আঁধার যত গাঢ় হয়, তারার উজ্জ্বলতা তত বাড়ে। প্রতীকি অর্থে বলতে গেলে আজ থেকে নয় বছর আগে এমনই এক ঘটনা ঘটেছিল বাংলাদেশের ভাগ্যাকাশে। ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত তৎকালীন বিএনপি-জামায়াত সরকারের দুঃশাসন এবং পরবর্তীতে তথাকথিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কর্তৃত্বে দেশের সমাজ, অর্থনীতি ও রাজনীতিতে যখন অন্ধকার নেমে এসেছিল; ঠিক তখনই (২০০৯) প্রায় তিন-চতুর্থাংশ মানুষের সমর্থন নিয়ে তারার ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন দেশরত্ন শেখ হাসিনা।

নতুন শতাব্দীতে বাংলাদেশের ঘুরে দাঁড়ানো মূলত সেখান থেকেই, যা গত কয়েক বছর ধরেই চলছে। যদিও নয় বছর খুব বেশি সময় নয়; অথচ এ সময়েই শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সামাজিক নিরাপত্তা, কৃষি, বিজ্ঞান, তথ্যপ্রযুক্তিসহ সব সূচকে যেভাবে তিনি অগ্রগতি, সাফল্য আর উন্নয়নের ফানুস উড়িয়েছেন; তাতে সহজেই অনুমেয়- আগামীর বাংলাদেশ ২০৪১ সালের আগেই উন্নত দেশের সারিতে কাঁধ মেলাতে সক্ষম হবে।

মাত্র এক দশকের ব্যবধানে বাংলাদেশ কীভাবে ঘুরে দাঁড়াল- শেখ হাসিনার সেই তত্ত্ব বুঝতে হলে আরেকটু পেছনে যেতে হবে। প্রায় তিন দশক আগে নিজের জীবন-সংগ্রামের বর্ণনা দিতে গিয়ে নিজের ওরা টোকাই কেন (১৯৮৯) গ্রন্থে শেখ হাসিনা লিখেছিলেন, “আমার চলার পথটি কখনোই সহজ নয়। বহু চড়াই-উৎরাই পার হতে হচ্ছে। নানা সমস্যা চোখে পড়ে। দুঃখ-দারিদ্র্যক্লিষ্ট আমাদের সমাজ জীবনের এই দিকগুলি সবাই চিন্তা করুক। সমাজ ও দেশ উন্নয়নের কাজে রাজনৈতিক ও মানবিক চেতনায় সবাই উজ্জীবিত হয়ে উঠুক, এটাই আমার একমাত্র আকাঙক্ষা।”

এই একই গ্রন্থের ৫৩ পৃষ্ঠায় লিখেছেন- “দেশ ও জনগণের জন্য কিছু মানুষকে আত্মত্যাগ করতেই হয়, এ শিক্ষাদীক্ষা তো আমার রক্তে প্রবাহিত।”

বাক্য দুটিতে শেখ হাসিনার দুই জীবনোদ্দেশ্য পরিষ্কার ছিল। এক. মানবিক চেতনায় উদ্বুদ্ধ সবাইকে নিয়ে রাষ্ট্রের উন্নয়ন। দুই. দেশকে ভালবেসে প্রয়োজনে জীবন দান করা। বঙ্গবন্ধুকন্যার এই দুটো ইচ্ছাই ছিল রাষ্ট্র ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হওয়ার আগে, ১৯৮৯ সালে। বিশ্বাস করি- এমন দূরদর্শিতার কারণেই ১৯৯৬-২০০১ মেয়াদের বাংলাদেশ উন্নয়নের মহাসড়কে উঠেছিল। সংক্ষিপ্তভাবে বলতে গেলে সে সময়ে শেখ হাসিনা সরকারের উল্লেখযোগ্য সাফল্যগুলো ছিল- ভারতের সঙ্গে ৩০ বছর মেয়াদী গঙ্গা নদীর পানি চুক্তি, পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি চুক্তি, যমুনা নদীর উপর বঙ্গবন্ধু সেতু নির্মাণ এবং খাদ্য উৎপাদনে স্বয়ং-সম্পূর্ণতা অর্জন। কৃষকদের জন্য বিভিন্ন কল্যাণমূলক কর্মসূচি এবং ভূমিহীন, দুস্থ মানুষের জন্য সামাজিক নিরাপত্তামূলক কর্মসূচি চালু করার পদক্ষেপেও তিনি পিছিয়ে ছিলেন না।

