সেদিন সকালে উঠেই খবরটা দেখলাম।  জীবদ্দশায় মানুষকে সম্মান করার রেওয়াজ কম আমাদের। থাকলে অনেক মানুষই আমাদের দেশ ও জাতিতে চিরস্মরণীয় হতেন। তারচেয়েও বড় কথা আমরা একটি কৃতজ্ঞ জাতিতে পরিণত হতে পারতাম।
আমাদের ভালোবাসা শ্রদ্ধাবোধ কিংবা অসম্মান করার প্রবণতা সবকিছু কেমন স্বার্থপরের মতো। আমি যে কথাটা সবসময় বলি আমরা আসলেই একটা কমলালেবু জাতি। যার মানে বাইরে কমলার খোসা আমাদের একত্রিত করে রাখলেও আমরা সবাই একেকটি ভিন্ন কোষ। আমাদের এক করে রেখেছে দেশ সংস্কৃতি ও সীমানা।
এর বাইরে কী নিয়ে ঐক্য আছে আমাদের? এই যে এতবড় যুদ্ধ আর তার ফলে পাওয়া দেশ, তাকেও কি আমরা সবাই মিলে ভালোবাসি? আমাদের পতাকা-সঙ্গীত-নেতা-পিতা সবাইকে আমরা তোপের মুখে রেখে শান্তি পাই। একত্রে রবীন্দ্রনাথ নজরুল বঙ্গবন্ধুকে না মানা বাঙালি এখন স্বার্থ আর সুযোগের বাইরে কাউকে সম্মান করেনা।
সকালে দেখলাম সৈয়দ আশরাফ গুরুতর অসুস্থ। তার বিষয়ে লেখার আগে কয়েকটা কথা বলে নেই। এখন রাজনীতি বা রাজনৈতিক নেতাদের আসলে কেউ তেমন শ্রদ্ধার চোখে দেখেনা। এই যে চারদিকে প্রধানমন্ত্রীর প্রশস্তি বা গুণগান তার পেছনেও আছে ধান্দাবাজী। তিনি যদি আজ আর গদিতে না থাকেন বা কোন কারণে অবসরে যান তখন কি  আমরা এভাবে তার কথা লিখবো বা বলবো?
সমাজের শরীরে যে পচন তার জন্য রাজনীতি ব্যাপকভাবে দায়ী। একটা সময় ছিলো যখন রাজনীতিবিদেরা সমাজসেবা আর জনকল্যাণে এই কাজে আসতেন। সে কারণে আমাদের অতীতে আমরা এমন কিছু রাজনীতিবিদদের পেয়েছিলাম যারা একটা আদর্শে বিশ্বাস করতেন। আমি কোন রাজনৈতিক আদর্শের কথা বলছি না। আমি বলছি তাদের জীবনযাপনের কথা। সে আমলে প্লেইন লিভিং হাই থিকিং ছিল মূল কথা। পরে সাফারি আর লম্বা কোটের সেনানায়কেরা এই জায়গাকে নামিয়ে আনলেন হাই লিভিং আর প্লেইন থিকিং’য়ে। এখন আরো খারাপ অবস্থা। এখন হলো হাই লিভিং আর নো থিকিং এর যুগ।
কোনভাবে টুপাইস কামালেই হলো। আজ লন্ডন কাল প্যারিস পরশু ঢাকা এভাবেই চলে যায় জীবন। এদের মানুষ এখন ভালোবাসে কি না জানিনা তবে ভয় পায়। আর ভয় ও ত্রাসে তারা নেতা হয়ে আমাদের ওপর ছড়ি ঘোরাতে থাকে।
এমন দু:সময়েও আমাদের জাতীয় জীবনে কিছু মানুষ আছেন যারা এখনো পুরনো চালে নিজেদের চলতে দিতে ভালোবাসেন। সৈয়দ আশরাফ তেমন একজন নেতা। তার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ আছে সেগুলো বিশ্লেষণ করলেই দেখবেন তিনি প্রচলিত নেতাদের বাইরে একজন সাধারণ মানুষ। শুনেছি তিনি দেরিতে ঘুম থেকে উঠতেন। কারণ সকাল থেকে তদবীরবাজ আর স্বার্থপরদের জন্য সময় দিতেন না।
