। এটা নতুন নয়।
    বহুদলীয় গণতন্ত্রের পরিবর্তে একদলীয় স্বৈরাচারী বাকশাল ও বহুমত দমাতে সব পত্রিকা বন্ধ বা নিষিদ্ধের জন্য এ সরকার বারবার দরকার। ব্যাংক, শেয়ারবাজার লুট এগুলো না হয় বাদই থাকলো———–

    Reply
    • MD.ABUL KHAYER

      নিষিদ্ধ দলগুলো যারা স্বাধীনতাবিরোধী তাদেরকে রাজনীতি করতে দিয়েছিলেন জিয়াউর রহমান! যেটা পৃথিবীর আর কোনো দেশেই নাই! এর নাম বহুদলীয় গণতন্ত্র …?

      Reply
    • Mostofa Kamal

      My dear, how much you earn last 10 years back, how much you earn at present? The country is moving very fast in all the index. You might see live program every day on your TV screen, how do BNP leader counterpart speech against Awamiligue leader. Isn’t it freedom of press/print media? In terms of BNP government how many industries has been closed, how many people unemployed, what is our education level margin? You should think before comments. Padma Bridge, elevated express way, Bangabondhu satellite, 13000+ Megawatt electricity ……. I did not say the rest…..

      Reply
  9. ঈশান আরসালান

    মুনতাসীর মামুনের মত একজন মানুষ যখন এরকম লেখা লেখেন, তখন একটা কথাই মনে হয়, মাছের পচন যেমন শুরু হয় মাথা থেকে, একটি জাতির ক্ষেত্রেও তাই ঘটে। আফসোস!

    Reply
      • সৈয়দ আলি

        আবুল হাসনাত। হা হা হা, আসলে ভয় পাওয়ার এ্যাকটিং করানো হচ্ছে। এবারের নির্বাচন যেভাবে করার প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে তা ফুলপ্রুফ। তবে আওয়ামী লীগের সিদ্ধান্ত এই যে তারা সেটি প্রকাশ না করে ভীত ভাব দেখাবে।

  10. ঈশান আরসালান

    # আজকের খবরঃ সিপিডি বলেছে, এক দশকে ব্যাংক থেকে লুট হয়েছে সাড়ে ২২ হাজার কোটি টাকা।

    # কিছুদিন আগের খবরঃ গ্লোবাল ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টিগ্রিটি (জিএফআই) বলেছে, গত ১০ বছরে দেশ থেকে প্রায় ছয় লাখ কোটি টাকা পাচার হয়েছে।

    # ব্যাংকিং খাতে অরাজকতাঃ দেশে খেলাপি ঋণের পরিমাণ এখন ১ লাখ ২৫ হাজার কোটি টাকার ওপরে।

    # বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে আট শত কোটি টাকা চুরির তদন্ত প্রতিবেদন আজ পর্যন্ত আলোর মুখ দেখেনি। ব্যাংকের ভেতর থেকে যারা জড়িত ছিল, তাদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও শুনিনি।

    # শেয়ার বাজার কেলেঙ্কারিতে যারা ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের ১৫ হাজার কোটি টাকা মেরে দিয়েছিল, তাদের নামও আজ পর্যন্ত জনগণ জানতে পারেনি। তাদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও শুনিনি।

    # বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি থেকে ২০০ কোটি টাকা মূল্যের ১ লাখ ৪২ হাজার টন কয়লা গায়েব; পার্বতীপুরের মধ্যপাড়া খনি থেকে ৫৬ কোটি টাকা মূল্যের ৩ লাখ ৬০ হাজার টনের বেশি পাথর গায়েব। জড়িতদের বিরুদ্ধে কী বিচার হয়েছে?

