হ্যাঁ এমন দেশ পৃথিবীর কোথাও নেই। আধুনিক সিঙ্গাপুরের জনক প্রয়াত লি কুয়ান ইউ-কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিলো মাত্র ৩০ বছরে এই যে একটা গরীব দেশকে ধনী দেশে উন্নীত করলেন তার প্রধান ‘সিক্রেট’টা কী? লি কুয়ান ইউ এর উত্তর ছিল, “দ্বিতীয় বিশ্ব যুদ্ধের সময় যে সমস্ত সিঙ্গাপুরবাসী জাপানিদের পক্ষে দালালী করেছেন তাদেরকে রাজনীতি তো দূরের কথা, তাদেরকে কোনও সরকারী চাকরিতেও নিয়োগ দেওয়া হয়নি। এ মূলনীতিই আমাদের সফলতার মূল প্রতিপাদ্য।”

এক.

তাকিয়ে দেখুন বাংলাদেশের দিকে। ইউরোপের কোনও দেশে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় সংঘটিত হলোকাস্টের (গণহত্যার) দায়ে নুরেম্বার্গ আদালতে  মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত কারও জন্য যদি কোনও রাজনৈতিক দল তাদের জাতীয় কাউন্সিলে আনুষ্ঠানিকভাবে শোক প্রস্তাব গ্রহণ করে তাহলে সে দেশের আদালতের বাইরে জনতার আদালতে কি ওই দলের কোন অস্তিত্ব থাকবে? হ্যাঁ সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী (সাকা চৌ) নামের কুখ্যাত এবং সবচেয়ে ঘৃণিত যুদ্ধ অপরাধীর আন্তর্জাতিক আদালতে প্রদত্ত ফাঁসি কার্যকর পরপরই বিএনপি’র জাতীয় কাউন্সিলে সাকার ‘মৃত্যুতে’ আনুষ্ঠানিক শোক প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়েছিল এবং বলা হয়েছিল ‘সাকা  ন্যায় বিচার পায়নি’। সেই একই ধারাবাহিকতায় এ সেদিনও বিএনপি-এর এক জাতীয় অনুষ্ঠানে দলটি তার জন্য শোক প্রস্তাব গ্রহণ করে।

জামাতে ইসলামী বাইরে বিএনপি রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত যে দুই কুখ্যাত যুদ্ধাপরাধীর মৃত্যুদণ্ড হয়েছে তাদের সন্তানেরা বিএনপি এর  অতি প্রিয়। বগুড়ার রাজাকার আলীমের ছেলে ফয়সল আলীম ইতিমধ্যে নমিনেশন পেয়েছে। হ্যাঁ, এই সেই ফয়সল আলীম যে ১৯৯৪ সালে  টরন্টোতে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন কর্তৃক আয়োজিত এক বিজয় দিবসের অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত বক্তা হিসেবে আমি যখন বঙ্গবন্ধুর কথা উল্লেখ করেছিলাম তখন সে মাইকের তার খুলে দেয় এই বলে, “শেখ মুজিবের কথা শেনার জন্য আমরা এখানে আসিনি”। স্থানীয় এক বিএনপি নেতা আমাকে বলেছিলেন বিগত বিএনপি দু:শাসনের সময় সে প্রচুর ধন সম্পদের মালিক হয়েছে।

কুখ্যাত সাকা চৌ এর পরিবারের অন্তত একজন সামিম কাদের চৌধুরী ইতিমধ্যে নমিনেশন পেয়েছিল।  আরও দুই একজন পেতে পারে, যেহেতু লন্ডনে পলাতক ওই দলের নেতার ভাষায় ওই এলাকা ‘বিএনপি’র দুর্গ’। তার বাবা গিয়াস কাদের চৌধুরী জেলে আছে শেখ হাসিনাকে এই বলে হুমকি দেয়ার কারণে, “আপনাকে আপনার বাবার চেয়েও করুণভাবে মৃত্যুবরণ করতে হবে”। এই দুর্বৃত্তদের কথা শুনে ভাবি, আমরা কী ’৭১ সালে পরাজিত হয়েছিলাম? এ সব যুদ্ধ অপরাধীদের পরিবারবর্গ এবং সন্তানেরা তাদের পিতার রাজনীতি শুধু ধারকই নন, তারা হলো, “বাবু যত কহে পারিষদেরা বলে তার শত গুণ”।

এর বাইরে নির্বাচনে বগুড়া-৩ আসনে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন যুদ্ধাপরাধ মামলার পলাতক আসামি আব্দুল মোমিম তালুকদার খোকা। মোমিমের বাবা মৃত আব্দুল মজিদ তালুকদার মুক্তিযুদ্ধের সময় স্থানীয় শান্তি কমিটির চেয়ারম্যান ছিলেন এবং বাবা-ছেলে দুজনেই সেসময় পাকিস্তানি সেনাবাহিনীকে সহযোগিতা করেন বলে তার বিরুদ্ধে মামলায় অভিযোগ করা হয়। যুদ্ধাপরাধে আজীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত জামায়াত নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর ছেলে শামীম সাঈদী আসন্ন নির্বাচনে বিএনপির ধানের শীষের প্রার্থী হিসেবে আগামী নির্বাচনে অংশ নিতে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।

দুই.