নিন্দুকেরা বলে তিনি নাকি কর্মীদের সময় দিতেন না। এর মাজেজা বোঝাও কঠিন না। তিনি তেমন মানুষ নন যে সারা দিনরাত খালি এর বিরুদ্ধে ওর ওর বিরুদ্ধে এর কথা শুনবেন। আর একটা বড় বিষয় তিনি প্রগলভ ছিলেন না। এখন তো প্রগলভতার যুগ।
নেতাদের ধারণা তাদের কোন কাজকর্মের খবর কেউ রাখেনা। তারা মাইক বা মিডিয়া পেলেই খালি বকবক করবেন আর আমরা শুনে বলবো : দারুণ দারুণ। এগিয়ে চলেন জাতীয় কিছু। সৈয়দ আশরাফ তেমন কিছু ছিলেননা। যে বিষয়টা আমরা মনে রাখিনা অনেক কথা বলার ভেতর এক ধরণের বিপদ থাকে। আমি কারো নাম বলে বিপদে পড়তে চাইনা। কিন্তু আমরা সবাই জানি বিরোধী দল বিএনপির মহাসচিবের পরিমিত কথন আমাদের খারাপ লাগে না। অন্যদিকে কারো কারো কথা শুনলে মনে হয়, থামলে বাঁচি।
আমি বলিনা যে তিনি সবসময় নিজের ইচ্ছেয় বলেন। বা তারা বলতে চান। বলতে হয় তাদের দিয়ে বলানোও হয় হয়তো। সৈয়দ আশরাফের সময় যেটা ছিলো তিনি  এত কথা বলতেন না। আর বললেও পরিমিত । এই পরিমিতি বোধের নামই কিন্তু আধুনিকতা। মনে আছে দেশের সর্বাধিক প্রচারিত নামে পরিচিত দৈনিকের সম্পাদক ও তার সহযোগী আমার এক বন্ধুর কথোপকথনের অডিও ফাঁস হয়েছিল একসময়।
আমি তা মন দিয়ে শুনেছি একাধিকবার। কারণ এর নেপথ্যে কি আছে বোঝার দরকার ছিল। আপনি যদি তা শুনে থাকেন অবশ্যই বুঝবেন এর কারণ ছিলো ঈর্ষা আর পাত্তা না পাওয়ার বেদনা। খেয়াল করুন এখন যখন অতিকথনের তোড়ে সরকারী দলের হাল খারাপ তখন এরা চুপ। কারণ এরা খুব ভালো জানে ড্যামেজ বা লোকসান  যা করার তা যখন ভেতর থেকেই হচ্ছে তাদের আর বলার দরকার নাই।
মূলত তার উত্তরাধিকার তাকে এমনভাবে বড় করেছে যেখানে কথা বলার প্রয়োজন ছিল কম। আমরা জানি এই মানুষটি কার সন্তান। তার পিতা ছিলেন এদেশের জন্মলগ্নের রাষ্ট্রপতি। মুক্তিযুদ্ধের কান্ডারি। পঁচাত্তরের  নির্মম ও আইনবিহীন সভ্যতাহীন হত্যার শিকার। তারপরও আমরা তার গলায় কোনদিন তেমন কোন প্রতিহিংসার কথা শুনিনি। পিতার কথাও বলতেন না তেমন করে। শুধু প্রয়োজনের সময় বলেছিলেন , তাঁর রক্ত পরীক্ষিত। যা কোনদিন বেঈমানি করতে জানে না।