এ বিষয়ে নেওয়া কার্যক্রমের মধ্যে ছিল- দুস্থ মহিলা ও বিধবা ভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতা, মুক্তিযোদ্ধা ভাতা, বয়স্কদের জন্য শান্তি নিবাস, আশ্রয়হীনদের জন্য আশ্রয়ণ প্রকল্প এবং একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্প। স্বাস্থ্য সেবার উন্নয়ন ও সচেতনতার জন্য গড় আয়ু বেড়ে হয়েছে ৭১ বৎসরের উর্দ্ধে।

দুই.

বঙ্গবন্ধুকন্যার দ্বিতীয় মেয়াদে (২০০৯-২০১৩) ক্ষমতাগ্রহণ পরবর্তী বাংলাদেশের চিত্রটি ছিল আরো উজ্জ্বল। এ সময়ে শেখ হাসিনা সরকারের উল্লেখযোগ্য অর্জনগুলোর মধ্যে রয়েছে বিদ্যুতের উৎপাদন ক্ষমতা ১৩ হাজার ২৬০ মেগাওয়াটে উন্নীতকরণ, গড়ে ৭ শতাংশের বেশি প্রবৃদ্ধি অর্জন, ৫ কোটি মানুষকে মধ্যবিত্তে উন্নীতকরণ, প্রতিটি ইউনিয়নে ডিজিটাল সেন্টার স্থাপন, মাধ্যমিক পর্যায় পর্যন্ত সকল শিক্ষার্থীর মধ্যে বিনামূল্যে পাঠ্যপুস্তক বিতরণ, কৃষকদের জন্য কৃষিকার্ড এবং ১০ টাকায় ব্যাংক হিসাব খোলা, বিনা জামানতে বর্গাচাষীদের ঋণ প্রদান, চিকিৎসাসেবার জন্য সারাদেশে প্রায় সাড়ে ১৬ হাজার কমিউনিটি ক্লিনিক এবং ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্র স্থাপন, দারিদ্র্যের হার ২০০৬ সালের ৩৮ দশমিক ৪ থেকে ২০১৩-১৪ বছরে ২৪ দশমিক ৩ শতাংশে হ্রাস, জাতিসংঘ কর্তৃক শেখ হাসিনার শান্তির মডেল গ্রহণ ইত্যাদি।

সর্বশেষ ২০১৪ সালে ক্ষমতা গ্রহণের পর পর বাংলাদেশ পেয়েছে মধ্যম আয়ের দেশের মর্যাদা। ঝুলিতে পুরেছে ভারতের পার্লামেন্ট কর্তৃক স্থল সীমানা চুক্তির অনুমোদন এবং দুই দেশ কর্তৃক অনুসমর্থন (এর ফলে দুই দেশের মধ্যে ৬৮ বছরের সীমানা বিরোধের অবসান হয়েছে), মাথাপিছু আয় ১ হাজার ৬০২ মার্কিন ডলারে উন্নীতকরণ, দারিদ্র্যের হার ২২ দশমিক ৪ শতাংশে হ্রাস এবং ৩২ বিলিয়ন ডলারের উপর বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ। এসব কর্ম সম্পাদন করতে গিয়ে শেখ হাসিনা যে পরিমাণ আত্মত্যাগ করেছেন, তার ফলেই বাংলাদেশ আজ বিশ্বের বুকে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে সক্ষম।

তিন.

