বছর চারেক আগে আমার সহপাঠিরা বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ চুকিয়েছে। এদের মধ্যে মাত্র ১৫ শতাংশ চাকরি বা কর্মসংস্থান খুঁজে পেয়েছে আর অন্যরা সব সরকারি কর্ম কমিশনের বিসিএসে পরীক্ষার পিছনে ছুটছে।

কারণ কী? বিসিএস আমাদের কেন টানছে?

কারণ, প্রথম শ্রেণির সরকারি কর্মকর্তারা মূলত বেতনের সাথে সাথে চিকিৎসা ভাতা, উৎসব ভাতা, ভ্রমণ, বাড়ি ভাড়া, কাপড় পরিষ্কার করার ভাতা, প্রেষণভাতা, আপ্যায়ন ভাতা, যাতায়াত ভাতা, টিফিন ভাতা,ঝুঁকিভাতাসহ নানাবিধ সুবিধায় হাবুডুবু খায়।

অথচ, বেসরকারি চাকরিদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোতে এইসব ভাতা তেমন একটা নেই। কিছু কিছু প্রতিষ্ঠান দেয়ার চেষ্টা করলেও সিংহভাগ বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে এই ধরনের সহায়ক ভাতা চাকরিরতরা পান না বলে নজির রয়েছে।

ফলে, নিরাপদ জীবিকা নির্বাহের মোক্ষম হাতিয়ার হিসেবে সরকারি চাকরি ব্যবস্থাকে সবার উপর রাখে আমাদের তরুণ প্রজন্ম।

তাই বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়াদের প্রধান লক্ষ্য হলো, যে করেই হোক বিসিএস ক্যাডার হতে হবে, যা হতে না পারলে তাদের জীবনটাই বৃথা। এমন দৃঢ় মনোবল নিয়ে শুরু করা কর্মজীবনের প্রবেশের পরীক্ষার তালিকায় শুধু আমার সহপাঠিই নয়, বাংলাদেশের লাখ লাখ স্নাতক/স্নাতকোত্তর পাসকৃতরা চোখ বন্ধ করে, আমেরিকার প্রেসিডেন্টের নাম কিংবা হনুলুলুর নাম মুখস্ত করে দিনের পর দিন বিসিএস পিছনে ছুঁটছে। বিসিএস ক্যাডার হওয়ার মানে জীবনের সব সফলতা হাতের মুঠোয় ধরা দেয়া। সরকারি চাকরিতে শুধু বেতন নয়, ক্ষমতার দাপট মেলে ধরার অন্যতম কৌশলও বটে।

বাংলাদেশ সরকারি কর্মকমিশনের ইতিহাসে সর্বোচ্চ সংখ্যক, প্রায় চার লাখ আবেদন পড়ে সর্বশেষ ৩৮তম বিসিএস পরীক্ষায় যার পদ সংখ্যা ছিল মাত্র ২ হাজার ২৪টি। বিপুল সংখ্যক এই পরীক্ষার্থীদের মধ্যে থেকে বিসিএসে নিয়োগের পর বাকিরা ফের পরবর্তী বছরের বিসিএসের পেছনে দৌড়ান। অন্তত শিক্ষা জীবন সমাপ্ত করে অন্তত ৪ থেকে ৫ বার বিসিএস পরীক্ষায় অংশ নিয়েও যখন টিকতে পারছেন না তখন এই বিপুল সংখ্য জনগোষ্ঠীর চাকরি বয়স বৃদ্ধির আন্দোলনে শরীক হচ্ছেন।

দাবি উঠছে ৩৫ বছর পর্যন্ত সরকারি চাকুরির বয়সসীমা করার। কিন্তু এই দাবিগুলো কেন? কেন আমরা বিসিএস ক্যাডার হওয়ার ব্যাপার মোহাবিষ্ট হয়ে পড়ছি?

