সাউথ এশিয়াতে ভারতের পরেই বাংলাদেশের অর্থনীতির অবস্থান। দেশের অর্থনীতি যে গতিতে চলছে এই গতি ধরে রাখতে পারলে আগামী পাঁচ বছরে বাংলাদেশ অনেক দিক থেকে ভারতের থেকে এগিয়ে যাবে। এ মুহূর্তে সামাজিক ও অর্থনৈতিক অনেক সূচকে বাংলাদেশ এগিয়ে। আগামী পাঁচ বছরে ভারতের তুলনায় বাংলাদেশে দারিদ্র তো থাকবেই না, তেমনি নারী শিক্ষাসহ বেশ কিছু সামাজিক সূচকে বাংলাদেশ ভারতকে ছাড়িয়ে অনেক ক্ষেত্রে পৌঁছে যাবে অনেক উন্নত দেশের কাতারে।

নোবেল বিজয়ী অর্থনীতিবিদ ও সমাজবিজ্ঞানী অমর্ত্য সেন তার বিভিন্ন লেখায় যেমন বাংলাদেশের এই উন্নয়নের সূচককে প্রশংসা করেছেন তেমনি তিনি উল্লেখ করেছেন বাংলাদেশের নেতৃত্বের। তার মতে শেখ হাসিনার নেতৃত্বই বাংলাদেশের অর্থনীতির এই পরিবর্তনের মূল কারণ। গত দশ বছরে বাংলাদেশের অর্থনীতির এই পরিবর্তনে যিনি শেখ হাসিনার হয়ে নেতৃত্ব দিয়েছেন, তিনি অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত।

অনেকেই জানেন, অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের ঘনিষ্ঠ বন্ধু অমর্ত্য সেন ও ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী অর্থনীতিবিদ মনমোহন সিং। অমর্ত্য সেন ও আবদুল মুহিতের মধ্যে ব্যক্তিগত পর্যায়ে বাংলাদেশের অর্থনীতি নিয়ে আলোচনার সময়ে উপস্থিত থাকার সুযোগ পেয়েছি। সেখানেও শুনেছি অমর্ত্য সেন কীভাবে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও বাংলাদেশের নেতার অর্থনৈতিক সিদ্ধান্তের বিষয়ে প্রশংসা করেন। শুধু তাই নয়, ওই আলোচনায় তিনি বলেন, তার মতে এ মুহূর্তে সাউথ এশিয়াতে সব থেকে ভাল করছে বাংলাদেশ।

বাংলাদেশের অর্থনীতি এখন দৃশ্যমান বিষয়। দেশে ও বিদেশে কোথাও বলার প্রয়োজন পড়ে না, বাংলাদেশের উন্নয়ন বিশ্বের অন্য মধ্য আয়ের ও উন্নয়নশীল দেশের রোল মডেল। তাই এখন বাংলাদেশের জন্যে সব থেকে বড় প্রশ্ন অর্থনীতির এই গতি ধরে রাখতে হলে কী করতে হবে? সামনে নির্বাচন। একটি নির্বাচন সামনে এলেই প্রশ্ন দেখা দেয় রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার পরিবর্তন হতে পারে। যদি পরিবর্তন হয় তাহলে কি এই অর্থনৈতিক অবস্থা ধরে রাখা সম্ভব হবে?

কোনও অর্থনৈতিক অবস্থা যে নেতার হাত দিয়ে গড়ে ওঠে তার পরিবর্তনে নতুন কোনও নেতার হাতে গেলে স্বাভাবিক কিছু প্রশ্ন সামনে আসবে। প্রথম প্রশ্ন আসে- সেটা কতটা টিকে থাকবে সে বিষয়ে। কারণ ওই অর্থনীতি কতটা টেকসই হয়েছে বা অর্থনীতির সক্ষমতা কতটা হয়েছে। কারণ, এমন একটা সক্ষমতা দরকার যে তা আর নষ্ট করা সম্ভব হবে না। বাংলাদেশের অর্থনীতির বর্তমান এই অবস্থানটি বুঝতে গত সপ্তাহে প্রায় পাঁচ ঘণ্টা ধরে বাংলাদেশের বর্তমান অর্থনীতির অবস্থান নিয়ে কথা বলি অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের সঙ্গে। তার সঙ্গে কথোপকথনের (সাক্ষাৎকার) বিবরণও ছেপেছি ইতোমধ্যে জনকণ্ঠে। তার সঙ্গে কথা বলে এটা পরিষ্কার হই যে, বাংলাদেশের অর্থনীতি ভবিষ্যতে কেউ সহজে নষ্ট করতে পারবে না এমন অবস্থানে নিয়ে যেতে হলে আরও পাঁচ বছর দরকার।