এই মানুষটি যখন সাধারণ সম্পাদকের পদ থেকে চলে গেলেন তখনও নীরব। রাজনীতিতে আসা যাওয়া যে একটা সাধারণ ও চলমান বিষয় সেটা আমরা মানি না। যেকোনও দলে আসা আছে, যাওয়া নাই। ক’দিন আগে এক মন্ত্রীর বিরুদ্ধে সারাদেশে ফেটে পড়েছিল। মানুষের হাসি যে কত বীভৎস আর নির্মম হতে পারে সেটা দেখেছিলাম আমরা। মানুষের একটাই চাওয়া তখন  এই হাসি বন্ধ হোক । এই নেতাকে সরানো হোক। হয়েছে ? কেন হয়নি তা আমরা সবাই বুঝি।
কিন্তু কিছুদিন পর ভুলে যাই। এটার ভেতর আরেকটা সত্য আছে। এই নিষ্ঠুর মানুষটিকেও আমরা ভুলে যাবো। কোনদিন কোন পজিটিভ কারণে তাকে মনে রাখবে না কেউ। অথচ চলে যাবার পরও আমি দেখেছি মানুষ বিশেষত নারীদের ভেতর কি তুমুল জনপ্রিয় সৈয়দ আশরাফ।
ব্যক্তিগত জীবনে শীলা ঠাকুরের স্বামী তিনি। এমন এক পত্নী পেয়েছিলেন যিনি আধুনিক ও লেখাপড়া জানা মেধাবী। দূরারোগ্য ব্যধিতে ভোগার সময় সাহায্য বা অনুদানের কিছুই নেননি পদবীধারী আশরাফ ভাই। উল্টো নাকি বলেছিলেন ঢাকার বাড়িটা বিক্রি করে দিলেই চিকিৎসার টাকা হয়ে যাবে। তা করার আগেই না ফেরার দেশে পাড়ি জমিয়েছিলেন শীলা ঠাকুর। তখন তিনি বিলেতে থাকাকালীন সময়ে আমি যোগাযোগের চেষ্টা করি।
বিলেত প্রবাসী সুশান্তের কল্যাণে সম্ভবও হয় তা। প্রথমদিন না পেলেও পরের দিন ফোনে পেয়ে যাই তাকে। ঠিক যেমনটি মনে করেছিলাম তেমন শান্ত আর চমৎকার ব্যবহার। কথা বলার সময়টুকুতে খেয়াল করেছি যত বলেন শোনেন তার বেশি। তার ভদ্রতা ও অমায়িক আচরণ যেকোন মানুষকে মুগ্ধ করতে যথেষ্ট। এমন মানুষই আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে দরকার।
দেশের রাজনীতির ওপর মানুষের যে রাগ বা অভিমান বা রাজনীতি নিয়ে নেতাদের নিয়ে যেসব অভিযোগ তার নিরসনে সৈয়দ আশরাফের মত নেতার বিকল্প নাই। তিনি প্রমাণ করেছেন রাজনীতি করতে হলে খালি কথা বলতে হয়না। মানুষের ব্যক্তিত্ব আর তার পরিমিতিবোধ ও ম্যাজিকের মত কাজ করে বৈকি।
সকালে দেখলাম তিনি গুরুতর অসুস্থ। এও পড়লাম সংসদ ও তাকে ছুটি দিয়েছে। সৈয়দ আশরাফ অনেকদিন পর জাতীয় রাজনৈতিক অঙ্গণে  একজন আধুনিক নেতা ও মানুষ হয়ে জনগণের দৃষ্টি কেড়েছিলেন। আমরা তার নিরোগ দীর্ঘজীবন কামনা করি। বন্ধু কবি আসাদ মান্নানের কবিতার পঙক্তি থেকে বলি- সৈয়দ বংশের ফুল সৈয়দ আশরাফ আবার ফিরে আসুন। আবার সরব ও সচল হোন। আপনার প্রয়োজন ফুরোয়নি এখনো।
অজয় দাশগুপ্তকলামিস্ট।