বাংলাদেশের প্রচলিত শিক্ষা ব্যবস্থার রেখা অনুসরণ করলে দেখা যাবে, একজন শিক্ষার্থী এসএসসি ১৫-১৭ বছরে, এইচএসসি ১৮-২০ বছরে আর বিশ্ববিদ্যালয় পাস করে তার বয়সের কোঠা গিয়ে ঠেকে ২৪-২৫ বছরে। সেশন জটের কবলে পড়লে সেটা দুই এক বছর দীর্ঘায়িত হয় বটে। এই যুবক বয়সে চাকরি পরীক্ষার জন্য পড়াশোনা আর পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে গিয়ে হারিয়ে যাচ্ছে আরো ৪/৫ বছর। আর সেটা যদি হয় বিসিএস, তাহলে তো আর কথাই নেই। সরকারি চাকরির আশা বাদ দিয়ে হতাশায় হাবুডুবু খেতে খেতে অনেকের মনে হচ্ছে, যেকোনও খড়কুটা ধরতে পারলে বুঝি বেঁচে থাকার স্বাদ পাওয়া যাবে।

ঠিক এমনই ঘটনা ঘটছে বাংলাদেশের ২৫ থেকে ৩১ বছর বয়সী যুবক-যুবতীদের। বিশ্ববিদ্যালয়ে বিজ্ঞানে সেরা ছাত্রটি, প্রকৌশল কিংবা মেডিকেলের ছাত্রটিও বিসিএস স্বপ্নে বিভোর। যাদের আবার পছন্দের তালিকায় রয়েছে প্রশাসনিক ক্যাডার।

আমার ভাবতে অবাক লাগছে, যে ছেলেটি বা মেয়েটি ডাক্তারি কিংবা প্রকৌশল পাস দিলো, সে কিনা প্রশাসনের কোনও বড়কর্তা হওয়ার বাসনায় তার অর্জিত বিষয়ভিত্তিক জ্ঞানকে বাংলা, ইংরেজি আর সাধারণ জ্ঞান চর্চার মধ্যে হাওয়া করে দিলো!

যে ছেলেটি বায়োক্যামিস্ট্রি কিংবা মাইক্রোবায়োলজিতে সর্বোচ্চ ফল করলো, সে কিনা কাস্টমস কর্মকর্তা হওয়ার জন্য উঠে পড়ে লাগছে!

কিন্তু কেন? তাদের উচ্চশিক্ষা, গবেষণা করা লক্ষ্য হওয়া উচিত ছিল, কিন্তু তারা সেদিকে না ঝুঁকে বিসিএস ক্যাডার হওয়ার ভূত তাদের মাথায় কেন চেপে বসছে?

ঠিক এইভাবেই আমাদের সৃজনশীলতা হারিয়ে লক্ষ্যহীন হয়ে পড়ি তা কেউ জানে না। ছোটকালে আমাদের যে স্বপ্নগুলো চোখের আশেপাশে ঘুরঘুর করতো তা বড় হওয়ার সাথে সাথে লাপাত্তা হয়ে যায়।

আমাদের দেশে বিশ্ববিদ্যালয়ে যারা পড়ছে, তাদের অধিকাংশই মনের বিরুদ্ধে পড়াশোনা করেন। এখানে কেউই আগে থেকে নিজেদের কাঙ্ক্ষিত সাবজেক্টে পড়ার সুযোগ পান না। ইঞ্জিনিয়ারিং কিংবা মেডিকেল কলেজে যারা পড়াশোনা করে তাদের সিংহ ভাগই বাবা-মার স্বপ্ন পূরণ করতে পড়তে যায়। খুব কম সংখ্যক আছেন, যারা নিজেদের মধ্যে সেখানে পড়াশোনা করার ইচ্ছা পোষণ করে। অনেকটা অ্যাকসিডেন্টালি পড়াশোনা করছে।

ঠিক তেমনি, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে কম সংখ্যক শিক্ষার্থীই আছেন, যারা নিজেদের আত্মিক ভালো লাগার বিষয়গুলোতে পড়াশোনা করছেন। আমরা মূলত একটি চাকরি পাওয়ার আশায় তীব্র প্রতিযোগিতার মাঠে নিজেদের সমাজে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার নেশায় মত্ত থাকি।

আমরা কেউই ছোটবেলা থেকে রাজনৈতিক হওয়ার স্বপ্ন দেখি না, গবেষক হওয়ার চিন্তা রাখি না, ভালো ব্যবসায়ী হওয়ার চিন্তা করি না, সাংবাদিক হওয়ার আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করি না, শিক্ষক কিংবা কৃষক হওয়ার ভাবনা আসে না। মনের ভালোবাসা থেকে প্রাপ্ত পেশার সংখ্যা হাতে গুণতে পাওয়া যায়।

