অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা আবশ্যক, গণতন্ত্র আবশ্যক নয়। আন্তর্জাতিক অর্থ তহবিল (আইএমএফ) এর ৩২ বছরব্যাপী গবেষণায় দেখা গেছে, অর্থনৈতিক স্বাধীনতা প্রবৃদ্ধির জন্য সহায়ক, কিন্তু গণতান্ত্রিক স্বাধীনতায় প্রবৃদ্ধির উপর কিছুটা নেতিবাচক প্রভাব পরে। চীনের উদাহরণ দেওয়া যেতে পারে। চীন একটা মুক্ত অর্থনীতির দেশ, কিন্তু মুক্ত গণতান্ত্রিক দেশ নয়। চীনের সরকার অ-গণতান্ত্রিক হলেও স্থিতিশীল। এই কারণে চীনের প্রবৃদ্ধি বেশি ও স্থিতিশীল। শেখ হাসিনা সরকারের ১০ বছরে রাজনৈতিক স্বাধীনতা সম্পর্কে ভিন্নমত থাকতে পারে, কিন্তু রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা সম্পর্কে কারো কোনও ভিন্নমত নেই।

এই কারণে সরকারের দীর্ঘমেয়াদী নীতিমালার উপর বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়ছে। এই আস্থা ও বিশ্বাস বৈশ্বিক ব্যবসা-বাণিজ্যের সবচেয়ে বোরো উপাদান। এই কারণে অনেক প্রতিকূলতা থাকা সত্ত্বেও দেশের প্রবৃদ্ধির হার বাড়ছে।

বিষয়টি পরিসংখ্যানের আলোকে দেখা যাক. আওয়ামী সরকার ক্ষমতায় আসার পর  ২০০৮ থেকে ২০১৩ সাল  পর্যন্ত আমাদের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ৪ দশমিক ৫ থেকে ৫ দশমিক ৩ এর মধ্যে ওঠানামা করেছে। এই সময়ে মাথাপিছু আয় ৬৫৬ ডলার থেকে ১০৩০ ডলারে উন্নীত।

দ্বিতীয় মেয়াদে  ২০১৪ থেকে  ২০১৮ পর্যন্ত প্রবৃদ্ধি ৫ দশমিক ২ থেকে ৬ দশমিক ৩ এর মধ্যে রয়েছে। মাথাপিছু আয় ১৭৩৩ ডলারে উন্নীত হয়েছে। ( প্রবৃদ্ধি আন্তর্জাতিক সূচকে ধরা হয়েছে। অভ্যন্তরীণ ক্রয়ক্ষমতার তুলনায় ধরা হলে, প্রবৃদ্ধি ৭ এর উপর হবে)

২০০৮ থেকে ২০১৩ পর্যন্ত ভারতের প্রবৃদ্ধি আমাদের চেয়ে বেশি ছিল। কিন্তু পরবর্তী ৫ বছরে ভারতের প্রবৃদ্ধি আমাদের প্রায় সমান ছিল।

তবে মাথাপিছু আয় বৃদ্ধিতে বাংলাদেশ ভারতের চেয়ে বেশি এগিয়েছে। ভারতের মাথাপিছু যায় ২০০৮ সালে ছিল ১০৩৮, যা ২০১৮ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২১৩৬ ডলারে।

লক্ষণীয় যে ১০ বছরে ভারতের মাথাপিছু আয় দ্বিগুণ হয়েছে। আর কিন্তু আমাদের মাথাপিছু আয় ২ দশমিক ৬ গুণ বেড়েছে। (প্রবৃদ্ধির হার কম হয়েও মাথাপিছু আয় বেশি বৃদ্ধির সম্ভাব্য কারণ আমাদের রেমিটেন্স বেড়েছে  আর জনসংখ্যা ভারতের তুলনায় কম হারে বেড়েছে। ভারতের জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার ১ দশমিক ৫ শতাংশ আর বাংলাদেশের বৃদ্ধির হার ১ শতাংশ)