কামাল হোসেন সাত দফা দাবি নিয়ে সংলাপের আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনাকে চিঠি যে দিয়েছিলেন সেটা শুরু হয়েছিল এভাবে- “জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে এক দীর্ঘ আন্দোলন- সংগ্রাম এবং মহান মুক্তিযুদ্ধে ত্রিশ লক্ষ শহীদের আত্মত্যাগ ও দুই লক্ষ মা-বোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে আমাদের স্বাধীনতা।”

চিঠির এ প্রথম বাক্যে যে তিনটি শতসিদ্ধ, জাতির পিতা, ত্রিশ লক্ষ শহীদ, দুই লক্ষ মা-বোনের সম্ভ্রম – তার কোনও একটির সাথে কী বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া (যিনি ১৫ই অগাস্ট তার কল্পিত জন্মদিন পালন করেন) এবং সব নীতির নির্ধারক দুর্নীতির দায়ে সাজা প্রাপ্ত এবং লন্ডনে পলাতক ২১ শে অগাস্ট হত্যাযজ্ঞের মূলনায়ক যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত চরম বেয়াদব (যে বঙ্গবন্ধুকে বলে পাকবন্ধু) ছেলে কি স্বীকার করে?

নিজের নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করার কারণ ব্যাখ্যা করার জন্য আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি দেশবাসীকে ১৯৭১ সালের মতো ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। ‘দেশবাসী ১৯৭১ সালের মতো ঐক্যবদ্ধ’ থাকলে তিনি আজকে যাদের সাথে রাজনৈতিক ঐক্য গড়েছেন তাদের বাক্সে কয়টা ভোট পড়বে সেটা অনুধাবনের জন্য কি অক্সফোর্ড থেকে রাজনীতির প্রশিক্ষণ নেয়ার প্রয়োজন আছে?

ড. কামালের সংবাদ সম্মেলনের সংবাদের প্রপ্রেক্ষিতে একজন সংবাদপত্র পাঠকের মন্তব্য: “কামাল হোসেন সবসময় নিজেকে বঙ্গবন্ধুর আদর্শের কাণ্ডারি বলেন, কিন্তু যে দলের প্রতিষ্ঠাতা বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার জন্য দায়ী এবং যে দল ১৫ অগাস্ট ঘটনার বেনিফিসিয়ারী, তারেক রহমান কিছুদিন আগেও বঙ্গবন্ধুকে পাক-বন্ধু বলে কটাক্ষ করেছে, খালেদা জিয়া শোক দিবসে মিথ্যা জন্মদিনের নামে উপহাস করে,  সে দলের সাথে গিয়ে কামাল সাহেবের নিজেকে বঙ্গবন্ধুর আদর্শের মানুষ বলা এটা একটা চরম প্রতারণা ছাড়া কিছুই না।“

ড. কামাল হোসেন প্রধান নির্বাচন কমিশনারের ব্যাপারে সন্তুষ্ট নন। তিনি প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পরিবর্তে বিশ্বাসযোগ্য কাউকে চান। যাদের স্মৃতিশক্তি দুর্বল নয় তাদেরকে বলছি, বিএনপি আমলে নিয়োজিত ‘বিশ্বাসযোগ্য’ প্রধান নির্বাচন কমিশনারদ্বয়ের একজনকে, এম এ আজিজ বা সাদেক সাহেবকে ফিরিয়ে আনলে কেমন হয়?

তিন.

’৭১ সালে স্বেচ্ছায় বা ঘটনাক্রমে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করলেই মুক্তিযোদ্ধা হওয়া যায়? মুক্তিযুদ্ধ একটা আদর্শ, একটা চলমান প্রক্রিয়া, যার জন্য যুদ্ধ এখনো চলছে। যুদ্ধ অপরাধীদের বিচারের বিরুদ্ধে জাফরুল্লাহ চৌধুরীর কার্যকলাপের দিকে নজর দিলেই সেটা পরিস্কার হবে। কামাল হোসেনের জামাতা ব্রিটিশ নাগরিক ডেভিড বার্গম্যানের সাজায় উদ্বেগ প্রকাশ করে ‘অবমাননাকর’ বিবৃতি দেওয়ায় জাফর উল্লাহ চৌধুরীকে সাজা দিয়েছিল আন্তর্জাতিক আদালত। শাস্তি হিসাবে তাকে এক ঘণ্টা আসামির কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে থাকতে বলা হয়েছে এবং পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছিল।