২০১৫ সালে জাপানের আডিকো গ্রুপ এশিয়ার সাতটি দেশে জরিপ চালিয়েছিল। সেখানে ৬ থেকে ১৫ বছর বয়সী শিশুদের জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, তারা বড় হয়ে কী হতে চায়? জাপানি শিশুরা উত্তর দিয়েছিল, তারা কোম্পানির চাকরি, ফুটবল খেলোয়াড়, সিভিল সার্ভিস ও বেইসবল খেলোয়াড় হতে চায়।

মজার বিষয় হলো এরা কেউ ডাক্তার কিংবা ইঞ্জিনিয়ার হতে চায়নি।

বছর খানেক আগে আমার কয়েকজন সহপাঠিকে জিজ্ঞাসা করেছিলাম, সে সরকারি চাকুরি করতে আগ্রহী কি না?

ওদের উত্তরে যা পেলাম তা সত্যিই আমি আশা করিনি। সরাসরি বলে দিলো- না।

আমি এরপর জিজ্ঞাসা করলাম, কেন নয়?

তারা বললো, সরকারি চাকরি আর বেসরকারি চাকরির তফাৎ কোথায়? সরকারি চাকরিতে ঢুকলে যে বেতন পাওয়া যাবে, বেসরকারি চাকরিতে তা প্রায় সমান। তবে বেসরকারি চাকরিতে সুযোগ-সুবিধাই বেশি। অযথা সময় নষ্ট করে সরকারি চাকুরির পেছনে দৌড়ানো জাপানি শিক্ষার্থীদের অভ্যাস নয়। তাছাড়া, প্রশাসনিক চাকরি মূলত পাবলিক আডমিনিস্ট্রেশন কিংবা এই সম্পর্কিত বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় পাশকৃতদেরই জন্য। আমাদের চাকরিতে বৈচিত্রতাই বেশি।

শুধু জাপান নয়, একটু স্বচ্ছল দেশগুলোর সরকারি কিংবা বেসরকারি চাকরির তারতম্য খুঁজে বের করা কঠিন। বেতনে সাম্যাবস্থা থেকে শুরু করে যাবতীয় মহার্ঘ্য ভাতায় সম-অধিকার থাকে বেসরকারি চাকরিদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোতে। ফলে এইসব দেশগুলোতে সরকারি কিংবা বেসরকারি পদের বিশেষ পার্থক্য থাকে না।

একথা নি:সন্দেহে মেনে নেওয়া জরুরি, যেকোনও দেশে প্রশাসনিক চাকরির একটা বিশেষ মর্যাদা যেমন আছে, তেমনি নন-গর্ভমেন্ট পদ হোল্ডারদের বৈষম্যের চোখে দেখা হয় না।

তবে উল্টো ঘটনা কেবল আমাদের দেশে। এখানে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে চাকরির নিরাপত্তাহীনতা যেমন ওত পেতে থাকে তেমনি, সরকারি চাকরি থেকে বৈষম্যতা বেশ পরিলক্ষিত হয়। ফলে, সরকারি চাকরি সবার কাছে সোনার হরিণই বটে।

বায়োলজিক্যাল সায়েন্সে ‘সিঙ্গুলারিটি’ নামে একটি বিশেষ টার্ম আছে, যার অর্থ হল, ক্ষুদ্র কোনও জিনিসের পেছনে  ছুটে সেই কেন্দ্রিক হয়ে পড়া। ঠিক তেমনি, দেশের শিক্ষার্থীদের কাছে বিসিএস ‘সিঙ্গুলারিটি’ হয়ে উঠেছে।

যে শিক্ষার্থী বিসিএসের জন্য ৪/৫ বছর দৌড়ে যখন কোন ফল পেলেন না, তখন তাকে অমেধাবী বলে আখ্যা দান মোটেই সমীচীন বলে আমি মনে করি না। কেবল মাত্র, কিছু মুখ্যস্তবিদ্যায় অকৃতকার্য হয়ে মেধা নেই নেই বলে তাদেরকে অবহেলা করার সুযোগ নেই।

চার লাখ পরীক্ষার্থী থেকে যদি প্রতি বছর আড়াই হাজার বিসিএস ক্যাডার নেয়া হয়, তাহলে স্নাতক শেষ করার পর ৪ বার বিসিএসে অংশ গ্রহণে সর্বোচ্চ দশ হাজার ক্যাডার নেয়া হয়। তাহলে বাকিরা কী হতাশায় ডুবে নিজেদের লক্ষ্যকে তলানিতে গিয়ে তুলবে? নাকি নিজেদেরকে নতুন করে গড়বে?