উপরের তথ্যগুলো বিশ্বব্যাংকের পরিসংখ্যান থেকে নেওয়া হয়েছে।

রাজনৈতিক স্থিরতার উপর কোনো দেশের প্রবৃদ্ধি ও মাথাপিছু আয় বৃদ্ধি অনেকাংশে নির্ভর করে। বর্তমান সরকারের প্রথম ৫ বছরের তুলনায় দ্বিতীয় ৫ বছরের অর্থনৈতিক সাফল্য অনেক বেশি। অথচ বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধি ২০০৮ থেকে ২০১৩ সালের মধ্যবর্তী সময়ে বেশি হয়েছে।

সরকারের দ্বিতীয় মেয়াদে বাংলাদেশের রাজনৈতিক স্থিরতা বেড়েছে। এই কারণে প্রবৃদ্ধি প্রথম মেয়াদের চেয়ে দ্বিতীয় মেয়াদে বেশি বেড়েছে। ২০১৩ সাল থেকে ২০১৪ সালের মাঝামাঝি পর্যন্ত রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে আমাদের অর্থনীতি কিছুটা শ্লথ হয়ে পড়লেও কয়েক মাস পরেই উন্নয়নের ধারায় গতিবেগ আসে।

আন্তর্জাতিক অর্থ তহবিল ৫০ বছর ধরে ১৬৯ দেশে রাজনৈতিক অস্থিরতার সঙ্গে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সম্পর্ক নিয়ে সমীক্ষা চালিয়েছে। ফলাফলে দেখা যায়, রাজনৈতিক অস্থিরতায় উৎপাদনশীলতা ব্যাহত হওয়ার কারণে  অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির উপর সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।

রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা না থাকলে দীর্ঘমেয়াদী উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন সম্ভব হয় না। স্থিতিশীলতা না থাকলে নীতিমালার কার্যকারিতার সময়কাল কমে যায়, সমষ্টিগত অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে কার্যকারিতা হ্রাস পায়। বারবার নিয়ম কানুন পাল্টালে সামষ্টিক অর্থনীতিতে বিরূপ প্রতিক্রিয়া হয়।

অর্থনৈতিক দৃষ্টিতে, রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার পরিমাপ করা হয়, কতোবার মন্ত্রীসভা পরিবর্তন হয় তার উপর। সরকার পরিবর্তন হলে মন্ত্রিসভার পরিবর্তন হয়ই। একই সরকারের মধ্যেও  বারবার মন্ত্রী পাল্টানোও স্থিতিশীলতার উপর বিরূপ প্রভাব ফেলে। অধ্যাপক ও বিশিষ্ট গবেষক আলবার্তো এলিসিন ৩২ বছর ১১৩ টি দেশের অর্থনৈতিক ডাটা সংগ্রহ করে দেখিয়েছেন, যখনি যে দেশে রাজনৈতিক অস্থিরতা দেখা গেছে তখন প্রবৃদ্ধির হার ও বিনিয়োগ কমে গেছে। এলিসনের গবেষণায় দেখা গেছে, অস্থিতিশীল পরিবেশে মুদ্রাস্ফীতি বেড়ে যায় ও মানুষের ক্রয়ক্ষমতা করে যায়।

বাংলাদেশের গণতন্ত্রের সূচক প্রতিবছর কমছে। Economist Intelligence Unit’s (EIU) Democracy Index এর বাৎসরিক প্রতিবেদনে দেখা যায়, বাংলাদেশের সূচক ২০১৬ থেকে ২০১৭ এ ৫ দশমিক ৭৩ থেকে ৫৪৩ এসে দাঁড়িয়েছে। ২০১০ এ এই সূচক ছিল ৬,২. পক্ষান্তরে সরকারের স্থিতিশীলতার সূচক ক্রমশ বাড়ছে। গণতন্ত্র কমে যাওয়া আর স্থিতিশীলতা বেড়ে যাওয়া প্রবৃদ্ধি বান্ধব। এই প্রক্রিয়া আমাদের প্রবৃদ্ধি বাড়াতে সাহায্য করেছে। (আমার ধারণা গণতন্ত্রের সূচক কমছে আমলাতান্ত্রিক জটিলতার ও বিচার বিভাগের কিছু বিতর্কিত সিদ্ধান্তের কারণে, রাজনৈতিক কারণে ততটা নয়।)