মুক্তিযুদ্ধে শহীদের সংখ্যা নিয়ে মন্তব্য করার জন্য বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে অভিনন্দন জানিয়েছিলেন এই জাফরুল্লাহ। ইনি সে জাফরুল্লাহ যিনি বলেছিলেন “এ কাদের মোল্লা সে কাদের মোল্লা নয়”। হ্যাঁ, এই সেই জাফরুল্লাহ যিনি কামারুজ্জামানকে ২০ মিনিট ফাঁসিকাষ্ঠে ঝুলিয়ে রাখাতে মনে আঘাত পেয়েছিলেন এবং সরকারের কাছে দাবি জানিয়েছিলেন কামারুজ্জামানের পরিবারের কাছে ক্ষমা চাওয়ার। ইনি সেই জাফরুল্লাহ সাকা চৌ এর ফাঁসির আদেশ হলে বলেছিলেন, ‘সাকা ন্যায় বিচার পায়নি’। যদিও ৭১ এ তিনি মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন, কিন্তু আজকে মুক্তিযুদ্ধ হলে তিনি কোনদিকে অংশ গ্রহণ করতেন সেটা কি পরিস্কার নয়?

নিজেকে বঙ্গবন্ধুর ৪র্থ ছেলের দাবিদার কাদের সিদ্দিকী বলেন, “আজকের দিন আমার জীবনে শ্রেষ্ঠ দিন। আমি আনন্দের সাথে আজ আমার দলের সিদ্ধান্ত ঘোষণা করছি যে, জাতীয় ঐক্যফ্রন্টে যোগদান করছি।” মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের যে কোন বাঙ্গালির জীবনের শ্রেষ্ঠ দিন ১৯৭১ সালের ১৬ই ডিসেম্বর, আর একজন ‘বঙ্গবীরের’ শ্রেষ্ঠ দিন হয়ে গেল যেদিন রাজনীতির পচা নর্দমায় তিনি ঝাঁপ দিলেন সেদিন। তার মতে আওয়ামী লীগ ১৯ টির বেশি আসন পাবেনা। এমনকি শেখ হাসিনা টুঙ্গিপাড়ার আসনে ড. কামাল দাঁড়ালে তার কাছে হেরে যাবেন।”

এর কয়েকদিন আগেই ‘বঙ্গবন্ধুর ৪র্থ ছেলে’ ১৯৭৫ এ বঙ্গবন্ধু হত্যার প্রতিরোধ সংগ্রামীদের’ মিলনমেলায় প্রতিরোধ সংগ্রামীদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দাবি করে বলেন, “বর্তমান সরকার বঙ্গবন্ধু কন্যার নেতৃত্বাধীন সরকার। এই সরকারকে বলতে হবে বঙ্গবন্ধু হত্যার প্রতিবাদ করা ন্যায় না অন্যায়। তাদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দিতে হবে।”

চার.

জীবনে এমপি বা মন্ত্রী হওয়া কি খুবই প্রয়োজন?

“ধানের শীষ প্রতীকে লড়তে যাচ্ছেন কিবরিয়া পুত্র রেজা”- খবরটা দেখে উপরের প্রশ্নটা মনে আসলো। ভাবছি তার কিংবদন্তী পিতার লাশ কি কবরে নড়ে উঠবে না ছেলেকে রাজনীতির নর্দমায় ঝাঁপ দিতে দেখে? শেষ পর্যন্ত অবশ্য তার মনোনয়ন বাতিল করেছে কমিশন।

২০০৫ সালের ২৭ জানুয়ারি হবিগঞ্জ সদরের বৈদ্যেরবাজারে এক জনসভা শেষে ফেরার সময় গ্রেনেড হামলায় নির্মমভাবে নিহত হন সাবেক অর্থমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের নেতা শাহ এ এম এস কিবরিয়া। অর্থমন্ত্রী কিবরিয়ার হত্যার বিচারের দাবিতে ‘শান্তির জন্যে নীলিমা’ নামের এক ব্যতিক্রমী প্রতিবাদ কর্মসূচির সূচনা করেছিলেন তার স্ত্রী আসমা কিবরিয়া। তার বিশ্বব্যাপী আহ্বানে সাড়া দিয়ে আমরা টরন্টোর কয়েকশো বাঙ্গালি ২৫ ডিগ্রি হিমাঙ্কের নীচে তাপমাত্রাকে অগ্রাহ্য করে মানববন্ধন করেছিলাম। করেছিলাম একাধিক প্রতিবাদ সভা আর আন্তর্জাতিক সেমিনার। নিজের পকেট থেকে ব্যয় করেছিলাম শত শত ডলার।

এম পি হওয়ার উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করতে যেয়ে রেজা বললেন- “আমার বাবার স্বপ্ন ছিল হবিগঞ্জ-১ আসনে নির্বাচন করার। আমি সেই স্বপ্ন এবার বাস্তবায়ন করতে চাই। কারণ, এলাকাটি অবহেলিত একটি জনপদ। এলাকার মানুষের জীবনমানে গুণগত পরিবর্তন আনতে চাই”।  ড. রেজা কিবরিয়া, আপনি বিশ্ব সংস্থায় কর্মরত একজন অর্থনীতিবিদ, পেশাদার রাজনীতিবিদ নন। আপনার ক্ষণজন্মা পিতা কেবল হবিগঞ্জ-১ আসনের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য রাজনীতিতে আসেননি। তিনি বাংলাদেশ এবং সে দেশ সৃষ্টির মহানায়ক এবং মুক্তিযুদ্ধকে হৃদয়ে ধারণ করতেন বলেই তিনি মরেও অমর হয়ে আছেন।