যে বিসিএসের জন্য এতো তোরজোর সেটা না করে, যদি কেউ কম বেতনের কোন চাকরিতে ঢুকতো তাহলে এই ৪ বছরের তার দক্ষতার সাথে সাথে বেতন ও অন্যন্য সুবিধাও কয়েকগুণ বেড়ে যেত।

অথচ আমরা এক অন্যরকম মোহজালে আটকা পড়ে যাচ্ছি। আমাদের তরুণদের বিসিএস কেন্দ্রিক ছুটতে দিয়ে আমরা মূলত আমাদের তারুণ্যের শক্তিকে হারাতে বসছি।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে চাকরি বেতন নির্ধারণ করা হয় বয়সভেদে। যার বয়স যত কম, তার বেতন ততো বেশি। কারণ একটাই, তারুণ্যের ভরপুর শক্তিকে কাজে লাগিয়ে অর্থনীতির চাকাকে সচল করা।

কিন্তু আমরা পারছি না। সিঙ্গুলারিটির আবেশে নিজেদের বয়স বাড়িয়ে ‘চাকরি বয়সসীমা’ বৃদ্ধির দাবি তুলছি।

আমার মনে হয়, সময় এসেছে বিসিএস বিকেন্দ্রকরণ সরকারের পদক্ষেপ নেয়ার। এইভাবে একটি দেশ চলতে পারে না। কেবল এই ক্যাডার ভিত্তিক কমসংস্থানের লোভে অনেক মেধাবীদের আমরা হারিয়ে ফেলছি। যাদের কাজ ছিল, শিক্ষা-গবেষণায় নিজেদের উজাড় করে দেওয়া- তারা পাপেটের মতো মুখস্ত ডায়লগ আওড়াতে অভ্যস্ত হয়ে উঠছে। উগলে দেয়া স্মৃতি শক্তির পরীক্ষায় কখনো সৃজনশীলতা প্রকাশ পায় না। সৃজনশীলতার জন্য প্রয়োজন বিশদ পরিবেশ।

আমলাতান্ত্রিক চাকরি ব্যবস্থা রুখতে সরকারের উচিত, নতুন কোনও কমিশন করে দেওয়া, যারা সরকারি চাকরির আদলে বেসরকারি চাকরিদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোতেও বেতন কাঠামো থেকে শুরু করে অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার কাজটি করবে। চাকরির নিরাপত্তা বা সুরক্ষার বিষয়ে অন্যদের এগিয়ে আসা জরুরি বলে মনে করি। যদি তা করা সম্ভব না হয়, আমরা আমাদের তারুণ্যকে হারিয়ে ফেলবো। আজ যদি সরকারি চাকরির সাথে অন্যন্য চাকরিদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোতে বৈষম্য কমিয়ে আনা যেত, তাহলে আমরা এভাবে দিনের পর দিন আমলাকেন্দ্রিক চাকরির নেশায় ছুটতো না। দীর্ঘমেয়াদী বিসিএস পরীক্ষায় সফলতার লোভে বেকারত্বের ডেমোগ্রাফ উর্ধ্বমূখী হতো না।

তাই আমরা চাইবো, বিসিএস বিকেন্দ্রীকরণে সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে যৌথভাবে এগিয়ে আসা। তরুণদের হতাশায় না ফেলে আশার বীজ বপনে সহযোগিতা করা। তবে এগিয়ে যাবে বাংলাদেশ, এগিয়ে যাবে আমাদের তারুণ্য।

নাদিম মাহমুদজাপানের ওসাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যায়নরত

১৯ Responses -- “কেবল বিসিএস কেন?”

  1. রিপন মাহামুদ

    খুব ভাল লিখেছেন ভাই। কিন্তু এমন হাজারো লেখা আমাদের সুশীল সমাজের কি চোখে পড়ে!!!!