যদিও বিশ্বব্যাংকের সূচকে বাংলাদেশের স্থিতিশীলতা বাড়লেও অবস্থান এখনো অনেক নিচের দিকে। ব্যাংকার সূচক অনুযায়ী বাংলাদেশের অবস্থান ১৭২ থেকে উন্নীত হয়ে ১৬৭ তম  স্থানে এসেছে।  এই সূচকের নির্ণায়কগুলির মধ্যে আছে রাজনৈতিক গেরেপ্তার, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা।

বিনিয়োগের ক্ষেত্রে এই নির্ণায়কগুলো বিবেচনা করা হয় না। বিনিয়োগকারীরা দেখেন, সরকার ও নীতি পাল্টানোর ঝুঁকি কতটুকু ইত্যাদি। বিরোধীদলের বিচার প্রক্রিয়া বিনিয়োগ ও প্রবৃদ্ধিতে প্রভাব ফেলে না।

নির্বাচনকালীন সময়ে যেকোনো দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি কমে যায়। ২০১৬ মার্কিন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রাক্কালেও  পুঁজিবাজারের সূচক কমে যায়. যখনই ট্রাম্প নির্বাচিত হয়ে গেলো, পুঁজিবাজারের সূচক আবার বাড়তে থাকে। পুঁজিবাজারের সূচক ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি পারষ্পরিক সম্পর্কযুক্ত। পুঁজিবাজার কোনও ধরনের অনিশ্চয়তা পছন্দ করে না। যখন পর্যন্ত কি হবে না হবে পরিষ্কার বোঝা যায় না, তখন পর্যন্ত পুঁজিবাজার স্থিতিশীল হয় না। ভালো বা খারাপ একটা কিছু নিশ্চিতভাবে হয়ে গেলে, পুঁজিবাজার তা মেনে নেয়। ট্রাম্প যেদিন থেকে নির্বাচিত হয়ে গেলো, তার পর থেকে বিনিয়োগকারীরা আবার মাঠে ফিরে এলো।

কোনও বিদেশি কোম্পানি যখন অন্য কোনও দেশে বিনিয়োগ করার পরিকল্পনা করে, তখন তারা শুধুমাত্র আইএমএফ ও বড় বড় সংস্থার জরিপ ও বিশ্লেষণের উপর নির্ভর করে না। প্রত্যেকটি কোম্পানি তাদের নিজস্ব গবেষণা করে। ইউরোপিয়ান কোম্পানিগুলো বাংলাদেশকে রাজনৈতিকভাবে নিরাপদ মনে করছে। ডেনমার্কের চেম্বার অব কমার্স বাংলাদেশকে কমপক্ষে ১০ বছর স্থিতিশীল থাকবে মনে করে।

শেখ হাসিনা সরকারের ১০ বছর শাসনামলে বৈদেশিক বিনিয়োগ ৩ গুণ বেড়েছে। ২০০৮-০৯ অর্থবছরে বৈদেশিক বিনিয়োগ ছিল ৯৬১ মিলিয়ন দলের যা ২০১৭-১৮ অর্থ বছরে বেড়ে দুই হাজার ৬০০ মিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। বৈদেশিক বিনিয়োগের অন্যতম শর্ত দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক নীতিমালা। এই শর্তপূরণে সরকার সফল হয়েছে।

দেশে স্থিতিশীল সরকার থাকলে রেমিটেন্সও বাড়ে। এই কারণে জনশক্তি রপ্তানি কমে গেলেও বিগত বছরগুলো বিপুল পরিমাণে বাড়ছে। বিডিনিউজ টোয়েন্টি ফোর ডটকমের রিপোর্টে দেখা যায়, গত অর্থ বছরের চেয়ে এই বছরে রেমিটেন্সের প্রবাহ শতকরা ১৭ ভাগ বেড়েছে।

দেশি ও বিদেশি কর্পোরেট মহলে আস্থা সৃষ্টি হয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্ত স্থির ও চাপের মুখে কোন সিদ্ধান্ত পরিবর্তন হয় না। এই আস্থা বিনিয়োগের জন্য খুবই প্রয়োজনীয়।

