প্রয়াত গায়ক আইয়ুব বাচ্চুর বিরুদ্ধে ফেটে পড়েছেন আমাদের কিছু আলেম। বাচ্চু নাকি দোজখে যাবেন  কাউকে জাহান্নামে পাঠাবার আগে, নিজেদের জান্নাতে যাবার গ্যারান্টি পেলে ভালো হয়না কি ?  ইসলামে নাকি সঙ্গীত হারাম। হালাল হারাম করার মালিক যিনি কিছুই ভোলেন না (ত্বাহা – ২০) এবং যিনি ইসলামকে পরিপূর্ণ করে দিয়েছেন (মায়েদা – ৩), কোরানে সেই আল্লাহর দেয়া হালাল হারামের তালিকা কারা যেন অসম্পূর্ণ মনে করে অনেক নতুন হারাম যোগ করেছে।

ব্যাপারটা দুর্বোধ্য। অথচ ওয়াজ মাহফিলে হাজারো শ্রোতা তাদের কথাগুলোই ইসলামী বলে বিশ্বাস করেন। ইসলামে সঙ্গীত হারাম কিনা তা নিয়ে আলেমরাই বিভক্ত, ফলে জনতাও বিভক্ত। জাতির মানসে পরষ্পরবিরোধী এই বিরোধের সুরাহা হওয়া দরকার, ভিন্নমতের আলেমদের তত্ত্বতথ্য এবং মতামতও শোনা দরকার। কারণ সঙ্গীত আমাদের সাংস্কৃতিক শেকড়, সেখানে কোনও রকম দ্বিধা জাতিকে অতল গহ্বরে ফেলে দেবে।

আমাদের আধুনিকপঞ্চকবি, লোকগীতি, ভাওয়াইয়া-ভাটিয়ালী-মুর্শিদী, ব্যাণ্ড, বিয়ে, বাউল ও ধান ভাঙার গান, বিভিন্ন ধর্মীয় সংগীত থেকে শুরু করে সাপ-ধরা বেদে ও ছাদ-পেটানো পেশার গান,  দেবর-ভাবির পরিহাস, নানা-নাতির গম্ভীরা বা কবিয়ালের তাৎক্ষণিক গান-যুদ্ধ- আশ্চর্য সম্পদ। আর, একাত্তরে?  একাত্তরে গান আমাদের ‘দৃপ্ত শ্লোগান, ক্ষিপ্ত তীর-ধনুক’।

কোরান-হাদিস-দলিলে যাবার আগে কিছু  ভিন্নমতের বিশ্ব-বিখ্যাত বিশেষজ্ঞের কথা শোনা যাক। বিশ্বের অন্যতম সর্বোচ্চ ইসলামী নেতা ড. ইউসুফ কারজাভী, বিশ্বময় ইসলামী ব্যাংক,  আন্তর্জাতিক বহু শারিয়া-সংগঠনের সর্বোচ্চ নেতা  তার বই ‘দ্য ফুল অ্যান্ড  প্রোহিবিটেড ইন্ ইসলাম’ – এর ‘সিংইং অ্যান্ড মিউজিক’ অধ্যায় থেকে, পৃষ্ঠা ২৯৬-৩০০  এর পরেও কেউ গান হারাম বললে আমাদের সাথে নয়, সাধ্য থাকলে তার সাথে বিতর্ক করে তাকে পরাজিত করুন। প্রতিটি শব্দ গুরুত্বপূর্ণ, উদ্ধৃতি:   

সঙ্গীত এমন বিনোদন যাহা প্রাণে আনন্দ দেয়, হৃদয় তৃপ্ত করে এবং শ্রবণকে আরাম দেয়…. উত্তেজনাপূর্ণ না হইলে ইহার সহিত বাদ্যযন্ত্র থাকিলে ক্ষতি নাইআয়েশা বলিয়াছেন যখন এক আনসারের সাথে এক মহিলার বিবাহ হইতেছিল তখন রসুল (সাঃ) বলিলেন, ‘আয়েশা, তাহারা কি চিত্তবিনোদনের ব্যবস্থা করিয়াছে ? আনসারেরা চিত্তবিনোদন ভালবাসে’ (বুখারি)।ইবনে আব্বাস বলিয়াছেন আয়েশা তাহার এক আত্মীয়াকে এক আনসারের সাথে বিবাহ দিলেন। রসুল (সা.) আসিয়া জিজ্ঞাসা করিলেন, তাহার সাথে কি কোনও গায়িকা দিয়াছ ?’ আয়েশা বলিলেন, ‘না।তখন রসুল (সাঃ) বলিলেন, ‘আনসারেরা কবিতা ভালবাসে। এমন কাউকে পাঠানো তোমার উচিত ছিল যে গাহিবে আমরা আসিলাম তোমাদের কাছে, আমাদের সম্ভাষণ করো, আমরাও তোমাদের সম্ভাষণ করি’ (ইবনে মাজাহ), আয়েশা বলিয়াছেন- ঈদুল আজহার দিনে মিনাতে তাহার সহিত দুইজন বালিকা ছিল যাহারা দফবাজাইয়া গান গাহিতেছিল। রসুল (সাঃ) মুখ চাদরে ঢাকিয়া তাহা শুনিতেছিলেন (হাদিসে আছে তিনি মুখ ঢেকে শুয়েছিলেন), আবু বকর আসিয়া বালিকাদিগকে বকাবকি করিলেন।

রসুল (সাঃ) মুখ বাহির করিয়া বলিলেন, ‘উহাদিগকে ছাড়িয়া দাও, আবু বকর, আজ ঈদের দিন।’ (বুখারী ও মুসলিম)।  

ইমাম গাজ্জালী তাহার ‘এহিয়ে উলুম আল্ দ্বীন’ কেতাবে (গান শোনাঅধ্যায়ে অভ্যাসপরিচ্ছেদে) গায়িকাবালিকার উল্লেখ করিয়াছে- ‘…ইহা নিশ্চিতরূপে প্রমাণ করে গান গাওয়া ও খেলাধূলা করা হারাম নহেদলিলে আছে বহু সাহাবি ও পরের প্রজন্মের মুসলিম বিশেষজ্ঞরা গান শুনিতেন ও ইহাতে কোন দোষ দেখিতেন না। গবেষকদের মতে গান গাহিবার বিরুদ্ধে যেসব হাদিস আছে তাহা নির্ভরযোগ্য নহে।’

আইনবিদ আবু বকর আল্ আরাবি বলেন, ‘সঙ্গীত নিষিদ্ধের ব্যাপারে নির্ভরযোগ্য কোনওই হাদিস নাই।’  ইবনে হাজম (১১শ শতাব্দীর স্পেন খেলাফতের বিখ্যাত শারিয়াবিদ লেখক) বলিয়াছেন, ‘এই বিষয়ে (সঙ্গীত নিষিদ্ধের বিষয়ে লেখক) যাহা কিছুই লিখা আছে সকলই মিথ্যা ও ভেজাল।

(সুরা লোকমান ৬-এর ব্যাপারে) ইবনে হাজম বলেন, “এই আয়াতে আল্লাহর পথ নিয়া ঠাট্টা করার অভ্যাসকেই আলাহ নিন্দা করিয়াছেন, উহাকে নহে যেই অলস কথাবার্তা মানুষ করে মানসিক প্রশান্তির জন্যই, কাউকে আলাহর পথ হইতে পথভ্রষ্ট করার জন্য নহে। সুরা ইউনুস আয়াত ৩২-এর ভিত্তিতে যাহারা বলেন সঙ্গীত যেহেতুসত্যনহে তাই সঙ্গীত নিশ্চয়ই মিথ্যা’, তাহাদের যুক্তিকেও ইবনে হাজম ভুল প্রমাণ করিয়াছেন।তাই যে ব্যক্তি আলাহর প্রতি দায়িত্ব পালন ও ভাল কাজের শক্তিলাভের জন্য চিত্তবিনোদনের উদ্দেশ্যে গান শোনে সে আলাহর অনুগত বান্দা এবং তাহার এই কর্ম সত্য। পক্ষান্তরে, যে ব্যক্তি আলাহর প্রতি বাধ্য বা অবাধ্য হইবার চিন্তা না করিয়া গান শোনে, সে নিরপেক্ষ ও ক্ষতিকর নহে এমন কাজ করে যেমন পার্কে যাওয়া বা হাঁটিয়া বেড়ানো, কিংবা জানালায় দাঁড়াইয়া আকাশ দেখা, কিংবা নীল বা সবুজ কাপড় পরা, ইত্যাদি। যাহা হউক, সঙ্গীতের ব্যাপারে কিছু সীমাবদ্ধতা আছে, যেমন গানের কথায় যদি মদ্যপানের প্রশংসা থাকে ও লোককে মদ্যপানে উৎসাহিত করা হয়, তবে উহা গাওয়া বা শোনা হারাম। গানের পরিবেশনাও উহা হারাম করিতে পারে যেমন গানের সাথে শারীরিক উত্তেজক অঙ্গভঙ্গি।”  – উদ্ধৃতি শেষ।

মওলানা মওদুদি বলেছেন , সঙ্গীত, নৃত্য ও চিত্রশিল্পকলা হইল অশ্লীল শিল্প ও কঠিনভাবে ইসলাম বিরোধী” − ‘এ শর্ট হিস্ট্রি অব্ দ্য রিভাইভালিস্ট মুভমেন্ট ইন্ ইসলামপৃঃ ৩০। তাই ?  

আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো’,  হারাম ?  ‘আমি বাংলার গান গাই’,  ‘বাড়ির পাশে আরশিনগর’, ‘কান্দে হাছন রাজার মন ময়না’… অশ্লীল শিল্প ?   বাংলার মাদের মধুকণ্ঠে ‘আয় আয় চাঁদমামা টিপ দিয়ে যা, চাঁদের কপালে চাঁদ টিপ দিয়ে যা’ – কঠিনভাবে ইসলাম-বিরোধী?   কি হাস্যকর!  

স্পষ্টত, গানের কুৎসিৎ কথা, কুৎসিৎ অঙ্গভঙ্গি বা গানের অতিরিক্ত নেশায় জীবনের ক্ষতি ইত্যাদির সীমা টানেননি তারা, পুরো সঙ্গীতকেই ঢালাওভাবে বাতিল করেছেন কিছু হাদিস ও কোরানের দুটো আয়াতের উদ্ধৃতি দিয়ে  আয়াত দুটো হল (১) সুরা লোকমান ৬ একশ্রেণীর লোক আছে যারা মানুষকে আল্লাহর পথ হইতে গোমরাহ করার উদ্দেশ্যে অবান্তর কথাবার্তা সংগ্রহ করে…”, এবং (২) বনি ইসরাইল ৬৪ (আল্লাহ শয়তানকে বলছেন) তুই তাদের মধ্য থেকে যাকে পারিস স্বীয় আওয়াজ দ্বারা, অশ্বারোহী ও পদাতিক বাহিনী নিয়ে সত্যচ্যুত করে তাদেরকে আক্রমণ কর।

তারা বলেন, সুরা লোকমান ৬-এর অবান্তর কথাবার্তা’- নাকি সঙ্গীত (মওলানা মুহিউদ্দিনের কোরানের অনুবাদ, পৃঃ ৭৮৩ ও ১০৫৩-৫৪)  কি হাস্যকর। আম জিনিসটা আমই, জামও নয় কাঁঠালও নয়। ‘অবান্তর কথাবার্তা’  অবান্তর কথাবার্তাই, অন্যকিছু নয়। একই খেলা করা হয়েছে বনি ইসরাইলের ৬৪ নম্বর আয়াত নিয়েও

এর অনুবাদ করা হয়েছে:- তুই তোর চেলাবেলা, লোক-লস্কর দ্বারা ও রাগ-রাগিনী গান-বাজনা ও বাদ্যবাজনা দ্বারা মানুষকে বিপথগামী করার চেষ্টা চালিয়ে যা।”  

অনুবাদটা ডাঁহা মিথ্যা। সঙ্গীতের আরবি শব্দ মুসিকি”, আয়াতটায় আছে সাওতঅর্থাৎ আওয়াজ কিছু সত্যনিষ্ঠ অনুবাদও আছে, যেমন – “তুই সত্যচ্যুত করে তাদের মধ্য থেকে যাকে পারিস স্বীয় আওয়াজ দ্বারা…” – হাবিবুর রহমান।   

তাদের হাদিসগুলো কারযাভী, আবু বকর আল্ আরাবি, ইবনে হাজম প্রভৃতি ইমামেরা সরাসরি বাতিল করেছেন যা ওপরে দেখিয়েছি, এবারে চলুন সেই বিশেষজ্ঞদের কথা শুনি যা আমাদের ইমামেরা বলেন না।

১. রসুল (সাঃ) বিবাহ-অনুষ্ঠানে গানের শুধু অনুমতিই দেন নাই বরং বালিকাদের গান শুনিয়াছেন।এমনি এক অনুষ্ঠানে যখন তাহারা গাহিতেছিল আমাদের মধ্যে এক রসুল আছেন যিনি জানেন আগামীকাল কি ঘটিবে’ − তখন তিনি তাহাদিগকে থামাইয়া বলিয়াছেন এই বাক্যটি বাদ দাও এবং গাহিতে থাক।ইহাকে শুধু বিবাহ- অনুষ্ঠানের অনুমতি মনে করিবার কোনই কারণ নাই।” (অর্থাৎ বিয়ের অনুষ্ঠান ছাড়াও গানকে নবীজী অনুমতি দিয়েছেন)। ক্যানাডার সুবিখ্যাত ইমাম শেখ আহমেদ কুট্টি।

২. হজরত ওমর(রঃ)-এর আবাদকৃত শহরের মধ্যে দ্বিতীয় হইল বসরা। আরবি ব্যাকরণ, আরূয শাস্ত্র এবং সঙ্গীতশাস্ত্র এই শহরেরই অবদান” − বিখ্যাত কেতাব আশারা মোবাশশারা’, মওলানা গরীবুল্লাহ ইসলামাবাদী,  ফাজেল-এ দেওবন্দ, পৃষ্ঠা ১০৬।   

৩. অখণ্ড ভারতের সর্বোচ্চ ইসলামি নেতাদের অন্যতম, ভারতীয় কংগ্রেসের দুদুবার সভাপতি, কোলকাতার ঈদের নামাজ পড়ানোর পেশ ইমাম মওলানা আবুল কালাম আজাদ বলেছেন : পয়গম্বর দাউদ (আঃ)-এর কণ্ঠস্বর অত্যন্ত মিষ্টি ছিল। তিনি সর্বপ্রথম হিব্রু সঙ্গীতের সঙ্কলন করেন ও মিশরের ও ব্যাবিলনের গাছ হইতে উচ্চমানের বাদ্যযন্ত্র উদ্ভাবনা করেন” − তাঁর তর্জুমান আল্ কুরাণ, ২য় খণ্ড পৃঃ ৪৮০।

৪. যাঁদের পড়ার ধৈর্য নেই কিন্তু নাটক-সিনেমার পোকা তাঁরা দেখুন পাকিস্তানি ছায়াছবি খুদা কে লিয়ে’ − নাসিরুদ্দীন শাহ্ দুর্ধর্ষ অভিনয় করেছেন দরবেশের ভূমিকায়ওটাতেও সহি হাদিসের উদ্ধৃতি দিয়ে দেখানো হয়েছে ইসলামে গান হারাম নয়।

৫. ইমাম গাজ্জালী: “নবী করিম (সাঃ) হযরত আবু মুসা আশআরী (রাঃ) সম্পর্কে বলিয়াছেন তাঁহাকে হযরত দাউদ (আঃ) এর সংগীতের অংশ প্রদান করা হইয়াছে” − মুরশিদে আমিন, পৃষ্ঠা ১৭০ এমদাদিয়া লাইব্রেরী।

ফেরা যাক প্রয়াত আইয়ুব বাচ্চুর কাছে “কথাগুলো বলে তিনি হাউমাউ করে কাঁদতে শুরু করে দিলেন….. অনুরোধ করলেন যে উনি জীবিত থাকা অবস্থায় আমরা যাতে ওনার এই আর্থিক সহযোগিতার কথা কাউকে না বলি”।  

হ্যাঁ, এরই নাম আইয়ুব বাচ্চু। গরীব মারা যাচ্ছে, ফেসবুকে এ খবর পেয়েই যিনি বারবার ছুটে যেতেন হাসপাতালে, তার লক্ষ লক্ষ টাকার গোপন দানে বেঁচে গেছে অনেক গরীবের প্রাণ। এরই নাম আইয়ুব বাচ্চু যিনি নাকি দোজখে যাবেন। তার মৃত্যুর পর আজ যে ইমামেরা তাঁর গীবত করছেন (তাদের উৎকট ভঙি আর কদর্য ভাষার কথা নাই বা বললাম) তারাও নিশ্চয় গোপনে লক্ষ লক্ষ টাকা দিয়ে অনেক গরীবের প্রাণ বাঁচাচ্ছেন, তারা গত হলে আমরা তাও জানব আশা করি!