বর্তমান যে গতি ও নেতৃত্বে এই অর্থনীতি পরিচালিত হচ্ছে এই গতি ও নেতৃত্বে আরও পাঁচ বছর বাংলাদেশ পরিচালিত হলে তখনই অর্থনীতি এমন শক্তিশালী অবস্থানে যাবে যে তা আর নষ্ট করা যাবে না। অর্থাৎ বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য আগামী পাঁচ বছর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আগামী পাঁচ বছরে এই অর্থনীতির ভিত্তিটি এমনভাবে জমাট বাঁধানো দরকার যাতে ভবিষ্যতে কোনদিন কেউ এটা নষ্ট করতে না পারে।

অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেন ও আবুল মাল আবদুল মুহিতের কথা থেকে যেমন জেনেছি, তেমনি রাষ্ট্রবিজ্ঞানও এ কথা বলে যে- কোনও রাষ্ট্রের অর্থনীতি বির্নিমাণ নির্ভর করে ওই দেশের নেতার ওপর বা রাষ্ট্রনায়কের ওপর। সে হিসেবে বাংলাদেশের জন্য সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে আগামী পাঁচ বছর দেশটির নেতৃত্ব কে দেবেন? আগামী পাঁচ বছরে নেতৃত্ব কে দেবেন এ প্রশ্নটি স্বাভাবিকভাবে সামনে এসেছে যেহেতু ৩০ ডিসেম্বর সাধারণ নির্বাচন। মানুষ ওই নির্বাচনের মাধ্যমে দেশের জন্য আগামী পাঁচ বছরের নেতা নির্বাচন করবেন।

মানুষ সাধারণত নেতা নির্বাচনে বা ভোট দিতে ভুল করে না। তারপরেও আমাদের এই বাংলাদেশে ভুল ভোট দেবার উদাহরণ আছে। এই পূর্ববাংলার মানুষই ১৯৪৬ সালে পাকিস্তানের পক্ষে ভোট দিয়েছিল। যে ভুল সংশোধন করতে ১৯৭১ সালে ত্রিশ লাখ মানুষকে জীবন দিতে হয়, সাড়ে ছয় লাখ মা-বোনকে ইজ্জত দিতে হয়। এ কারণে যে কোনও নির্বাচন এলে তার আগে সতর্ক হওয়া উচিত।

কোনওমতেই কমিউনিস্ট নেতা সাইফুদ্দিন আহমেদ মানিকের ওই সস্তা স্লোগানে মেতে, ‘আমার ভোট আমি দেব, যাকে খুশি তাকে দেব’ এভাবে ভোট দেওয়া উচিত নয়। কারণ, একটা ভোট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যদি ভুল ভোট দেওয়া হয় তাহলে অনেক বিপর্যয় নেমে আসে। বাংলাদেশের গত দশ বছরে যে উন্নয়ন হয়েছে, দেশের মোট ৪৭ বছরের বাদ বাকি ৩৭ বছরে সে উন্নয়ন হয়নি। সত্যি অর্থে অর্থনৈতিক মুক্তির স্বাদ বাংলাদেশের মানুষ কেবল পেতে শুরু করেছে।