দীর্ঘ ১০ বছরে কোনো মন্ত্রীকে হঠাৎ করে বরখাস্ত করা হয়নি।  কোনও অঘটন ঘটলেও, কোনো মন্ত্রী পদ হারান নি। প্রধানমন্ত্রীর এই সহনশীলতা ও বিচক্ষণতা স্থিতিশীলতার জন্য ইতিবাচক হয়েছে।

মন্ত্রীসভা  ছোট না করার স্বপক্ষে প্রধানমন্ত্রী যা বলেছেন, তা যুক্তিসঙ্গত। সব মন্ত্রীর আওতাভুক্ত অনেক চলমান প্রকল্প আছে। নির্বাচনকালীন মন্ত্রিসভা ছোট করলে প্রকল্পগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

মাত্র দুই এক মাসের জন্য সরকার ছোট না করা উন্নয়নের জন্য ভালো হবে। সরকার মন্ত্রিপরিষদের সচিবকে অবসরে না পাঠিয়ে বহাল রেখেছেন, এটাও ভালো সিদ্ধান্ত।

বিলুপ্তপ্রায় বিরোধীদলগুলোর রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বিপন্ন করার ক্ষমতা নেই। তারা নির্বাচনে যাক বা না যাক, তাতে সুদূরপ্রসারী অর্থনৈতিক নীতিমালা পরিবর্তনের ঝুঁকি খুব কম. এই কারণে এই নির্বাচন অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে তেমনা  প্রভাব ফেলবে মনে হয় না।

Responses -- “আসন্ন নির্বাচন: অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির উপর রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার প্রভাব কতটুকু ?”

  1. ওবায়দুল করিম খান

    প্রিয় জনাব আলী, মোট জাতীয় উৎপাদন বৃদ্ধির হার হলো প্রবৃদ্ধি। রেমিট্যান্স “জাতীয় উৎপাদনের” অংশ নয়, তাই প্রবৃদ্ধির উপর প্রভাব নেই.অর্থ পাচারেও প্রবৃদ্ধির প্রভাব পরে না.
    এগুলো উন্নয়নের উপর প্রভাব ফেলে।
    আমার প্রতিপাদ্য বিষয় প্রবৃদ্ধি। এর জন্য স্থিতিশীলতা প্রয়োজন, গণতন্ত্র নয়.
    দুর্নীতি, প্রকল্প বায়ের উপযোগিতা নিয়ে লিখিনি। পরে লিখতে চেষ্টা করবো, ইনশাল্লাহ।

    Reply
    • Not applicable

      Your article might look much better if both corruptions and developments were side by side in the same article. Perhaps you can include a link of this article to your next article based on corruptions in every sectors behind the developments? Don’t get me wrong. I am just saying.

      Reply
    • সৈয়দ আলি

      জনাব খান, প্রবৃদ্ধি প্রকৃতপক্ষে গত অর্থনৈতিক কাল থেকে একালের জিডিপির পরিবর্তন। সাম্রাজ্যবাদীরা অন্যান্য প্রতারণামূলক পরিভাষার মতো প্রবৃদ্ধিকেও এমনভাবে উপস্থাপন করে যেন এটি না জানি কি! প্রবৃদ্ধি কিছুই নির্ণয় করেনা। ভারতের প্রবৃদ্ধি ৯% কিন্তু ভারতের ২০ কোটি মানুষ ক্ষুধা নিয়ে ঘুমোতে যায় এবং জানেনা সকালে কি খাবে। ভারতেই এক বৎসরে ৭২ হাজার কৃষক আত্মহত্যা করেছে। তাই প্রবৃদ্ধির ছেঁদো কথায় অর্থনীতিবিদেরা গুরুত্ব দেন না।
      আমি আশা করেছিলাম যে বাংলাদেশের উন্নয়নের গোলাপি চিত্রের বিপরীতে সম্পদ ও অর্থ লুন্টন ও পাচারের প্রভাব নিয়ে কিছু বলবেন।