আর, বাড়াবাড়ি করা ? ‘সঙ্গীত হারামবলাও তো সেই বাড়াবাড়ি মায়েদা ৭৭, নিসা ১৭১ ও বিদায় হজ্বের ভাষণ।   সঙ্গীত আমাদের সসীম জীবনে এক টুকরো অসীমের ছোঁয়া। গান যে ভালবাসে না সে মানুষ খুন করতে পারে। সঙ্গীত আজ বিশাল ইন্ডাস্ট্রি, সেখানে লক্ষ লোক পরিবার পালছেন, বাচ্চাদের বড় করছেন, প্রতিভার বিকাশ ঘটাচ্ছেন  

আলেমরা খেয়াল করছেন না যে, যা তারা বলছেন তা তাদেরই বিরুদ্ধে যায়। কারণ তারাই দাবি করেন ইসলাম ‘ফিতরাত’ এর অর্থাৎ স্বভাবের ধর্ম   তারা খেয়াল করছেন না, যে আদিকাল থেকে সঙ্গীত মানুষের ফিতরাত অর্থাৎ স্বভাব। মানুষ কখনোই সঙ্গীত ছাড়া থাকেনি, থাকবেও না। প্রমাণ অতীতের গুহার দেয়ালে-চিত্রে ও বর্তমানে বিশ্বব্যাপী সঙ্গীতের প্রবল বন্যায়। তাই প্রাকৃতিক আইনেই তাদের দাবি টিকবে না।

তাদের বলার অধিকার আছে, তারা বলেছেন, বলছেন, বলতে থাকুন, জাতি শোনেনি শুনবেনা। কিন্তু পরিবর্তন তাদের হাত দিয়েই আসবে, ধৈর্য্য ধরতে হবে। হ্যাঁ, গ্যাপ একটা আছে বটে। সাধারণত এরকম নিবন্ধের পাঠক তাদের ওয়াজে যান না এবং ওয়াজের শ্রোতারা এরকম নিবন্ধ পড়েন না।

তাই সমাজ এগোয় না কারণ চিন্তার সংঘাতই সামাজিক অগ্রগতির চালিকাশক্তি। সবাই যদি এরকম দলিলগুলো ওই আলেম ও তাদের শ্রোতাদের কাছে পৌঁছে দেন তবে সময়ের সাথে কিছুটা ফল আশা করা যায়।   

আলেমরাও একদিন গত হবেন কিন্তু কিংবদন্তীর মৃত্যু নেই…

হাসান মাহমুদসাংস্কৃতিক ও মানবাধিকার কর্মী, শারিয়া আইনের ওপর দীর্ঘদিনের গবেষক, লেখক ও আন্তর্জাতিক সম্মেলনের বক্তা

৩৪ Responses -- “আইয়ুব বাচ্চু বনাম আমাদের ইমামেরা   ”

  1. আহমাদ

    ‘‘‘আমার উম্মাতের মধ্যে অবশ্যই এমন কতগুলো দলের সৃষ্টি হবে , যারা ব্যভিচার, রেশমী কাপড় , মদ ও বাদ্যযন্ত্রকে হালাল জ্ঞান করবে’’’ – সহীহ বুখারী [ ihadis.com/books/bukhari/hadis/5590 ]
    দফ ছাড়া সব বাদ্যযন্ত্রই ইসলামে হারাম।

    Reply
  2. রূপক কবির

    ওয়াজের নামে যে মাইক লাগিয়ে মানুষের কান ঝালপালা করে কষ্ট দেওয়া হয় সেইটা কেমন হালাল?

    Reply
  3. reaz rabbani

    এই সব অর্ধ মূর্খদের ( অর্ধ শিক্ষিত বলতেও আমার আপত্তি) নিয়ে কথা বলাও সময়ের অপচয়। এদের নিয়ে কথা বলা মানে উল্টো লাইম লাইটে আনা তাদের। islam is the best religion but it has the worst followers, আর সেটার মূল কারণ এই সব ছাগলের হাতে ধর্মের মত মারাত্মক অস্ত্র তূলে দেওয়া।

    Reply
  4. AY Zobayer

    গান, কবিতা, বক্তৃতা কিংবা যে কোনো বিষয়ে হক্কপন্থী আলেমগণ কর্তৃক হারাম হওয়ার কারণ পাওয়া গেলে তা হারাম। অশ্লীলতা কিংবা হারাম বাদ্য বাজনা থাকলে সেই গান হারাম। সুতরাং, আলেমদের ফতোয়াকে বিশ্লেষণ করে তারপর গঠনমূলক কলাম লিখলে ভালো হয়।

    Reply
  5. Anisur Rahman Alif

    লেখকের সাথে সহমত প্রকাশ করে বলছি, মহান সৃষ্টিকর্তা এই জগত সংসার সৃষ্টি করেছেন দুটি অবস্থার উপর ভিত্তি করে যথা: পজিটিভ চার্জ এবং নেগেটিভ চার্জ। প্রতিটি বিষয়ের মধ্যেই এই দুটি অবস্থা বিদ্যমান। আপনি কুরআন পড়ে মানুষ অথবা অমানুষ দুটোই হতে পারেন এটা কোরআন-ই সুরা বাকারার মধ্যে আপনাকে বলছে।

    মদ্যপান করা হারাম এটা তো সকলেই জানেন কিন্তু প্রতিটি খাবারের মধ্যে পথ্যের মধেই তো মদ(অ্যালকোহল রয়েছে)। হারাম কেন হারাম আর হালাল কেন হালাল এটা বুঝতে হবে আগে। বলা হচ্ছে নিজের জীবন বাঁচাতে মরা শুকরের মাংশ খাওয়াও হালাল। এর মানে কী? এর মানে হচ্ছে অবস্থা বুঝে ব্যবস্থা। কিছু দিন আগ পর্যন্ত কতিপয় মস্তিষ্কহীন হুজুররা বলেছেন টিভি দেখা হারাম এখন তো দেখি টিভির পর্দাায় নিজেদেরকে দেখানোর জন্য তারাই সবার আগে।

    এক কথায় বলি, জিনিস যদি ভালো হয় তবে সেটা সকল অবস্থাতেই গ্রহণযোগ্য। আর জিনিস যদি মন্দ হয় তবে সেটা সকল অবস্থাতেই অগ্রহণযোগ্য।
    কোরআনে অসংখ্য জায়গায় উল্লেখ রয়েছে “আর ইহা তো জ্ঞানী সম্প্রদায়ের জন্য” একটা কথা মনে রাখতে হবে সবার জন্য সব কিছু নয়। কতিপয় হুজুররা কেন গান শুনবে? যাদের কাছে নারী জাতী হচ্ছে তেতুলের টক তারা বোধকরি সুযোগ পেলে তাদের মা বোনদেরও রেহাই দেবে না। ভাল মন্দ যারা বিচার করতে জানে না বোঝে না তাদের কথায় অবশ্য কিছু এসে যায় না। গাঁধাকে যতই রং করুন গাঁধা কখনও ঘোড়া হবে না। হজরত মুহাম্মদ (সাঃ) ও তার চাচারে ক্ষেত্রে পারেন নি কারণ মহান সৃষ্টিকর্তা তাকে সেই হেদায়েত দেন নি।

    যারা সমগ্র সঙ্গীতকে হারাম বলছে আমি বলব “ভালো মন্দ জ্ঞানই তাদের নেই”।

    Reply
    • সরকার জাবেদ ইকবাল

      আনিস সাহেব, আপনার সঙ্গে সহমত পোষণ করে বলছি, সবকিছুই নির্ভর করে নিয়তের উপর। একটি বন্দুকের কোন অপরাধ নেই। যখন বন্দুক কোন ডাকাতের হাতে থাকবে তখন তা ডাকাতির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার হবে। আর, যখন একটি বন্দুক কোন সৈনিকের হাতে থাকবে তখন তা হবে দেশরক্ষার হাতিয়ার। তেমনি, সঙ্গীতের কোন অপরাধ নেই। বিষয়টি নির্ভর করছে সঙ্গীতকে কিভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে। লক্ষ্য করুন, ‘৭১ সালে সঙ্গীত হয়ে উঠেছিল দেশপ্রেমের উৎস; যুদ্ধজয়ের হাতিয়ার। আর, আমরা সবাই জানি দেশপ্রেম ঈমানেরই অঙ্গ।

      Reply
  6. মোঃ আবু বকর

    ভবিষ্যত আল্লাহ বলতে পারেন। কে দোযখে যাবেন কে বেহেস্তে যাবেন তাও আল্লাহ ভাল জানেন। যদি গান গাওয়া হারাম হয় তাহলে আল্লাহ তার শাস্তি তাঁকে দিবেন। কিন্তু কোরাণে স্পস্ট উল্লেখ আছে তুমি বান্দা আমার রহমত থেকে নিরাশ হয়ও না। অবশ্যই তার ভাল কাজের সুফল তাকে দিবেন। পাপ, পূণ্য মিলে মানুষ। মানব জাতী যদি পাপ না করতো তাহলে আল্লাহ অন্য কোন জাতী সৃষ্টি করতো আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনার জন্য। যা বলা হচ্ছে তা হচ্ছে সম্পূর্ণ গিবত। গিবত কি তা আমরা মুসলমান বলতেই জানি। সুতরাং কোন সমালোচনা না করা শ্রেয় বলে আমি মনে করি।

    Reply
  7. আরিফ

    আইয়ুব বাচ্চু কিংবা জনৈক আলেম জান্নাতে বা জাহান্নামে যাবেন কিনা সেই সিদ্ধান্ত আল্লাহকেই নিতে দেন। অনেক মানুষ থাকার কথা যারা দীর্ঘ্যদিন জাহান্নামে পুড়ে পুড়ে একসময় জান্নাতে যাবেন। সুতরাং ‘অমুক’ জান্নাতে যাব এবং ‘অমুক’ জাহান্নামে যাবে দুটোই একই সাথে সত্য এবং মিথ্যা হতে পারে তাই সেগুলো অগ্রিম আমাদের বলা উচিত না।

    পরে আসি সঙ্গিতের কথায়, এত ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ করে সঙ্গিত হালাল/হারাম বানানোর বিশাল কোন উপকার আছে বলে আমার মনে হয় না। সঙ্গিত বা কবিতা হল কিছু শব্দের শ্রুতিমধুর সম্মেলন। এটা ভালো কথা বললে ভালো আর খারাপ কথা বললে খারাপ। সমস্যা হলো এটা তার দৈনন্দিন কর্তব্য থেকে বিরত করতে উদ্যত হয় কিনা বা অন্যায়কে উসকে দেয় কিনা।

    সবচেয়ে বড় সমস্যা হল এখনকার সমাজের এই কথিত ওয়াজ বা হুজুরগুলো, সমস্যা এই কারনে যে তারা নিজেদের জীবিকা নির্বাহের জন্য যা ইচ্ছা তাইই বলে যাচ্ছে, যুক্তি-তর্কের বদলে জোর-জবরদস্তি মূলক বানী শুনাচ্ছে এবং এক শ্রেণীর জনগোষ্ঠীকে জ্ঞান-বিজ্ঞান থেকে দূরে রেখে ডেস্পারেট মুর্খ বানিয়ে রাখতেছে। সুন্দর ইসলামিক চর্চা যে একটি সুন্দর সমাজ গঠন করতে পারে তার নমুনা ১৪০০ বছর আগেই পৃথিবী দেখেছে। এরা আমাদের জনতাকে কি সেই রাস্তায় নিচ্ছে না অন্য একটি ব্যার্থতার শৃংখলে আটকে রাখছে সেটা বিচার করার নুন্যতম জ্ঞানই এদের অধিকাংশের নাই। যদি থাকত তাহলে কে কে জাহান্নামী তার লিস্ট না করে সমাজ গঠনেই তারা বেশী কাজ করত।

    Reply
  8. মোঃ একরামুল ইসলাম

    আমার মতামত হচ্ছে যে, আমরা (সব প্রাপ্ত বয়স্ক মানুষ) কিন্তু সবই বুঝি
    কিন্তু বুঝেও না বুঝার ভান করে নানা রকম জ্ঞানের বুলি ছাড়ি নানা রকমের রেফারেন্স দিয়ে, কিন্তু এটা বুঝার চেষ্ঠা করি না যে, আমরা যারা হালাল-হারামকে তথা ইসলামকে বিভিন্ন ভাবে কালার দিয়ে মানুষের কাছে বিকৃত ভাবে উপস্থাপন করি এবং মানুষকে বিভ্রান্তিতে ফেলে দিয়ে মানুষকে আল্লাহ বিমুখ করে তুলি, তাহলে যে আমি একজন জ্ঞান মুর্খ ও জ্ঞান পাপী ।

    Reply
  9. শুভ্র

    প্রথমত “সঙ্গীত”কে সুনির্দিষ্টভাবে সঙ্গায়িত করতে হবে। তারপর হালাল হারামের ব্যাপার

    Reply
  10. Mokarram Billh

    যে লেখক মওলানা মুহিউদ্দিনের কোরানের অনুবাদকে ডাঁহা মিথ্যা বলে তার লেখাও আমরা মিথ্যাই মনে করি। হাদীসের অনুবাদগুলাে আংশিক নেয়া হয়েছে। সঙ্গীতকে বিশাল ইন্ডাস্ট্রি বলে সেখানে লক্ষ লোক পরিবার পালছেন, বাচ্চাদের বড় করছেন, প্রতিভার বিকাশ ঘটাচ্ছেন বলে বাহ বাহ নেয়ার চেষ্ঠা করেছেন। আপনাকে বলি পতিতাবৃত্তিও একটি পাবলিক সার্ভিস। এর দ্বারা লক্ষ লোক পরিবার পালছেন, বাচ্চাদের বড় করছেন, প্রতিভার বিকাশ ঘটাচ্ছেন তাই বলে কি পতিতাবৃত্তিকে হালাল বলব নাকি যদিও সে পতিতাবৃত্তির টাকা দিয়ে হাজারটা মসজিদ তৈরি করে দেন। পুরাে লিখাটি বিভ্রান্তিমুলক।

    Reply
  11. সোহেল

    কোনো দেশ কখনই অনুসরনীয় হতে পারে না। অনুসরণ করতে হবে কোরাণ ও হাদিস। সৌদিতে সিনেমা হলের অনুমতি সরকার দিয়ে দিয়েছে। তাহলে কি সৌদিকে অনুসরণ করে সিনেমা হালাল হয়ে গেল??