১৯৭১ সালের ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম’। বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতা দিয়ে গিয়েছিলেন, কিন্তু তার মুক্তির সংগ্রাম কথার ভেতর যে অর্থনৈতিক মুক্তির কথা ছিল তা তিনি দিয়ে যাবার সুযোগ পাননি। অর্থনৈতিক মুক্তির কর্মসূচী তিনি যখনই হাতে নিয়েছিলেন তখনই দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্রকারীরা তাকে হত্যা করে। তার পরে দীর্ঘ পথপরিক্রমায়, গত দশ বছরে তার কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ এই প্রথম অর্থনৈতিক মুক্তির স্বাদ পেতে শুরু করেছে। আর দেশের মানুষ কেবলই অর্থনৈতিক মুক্তির স্বাদ পেতে শুরু করেছে। অর্থনীতি বর্তমানে এমন একটি অবস্থানে দাঁড়ানো যে আর পাঁচ বছর এই গতিতে চললে, একটি শক্ত কাঠামোর ওপর দাঁড়াবে। তখন এই অর্থনীতি আর নষ্ট করা যাবে না।

এমন সময়েই দেশের সামনে সাধারণ নির্বাচন। তাই এই সাধারণ নির্বাচনে দেশের কোনও মানুষেরই ভোট দিতে ভুল করার কোনও সুযোগ নেই। ভোট দিতে, নেতা নির্বাচন করতে ভুল করলেই দেশের অর্থনীতি ধ্বংস হয়ে যাবে। দেশের মানুষকে অত্যন্ত শান্ত মাথায় বুঝে শুনে ভোট দিতে হবে। এখানে কোন ফালতু আবেগ, অনুভূতির জায়গা নেই। এখানে দেশের স্বার্থ, দেশের ষোলো কোটি মানুষের স্বার্থ বিবেচনা করেই ভোট দিতে হবে প্রতিটি মানুষকে। সেভাবেই তাদের দেশের নেতা নির্বাচন করতে হবে।

বাংলাদেশের মতো একটি সামরিক শাসক-লাঞ্ছিত দেশে নির্বাচন সামনে এলেই সমাজে ও রাজনীতিতে নানান মেরুকরণ হয়, অনেক রাজনৈতিক শক্তি, অপশক্তির উত্থান তখন দেখা যায়। তারা গণতন্ত্রের উদারতার সুযোগ নেয়। এবারও তার ব্যক্তিক্রম হয়নি। এবার নানান মেরুকরণ ও অপশক্তির উত্থানের ভেতর দিয়ে দেখা যাচ্ছে, বাংলাদেশে শেখ হাসিনার বিপরীতে আরও তিনজন নেতা হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন। এর ভেতর দু’জন আগে থেকেই ছিলেন, একজন সময়ের সুযোগ নিয়ে সামনে এসেছেন। শেখ হাসিনার বিপরীতের এই তিনজন হলেন, খালেদা জিয়া, তারেক রহমান ও ড. কামাল হোসেন। তিনজনই একই প্ল্যাটফর্মে।

তাদের ভেতর কে নেতা তা তারা এখন প্রকাশ করছেন না। এখানে তারা একটা ধোঁয়াশা রেখে যাচ্ছেন সব সময়ই। তারা কিন্তু না বুঝে এই ধোঁয়াশা সৃষ্টি করছেন না। তারা বুঝেই করছেন। কারণ, কোনও একজনকে নেতা ঘোষণা করলে সঙ্গে সঙ্গে তাকে নিয়ে মানুষ তুলনা করবে শেখ হাসিনার সঙ্গে। মানুষ তখন বিচার করে দেখবে শেখ হাসিনার বিপরীতে তাকে দাঁড় করানো যায় কিনা? ড. কামাল ও তার সঙ্গী তারেক রহমান ও খালেদা জিয়া এবং তাদের সহযোগী ফখরুলরা ভাল করে জানেন, মানুষ যদি সরাসরি তারেক, কামাল ও খালেদা এই তিন জনের কাউকে হাসিনার সঙ্গে তুলনা করে সেখানে শতকরা শতভাগ মার্কই পাবেন শেখ হাসিনা।