তৃতীয় বিশ্বের উন্নয়নকামী দেশগুলোর দুটো জিনিসের বড় অভাব। এক. সৎ ও সততার চর্চাকারী সাহসী রাজনীতিবিদ। দুই. উন্নয়নের ধারবাহিকতা।

জীবদ্দশায় জননী সাহসিকা সুফিয়া কামাল আশাবাদ করে বলেছিলেন- “পরম প্রত্যাশায় আছি, শেখ হাসিনা মৃত্যুর ভয়ে পশ্চাৎপদ হননি। সাহসের সঙ্গে সংগ্রামে এগিয়ে অগ্রবর্তিনী হয়ে আমাদের শ্রদ্ধা অর্জন করেছেন আর ঘাতক মূষিক গোপন থেকে ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে পদদলিত হওয়ার আশঙ্কায় কৃমিকীট হয়ে আত্মগোপন করেছে।”

সম্ভবত এ কারণেই মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘ঈশ্বর না থাকা দু:খিনী জনপদ’ সর্বনাশা পদ্মায় সাহসী স্বপ্নযাত্রার রোডম্যাপ এঁকেছেন শেখ হাসিনা। বিশ্বব্যাংক অর্থায়ন থেকে সরে যাওয়ার পর বিশাল এ প্রকল্প হাতে নেয়ার ঘটনায় অনেক দেশ ও সংস্থা এবং সরকারের মধ্যেও কোন কোন নীতি নির্ধারক সন্দেহ ও বিস্ময় প্রকাশ করলেও সে স্বপ্ন এখন দৃশ্যমান। সর্বশেষ তথ্য মতে, ৬ দশমিক ১ কিলোমিটার দীর্ঘ এ সেতুর কাজ ইতোমধ্যেই ৬২ শতাংশ শেষ হয়েছে (একাত্তর টিভি)।

শুধু পদ্মা সেতু নয়, বড় বড় প্রকল্প নিয়ে তার (শেখ হাসিনা) সাহসী সিদ্ধান্তগুলোও বেশ প্রশংসার দাবিদার। এর মধ্যে এক লাখ ১৩ হাজার কোটি টাকা খরচ করে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন করছে বাংলাদেশ। গত বছরের ৩০ নভেম্বরের পর থেকে দেশ এখন বিশ্বের ৩১টি পারমাণবিক শক্তিধর দেশের তালিকায়। ২০৪১ সালে উন্নত দেশে উন্নীত হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে দ্বিতীয় পারমাণবিক শক্তিধর দেশের তালিকায়। ২০৪১ সালে উন্নত দেশে উন্নীত হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে দ্বিতীয় পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের উদ্যোগও চলমান। রয়েছে মহাকাশ জয়ের মত বিশাল অর্জন। দেশের প্রথম স্যাটেলাইট ‘বঙ্গবন্ধু-১’ গত ১২ মে উৎক্ষেপণ করা হয়েছে। দুই হাজার ৯৬৭ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এ উপগ্রহ সফলভাবে মহকাশে যাওয়ায় বিশ্বের ৫৭তম দেশ হিসাবে নিজস্ব স্যাটেলাইটের মালিক হয়েছে বাংলাদেশ। তার আমলেই আমাদের গড় আয়ু ৭১ বছর হয়েছে;

মৃত্যুর হার কমেছে। শিক্ষার হার বেড়েছে। সাত বছর ও তার বেশি বয়সের জনগোষ্ঠীর মধ্যে ৭০ দশমিক ৬ শতাংশই শিক্ষিত; তারা সাক্ষরজ্ঞানসম্পন্ন। শান্তিপূর্ণ দেশ গড়ার দৌড়ে বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়েছেন ভারত ও পাকিস্তানের আগে (আন্তর্জাতিক সংস্থা ‘গ্লোবাল পিস ইনডেক্স’-এর তালিকা অনুসারে ১৬৩টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের রয়েছে ৮৪ নম্বরে; যেখানে ভারত ১৪১ এবং পাকিস্তান ১৫৩ নম্বরে রয়েছে)।