    Reply
  2. Shahed Mustafa

    ড. সালাম, হসপিটাল বাদে যে বিকালে গিয়ে ফার্মেসিতে বসে টাকা কামান সেটা উল্লেখ করবেন না? শ্যালো থিংকিং !! হোয়াট এ্য ফার্স!! উপজেলাগুলোতে তো ডাক্তাররা থাকতেই চায়না। নিজেকে দিয়ে বিচার করুন।

    Reply
  3. Hasan

    Being obsessed with the BCS job is a Third-World mentality. We cannot avid this because of existing sociol-economic condition in BD. Everybody wants to be secure in an increasingly insecure BD. Hence their dream to become a so-called BCS cadre. We cannot blame them.

    Reply
  4. Hasan

    People occupying posts in administration, police or similar government positions in Bangladesh can get away with committing crimes and harassing common people. Most people in BD also have an unhealthy mentality and think very positively ( possibly for the above reason) of these positions. Hence the attraction for the government job. If there was rule of law in BD, few would crave for the government job in BD. Only less qualified people in developed countries enter the government job. I was educated in and live in the USA. Here, and in the developed world as a whole, the government job is NOT attractive at all.

    Reply
  5. pearl

    ভাই জাপান সম্পর্কে লেখার আগে আরেকটু জেনে নিলে ভালো হতো মনে হয়। এখানেও সরকারি চাকরিই সবচেয়ে স্থিতিশীল। আর মাঝে মাঝে টিভি নিউজে দেখবেন সরকারি চাকরির অধিক সুবিধা নিয়ে অনেকে অভিযোগ করে। জাপানেও কোম্পানির চাকরি আমাদের দেশের মতোই – যদিও জাপানি কোম্পানির চাকরি অনন্তকাল স্থায়ী বলে এক ধরণের মিথ প্রচলিত আছে, কাগজে কলমে কিন্তু তা নয়।
    সরকারি চাকরির নানারকম ধরণ আছে , তবে আমলা বা করণিক টাইপের কাজের জন্যে আমাদের বিসিএসের মতোই পরীক্ষা হয়। ডিমান্ডও কিন্তু কম না। তবে নানা কারণে এবং সহজ লভ্যতার জন্যে কোম্পানির চাকরিই বেশি লোক করে বলে আমার বিশ্বাস।

    Reply
  6. সা মো মছিহ্ রানা

    দেশে কর্মসংস্থানের চরম দৈন্যদশা, কর্মসংস্থানের সুযোগের সাথে অসামঞ্জস্য শিক্ষা ব্যবস্থা, দেশের রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক অস্থিতিশীলতা, বেসরকারি চাকরিতে স্থায়িত্বের অনিশ্চয়তা, সীমিত বেতন-সুযোগ-সুবিধা সর্বোপরি নির্ধারিত কর্মঘন্টার অধিক শ্রম প্রদান করেও যোগ্য পারিশ্রমিক না পাওয়া,প্রতিষ্ঠান মালিকের সন্তুষ্টি বিধানে অক্ষমতা কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে সরকারি চাকুরি সোনার হরিণ হওয়ার মূল কারণ বলে আমার অভিমত। এ অরাজক পরিস্থিতি থেকে অতি দ্রুত মুক্তির পথ সৃষ্টি না হলে শুধু কাগুজে উন্নয়নের প্রোপাগান্ডা আকস্মিক বিস্ফোরণে রূপলাভ করতে পারে যাতে পুরো দেশ-জাতি ক্ষত-বিক্ষত হতে পারে।

    Reply
  7. Irfan

    “যদি কেউ কম বেতনের কোন চাকরিতে ঢুকতো তাহলে এই ৪ বছরের তার দক্ষতার সাথে সাথে বেতন ও অন্যন্য সুবিধাও কয়েকগুণ বেড়ে যেত” – not correct !