তাই নেতৃত্ব বিচারে তারা হেরে যাবেন প্রথম রাউন্ডেই। এ কারণে তারা দলকে ও প্রতীককে সামনে আনছে। এভাবেই তারা মানুষকে ধোঁকা দেবার চেষ্টা করছেন। যেমন তারা যদি তারেক রহমানকে সামনে আনেন, তাহলে বিষয় কী দাঁড়ায়? তারেক রহমান আমেরিকার স্টেট ডিপার্টমেন্ট থেকে শুরু করে প্রতিবেশি দেশের কাছেও একজন আন্তর্জাতিক মাপের সন্ত্রাসী হিসেবে চিহ্নিত। আমেরিকান স্টেট ডিপার্টমেন্টের রিপোর্টে বলা হয়েছে, তাকে আমেরিকায় ঢুকতে দিলে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে আমেরিকার অর্থনীতি ধ্বংস করার মতো কাজ করবে। প্রতিবেশি দেশের কাছে তারেক রহমান পরিচিত, জঙ্গি সন্ত্রাসী নেতা হিসেবে ও অস্ত্র চোরাচালানি হিসেবে। তাছাড়া খালেদা জিয়ার আমলের মুখ্য সচিব কামাল সিদ্দিকী জনকণ্ঠে দেওয়া সাক্ষাতকারে বলে গেছেন, তারেক রহমানের ঘুষের চাহিদা মেটাতে গিয়ে বিএনপি আমলে নতুন কোনও বিদ্যুতকেন্দ্র গড়া সম্ভব হয়নি।

শুধু এ নয়, মিডিয়ায় দেওয়া বি ডি রহমতউল্লাহর তথ্য মতে, কুইক রেন্টাল বিদ্যুত কেন্দ্র গড়ার সিদ্ধান্তও বিএনপি আমলে নেওয়া হয়েছিল। খোঁজ নিলে সকলে জানতে পারবেন, কেবলমাত্র তারেক রহমানের ঘুষের চাহিদা মেটাতে গিয়ে সে সিদ্ধান্ত কার্যকর করা সম্ভব হয়নি। তাই এ ধরনের আন্তর্জাতিক মাপের সন্ত্রাসী নেতা ও দুর্নীতিপরায়ণকে আর যাই হোক কোনও দেশের নেতা হিসেবে কোন মানুষ গ্রহণ করতে পারে না। তাতে মঙ্গলের বদলে দেশ ক্ষতিগ্রস্ত শুধু নয়, ধ্বংস হয়ে যাবে।

এর বিপরীতে খালেদা জিয়ার দশ বছরের প্রধানমন্ত্রিত্ব করার অভিজ্ঞতা আছে। কিন্তু বর্তমানে বাংলাদেশের অর্থনীতি যেখানে চলে গেছে, আর যে গতিতে চলছে সেখানে খালেদা জিয়ার কিছুই করার নেই। কারণ, বর্তমানের অর্থনীতি বির্নিমাণে শেখ হাসিনার প্রতিনিধি হিসেবে, তার পরিকল্পনা যিনি বাস্তবায়নে কাজ করেছেন, সেই অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেছেন, খালেদা জিয়ার নেতৃত্ব দুর্বল ও অশিক্ষিত। তারপরে তিনি দুর্নীতেপরায়ণ। তাই বর্তমানের মধ্য আয়ের বাংলাদেশের নেতৃত্ব কোনওমতে একজন অশিক্ষিত, দুর্নীতিপরায়ণ ও দুর্বল নেতার হাতে তুলে দেওয়া যায় না। তুলে দিলেই তিনি দেশকে ধ্বংস করে ফেলবেন। তাছাড়া খালেদার বকলমে নেতা হবে তারেক রহমান। তাই এ দু’জনের পরে থাকেন এই প্ল্যাটফর্মের নতুন নেতা ড. কামাল হোসেন। ড. কামাল হোসেন রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে, আন্তর্জাতিক খ্যাতিতে ও যোগ্যতায় কোনও মাপেই শেখ হাসিনার ধারে কাছে আসেন না। ড. কামালের রাষ্ট্রক্ষমতা সম্পর্কে জ্ঞান মাত্র আড়াই বছরের মন্ত্রিত্ব। এর বিপরীতে শেখ হাসিনার পনেরো বছরের প্রধানমন্ত্রিত্বের অভিজ্ঞতা ও তেরো বছরের বিরোধী দলীয় নেতার দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা। আর আন্তর্জাতিক খ্যাতিতে এখন বিশ্বের তিন/চারজন রাষ্ট্র নায়কের পরেই শেখ হাসিনার অবস্থান। সাউথ এশিয়ায় তিনিই মূল নেতা। অন্যদিকে ড. কামাল বিদেশে কিছু মামলা করেন। এই তার আন্তর্জাতিক খ্যাতি। সেটা রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে নয়, একজন আইনজীবী হিসেবে। এ রকম আইনজীবী আমাদের এখন অনেক আছেন। কিন্তু শেখ হাসিনা একজন। তাছাড়া সম্প্রতি ড. এমাজউদ্দিন ও খন্দকার মোশাররফের ফাঁস হয়ে যাওয়া ফোনালাপে এমাজউদ্দিন বলেছেন, ড. কামালের বয়স হয়ে গেছে। বাস্তবেই তার বয়স হয়ে গেছে। তার বয়স তাকে এই পর্যায়ে নিয়ে গেছে যে, তিনি সুপ্রিম কোর্টের এজলাসে প্রকাশ্যে অ্যাটর্নি জেনারেলকে ‘বাস্টার্ড’ বলে গালি দিয়েছেন। এর থেকে বোঝা যায় বয়স তাকে এখন সুস্থির অবস্থান থেকে বিকৃত অবস্থানে নিয়ে গেছে। তাছাড়া এও সত্য কামাল হোসেন জীবনে নিজে কখনও নেতা নন, তিনি বঙ্গবন্ধুর ব্যক্তিগত সহকারী হিসেবে কাজ করেছেন আর শেখ হাসিনার নেতৃত্বে কাজ করেছেন। এখন তারেক রহমানের নেতৃত্বে কাজ করছেন।