    Reply
  12. Md. Abdullah Al Mamun

    স্যার, এমন একটি সময়োপযোগী লেখনীর জন্য আপনাকে আন্তরিক অভিনন্দন জানাচ্ছি। কেন উলুবনে মুক্ত ছড়াচ্ছেন জনাব, কবি গুরু অনেক আগেই বলেছেন “সাত কোটি সন্তানেরে রেখেছো বাঙ্গালী করে মানুষ করোনি”। ৯৯.৯৯% বাঙালি আজ ওহাবী ধর্মে উজ্জীবিত, বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকর্মীদের সাথে কথা বলে বুঝতে পেরেছি তাদের ধর্মীয় সহনশীলতা কাঠমোল্লাদের থেকেও কম। অদূর ভবিষ্যতে বাংলাদেশকে নিয়ে বিন্দুমাত্র কোনো আশঙ্কা নেই, যে সেটি দ্রুত একটি তালেবান রাষ্ট্রে পরিণত হতে যাচ্ছে।

    Reply
  13. শুভ্র

    যে কথায় অর্ধেক সত্য আর অর্ধেক মিথ্যা থাকে তাকে খন্ডন করা বড়ই দুরূহ। আল্লাহ আমাকে, আমাদেরকে এবং লেখককে সহীহ ইসলাম বুঝার তৌফিক দান করুক। আমিন।।

    Reply
  14. Sheikh Jillur Rahman

    স্কুলে আমাদের শিশু-কিশোরদের সাধারণ শিক্ষার পাশাপাশি অত্যন্ত সুকৌশলে শিক্ষা দেওয়া হচ্ছে গান, বাজনা, তবলা, সারিন্দা, হারমুনিয়াম ইত্যাদি । ওদের মুরুব্বী আবুজেহেল, আবু লাহাবেরা পবিত্র কোরআনের প্রচার-প্রসারে বিঘ্নতা সৃষ্টির লক্ষ্যে যে আদর্শ (?) রেখে গেছে, তা-ই তারা অবলম্বন করছে মাত্র । মক্কার কাফের মুশরিকরা কোরআন শিক্ষা তথা কোরআন শ্রবণ থেকে মানুষদের বিরত রাখার জন্য ঘোষণা দিয়েছিল । وَقَالَ الَّذِينَ كَفَرُوا لَا تَسْمَعُوا لِهَذَا الْقُرْآَنِ وَالْغَوْا فِيهِ لَعَلَّكُمْ تَغْلِبُونَ অর্থঃ আর কাফেরেরা বলে, তোমরা এ কোরআন শ্রবণ করোনা, এবং এর আবৃত্তিতে হট্টগোল সৃষ্টি কর, যাতে তোমরা জয়ী হও । ( সূরা হা-মীম সেজদা আয়াত: ২৬) তাফছিরে কুরতুবীতে লিখেন :- হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাঃ) বলেন, আবু জেহেল অন্যদেরকে প্ররোচিত করল যে, মুহাম্মদ যখন কোরআন তেলাওয়াত করে, তখন তোমরা তার সামনে গিয়ে হৈ-হুল্লোড় করতে থাকবে, যাতে সে কি বলছে তা কেউ বুঝতে না পারে । কেউ কেউ বলেন, কাফেরেরা শিশ দিয়ে, তালি বাজিয়ে এবং নানারূপ শব্দ করে কোরআন শ্রবণ থেকে মানুষকে বিরত রাখার প্রস্তুতি নিয়েছিল । ( সংক্ষেপিত মাআরিফুল কোরআন -১২০৪ পৃঃ) কোরানের দলীল: আল্লাহ তাআলা সূরা লুকমানে আখেরাত-প্রত্যাশী মুমিনদের প্রশংসা করার পর দুনিয়া-প্রত্যাশীদের ব্যাপারে বলছেন, ((وَمِنَ النَّاسِ مَنْ يَشْتَرِي لَهْوَ الْحَدِيثِ لِيُضِلَّ عَنْ سَبِيلِ اللَّهِ بِغَيْرِ عِلْمٍ وَيَتَّخِذَهَا هُزُوًا أُولَئِكَ لَهُمْ عَذَابٌ مُهِينٌ)) অর্থঃ “এক শ্রেণীর লোক আছে যারা মানুষকে আল্লাহর পথ থেকে পথভ্রষ্ট করার উদ্দেশ্যে অবান্তর কথাবার্তা সংগ্রহ করে অন্ধভাবে এবং উহাকে (আল্লাহর পথ) নিয়ে ঠাট্টা বিদ্রুপ করে । এদের জন্যে রয়েছে অবমাননাকর শাস্তি”। (সূরা লোকমান আয়াত ০৬) উক্ত আয়াতের শানে নুযূলে বলা হয়েছে যে, নযর ইবনে হারিস বিদেশ থেকে একটি গায়িকা বাঁদী খরিদ করে এনে তাকে গান-বাজনায় নিয়োজিত করল । কেউ কুরআন শ্রবণের ইচ্ছা করলে তাকে গান শোনানোর জন্য সে গায়িকাকে আদেশ করত এবং বলত মুহাম্মদ তোমাদেরকে কুরআন শুনিয়ে নামায, রোযা এবং ধর্মের জন্য প্রাণ বিসর্জন দেওয়ার কথা বলে । এতে শুধু কষ্টই কষ্ট । তার চেয়ে বরং গান শোন এবং জীবনকে উপভোগ কর । -মাআরিফুল কুরআন ১০৫২ পৃঃ হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. কে উক্ত আয়াতের ‘লাহওয়াল হাদীস’-এর ব্যাখ্যা জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, ‘তা হল গান’ । আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা., আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা. একই কথা বলেন । তাবেয়ী সায়ীদ ইবনে যুবাইর থেকেও অনুরূপ মত বর্ণিত হয়েছে । বিখ্যাত তাবেয়ী হাসান বসরী রাহ. বলেন, উক্ত আয়াত গান ও বাদ্যযন্ত্রের ব্যাপারে নাযিল হয়েছে, যা বান্দাকে কুরআন থেকে গাফেল করে দেয় । (তাফসীরে ইবনে কাসীর ৩/৪৪১. তাফসিরে তাবারী) কুরআন মজীদের অন্য আয়াতে আছে, ইবলিস-শয়তান আদম সন্তানকে ধোঁকা দেওয়ার আরজী পেশ করলে আল্লাহ তাআলা ইবলিসকে বললেন, -“তোর আওয়াজ দ্বারা তাদের মধ্য থেকে যাকে পারিস পদস্খলিত কর।” -সূরা ইসরা : ৬৪ এ আয়াতের ব্যাখ্যায় আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা. বলেন, যে সকল বস্তু পাপাচারের দিকে আহ্বান করে তাই ইবলিসের আওয়াজ । বিখ্যাত তাবেয়ী মুজাহিদ রাহ. বলেন, ইবলিসের আওয়াজ বলতে এখানে গান ও বাদ্যযন্ত্রকে বোঝানো হয়েছে । আল্লামা ইবনুল কাইয়্যিম রাহ. বলেন, এটা বলার অপেক্ষা রাখে না যে, যেসব বস্তু পাপাচারের দিকে আহ্বান করে তার মধ্যে গান-বাদ্যই সেরা । এজন্যই একে ইবলিসের আওয়াজ বলে আখ্যায়িত করা হয়েছে । -ইগাছাতুল লাহফান ১/১৯৯ হাদীসের দলীলঃ- হযরত জাবির (রা) থেকে বর্ণিত, হুজুর (স.) ইরশাদ করেন, গান মানুষের অন্তুরে মুনাফেকির জন্ম দেয় যেমন পানি শস্য উৎপাদন করে । – বায়হাকী, মিশকাত : ৪১১ সাহাবী ও তাবেয়ীদের ভাষ্য অনুযায়ী বহু গুনাহর সমষ্টি হল গান ও বাদ্যযন্ত্র । যথা : ক) নিফাক এর উৎস খ) ব্যভিচারের প্রেরণা জাগ্রতকারী গ) মস্তিষ্কের উপর আবরণ ঘ) কুরআনের প্রতি অনিহা সৃষ্টিকারী ঙ) আখিরাতের চিন্তা নির্মূলকারী চ) গুনাহের প্রতি আকর্ষণ সৃষ্টিকারী ও ছ) জিহাদী চেতনা বিনষ্টকারী । -ইগাছাতুল লাহফান ১/১৮৭ অন্য এক হাদিসে এসেছে, হযরত আবু উমামা (রাজিঃ) থেকে বর্ণিত, রাসুল {সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওসাল্লাম} ইরশাদ করেন : তোমরা গায়িকা নারীদের বেচা-কেনা করো না, ওদেরকে গান শিক্ষা দিও না, ওদের ব্যবসায় কোন প্রকার কল্যাণ নেই, ওদের উপার্জিত পয়সা হারাম, আর ওদের ক্ষেত্রেইতো পবিত্র কোরআনের এই আয়াত { وَمِنْ النَّاسِ مَنْ يَشْتَرِي لَهْوَ الْحَدِيثِ لِيُضِلَّ عَنْ سَبِيلِ اللَّهِ } অবতীর্ণ হয়েছে । (জামে তিরমিযী হাদীস : ১২৮২; ইবনে মাজাহ হাদীস : ২১৬৮) হযরত আবু উমামা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসুল {সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওসাল্লাম} ইরশাদ করেছেন যে, মহান আল্লাহ আমাকে জগদ্বাসীর জন্য রহমত ও বরকত এবং হিদায়ত ও পথপ্রদর্শক হিসাবে প্রেরণ করেছেন । আর আমার সেই প্ররাক্রমশালী প্রভু আমাকে সর্বপ্রকারের ঢোল তবলা, যাবতীয় বাদ্যযন্ত্র, মূর্তিপূজা, শূলি ও ক্রুশ থেকে এবং জাহেলী যুগের কুপ্রথা ও কুসংস্কার নির্মূল ও ধংস সাধনের নির্দেশ দিয়েছেন । (ইমাম আহমাদ, সূত্র : মিশকাতুল মাসাবিহ, ২/৩১৮) হযরত জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওসাল্লাম) ইরশাদ করেছেন, গানবাজনা মানুষের অন্তরে মুনাফেকী উৎপাদন করে যেমন পানি শস্য উৎপাদন করে থাকে । (মিশকাত ২/৪১১) অন্য এক হাদিসে এসেছেঃ হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. বলেন, পানি যেমন (ভূমিতে) তৃণলতা উৎপন্ন করে তেমনি গান মানুষের অন্তরে নিফাক সৃষ্টি করে । -ইগাছাতুল লাহফান ১/১৯৩; তাফসীরে কুরতুবী ১৪/৫২ বিখ্যাত তাবেয়ী হযরত নাফে’ রাহ. থেকে সহীহ সনদে বর্ণিত, তিনি বলেন, একবার চলার পথে আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা. বাঁশির আওয়াজ শুনলেন । সঙ্গে সঙ্গে তিনি দুই কানে আঙ্গুল দিলেন । কিছু দূর গিয়ে জিজ্ঞাসা করলেন, হে নাফে’! এখনো কি আওয়াজ শুনছ ? আমি বললাম হ্যাঁ । অতঃপর আমি যখন বললাম, এখন আর আওয়াজ শোনা যাচ্ছে না তখন তিনি কান থেকে আঙ্গুল সরালেন এবং বললেন, একদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম চলার পথে বাঁশির আওয়াজ শুনে এমনই করেছিলেন । -মুসনাদে আহমদ হাদীস : ৪৫৩৫; সুনানে আবু দাউদ হাদীস : ৪৯২৪ বিখ্যাত তাবেয়ী মুজাহিদ রাহ. থেকেও এমন একটি হাদীস বর্ণিত হয়েছে ।-ইবনে মাজাহ হাদীস : ১৯০১ একদিন হযরত আয়েশা রা.-এর নিকট বাজনাদার নুপুর পরে কোনো বালিকা আসলে আয়েশা রা. বললেন, খবরদার, তা কেটে না ফেলা পর্যন্ত আমার ঘরে প্রবেশ করবে না । অতঃপর তিনি বললেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, যে ঘরে ঘণ্টি থাকে সেই ঘরে রহমতের ফেরেশতা প্রবেশ করে না ।-সুনানে আবু দাউদ হাদীস : ৪২৩১; সুনানে নাসাঈ হাদীস : ৫২৩৭; রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, ঘণ্টি বাজা ঘুঙুর হল শয়তানের বাদ্যযন্ত্র ।-সহীহ মুসলিম হাদীস : ২১১৪ রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়া সাল্লাম বলেছেন , আমার উম্মতের কিছু লোক মদের নাম পাল্টিয়ে তা পান করবে এবং বাদ্যযন্ত্র সহকারে গান করবে । আল্লাহ তাআলা তাদের ভুগর্ভে বিলীন করে দিবেন এবং কতকের আকৃতি বিকৃত করে বানর ও শুকরে পরিনত করে দিবেন । [ সুনানে ইবনে মাজাহ : ৪০২০ , সহীহ ইবনে হিব্বান : ৬৭৫৮ , আততিরমিযি বর্ণিত হাদীস নং-২২১২, জামিহ আল কাবির বুখারী কৃত , সুনানে বায়হাকী , মুসান্নাফে ইবনে শায়বা , আল মুজাম তাবরানী কৃত , বগভী, আদ দানি , আল সিলসিলাহ আস-সহীহাহ- ২২০৩, দাম আল মালাহী; ইবনে আবি দুনিয়া সহ আরো অনেক হাদীস গ্রন্থে বর্নিত হয়েছে] রাসুল (সঃ) ইরশাদ করেন: আমার উম্মতের মধ্যে এমন কিছু লোক আসবে যারা ব্যভিচার, রেশমী কাপড়, মদ এবং বাদ্যযন্ত্রকে বৈধতা দেবে । (আল বুখারী বর্ণিত, দেখুন আল ফাতহ, ১০/৫১) । রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, “আমার উম্মতের মধ্য হতে একদল লোক এমন হবে যারা ব্যভিচার, রেশমি বস্ত্র পরিধান, মদ পান এবং বাদ্যযন্ত্র ব্যবহার ইত্যাদি হালাল মনে করবে । এবং কিছু লোক এমন হবে যারা একটি পর্বতের নিকটে অবস্থান করবে এবং সন্ধ্যাবেলায় তাদের মেষপালক তাদের নিকট মেষগুলো নিয়ে আসবে এবং তাদের নিকট কিছু চাইবে, কিন্তু তারা বলবে, ‘আগামীকাল ফেরত এসো’। রাতের বেলায় আল্লাহ তায়ালা তাদেরকে ধ্বংস করে দিবেন এবং তাদের উপর পর্বত ধ্বসিয়ে দিবেন, বাকি লোকদেরকে তিনি বানর ও শূকরে পরিণত করে দিবেন এবং শেষ বিচারের দিন পর্যন্ত তারা এই অবস্থায় থাকবে”। [বুখারী, ভলিউম ৭, বুক ৬৯, সংখ্যা ৪৯৪] হযরত আবদুল্লাহ্ ইবনে ওমর (রাদ্বিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন,রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এরশাদ করেন, নিশ্চয় আল্লাহু রাববুল আলামিন হারাম করে দিয়েছেন আমার উম্মতের উপর মদপান করা, জুয়া খেলা, বাশিঁ বাজানো, তবলা ও বাদ্যযন্ত্র । আমার জন্য বৃদ্ধি করে দিয়েছেন বিতরের নামাজ । বিখ্যাত মুহাদ্দিস ইয়াজিদ বলেন, হাদিসে কাইনান বলতে বাদ্যযন্ত্রকে বুঝানো হয়েছে । (মুসনাদে আহমদ ২য় খন্ড পৃ: ১৬৫) হযরত আবদুর রহমান ইবনে ছাবেত (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসুলে করিম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এরশাদ করেন আমার উম্মতে ‘ষুসুফ’তথা জমিন ফেটে ঢুকাই ফেলা ‘ক্বুযুফ’ তথা পাথর বর্ষন মুসান্নাহ তথা চেহারা পাল্টানো হবে সাহাবারা জিজ্ঞাসা করলেন তা কখন হবে ইয়া রাসুলুল্লাহ ? রাসুল (সাল্লাল্লহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, যখন বাদ্যযন্ত্র প্রকাশ্য করবে এবং মদকে হালাল করে দেবে । (আবু দাউদ ২য় খন্ড পৃষ্ঠা- ১৬৩) হযরত আলী (রাদ্বিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন , রাসুলে খোদা (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এরশাদ করেন আমি প্রেরিত হয়েছি বাদ্যযন্ত্রকে ভেঙ্গে দেওয়ার জন্য । অতঃপর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, গায়ক গায়িকার জীবিকা (গানের মাধ্যমে) হারাম এবং ব্যাবিচারের জীবিকা হারাম । যে শরীর হারাম দ্বারা গঠিত তাকে আল্লাহ তা’আলা জাহান্নামে প্রবেশ করাবেন । (কানজুল উম্মাল ১৫ তম খন্ড পৃষ্ঠা ২২৬) হযরত আবু মুছা আল আশইয়ারী (রাহমাতুল্লাহু আলাইহি ) থেকে বর্ণিত রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলইহি ওয়া সাল্লাম) এরশাদ করেন যার দুনিয়ার মধ্যে গান বাজনা শুনবে তাদেরকে জান্নাতে গানের অনুষ্ঠান শুনার অনুমতি দেওয় হবে না অর্থাৎ জান্নাতে প্রবেশের সুযোগ দেওয়া হবে না । (কানজুল উম্মাল ১৫ তম খন্ড) হযরত আবদুল্লাহ বিন আমর (রা) থেকে বর্ণিত, নবী করীম (স.) মদ, জুয়া, কুবা এবং গুবাইরা প্রভৃতিকে নিষেধ করেছেন । তিনি আরও বলেছেন, নেশা সৃষ্টিকারী সব জিনিষই হারাম । – আবু দাউদ, মিশকাত : ৩১৮। কুবা বলা হয় দাবা খেলা অথবা ছোট তবলাকে । গুবাইরা একটি বিশেষ ধরনের মদ । হাবশী লোকেরা যা চুনা থেকে তৈরি করে । হযরত আবু মালেক আশআরী থেকে বর্ণিত, রাসুল (স.) ইরশাদ করেন, আমার উম্মতের মধ্যে এমন একদল লোকের আবির্ভাব ঘটবে যারা রেশম, মদ ও বাদ্যযন্ত্র হালাল মনে করবে । – ইবনে মাজাহ্, ফতোয়া মাওলানা আব্দুল হাই লাখনভী : ২/৮ । ইমাম মালেক রাহ. কে গান-বাদ্যের ব্যাপারে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, কেবল ফাসিকরাই তা করতে পারে । -কুরতুবী ১৪/৫৫ ইমাম শাফেয়ী রাহ. বলেছেন যে, গান-বাদ্যে লিপ্ত ব্যক্তি হল আহমক । তিনি আরো বলেন, সর্বপ্রকার বীণা, তন্ত্রী, ঢাকঢোল, তবলা, সারেঙ্গী সবই হারাম এবং এর শ্রোতা ফাসেক । তার সাক্ষ্য গ্রহণ করা হবে না ।-ইগাছাতুল লাহফান ১/১৭৯; কুরতুবী ১৪/৫৫ হাম্বলী মাযহাবের প্রখ্যাত ফকীহ আল্লামা আলী মারদভী লেখেন, বাদ্য ছাড়া গান মাকরূহে তাহরীমী । আর যদি বাদ্য থাকে তবে তা হারাম । -আহসানুল ফাতাওয়া ৮/৩৮৮ আল্লামা শমসুদ্দীন ছরখাসী রাদ্বিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু বলেন, ঐ গায়কের স্বাক্ষী গ্রহণ যোগ্য নয় , যে তাঁর গানের মাধমে, মানুষ কে একত্রিত করে এবং মানুষ তাঁর দিকে ছুটে আসে । ১৬ তম খন্ড পৃষ্টা নং ১৩২ [মসবুত] আল্লামা ইবনে নুজাইম মিশরী রাদ্বিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু বলেন, ইমাম ফকিহ বযযাবী রাদ্বিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু তাঁর মানাকেবে উল্লেখ করেন, গান যখন বাদ্যযন্ত্রের মাধ্যমে গাওয়া যাবে তখন হারাম হওয়ার ব্যাপারে আলেম সমাজ ঐক্য মতক পোষন করেছেন । বাদ্যযন্ত্র ছাড়া গাওয়ার মধ্য মতানৈক্য রয়েছে । ব্যাখ্যা কারীরা ব্যাখ্যা দেন নাই । হ্যাঁ ‘‘নেহায়া ’’ ও ‘‘ইনায়া’’ নামক কিতাবে রয়েছে বিনোদনের জন্য গান করা প্রত্যেক ধর্মে হারাম । এবং ইমাম মুহাম্মদ রাহমাতুল্লাহু আলাইহি তার প্রসিদ্ধ ‘‘যিয়াদাত’’ নামক কিতাবে বলেন, যেসমস্ত অছিয়ত আমরাও আহলে কিতাবদের মতে হারাম তার মধ্যে গায়ক ও গায়িকার গানের ব্যাপারে অছিয়ত করাও অন্তর্ভুক্ত । অর্থাৎ মারা যাওয়ার পর তার পাশে বা কবরে গান গাওয়ার অছিয়ত করা যাবে না । আর যখন গান গাওয়ার ব্যাপারে ইমাম মুহাম্মদ (র) এর স্পষ্ট ইবারত রয়েছে । সে ক্ষেত্রে উনার মাযহাব অবলম্বিদের মতানৈক্যের কোন অবকাশ থাকে না । [ বাহরুর রায়েখন্ড-৭ পৃষ্টা ৮৮-৮৯ ইমাম ইবন তাইমিয়া (রাহিমুল্লাহ) আরো বলেন সেই ব্যক্তির সম্পর্কে যার স্বভাব হল গান-বাজনা শোনা, “ সে যখন কুরআন তিলাওয়াত শ্রবণ করে তখন সে আবেগাপ্লুত হয় না, অপরদিকে সে যখন শয়তানের বাদ্যযন্ত্র (গান-বাজনা) শ্রবণ করে, সে নেচে উঠে । যদি সে সালাত প্রতিষ্ঠা করে, তবে সে হয় বসে বসে তা আদায় করে অথবা মুরগী যেভাবে মাটিতে ঠোকর দিয়ে শস্যদানা খায় সেভাবে দ্রুততার সাথে আদায় করে । সে কুরআন তিলাওয়াত শ্রবণ করতে অপছন্দ করে এবং তাতে কোন সৌন্দর্য খুঁজে পায় না। তার কুরআনের প্রতি কোন রুচি নেই এবং যখন তা পড়া হয় সে এর প্রতি কোন টান বা ভালোবাসা অনুভব করে না। বরং, সে মু’কা ও তাসদিয়া শুনে মজা পায় । এগুলো শয়তানী আনন্দ এবং সে তাদের অন্তর্ভুক্ত যাদের সম্পর্কে আল্লাহ তায়ালা বলেন, “যে ব্যক্তি দয়াময় আল্লাহর স্মরণ থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়, আমি তার জন্যে একটি শয়তান নিযুক্ত করে দেই, অতঃপর সেই সর্বক্ষণ তার সাথী হয়ে থাকে” । [৪৩-৩৬] [আউলিয়া আর রাহমান] দফ-এর পরিচয় এক প্রকার আরবীয় বাদ্যযন্ত্র, দফ-এর এক পাশ খোলা । বাজালে ঢ্যাব ঢ্যাব আওয়াজ হয় । প্লাস্টিকের গামলা বাজালে যেমন আওয়াজ হবে তেমন । আসলে দফ কোনো বাদ্যযন্ত্রের পর্যায়ে পড়ে না । আওনুল বারী গ্রন্থে দফ-এর পরিচয় দিতে গিয়ে লেখা হয়েছে যে, এর আওয়াজ স্পষ্ট ও চিকন নয় এবং সুরেলা ও আনন্দদায়কও নয় । কোনো দফ-এর আওয়াজ যদি চিকন ও আকর্ষণীয় হয় তখন তা আর দফ থাকবে না; বাদ্যযন্ত্রে পরিণত হবে – আওনুল বারী ২/৩৫৭ । আওনুল বারী গ্রন্থে দফ-এর পরিচয় দিতে গিয়ে লেখা হয়েছে যে, এর আওয়াজ স্পষ্ট ও চিকন নয় এবং সুরেলা ও আনন্দদায়কও নয় । কোনো দফ-এর আওয়াজ যদি চিকন ও আকর্ষণীয় হয় তখন তা আর দফ থাকবে না; বাদ্যযন্ত্রে পরিণত হবে । -আওনুল বারী ২/৩৫৭ ইমাম শাফেয়ী রাহ. শর্তসাপেক্ষে শুধু ওলীমা অনুষ্ঠানে দফ বাজানোর অবকাশ আছে বলে মত দিয়েছেন । কেননা বিয়ের ঘোষণার উদ্দেশ্যে ওলীমার অনুষ্ঠানে দফ বাজানোর অবকাশের বর্ণনা হাদীসে রয়েছে । -জামে তিরমিযী হাদীস : ১০৮৯; সহীহ বুখারী হাদীস : ৫১৪৭, ৫১৬২ মনে রাখতে হবে, এখানে দফ বাজানোর উদ্দেশ্য হল বিবাহের ঘোষণা, অন্য কিছু নয় । -ফাতহুল বারী ৯/২২৬ আর দফ-এর মধ্যে যখন বাদ্যযন্ত্রের বৈশিষ্ট্য এসে যাবে তখন তা সর্বসম্মতিক্রমে নাজায়েয বলে পরিগণিত হবে। -মিরকাত ৬/২১০ সুফী সাধকের নাম ব্যবহারকারী একটি জগতেও আজ আধুনিকতার ছোঁয়া লেগেছে । তাই আধুনিক কিছু সুফী বলে থাকে, বাদ্যসহ যিকির ও কাওয়ালি জায়েয । দলীল হিসেবে তারা সহীহ বুখারী ও সহীহ মুসলিম এ বর্ণিত দুটি বালিকার দফ বাজিয়ে কবিতা গাওয়ার হাদীসটি উপস্থাপন করে । এ প্রসঙ্গে আল্লামা ইবনে হাজার আসকালানী রাহ. লেখেন, উক্ত হাদীসে আয়েশা রা.-এর বর্ণনাই তাদের অবাস্তব দাবির বিরুদ্ধে উৎকৃষ্ট জবাব । গান-বাদ্য যে নাজায়েয এই বিষয়টি স্পষ্ট করার জন্য হাদীসের রাবী হযরত আয়েশা রা. বলছেন, উক্ত বালিকাদ্বয় কোনো গায়িকা ছিল না । তারা কোনো গান গায়নি । -ফাতহুল বারী ২/৪৪২ ইমাম কুরতুবী রাহ. বলেন, গান বলতে যা বুঝায়, বালিকাদ্বয় তা গায়নি। পাছে কেউ ভুল বুঝতে পারে তাই আয়েশা রা. বিষয়টি স্পষ্ট করে দিয়েছেন । ইমাম কুরতুবী আরো বলেন, বর্তমানে একশ্রেণীর সুফীরা যে ধরনের গান ও বাদ্যযন্ত্রের প্রচলন ঘটিয়েছে তা সম্পূর্ণ হারাম । -তাফসীরে কুরতুবী ১৪/৫৪ বিখ্যাত সাধক হযরত জুনাইদ বাগদাদী রাহ. তার যুগে কাওয়ালি শোনা বন্ধ করে দিয়েছিলেন । লোকেরা জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেন, বর্তমানে কাওয়ালি শোনার শর্তগুলো পালন করা হয় না । তাই আমি এর থেকে তওবা করছি । -আহসানুল ফাতাওয়া ৮/৩৯২

