১৪ অক্টোবর ২০১৮ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম-এর মতামত বিভাগে ‘প্রসঙ্গ সম্মিলিত সাংস্কৃতি জোট’ শিরোনামে জনৈক আনিসুর রহমানের একটি দীর্ঘ লেখা প্রকাশিত হয়েছে।

সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের ব্যাপারে আগ্রহী যেকোনও ব্যক্তি জোটের কর্মকাণ্ড নিয়ে আলোচনা করতে পারেন, মতামত রাখতে পারেন এবং বস্তুনিষ্ঠ সমালোচনাও করতে পারেন- যাতে জোট ঋদ্ধ হয়। কিন্তু উক্ত লেখক উদ্দেশ্যপূর্ণভাবে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট এবং এর বিভিন্ন সময়ের নেতৃত্ব সম্পর্কে মিথ্যা, বানোয়াট মনগড়া বক্তব্য হাজির করে পাঠকদের বিভ্রান্ত করতে চেয়েছেন।

প্রথমে ভেবেছিলাম এ ধরনের লেখা সম্পর্কে কোনও প্রতিক্রিয়া না দেখানোই ভালো। কারণ সমাজে হীন মানসিকতার অনেক লোক রয়েছে যাদের কাজ হলো অন্যের চরিত্র হনন এবং ছিদ্র অন্বেষণ করে বেড়ানো। তারপরও সংস্কৃতিকর্মীদের অনুরোধে দু’ একটি কথা উল্লেখ করতে চাই:

১. আনিসুর রহমান লিখেছেন- ‘অধ্যাপক কবীর চৌধুরী বলেছিলেন, তার মরদেহ যাতে শহীদ মিনারে নেয়া না হয়।’

প্রকৃত সত্য হলো জাতীয় অধ্যাপক কবীর চৌধুরী বলেছিলেন, তাকে দ্রুত দাফন করার স্বার্থে তার মরদেহ যাতে শহীদ মিনার কিংবা বাংলা একাডেমিতে নেয়া না হয়। কেউ চাইলে পরিবারের সদস্যদের কাছে এর সত্যতা যাচাই করতে পারেন। নাম উল্লেখ না করে একজন বয়োজ্যেষ্ঠ চিত্রশিল্পী অধ্যাপকের উদ্ধৃতি দিয়ে আনিসুর রহমান প্রকৃত অর্থে নিজের মতামতে শহীদ মিনারে বরেণ্য ব্যক্তিদের শ্রদ্ধা নিবেদন করাকে যেভাবে উপহাস, অসম্মান করেছেন- তা বিবেকসম্পন্ন কোনো মানুষের পক্ষে সম্ভব নয়।

সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের স্বেচ্ছাপ্রণোদিত এ ধরনের মানবিক কাজকে আনিসুর রহমান ‘ঠিকাদারি ও বিজ্ঞাপনী ব্যবসা’ হিসেবে অভিহিত করে ছোট মনের পরিচয় দিয়েছেন। এ মহৎ কর্ম কোনও ধরনের ব্যবসা কিনা প্রয়াত ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যরাই তা ভালো বলতে পারবেন। ধর্ম, বর্ণ, নির্বিশেষে বরেণ্য ব্যক্তিদের শ্রদ্ধা নিবেদনের এ প্রক্রিয়াটিকে তিনি বলেছেন- “এটা অনেকটা আমাদের ঢাকা শহরের বড় বড় মানুষদের জন্য এক ধরনের আঞ্জুমানে মফিদুল ইসলাম।” আনিসুর সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটকে হেয় করতে যেয়ে প্রয়াত বরেণ্য ব্যক্তিদের যেভাবে অপমান করেছেন তা ক্ষমার অযোগ্য অপরাধ।

২. শিল্প-সংস্কৃতির ক্ষেত্রে জোটের করণীয় সম্পর্কে জোট সচেতন। জাতীয় বাজেটের ন্যূনতম এক শতাংশ বরাদ্দসহ নানা ইস্যুতে জোট দেশব্যাপী বহু কর্মসূচি পালন করেছে এবং তা অব্যাহত আছে। কুৎসা রটনা করে মানুষকে বিভ্রান্ত করা ছাড়া সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট সম্পর্কে আনিসুরের আর কোনও ধারণা আছে বলে মনে হয়নি।

৩. সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের নেতৃত্ব কীভাবে গঠিত হবে, কারা থাকবেন এবং আদৌ এ-সংগঠনের প্রয়োজন আছে কি না তা নিশ্চয়ই আনিসুর ঠিক করে দেবেন না। সংস্কৃতিকর্মী এবং শুভাকাঙ্ক্ষীরাই এ-বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। এ সম্পর্কে আনিসুরের বক্তব্য ধৃষ্টতাপূর্ণ।

Responses -- “প্রতিক্রিয়া: সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট”

