কয়েকদিন আগের ঘটনা। বগুড়া জেলা প্রশাসন কর্তৃক স্কুল-কলেজের আড্ডারত ছেলেমেয়েকে বিতর্কিত ভ্রাম্যমাণ আদালত দিয়ে উঠিয়ে নিয়ে বা মতান্তরে ‘আমন্ত্রণ’ করে নিয়ে, হেদায়েত বা মতান্তরে উপদেশ দেওয়ার ঘটনা বেশ আলোচিত তখন।

জেলা প্রশাসনের সমালোচনা করে একটি বক্তব্য দেওয়ায় প্রতিবাদ জানাতে দেখলাম স্বল্পপরিচিতা একজন নবীন আমলাকে। যিনি মনে করেন এগুলো সিদ্ধান্ত আসলে অনেকটা ‘জনদাবি’র প্রতিফলন, যার প্রতিনিধি হচ্ছেন এমনকি জেলা শহরের প্রধান শিক্ষকরা পর্যন্ত।

স্বভাবতই এসব তর্কের নানান গলি-ঘুপচি থাকে। তারই ধারাবাহিকতায় উল্লেখ করেছিলাম, সিভিল প্রশাসন যখনই কোনওভাবে কোনও বিতর্কিত অবস্থায় পড়ে, প্রথমেই ‘জন-প্রতিনিধি’ আর ‘সামাজিক/প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা’র ব্যাপারে তাদের অভিযোগ তোলার প্রবণতা থাকে।

তর্কের এইপর্যায়ে সেই নবীন আমলা আমায় মনে করিয়ে দিতে চাইলেন যে, উনি নিজেও একসময় শিক্ষকতা করতেন এবং বাস্তবতা না-জানা, না-বোঝা ‘দেশ-পালানো’ একজন গবেষকের সাথে উনি এসব নিয়ে তর্কে উৎসাহী নন। কথাটির শেষাংশের টিপ্পনিটুকু বিশেষ গায়ে মাখলাম না।

কিন্তু চট করে চিন্তায় এলো উনার কথার প্রথম অংশটুকু। এই যে- ‘ছিলাম শিক্ষক, হয়ে গেলাম আমলা’, কিংবা ‘ছিলাম গবেষক, হয়ে গেলাম পুলিশ’- ধরনের দৃশ্য কিন্তু আমাদের মধ্যবিত্ত সমাজে একেবারেই সাধারণ। এই ব্যাপারটিতে যে একপ্রকার বৈসাদৃশ্য আছে সেটা ভাবাটাই আমাদের জন্য বরং অস্বাভবিক। এই চিন্তায় জ্বালানি দিলো সম্প্রতি আরো কিছু প্রচারিত এবং ক্ষেত্রবিশেষে আলোচিত সংবাদ।

আমাদের গণমাধ্যমগুলোতে বেশ ফলাও করে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সূচকে রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশের অবস্থান নিয়ে সংবাদ প্রকাশের চল আগে থেকেই রয়েছে। এটা এখন আরও বেড়েছে।

এমন নয় যে এই সূচকগুলো নানান সংস্থা সম্প্রতি কেবল প্রকাশ করছে। তবে নানান পক্ষ থেকে এগুলো নিয়ে আলাপ-আলোচনা, পক্ষে-বিপক্ষে বাহাসগুলোর এখন বেশ ডালপালা গজিয়েছে। সোশাল মিডিয়ার কল্যাণে এর বিস্তৃতি নতুনই মনে হচ্ছে আমার কাছে। আমি বেশ উপভোগ করি সূচক নির্বিশেষে একেক ধরনের ফলাফলকে একেক ঘরাণার সংবাদ মাধ্যমে অগ্রাধিকার দেবার প্রবণতাটি। তবে মোটাদাগে ব্যাপারটিকে আমি ইতিবাচক হিসেবেই দেখি।

বিভিন্নক্ষেত্রেই যদিও এজাতীয় আন্তর্জাতিক সূচকগুলো সর্বৈব বাস্তবতা তুলে ধরে না। নিছকই কিছু পরিসংখ্যান হয়তো থাকে। তবে আমি ব্যক্তিগতভাবে চেষ্টা করি এজাতীয় কোনও সূচক চোখে পড়লে তার বিশ্লেষণ-পদ্ধতিটি নিয়ে কিছুটা খতিয়ে দেখতে। জটিল পরিসাংখ্যিক তত্ত্বপদ্ধতির বিশ্লেষণ নয়, আমি যেটা করি তার অনেকটাই হচ্ছে তাদের বিশ্লেষণের মানভিত্তিগুলো (parameters) খতিয়ে দেখা এবং সেগুলোর স্বতন্ত্র ফলাফলগুলোর সাথে নিজের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা আর প্রকাশিত জাতীয় তথ্যাদি মিলিয়ে দেখা।