এছাড়া মেট্রোরেল, এলিভেটেট এক্সপ্রেসসহ আরো কিছু বড় প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে সরকার। কোনো রকম যুদ্ধ-সংঘাত বা বৈরিতা ছাড়াই দুই প্রতিবেশি ভারত ও মিয়ানমারের বিপক্ষে সমুদ্র বিজয় নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশ। বঙ্গোপসাগরে এক লাখ ১৮ হাজার ৮১৩ বর্গকিলোমিটারের বেশি টেরিটরিয়াল সমুদ্র, ২০০ নটিক্যাল মাইল এলাকায় একচ্ছত্র অর্থনৈতিক অঞ্চল এবং চট্টগ্রাম উপকূল থেকে ৩৫৪ নটিক্যাল মাইল পর্যন্ত মহীসোপান এলাকার প্রাণিজ ও অপ্রাণিজ সম্পদের ওপর সার্বভৌম অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। সর্বশেষ রোহিঙ্গা ইস্যুতে আন্তর্জাতিকভাবে প্রশংসা পেয়েছে বাংলাদেশ। আর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পেয়েছেন ‘মাদার অব হিউম্যানিটি’ উপাধি। তলাহীন ঝুড়ির বাংলাদেশ আজ ১০ লাখ রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেয়ার পাশাপাশি খাদ্য, বস্ত্র-চিকিৎসার দায়িত্বও পালন করছে। বিশ্বের নেতৃত্বের প্রথম দশজনের একজন বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা। নেতৃত্বের পাশাপাশি একাধিক আন্তর্জাতিক পুরস্কারে ভূষিত।

১৯৭৪ সালের ২৫ ডিসেম্বর জাতি উদ্দেশ্যে দেওয়া এক ভাষণে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বলেছিলেন, “…সুখী ও সমৃদ্ধিশালী দেশ গড়তে হলে দেশবাসীকে কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে উৎপাদন বাড়াতে হবে। কিন্তু একটি কথা ভুলে গেলে চলবে না- চরিত্রের পরিবর্তন না হলে এই অভাগা দেশের ভাগ্য ফেরানো যাবে কি না সন্দেহ।”

বঙ্গবন্ধুর আকাঙ্ক্ষা তার সুযোগ্য কন্যা অক্ষরে অক্ষরে অনুধাবন করেছেন। স্বজনপ্রীতি, দুর্নীতি ও আত্মপ্রবঞ্চনার উর্ধ্বে থেকে শেখ হাসিনা আজ সর্বজনকে নিয়ে বিজয়নী হয়েছেন ঠিকই, কিন্তু এর বাস্তবতা ও সত্যতা বিরোধী সুশীলদের একটি গোষ্ঠী এবং এক শ্রেণির বিরোধী রাজনীতিক স্বীকার করতে কুণ্ঠাবোধ করেন।

দরিদ্রবিশ্বকে স্বপ্ন দেখানোয় তিনি যখন আশাজাগানিয়া সুর তুলেছেন, তার চিন্তা-ভাবনায় মুগ্ধ হয়ে ত্রিদিব দস্তিদাররা যখন তাকে ‘আপনিই (শেখ হাসিনা) বাংলাদেশ’ বলে আখ্যা দিচ্ছেন, মানবিক-গণতান্ত্রিক-প্রগতিশীল সমাজ গড়ে তুলে বহুত্ববাদী বাংলাদেশের পতাকাকে মেলে ধরেছেন, ঠিক তখনই কোন কোন টেলিভিশন এবং পত্রিকায় কে কার চাইতে সরকারের বড় সমালোচক, অন্তহীনভাবে সেই অশুভ প্রতিযোগিতা চলছে।

‘মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার চলাকালীন’ একাত্তরের পরাজিত শক্তি ও ‘৭৫ এর ঘাতকদের সমর্থক বিএনপি-জামাত জোটের প্রত্যক্ষ ইন্ধনে জঙ্গিবাদের উত্থানকে শেখ হাসিনার সরকার কঠোর হস্তে দমন করেছে। পাকিস্তানি প্রেতাত্মারা মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় সিক্ত জনগণের সম্বন্বিত প্রচেষ্টায় এবং দেশরত্ন শেখ হাসিনার নেতৃত্বের দৃঢ়তায় আজ সাময়িক নিষ্ক্রিয় হলেও তাঁরা গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। যেকোন মূল্যে এই ষড়যন্ত্র কে নস্যাৎ ও নির্মূল এবং অসাম্প্রদায়িক, গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের উন্নয়নের অগ্রযাত্রা বজায় রাখতে হলে প্রয়োজন শেখ হাসিনার নেতৃত্বে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় সিক্ত সরকারের ধারাবাহিকতা। এটাই এখন দেশপ্রেমিক জনগণের আকাঙ্ক্ষা ও সময়ের দাবি।