আপনি রাজনীতির যে পঙ্কিলে নিজেকে নিমজ্জিত করতে যাচ্ছেন তার সাথে আপনার মহান পিতাকে সংশ্লিষ্ট করবেন না। তদুপরি সমস্ত বিশ্বে ছড়িয়ে থাকা হাজার হাজার আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধকে হৃদয়ে ধারণকারী বঙ্গসন্তান আপনার মায়ের ডাকে সাড়া দিয়ে যে ‘শান্তির জন্য নীলিমা’ প্রতিবাদে অংশগ্রহণ করেছিলেন তাদের অনুভূতিতে আপনি যেভাবে আঘাত করলেন সেটা আপনি এমপি বা মন্ত্রী হয়ে কী দুরীভূত করতে পারবেন?

পাঁচ.

আমার নিজের অজ্ঞতা যে আমি ‘আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন’ শহিদুল আলমকে জানতাম না, যদিও আমি সম্ভবত যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের বিরুদ্ধে বিশেষ করে বিদেশি সংস্থা, পত্রিকা এবং ব্যক্তিসমুহ যে সব অপপ্রচার করেছে সেগুলো খণ্ডন করে ইংরেজিতে সবচেয়ে বেশি নিবন্ধ লিখেছি। তবে একটি সঙ্গত সামাজিক আন্দোলনকে রাজনৈতিক রূপ দেয়ার প্রয়াসে একটা আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমে তিনি যে সাক্ষাৎকার দিয়েছিলেন (আমি জীবনে এই তাকে প্রথম দেখলাম ছবিতে) সেটা বাংলাদেশের কোনও তৃতীয় শ্রেণির রাজনীতিবিদের (কপাল কুঁচকানো রিজভীর মতন) কাছ থেকে আমরা অহরহ শুনে থাকি, কিন্তু কোনও ‘আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন’ সাংবাদিকের কাছ থেকে আমি এটা আশা করিনি।

কিছুদিন আগে তিনি জামিনে মুক্তি পেয়েছেন। আওয়ামী লীগের বিপরীতে যে রাজনৈতিক শক্তি তার মুক্তিতে তাদের উল্লাস খুবই স্বাভাবিক। কিন্ত আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং তার মহানায়ককে যারা নিরন্তর হৃদয়ে ধারণ করেন, বলে মনে করা হয় তাদের অনেককে আমি তার পক্ষ নিতে দেখেছি। সে সমস্ত বন্ধুদের কাছে আমার জিজ্ঞাসা আপনারা কেউ কী এমন একটা উদাহরণ দিতে পারেন যে  যুদ্ধ অপরাধীদের বিচারের পক্ষে তিনি কোনওদিন একটা কথা বলেছিলেন, লিখেছেন বা যুদ্ধাপরাধীদের পক্ষের সবচেয়ে সরব কণ্ঠ জাফরুল্লাহ চৌধুরীর তার লজ্জাজনক ভুমিকার ব্যাপারে কোনও সমালোচনা করেছেন কি না। গণজাগরন মঞ্চের সেই উত্তাল দিনগুলোতে তিনি কোথায় ছিলেন বা তার ভূমিকা কী ছিল?

তার বন্দি অবস্থায় তাকে নিয়ে লেখা কয়েকটি নিবন্ধ পড়ে যেটা জানলাম তার সারমর্ম হলো, আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃত করার প্রয়াসে যা কিছু করা দরকার তার সবকিছুই তিনি করেছেন। তার ভাষায়, ‘শেখ মুজিবুর রহমান যুদ্ধাপরাধী বিচারের জন্য ট্রাইব্যুনাল গঠন করলেও ১৯৭৩ সালের সাধারণ ক্ষমার কারণে সেটি কক্ষচ্যুত হয়’ এ ধরনের বহুবিধ মিথ্যা তথ্য এবং বিশ্লেষণ, বিশেষ করে বিদেশি কিছু পত্রিকায় লিখে তিনি যুদ্ধ অপরাধীদের বিচার বিঘ্নিত এবং বিতর্কিত করার সব ধরনের চেষ্টা তিনি করেছেন। ইউরোপের কোন দেশে নুরেম্বার্গ বিচারের বিরুদ্ধে কেউ লিখলে তার বিচার হতো। আর বাংলাদেশে মুক্তিযোদ্ধা বা মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের বলে দাবিদার অনেক ব্যক্তি এবং সংবাদ মাধ্যম তাকে এক বিরাট ‘বীর’ বানানোর প্রয়াসে যা করেছেন সেটা দেখে আবারো বলছি, ‘এমন দেশটি কোথাও খুঁজে পাবে নাকো তুমি’।

ছয়.