যদি সেগুলো একেবারে খাপছাড়া না হয়, তাহলে সেগুলোকে গ্রহণই করি। যেকোনও ‘বৈশ্বিক মানদণ্ড’কে পত্রপাঠ বাতিল করে দেবার মধ্যে একধরনের ‘ষড়যন্ত্র-তাত্ত্বিক’ সুলভ বীরত্ব আছে, এধরনের বীর হবার পক্ষপাতি আমি নই। তো প্রথমেই যে চিন্তাটা বা দুশ্চিন্তাটা নিয়ে কথা তুললাম- সেটার পালে আরও খানিকটা হাওয়া পেল সম্প্রতি চোখে পড়া বৈশ্বিক উদ্ভাবন সূচক-২০১৮ (Global Innovation Index 2018) তে বাংলাদেশের বৈশ্বিক অবস্থানটি দেখে।

এটি প্রকাশ হয়েছে গত দেড়মাস হলো, তবে আমাদের প্রচারমাধ্যমগুলোর নজরে এসেছে একেবারেই সম্প্রতি। ফলত: আমারও নজরে এলো এমন একটি সময়ে যখন আমি সেই ‘ছিল রুমাল, হয়ে গেল বেড়াল’ জাতীয় সুকুমারীয় সমস্যায় চিন্তিত। এই সূচকে রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশের অবস্থান লজ্জাজনক। আমাদের প্রচলিত সংবাদমাধ্যমগুলো অবশ্য কেবলা-বিশেষে ভিন্ন ভিন্ন কলামে সেটা প্রকাশ করেছে ভিন্ন ভিন্ন অংশকে ফলাও করে। কোনওটাই যদিও অসত্য নয়। বৈশ্বিক এই সূচকে উদ্ভাবন ঘনিষ্ট উপাত্তে নির্ভর করে বাংলাদেশের অবস্থান গোটা এশিয়া মহাদেশে সর্বনিম্ন- ১৭টি রাষ্ট্রের মধ্যে ১৭ তম। মোট ১২৬টি দেশ নিয়ে করা এই সূচকে বাংলাদেশের বৈশ্বিক অবস্থানটি আরও শোচনীয়- ১১৬ তম। অর্থাৎ জনসংখ্যার ভিত্তিতে ৮ম বৃহত্তম রাষ্ট্রটি উদ্ভাবন সূচকে শেষের দিক থেকে ১১ তম। নিজে একজন শিক্ষক এবং ‘দেশপালানো’ গবেষক হিসেবে এই তথ্যটি আমার জন্য অসম্ভব রকম বিব্রতকর।

একইসাথে খানিকটা বিষ্ময়করও বটে। কারণ, সম্প্রতি সরকারি পর্যায়ে মন্ত্রণালয়/অধিদপ্তরভিত্তিক বাৎসরিক উদ্ভাবন কর্মপরিকল্পনা, এটুআই এর উদ্ভাবন পরিকল্পনা কার্যক্রম ইত্যাদি কিছু উদ্যোগ সম্পর্কে ধারণা থাকায় ফলাফলের এই হাল খুব অনুমেয় ছিল না। সুতরাং, যথারীতি যে প্রতিষ্ঠানটি গত ১০ বছর যাবত এই সূচক প্রকাশ করে আসছে, তাদের ওয়েবসাইটে ঢুকলাম আরেকটু বুঝতে।

সর্বমোট ৭টি মানভিত্তির (parameters) উপর নির্ভর করে নির্ধারণ করা হয় এ অবস্থান। এই ৭টি ভিত্তি হলো- ১. প্রতিষ্ঠান, ২. জনসম্পদ ও গবেষণা, ৩. অবকাঠামো, ৪. বাজার জটিলতা (sophistication অর্থে), ৫. ব্যবসায়িক জটিলতা (sophistication অর্থে), ৬. জ্ঞান ও প্রযুক্তিগত উৎপাদন এবং ৭. সৃষ্টিশীল উৎপাদন। সার্বিক অবস্থান ১১৬তম হলেও এই ৭ মানভিত্তির মধ্যে ৩টিতে বাংলাদেশের অবস্থান আরও অনেক নিচে, আর ৩টিতে অন্তত দক্ষিণ এশিয়ার ভেতরে চলনসই।