      Reply
    • সৈয়দ আলি

      ধন্যবাদ ওবায়দুল করিম খান। আপনি প্রবৃদ্ধি নিয়েও লিখেন নি। লিখেছেন উন্নয়নের তালিকা। আমার জানার ইচ্ছে ছিলো উন্নয়নের গোলাপি চিত্রের পশ্চাৎপটে যে অনুন্নয়নের আঁধার তার ব্যাখ্যা কি? দুঃখের সাথে বলতে হচ্ছে আমি উত্তর পাইনি। একটি মহাসড়ক কিংবা বিশাল সেতু যদি অবিশ্বাস্য উচ্চ ব্যয়ে নির্মিত হয় তবে তার উপযোগিতা কি ধনাত্মক হবে না ঋণাত্মক হবে? ব্যবসা প্রশাসন ও ক্যাপিট্যাল বাজেটিঙের ছাত্র হিসেবে শিখেছি, কোন উন্নয়ন ব্যয় যদি ধনাত্মক উপযোগিতা প্রদান না করে তবে তা’ অগ্রহনীয়। ঢাকা শহরের মাঝখান দিয়ে তৈরী ফ্লাইওভার বাজেটের তিনগুন ব্যয়ে বাংলাদেশের ট্রাফিক ব্যবস্থার বিপরীতে তৈরি করে কোন উপযোগিতা পাওয়া যাচ্ছে? এরকম অনেক প্রশ্ন উন্নয়নকে ঘিরে আসছে।
      আমি আগেই বলেছি প্রবৃদ্ধি বিগত বৎসরের জিডিপির তুলনায় এবছরের জিডিপির নিছক একটি বৃদ্ধি বা হ্রাসের চিত্র। র‍্যামিটেন্স যদি উৎপাদন খাতে বিনিয়োগ করা হয় তবে তা’ জিডিপির অংশ হবে। সেক্ষেত্রে তা হবে ধনাত্মক প্রবৃদ্ধি। একই সাথে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো তারল্য হারালে ঋণপ্রবাহ তথা উৎপাদন ব্যহত হয়ে ঋণাত্মক ক্রিয়া করে প্রবৃদ্ধি হ্রাস করবে।
      যাহোক, আপনাকে ধন্যবাদ।

      Reply
  2. Obaidul Karim Khan

    আপনার প্রশ্নগুলো খুবই উঁচুমানের কিন্তু আমার নিবন্ধের সঙ্গে প্রাসঙ্গিক নয়। তবুও সংক্ষেপে উত্তর দেই।
    উন্নয়ন ব্যায় যে সর্বোচ্চ, এটার গবেষণামূলক ভিত্তি নেই। যদি এই পূর্ব ধারণার জোরালো কারণ থাকে, তাহলে গবেষণার মাধ্যমে প্রমাণ করতে হবে।
    উন্নয়নের ব্যায়ের চেয়ে উপযোগিতা বেশি না হলে সেই প্রকল্প হাতে নেওয়া উচিৎ না। আপনার এমন মনে হলে গবেষণা করুন অথবা আমাকে কিছু ভিত্তি দিন যাতে আমি গবেষণা করতে পারি।
    বৈধ ও অবৈধভাবে অর্থপাচার এবং অন্যদিকে রেমিট্যান্স কোনোটাই প্রবৃদ্ধির উপর প্রভাব ফেলে না।
    আমি একজন সচেতন নাগরিক হিসাবে রাজনৈতিক নিরপেক্ষ নই, তবে গবেষক হিসাবে রাজনৈতিক পক্ষপাতিত্ব করি না।
    ওবায়দুল করিম খান, লেখক। ইমেইল karim@c.dk

    Reply
    • সৈয়দ আলি

      Obaidul Karim Khan, আপনাকে অনেক ধন্যবাদ আমার প্রশ্নগুলোর আংশিক উত্তর দেয়ার জন্য।
      – শুধু সড়ক নির্মাণব্যয় নিয়ে বিশ্বব্যাংকের গবেষণায় দেখা যাচ্ছে:

