বেঁচে থাকতে ঔপন্যাসিক হিসেবে হুমায়ূন আহমেদকে আকাশছোঁয়া জনপ্রিয়তার পাশাপাশি বিদ্ধ হতে হয়েছে সমালোচনার নানান তিরে। ‘বাজারি লেখক’, ‘ফালতু প্রেমের উপন্যাস গিলিয়ে বছরের পর বছরে কামিয়ে নিয়েছেন অঢেল টাকা’, ‘তার উপন্যাসে দর্শন নেই’, ‘দিক নির্দেশনা বা সমাজ বাস্তবতা নেই’… ইত্যাদি ইত্যাদি নানা অভিযোগ পুরো জীবদ্দশাতেই সয়েছেন হুমায়ূন।

তবে সচেতন নারীবাদী পাঠকদের প্রয়াত এই মানুষটিকে নিয়ে বেশ গুরুতর একটি অভিযোগ ছিল। আর সেটি হলো- হুমায়ূন আহমেদের রচনায় ‘পুরুষতান্ত্রিকতা’! তার রচনায় নারী চরিত্র রূপায়ণের ক্ষেত্রে সনাতনী ‘মেইল গেইজিং’ দৃষ্টিভঙ্গি উপস্থিত ছিলো দৃষ্টিকটূভাবেই।

হুমায়ূনের প্রথমদিককার নায়িকারা বেশিরভাগই ষোড়শী, অপরূপ রূপবতী এবং মায়াবতী। তাদের রূপের বর্ণনায় বেশ অনেকটা শ্রম তিনি প্রতিটি উপন্যাসেই দিয়েছেন। একবার এক নারী পাঠককে বেশ আক্ষেপের সঙ্গেই বলতে শুনেছিলাম, ‘উনার লেখা পড়ার চাইতে ফেয়ার অ্যান্ড লাভলির অ্যাড দেখলেই হয়!’

নারীবাদীদের গঞ্জনায় বিদ্ধ এই হুমায়ূনই নারীকে অন্য ধরনের এক শক্তি হিসেবে তুলে ধরেছেন ‘দেবী’ সিরিজে। হ্যাঁ, অতিপ্রাকৃত এক রুক্মিণী দেবী ভয়াবহ নিগ্রহের হাত থেকে কিশোরী ও তরুণীদের বাঁচাচ্ছেন বটে, পাশাপাশি কি সেই তরুণীদের ভেতরেও এক অদম্য শক্তি জেগে উঠছে না? অশরীরি শক্তিবলয়ের বাইরেও কি উপন্যাসের চরিত্রগুলো নিজেরাই একেকজন অমিত শক্তিময়ী দেবী হয়ে ওঠেননি?

হুমায়ূন আহমেদ এর সাহিত্য জীবনে ‘দেবী’ নিঃসন্দেহেই ছিলো এক মাইলফলক। ১৯৮৫ সালের এই উপন্যাসের মাধ্যমেই মনোজাগতিক উপন্যাসের ধারায় পাঠককে নিয়ে যান তিনি; সেইসঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন নিজের অন্যতম সেরা সৃষ্টি মিসির আলি এর সঙ্গে। সেই প্রথম সাইকোলজিকাল থ্রিলারের জগতে প্রবেশ তার। একের পর এক অতিপ্রাকৃত দৃশ্যকল্প জুড়ে এই উপন্যাসে তিনি উপহার দিয়েছিলেন জমাট রহস্যের এক অবাস্তব ধূম্রজাল।

৩৩ বছর পর সেই নারীশক্তিকে অর্ঘ্য দেয়া উপন্যাস অবলম্বনে তৈরি সিনেমা মুক্তি পেল। তাও আবার দেশের অন্যতম সেরা নারী অভিনয়শিল্পীর প্রথম প্রযোজনায়।

ঢাকাই সিনেমার এককালের ঋজু ও ঋদ্ধ নারীপ্রধান সিনেমার অভাব আমরা যারা বোধ করি, তারা কী কিছুটা হলেও প্রত্যাশায় ছিলেন ভিন্ন কিছুর? সেই প্রত্যাশা জয়া আহসান-এর ‘দেবী’ কতটা মেটাতে পেরেছে? যারা গিয়েছিলেন প্রিয় উপন্যাসের সিনেম্যাটিক রূপান্তর কেমন হলো- তা দেখতে, তাদেরই বা অনুভূতি কী? আর ‘মিসির আলি প্রথমবার’- ট্যাগলাইনটিরও সফল বাস্তবায়ন কী আসলেই ঘটেছে?