প্রথমত, কিছুটা চলনসই প্যারামিটারগুলো নিয়েই বলি। উদ্ভাবন সূচকমতে, অবকাঠামোগত দিক থেকে ভারত-শ্রীলঙ্কার পরেই বাংলাদেশের অবস্থান। ওই যে প্রথমেই বলে নিয়েছি- কিছু বহুল প্রচারিত সরকারি উদ্যোগ সম্পর্কে জানতাম বলে সূচকের এই সার্বিক ফলাফল নিয়ে সন্দিহান ছিলাম- এটা সেই বাস্তবতাটাকেই আরেকটু ভিত্তি দেয়। এটা ইতিবাচক যে, সরকারিভাবে উদ্ভাবন আর উদ্যোক্তাকেন্দ্রিক কিছু আয়োজন বহুলচর্চিত হচ্ছে। বিদ্যুৎ উৎপাদন আর বন্টন ব্যবস্থার প্রভূত উন্নয়নসাধিত হয়েছে, এবং এগুলোর প্রতিফলন আসলে এই ইনডেক্সে উল্লেখ্য। আরেকটি ক্ষেত্র হচ্ছে, জ্ঞানগত ও প্রযুক্তিগত উৎপাদন। এইক্ষেত্রে জ্ঞান-সৃষ্টি (knowledge creation), জ্ঞানগত প্রভাব (knowledge impact) এবং জ্ঞানের ছড়িয়ে পড়বার (knowledge diffusion) প্রবণতার উপর নির্ভর করে মানবন্টন করা হয়েছে।

এক্ষেত্রে প্রবল গতিতে জিডিপি বৃদ্ধির হার বজায় রাখায় এবং আউটসোর্সিং এর উপর গুরুত্বারোপ করায় সরকার একটি ধন্যবাদ পেতেই পারে। কেননা এরই ফলে দেশিয় কিছু জ্ঞানভিত্তিক ব্যবসা গড়ে উঠেছে এবং জ্ঞানভিত্তিক সেবা/পণ্য রপ্তানির বাজার কিছুটা সম্প্রসারিত হয়েছে। নইলে আমাদের জ্ঞান-সৃষ্টির ক্ষেত্রে যে ন্যাক্কারজনক শূন্যতা, তাতে এই প্যারামিটারে বৈশ্বিক অবস্থান সম্ভবত বাংলাদেশেরই সর্বনিম্ন হতো।

এবার আসা যাক তুলনামূলক বিপরীত চিত্রে। রাজনৈতিক, বিধিগত ও ব্যবসায়িক পরিবেশনির্ভর প্রাতিষ্ঠানিক প্যারামিটারে বাংলাদেশের অবস্থান বিশ্বে ১২৩তম, যা কিনা যুদ্ধবিদ্ধস্ত/জঙ্গিআক্রান্ত দু’তিনটি দেশ বাদে সবার থেকে নিচে। এটা নিয়ে কথা বলবার খুব বেশি কিছু নেই। এই অবস্থানটা প্রায় পুরোটাই রাষ্ট্রের রাজনৈতিক এবং  রাষ্ট্রীয় আর মতাদর্শগত মতভিন্নতার উপর নির্ভর করে। বিশ্বে সার্বিকভাবে উদ্ভাবন সূচকে ৫০তম অবস্থানে থাকা তুরস্কের অবস্থানও এই ক্ষেত্রে প্রায় ১০০তম। এশিয়ায় ৪র্থ দেশ চীনেরও এক্ষেত্রে বৈশ্বিক অবস্থান ৭০তম। সুতরাং বাস্তবতার খাতিরেই এই একটি মানদণ্ডে এমন অবস্থান নিয়ে খুব বেশী কথা আর না বলি।

যেগুলো নিয়ে বলাটা জরুরি মনে করছি তার একটি হচ্ছে- বিজনেস সফিস্টিকেশনে আমাদের ১১৯তম অবস্থান। আমি একটা কথা নানান ব্যক্তিগত আড্ডায় প্রায়ই বলি; যতই পুঁজির পাহাড় গড়ুন না কেন বা ফোর্বস ম্যাগাজিনে মিলিয়নিয়র জরিপে দাঁত বের করে হাসুন না কেন, কিংবা কোটি-কোটিপতি বৃদ্ধির হারে একনম্বর হোন না কেন- আমাদের দেশের ব্যবসায়িরা আসলে দিনশেষে একেকজন মুদি দোকানি বৈ আর তেমন কিছু নন। আমি মুদিদোকানিদের খাটো করবার জন্য কথাটি বলিনা।

এটা বলবার মূল কারণ হচ্ছে আমাদের ব্যবসায়িদের ব্যবসায়িক জটিলতাকে এড়িয়ে চলবার প্রবণতা। একজন মুদি দোকানিকে তার ব্যবসার প্রকৃতির কারণেই কেবলমাত্র বুঝতে হয়- কম দামে মাল কিনবো, বেশি দামে বেঁচবো। এটাই ব্যবসা। তাকে জটিল ব্যবসায়িক মারপ্যাঁচ বুঝতে হয় না খুব একটা, নতুন কোনো দ্রব্যকে/সেবাকে ঝুঁকি নিয়ে বাজারজাত করবার চিন্তা করতে হয় না। আমাদের বিজনেস টাইকুন যারা আছেন, তাঁদেরও বেশিরভাগের দৌড় ‘এখানে কিনে ওখানে বিক্রির’ মধ্যেই সীমাবদ্ধ। সেবাখাত, সফটওয়্যারখাত কিংবা প্রযুক্তিখাতে নামমাত্র যেই বিনিয়োগ উনারা করেন, সেটার সারমর্মও আসলে সেই- ‘ওখানে কিনে এখানে বেঁচার মধ্যেই সীমাবদ্ধ’। কর্পোরেট বিনিয়োগে গবেষণা ও উন্নয়নের (R&D) ‘এর মাধ্যমে যে উৎপাদননির্ভর ব্যবসায়িক সাম্রাজ্য গড়া যায় সে জ্ঞান থাকলেও সাহসের যে নিশ্চিত অভাব আছে তাতে কোনো সন্দেহ নেই।