তারেক রহমানের নেতৃত্ব মেনে নেবার ভেতর দিয়ে ড. কামাল প্রমাণ করেছেন, তিনি একজন নীতিহীন মানুষ। মুখে তিনি যা বলেন বাস্তবে তা নয়। তাছাড়া তারেক যা করে সবই পাকিস্তানের আইএসআই-এর নির্দেশে। ড. কামালের এই তারেকের কাছে আত্মসমর্পণ কি একই স্থানের নির্দেশে নয়!

তাই দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের ধারা বজায় রাখতে হলে- বাংলাদেশে শেখ হাসিনার এক শ মাইলের ভেতর বর্তমানে কেউ নেই। কেউ তার মতো যোগ্য ও নীতিবান নেতা নন। এ কারণেই ৩০ তারিখ দেশের মানুষকেও এমন সিদ্ধান্ত নিতে হবে যেন শেখ হাসিনার এক শ মাইলের সার্কেলের কাছাকাছি ওই সব দুর্নীতিপরায়ন ও নীতিহীন নেতারা কেউ না আসতে পারে। কোনও মানুষ যেন নিজ চিন্তায় তাদেরকে স্থান না দেন। এটা শেখ হাসিনার স্বার্থে নয়, দেশের স্বার্থে। বাংলাদেশে এখন শেখ হাসিনাকে ভোট দেওয়া মানে কোনও দলকে ভোট দেওয়া নয়, দেশের পক্ষে, উন্নয়নের পক্ষে ভোট দেওয়া।

শেখ হাসিনার পক্ষে যদি কেউ ভোট দিতে বলেন, তাকে দলীয় ব্যক্তি বলারও কোন সুযোগ নেই। বরং বুঝতে হবে, তিনি দেশের পক্ষে বলছেন।

স্বদেশ রায়সাংবাদিক

৩১ Responses -- “শেখ হাসিনাকে ভোট দেওয়া মানে দেশের পক্ষে ভোট দেওয়া”

  1. আদিব

    শেখ হাসিনাকে কেউ ভোট দিতে বললেই উক্ত ব্যাক্তি দেশের স্বার্থে কথা বলেন বা কাজ করেন বলে ধরে নিতে হবে, আপনার এই কথার সাথে সহমত নই, বাচ্চাদের স্কুলে ক্লাস নিচ্ছেন না আপনি।। অন্য সবার মত স্বীকার করতে বাধ্য হচ্ছি যে আপনার লেখায় তেলের পরিমাণ বেশি হয়ে গেছে, কারণ বদহজম হচ্ছে। চারিদিকে মাছির ভনভন এত বেশি যে ভাল মিষ্টি থেকে খারাপটা আলাদা করা অসম্ভব হয়ে উঠেছে সাধারণ মানুষের পক্ষে।