দেবীর নারীরা

তবলার ঠুকঠাক শেষে আসল কথাটা বলে ফেলাই ভালো। ‘দেবী’ পুরোদস্তুর একটি নারীদেন্দ্রিক ও নারীপ্রধান সিনেমা। এই সিনেমার মূল চরিত্র দেবীরূপী রানু, মিসির আলি নন। সিনেমার দ্বিতীয় আকর্ষণীয় চরিত্র নীলু। এই দুইটি চরিত্রেরই পূর্ণ আরম্ভ, বিকাশ এবং পরিণতি আছে।

জয়া আহসান এর প্রথম প্রযোজিত সিনেমা। অনেকেই ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন সিনেমাতে নিজের প্রতিই তিনি গুরুত্ব দেবেন বেশি। হয়েছেও তাই। তবে জয়ার মতো শক্তিশালী অভিনেত্রী ছাড়া কিছুটা অপ্রকৃতস্থ রূপসী এই গৃহবধূর চরিত্র আর কে করতেন- সেটা একটা প্রশ্ন বটেই!

রানু আনিসের নতুন বিয়ে করা বউ। মধ্যবয়সী আনিস যখন এই ‘রূপবতী তরুণীটি’কে (হুমায়ূন আহমেদীয় বর্ণনায়) বিয়ে করে আনে, তার ধারণাতেও ছিলো না স্ত্রীর ছেলেমানুষী সত্ত্বার আড়ালে লুকিয়ে আছে পুরোপুরি অন্য এক রূপ। আনিস এর ভাষ্যে তার স্ত্রী ‘ঠিক পাগল না, তবে প্রায়ই অস্বাভাবিক আচরণ করে।’

তবে রানুর জগৎ কিন্তু কেবলই ‘অস্বাভাবিক আচরণ’- এর বৃত্তে ফেলে দেওয়াটা ঠিক হবে না। রানুর রয়েছে অদ্ভুত শক্তিশালী এক ব্যক্তিত্বও। এই ব্যক্তিত্বের কারণেই বাড়িওয়ালার দুই মেয়ের উপর প্রভাব বিস্তার করতে খুব একটা বেগ পেতে হয় না তার। সিনেমায় এক্ষেত্রে তার অতিন্দ্রীয় শক্তির ভূমিকাকে বড় করে দেখানো হলেও যেভাবে নীলুকে ধীরে ধীরে নিজের আপন করে নেয় সেটি কোনো অলৌকিক ক্ষমতাবলে নয়, নারীর প্রতি সহানুভূতিশীল আরেক নারী হওয়ার কারণেই।

সেই রানুই আবার কখনও কখনও খুব ভঙ্গুর। যে অশরীরি সত্তা তার সঙ্গে বাস করে, সে তার বন্ধুপ্রতীম হওয়া সত্ত্বেও এর অস্বাভাবিকতা বিহ্বল করে তাকে। সিনেমার এই অংশগুলোতে হরর এলিমেন্ট ঢোকানোর মাধ্যমে একধরণের চটক আনার চেষ্টা করেছেন পরিচালক। চটকটা অনেকাংশে কাজে দিয়েছে, কিছুক্ষেত্রে দেয়নি। তবে সিনেমাজুড়ে ওই স্থূল চটকের মধ্যেও জয়া যে শক্তিশালী অভিব্যক্তি দিয়েছেন- তার প্রশংসা করতেই হয়। আর সেটিই ছিলো ছবির প্রাণ। এই সিনেমার কারণে জয়া যদি এবছর ফের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার জিতে নেন, অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না।

তবে জয়াকে বারবার দেখানোর প্রয়াস বেশ দৃষ্টিকটূ। এতো ক্লোজআপ কেন? ক্ষেত্রবিশেষে কি সেটি খর্ব করেনি অন্য চরিত্রদের গুরুত্ব?