সাহসের অভাব বলছি কারণ, ঝুঁকি নিতে চাইবার অসামর্থ্য পরিষ্কার। মনে পড়ে নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে একটি কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানে কর্মরত আমার এক বন্ধু একবার বলেছিলো- “প্রকৌশলবিদ্যার কিছুই এখানে কাজে লাগাতে হয়না, আমরা হচ্ছি একেকজন ‘গ্লোরিফায়েড সেলসমেন।”

অথচ, এই আলোচ্য উদ্ভাবন সূচকেই এবছর দেশিয় বাজারের জটিলতা (সফিস্টিকেশন) এর সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান দক্ষিণ এশিয়াতে ভারতের ঠিক পরেই দ্বিতীয়স্থানে। সুতরাং ব্যবসায়িরা এই অজুহাত দিতে পারবেন না, যে তাদের বাজার জটিলতা কম বিধায়, ব্যবসায়িক জটিলতাও অপ্রয়োজনীয়। বরং বাজার জটিলতা যথেষ্ট পরিমাণে থাকবার পরেও, কেবলমাত্র জ্ঞানভিত্তিক বিবেচনাপ্রসূত ঝুঁকি নিতে না পারবার ব্যর্থতার কারণে নিজেদের এখনও মুদি দোকানদার থেকে ব্যবসায়ী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে পারছেন না।

আমি আশা করবো হয়তো কোনো একদিন নতুন প্রজন্মের ব্যবসায়িক উত্তরাধিকারীদের কেউ একজন জ্ঞানাগারগুলোতে (মূলত বিশ্ববিদ্যালয় ও বিশেষায়িত গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলো) নিজ ঝুঁকিতে R&D ল্যাব গড়ে দিতে উদ্যোগ নেবেন। ট্রাস্টচালিত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ট্রাস্টিদের অনেকেই তো ব্যবসায়িক সাম্রাজ্যের অধিকারী- এই বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতেই না হয় শুরু করুন সে চর্চাটা। ভিক্ষা বা দাক্ষিণ্য হিসেবে নয়, বিনিয়োগ হিসেবে।

বিনিয়োগের প্রসঙ্গ এলে অবধারিতভাবে আসে রাষ্ট্রের নিজস্ব বিনিয়োগের প্রশ্নও। সেটার উত্তর নিজের সামান্য অভিজ্ঞতায় খানিকটা জানি। আলোচ্য ইনডেক্সটি থেকে সেটার প্রতিফলন পাচ্ছি। সার্বিক শিক্ষায় বিনিয়োগ, বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে শিক্ষা বিনিয়োগ আর গবেষণা ব্যয় নিয়ে জনসম্পদ ও গবেষণা নামক যেই প্যারামিটারটি এই সূচকে আছে তাতে বাংলাদেশের অবস্থান বিশ্বে ৩য়। হ্যাঁ, নিচের দিক থেকেই।

এই ১২৪ তম অবস্থান কী করে এলো- এই প্রশ্ন কোনো বাঙালি গবেষককে করবেন না দয়া করে। সদরঘাটের ঘোড়াদের মতো হেসে ফেলা ছাড়া খুব বেশি কিছু করবার থাকবে না আমাদের। পাট, ইলিশের জিনোম সিকোয়েন্স আবিষ্কার আর সম্প্রতি শাবিপ্রবির পেটেন্ট- এজাতীয় কিছু বিচ্ছিন্ন সুখবর আমাদেরকে বাস্তবতা ভুলিয়ে রাখতে বেশ উপকার করে। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে- রাষ্ট্রীয় অবস্থান থেকে গবেষণাখাতে বিশেষায়িত বিনিয়োগের কোনও সুস্পষ্ট তথ্যই নেই।