    Reply
  15. সরকার জাবেদ ইকবাল

    আমি লেখকের মূল বক্তব্যের সঙ্গে সহমত পোষণ করছি। সঙ্গীতে অশ্লীলতা এবং অশ্লীল অঙ্গভঙ্গিকে বাদ দিয়ে যে সঙ্গীত জীবনের কথা বলে, সংগ্রামের কথা বলে, বেঁচে থাকার কথা বলে, মানুষকে ভালবাসার কথা বলে, চিত্তকে উদার করে তা কেমন করে হারাম হয়? লক্ষ্য করুন, ওয়াজ মাহফিলে বক্তাগণ মাঝে মাঝেই চমৎকার সুরারোপ করে বয়ান করেন। সেগুলো কি সঙ্গীত নয়? সেগুলো কি হারাম?

    তাই প্রয়োজন খোলামনে সঙ্গীতকে বিবেচনা করা এবং জীবনের একান্ত অনুষঙ্গ হিসেবে সঙ্গীতের মর্যাদাকে সমুন্নত রাখা। প্রয়াত শিল্পী আইয়ুব বাচ্চু তাঁর গানে জীবনের কথা বলেছেন, মানুষকে ভালবাসার কথা বলেছেন, অসহায় মানুষকে উদারভাবে সাহায্য করেছেন। তাঁর যে কোন একটি ভাল কাজের উসিলায় আল্লাহ্ তাঁর সমস্ত গুনাহ্ মাফ করে দিন, তাঁকে জান্নাতুল ফেরদাউস নসীব করুন। আমীন।