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর বাঙ্গালি একমাত্র জাতি যে  যুদ্ধ করে  গণহত্যার শিকার হয়ে ৩০ লক্ষ মানুষের রক্তের বিনিময়ে স্বাধীনতা অর্জন করেছে। অথচ সে সে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে বিরাজ করছে দুটো রাজনৈতিক শক্তি, যার একটাকে অভিহিত করা হয় ‘মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি’ বলে। তাহলে অন্যটা কোন পক্ষের?

এই অন্য পক্ষের প্রধান শক্তি বাংলাদেশের মানুষের স্বল্প স্মৃতিশক্তি। ২০০১-২০০৬ সালে বিএনপির চরম দু:শাসনের কথা (২১শে অগাস্ট হত্যাযজ্ঞসহ) অনেক মানুষ ভুলে গেছে।  ২০০১ সালের নির্বাচনে বিজয় ঘোষণার পর পরই তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান লতিফুর রহমান যখন গণভবনে বিজয় উল্লাসের নৈশভোজে লিপ্ত তখন থেকেই বিএনপি সমর্থকেরা ধর্মীয় সংখ্যালঘু এবং আওয়ামী লীগ সমর্থকদের উপর যে  অত্যাচার আর হত্যাযজ্ঞে লিপ্ত হয়, তার সাথে শুধু ‘৭১ এ দখলদার বাহিনীর শাসনের তুলনা চলে।

৯৩ হাজার ‘মুসলমান’ সৈনিকের আত্মসমর্পণের স্মৃতি মুছে দেয়ার মানসে যিনি রেসকোর্সে শিশুপার্ক নির্মাণ করেন (প্রয়াত গিয়াস কামাল চৌধুরীর স্মৃতি কথায় বিস্তারিত বিবরণ লিপিবদ্ধ রয়েছে এবং পরবরতীতে হাইকোর্টের রুলিং এ সেটা বলা হয়েছে) তিনি সত্যিই কোন পক্ষের ছিলেন সেটা বোঝার জন্য কী কোনও ইতিহাসবিদের বিশ্লেষণের প্রয়োজন আছে? ইতিহাস যদি তাকে চিহ্নিত করতে কার্পণ্য করে তবে সেটা হবে ইতিহাসের চরম ব্যর্থতা।

বিএনপি নামক দলটি যতদিন জিয়া পরিবারের নেতৃত্ব মুক্ত না হবে ততদিন ওই দলটি ক্ষমতায় আসলে আবার ‘মিনি পাকিস্তান’ বানানোর প্রক্রিয়া শুরু হবে। তাই প্রকৃত বাঙ্গালির রক্ত যাদের ধমনীতে প্রবাহিত তাদেরকে বলছি, ‘সাধু সাবধান’। ২০০৯ সালে বঙ্গবন্ধু কন্যা তথা আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসেছিল বলেই ‘মিনি পাকিস্তান’ বানানোর প্রক্রিয়া রোধ করে আজকে বিশ্ব দরবারে বাঙ্গালি এক গর্বিত জাতি। বিদেশে যে বিরাট সংখ্যক বাংলাদেশের বাঙ্গালি বসবাস করছি তারা আজ বাঙ্গালি পরিচয়ে গর্বিত।

মোজাম্মেল খানঅধ্যাপক এবং সিনেটের স্পিকার, শেরিডান ইনস্টিটিউট অব টেকনলোজি, টরন্টো, কানাডা

২২ Responses -- “এমন দেশটি কোথাও খুঁজে পাবে নাকো তুমি”

  1. জাহাঙ্গীর

    ছাগুর দলের সেই ‘চান্দে বুড়ির কোলে সাঈদী’ টাইপের প্রোপাগান্ডা ছাড়া পুঁজি কিছুই নাই। আওয়ামী লীগ দেশের স্বাধীনতা অর্জনে নেতৃত্ব দেয়া দল। তাই আওয়ামী লীগই একমাত্র স্বাধীনতার চেতনাধারী। আর যেসব এমপি’র উদাহরণ দিয়ে রাজাকারদের বিশুদ্ধ করার চেষ্টায় লিপ্ত হয়েছেন সে সমস্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ পাওয়া যায়নি। লেখক এই লেখাটিতে অনেকগুলো বিষয়ে আলোচনা করেছেন। সেসব বিষয়ভিত্তিক যুক্তি খন্ডন না করে গুজব বা গজব টাইপের উল্টাপাল্টা কথা বলে রাজাকারদের দালালী পরিহার করুন তা না হলে হয়তো স্বাধীনতা স্বপক্ষের শক্তির সামনে পড়ে অসহায়ের মতো প্রহার গ্রহণ করা ছাড়া উপায় থাকবে না।