বিশ্ব ব্যাংকের ডাটাবেজে দক্ষিণ এশিয়ার একমাত্র যেই দেশটির গবেষণা ও উন্নয়নখাতে জিডিপি’র শতকরা বিনিয়োগের কোনওপ্রকার উল্লেখ নেই সেই দেশটির নাম বাংলাদেশ। প্রতি দশলক্ষ জনগোষ্ঠীতে পূর্ণকালীন গবেষক হিসেবে কর্মরত মানুষের সংখ্যার কোনো পরিসংখ্যান নেই হাতে গোণা বিশ্বের যে অল্পক’টি দেশের তার একটি বাংলাদেশ। কেবলাবিশেষে বিশ্বব্যাংক এর উপাত্ত নিয়ে যদি কোনও ব্যক্তি/গোষ্ঠীর আপত্তি থাকে, তাহলে বাংলাদেশ শিক্ষাতথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরো, কিংবা যেকোনো সাম্প্রতিক বাজেট বিশ্লেষণে চোখ বোলাতে পারেন। এই সম্পর্কিত কোনও নির্দিষ্ট তথ্য উদ্ধার করতে পারবেন বলে মনে হয় না।

হ্যাঁ, ছড়িয়ে ছিটিয়ে নানান নামে প্রায়ই বিভিন্ন বিশ্ববিদালয়ে কিঞ্চিৎ কিছু তহবিল বণ্টনের সংবাদ চোখে পড়ে। এগুলো দেখলে আমার রোনাল্ড রিগ্যানকে নিয়ে প্রচলিত সেই কৌতুকটি মনে পড়ে। উনাকে নাকি এক সংবাদ সন্মেলনে ভবিষ্যত পরিকল্পনা নিয়ে জিজ্ঞাসা করার পর বলেছিলেন- ‘আমরা পরিকল্পনা করছি লিবিয়াতে ভারি বোম্বিং করবো এবং তারপর ক্রেমলিনের রাস্তায় একটি টায়ার পোড়াবো!’ স্বভাবতই শেষোক্ত পরিকল্পনাটি নিয়ে গুঞ্জন উঠলো প্রবল- কেন, টায়ার কেন পোড়ানো হবে!

হাস্যোজ্জ্বল রিগ্যান পাশে দাঁড়ানো সহকারীকে বললেন- ‘দেখেছো! বলেছিলাম না, সবাই টায়ার পোড়ানো নিয়েই ব্যস্ত হয়ে পড়বে?’ গল্পটা যুৎসই হলো কিনা নিশ্চিত নই, কিন্তু হঠাৎ হঠাৎ কিছু প্রতিষ্ঠানে ছাড়া ছাড়া উচ্চশিক্ষা ব্যয়ের খবরাখবর দেখলে আমার ওই বাস্তবতা ভুলিয়ে রাখা গল্পের প্লট বলেই মনে হয়।

এরচেয়ে আমি বরং গুরুত্ব দিতে আগ্রহী আমাদের পাবলিক বিশ্ববিদ্যাগুলোর নিয়োগ প্রক্রিয়ার প্রচণ্ড গবেষণাবিরুদ্ধ রীতিটিকে। রাজনৈতিক প্রভাবচর্চার অভিযোগ এতো বহুল চর্চিত যে তা নিয়ে আর খুব একটা কিছু বলবার নেই। কিন্তু বিশ্বের আর কোনও দেশে স্নাতক শেষ করেই বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকতা করবার প্রচলন আছে বলে আমার জানা নেই।

ভালো গবেষক সৃষ্টির থেকে আমাদের জ্যেষ্ঠ শিক্ষকগণ বরং অনুগত ভৃত্যদল নিয়োগেই যদি অধিক আগ্রহী হন তাহলে অবশ্য বলবার কিছু নেই। আরেকটি ব্যাপার আমি বুঝিনা, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে একজন প্রার্থীর মাধ্যমিক/ উচ্চমাধ্যমিক শ্রেণির ফলাফলের গুরুত্বটা ঠিক কোথায়?

এসব পরীক্ষায় প্রথম শ্রেণী কিংবা সমমানের ফলাফল কীভাবে স্নাতক/স্নাতকোত্তর পর্যায়ে একজন প্রার্থীর গবেষণা অভিজ্ঞতার থেকে অধিক গুরুত্বলাভ করে! আমার এক সাবেক সহকর্মীর কথা মনে পড়ছে। অত্যন্ত ভালো শিক্ষক এবং আগ্রহী গবেষক। উনি যুক্তরাজ্যের প্রথমসারির একটি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডক্টরাল গবেষণা শেষ করেছেন। বাংলাদেশের প্রথমসারির একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে তার নিয়োগ প্রক্রিয়ার সূত্রে তাকে জানানো হয় প্রভাষক হিসেবে যোগদান করতে চাইলেই কেবল তাকে বিবেচনা করা হবে। যদিও উনি আবেদন করেছিলেন সহকারী অধ্যাপক পদের বিপরীতে।