    Reply
    • Sheikh Jillur Rahman

      স্কুলে আমাদের শিশু-কিশোরদের সাধারণ শিক্ষার পাশাপাশি অত্যন্ত সুকৌশলে শিক্ষা দেওয়া হচ্ছে গান, বাজনা, তবলা, সারিন্দা, হারমুনিয়াম ইত্যাদি । ওদের মুরুব্বী আবুজেহেল, আবু লাহাবেরা পবিত্র কোরআনের প্রচার-প্রসারে বিঘ্নতা সৃষ্টির লক্ষ্যে যে আদর্শ (?) রেখে গেছে, তা-ই তারা অবলম্বন করছে মাত্র । মক্কার কাফের মুশরিকরা কোরআন শিক্ষা তথা কোরআন শ্রবণ থেকে মানুষদের বিরত রাখার জন্য ঘোষণা দিয়েছিল । وَقَالَ الَّذِينَ كَفَرُوا لَا تَسْمَعُوا لِهَذَا الْقُرْآَنِ وَالْغَوْا فِيهِ لَعَلَّكُمْ تَغْلِبُونَ অর্থঃ আর কাফেরেরা বলে, তোমরা এ কোরআন শ্রবণ করোনা, এবং এর আবৃত্তিতে হট্টগোল সৃষ্টি কর, যাতে তোমরা জয়ী হও । ( সূরা হা-মীম সেজদা আয়াত: ২৬) তাফছিরে কুরতুবীতে লিখেন :- হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাঃ) বলেন, আবু জেহেল অন্যদেরকে প্ররোচিত করল যে, মুহাম্মদ যখন কোরআন তেলাওয়াত করে, তখন তোমরা তার সামনে গিয়ে হৈ-হুল্লোড় করতে থাকবে, যাতে সে কি বলছে তা কেউ বুঝতে না পারে । কেউ কেউ বলেন, কাফেরেরা শিশ দিয়ে, তালি বাজিয়ে এবং নানারূপ শব্দ করে কোরআন শ্রবণ থেকে মানুষকে বিরত রাখার প্রস্তুতি নিয়েছিল । ( সংক্ষেপিত মাআরিফুল কোরআন -১২০৪ পৃঃ) কোরানের দলীল: আল্লাহ তাআলা সূরা লুকমানে আখেরাত-প্রত্যাশী মুমিনদের প্রশংসা করার পর দুনিয়া-প্রত্যাশীদের ব্যাপারে বলছেন, ((وَمِنَ النَّاسِ مَنْ يَشْتَرِي لَهْوَ الْحَدِيثِ لِيُضِلَّ عَنْ سَبِيلِ اللَّهِ بِغَيْرِ عِلْمٍ وَيَتَّخِذَهَا هُزُوًا أُولَئِكَ لَهُمْ عَذَابٌ مُهِينٌ)) অর্থঃ “এক শ্রেণীর লোক আছে যারা মানুষকে আল্লাহর পথ থেকে পথভ্রষ্ট করার উদ্দেশ্যে অবান্তর কথাবার্তা সংগ্রহ করে অন্ধভাবে এবং উহাকে (আল্লাহর পথ) নিয়ে ঠাট্টা বিদ্রুপ করে । এদের জন্যে রয়েছে অবমাননাকর শাস্তি”। (সূরা লোকমান আয়াত ০৬) উক্ত আয়াতের শানে নুযূলে বলা হয়েছে যে, নযর ইবনে হারিস বিদেশ থেকে একটি গায়িকা বাঁদী খরিদ করে এনে তাকে গান-বাজনায় নিয়োজিত করল । কেউ কুরআন শ্রবণের ইচ্ছা করলে তাকে গান শোনানোর জন্য সে গায়িকাকে আদেশ করত এবং বলত মুহাম্মদ তোমাদেরকে কুরআন শুনিয়ে নামায, রোযা এবং ধর্মের জন্য প্রাণ বিসর্জন দেওয়ার কথা বলে । এতে শুধু কষ্টই কষ্ট । তার চেয়ে বরং গান শোন এবং জীবনকে উপভোগ কর । -মাআরিফুল কুরআন ১০৫২ পৃঃ হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. কে উক্ত আয়াতের ‘লাহওয়াল হাদীস’-এর ব্যাখ্যা জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, ‘তা হল গান’ । আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা., আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা. একই কথা বলেন । তাবেয়ী সায়ীদ ইবনে যুবাইর থেকেও অনুরূপ মত বর্ণিত হয়েছে । বিখ্যাত তাবেয়ী হাসান বসরী রাহ. বলেন, উক্ত আয়াত গান ও বাদ্যযন্ত্রের ব্যাপারে নাযিল হয়েছে, যা বান্দাকে কুরআন থেকে গাফেল করে দেয় । (তাফসীরে ইবনে কাসীর ৩/৪৪১. তাফসিরে তাবারী) কুরআন মজীদের অন্য আয়াতে আছে, ইবলিস-শয়তান আদম সন্তানকে ধোঁকা দেওয়ার আরজী পেশ করলে আল্লাহ তাআলা ইবলিসকে বললেন, -“তোর আওয়াজ দ্বারা তাদের মধ্য থেকে যাকে পারিস পদস্খলিত কর।” -সূরা ইসরা : ৬৪ এ আয়াতের ব্যাখ্যায় আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা. বলেন, যে সকল বস্তু পাপাচারের দিকে আহ্বান করে তাই ইবলিসের আওয়াজ । বিখ্যাত তাবেয়ী মুজাহিদ রাহ. বলেন, ইবলিসের আওয়াজ বলতে এখানে গান ও বাদ্যযন্ত্রকে বোঝানো হয়েছে । আল্লামা ইবনুল কাইয়্যিম রাহ. বলেন, এটা বলার অপেক্ষা রাখে না যে, যেসব বস্তু পাপাচারের দিকে আহ্বান করে তার মধ্যে গান-বাদ্যই সেরা । এজন্যই একে ইবলিসের আওয়াজ বলে আখ্যায়িত করা হয়েছে । -ইগাছাতুল লাহফান ১/১৯৯ হাদীসের দলীলঃ- হযরত জাবির (রা) থেকে বর্ণিত, হুজুর (স.) ইরশাদ করেন, গান মানুষের অন্তুরে মুনাফেকির জন্ম দেয় যেমন পানি শস্য উৎপাদন করে । – বায়হাকী, মিশকাত : ৪১১ সাহাবী ও তাবেয়ীদের ভাষ্য অনুযায়ী বহু গুনাহর সমষ্টি হল গান ও বাদ্যযন্ত্র । যথা : ক) নিফাক এর উৎস খ) ব্যভিচারের প্রেরণা জাগ্রতকারী গ) মস্তিষ্কের উপর আবরণ ঘ) কুরআনের প্রতি অনিহা সৃষ্টিকারী ঙ) আখিরাতের চিন্তা নির্মূলকারী চ) গুনাহের প্রতি আকর্ষণ সৃষ্টিকারী ও ছ) জিহাদী চেতনা বিনষ্টকারী । -ইগাছাতুল লাহফান ১/১৮৭ অন্য এক হাদিসে এসেছে, হযরত আবু উমামা (রাজিঃ) থেকে বর্ণিত, রাসুল {সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওসাল্লাম} ইরশাদ করেন : তোমরা গায়িকা নারীদের বেচা-কেনা করো না, ওদেরকে গান শিক্ষা দিও না, ওদের ব্যবসায় কোন প্রকার কল্যাণ নেই, ওদের উপার্জিত পয়সা হারাম, আর ওদের ক্ষেত্রেইতো পবিত্র কোরআনের এই আয়াত { وَمِنْ النَّاسِ مَنْ يَشْتَرِي لَهْوَ الْحَدِيثِ لِيُضِلَّ عَنْ سَبِيلِ اللَّهِ } অবতীর্ণ হয়েছে । (জামে তিরমিযী হাদীস : ১২৮২; ইবনে মাজাহ হাদীস : ২১৬৮) হযরত আবু উমামা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসুল {সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওসাল্লাম} ইরশাদ করেছেন যে, মহান আল্লাহ আমাকে জগদ্বাসীর জন্য রহমত ও বরকত এবং হিদায়ত ও পথপ্রদর্শক হিসাবে প্রেরণ করেছেন । আর আমার সেই প্ররাক্রমশালী প্রভু আমাকে সর্বপ্রকারের ঢোল তবলা, যাবতীয় বাদ্যযন্ত্র, মূর্তিপূজা, শূলি ও ক্রুশ থেকে এবং জাহেলী যুগের কুপ্রথা ও কুসংস্কার নির্মূল ও ধংস সাধনের নির্দেশ দিয়েছেন । (ইমাম আহমাদ, সূত্র : মিশকাতুল মাসাবিহ, ২/৩১৮) হযরত জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওসাল্লাম) ইরশাদ করেছেন, গানবাজনা মানুষের অন্তরে মুনাফেকী উৎপাদন করে যেমন পানি শস্য উৎপাদন করে থাকে । (মিশকাত ২/৪১১) অন্য এক হাদিসে এসেছেঃ হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. বলেন, পানি যেমন (ভূমিতে) তৃণলতা উৎপন্ন করে তেমনি গান মানুষের অন্তরে নিফাক সৃষ্টি করে । -ইগাছাতুল লাহফান ১/১৯৩; তাফসীরে কুরতুবী ১৪/৫২ বিখ্যাত তাবেয়ী হযরত নাফে’ রাহ. থেকে সহীহ সনদে বর্ণিত, তিনি বলেন, একবার চলার পথে আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা. বাঁশির আওয়াজ শুনলেন । সঙ্গে সঙ্গে তিনি দুই কানে আঙ্গুল দিলেন । কিছু দূর গিয়ে জিজ্ঞাসা করলেন, হে নাফে’! এখনো কি আওয়াজ শুনছ ? আমি বললাম হ্যাঁ । অতঃপর আমি যখন বললাম, এখন আর আওয়াজ শোনা যাচ্ছে না তখন তিনি কান থেকে আঙ্গুল সরালেন এবং বললেন, একদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম চলার পথে বাঁশির আওয়াজ শুনে এমনই করেছিলেন । -মুসনাদে আহমদ হাদীস : ৪৫৩৫; সুনানে আবু দাউদ হাদীস : ৪৯২৪ বিখ্যাত তাবেয়ী মুজাহিদ রাহ. থেকেও এমন একটি হাদীস বর্ণিত হয়েছে ।-ইবনে মাজাহ হাদীস : ১৯০১ একদিন হযরত আয়েশা রা.-এর নিকট বাজনাদার নুপুর পরে কোনো বালিকা আসলে আয়েশা রা. বললেন, খবরদার, তা কেটে না ফেলা পর্যন্ত আমার ঘরে প্রবেশ করবে না । অতঃপর তিনি বললেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, যে ঘরে ঘণ্টি থাকে সেই ঘরে রহমতের ফেরেশতা প্রবেশ করে না ।-সুনানে আবু দাউদ হাদীস : ৪২৩১; সুনানে নাসাঈ হাদীস : ৫২৩৭; রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, ঘণ্টি বাজা ঘুঙুর হল শয়তানের বাদ্যযন্ত্র ।-সহীহ মুসলিম হাদীস : ২১১৪ রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়া সাল্লাম বলেছেন , আমার উম্মতের কিছু লোক মদের নাম পাল্টিয়ে তা পান করবে এবং বাদ্যযন্ত্র সহকারে গান করবে । আল্লাহ তাআলা তাদের ভুগর্ভে বিলীন করে দিবেন এবং কতকের আকৃতি বিকৃত করে বানর ও শুকরে পরিনত করে দিবেন । [ সুনানে ইবনে মাজাহ : ৪০২০ , সহীহ ইবনে হিব্বান : ৬৭৫৮ , আততিরমিযি বর্ণিত হাদীস নং-২২১২, জামিহ আল কাবির বুখারী কৃত , সুনানে বায়হাকী , মুসান্নাফে ইবনে শায়বা , আল মুজাম তাবরানী কৃত , বগভী, আদ দানি , আল সিলসিলাহ আস-সহীহাহ- ২২০৩, দাম আল মালাহী; ইবনে আবি দুনিয়া সহ আরো অনেক হাদীস গ্রন্থে বর্নিত হয়েছে] রাসুল (সঃ) ইরশাদ করেন: আমার উম্মতের মধ্যে এমন কিছু লোক আসবে যারা ব্যভিচার, রেশমী কাপড়, মদ এবং বাদ্যযন্ত্রকে বৈধতা দেবে । (আল বুখারী বর্ণিত, দেখুন আল ফাতহ, ১০/৫১) । রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, “আমার উম্মতের মধ্য হতে একদল লোক এমন হবে যারা ব্যভিচার, রেশমি বস্ত্র পরিধান, মদ পান এবং বাদ্যযন্ত্র ব্যবহার ইত্যাদি হালাল মনে করবে । এবং কিছু লোক এমন হবে যারা একটি পর্বতের নিকটে অবস্থান করবে এবং সন্ধ্যাবেলায় তাদের মেষপালক তাদের নিকট মেষগুলো নিয়ে আসবে এবং তাদের নিকট কিছু চাইবে, কিন্তু তারা বলবে, ‘আগামীকাল ফেরত এসো’। রাতের বেলায় আল্লাহ তায়ালা তাদেরকে ধ্বংস করে দিবেন এবং তাদের উপর পর্বত ধ্বসিয়ে দিবেন, বাকি লোকদেরকে তিনি বানর ও শূকরে পরিণত করে দিবেন এবং শেষ বিচারের দিন পর্যন্ত তারা এই অবস্থায় থাকবে”। [বুখারী, ভলিউম ৭, বুক ৬৯, সংখ্যা ৪৯৪] হযরত আবদুল্লাহ্ ইবনে ওমর (রাদ্বিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন,রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এরশাদ করেন, নিশ্চয় আল্লাহু রাববুল আলামিন হারাম করে দিয়েছেন আমার উম্মতের উপর মদপান করা, জুয়া খেলা, বাশিঁ বাজানো, তবলা ও বাদ্যযন্ত্র । আমার জন্য বৃদ্ধি করে দিয়েছেন বিতরের নামাজ । বিখ্যাত মুহাদ্দিস ইয়াজিদ বলেন, হাদিসে কাইনান বলতে বাদ্যযন্ত্রকে বুঝানো হয়েছে । (মুসনাদে আহমদ ২য় খন্ড পৃ: ১৬৫) হযরত আবদুর রহমান ইবনে ছাবেত (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসুলে করিম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এরশাদ করেন আমার উম্মতে ‘ষুসুফ’তথা জমিন ফেটে ঢুকাই ফেলা ‘ক্বুযুফ’ তথা পাথর বর্ষন মুসান্নাহ তথা চেহারা পাল্টানো হবে সাহাবারা জিজ্ঞাসা করলেন তা কখন হবে ইয়া রাসুলুল্লাহ ? রাসুল (সাল্লাল্লহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, যখন বাদ্যযন্ত্র প্রকাশ্য করবে এবং মদকে হালাল করে দেবে । (আবু দাউদ ২য় খন্ড পৃষ্ঠা- ১৬৩) হযরত আলী (রাদ্বিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন , রাসুলে খোদা (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এরশাদ করেন আমি প্রেরিত হয়েছি বাদ্যযন্ত্রকে ভেঙ্গে দেওয়ার জন্য । অতঃপর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, গায়ক গায়িকার জীবিকা (গানের মাধ্যমে) হারাম এবং ব্যাবিচারের জীবিকা হারাম । যে শরীর হারাম দ্বারা গঠিত তাকে আল্লাহ তা’আলা জাহান্নামে প্রবেশ করাবেন । (কানজুল উম্মাল ১৫ তম খন্ড পৃষ্ঠা ২২৬) হযরত আবু মুছা আল আশইয়ারী (রাহমাতুল্লাহু আলাইহি ) থেকে বর্ণিত রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলইহি ওয়া সাল্লাম) এরশাদ করেন যার দুনিয়ার মধ্যে গান বাজনা শুনবে তাদেরকে জান্নাতে গানের অনুষ্ঠান শুনার অনুমতি দেওয় হবে না অর্থাৎ জান্নাতে প্রবেশের সুযোগ দেওয়া হবে না । (কানজুল উম্মাল ১৫ তম খন্ড) হযরত আবদুল্লাহ বিন আমর (রা) থেকে বর্ণিত, নবী করীম (স.) মদ, জুয়া, কুবা এবং গুবাইরা প্রভৃতিকে নিষেধ করেছেন । তিনি আরও বলেছেন, নেশা সৃষ্টিকারী সব জিনিষই হারাম । – আবু দাউদ, মিশকাত : ৩১৮। কুবা বলা হয় দাবা খেলা অথবা ছোট তবলাকে । গুবাইরা একটি বিশেষ ধরনের মদ । হাবশী লোকেরা যা চুনা থেকে তৈরি করে । হযরত আবু মালেক আশআরী থেকে বর্ণিত, রাসুল (স.) ইরশাদ করেন, আমার উম্মতের মধ্যে এমন একদল লোকের আবির্ভাব ঘটবে যারা রেশম, মদ ও বাদ্যযন্ত্র হালাল মনে করবে । – ইবনে মাজাহ্, ফতোয়া মাওলানা আব্দুল হাই লাখনভী : ২/৮ । ইমাম মালেক রাহ. কে গান-বাদ্যের ব্যাপারে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, কেবল ফাসিকরাই তা করতে পারে । -কুরতুবী ১৪/৫৫ ইমাম শাফেয়ী রাহ. বলেছেন যে, গান-বাদ্যে লিপ্ত ব্যক্তি হল আহমক । তিনি আরো বলেন, সর্বপ্রকার বীণা, তন্ত্রী, ঢাকঢোল, তবলা, সারেঙ্গী সবই হারাম এবং এর শ্রোতা ফাসেক । তার সাক্ষ্য গ্রহণ করা হবে না ।-ইগাছাতুল লাহফান ১/১৭৯; কুরতুবী ১৪/৫৫ হাম্বলী মাযহাবের প্রখ্যাত ফকীহ আল্লামা আলী মারদভী লেখেন, বাদ্য ছাড়া গান মাকরূহে তাহরীমী । আর যদি বাদ্য থাকে তবে তা হারাম । -আহসানুল ফাতাওয়া ৮/৩৮৮ আল্লামা শমসুদ্দীন ছরখাসী রাদ্বিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু বলেন, ঐ গায়কের স্বাক্ষী গ্রহণ যোগ্য নয় , যে তাঁর গানের মাধমে, মানুষ কে একত্রিত করে এবং মানুষ তাঁর দিকে ছুটে আসে । ১৬ তম খন্ড পৃষ্টা নং ১৩২ [মসবুত] আল্লামা ইবনে নুজাইম মিশরী রাদ্বিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু বলেন, ইমাম ফকিহ বযযাবী রাদ্বিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু তাঁর মানাকেবে উল্লেখ করেন, গান যখন বাদ্যযন্ত্রের মাধ্যমে গাওয়া যাবে তখন হারাম হওয়ার ব্যাপারে আলেম সমাজ ঐক্য মতক পোষন করেছেন । বাদ্যযন্ত্র ছাড়া গাওয়ার মধ্য মতানৈক্য রয়েছে । ব্যাখ্যা কারীরা ব্যাখ্যা দেন নাই । হ্যাঁ ‘‘নেহায়া ’’ ও ‘‘ইনায়া’’ নামক কিতাবে রয়েছে বিনোদনের জন্য গান করা প্রত্যেক ধর্মে হারাম । এবং ইমাম মুহাম্মদ রাহমাতুল্লাহু আলাইহি তার প্রসিদ্ধ ‘‘যিয়াদাত’’ নামক কিতাবে বলেন, যেসমস্ত অছিয়ত আমরাও আহলে কিতাবদের মতে হারাম তার মধ্যে গায়ক ও গায়িকার গানের ব্যাপারে অছিয়ত করাও অন্তর্ভুক্ত । অর্থাৎ মারা যাওয়ার পর তার পাশে বা কবরে গান গাওয়ার অছিয়ত করা যাবে না । আর যখন গান গাওয়ার ব্যাপারে ইমাম মুহাম্মদ (র) এর স্পষ্ট ইবারত রয়েছে । সে ক্ষেত্রে উনার মাযহাব অবলম্বিদের মতানৈক্যের কোন অবকাশ থাকে না । [ বাহরুর রায়েখন্ড-৭ পৃষ্টা ৮৮-৮৯ ইমাম ইবন তাইমিয়া (রাহিমুল্লাহ) আরো বলেন সেই ব্যক্তির সম্পর্কে যার স্বভাব হল গান-বাজনা শোনা, “ সে যখন কুরআন তিলাওয়াত শ্রবণ করে তখন সে আবেগাপ্লুত হয় না, অপরদিকে সে যখন শয়তানের বাদ্যযন্ত্র (গান-বাজনা) শ্রবণ করে, সে নেচে উঠে । যদি সে সালাত প্রতিষ্ঠা করে, তবে সে হয় বসে বসে তা আদায় করে অথবা মুরগী যেভাবে মাটিতে ঠোকর দিয়ে শস্যদানা খায় সেভাবে দ্রুততার সাথে আদায় করে । সে কুরআন তিলাওয়াত শ্রবণ করতে অপছন্দ করে এবং তাতে কোন সৌন্দর্য খুঁজে পায় না। তার কুরআনের প্রতি কোন রুচি নেই এবং যখন তা পড়া হয় সে এর প্রতি কোন টান বা ভালোবাসা অনুভব করে না। বরং, সে মু’কা ও তাসদিয়া শুনে মজা পায় । এগুলো শয়তানী আনন্দ এবং সে তাদের অন্তর্ভুক্ত যাদের সম্পর্কে আল্লাহ তায়ালা বলেন, “যে ব্যক্তি দয়াময় আল্লাহর স্মরণ থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়, আমি তার জন্যে একটি শয়তান নিযুক্ত করে দেই, অতঃপর সেই সর্বক্ষণ তার সাথী হয়ে থাকে” । [৪৩-৩৬] [আউলিয়া আর রাহমান] দফ-এর পরিচয় এক প্রকার আরবীয় বাদ্যযন্ত্র, দফ-এর এক পাশ খোলা । বাজালে ঢ্যাব ঢ্যাব আওয়াজ হয় । প্লাস্টিকের গামলা বাজালে যেমন আওয়াজ হবে তেমন । আসলে দফ কোনো বাদ্যযন্ত্রের পর্যায়ে পড়ে না । আওনুল বারী গ্রন্থে দফ-এর পরিচয় দিতে গিয়ে লেখা হয়েছে যে, এর আওয়াজ স্পষ্ট ও চিকন নয় এবং সুরেলা ও আনন্দদায়কও নয় । কোনো দফ-এর আওয়াজ যদি চিকন ও আকর্ষণীয় হয় তখন তা আর দফ থাকবে না; বাদ্যযন্ত্রে পরিণত হবে – আওনুল বারী ২/৩৫৭ । আওনুল বারী গ্রন্থে দফ-এর পরিচয় দিতে গিয়ে লেখা হয়েছে যে, এর আওয়াজ স্পষ্ট ও চিকন নয় এবং সুরেলা ও আনন্দদায়কও নয় । কোনো দফ-এর আওয়াজ যদি চিকন ও আকর্ষণীয় হয় তখন তা আর দফ থাকবে না; বাদ্যযন্ত্রে পরিণত হবে । -আওনুল বারী ২/৩৫৭ ইমাম শাফেয়ী রাহ. শর্তসাপেক্ষে শুধু ওলীমা অনুষ্ঠানে দফ বাজানোর অবকাশ আছে বলে মত দিয়েছেন । কেননা বিয়ের ঘোষণার উদ্দেশ্যে ওলীমার অনুষ্ঠানে দফ বাজানোর অবকাশের বর্ণনা হাদীসে রয়েছে । -জামে তিরমিযী হাদীস : ১০৮৯; সহীহ বুখারী হাদীস : ৫১৪৭, ৫১৬২ মনে রাখতে হবে, এখানে দফ বাজানোর উদ্দেশ্য হল বিবাহের ঘোষণা, অন্য কিছু নয় । -ফাতহুল বারী ৯/২২৬ আর দফ-এর মধ্যে যখন বাদ্যযন্ত্রের বৈশিষ্ট্য এসে যাবে তখন তা সর্বসম্মতিক্রমে নাজায়েয বলে পরিগণিত হবে। -মিরকাত ৬/২১০ সুফী সাধকের নাম ব্যবহারকারী একটি জগতেও আজ আধুনিকতার ছোঁয়া লেগেছে । তাই আধুনিক কিছু সুফী বলে থাকে, বাদ্যসহ যিকির ও কাওয়ালি জায়েয । দলীল হিসেবে তারা সহীহ বুখারী ও সহীহ মুসলিম এ বর্ণিত দুটি বালিকার দফ বাজিয়ে কবিতা গাওয়ার হাদীসটি উপস্থাপন করে । এ প্রসঙ্গে আল্লামা ইবনে হাজার আসকালানী রাহ. লেখেন, উক্ত হাদীসে আয়েশা রা.-এর বর্ণনাই তাদের অবাস্তব দাবির বিরুদ্ধে উৎকৃষ্ট জবাব । গান-বাদ্য যে নাজায়েয এই বিষয়টি স্পষ্ট করার জন্য হাদীসের রাবী হযরত আয়েশা রা. বলছেন, উক্ত বালিকাদ্বয় কোনো গায়িকা ছিল না । তারা কোনো গান গায়নি । -ফাতহুল বারী ২/৪৪২ ইমাম কুরতুবী রাহ. বলেন, গান বলতে যা বুঝায়, বালিকাদ্বয় তা গায়নি। পাছে কেউ ভুল বুঝতে পারে তাই আয়েশা রা. বিষয়টি স্পষ্ট করে দিয়েছেন । ইমাম কুরতুবী আরো বলেন, বর্তমানে একশ্রেণীর সুফীরা যে ধরনের গান ও বাদ্যযন্ত্রের প্রচলন ঘটিয়েছে তা সম্পূর্ণ হারাম । -তাফসীরে কুরতুবী ১৪/৫৪ বিখ্যাত সাধক হযরত জুনাইদ বাগদাদী রাহ. তার যুগে কাওয়ালি শোনা বন্ধ করে দিয়েছিলেন । লোকেরা জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেন, বর্তমানে কাওয়ালি শোনার শর্তগুলো পালন করা হয় না । তাই আমি এর থেকে তওবা করছি । -আহসানুল ফাতাওয়া ৮/৩৯২