    Reply
  2. বাবনী

    আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে লেখা লেখকের প্রতিটি লেখা আমি পড়ি। তবে যারা নিজেরা আমাদের মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন বা তাদের পরিবারের যারা তাদের মুক্তিযুদ্ধবিরোধী পিতার রাজনীতির ধারক এ লেখকের লেখা তাদের ধমনীতে আগুন ধরিয়ে দেয়। এরা আমাদের দেশে দাপটের সাথে বসবাস করছে। সত্যিই, ‘এমন দেশটি কোথাও খুঁজে পাবে নাকো তুমি’।

    Reply
  3. মোজাম্মেল খান

    Lee Kuan Yew. The Singapore Story: Memoirs of Lee Kuan Yew বই এর ৫৯-৬০ পৃষ্ঠায় লিখেছেনঃ
    “আমার প্রজন্মের যারা জাপানি সৈন্যদের দেখেছিল তারা যুদ্ধে তাদের অমানবিক মনোভাবকে ভুলে যেতে পারে না। তারা ভয়ঙ্কর শত্রু তৈরি করে। তারা মানুষদেরকে ভয় দেখানোর জন্য খোলা মাঠে বেয়োনেট চর্চা করতো।… নিজের জাপানী সৈনিকদের সাথে কয়েকটা ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতার বর্ণনা দিয়ে তিনি লিখেছেনঃ “ঘাঁটিতে তাদের দেখার পর, আমি নিশ্চিত ছিল যে যুদ্ধের চেতনার জন্য, তারা বিশ্বের সেরা ছিল। কিন্তু তারা তাদের বিরোধীদের প্রতি যে নিশংসতা দেখিয়েছে তার সাথে একমাত্র হুনদের এবং চিংগিস খান ও তার সৈন্যদের নিশংসতার তুলনা চলে। হিরোশিমা ও নাগাসাকিতে দুটি পারমাণবিক বোমা নিক্ষেপ করা দরকার ছিল কিনা তা সম্পর্কে আমার মনে কোন সন্দেহ নেই। এটা না হলে মালায়া এবং সিঙ্গাপুরের হাজার হাজার বেসামরিক নাগরিক এবং জাপানে লক্ষ লক্ষ নাগরিক মারা যেত। “
    আমি সিঙ্গাপুরে অধ্যাপনা করতাম এবং কয়েক বছর আগ পর্যন্ত ঐ সুন্দর দেশের নাগরিক ছিলাম। কেউ ঐ দেশে বেড়াতে গেলে দেখে আসবেন কিভাবে যেখানে জাপানীরা অত্যাচার করে সিঙ্গাপুরবাসীদেরকে হত্যা করেছিলে সেটা Changi Prison কিভাবে সংরক্ষন করা হয়েছে।

    Reply
  4. Mozammel Khan

    In Lee’s words, “I have lo doubts about whether the two atom bombs dropped on Hiroshima and Nagasaki were necessary. Without them, hundreds of thousands of civilians in Malaya and Singapore, and millions in Japan itself, would have perished. [59-60]”

    Reply
  5. Azom

    যখন এদেশে পাকিস্তানি অনুসারী ও রাজাকাররা মন্ত্রী হয়েছিল, তাদের গাড়িতে যখন লাল-সবুজের পতাকা উড়তো- তখন খুব কষ্ট পেতাম। ওটা ছিল আমাদের পরাজয়। মুক্তিযুদ্ধকে অনেকে বলে গণ্ডগোল। স্বাধীনতাটাই তখন অর্থহীন মনে হয়। গণ্ডগোল নয় হয়েছিল মুক্তিযুদ্ধ”- বলেন মুক্তিযোদ্ধা মাইনুল হক।

    Reply
    • সৈয়দ আলি

      Azom, মাশাল্লাহ জামালপুরের রাজাকার কমান্ডার নুরুল ইসলামকে দিয়ে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ প্রথম লাল-সবুজ পতাকা-শোভিত গাড়ি বের করেছিলো।

      Reply
  6. ঈশান আরসালান

    নিবন্ধের শুরুতেই অসত্য তথ্য! কারণ লী কুয়ান ইউ তাঁর আত্মজীবনীতে লিখেছেন, সিঙ্গাপুরে জাপানি দখলদারিত্বের সময় তিনি জাপান সরকারের প্রপাগান্ডা বিভাগে কাজ করেছেন। অর্থাৎ তিনি নিজেই জাপানি কোলাবরেটর ছিলেন। নিবন্ধকার তাঁর লেখার সমর্থনে কোন সূত্রও দেননি। একজন অধ্যাপকের কাছ থেকে আমরা মানসম্মত লেখা আশা করি।

    বিএনপি যে পাকিস্তানি কোলাবরেটর বা তাদের পরিবারের সদস্যদের নির্বাচনে মনোনয়ন দিয়েছে – এ ব্যাপারে লেখকের বক্তব্যের সাথে একমত। তবে আওয়ামী লীগও যে দিয়েছে, তার উদাহরণ দিচ্ছিঃ

    বরগুনা-২ থেকে মনোনয়ন পেয়েছেন শওকত হাচানুর রহমান রিমন – যারা পিতা খলিলুর রহমান ছিলেন বরগুনা শান্তি কমিটির সদস্য। রিমন বর্তমান মেয়াদেও আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য।

    এরকম উদাহরণ অনেক আছে। তারপরও বর্তমান আওয়ামী লীগ মুক্তিযুদ্ধের চেতনার ধারক ও বাহক। অবশ্য ‘চেতনাজীবী’দের ফিল্টারে ঢুকলে রাজাকারও মুক্তিযোদ্ধা হয়ে যায়!