বেচারি শেষমেশ নানান দোটানায় ভুগে প্রভাষক হিসেবেই যোগ দিয়েছেন। সম্ভাবনা আছে, যোগদানের সময়কাল বিবেচনায় কেবল স্নাতকোত্তর করা কোনও একজন হয়তো কোনও প্রকার উচ্চতর গবেষণার অভিজ্ঞতা ছাড়াই উনার আগেই সহকারী অধ্যাপক হয়ে বসে থাকবেন। অবশ্য সেই স্নাতক বা স্নাতকোত্তর তাকে করতে হবে ঠিক ওই প্রতিষ্ঠানের গণ্ডি থেকেই। বিশ্ব র‍্যাঙ্কিং এর একেবারের মাথায় থাকা কোনও বিশ্ববিদ্যালয়ের একেবারে মাথায় চড়া ফলাফল ও গবেষণা অভিজ্ঞতা নিয়ে চেষ্টা করলেও সেখানে কাজ হবেনা।

আমাদের শ্রদ্ধেয় নীতিনির্ধারক এবং জ্যেষ্ঠ শিক্ষকদের বিনীতভাবে জানিয়ে রাখতে চাই, এভাবে একেবারে নিজের গণ্ডির বাইরে আর কাউকে ধারেকাছে ঘেঁষতে না দিয়ে আর একটি সংগঠনই কেবল পৃথিবীর সমকালীন ইতিহাসে প্রতিষ্ঠা পেয়েছিলো বলে আমরা জানি। সংগঠনটির মূল অংশ ‘ফ্যামিলিয়া’ নামে ইতালিতে পরিচিত ছিলো। বাকি বিশ্ব অবশ্য তাদেরকে পরবর্তীতে চিনেছে ‘মাফিয়া’ নামেই।

এবার একটু আত্মসমালোচনা করি। ‘প্রণোদনা নেই তাই গবেষণা করিনা, গবেষণা করিনা বলেই প্রণোদনা আসেনা’ এই ধরণের চক্রকার যুক্তিতে আটকে আছি আমাদের দেশীয় সহকর্মীদের অনেকেই। কিন্তু নিজেরা ঠিক কতটুকু প্রচেষ্টা নিচ্ছি? আমরা কি প্রফেসর সিদ্দিক ই রব্বানি নামের মানুষটির কথা শুনেছি? একেবারে হাতের কাছে যা আছে যেটুকু আছে তাই নিয়ে গবেষণা করে এই মানুষটি একটি গবেষণার স্বপ্নরাজ্য গড়ে তুলেছেন।

উনার প্রতিষ্ঠিত গবেষণাগার থেকে নিয়মিত রপ্তানিযোগ্য প্রযুক্তি উৎপাদিত হয়। দেশিয় বাজারেও আছে উনারই ল্যাবের একাধিক উৎপাদিত পণ্য। সবকিছুই একেবারে সেই ‘যার যা কিছু আছে’ তাই নিয়ে গবেষণা করবার ফলাফল। এধরনের গবেষণাকে ‘অফ দ্য শেলফ’ গবেষণা বলেও অনেকে ডাকেন। আমাদের নবীন গবেষকরা নানান জার্নালের ইমপ্যাক্ট ফ্যাক্টরের মুখস্ত তালিকার বাইরে কতজন জানেন এই মানুষটির গবেষণা কাজের ব্যাপারে? আমি বিশ্বাস করতে চাই সকলেই জানেন। হয়তো একদিন মানবেনও।

এখানে নিজের একটা মনোবেদনা উল্লেখ করতে চাই। আমি নিজে রব্বানি স্যার এর সরাসরি ছাত্র নই, কিন্তু মনে প্রাণে আমি নিজেকে উনার ছাত্র বলেই মানি। নিজে যখন গবেষণায় হাতেখড়ি পাই, তখন থেকেই এই হাতের কাছে যা আছে তাই দিয়ে গবেষণা চালিয়ে যাবার একটা উৎকট ভূত চেপেছিলো। নিজের তত্ত্বাবধানে তাই যখন কোনও ছাত্রকে পেয়েছি তাদেরও চেষ্টা করেছি এই মন্ত্র পড়িয়ে দিতে। ওদেরই কিছু কাজ নিয়ে এগিয়ে যেতে অসম্ভব উদ্যোগী কিছু মানুষের ব্যক্তিগত/আর্থিক সহযোগিতাও পেয়েছি কদাচিৎ। এমনই একটা কাজে বেশকিছুদূর এগোনোর পরে একটি ছাত্র আমায় কিছুদিন আগে জানালো এক করুণ গল্প।

ছেলেটির গবেষণায় আগ্রহ নিয়ে ওর মফস্বলনিবাসী স্বচ্ছল পরিবারের বিশেষ কোনও আপত্তি ছিলোনা। কিন্তু পাশ করে বেরিয়ে অন্তত একটা চাকরি-বাকরিতে না ঢুকে ‘ভূতের বেগার খাটা’ গবেষণায় সময় দেয়াটা সামাজিকভাবে ওর পরিবার মেনে নিতে পারছেনা। নানান জনের নানান কথার চাপে ছেলেটি এখন সারাদিন টেকনিকাল-ননটেকনিকাল নানান চাকরির দরখাস্ত করে চলেছে। খুব দুঃখ নিয়ে কথাগুলো আমায় বলছিল ছেলেটি। আমি ওকে এর কোনো সমাধান দিতে পারিনি। মনে মনে লজ্জা পেয়েছি গবেষণার ভূত ওর মাথায় ঢুকানোয়।