      Reply
  16. Kanik

    “আমার উম্মাতের মধ্যে অবশ্যই এমন কতগুলো দলের সৃষ্টি হবে , যারা ব্যভিচার, রেশমী কাপড় , মদ ও বাদ্যযন্ত্রকে হালাল জ্ঞান করবে।”
    সহিহ বুখারী ৫৫৯০ (আধুনিক প্রকাশনী – ৫১৮০, ইসলামিক ফাউন্ডেশন – ৫০৭৬)
    ihadis.com/books/bukhari/hadis/5590
    উল্লেখ্য : দফ বাজনোকে আলেমরা হালাল বলেন, কিন্তু অন্য বাদ্যযন্ত্রকে হারাম বলেন।

    Reply
  17. Abdul Wohab chowdhury

    জনাব হাসান মাহমুদের লেখাগুলো পড়ে আমার কাছে মনে হয় যে তিনি একজন ইসলাম বিদ্বেষি লেখক, তিনি কোরআনের উদ্বৃতি গুলি দেন নাস্তিকদের মত করে। যেমন নাস্তিকেরা কোরআনের সে সব আয়াতের কিছু অংশ মুখস্ত করে নিয়েছেন যেগুলো তাদের পক্ষে যায়। যেমন ”লা ইকরাহা ফিদ্দিন” দ্বীনের ব্যাপারে কোন বাড়াবাড়ি নেই। এই রকম আরও আয়াতগুলি। কিন্তু আয়াতে পুর্বাপর কি বলা আছে কি উদ্যেশ্যে এটি নাজিল হয়েছে তা তাদের প্রয়োজন নেই। আমি আরও আশ্চার্য হই যখন তিনি ওয়ার্ল্ড মুসলিম কংগ্রেসের উপদেষ্টা, তারা কি ধরণের মুসলিম তা আমার বোধগম্য নয়। তবে আমি অনুমান করি কিছু মুসলিম এমন আছে যারা ইসলামের মূলে নাই, নামাজ নাই, রোজা নাই, কিন্তুু গান বাজনা আছে, দলে দলে মাজারে যায় মহিলা পুরুষ একত্রে।
    উনি এর আগেও ইসলামী শরীয়াহ আইন নিয়ে পরিহাস করে লিখেছেন “শরিয়াহ আইনে কি ২১ আগষ্ট গ্রেনেড হামলার বিচার সম্ভব” কাজেই উনি যে ইসলাম বিদ্বেষী, ওয়ার্ল্ড অমুসলিম কংগ্রেসের উপদেষ্টা এটা ই প্রতীয়মান হয়।

    Reply
    • Sumon

      @Abdul Wahab,

      You are absolutely correct about Hasan Mahmud. What kind of degrees he has about Islam? Did he study Islamic jurisprudence? Does he even practice Islam? I highly doubt it.

      Reply
  18. মোঃ আজিম উদ্দীন

    “ছক্কা মাইরা গেলরে মেম্বারের পোলা” আমায় রিক্সা ওয়ালায় খাইছেরে সামনে বসাইয়া… এ জাতীয় যৌন উত্তেজক, নারী-পুরুষের অবৈধ বিবাহ বহির্ভুত প্রেমের গান প্রসঙ্গে প্রাবন্ধিক কোন কথা বলেননি। এতে বুঝা যায়, তিনি ভাল কথার আড়ানে খারাপ কথাগুলোও যায়েজ করে নিতে চেয়েছেন।

    Reply
  19. MD. Tarek Hossain

    বুখারি শরিফের কত নাম্বার হাদিস তা উল্লেখ করুন।হাদিসগুলার খন্ড ও নাম্বার উল্লেখ করুন।

    Reply
  20. প্লাবন ঝড়

    ইসলামের মূল স্বরূপকে ঢাকিয়া রেখে তাতে মডারেট রূপ দেওয়ার আপনার অক্লান্ত পরিশ্রম ধেখে হাসি পায় 😂😂

    Reply
  21. Hasan Mahmud

    আমাদের সংগীত-বিরোধী মাওলানারা একটিবার যদি নিজেদের গণ্ডী পার হয়ে মুসলিম বিশ্বের অন্য ইমামদের মতামত জানার চেষ্টা করতেন ! মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘ বছর থেকেছি, সংগীতের বন্যা বয়েছে কিন্তু কোনো মওলানাকে সংগীতের বিরুদ্ধে বলতে দেখিনি। আমার যদি ভুল না হয়, মিসরের কিংবদন্তি গায়িকা উম্মে কুলতুম জীবিত থাকাকালে সম্ভবত: ইতিহাসের সর্বজনপ্রিয় গায়িকা ছিলেন, লতা মুঙ্গেশকরেরও ওপরে। মুসলিম বিশ্বের শিক্ষাতীর্থ আল আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর ও গ্র্যাণ্ড মুফতির অনুমোদন ছাড়া সেটা নিশ্চয় হয়নি। নাকি আমার কোনো ভুল হচ্ছে? – লেখক।

    Reply
  22. আদিব

    ব্যাপারটা কিছুদিন আগে youtube এ একটা ভিডিওতে চোখে পড়েছিল। তথাকথিত বিশিষ্ট ইসলামিক বক্তা চটুল কথাবার্তা আর অঙ্গভঙ্গির মাধ্যমে প্রয়াত আইয়ুব বাচ্চুর গিটার বাজানো দেখাচ্ছিল, তার কথায় , এখন সব লাফালাফি শেষ। কুৎসিত ব্যাপার, কয়েক সেকেন্ড দেখার পরে আর রুচি হয়নি। বর্তমানে “মজার ওয়াজ” শিরোনামে প্রচুর ভিডিও আপলোড করা হচ্ছে youtube এর মত সাইটগুলোতে। ভুল তথ্য, উদ্ভট অঙ্গভঙ্গি, গীবত, লোক হাসানো কথাবার্তা, সাম্প্রদায়িক উস্কানি আর শিরকে ভরা এ ভিডিওগুলো দেখা থেকে সাবধান, হয়তো ঈমান মজবুত করতে গিয়ে আপনি নিজেই উল্টোপথের যাত্রী হয়ে যাবেন।

    Reply
  23. Masud Hossain

    সবকিছুই বুঝলাম কিন্তু বাদ্য ছাড়া গান গাইতে হবে। ঢোল তবলা বাঁশি কি ইসলামে জায়েজ? আশা করি বুঝতে পেরেছেন