    জিয়া সংবিধানে ‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম’ ঢুকিয়েছে এবং এরশাদ ইসলামকে রাষ্ট্রধর্ম করেছে, তাই তারা সাম্প্রদায়িক – কিন্তু আওয়ামী লীগ সেটা জিইয়ে রাখলেও তারা ধর্মনিরপেক্ষ। মদিনা সনদ বাস্তবায়ন করার কথা বললে কিংবা হেফাজতের সাথে আঁতাত করলেও তাদের ধর্মনিরপেক্ষতা খসে পড়ে না। মোজাম্মেল খানের মত চোখে ঠুলি পরা দলান্ধ ‘চেতনাজীবী’দের তা চোখেও পড়ে না।

    আসলেই ‘এমন দেশটি কোথাও খুঁজে পাবে নাকো তুমি’।

    Reply
    • সৈয়দ আলি

      ঈশান আরসালান, আবু রেজা নদভিকে বাদ দিলেন ভাই? তিনার সাথে গো আজমের ছবি আছে https://www.facebook.com/photo.php?fbid=131836487821554&set=a.117705025901367&type=3&theater তিনি আগেরবারেও আওয়ামী লীগের এমপি ছিলেন, এবারো ইনশাল্লাহ এমপি হবেন। তিনি প্রকাশ্য সভায় প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, নির্বাচিত হয়ে সবাইকে নিয়ে খাবেন! বলেন ভাই মাশাল্লাহ!

      Reply
  7. হোসেন

    আওয়ামী লীগের একটাই ব্যবসা হল মুক্তিযুদ্ধ ও কোন কিছু হলেই রাজাকার এবং জামাত-শিবির বলা। জনাব আপনাকে মনে রাখতে হবে মুক্তিযুদ্ধের পর বঙ্গবন্ধু পাকিস্তানের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীকে লাল গালিচা সংবর্ধনা দিয়েছিলেন। মতিয়া বঙ্গবন্ধুর চামড়া দিয়ে ডুগডুগি বানাতে চেয়েছিলেন। বঙ্গবন্ধু মারা গেলে ইনু ট্যাংক নিয়ে আনন্দ মিছিল বের করেছিল। সবচেয়ে বড় সত্য হল শেখ হাছিনা তার মেয়েকে দেশের অন্যতম রাজাকারের নাতির সাথে বিয়ে দিছেন। দেশের বাইরে বসে অনেক উন্নয়ন দেখা যায়, বাস্তব বোঝা যায় না। আর বেশি কিছু বলতে চাই না। আওয়ামী লীগ করলে সব মাফ হয়। এটাই আওয়ামী লীগ।

    Reply
  8. লতিফ

    জিয়ার ভুল রাজনীতি যুদ্ধাপরাধীদের কেবল ক্ষমতাবানই করেনি, তাদের পূত্র-কন্যাদেরও দাম্ভিক করেছে। বিএনপি সেই ভুল থেকে শিক্ষা নেয়নি। হয়তো নেবেও না কোনোদিন। এবারের নির্বাচনে ২৫জন জামাতের আর ৩-৪জন যুদ্ধাপরাধীর সন্তানের নমিনেশন দিয়ে বিএনপি এটাই বুঝাতে চেয়েছে যে, মুক্তিযুদ্ধ একটা ফালতু বিষয়।