    Reply
  2. Mahfuzur Rahman

    ১.পুরা বাংলাদেশ এর পণ্য বাজারটা ভারতকে খুলে দেওয়া হয়েছে কিন্তু বাংলাদেশী পণ্যের অবস্তা ভারতে কেমন তা সবার জানা
    ২ .রামপাল কয়লা বিদ্যু কেন্দ্রের ভয়াবহতা ও ক্ষতি সম্পর্কে ক্লাস ২ এর বাচ্চাটা পর্যন্ত জানে
    ৩. বাণিজ্য ঘাটতি সবচেয়ে বেশি বন্ধু মারকা ভারত এর সাথে
    ৪. পার্বত্য সন্ত্রাসীদের মদদ দান কিন্তু উল্টা বাংলাদেশ তাদের সন্ত্রাসী দমন করেছে সেভেন সিস্টারে
    ৫. হোলি আরটিজেন এ ভারত জড়িত কেন? বিনিয়োগ কমানোর জন্য ।পোশাক খাতে ধস নামনো জন্য
    ট্রানজিট,ক্রিকেটে মাস্তানি , সীমান্ত সন্ত্রাসের কথা ইত্যাদি ইত্যাদি নাই বা বললাম ।

    Reply
    • Raihan

      সমস্যা গুলোর সমাধান কি সরকার পরিবর্তন হলেই হয়ে যাবে???
      ভারত চীন,জাপান,আমেরিকার মতো দেশের সাথে বাণিজ্যে প্রতিযোগীতা করছে সেখানে বাংলাদেশ খেলতে গেলে ইনিংস এবং ১৮৪ রানে হারবে।

      Reply
  3. সোহেল

    আপনার লেখা পড়ে লালসালু উপন্যাসের মজিদের কথা মনে পড়ে গেল। সকল অপকর্মের ঢাল হিসেবে যেমন ধর্মকে ব্যাবহার করতেন, তেমনি আপনারা ব্যাপক অপকর্ম করার পরেও চেতনার কথা বলে সবকিছু আড়াল করতে চান। আমি আওয়ামী লীগকে ভালোবাসি কিন্তু একদলীয়ও শাসন মনে প্রাণে ঘৃণা করি। কারণ সবার উপরে আমার প্রাণের বাংলাদেশ।

    Reply
  4. সেলিম

    আপনার লেখা পেলে না পড়ে থাকতি পারিই না। এত যে মধুময়, তৈলাক্ত লেখা পড়তেও বেশ আরাম লাগে।
    তবে এ গরীবের কিছু বিনিয়োগ ছিলো শেয়ার বাজারে। এ টাকাগুলো হাওয়া হয়ে গেলো। এখন শুনি শেয়ার বাজার লুটকারী সে দরবেশ বাবাও নাকি দেশের সবচেয়ে গরীব মানুষ।
    চালিয়ে যান দাদা। জীবনে যত নুন খেয়েছেন- এখন একটু গুণ না গাইলে কখন গাইবেন?

    Reply
    • রাসেল গৌড়া

      দারুণ, আপনার মন্তব্য পড়ে না হেসে পারলাম না। আসলে লেখক যে মন্তব্য করেছেন আমি তার সাথে সহমত পোষণ করি এ কারণে যে এখন যদি বর্তমান সরকার আবার ক্ষমতায় আসতে না পারে তবে দেখবেন সব চিন্তা চেতনার চেয়েও বেশি আফসোস করবেন তারেক এর শোষণে। আমি একজন সাধারণ নাগরিক এর মত ভেবেছি ওরাই খাবে, আপনি ভাগে পাবেন না মধ্য থেকে নতুন খাওয়ার নেতা আসলে দেখবেন খেয়ে দেশ আবার দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন বানাবে, আশাকরি কথাগুলো আবেগ দিয়ে না ভেবে বাস্তবতা দিয়ে ভাববেন।

      Reply
  5. কানিজ সুবর্ণা

    এইরকম নির্লজ্জ আর সস্তা দালালি আগে কখনো দেখিনি। ধিক্কার জানাই এই অপলেখককে। ন্যূনতম হায়াজ্ঞান তথা আত্মসম্মানবোধ থাকলে কেউ এরকম চাটুকারিতাপূর্ণ লেখা লিখতে পারে না।