এবার আসা যাক নীলুর প্রসঙ্গে। আটপৌরে শাড়ি পড়া গৃহবধূ রানুর সঙ্গে শহুরে নারীরা নিজেদের কতটা মেলাতে পারবেন জানিনা। তবে গম্ভীর প্রকৃতির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী নীলুর জগতের সঙ্গে নিজেকে মেলানো যায় সহজেই। মিলেনিয়াম প্রজন্মের এক্সিবিশনিজম থেকে নিজেকে দূরে সরিয়ে রাখা মেয়েটি মানসিকভাবে কতটা একা- সেটার প্রমাণ মেলে ছবির পরতে পরতে।

এক্ষেত্রে ‘দেবী’ উপন্যাসের ছায়া থেকে সরে এসে নির্মাতারা নীলু চরিত্রটিকে দিয়েছেন আলাদা এক ব্যক্তিত্ব। ফেইক প্রোফাইল থেকে আসা চ্যাটের আমন্ত্রণ একারণেই সে প্রথমে বারবার প্রত্যাখান করে। কিন্তু এখনকার দুনিয়ার কঠিন বাস্তবতা হলো, সাবধান না হলে যে কেউ যে কারো অনুভূতিকে পুঁজি করে খেলতে পারে ভার্চুয়াল প্রতারণার নষ্ট খেলা। নীলুও সেটিরই শিকার শেষপর্যন্ত। এখনকার ‘মিটু’ আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে যা দারুণভাবে প্রাসঙ্গিক!

শবনম ফারিয়া তার পরিমিত অভিব্যক্তি আর অভিনয় দিয়ে নীলুর প্রতিটি রূপান্তর ফুটিয়ে তুলেছেন সফলভাবে। বিশেষ করে শেষ দৃশ্যে যেভাবে নীলু নিজেকে বাঁচানোর শক্তি খুঁজে পায়- ওই দৃশ্যে তার ভয়হীণ চোখ আর শক্ত চোয়ালের অভিব্যক্তি সত্যিই প্রশংসার দাবিদার।

ব্যক্তিগতভাবে ‘দেবী’ উপন্যাসটি আমার পছন্দ হওয়ার অন্যতম কারণ, এর মাধ্যমে নারীদের উপর যৌন নিগ্রহের বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলেছিলেন হুমায়ূন। একইভাবে সিনেমাতেও বারবার উঠে এসেছে বিষয়টি। শৈশবে যৌন নিগ্রহের শিকার হওয়ার গোপন যাতনা নিয়ে বড় হওয়া নারীর সংখ্যা নেহাত কম না। উপন্যাসটির মাধ্যমে হয়তো তাদেরকে রক্ষাকারীর রূপক হিসেবে দেবীকে নিয়ে এসেছিলেন হুমায়ূন।

তবে উপন্যাসের শেষ অঙ্কে হুমায়ূন আহমেদ কিন্তু খোলাসা করেননি, নীলুকে অলৌকিক শক্তিই রক্ষা করে, নাকি সে নিজেই নিজের মধ্যে খুঁজে পায় অমিত শক্তিধর এক সত্তাকে। আর ওইটুকু রহস্য রেখে দেয়াই ছিলো উপন্যাসের সাফল্য। সেখানে সেই রহস্যটা ভেঙে দিয়ে নির্মাতারা কী আদৌ ঠিক কাজটি করলেন?

অবশ্য বাণিজ্যিক সিনেমার নিরিখে দেখতে গেলে, দর্শককে তুষ্ট করতে শেষ দৃশ্যের ওই অংশটুকুর প্রয়োজন হয় তো ছিলোই। কিন্তু সেটির নির্মাণ হতে পারতো আরও ভালো, অন্তত আবহ সংগীত আর অ্যানিমেশনের ব্যবহারটায় আরেকটু যত্নবান হতেই পারতেন নির্মাতারা। তাহলে ওই আড়াই-তিন মিনিটের ক্লাইম্যাক্সটাই দর্শকের মনে রেখে যেত চিরস্থায়ী ছাপ।

মিসির আলি, আপনি কোথায়?

‘দেবী’ নির্মাণের ঘোষণা আসার পর থেকেই হুমায়ূন আহমেদ-এর গল্প বা জয়া আহসান-এর কারণে এটি যতটা না আলোচিত হয়েছিলো, তার চেয়েও বেশি মানুষের আগ্রহের কেন্দ্রে ছিল ‘মিসির আলি’। প্রথমবারের মতো মিসির আলি বড় পর্দায় আসছেন, তাও আবার এ সময়ের অন্যতম শক্তিমান অভিনেতা চঞ্চল চৌধুরীর হাত ধরে। প্রত্যাশার পারদ উঁচু হওয়াটাই স্বাভাবিক।