  1. Md. Badruddoza

    সমালোচনা করার অধিকার সবার আছে। তবে মনে রাখতে হবে সেটি যেন আমাদের মূল আদর্শিক শক্তি মুক্তিযুদ্ধ বা অসাম্প্রদায়িক চেতনার বিরুদ্ধে না যায়।
    ‘প্রসঙ্গ সম্মিলিত সাংস্কৃতি জোট’ শিরোনামে জনৈক আনিসুর রহমানের লেখাটি পড়ে মনে হয়েছে মারাত্বক পক্ষপাত দোষে দুষ্ট। সে হয়ত কোন চক্রের বা পক্ষের প্রতিনিধিত্ব করতে ব্যস্ত। ধিক আনিসুর রহমান ।
    সেই সাথে ধন্যবাদ আহ্কাম ভাইকে লেখাটির প্রতিবাদ প্রকাশের জন্য ——-

    Reply
  2. Anwar A Khan

    During the yesteryear, Sammilita Sangskritic Jote was steered by some illuminated, honourable and refinement like personas upholding the unfeigned inspirits of our glorified Liberation War of 1971 and the upright causa of Bangladesh. I cognised their furbished grimaces and their un-sloped ferments, but they didn’t know me personally.

    Out of my thick love and respect, I penned an article titled, “Sammilita Sangskritic Jote: A magnificent Bengali cultural organization” which appeared in two installments in The Asian Age on 27th and 31st July 2018 respectively and the following internet links will facilitate to read it:

    1.https://dailyasianage.com/news/132588/sammilita-sangskritic-jote-a-magnificent-bengali-cultural-organization-part—i (Part-1)

    2.https://dailyasianage.com/news/133236/sammilita-sangskritik-jote-a-magnificent-bengali-cultural-organization-part-2

    I also did now know personally the present leaders of this historic organisation. After my article was brought out, I thought that I should let the current leaders of this organization know of it and to enable them to read this piece. I made feverish endeavours to find out their contact details for a few days. Finally, I got the cell phone number of its present supremo through the courtesy of my younger brother like Shah Alamgir, DG of PIB. I made several phones calls to that hombre of Sammilita Sangskritic Jote, but he didn’t bother to receive my calls. Then I sent a SMS to him foregrounding about my article and requested him to receive my phone call and also requested him to give me the cell phone numbers and email addresses of other important leaders including his one of the organization, but he did never bother to it.

    After giving more efforts to talk to him, he then received my call. I tried to tell him to read this write-out, but he immediately cut the phone line off telling that he was too busy. He did never call me back. Later on, I found out his face-book link and asked him to accept my request so that I could affix the internet links of my article there. But he gave it taking a long time. I then pasted the links to his face-book wall and requested him to make some comment(s), if he had in his thoughts, but he didn’t bother. Rather, he blue-penciled those links from his face-book wall in a flash.

    No scuttlebutts from me!

    Reply
  3. shah matin tipu

    আহকাম ভাই মনে হচ্ছে ক্ষুব্ধ হয়ে কিছু বলেছেন। তার লেখাটা পড়ে ক্রোধটাই দেখতে পেলাম। কিন্তু আনিসুর রহমান এই জোট দ্বারা কি কার্যক্রম হাতে নেয়া যেতে পারে তা নিয়েও কিছু ইঙ্গিতবাহী লেখা লিখেছেন। আহকাম ভাই রেগে গিয়ে সেদিকটাতে যানই নি। আনিসুর ঠিক করে দেবেন- এমন কিছু বলেননি। তবু সে চার্জটাই তার বিরুদ্ধে।
    এই জোটের প্রতিটি লোকই আমাদের পছন্দের। পছন্দের কাউকে ক্রুদ্ধ হতে দেখলে একটু বেমানান লাগে।

    Reply
  4. একেএম আসাদুজ্জামান

    আপনার পোস্টটা আরও আগে আশা করেছিলাম আহ্কাম ভাই, যথার্থ বলেছেন।
    “ধৃষ্টতাপূর্ণ বক্তব্য”

    Reply
  5. সরকার জাবেদ ইকবাল

    যে কোন ক্রান্তিলগ্নে দেশের সচেতন নাগরিক সমাজ ঐক্যবদ্ধ হয়ে প্রতিবাদ জানায়; আন্দোলন গড়ে তোলে। এটাই স্বাভাবিক। আর, এভাবেই দেশের ছাত্র-শিক্ষক-বুদ্ধিজীবী-জনতা ঐক্যবদ্ধ হয়ে ভাষা আন্দোলন এবং মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল। এ ধরনের সংঘবদ্ধতার কখনও নামকরণ হয়, কখনও হয় না। ‘সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট’ তেমনই একটি প্ল্যাটফর্ম। সচেতন নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি হিসেবে তারা সময়ের দাবী পূরণ করে যাচ্ছেন। যারা এর সমালোচনা বা বিরোধীতা করছেন তাদের গভীর অভিসন্ধি সম্পর্কে সতর্ক থাকাই সমীচীন। তাদের দিক থেকে কোন উগ্র মৌলবাদী চক্রের প্রতিনিধিত্ব/ওকালতি অস্বাভাবিক কিছু নয়!

    Reply

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। প্রতিক্রিয়া লেখার সময় লক্ষ্য রাখুন--

  • ১. স্বনামে বাংলায় প্রতিক্রিয়া লিখুন।
  • ২. ইংরেজিতে প্রতিক্রিয়া বা রোমান হরফে লেখা বাংলা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না।
  • ৩. প্রতিক্রিয়ায় ব্যক্তিগত আক্রমণ গৃহীত হবে না।

দরকারি ঘর গুলো চিহ্নিত করা হয়েছে—