Responses -- “সৈয়দ আশরাফ: আপনার প্রয়োজন এখনো ফুরোয়নি”

  1. Ahsan

    জনাব আশরাফ দেরি করে ঘুম থেকে উঠতেন এটা ঠিক আছে কিন্তু তিনি কোনো প্রকার তদবির বাজদের জন্য কাজ করেননি এটা বলার মতো কোনো তথ্য আছে আপনার কাছে?
    শোনা যায় উনি অতিরিক্ত পরিমাণে মদ‍্য পান করতেন। এ কারণে তার কথা জড়িয়ে যাওয়া এবং বিভিন্ন সভা অনুষ্ঠানে প্রায়শই সময় মতো না আসার ঘটনা প্রতিনিয়ত ঘটে যাচ্ছিলো। প্রধানমন্ত্রী স্বয়ং এই বিষয়ে বিরক্ত ছিলেন বলে জানা যায়।
    শুধু তিনি একা নন। তার সময়ের বিএনপি মহাসচিব জনাব খন্দকার দেলোয়ার সাহেবেরও একই রকম সমস্যা ছিল বলে জানা যায়।

    Reply
    • রাহুল বগুড়া

      ভাই জীবন মৃত্যুর মাঝের একজনকে নিয়ে না হয় এত কথা নাই বা বললেন? আমরা সবাই কি ধোঁয়া তুলসী পাতা? সবারই পিছনে কিছু না কিছু ঘটনাবহুল অতীত আছেই। তাই ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করি উনি যেন দ্রুত সুস্থ হয়ে আমাদের মাঝে ফিরে আসে। কারণ ওনার মত মানুষকে বাংলার রাজনৈতিক অঙ্গনে দরকার আছে ।

      Reply
  2. সরকার জাবেদ ইকবাল

    “আর তোমার চলার ক্ষেত্রে মধ্যপন্থা অবলম্বন কর, তোমার আওয়াজ নীচু কর; নিশ্চয় সবচাইতে নিকৃষ্ট আওয়াজ হল গাধার আওয়াজ।” [সূরা লুক্বমান :১৮-১৯]

    উদ্দীপনাময় বক্তৃতা আর গলাবাজি এক কথা নয়। মেধা আর প্রজ্ঞার সম্মিলনে উদ্দীপনাময় বক্তৃতা হয়ে গণমানুষের প্রাণের কথা। বঙ্গবন্ধু তার প্রকৃষ্ট উদাহরণ। আর, সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম হলেন বঙ্গবন্ধুর সার্থক উত্তরসুরী। সৈয়দ আশরাফের যোগ্যতার যথাযথ মূল্যায়ন হয়নি।

    Reply
  3. সুরুজ বাঙালি

    লেখক অজয় দাশগুপ্ত আপনি আপনার বিডিনিউজের অভিমত বিভাগে কলাম ” দিদির দাদাগিরি ও আমাদের সম্পর্ক” নামক কলামে বিজেপিকে বাংলাদেশের বন্ধু বুঝতে চেয়েছেন। কিভাবে আপনি বাংলাদেশ বিদ্বেষী হিন্দু মৌলবাদী একটি সংগঠনকে সমর্থন দিলেন বুঝলাম না। বিজেপি কি বাংলাদেশের বন্ধু ??? নাকি আপনি মুক্তমনা, অসাম্প্রদায়িকতার আড়ালে হিন্দু মৌলবাদী বিজেপিকে সমর্থন দেন। নিচে ডেইলি স্টার পত্রিকার বাংলা বিভাগের সংবাদ তুলে দিলাম আর সংবাদের সূত্র অর্থাৎ লিংক ও দিলাম।
    ———————————-
    “ভারতে কথিত বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের ‘উইপোকা’ বললেন দেশটির ক্ষমতাসীন দল বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত শাহ। গতকাল রাজস্থানে এক জনসভায় এনআরসির পক্ষে সওয়াল করতে গিয়ে কোনো রাখঢাক না রেখে এভাবেই ঘৃণা ও বিভাজনের রাজনীতির পক্ষে মনোভাব জানালেন দলটির এই শীর্ষ নেতা।

    তার দাবি, ভারতের ভোটার তালিকায় বাংলাদেশিরা ঢুকে পড়ছেন। তাই খুঁজে খুঁজে ভোটার তালিকা উইপোকামুক্ত করবেন তারা। এনআরসি প্রসঙ্গে বলেন, আসামে ইতিমধ্যে এরকম ৪০ লাখ ‘উইপোকা’ চিহ্নিত করা হয়েছে।

    অমিত শাহ গতকাল যেখানে বক্তব্য দিয়েছেন সেই রাজস্থানেই গত বছরের শেষদিকে বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী সন্দেহে মহম্মদ আফরাজুল নামের এক লোককে কুপিয়ে হত্যা করেছিল উগ্র হিন্দুত্ববাদীরা। পশ্চিমবঙ্গের মালদা জেলার ওই ব্যক্তি রাজস্থানে দিন মজুরের কাজ করতে গিয়ে লাশ হয়েছিলেন। ওই ঘটনার আগে ও পরে বিভিন্ন সময় সংখ্যালঘুদের ওপর স্বঘোষিত গো রক্ষকদের আক্রমণ সংবাদের শিরোনাম হয়েছিল।