      – রংপুর – হাটিকুমরুল চারলেন মহাসড়ক নির্মাণ ব্যয় কি. মি./প্রতি ৬৬ লক্ষ ডলার,
      – ঢাকা – সিলেট চারলেন মহাসড়ক নির্মাণ ব্যয় কি.মি./প্রতি ব্যয় ৭০ লক্ষ ডলার,
      – ঢাকা – মাওয়া চারলেন মহাসড়ক নির্মাণ ব্যয় কি.মি./প্রতি ব্যয় ১ কোটি ১৯ লক্ষ ডলার
      – ঢাকা – চট্টগ্রাম ও ঢাকা – ময়মনসিংহ চারলেন মহাসড়ক নির্মাণ ব্যয় কি.মি. প্রতি ২৫ লক্ষ ডলার।
      তুলনামূলকভাবে ভারতে চার-লেন মহাসড়ক ব্যয় ১১ লক্ষ থেকে ১৩ লক্ষ ডলার। চীনে এই ব্যয় ১৩ লক্ষ থেকে ১৬ লক্ষ ডলার। (সুত্র: https://www.thedailystar.net/frontpage/road-construction-cost-way-too-high-1423132) বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশের প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেনর অভিমত এই যে এই বাড়তি ব্যয় সম্পূর্ণ দূর্নীতি প্রসুত। এটি হাস্যকর যে আপনি উন্নয়ন প্রদর্শন করছেন কিন্তু তার উপযোগিতা নিরুপন করছেন না। আমি মানি, গড় উন্নয়ন ব্যয় দিয়ে সুনির্দিষ্ঠ প্রকল্প সম্পর্কে বলা যায় না, তথাপি ভারত ও চীনের তুলনামূলক গড় উন্নয়ন ব্যয় যে বাংলাদেশের চাইতে বহুগুণে কম তা’তো স্বীকৃত। উন্নয়ন ব্যয় যে একমূখী হয় না এটি আপনার মতো বিশেষজ্ঞ জানেন না তা হতে পারে না। আপনার রাজনৈতিক অনুরাগ কি আপনার নিবন্ধে ছাপ ফেলেনি?
      আপনি বলেছেন, “বৈধ ও অবৈধভাবে অর্থপাচার এবং অন্যদিকে রেমিট্যান্স কোনোটাই প্রবৃদ্ধির উপর প্রভাব ফেলে না।” কথাটি কি সত্য? অর্থনীতির ইতিহাসে (ভারতকেই ধরা যাক) যতদিন অর্থ ও সম্পদ স্বদেশে বিনিয়োগিকৃত ও পূণঃবিনিয়োগিকৃত হয় তখন তার মাল্টিপ্লিকেশন এফেক্টে প্রবৃদ্ধি বৃদ্ধি পায়। এই সম্পদ ও অর্থ স্বদেশভূমি থেকে উল্লম্ফন করে চলে গিয়ে শুন্যতা সৃষ্টি করলে আর্থিক বিপর্যয় ঘটে। ইংরেজ ঔপনিবেশিক আমলের সুচনার আগে ভারতে স্থানীয় সন্মিলিত পুঁজি ব্যবহৃত ও পূণঃবিনিয়োগিকৃত হতো। ইংরেজরা মুনাফাকারে অর্থ ও সম্পদ যখন পাচার করতে শুরু করলো, ভারতের অর্থনীতিতে তখন পুঁজিশুন্যতা অর্থনৈতিক কর্মকান্ডকে স্থবির করে দিলো। ফলে বিদেশী পণ্য স্থানীয় চাহিদা মেটাতে আরম্ভ করে স্থানীয় উৎপাদনব্যবস্থাকে কালক্রমে ধ্বংস করে দিলো। একই সাথে র‍্যামিটেন্স তথা পুঁজিপ্রবাহ স্তিমিত হলে জনঅর্থনীতিতে কোনই প্রভাব ফেলবেনা?
      রাষ্ট্রীয় ব্যাঙ্কগুলোর পুঁজি শুন্যতা নিয়ে আপনি কিছু বলেন নি। কিন্তু কুঋণের আকারে ব্যাঙ্কগুলির আমানত ও ওয়ার্কিং ক্যাপিট্যাল শুষ্ক হয়ে গেলো। এটি সম্পূর্ণ সম্ভব হয়েছে রাষ্ট্রীয় দূর্ণীতির বরাভয়ে। আমি খুবই আতঙ্কগ্রস্থ যে সুদুরপ্রসারী ব্যাষ্টিক অর্থনীতিতে এর দীর্ঘকালীন প্রভাব হবে ভয়াবহ।
      আমি আবারও আপনার মেধাবী বিশ্লেষনের প্রসংশা করছি তবে একই সাথে উন্ননয়ন বলে আপনি যাকে উপস্থাপন করছেন, তা হাতীর দাঁতের মতো সৌন্দর্য্য বাড়ায়, খাদ্যগ্রহনে কাজে আসেনা।
      ভালো থাকবেন। ধন্যবাদ।