    Reply
  24. Showkat Osman

    সংগীত হালাল না হারাম এ বিতর্কে না গিয়ে আইয়ুব বাচ্চু প্রসঙ্গে কিছু বলছি:
    ১। যে সব আলেম আইয়ুব বাচ্চুর সমালোচনা করেছেন, তারা ঠিক করেননি। কারণ- যিনি মৃত্যুবরণ করেছেন তিনি জান্নাতী না জাহান্নামী তা বলার এখতিয়ার কারও নেই।
    ২। জনাব বাচ্চু মুসলিম ছিলেন। আল্লাহ চাইলে তাকে ক্ষমা করেও দিতে পারেন। তিনি অনেক গোপন দান করে গেছেন। তিনি ক্ষমা পাওয়ার দাবি করতেই পারেন।
    ৩। সংগীত হারাম হলেও তার সমালোচনা করা সমীচীন নয়। কারণ, তার বিচারের অধিকার একমাত্র আল্লাহর, অন্য কারও নয়। মুসলিম হিসেবে আমরা শুধু তার জন্যা নাজাতের দোয়া করতে পারি।
    ৪। জনাব বাচ্চু ভাই মুসলিম ছিলেন বিধায় তিনি জাহান্নামী বলা, তার জন্য জাহান্নামের দোয়া করা ইসলাম সম্মত নয়।
    ৫। আমি দুজন আলেমের বক্তব্য শুনেছি, যারা তার জন্য জান্নাতের দোয়া করেছেন, তার সমালোচনা করা সমীচীন নয় বলেছেন।
    ৬। যে সব আলেম চোখ বন্ধ করে তার সমালোচনা করেছেন, তারা মৃত একজন মানুষ যিনি এখন আল্লাহর কাছে আছেন তার সমালোচনা করে ভুল করছেন বলে মনে করি।
    ৭। একটা প্রাণিকে পানি খাইয়ে জীবন বাঁচানোর কারণে আল্লাহ যদি একজন বেশ্যাকে ক্ষমা করে দিতে পারেন, সে আল্লাহ জনাব বাচ্চুকেও ক্ষমা করে দিতে পারেন।
    ৮। জনাব বাচ্চুকে আমরা জাহান্নামী বলে আল্লাহর এখতিয়ারে সীমালঙ্ঘন করছি।
    ৯। আল্লাহ আমাদের ক্ষমা করুন। আল্লাহ ওয়ালাম- আল্লাহই ভালো জানেন।

    Reply
    • tajulimam@gmail.com

      একজন সঙ্গীত শিল্পী কখনই সন্ত্রাসী হয়নি। সঙ্গীত আল্লাহর নেয়ামত। এক জন মানুষ যতক্ষণ গান গায় বা সঙ্গীত সাধনা করে ততক্ষণ কারো অনিষ্ট করে না। আল্লাহর অসীম করুণার অতুলনীয় দান কি করে অস্বীকার করব?