১৪ Responses -- “বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা বলেই বাংলাদেশের বদলে যাওয়া”

  1. SKD

    Sir Apnake Dhonnobad ” Sokol unnoyon guloke tule dhorar jonno. Emon vabe jodi amader Media gulo valo kaj guloke tule dhorto, ami biswash kori, E desh aro positive vabe samner dike egiye jeto. Sadharon manush asole valo monder bicha korte jane na. Tara sudhu Gujob kei biswash kore. Ami chai apnader madhomei ei Unnoyon gulo aro joralo vabe manusher samne tule dhora hok. Dhonno bad.

    N.B : Ami kuno rajnoitok doler sathe juktto noi. Jeta real shetai ekjon sadharon jonogon hishebe bolchi.

    Reply
  2. Rasha

    সৈয়দ আলী আপনরা যে আতসী কাঁচ নিয়ে বসে আছেন সেটি ২০০১-২০০৬ পর্যন্ত কোথায় ছিলো ।?
    সম্প্রতি খুলনা ঘুরে এলাম,উন্নয়ন কাকে বলে তা ২০০১-২০০৬ এর এ শহরটির সাথে তুলনা করলেই বোঝা যায়! জননেত্রী প্রানপ্রিয় শেখ হাসিনা মরা গাছে ফুল ফুটিয়েছেন কিন্তু আপনাদের মতো জাত নিন্দুকদের চোখ খুলতে পরেননি! আপনাদের অতৃপ্ত রুহু-র শান্তি কামনা করছি আর আপনাদের জ্বলনের কারনটা ভাবছি!

    Reply
  3. রাশেদ মাহমুদ

    বাংলাদেশ যে বদলে যাচ্ছে, এমডিজি পর এসডিজিতেও সাফল্যের সাথে এগুচ্ছে। তাই জাতিসংঘ বিশ্বব্যাংক সহ নানা আন্তর্জাতিক সংস্থা সার্টিফিকেট দিয়ে বলছে, “বাংলাদেশ উন্নয়নের রোল মডেল।” আমার হাভাতা সুয়োর যদি বলি ‘বাংলাদেশ ব্লাক হোল’ তাতে কিছুই আসবে না। বাংলাদেশ উন্নয়নের রোল মডেল এটা মনিটরিংকারী আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো দেখলেও আহম্মকদের চোখে পড়ে না। লেখার শিরোনামই হচ্ছে ” বংগবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা বলেই বাংলাদেশএর বদলে যাওয়া”। তো এখানে কি দেশের উন্নয়নের ফিরিস্তি না দিয়ে শেখ হাসিনার বগলে বেশি গন্ধ এটা লিখবে?? কত বড় কুলাংগার হলে মানুষ হত্যার হুমকি দিয়ে লিখতে পারে- নিবন্ধ লেখক ও যার কীর্তন তিনি গাইছেন, উভয়েই একসময় কঠিন দিন দেখবেন। ‘সেদিনের সে দিন হবে ভয়ঙ্কর, সবাই কইবে কথা তুমি রবে নিরুত্তর’। মানুষ নিরুত্তর তখনই হয় যখন সে মৃত। ‘৭৫, ১/১১ ও ২১ আগস্টের চেয়ে মহা কঠিন সময় শেখ হাসিনার জন্য আর কি আছে??

    Reply
  4. সরকার জাবেদ ইকবাল

    লেখাটি পড়তে গিয়ে বার বার মনে হচ্ছিল পল্টন ময়দানে কোন বক্তৃতা শুনছি। আর, কোন অর্বাচীন যদি বলেই বসে – এটি একটি ফরমায়েশি লেখা, তাতেও অবাক হবার কিছু নেই। তবে তাই বলে এই নিবন্ধে দেয়া দেশরত্ন শেখ হাসিনার সাফল্যের ফিরিস্তিকে অস্বীকার করার কোন উপায় নেই এবং অর্জিত সাফল্যের জন্য তিনি অবশ্যই কৃতিত্বের দাবীদার। প্রশংসা তাঁর ন্যায্য পাওনা। তবে একটা কথা আছে, – এক মন দুধ নষ্ট করার জন্য এক ফোঁটা চনাই যথেষ্ট। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় স্থিত না থাকা, ধর্মান্ধ গোষ্ঠীর সঙ্গে আঁতাত করা, ওয়াকওভার পেয়ে ক্ষমতায় বসে থাকা, কোটা সুবিধা উঠিয়ে দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রতিশ্রুতি রক্ষা না করা, ইত্যাদি, ইত্যাদি হলো এক এক ফোঁটা চনা।