    # আইএলওর প্রতিবেদন, বাংলাদেশে তরুণ বেকারের হার ৭ বছরে দ্বিগুণ। তরুণদের মধ্যে বেকারত্ব ২০১০ সালের তুলনায় দ্বিগুণ হয়ে ২০১৭ সালে ১২ দশমিক ৮ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে উচ্চশিক্ষিতদের মধ্যে বেকারত্ব ১০ দশমিক ৭ শতাংশ, যা এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় ২৮টি দেশের মধ্যে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ।

    # রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস, গুম, খুন, ক্রসফায়ার, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, বিচারহীনতা, সাজাপ্রাপ্ত অপরাধীদের সাধারণ ক্ষমা, ইত্যাদি অতীতের সব রেকর্ড ভেঙ্গেছে। সাড়ে ৯ বছরে ৩৭,৯০২ খুন। সাত বছরেও শেষ হয়নি সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের তদন্ত। মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের সময় পিছিয়েছে ৬০ বার।

    # জাতি ‘হেলমেট বাহিনি’ নামে পুলিশের ছত্রছায়ায় সন্ত্রাসসৃষ্টিকারি অভূতপূর্ব এক বাহিনির উত্থান দেখেছে।

    # প্রায় প্রতিটি পাবলিক পরীক্ষার প্রশ্ন বছরের পর বছর লাগাতার ফাঁস হয়েছে। ‘আই এম জিপিএ ফাইভ’ প্রজন্ম তৈরি হয়েছে, যাদের অনেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পারছে না। দেশের শিক্ষাব্যবস্থার বারোটা বাজানো হয়েছে।

    # দেশকে সিঙ্গাপুর বানানোর কথা বলে পার্শ্ববর্তী দেশকে প্রায় বিনা পয়সায় ট্রানজিট-ট্রান্সশিপমেন্ট সুবিধা দেয়া হয়েছে। বাংলাদেশ সিঙ্গাপুর হতে আর কত দেরি, পাঞ্জেরী?

    # নির্বাচনে রাজাকার ও রাজাকার পরিবারের সদস্যদের মনোনয়নে আওয়ামী লীগ পিছিয়ে না থাকলেও তারাই মুক্তিযুদ্ধের চেতনাধারী।

    তারপরও লেখকের কথা মত আওয়ামী লীগকেই ভোট দিতে হবে। আমজনতার
    স্বাধীন মতামতের কোন মূল্য না থাকলেও চলবে। সবচেয়ে ভাল হ্ত, নির্বাচন না করে ক্ষমতায় থেকে যেতে পারলে।

    Reply
    • জাকের আহম্মদ খোকন

      শেয়ার বাজার একটা ব্যবসা। সেখানে যারা রাতারাতি কোটিপতি হতে গিয়েছিল, শেয়ার ব্যবসা না বুঝে তাদের দায়িত্ব সরকারের? শেয়ার ব্যবসা করে লাভ করলে কী শেখ হাসিনার ঘরে টাকা দিয়ে আসতো না শেখ হাসিনাকে সমর্থন করতো? এতো উন্নয়ন করার পরও এবং আপনাদের ভাষায় এতো দূর্নীতির পরও শেখ হাসিনার এই দশ বছরের শাষনামলে দেশ একবারও দূর্নীতিতে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হয় নি, কিন্তু বিএনপি-জামায়াত জোটের ৫ বছরের শাষনেই দেশ পর পর ৪ বার দূর্নীতিতে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল। তাহলে বড় চোর, দূর্নীতিবাজ কারা? এবং তারপরও যারা সেই বিশ্ব চোরদের পক্ষে কথা বলে, শেয়ার বাজারে কিছু না হলেও যে তারা শেখ হাসিনাকে সমর্থন করতো সেটা কোন পাগলে বিশ্বাস করবে? তারপরও, শেখ হাসিনা শেয়ার কারসাজির সাথে জড়িতদের বিচার করেছে, করছে, করবে। কিন্তু আপনারা সেটা দেখতে পান না। পত্রিকার নাম ও তারিখ দিয়ে দিচ্ছি যেহেতু স্ক্রিণ শট সংযুক্ত করার কোন সুযোগ নেই। দেখে নেবেন দয়া করে।
      ১. bdnews24.com, date:- 03/09/18;
      ২. শেয়ার কেলেঙ্কারিতে চার আসামীর সাজা। সূত্রঃ- বাংলাদেশ প্রতিদিন, ২৫ জুন, ২০১৮।
      ৩. শেয়ার কেলেঙ্কারির দায়ে মার্ক বাংলাদেশের পরিচালক সালমা আক্তার কারাগারে। সূত্রঃ- ভোরের কাগজ, ১৫ জুলাই, ২০১৮।
      ৪. শেয়ার কেলেঙ্কারির মামলায় দুই জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা। সূত্রঃ- ইনকিলাব, ১৪ নভেম্বর, ২০১৬।
      ৫. শেয়ার কেলেঙ্কারির ৪ মামলায় আসামির জেল-জরিমানা, তিনটিতে খালাস। সূত্রঃ- lawyersclubbangladesh.com/bangla/2017/04/26