    রাজস্থানে গত পাঁচ বছর ধরে ক্ষমতায় রয়েছে বসুন্ধরা রাজের নেতৃত্বাধীন বিজেপি। এ বছরের শেষ নাগাদ রাজ্যটিতে বিধানসভা নির্বাচন। ভারতীয় গণমাধ্যমের বিশ্লেষণ বলছে, নির্বাচনের বৈতরণী পার হওয়ার জন্য আবার জাতপাত ও বিভাজনের রাজনীতিকে হাতিয়ার করতে চলেছে বিজেপি। রাজস্থানের রাজনীতিতে বাংলাদেশি অনুপ্রবেশ কোনো ইস্যু না হলেও তাই অপ্রাসঙ্গিকভাবেই এমন কথা বলছেন বিজেপির শীর্ষ নেতারা।”
    ——————–

    ডেইলি স্টার , সেপ্টেম্বর ২৩, ২০১৮।
    সূত্র বা লিংক : https://www.thedailystar.net/bangla/%E0%A6%86%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%A4%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%9C%E0%A6%BE%E0%A6%A4%E0%A6%BF%E0%A6%95/%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%82%E0%A6%B2%E0%A6%BE%E0%A6%A6%E0%A7%87%E0%A6%B6%E0%A6%BF%E0%A6%B0%E0%A6%BE-%E0%A6%89%E0%A6%87%E0%A6%AA%E0%A7%8B%E0%A6%95%E0%A6%BE-%E0%A6%AC%E0%A7%87%E0%A6%9B%E0%A7%87-%E0%A6%AC%E0%A7%87%E0%A6%9B%E0%A7%87-%E0%A6%A4%E0%A6%BE%E0%A7%9C%E0%A6%BE%E0%A6%AC%E0%A7%8B-%E0%A6%AC%E0%A6%BF%E0%A6%9C%E0%A6%BF%E0%A6%AA%E0%A6%BF-%E0%A6%B8%E0%A6%AD%E0%A6%BE%E0%A6%AA%E0%A6%A4%E0%A6%BF-98452

    Reply
  4. Md. Mahbubul Haque

    তিনি ব্যক্তিগত ভাবে একজন সজ্জন ব্যক্তি, ঠিক আছে। কিন্তু ক্ষমতার বলয়ের কাছাকাছি থাকা সত্ত্বেও দলীয় কুলাঙ্গারদের দমনে তিনি কি কোন ভূমিকা রেখেছেন? দলের একটি অত্যন্ত শক্তিশালী পদে তিনি আসীন, যেখানে থেকে যারা দল ও দেশের ক্ষতি করছে তাদের বিরুদ্ধে কথা বলতে আমরা কি কখনও তাকে দেখেছি?
    তবু বাংলাদেশের রাজনীতির একজন ভালো মানুষ হিসেবে তার রোগমুক্তি এবং রাজনীতির পঙ্কীলতার বিরুদ্ধে তার শক্তভাবে ফিরে আশা কামনা করি। চেষ্টা করলে এরাই হয়তো পারেন এদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনকে কলুষমুক্ত করতে।
    আশায় থাকি….

    Reply
    • রাহুল বগুড়া

      ভাই আমার দেখা মতে ওনার মত ক্লিন ইমেজের মানুষ খুব কমই আছে। উনি সব সময় মনে মনে ওনার বাবাকে অনুসরণ করতেন। এই জন্যই আজও পর্যন্ত উনি বিতর্কের ঊর্ধ্ধে। গাজিপুর কাপাশিয়ার সোহেল তাজ আর কিশোরগঞ্জের সৈয়দ আশরাফ। ইচ্ছে করলেই অনেক কিছু করতে পারতেন কিন্তু ওই যে বললাম সব সময় বিতর্কের বাইরে থেকেছেন। এই জন্যই ওনাদের মতো রাজনীতিবিদদের জন্য বাংলার মাটি আজও হাহাকার করে। আজও ওনাদের মতো মানুষদের প্রধানমন্ত্রীকে তেল মারতে হয়না। স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী ওনাদের কাছে টেনে নেয় ওনাদের যাওয়া লাগে না। এই জন্যই সোহেল তাজ আর সৈয়দ আশরাফ ওনাদের নাম। যাদের রক্ত কোনও দিন বেঈমানি করে নি করবেও না ইনসিআল্লাহ।