    Reply
    • সৈয়দ আলী

      সরকার জাবেদ ইকবাল, আপনার কাছে স্তুতি মনে হলেও আমি সততার সাথে বলছি, আপনার সরল ও ঋজু বক্তব্য আমার ভারী পছন্দের। এখানেও আপনি নিবন্ধটির লেখককে যথাযথ ধোলাইটি দিয়ে যে মন্তব্যটি করেছেন (প্রশংসা তাঁর ন্যায্য পাওনা। ) সেটি নিয়ে বলছি। আপনি আপনার মন্তব্যেই আবার নিজের ঋজু চরিত্রে ফিরে তালিকা দিয়ে দেখিয়েছেন যে একফোঁটা চনা কিভাবে সকল অর্জনের অন্তঃসারশুন্যতা প্রমান করে। নিবন্ধ লেখকের কীর্তনের বিপরীতে অবাধ সম্পদ লুন্ঠন ও পাচার, ন্যায়বিচারের অনুপস্থিতি, দলীয় বাছাই তথাকথিত অর্জন শিশুদের মিছিমিছি ‘ঠোলা-পাতি’ খেলার মতোই অর্থহীন।
      নিবন্ধ লেখক ও যার কীর্তন তিনি গাইছেন, উভয়েই একসময় কঠিন দিন দেখবেন। ‘সেদিনের সে দিন হবে ভয়ঙ্কর, সবাই কইবে কথা তুমি রবে নিরুত্তর’।

      Reply
      • সরকার জাবেদ ইকবাল

        ধন্যবাদ জনাব সৈয়দ আলী। একটি কথা পরিষ্কার করা দরকার। আমি কোন রকম ভনিতা/ভণ্ডামি করি না। যা বলার সরাসরি বলি। কিছু কিছু লেখক এবং ‘King of Bengal’ জাতীয় লোকদের মতো তোষামোদি/চাটুকারিতার মাধ্যমে আওয়ামী লীগ তথা এর নেতৃত্বকে বিভ্রান্ত করা আমার নীতি নয়। আমি তাই কঠোর থেকে কঠোরতর ভাষায় সমালোচনা করে থাকি। তাতে যদি আমার অপরাধ হয়ে থাকে তাহলে আমি অপরাধী। আমার একটাই চাওয়া, – মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে নেতৃত্বদানকারী রাজনৈতিক সংগঠন আওয়ামী লীগ ও তার নেতৃত্ব সঠিক পথে হাঁটুক; কোন রকম তোষামোদি বা চাটুকারিতায় তারা যেন বিভ্রান্ত না হন।

      • Bongo Raj

        সরকার জাবেদ ইকবাল আর সৈয়দ আলী অভাগাদের কে বুঝাবে
        “তোষামোদি/চাটুকারিতার ” সঠিক অর্থ?
        অভাগা বলার পয়েন্টটা এখানেই।

        আবার এই দুই ভন্ড মুখে বলে
        “আমি ভনিতা/ভণ্ডামি করি না,যা বলি সরাসারি বলি” অথচ বঙ্গরাজ কে ‘King of Bengal’ বলে ফেলে। টের পাচ্ছে না যে ভন্ডামি করে ফেলেছে —
        ভন্ড বলার পয়েন্টা এখানেই।

        মানুষ হও এই দোয়া রইল!!