কিন্তু সেই প্রত্যাশা মিটলো কই? না, চঞ্চল চৌধুরী চেষ্টার কোনো ত্রুটি ছিলো না। তার লুক থেকে শুরু করে পোশাক-পরিচ্ছদ, চলন-বলন, অভিব্যক্তি- সবকিছুতেই মিসির আলি উঠতে পেরেছেন তিনি। এমনকি ২০১৮-তে এসেও মিসির আলি গলায় ঝুলিয়ে রাখেন পুরানো সেই নোকিয়া ফোনসেট, দুই পায়ে দুই ধরনের স্যান্ডেল পড়েই চলে যান বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাসে- মিসির আলিকে ফুটিয়ে তুলতে এই ধরনের খুঁটিনাটির প্রতি নির্মাতাদের দৃষ্টি রাখার ব্যাপারটা ভালোই লেগেছে।

তাহলে সমস্যাটা হলো কোথায়? কেন সিনেমাটি দেখতে দেখতে একসময় মিসির আলিকে ব্রাত্য মনে হতে শুরু হলো? কেন মনে হলো, ‘দেবী’তে তার চরিত্রটি না থাকলেও চলতো?

কারণটা হলো- চিত্রনাট্যের দুর্বলতা। গোটা সিনেমা দেখে মনে হয়েছে মিসির আলি এখানে উপস্থিত একজন দর্শক হিসেবে, রহস্যের কিনারা করতে যেখানে তার তেমন কিছু করার নেই! এরচেয়েও বিরক্তিকর প্রতিটি ক্ষেত্রে মিসির আলিকে দিয়েই কমিক রিলিফ দেওয়ার প্রবণতা। মিসির আলির মতো একটি চরিত্র কি এই কারণে কিছুটা লঘু হয়ে যায়নি দর্শকের কাছে?

তবে কেবল মিসির আলিই নয়, এই সিনেমার প্রায় প্রতিটি পুরুষ চরিত্রই যেন অত্যন্ত গৌণ। আনিস চরিত্রে বিশ্বাসযোগ্য হওয়ার চেষ্টা অনিমেষ আইচ করেই গেছেন, কিন্তু খুব একটা সফল হননি। নীলুর বিপত্নীক বাবা উপন্যাসের বেশ খানিকটা অংশ জুড়ে ছিলেন, কিন্তু সিনেমায় তাকে দেখা গেল মাত্র ২-৩ সেকেন্ডের জন্য! ‘দেবী’র সিক্যুয়েল হিসেবে ‘নিশীথিনী’ যদি আসে, সেখানে কিন্তু এই মানুষটিই হয়ে উঠবেন খুব গুরুত্বপূর্ণ। সেক্ষেত্রে এই সিনেমায় তাকে এতোটা গৌণ করে দেখানোটা কি ঠিক হলো?

এক্ষেত্রে অবশ্য উজ্জ্বল ব্যতিক্রম ইরেশ যাকের। সিনেমায় তিনি মূলত এসেছেন ভিলেন সাবেতের চরিত্রে, কিন্তু রানুর নিপীড়ক জালালুদ্দিন আর বিষ্ণুমন্দিরের জল্লাদরূপেও তাকেই ভিন্ন ভিন্ন রূপে দেখিয়েছেন নির্মাতা। ইরেশ প্রতিটি ক্ষেত্রেই উৎরে গেছেন সাফল্যের সঙ্গে। আরও একবার প্রমাণ করেছেন, ঢাকাই চলচ্চিত্রে নেতিবাচক চরিত্রে হুমায়ূন ফরিদীর উত্তরসুরী হওয়ার যোগ্য এইমুহূর্তে তিনিই।

প্রথমবারের মতো পরিচালনায় এসে অনম বিশ্বাসও নিজের সর্বোচ্চটা দিয়ে চেষ্টা করে গেছেন। পঁচাশি সালের নীলুকে ২০১৮ তে সফলভাবে তুলে এনেছেন তিনি (পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দেখে চিঠি চালাচালির বদলে ফেসবুক মেসেঞ্জারের ব্যবহার)। আবার মিসির আলি, রানুকে ঠিকই রেখে দিয়েছেন সেই সময়ের নস্টালজিয়ায় মুড়ে। ছোট ছোট ডিটেইলিং-এর প্রতি লক্ষ্য থাকায় এই দুই বৈপরীত্যকে স্বাভাবিকভাবে তুলে আনতে পেরেছেন তিনি। অনম বিশ্বাস তাই ক্যারেক্টার ডিজাইনিং-এর ক্ষেত্রে বাহবা পেতেই পারেন।