আরেকটি ছাত্রের কথা মনে পড়ে, আমার সাথে একটি গবেষণা প্রবন্ধে কাজ করেছিল ছেলেটি। দারুণ সম্ভাবনা ছিলো গবেষণায় ওর। হঠাৎ, শুনেছি সে সামরিক বাহিনীতে যাবার চেষ্টায় খুব তৎপর। গবেষণাটাকে, জ্ঞানের অন্বেষণ আর সৃষ্টির এই যে দারুণ উত্তেজনাকর কাজটাকে, এটাকে সামাজিক-পারিবারিকভাবে আমরা একটি পূর্ণকালীন ‘কাজ’ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে পারিনি। রাজনৈতিক নেতৃত্ব, আমলাতান্ত্রিক সামন্ত, ব্যবসায়িক মহাকায়, সামাজিক মহাশয় কিংবা আমরা যারা শিক্ষক, ভ্রাতা, ভগ্নি, পিতা বা মাতা, এই ব্যর্থতার দায়টি কে নেবেন?

এই যে উদ্ভাবন সূচকটির কথাটি নিয়ে দীর্ঘ আলোচনাটি ফাঁদলাম, এটার উল্লেখ করে সামাজিক মাধ্যমের একটি গ্রুপে আমার ছাত্রদেরকে জানাচ্ছিলাম আমাদের বাস্তবতার কথা, লজ্জার কথা। সম্ভাব্য করণীয়’র কথা।

সেখানে একটি ছাত্র মন্তব্য করলো- স্যার, সবাই তো এখন শুধু বিসিএস ক্যাডার হতে চায়! আবারো মনে পড়লো সেই- ‘ছিল রুমাল, হয়ে গেল বেড়াল’ দৃশ্য! ওকে অবশ্য সেটা বলিনি। যেটা বলেছিলাম তা হচ্ছে- একটা দেশের সমকাল বাঁচাতে ভালো আমলা, পুলিশ সবই প্রয়োজন। কিন্তু, সেই সাথে ভালো উদ্ভাবক, ভালো গবেষকের প্রয়োজনও খুব বেশি। এদেরকে প্রয়োজন দেশটির ভবিষ্যত বাঁচাতে। কথাটা বললাম বটে, কিন্তু কেউ শুনতে পেল কি আদৌ?

Responses -- “বৈশ্বিক উদ্ভাবন সূচক আর কিছু ব্যক্তিক কচকচানি…”

  1. শুভ্র

    শুধু মেধা ও গবেষণার ভিত্তিতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষক নিয়োগ দিন। আর কিছু লাগবে না। বাকি সব এমনিতেই এসে পড়বে

    Reply
  2. মাহমুদুর রহমান আরজু

    সমসাময়িক বাস্তব অবস্থার নিরীখে লেখাটতে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার “বাণিজ্য ও রাজনীতিকরন” এর ভয়াবহ ফলাফলের আপাতত চেহারাটাই যেন প্রকট ভাবে ধরা পড়লো ৷ অধুনা বিশ্ব শিক্ষা ব্যবস্থা বা প্রকৃতির ব্যাপারে আমাদের শিক্ষা বিষয়ক decision maker রা কতোখানি ওয়াকিবহাল ,এমন কি অনাগত দিনগুলোতে বদলে যাওয়া সময় ও অবস্থার নিরীখে কি করা দরকার (শিক্ষা ) সে ব্যাপারে চিন্তা করার মতো বিশেষায়িত জ্ঞানী এবং আক্ষরিক ভাবে শিক্ষিত জনবলের অভাব দৃশ্যমান ৷অনেকদিন পর এমন সুলেখিত লেখা পড়ে ভাল লাগলো ৷দেশের প্রতি অপার ভালোবাসা না থাকলে দেশ নিয়ে কেউ এভাবে চিন্তা করে সময় নষ্ট করবে না ৷ ধন্যবাদ লেখককে ৷তোমরা আছো বলেই বাংলাদেশ সঠিক পথে বেচে থাকবে ৷

    Reply
  3. জাকের আহমদ খোকন

    মেধাবীরা সব ব্যস্ত কোটা বাতিলের আন্দোলনে। আর মেধাবীদের শিক্ষকরা, যারা নিজেদের বিশ্ববিদ্যালয়ে নিজের সন্তান-পোষ্যদের ভর্তির জন্য আনিলিমিটেড কোটা বহাল রেখেই সরকারি চাকরিতে কোটা বাতিলের সুফল বয়ানে ব্যস্ত। কারণ একটা ছাত্র গবেষক হওয়ার চেয়ে পুলিশ সুপার বা সচিব হলে সমাজে প্রভাব বাড়বে, প্রজেক্ট পাওয়া যাবে। কিন্তু একজন ছাত্র গবেষক হলে শিক্ষকের নগদ লাভ কিছুই হবে না। তাছাড়া, সেই শিক্ষকের মানও কমে যাবে ছাত্রের উদ্ভাবনী দক্ষতায়। কী লাভ এতো হ্যাপা করে! তার চেয়ে চলুন, সব কোটা বাতিল করে, মেধায় ভরে তুলি প্রশাসন। এখন আমলারা শুধু ছড়া-কবিতা লিখেন, আগামীর আমলারা গবেষণাও করবেন। কী মজা! কী মজা!