      Reply
  25. মোঃরিয়াজ

    “গান শোনা বা গাওয়া ইসলামে হারম”
    আল্লাহ রাব্বুল আলামিন পবিত্র কুরআন
    মাজিদে বলেন,
    “এক শ্রেণীর লোক
    আছে যারা মানুষকে আল্লাহর পথ
    থেকে পথভ্রষ্ট করার উদ্দেশ্যে অবান্তর
    কথাবার্তা সংগ্রহ করে অন্ধভাবে এবং
    উহাকে(আল্লাহর পথ) নিয়ে ঠাট্টা বিদ্রুপ
    করে। এদের জন্যে রয়েছে অবমাননাকর
    শাস্তি”। [৩১-৬]
    আল-ওয়াহিদি (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা),
    অন্যান্য তাফসীরকারগণের
    সাথে ব্যাখ্যা করেন যে, এই
    আয়াতে “অবান্তর কথাবার্তা” বলতে গান
    সঙ্গীতকে বুঝানো হয়েছে। যেসকল
    সাহাবাগণ এই ব্যাখ্যা প্রদান করেন
    তারা হলেন ইবন আব্বাস, ইবন মাসউদ,
    মুজাহিদ, ইকরিমা(রাদিয়াল্লাহু আনহুম)।
    ইবন মাসউদ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেন,
    “আল্লাহর শপথ, যিনি ছাড়া আর কোন ইলাহ
    নেই, ‘অবান্তর কথাবার্তা’ হল গান”।
    রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু
    আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন,
    “আমার উম্মতের মধ্য হতে একদল লোক এমন
    হবে যারা ব্যভিচার, রেশমি বস্ত্র
    পরিধান, মদ পান এবং বাদ্যযন্ত্র ব্যবহার
    ইত্যাদি হালাল মনে করবে। এবং কিছু
    লোক এমন হবে যারা একটি পর্বতের
    নিকটে অবস্থান করবে এবং সন্ধ্যাবেলায়
    তাদের মেষপালক তাদের নিকট
    মেষগুলো নিয়ে আসবে এবং তাদের নিকট
    কিছু চাইবে, কিন্তু তারা বলবে,
    ‘আগামীকাল ফেরত এসো’। রাতের বেলায়
    আল্লাহ তায়ালা তাদেরকে ধ্বংস
    করে দিবেন এবং তাদের উপর পর্বত
    ধ্বসিয়ে দিবেন,
    বাকি লোকদেরকে তিনি বানর ও
    শূকরে পরিণত করে দিবেন এবং শেষ
    বিচারের দিন পর্যন্ত তারা এই অবস্থায়
    থাকবে”। [বুখারী, ভলিউম ৭, বুক
    ৬৯,সংখ্যা৪৯৪]
    এই হাদীসে উল্লেখ হচ্ছে বাদ্যযন্ত্র
    হারাম, এবং উলামাগণের মধ্যে এই
    ব্যাপারে কোন দ্বিমত নেই। ইবন আল-
    কাইয়্যিম (রাহিমুল্লাহ) তাঁর বই ইগাছাতুল
    লাহফান এ বলেন, “যখন রাসুলুল্লাহ
    সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন,
    ‘বৈধ মনে করবে’, তার
    মানে তিনি বুঝিয়েছেন এটা অবৈধ, এরপর
    লোকেরা একে বৈধ বানিয়েছে ”।
    • আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু)
    হতে বর্ণিত রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু
    আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন,
    ‘একদল লোকদেরকে তিনি বানর ও
    শূকরে পরিণত করে দিবেন’ সাহাবাগণ
    আরজ করলেন, “তারা কি ‘লা~
    ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ’
    এই সাক্ষ্য প্রদান করে?” রাসুলুল্লাহ
    সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন,
    “হ্যাঁ, এবং তারা সিয়াম ও হজ্জও পালন
    করে”। সাহাবাগণ আরজ করলেন, “তাহলে,
    তাদের সমস্যা কি ছিল?” তিনি রাসুলুল্লাহ
    সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন,
    “তারা বাদ্যযন্ত্র, ঢোল ও
    নারী সঙ্গীতশিল্পী ব্যবহার করবে।
    (একদিন) তারা রাতভর মদপান,
    হাসি তামাশা করে নিদ্রা যাবে,
    সকালে(আল্লাহর ইচ্ছায়) তারা বানর ও
    শূকরে পরিণত হবে”। [ইগাছাতুল লাহফান]
    • আল্লাহ তায়ালা কাফেরদের কাবাঘরের
    চারপাশের ইবাদতের
    কথা সমালোচনা করে বলেন,
    “(এ ঘরের পাশে) তাদের (জাহেলী যুগের)
    নামায তো কিছু শিষ দেয়া ও
    তালি বাজানো ছাড়া কিছুই ছিল না
    ”[সূরা আল আনফাল ৮-৩৫] ।
    ইবন আব্বাস, ইবন উমর, আতিয়্যাহ, মুজাহিদ,
    আদ-দাহাক, আল হাসান এবং ক্বাতাদাহ
    (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) উক্ত আয়াতের
    ব্যাখ্যা করে বলেন, ‘মু’কান’ অর্থ শিষ
    বাজানো, ‘তাসদিয়াহ’ অর্থ
    তালি বাজানো।
    কুরআন মজীদের অন্য আয়াতে আছে, ইবলিস-
    শয়তান আদম সন্তানকে ধোঁকা দেওয়ার
    আরজী পেশ করলে আল্লাহ
    তাআলা ইবলিসকে বললেন,
    “তোর আওয়াজ দ্বারা তাদের মধ্য
    থেকে যাকে পারিস পদস্খলিত কর”।-
    সূরা ইসরা : ৬৪
    এ আয়াতের ব্যাখ্যায় আবদুল্লাহ
    ইবনে আব্বাস রা. বলেন, যে সকল বস্তু
    পাপাচারের দিকে আহ্বান করে তাই
    ইবলিসের আওয়াজ। বিখ্যাত
    তাবেয়ী মুজাহিদ রাহ. বলেন, ইবলিসের
    আওয়াজ বলতে এখানে গান ও
    বাদ্যযন্ত্রকে বোঝানো হয়েছে।
    আল্লামা ইবনুল কাইয়্যিম রাহ. বলেন,
    এটা বলার অপেক্ষা রাখে না যে, যেসব
    বস্তু পাপাচারের দিকে আহ্বান করে তার
    মধ্যে গান-বাদ্যই সেরা। এজন্যই
    একে ইবলিসের আওয়াজ বলে আখ্যায়িত
    করা হয়েছে।-ইগাছাতুল লাহফান ১/১৯৯
    বস্তুত গান বাজনার ক্ষতিকর প্রভাব এত
    বেশি যে, তা নাজায়েয হওয়ার জন্য
    আলাদা কোনো দলীল খোঁজার প্রয়োজন
    পড়ে না। এতদসত্ত্বেও রাসূলুল্লাহ
    সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বহু
    হাদীসের মাধ্যমে তা প্রমাণিত।
    • গান-গায়িকা এবং এর ব্যবসা ও
    চর্চাকে হারাম আখ্যায়িত করে রাসূলুল্লাহ
    সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ
    করেন-
    তোমরা গায়িকা (দাসী) ক্রয়-বিক্রয় কর
    না এবং তাদেরকে গান শিক্ষা দিও না।
    আর এসবের ব্যবসায় কোনো কল্যাণ নেই।
    জেনে রেখ, এর প্রাপ্ত মূল্য হারাম।-
    জামে তিরমিযী হাদীস : ১২৮২;
    ইবনে মাজাহ হাদীস : ২১৬৮
    বর্তমানে গান ও বাদ্যযন্ত্রের বিশাল
    বাজার
    তৈরি হয়েছে যাতে কোটি কোটি টাকা বিনিয়োগ
    করা হচ্ছে। মনে রাখতে হবে, এর সকল
    উপার্জন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু
    আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাদীস
    অনুযায়ী সম্পূর্ণ হারাম।
    • রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু
    আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরও ইরশাদ করেন,
    আমার উম্মতের কিছু লোক মদের নাম
    পরিবর্তন করে তা পান করবে। আর তাদের
    মাথার উপর বাদ্যযন্ত্র ও
    গায়িকা রমনীদের গান বাজতে থাকবে।
    আল্লাহ
    তাআলা তাদেরকে যমীনে ধ্বসিয়ে দিবেন।-
    সুনানে ইবনে মাজাহ হাদীস : ৪০২০; সহীহ
    ইবনে হিব্বান হাদীস : ৬৭৫৮
    • হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. বলেন,
    পানি যেমন (ভূমিতে) তৃণলতা উৎপন্ন
    করে তেমনি গান মানুষের অন্তরে নিফাক
    সৃষ্টি করে।-ইগাছাতুল লাহফান ১/১৯৩;
    তাফসীরে কুরতুবী ১৪/৫২
    উপরোক্ত বাণীর সত্যতা এখন দিবালোকের
    ন্যায় পরিষ্কার। গান-বাজনার ব্যাপক
    বিস্তারের ফলে মানুষের অন্তরে এই
    পরিমাণ নিফাক সৃষ্টি হয়েছে যে,
    সাহাবীদের ইসলামকে এ যুগে অচল
    মনে করা হচ্ছে এবং গান-বাদ্য, নারী-
    পুরুষের মেলামেশা ইত্যাদিকে হালাল
    মনে করা হচ্ছে।
    • বিখ্যাত তাবেয়ী হযরত নাফে’ রাহ.
    থেকে সহীহ সনদে বর্ণিত, তিনি বলেন,
    একবার চলার পথে আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা.
    বাঁশির আওয়াজ শুনলেন।
    সঙ্গে সঙ্গে তিনি দুই কানে আঙ্গুল
    দিলেন। কিছু দূর গিয়ে জিজ্ঞাসা করলেন,
    হে নাফে’! এখনো কি আওয়াজ শুনছ?
    আমি বললাম হ্যাঁ। অতঃপর আমি যখন
    বললাম, এখন আর আওয়াজ
    শোনা যাচ্ছে না তখন তিনি কান
    থেকে আঙ্গুল সরালেন এবং বললেন,
    একদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু
    আলাইহি ওয়াসাল্লাম চলার পথে বাঁশির
    আওয়াজ শুনে এমনই করেছিলেন। –
    মুসনাদে আহমদ হাদীস : ৪৫৩৫; সুনানে আবু
    দাউদ হাদীস : ৪৯২৪ বিখ্যাত
    তাবেয়ী মুজাহিদ রাহ. থেকেও এমন
    একটি হাদীস বর্ণিত হয়েছে।-
    ইবনে মাজাহ হাদীস : ১৯০১
    বাজনাদার নুপুর ও ঘুঙুরের আওয়াজও
    সাহাবায়ে কেরাম বরদাশত করতেন না।
    তাহলে গান ও বাদ্যযন্ত্রের প্রশ্নই
    কি অবান্তর নয়?
    নাসাঈ ও সুনানে আবু দাউদে বর্ণিত আছে,
    একদিন হযরত আয়েশা রা.-এর নিকট
    বাজনাদার নুপুর
    পরে কোনো বালিকা আসলে আয়েশা রা.
    বললেন, খবরদার,
    তা কেটে না ফেলা পর্যন্ত আমার
    ঘরে প্রবেশ করবে না। অতঃপর
    তিনি বললেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু
    আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন,
    যে ঘরে ঘণ্টি থাকে সেই ঘরে রহমতের
    ফেরেশতা প্রবেশ করে না।-সুনানে আবু
    দাউদ হাদীস : ৪২৩১; সুনানে নাসাঈ
    হাদীস : ৫২৩৭
    সহীহ মুসলিমে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ
    সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ
    করেন,
    ঘণ্টি, বাজা, ঘুঙুর হল শয়তানের বাদ্যযন্ত্র।-
    সহীহ মুসলিম হাদীস : ২১১৪
    মৃদু আওয়াজের ঘণ্টি-ঘুঙুরের যদি এই
    অবস্থা হয় তাহলে আধুনিক
    সুরেলা বাদ্যযন্ত্রের বিধান কী হবে তা খুব
    সহজেই বুঝা যায়।
    সঙ্গীত সম্পর্কে উলামাগণের অভিমত
    ইমাম ইবন তাইমিয়া (রাহিমুল্লাহ) বলেন,
    “যে সকল কাজ শয়তানের
    পথকে শক্তিশালী করে তাদের মধ্যে গান
    বাজনা শোনা এবং অন্যায়
    হাসি তামাশা অন্যতম। এটা সেই কাজ
    যা কাফেররা করত। আল্লাহ তায়ালা বলেন
    “(এ ঘরের পাশে) তাদের (জাহেলী যুগের)
    নামায তো কিছু শিষ দেয়া ও
    তালি বাজানো ছাড়া কিছুই ছিল না
    ”[সূরা আল আনফাল ৮-৩৫]। ইবন আব্বাস, ইবন
    উমর, আতিয়্যাহ, মুজাহিদ, আদ-দাহাক, আল
    হাসান এবং ক্বাতাদাহ (রাদিয়াল্লাহু
    আনহুম) উক্ত আয়াতের ব্যাখ্যা করে বলেন,
    ‘মু’কান’ অর্থ শিষ বাজানো, ‘তাসদিয়াহ’
    অর্থ তালি বাজানো। এটা মুশরিকদের
    উপাসনার পথ। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু
    আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবং তাঁর
    সাহাবাগণ আল্লাহর ইবাদত করেছেন, তাঁর
    ( আল্লাহর) আদেশ অনুসারে, তাদের
    ইবাদতে ছিল কুরআন তিলাওয়াত ও যিকর
    (দু’আ)। এমনটা কখনো হয়নি যে, রাসুলুল্লাহ
    সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম
    এবং তাঁর সাহাবাগণ (রাদিয়াল্লাহু আনহুম)
    গান-বাজনা শোনার জন্যে সমবেত হয়েছেন
    এবং যার সাথে তালি বাজানো হত
    অথবা ঢোল ব্যবহার করা হত”।
    ইমাম ইবন তাইমিয়া (রাহিমুল্লাহ)
    আরো বলেন সেই ব্যক্তির সম্পর্কে যার
    স্বভাব হল গান-বাজনা শোনা, “ সে যখন
    কুরআন তিলাওয়াত শ্রবণ করে তখন
    সে আবেগাপ্লুত হয় না, অপরদিকে সে যখন
    শয়তানের বাদ্যযন্ত্র (গান-বাজনা) শ্রবণ
    করে, সে নেচে উঠে। যদি সে সালাত
    প্রতিষ্ঠা করে, তবে সে হয়
    বসে বসে তা আদায়
    করে অথবা মুরগী যেভাবে মাটিতে ঠোকর
    দিয়ে শস্যদানা খায় সেভাবে দ্রুততার
    সাথে আদায় করে। সে কুরআন তিলাওয়াত
    শ্রবণ করতে অপছন্দ করে এবং তাতে কোন
    সৌন্দর্য খুঁজে পায় না। তার কুরআনের
    প্রতি কোন রুচি নেই এবং যখন তা পড়া হয়
    সে এর প্রতি কোন টান
    বা ভালোবাসা অনুভব করে না। বরং,
    সে মু’কা ও তাসদিয়া শুনে মজা পায়।
    এগুলো শয়তানী আনন্দ এবং সে তাদের
    অন্তর্ভুক্ত যাদের সম্পর্কে আল্লাহ
    তায়ালা বলেন, “যে ব্যক্তি দয়াময়
    আল্লাহর স্মরণ থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়,
    আমি তার জন্যে একটি শয়তান নিযুক্ত
    করে দেই, অতঃপর সেই সর্বক্ষণ তার
    সাথী হয়ে থাকে”।[৪৩-৩৬] [আউলিয়া আর
    রাহমান]
    ইমাম ইবন আল-কাইয়্যিম (রাহিমুল্লাহ)
    বলেন, “ আল্লাহর শত্রু শয়তানের
    কৌশলসমূহের মধ্যে একটি হল মুকা ও
    তাসদিয়া, এই ফাঁদ সে ঐ সকল লোকের জন্য
    পাতে যারা দীনের
    প্রতি বুদ্ধিমত্তা,জ্ঞান,অথবা আন্তরিকতায়
    নিরাসক্ত। এই গাফেল(মূর্খ)
    লোকেরা গান-বাজনা শ্রবণ
    করে এবং বাদ্যযন্ত্র ব্যবহার করে,
    যা নিষিদ্ধ এবং যার ফলে কুরআনের
    প্রতি তাদের অন্তর বিমুখ হয়ে যায়।
    তাদের হৃদয় পাপাচারের প্রতি উদাসীন ও
    আল্লাহর অবাধ্য। গান-বাজনা(সঙ্গীত)
    শয়তানের কুরআন এবং ব্যক্তি ও আল্লাহর
    মাঝের দেয়াল। এটা সমকামিতা ও
    ব্যভিচারের পথ। যে অন্যায় ভালোবাসার
    সন্ধান করে ও স্বপ্ন
    দেখে সে এতে সান্ত্বনা খুঁজে পায়। গান-
    বাজনার প্রতি ভালোবাসা সৃষ্টি করে ও
    একে তাদের চোখে শিল্প
    হিসেবে দেখিয়ে শয়তান দুর্বলচিত্তের
    মানুষদের ফাঁদে ফেলে। শয়তান তার
    অনুসারীদের সঙ্গীতের সৌন্দর্যের
    মিথ্যা দলীল দেখায়। এই
    লোকগুলো শয়তানের ওহী গ্রহণ
    করে এবং ফলস্বরুপ কুরআন ত্যাগ করে।
    যখন আপনি তাদের গান-
    বাজনা শোনা অবস্থায় দেখেন,
    তাদেরকে বিনয়াবত,অলসভাবে বসা,নীরব
    নিশ্চুপ অবস্থায় পাবেন; তাদের অন্তর
    দিয়ে তারা মনোযোগ দেয়
    এবং চরমভাবে গান বাজনা উপভোগ করে।
    তাদের অন্তর গান বাজনায় এতটা নৈকট্য
    পায়, যেন তারা মাতাল।
    তারা নেচে উঠে এবং কুরুচিপূর্ণভাবে পতিতাদের
    মত অঙ্গভঙ্গি করে। এবং কেন নয় ? কারণ
    তারা সঙ্গীতে মত্ত মাতাল, অনুরুপ তাদের
    আচরণ। তারা আল্লাহর জন্যে নয়,
    তারা শয়তানের জন্য, এগুলো ঐ সকল হৃদয়
    যা পাপাচারে নাজুক, এদের জীবন
    আল্লাহর সন্তুষ্টি বাদে অন্য যেকোন কিছুর
    জন্য। তারা তাদের জীবন হাসি তামাশায়
    কাটায় ও দীনের প্রতি তামাশা করে।
    শয়তানের যন্ত্র তাদের নিকট কুরআন
    অপেক্ষা মধুর। তাদের কেউ যদি কুরআনের
    শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পড়ে,
    সে এতে সামান্যই প্রভাবিত হবে। আর
    যদি শয়তানের কুরআন শোনানো হয়,
    তারা অন্তরে আনন্দ অনুভব
    করে এবং নিজের চোখেই
    তারা এটা দেখতে পায়। তাদের পা নাচে,
    হাত তালি বাজায়, নিঃশ্বাস ঘন
    হয়ে আসে এবং সারা শরীর আনন্দ উপভোগ
    করে। ওহে যে এই ফাঁদে আটকে আছো !
    যে আল্লাহকে ছেড়ে শয়তানের নিকট
    বিক্রি হয়ে গেছো , কত বাজে তোমার এই
    কারবার ! যখন কুরআন শ্রবণ কর কেন
    তুমি আনন্দ পাও না? যখন মহিমান্বিত
    কুরআন তিলাওয়াত করা হয় তখন কেন
    শান্তি স্বস্তি পাও না ? হায়, সবাই তাই
    খুঁজে যাতে সে নিজেকে মানিয়ে নিতে পারে,
    এবং শেষ পর্যন্ত সত্যিই
    নিজেকে মানিয়ে নেয়”। [ইগাছাতুল
    লাহফান]
    শেখ আব্দুল আযীয বিন বায(রাহিমুল্লাহ)
    এর কাছে গান
    বাজনা সম্পর্কে জানতে চেয়ে প্রশ্ন
    করা হয়েছিল, “এটা কি হারাম? আমি শুধু
    আনন্দের জন্যেই শুনি। রাবাবা(এক প্রকার
    গিটার) ও হারানো দিনের গান
    সম্পর্কে কি বলেন? আর
    বিয়ে শাদীতে ঢোল ব্যবহার সম্পর্কে?”
    শেখ বিন বায বলেন, “ গান
    বাজনা শোনা হারাম এবং পাপ। এটা হল
    সেই কাজ যার ফলে আল্লাহর স্মরণ ও
    প্রার্থনা থেকে অন্তর দুর্বল করে দেয়।
    কুরআনের আয়াত “এবং সেই
    মানুষগুলো যারা অর্থহীন কথাবার্তা ক্রয়
    করে” [সুরা লুকমান ৩১-৬] ,
    এখানে “অর্থহীন কথাবার্তা” বলতে গান
    বাজনাকে বোঝানো হয়েছে। আব্দুল্লাহ
    ইবন মাসউদ (রাদিয়াল্লাহু আনহু),
    যিনি একজন বিশিষ্ট সাহাবী,
    তিনি আল্লাহর শপথ করে বলেছেন এর
    মানে হল গান। আর গান যদি রাবাবা এর
    সাথে হয়,উ’দ(আরবীয় গিটার),
    বাঁশি কিংবা ঢোলের সাথে হয়,
    তবে তো আরো বেশি হারাম। যে কোন
    গান, যেকোন প্রকার বাদ্যযন্ত্র সহকারেই
    হোক তা হারাম এবং আলেমগণ এ
    ব্যাপারে একমত। সুতরাং, মুসলমানদের এ
    ব্যাপারে সাবধান হওয়া উচিত। রাসুলুল্লাহ
    সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন,
    “আমার উম্মতের মধ্য হতে একদল লোক এমন
    হবে যারা ব্যভিচার, রেশমি বস্ত্র
    পরিধান, মদ পান এবং বাদ্যযন্ত্র ব্যবহার
    ইত্যাদি হালাল মনে করবে”[বুখারি]। আমি
    আপনাকে(প্রশ্নকর্তাকে)
    রেডিওতে কুরআনিক অনুষ্ঠান শোনার
    উপদেশ দিতে পারি, এভাবে একজন
    স্বস্তি খুঁজে পাবে এবং নিজেকে গান
    বাজনা থেকে দূরে সরিয়ে রাখতে পারবে।
    আর বিয়ে শাদীর ব্যাপারে, দফ [এক
    প্রকার আরবীয় বাদ্যযন্ত্র, দফ-এর এক পাশ
    খোলা। বাজালে ঢ্যাব ঢ্যাব আওয়াজ হয়।
    প্লাস্টিকের গামলা বাজালে যেমন
    আওয়াজ হবে তেমন। আসলে দফ
    কোনো বাদ্যযন্ত্রের পর্যায়ে পড়ে না।
    আওনুল বারী গ্রন্থে দফ-এর পরিচয়
    দিতে গিয়ে লেখা হয়েছে যে, এর আওয়াজ
    স্পষ্ট ও চিকন নয় এবং সুরেলা ও
    আনন্দদায়কও নয়। কোনো দফ-এর আওয়াজ
    যদি চিকন ও আকর্ষণীয় হয় তখন তা আর দফ
    থাকবে না; বাদ্যযন্ত্রে পরিণত হবে।-
    আওনুল বারী ২/৩৫৭ । আর দফ-এর মধ্যে যখন
    বাদ্যযন্ত্রের বৈশিষ্ট্য এসে যাবে তখন
    তা সর্বসম্মতিক্রমে নাজায়েয
    বলে পরিগণিত হবে] ব্যবহার
    করা যেতে পারে এমন কথার গানের
    সাথে যাকে পাপ বলা যায় না। আর
    এটা রাতে করা যেতে পারে, কেবলমাত্র
    বিয়ে শাদীতে, কেবলমাত্র মহিলাদের
    জন্যে এবং মহিলাদের দ্বারা। এই গীতসমূহ
    ইসলামিক বিয়ে ঘোষণার একটি অংশ।
    রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু
    আলাইহি ওয়া সাল্লামের সুন্নাহ
    হতে তা প্রমাণিত। এবং ড্রামস
    তথা ঢোলের ক্ষেত্রে,
    তা সর্বক্ষেত্রে হারাম। দফ কেবলমাত্র
    বিয়ে শাদীতে ব্যবহার
    করা যেতে পারে এবং শুধুমাত্র মহিলাদের
    দ্বারা শুধুমাত্র মহিলাদের জন্যে”।
    সাহাবী ও তাবেয়ীদের ভাষ্য অনুযায়ী বহু
    গুনাহর সমষ্টি হল গান ও বাদ্যযন্ত্র। যথা :
    • ক) নিফাক এর উৎস
    • খ) ব্যভিচারের প্রেরণা জাগ্রতকারী
    • গ) মস্তিষ্কের উপর আবরণ
    • ঘ) কুরআনের প্রতি অনিহা সৃষ্টিকারী
    • ঙ) আখিরাতের চিন্তা নির্মূলকারী
    • চ) গুনাহের প্রতি আকর্ষণ সৃষ্টিকারী ও
    • ছ) জিহাদী চেতনা বিনষ্টকারী।–
    [ইগাছাতুল লাহফান ১/১৮৭]
    চার ইমামের ভাষ্য
    গান ও বাদ্যযন্ত্রের ব্যাপারে ইমাম আবু
    হানীফা, ইমাম মালেক, ইমাম শাফেয়ী ও
    ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল রাহ.-অভিন্ন
    সিদ্ধান্ত প্রদান করেছেন। সকলেই গান-
    বাদ্যকে হারাম বলে আখ্যায়িত করেছেন।
    ইমাম মালেক রাহ. কে গান-বাদ্যের
    ব্যাপারে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন,
    কেবল ফাসিকরাই তা করতে পারে।-
    কুরতুবী ১৪/৫৫ ইমাম শাফেয়ী রাহ.
    বলেছেন যে, গান-বাদ্যে লিপ্ত ব্যক্তি হল
    আহমক।তিনি আরো বলেন, সর্বপ্রকার
    বীণা, তন্ত্রী, ঢাকঢোল, তবলা,
    সারেঙ্গী সবই হারাম এবং এর
    শ্রোতা ফাসেক। তার সাক্ষ্য গ্রহণ
    করা হবে না।-ইগাছাতুল লাহফান ১/১৭৯;
    কুরতুবী ১৪/৫৫
    হাম্বলী মাযহাবের প্রখ্যাত ফকীহ
    আল্লামা আলী মারদভী লেখেন, বাদ্য
    ছাড়া গান মাকরূহে তাহরীমী। আর
    যদি বাদ্য থাকে তবে তা হারাম।-আহসানুল
    ফাতাওয়া ৮/৩৮৮
    ইমাম শাফেয়ী রাহ. শর্তসাপেক্ষে শুধু
    ওলীমা অনুষ্ঠানে দফ বাজানোর অবকাশ
    আছে বলে মত দিয়েছেন। কেননা বিয়ের
    ঘোষণার উদ্দেশ্যে ওলীমার অনুষ্ঠানে দফ
    বাজানোর অবকাশের
    বর্ণনা হাদীসে রয়েছে।-
    জামে তিরমিযী হাদীস : ১০৮৯; সহীহ
    বুখারী হাদীস : ৫১৪৭, ৫১৬২
    মনে রাখতে হবে, এখানে দফ বাজানোর
    উদ্দেশ্য হল বিবাহের ঘোষণা, অন্য কিছু
    নয়।-ফাতহুল বারী ৯/২২৬

    Reply

Leave a Reply to মোঃ আজিম উদ্দীন Cancel reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। প্রতিক্রিয়া লেখার সময় লক্ষ্য রাখুন--

  • ১. স্বনামে বাংলায় প্রতিক্রিয়া লিখুন।
  • ২. ইংরেজিতে প্রতিক্রিয়া বা রোমান হরফে লেখা বাংলা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না।
  • ৩. প্রতিক্রিয়ায় ব্যক্তিগত আক্রমণ গৃহীত হবে না।

দরকারি ঘর গুলো চিহ্নিত করা হয়েছে—