      শেয়ার কেলেঙ্কারির বিরুদ্ধে শেখ হাসিনার সরকারের সময়ে গৃহীত আমার জানা পদক্ষেপগুলো দিলাম। আমার জানার বাইরেও আছে। তারপরও বিভ্রান্তি ছড়ানো বন্ধ হবে না।

      Reply
  11. ঈশান আরসালান

    “আমার ভোট যাকে তাকে দেয়া যাবে না, দিতে হবে শেখ হাসিনাকেই।” – ঠিক, ঠিক। নির্বাচন, জনগণের মতামত, গণতন্ত্রকে গুল্লি মারি। নির্বাচন ছাড়া ক্ষমতায় থেকে গেলে আরও ভাল হয়।

    Reply
  12. মোঃ আরিফুল ইসলাম

    আমার শ্রদ্ধাভাজন ইতিহাসবিদ কাকার ০৮ ডিসেম্বর ২০২৩, ০৮ ডিসেম্বর ২০২৮…তেও প্রায় একই রকম অভিব্যক্তি ও হাজারো যুক্তি মনে আসবে। এর থেকে ভালো হয়- জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ‘দ্বিতীয় বিপ্লব’ অর্থাৎ ১৯৭৫ এর ৪র্থ সংবিধান সংশোধনীর আদলে ‘বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ’কে ‘জাতীয় দল’ ঘোষণা করা।
    কাকু, নির্বাচনে হেরে বিরোধী দলে যাওয়া/থাকার মন-মানসিকতা নাই-বা থাকে তবে ১৯৭২ সালের সংবিধানের মূলনীতির অন্যতম- ‘গণতন্ত্র’ কীভাবে প্রতিষ্ঠিত হবে?

    Reply
  13. সুনীল আকাশ

    মুনতাসির মামুন স্যার
    তরুণ ভোটার ইতিহাস পছন্দ করে না, তারা বর্তমান নিয়ে চিন্তা করে। বাংলাদেশ এশিয়ার দ্বিতীয় সর্বোচ্চ শিক্ষিত বেকারের দেশ, প্রথম দেশ হলো পাকিস্তান! এর জন্য কে দায়ী? গত ১০ বছরে শিক্ষিত তরুণের জন্য কি ব্যবস্থা হলো যে তারা এ সরকারের উপর খুশি হবে? দেশে প্রায় ২৭ লক্ষ শিক্ষিত বেকার, বাংলাদের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশী। এর জন্য কে দায়ী?
    শুধু মিষ্টি কথা দিয়ে বা ইতিহাসের দোহাই দিয়ে তরুণদের ভোট টানা সহজ হবে না স্যার !

    Reply

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। প্রতিক্রিয়া লেখার সময় লক্ষ্য রাখুন--

  • ১. স্বনামে বাংলায় প্রতিক্রিয়া লিখুন।
  • ২. ইংরেজিতে প্রতিক্রিয়া বা রোমান হরফে লেখা বাংলা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না।
  • ৩. প্রতিক্রিয়ায় ব্যক্তিগত আক্রমণ গৃহীত হবে না।

দরকারি ঘর গুলো চিহ্নিত করা হয়েছে—