    Reply
  9. নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক

    আমি মনে করি রাজনৈতিক দলের উন্মেষ নানাভাবে হলেও সঠিক ধারায় কাজ করলেই সেই দল টিকবে এবং বাড়বে। আবার পুরনো দলগুলোও বারবার ভুল করলে ঝরে পড়বে – এ যেন গাছের পাতার মত , পুরনোরা ঝরে যাবে নতুন জন্মাবে- টিকে থাকতে পারলে বড় হবে। সরকার একটা অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে গেছে। ২০১৪ সালের মতো যেনতেন একটা নির্বাচন করে আরও পাঁচ বছর কাটিয়ে দিতে চায় তারা।সাংবাদিকরা বেশিক্ষণ কেন্দ্রে থাকতে পারবে না৷ ছবি তোলা যাবে না৷ লাইভ প্রচার করা যাবে না৷ এটা নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ। তাহলে কীভাবে কেন্দ্র পাহারা দিবেন? নির্বাচন কমিশন মাঠে নেমেছে৷ আওয়ামী লীগ যত ভাল কাজই করুক না কেন হত্যা, গুম, খুন, ব্যাংক-ডাকাতি, বেকারত্ব, ডেস্টিনি, শেয়ারবাজারচাঁদাবাজ – সন্ত্রাসীদের রোধ করতে কার্য্যকর ভূমিকা রাখছে না। দেশের মানুষের অর্থনৈতিক অবস্থার কিছু কিছু করে হলেও উন্নতি হচ্ছে (আওয়ামী লীগাররা বলবেন বেশী, অন্যরা বলবেন কম), কিন্তু ফুটপাথে ফেরিওয়ালা , ভিক্ষুক, পরিবহনে চাঁদাবাজি,হাসপাতালে রোগীদের, বাস-ট্রেনে যাত্রীদের, রাস্তায় পথচারীদের এবং বেকারদের অসহায়ত্ব আর নানবিধ জনহয়রানি যে হারে বাড়ছে তাতে মানতেই হবে উন্নয়নের সুফল থেকে আমজনতা বঞ্চিত।যে ধরপাকড় চলছে অপরাধ দমনের নামে, দেখা যাচ্ছে সেখানে গ্রেপ্তার হওয়া অধিকাংশ ব্যক্তিই বিরোধী জোটের সদস্য। এটা মেনে নেওয়া কষ্ট যে বিরোধী জোটের এত অধিকসংখ্যক সদস্য বা সমর্থকই সব অপরাধ সংঘটন করে চলেছেন। অথচ তেমনটাই বিশ্বাস করানোর একটা প্রয়াস চলে সংশ্লিষ্ট মহল থেকে। মামলা দেওয়া, গ্রেপ্তার, অত্যধিক দ্রুততার সঙ্গে দণ্ড প্রদান—সবকিছুতে একটা অস্বাভাবিক তৎপরতা দেখা যাচ্ছে। অপরাধ সংঘটনের সময় অকুস্থলে অনুপস্থিত, এমনকি সেই সময় আর জীবিতই ছিলেন না, এমন মানুষের নামেও মামলা দেওয়া হচ্ছে, যা ‘গায়েবি মামলা’ হিসেবে আমাদের শব্দভান্ডারে জায়গা পেয়েছে। অজানা ব্যক্তিদের নামে করা মামলায়ও অবধারিতভাবে বিরোধী জোটের সদস্যরাই অভিযুক্ত হিসেবে শনাক্ত হচ্ছেন। বিরোধী জোটের হিসাবে তফসিল ঘোষণার পর তাদের প্রায় ৭০০ নেতা-কর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার-আতঙ্কে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন অনেকে, আবার কেউ কেউ দৌড়ে বেড়াতে বাধ্য হচ্ছেন আইন-আদালতে। নির্বাচন কমিশন বা পুলিশ কারও কাছ থেকেই কাঙ্ক্ষিত সহযোগিতা পাচ্ছেন না তাঁরা। এমন একটি অবস্থায় বিকল্প রাজনৈতিক শক্তির উন্মেষ সময়ের ব্যাপার — ড. কামালের জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট।

    Reply
  10. সৈয়দ আলি

    অধ্যাপক সাহেব, আওয়ামী লীগ থেকে একাত্তরের দালাল ও রাজাকারদের সন্তানদের যে মনোনয়ন দেয়া হয়েছে (অনুমান করা হচ্ছে ২৫টি) সেটা নিয়ে কিছু লিখুন।

    Reply
  11. সপ্তম

    অথচ বাংলেদেশের মিডিয়া সবসময় আওয়ামী লীগকে বাংলার রাজনীতির মাঠে ভিলেন আর বিএনপি/জামাতকে হিরো বানাতে তৎপর। এর সাথে জুটেছে প্রগতিশীল নামধারী মুক্তমনা সুশিল ব্লগাররা।

    Reply
  12. সৈয়দ আলি

    লেখক না কি অধ্যাপক? লি কুয়ানকে দিয়ে মিথ্যে বলিয়েছেন কারণ লি কুয়ান নিজেই ছিলেন জাপানী কলাবরেটর। বাংলাদেশে স্বাধীনতার পরে পাকিস্তানী সরকারের চাকুরি করা আমলাদেরকে শুধু সুরক্ষাই দেয়া হয়নি, তাদের প্রমোশনও দেয়া হয়েছে। কারন একটিই, সবাই সবার আত্মীয়।

    Reply
  13. মোঃ শামীম মিয়া

    ইনু-মতিয়া- সুরন্জিতরা পারলে কামাল-কাদের -রেজারা পারবেন না কেন?

    Reply

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। প্রতিক্রিয়া লেখার সময় লক্ষ্য রাখুন--

  • ১. স্বনামে বাংলায় প্রতিক্রিয়া লিখুন।
  • ২. ইংরেজিতে প্রতিক্রিয়া বা রোমান হরফে লেখা বাংলা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না।
  • ৩. প্রতিক্রিয়ায় ব্যক্তিগত আক্রমণ গৃহীত হবে না।

দরকারি ঘর গুলো চিহ্নিত করা হয়েছে—