      Reply
  3. সৈয়দ আলি

    চমৎকার শ্রমভিত্তিক বুদ্ধিবৃত্তিমূলক নিবন্ধ। আমরা অনেক ধনাত্মক দিক জানলাম।
    তবে একজন পেশাদার ব্যবসায় প্রশাসন কর্মী হিসেবে জানতে চাই:
    – উন্নয়ন ব্যয়গুলো যে বিশ্বে সর্বোচ্চ, তাতে কস্ট-বেনেফিট এ্যানালিসিসে কি ফলাফল আসবে?
    – বাংলাদেশের অভ্যন্তরীন বাজার থেকে যে এক লক্ষ কোটি (বা তারও বেশী) ডলারের অর্থ বিদেশে পাচার হয়েছে, সে শুন্যতা কি মুদ্রাসংকোচন দিয়ে ঢাকা যাবে?
    – সরকারী ব্যাঙ্কগুলোর তহবিল শুন্য। ফলে ব্যবসায়িক ঋণদানের সুযোগ নেই, তাই মুদ্রার মাল্টিপ্লিকেশনও হচ্ছেনা। এর ব্যাষ্টিক প্রভাব অর্থনীতিবিদদের মতে ভয়াবহ। আপনার কাছে কি এই আশঙ্কার উত্তর আছে?
    – বিদ্যুৎ সমস্যা সমাধান কল্পে কুইক রেন্টাল স্থাপনের কারনে সর্বশেষ জানা যায় যে পিডিবিকে বছরে ৪০ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি গুনতে হচ্ছে। সর্বশেষ ভর্তুকির পরিমান জানানো হচ্ছেনা। দশবছরে নিয়মিত বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর পরিবর্ধন, উন্নয়ন ও নবায়ন করা হলোনা কেন?
    – মন্ত্রীসভার সদস্যদের প্রায় সবাইকে প্রধানমন্ত্রীর দিকে থাকতে দেখি। সেক্ষেত্রে বড় মন্ত্রীসভা কি কাজে আসছে জানিনা, যদি না কিছু বিদুষককে প্রতিপালন করা হয়।
    – সামাজিক উন্নয়নের জন্য মুক্ত মতামত প্রকাশের অধিকার সংকুচিত করে উন্নয়ন টেকসই হয়না।

    Reply
  4. Not applicable

    i understand everything very very well. and i do not understand everything very very well at the same time. author cleverly avoided the corruptions in every sectors

    Reply
    • Azhar

      If my income goes to my father-in-law through my wife and invested therein, is it a development of my family or father-in-laws’ family. Bangladesh helps countries like Switzerland, Malaysia, Singapore, etc. like such a father-in-laws’ country and in paper everything shows fine. We need corruption free development for all, not paper wise development or any development for few people.

      Reply

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। প্রতিক্রিয়া লেখার সময় লক্ষ্য রাখুন--

  • ১. স্বনামে বাংলায় প্রতিক্রিয়া লিখুন।
  • ২. ইংরেজিতে প্রতিক্রিয়া বা রোমান হরফে লেখা বাংলা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না।
  • ৩. প্রতিক্রিয়ায় ব্যক্তিগত আক্রমণ গৃহীত হবে না।

দরকারি ঘর গুলো চিহ্নিত করা হয়েছে—