    Reply
    • বিপুল

      আপনিও তো দালালদের দলেই গেলেন। কারণ এই সরকার ছাড়া এত উন্নয়ন আপনার দালালীপনার কোন সরকার করেছে? মূলত আপনাদের মত দালাল অন্যের ভাল করা দেখতে পারেন না।

      Reply
  6. অজিতকুমার রায়

    হিটলারের ভাষা স্বদেশ রায়ের মুখে? বিচিত্র এ দেশ! স্বদেশ রায়ের ভয়টা খুব অস্পষ্ট নয়। তিনি দেয়ালের লেখা পড়তে পেরেছেন যে এবার সাধারণ মানুষ নৌকার পক্ষে নেই। এই ভয়ের তাড়নায় তিনি খোঁড়া, এমনকি আপত্তিকর যুক্তিতে সমীকরণ টেনেছেন, দেশ=শেখ হাসিনা। — আরে পাগল, তা কি করে হয়? এ তো নাজীদের সমীকরণ: হিটলার = জামার্নী। — আমার একটিই আবেদন: আমাকে নির্বিঘ্নে ভোটকেন্দ্রে যেতে দিন, আমার ভোট আমাকে দিতে দিন, আমার ভোট যেন সঠিকভাবে গণনায় আসে তা নিশ্চিত করুন। – অজিতকুমার রায়

    Reply
  7. আবু সালেহ

    দেশটি কাহারো পৈতৃক সম্পত্তি নহে। দাদার কথা সত্য বটে যদি ধরে নেই বাকশাল নামক অভিশাপটি এখনও জীবিত আছে। শেখ মুজিব কিন্তু দাদাদেরকে চাটার দল বলিতেন।

    Reply
  8. Ashikur Rahman

    দাদা শুধুমাত্র অর্থনীতির উন্নতি দেখলেতো হবে না, সাথে একটু অন্য কিছুও দেখতে হবে। সে এত বছর ধরে শুধু উন্নয়ন আর উন্নয়ন শুনে আসছি। একথা তো একটিবারের জন্যও শুনিনি যে আমরা দেশে শান্তি প্রতিষ্ঠা করেছি। অবশ্য বলার মুখ থাকলে তবেই না বলবে। এদেশের মানুষ ১৯৭১ সালে যুদ্ধ করেছিলে পশ্চিম পাকিস্তানিদের অন্যায়, অত্যাচার ও জুলুম, নির্যাতন থেকে বাঁচার জন্য। এখনো যদি সেই জুলুম,নির্যাতন সহ্য করা লাগে চলে সেই অশান্তি, তবে কি লাভ হলো স্বাধীনতা পেয়ে। শত উন্নয়ন না করেও যদি এদেশে শান্তি প্রতিষ্ঠা হত, তখন এদেশের শান্তিপ্রিয় মানুষ তাতেই সন্তুষ্ট থাকতো। যদি দেশ অন্যায় অত্যাচারে নিমজ্জিত থাকে, তবে কি হবে এই উন্নয়ন দিয়ে।

    Reply
  9. Not applicable

    again another author cleverly avoided all the corruptions. very funny. if she win the election, she will have to be very lucky because too many corruptions behind her development. it’s a record. she could easily stay in power for another 10 or even 20 years( if she lives as mohathir muhammad) but the corruptions will never be removed, these will stay as highlighted forever.

    Reply
  10. মিঠু হোসেন মিঠু

    স্পষ্ট স্বাধীনতার পক্ষ শক্তি
    স্বাধীনতার বিপক্ষ শক্তি
    সিদ্ধান্ত আপনার

    Reply
  11. নকিবউদ্দিন

    তাহলে তো এটা হল, তিনি equal to Bangladesh.
    তিনিই নির্বাচন কমিশন, তিনিই রাষ্ট্র।ভোটের কি দরকার?