    Reply
    • আশফাক আনুপ

      আমলারা এখনই গবেষণা করেন। সচিবালয় খুঁজলে প্রচুর ডক্টোরেট হোল্ডারের দেখা পাবেন বলেই আমার বিশ্বাস। আমাদের আমলারা তো মেধাবী, সুতরাং আমলাতন্ত্র চালিয়েও গবেষণা করবার মতো প্রতীভা তাদের থাকতেই পারে। তাছাড়া, ‘দেশে কোনো পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠী নেই’ এমন একটি দারুণ তথ্য যারা আমাদের দিতে পারেন, তারা মেধাবী না হয়ে যান কীকরে বলুন?

      Reply
  4. মুশাফ

    আসলে ঘুরে ফিরে ব্যাপারটা ওটাই যে এদেশে কেউ ঝুঁকি নিতে চায় না। আমি একজন ফাইন্যান্স প্রফেশনাল হিসাবেও তাই দেখি। আমাদের স্টক মার্কেট একদমই নাদান ঘরানার। অনেক ইন্সট্রুমেন্ট এখানে অনুপস্থিত। আর বড় বড় বিনিয়োগ চলে সব ঋণের উপর। ঋণের বোঝা যেহেতু মাথায় থাকে তারা কুইকেস্ট সময়ে রিটার্ন চায়। একটা রিসার্চ লম্বা সময় ধরে চলে তারপর ফেইল করতে পারে এটা তারা মেনে নিতে ইচ্ছুক না। তাই এসবে বিনিয়োগও হয় না। দেশের অল্প কিছু জায়গা যেখানে R&D আছে তার মধ্যে একটা ফার্মা ইন্ড্রাস্ট্রি। অথচ তারা রিভার্স ইঞ্জিনিয়ারিংয়েই ব্যস্ত থাকে। ইনোভেশনে সময় নষ্ট করার সময় কারও নাই। যদিও ডেপথে ঢুকি নাই, কিন্তু নতুন প্রকাশিত সূচক তাই আমাকে খুব বেশি অবাক করে নাই।

    Reply
    • আশফাক আনুপ

      দারুণ মন্তব্য! ঋণভিত্তিক ব্যবসায়িক উদ্যোগ দ্রুত লাভের প্রবণতা তৈরি করে। এটা খুবই জরুরি একটি পয়েন্ট। এমনটা যদি আসলেও হয়ে থাকে, নিদেনপক্ষে সেটাও দেশের জন্য একটি ভালো লক্ষণ যে ব্যবসায়িক ঋণ-গ্রহীতারা অন্ততপক্ষে ঋণ শোধের ব্যাপারে আন্তরিক। তবে আমাদের ব্যঙ্কিং সেক্টরে খেলাপি ঋণের পরিমাণ দেখলে সেটা খুব আশাদায়ক চিন্তা বলে মনে হয়না। যাহোক, আমার আসলে আশা ব্যবসায়িক উত্তরাধিকারীদের নিয়ে। যেভাবেই হোক, তারা নিজেরা একটি সুবিধাজনক অবস্থানে থাকেন এজাতীয় ঝুঁকি নেবার ক্ষেত্রে। আমি আশা করবো তারাই একদিন এই অচলায়তন ভাঙবেন। নিজেদের কর্পোরেট সোশ্যাল রেস্পন্সিবিলিটি থেকেও তো এজাতীয় কাজকর্মে হাত লাগানো যায়।

      Reply
  5. অজিতকুমার রায়

    একটি অসাধারণ এবং সাহসী রচনা। যেমন নির্মোহ যুক্তি-তর্ক, তেমনি প্রকাশের ভাষা। লিখতে থাকুন।

    Reply

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। প্রতিক্রিয়া লেখার সময় লক্ষ্য রাখুন--

  • ১. স্বনামে বাংলায় প্রতিক্রিয়া লিখুন।
  • ২. ইংরেজিতে প্রতিক্রিয়া বা রোমান হরফে লেখা বাংলা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না।
  • ৩. প্রতিক্রিয়ায় ব্যক্তিগত আক্রমণ গৃহীত হবে না।

দরকারি ঘর গুলো চিহ্নিত করা হয়েছে—