      Reply
  5. সঞ্জয় কুমার দত্ত

    আমি ব্যক্তিগতভাবে বর্তমান রাজনীতির উপর বীতশ্রদ্ধ। বর্তমান রাজনীতি হয়ে গেছে ভোগ আর বিলাসের। অথচ তারাই দেশের গতিপথ তৈরি করে। এই মতামতের ২/৩টি কথা চিরসত্য।
    শ্রদ্ধেয় সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম বরাবরই আমার প্রিয় একজন মানুষ কিন্তু এই লেখার হেডলাইনটা আকর্ষণ করলেও ভিতরে একটু হতাশ হয়েছি! কারণ তাঁর গুণাবলী এখানে বিশ্লেষায়িত খুব একটা হয়নি; যা থেকে একজন তরুণ রাজনীতিবিদ কিছু শিখতে পারে।

    Reply
  6. সুনীল আকাশ

    দাদা
    নাম উল্লেক্ষ করেন নাই ভালো হইছে, নাম বললে চাকরি থাকবেনা ! সারাজীবন একটি দলের জন্য লিখে গেলেন আর এখন সাহস করে নামও বলতে পারছেন না । হা হা হা ! এই হলো আমাদের সাহসী নীতিবান লেখকেরা !!!

    Reply
  7. লতিফ

    আপনি যার নাম মুখে এনে থেমে গেলেন এবং কারণটা বুঝতে পারি যে, সৈয়দ আশরাফের পাশে আসলে সেই নাম মানানসই না, তিনি ওবায়দুল কাদের। কাদের সাহেবের স্ত্রীর সাথে যদি কথা বলেন, তাঁকেও অমায়িকই মনে হবে। এবং সত্য সত্যই তিনি এক অমায়িক নারী। কিন্তু ওবায়দুল কাদের কথা বলতে ভালোবাসেন। সেজন্য তিনি কথা বলতেই থাকেন। আওয়ামী লীগে ওবায়দুল কাদেরের আছে এক বিশাল অনুসারী, যারা তেল দিতে এবং নিতে ভালোবাসে। তেমন একজন হলেন শরিয়তপুরের এনামুল হক শামিম। এই সেদিন পদ্মায় বিলীন হল যে উপজেলাটি, তিনি সেখানকার বাসিন্দা, তবে সূর্য আর পৃথিবীর যে দূরত্ব তার থেকে বেশি দূরত্বে তিনি বসবাস করেন জনগণ থেকে। কিন্তু ওবায়দুল কাদের যেহেতু প্রেমিক পুরুষ, তিনি আস্থা রেখেছেন এনামুল হকের উপর, তাঁকে দলের সাংগঠনিক সম্পাদক করেছেন প্রথম সুযোগে। কদিন আগে একাত্তর টিভিতে দেখলাম, শামিম সাহেব তোতলাচ্ছেন, পদ্মার বাঁধ নিয়ে মিথিলার প্রশ্নের কোন জবাবই তিনি দিতে পারেননি। উল্টো প্রধানমন্ত্রীকে অন্ধকারে রেখেছিলেন তিন মাস ধরে। ওবায়দুল কাদের কি তাঁকে শাস্তির মুখোমুখি করতে পেরেছেন?

    Reply

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। প্রতিক্রিয়া লেখার সময় লক্ষ্য রাখুন--

  • ১. স্বনামে বাংলায় প্রতিক্রিয়া লিখুন।
  • ২. ইংরেজিতে প্রতিক্রিয়া বা রোমান হরফে লেখা বাংলা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না।
  • ৩. প্রতিক্রিয়ায় ব্যক্তিগত আক্রমণ গৃহীত হবে না।

দরকারি ঘর গুলো চিহ্নিত করা হয়েছে—