    Reply
    • sheikh asman

      শেখ হাসিনা দেখিয়ে দিচ্ছে নির্বাচিত সরকারই সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন করে নির্বাচিত সরকারের কাছে কিভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর করা যায়। এর জন্যই নির্বাচন…

      Reply
      • Not applicable

        yeah sure ..let me ask you a question. try to take your video camera with you to take our own video while you are giving your vote. you never know, your own vote might be valid or invalid. your presiding officer will be glade what you did…

    • Bongo Raj

      Your temptation is a singular equation!
      A singular equation is one which does not have any clearcut solution/answer ( in social issue sense)!!.
      I mean, making such a comment is sort of hoaxing.

      Reply
  12. সৈয়দ আলি

    তথাকথিত উন্নয়নের বিলাপের বিপরীতে অনুন্নয়ন ও লুন্ঠনের তালিকাও পাঠ জরুরী:
    – ছয় লক্ষ কোটি টাকা পাচার
    – এশিয়াতে সেতু ও মহাসড়ক নির্মানে ৬ গুন বেশী ব্যয়
    – পরিবেশ- প্রতিবেশ ধ্বংস করে শিল্প কারখানার অনুমতি প্রদান
    – বিশ্ব ব্যাঙ্কের কাছ থেকে বিপুল ঋণ গ্রহন
    – মালয়েশিয়া ও বিদেশের অন্যত্র সরকারি দলের নেতাদের সম্পত্তি ক্রয়
    – নির্বিচারে ভারতকে আর্থিক সুবিধা দেয়া
    উন্নয়ন হলো কি? জুতা চেটে কলাম লিখলেই তা’ সত্য হয়না।

    Reply
  13. Hasib Hasan

    জনাব স্বদেশ বায়, আর কত চাটুকরিতা করবেন? হাসিনাকে ভোট দিলেই দেশের পক্ষে দেওয়া, কি অপুর্ব থিওরি আপনাদের মত চাটুকরদের!

    Reply
    • sheikh asman

      স্বদেশ রায় ঠিকই ধরেছেন, তিনি এমন একজন লোকের সাপোর্ট করছেন যার পিতাই দেশের জন্ম দিয়েছেন।

      Reply
  14. Shamim Khan

    Well said, dear Swadesh Roy. At times. the shadow of the leader encompasses remotest grooves of the map. It happened in Bangladesh in 1971, before our war of liberation. The nation was united behind Bangabandhu Sheikh Mujibur Rahman for the cause of independence. Right now, a very similar situation prevails. An impulse of patriotism is vibrating the nation. It is all because of Sheikh Hasina, the famous leader, and daughter of the father of our nation.
    In the month of victory, we will be waiting for another victory( the national election 2018).
    Joy Bangla.

    Reply
  15. Puloq Arafat

    অত্যন্ত গঠনমূলক সমালোচনা করেছেন। আরও ভালো লেখার প্রত্যাশা করি।
    ধন্যবাদ আপনাকে। ভালো থাকবেন।

    Reply
  16. Mute Spectator

    “কোনওমতেই কমিউনিস্ট নেতা সাইফুদ্দিন আহমেদ মানিকের ওই সস্তা স্লোগানে মেতে, ‘আমার ভোট আমি দেব, যাকে খুশি তাকে দেব’ এভাবে ভোট দেওয়া উচিত নয়। কারণ, একটা ভোট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যদি ভুল ভোট দেওয়া হয় তাহলে অনেক বিপর্যয় নেমে আসে।”

    স্বদেশ বাবু আপনি বলতে চাচ্ছেন কেউ নিজের খুশিমত ভোট দিতে পারবে না। আপনি আশা করছেন শেখ হাসিনা আপনার এই লেখা পড়বেন, পুলকিত
    হবেন এবং আপনাকে পুরস্কৃত করবেন। শাবাস!!!

    Reply

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। প্রতিক্রিয়া লেখার সময় লক্ষ্য রাখুন--

  • ১. স্বনামে বাংলায় প্রতিক্রিয়া লিখুন।
  • ২. ইংরেজিতে প্রতিক্রিয়া বা রোমান হরফে লেখা বাংলা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না।
  • ৩. প্রতিক্রিয়ায় ব্যক্তিগত আক্রমণ গৃহীত হবে না।

দরকারি ঘর গুলো চিহ্নিত করা হয়েছে—