সিনেমার আরেকটি বড় সম্পদ সিনেমাটোগ্রাফি। ‘মনপুরা’ ও ‘আয়নাবাজী’র পর কামরুল হাসান খসরু আরও একবার নিজের জাত চেনালেন। ডিরেকশন অফ ফটোগ্রাফিও মন কেড়েছে। আলো আর আঁধারির দুর্দান্ত ব্যবহার সিনেমাজুড়ে রহস্যের পরতকে আগলে রাখতে সাহায্য করেছে খুব।

সিনেমার প্রচারণার সময় প্রকাশ হয়েছিলো দুটি গান। তবে সিনেমায় দেখানো হয় একটি। অনুপম রায়ের ‘দু মুঠো বিকেল’ আগেই প্রশংসিত হয়েছিলো। সিনেমায় সেটির যথার্থ ব্যবহার দেখে ভালো লেগেছে।

বেশকিছু দুর্বলতা সত্ত্বেও ‘দেবী’ হলে গিয়ে দেখার মতো একটি সিনেমা। হুমায়ূন আহমেদ-এর গল্পে নির্মিত সেরা সিনেমার তকমা এটিকে এখনই দেয়া যাচ্ছে না। মিসির আলির শুরু হিসেবেও খুব একটা আশাপ্রদ নয় এটি। তবুও ‘দেবী’ দেখে মন ভরবে এর নারীবাদী বক্তব্যের কারণে। আর জয়ার ক্যারিয়ারসেরা অভিনয়ের প্রদর্শনী তো আছেই। সেইসঙ্গে যদি হন সাইকোলজিক্যাল থ্রিলারের ভক্ত, প্রিয়জনের সঙ্গে কার্তিকের সন্ধ্যাটা তাহলে ‘দেবী’কে দেওয়া যেতেই পারে।

Responses -- “দেবী: হুমায়ূনের উপন্যাসের নারীবাদ কি সিনেমায় ফুটেছে?”

  1. লতিফ

    ধর্ষণ ঠেকাতে ব্যর্থ একজন নারীর মনের আকুতি কি তবে দেবী হয়ে ওঠা? সমাজ যদি ধর্ষক হয়ে ওঠে, তবে নারীর কি দায় দেবী হয়ে সেই সমাজের মুখ রক্ষা করা? মানে, হুমায়ূন যে ধর্ষণের মতো নির্মম একটা বিষয়কে নিয়েও লেখা বাণিজ্য করতে পারে, এটা আমার জানা ছিল না। ছবিটাকে হরর হয়ে উঠতে দিলে পরিচালক ভালো করতেন। অন্তত ধর্ষণের মুখে কোন নারীর মনে দেবী হওয়ার বাসনা জাগতো না।

    Reply
    • আগন্তুক

      রানুর অতীতের ঘটনা বাস্তবেই একটা মেয়ের সাথে হয়েছিল। এর পরে থেকে সেই মেয়েটা অস্বাভাবিক আচরণ করতে শুরু করে। এটাই ছিল হুমায়ূন আহমেদের দেবী লেখার অনুপ্রেরণা। তাঁর আত্মজীবনী পড়লে জানতে পারবেন।

      Reply
  2. ঠিক বুঝলাম না।

    আমি পুরো উপন্যাস পড়েছি কিন্তু নারীবাদ কোথাও পেলাম না। মেয়েটার হেল্যুসিনেশান এবং তার ইন্টুইশান পাওয়ার নিয়ে গল্পটা এগিয়েছে। আপনি কোথায় নারীবাদ পেলেন বলবেন প্লিজ☺

    Reply
  3. Asif Shovon

    ঢাকাই চলচ্চিত্রে নেতিবাচক চরিত্রে হুমায়ূন ফরিদীর উত্তরসুরী হওয়ার যোগ্য এইমুহূর্তে তিনিই।
    Kothata thik noy.

    Reply

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। প্রতিক্রিয়া লেখার সময় লক্ষ্য রাখুন--

  • ১. স্বনামে বাংলায় প্রতিক্রিয়া লিখুন।
  • ২. ইংরেজিতে প্রতিক্রিয়া বা রোমান হরফে লেখা বাংলা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না।
  • ৩. প্রতিক্রিয়ায় ব্যক্তিগত আক্রমণ গৃহীত হবে না।

দরকারি ঘর গুলো চিহ্নিত করা হয়েছে—