    My Salary
    First Job
    2011 : 15000 tk
    2012: 27000 tk
    then MS (2013-2015) from University of Dhaka
    Second Job
    2016: 20500 tk
    2017: 20500 tk
    Third Job
    now on next job they want to pay 10000-15000 tk

    Reply
  8. Dr.Salam

    An excellent writing. I’m from health cadre. Telephone bill not for all cadre in grade-9.Our young generation should think deeply for self-employment. Govt. needs only “AMLA”.Doctors-Engineers-agriculturists-Teachers are “KAMLA”.

    Reply
  9. Mahfuz Bhuiyan

    নাদিম মাহমুদ, আপনি যে সব ভাতার কথা উল্লেখ করেছেন তার সবকটি ভাতা কেউ পায় না। আমি শিক্ষা ক্যাডার-এ আছি ১০ বছর হল। চিকিৎসা ভাতা, উৎসব ভাতা বাদে আর কোন ভাতা পাই না। আর নতুন পে স্কেলে প্রেষণে যাওয়ার ভাতা বাতিল করেছে সরকার। আমি পুরো ৩০ বছর চাকুরী করেও কোনদিন সরকারি পরিবহন সুবিধা প্রাপ্য হব না। কেননা আমার কলেজের অধ্যক্ষ ও উপাধ্যক্ষ কেউই গাড়ি সুবিধা পান না। কেবল মাত্র প্রশাসন ক্যাডার ও পুলিশ ক্যাডার, কর ও কাস্টমস ক্যাডারভুক্তরা এসব সুবিধা পান। কিছুদিন আগে উপসচিবদের জন্য গাড়ি ঋণ ও রক্ষণাবেক্ষণ ভাতা চালু হলেও বাকি ২৬ ক্যাডারভুক্ত কেউই এই সুবিধা পাননি। আবার টেলিফোন ভাতা ও ইন্টারনেট ভাতা চালু হলে শিক্ষা ক্যাডার এর শুধুমাত্র গ্রেড- ৪ এর অধ্যাপকবৃন্দ এ ভাতা পাবেন। কিন্তু অন্যান্য ক্যাডার এ গ্রেড- ৯ থেকেই এ ভাতা পাবেন। আসলে ভাতা অনেক হলেও সবাই তা পান না।

    Reply
  10. রবিউল আহসান

    আপনার সাবলিল সুন্দর লিখা আর বিশ্লেষনের জন্য ধন্যবাদ। প্রশাসনিক শিক্ষার বিকেন্দ্রীকরণ আর প্রথাগত শিক্ষার সংস্কার এর দাবি অনেকদিন ধরে চলে আসছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোন উদ্যোগ সরকারের পক্ষ থেকে নেয়া হয়নি। আপনার এ লিখার মাধ্যমে এ প্রক্রিয়া আরও বেগবান হবে এই আশা করছি।

    Reply
  11. Shahed Mustafa

    বিসিএস ক্যাডারে মোহাবিষ্ট হলে আপনার সমস্যা কি? এটা একটা ইস্যু হল? লেখার শুরুতে আপনি যে কয়টা ভাতার কথা লিখেছেন এত ভাতা তো সরকারি কর্মচারীরা পায় না। না জেনেই লিখতে বসে গেছেন? আপনি না হয় পছন্দ করেন না, কিন্তু আপনার পছন্দ-অপছন্দ আরেকজনের উপর চাপাতে চাচ্ছেন কেন? নেগেটিভ মনোভাব নিয়ে আপনার লেখা শুরু, তাই আপনি নিরপেক্ষতা হারিয়েছেন। আমি দুই সেক্টরেই কাজ করেছি, বেসরকারি সেক্টরে বেতন ছিল তিনগুণ। এগুলো না জেনে কেন লিখেন। জাপানে পড়াশুনা করছেন, ভাল কিন্তু জানা উচিৎ। আজকাল অনেকেই সরকারি বিষয়াদি লিখে বিশেষজ্ঞ বা সুশিল হতে চায়।

    Reply

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। প্রতিক্রিয়া লেখার সময় লক্ষ্য রাখুন--

  • ১. স্বনামে বাংলায় প্রতিক্রিয়া লিখুন।
  • ২. ইংরেজিতে প্রতিক্রিয়া বা রোমান হরফে লেখা বাংলা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না।
  • ৩. প্রতিক্রিয়ায় ব্যক্তিগত আক্রমণ গৃহীত হবে না।

দরকারি ঘর গুলো চিহ্নিত করা হয়েছে—