    • হাসনা বানু

      রাজনীতির মত বিষয় দুধের সমীকরণে মিলানোটা হাস্যকর এবং অপরিণত যুক্তির লক্ষণ। রাজনীতি কোন বিশুদ্ধ দুধের দোকান না যে তার সবটুকুই শত ভাগ পাওয়া সম্ভব। আর এখানে দু দশটি সিদ্ধান্তকে চেনার সাথে তুলনা করে সব প্রাপ্তিকে নষ্ট ভাবা সম্পূর্ণ ভূল উপমা। একটা বড় শস্য ক্ষেত্রে কীট থাকবে। সেই কীটে নষ্ট হয়ে গেলেও যদি শস্যের উৎপাদন হয় তবে সেই কীট কে হাইলাইট করা অবিবেচক কর্ম।
      আমাদের দেশের জটিল ইকোসিস্টেমে তুলনামূলক ভাবে যে অগ্রগতি হয়েছে সেটা দল নিরপেক্ষভাবে ভাবলেও বিস্ময়কর। ভাল কে ভাল বললে পল্টন ময়দান মনে হওয়া নিটপিকার দৃষ্টিভঙ্গী। ইতিহাস বলে এরকম ছিদ্রান্বেষী প্রতিক্রিয়াশীলেরা যে দেশে কম সে দেশ তত উন্নতি ধরে রাখে।

      Reply
    • সৈয়দ আলী

      আপনার সততা ও দেশপ্রেমকে আমি শ্রদ্ধা করি। আমার ক্রোধ উৎপন্ন হয় যে স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশ নিয়েও ইতিহাস বর্ণনা করার অধিকার যেন আমাদের নেই। ক্রমাগতই ইতিহাস বিকৃত হচ্ছে, বানোয়াট ও ফরমায়েশী ইতিহাস নুতন প্রজন্মদের পড়ানো হচ্ছে। সাথে তো ‘King of Bengal’ এর মতো অন্ধ ও মূর্খদের লাফালাফি আছেই। এখন আবার ৩২ ধারা চালু হয়েছে।

      Reply
  5. লতিফ

    জুলাই মাস পর্যন্ত বিদ্যুতের উৎপাদন ক্ষমতা ১৬,০৪৮ মেগাওয়াট। সর্বোচ্চ উৎপাদন হয়েছে আপনি যে সংখ্যাটি উল্লেখ করেছেন, সেটি। মূল কথায় আসি। শেখ হাসিনার সারা জীবনের রাজনীতির সবচে বড় অর্জনটি যুদ্ধাপরাধীর বিচার করা, দ্বিতীয় বড় অর্জনটি বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার করা এবং তৃতীয় বড় অর্জনটি ‘ছিটমহল’ বিলুপ্তিকরণ। প্রথম দুটিতে বাংলাদেশ পাপমোচন করতে সক্ষম হয়েছে এবং তৃতীয়টিতে বাংলাদেশ পূর্ণাঙ্গরূপ পেয়েছে। মূলত, সপরিবারে বঙ্গবন্ধু হত্যার পরে সেই হত্যার বিচার বন্ধে আইন করা এবং যুদ্ধাপরাধীদের সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে নেতৃত্বের আসনে বসানোর বিশাল এক পাপে আটকে গিয়েছিল বাংলাদেশ। আমাদের কবি-সাহিত্যিকদের মনোবেদনার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল এই দুটো বিষয়, জাতির আত্মা কষ্ট পাচ্ছিল সুবিচারের প্রশ্নে নিরন্তর অবহেলায়। জাতির আত্মা কষ্ট পাচ্ছিল ছিটমহলে নিজদেশে পরবাসীর বেদনা দেখে, কষ্ট পাচ্ছিল অশান্ত পাহাড়ে। স্রষ্টার অসীম রহমত না থাকলে কোন জাতি এমন নেতৃত্ব পায় না। তবে, তাঁর কিন্তু বয়স হচ্ছে এবং শেখ হাসিনার পরে তেমন রহমতপ্রাপ্ত কাওকে আর নজরে পড়ছে না।

    Reply

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। প্রতিক্রিয়া লেখার সময় লক্ষ্য রাখুন--

  • ১. স্বনামে বাংলায় প্রতিক্রিয়া লিখুন।
  • ২. ইংরেজিতে প্রতিক্রিয়া বা রোমান হরফে লেখা বাংলা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না।
  • ৩. প্রতিক্রিয়ায় ব্যক্তিগত আক্রমণ গৃহীত হবে না।

দরকারি ঘর গুলো চিহ্নিত করা হয়েছে—