Feature Img

bidisha-f1111২০০৮ এর অক্টোবরের কথা। দেশজুড়ে নির্বাচনের ডামাডোল। রাজনীতিবিদরা প্রায় সকলেই রাজধানী ঢাকা ছেড়ে নিজ নিজ এলাকায়। তখন দুপুর। এমনিতে শীতের আমেজ কিছুটা থাকলেও দুপুর বলে সূর্যের তাপটা বেশ প্রবল। এরই মধ্যে নগরীর সায়েন্স ল্যাবরেটরি এলাকায় তোবড়ানো একটা কোট পরে এক ভদ্রলোক বাসের অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে। তার হাতে একটি মলিন ফাইল। আশপাশে দু’একটা স্কুটার ছিল, কিন্তু তিনি সে দিকে গেলেন না। কিছুটা ধাক্কাধাক্কি করেই বাসে উঠে চলে গেলেন। বাসটি যাবে শাহবাগ হয়ে মতিঝিলের দিকে।

ঠিক এভাবেই ঘটনাটি বর্ণনা করলেন আমার এক বন্ধু। ২০০৯ এর জানুয়ারিতে বিপুল ব্যবধানে নির্বাচিত হওয়ার পর শেখ হাসিনা যখন তার মন্ত্রিসভা ঘোষণা করছিলেন, টিভি’র সামনে আরও অনেকের মত আমিও ছিলাম। তারও বেশ কিছু্ক্ষণ আগে থেকে বিভিন্ন টেলিভিশনে সম্ভাব্য মন্ত্রীদের নাম প্রচার করা হচ্ছিল। সেখানে দিলীপ বড়ুয়ার নামটি দেখে আমি চমকে উঠলাম। দিলীপদা মন্ত্রী হচ্ছেন! আমার নিজের চোখকেই বিশ্বাস হচ্ছিল না।

দিলীপ বড়ুয়ার সঙ্গে আমার কিছু স্মৃতি ছিল। আমরা একবার একসঙ্গে চীন গিয়েছিলাম। সেটা ছিল এশিয়ার বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের একটা সম্মেলন। আমি তখন বৈবাহিকসূত্রে জাতীয় পার্টির সঙ্গে জড়িত। ওই পার্টির প্রতিনিধি হিসাবেই আমার যাওয়া। বাংলাদেশ থেকে আরও অনেক রাজনীতিবিদই গিয়েছিলেন। বিএনপি তখন ক্ষমতায়। ক্ষমতাসীন দলের পক্ষ থেকে মন্ত্রী আবদুল্লাহ আল নোমান গিয়েছিলেন। আওয়ামী লীগ থেকে গিয়েছিলেন সৈয়দ আবুল হোসেন। তাদের সকলের মধ্যে দিলীপদা’র সঙ্গই আমার সবচেয়ে ভালো লেগেছিল। খুবই সাদাসিধা, অমায়িক একজন ভদ্রলোক। অন্যদের যে খারাপ লেগেছিল, তা নয়। তারা সবাই আমার সঙ্গে খুবই ভদ্র, শালীন আচরণ করেছেন। সম্মেলনের সময়টুকু বাদে, সকলেই নানা জিনিসপত্র কেনাকাটা করেছেন। সবাই বড়বড় দোকানে গেছেন, দামী দামী জিনিস কিনেছেন। একমাত্র ব্যতিক্রম দিলীপ বড়ুয়া এবং তার সঙ্গে থাকা আর একজন বামপন্থী ভদ্রলোক। তারা খুঁজে খুঁজে এক ডলারের দোকানে যেতেন। কেনাকাটায় এই যে কম অর্থ ব্যয়ের প্রচেষ্টা, এনিয়ে ওই সময় তার মধ্যে কোন ধরনের হীনমণ্য ভাব আমার চোখে পড়েনি। বরং মনে হয়েছে, নিজের অঢেল অর্থ না থাকা নিয়ে কিছুটা গর্বিতই বুঝি তিনি।

টেলিভিশনের পর্দায় সেই দিলীপ বড়ুয়ার নাম দেখে আমি আর স্থির থাকতে পারিনি। সঙ্গে সঙ্গে তাকে ফোন করলাম। একবার রিং হতেই তিনি তুললেন। বললাম-দাদা এসব কি দেখছি! আপনি মন্ত্রী হচ্ছেন!
-হ্যাঁ দিদি, আমিও তো সেরকমই শুনছি। দিদি, দোয়া করবেন।

তিনি আর বেশি কথা বলতে পারছিলেন না। তার গলা ধরে আসছিল। মনে হলো, ওপ্রান্তে তিনি বোধকরি কাঁদছিলেন।
কাকতালীয় ভাবে ওই বন্ধুটি তখন আমার পাশে ছিলো। সে বর্ণনা করলো মাস দু’য়েক আগের তার নিজের চোখে দেখা সায়েন্স ল্যাবরেটরি এলাকার ওই ঘটনাটি। বন্ধুটি আরও বললো, আমারও সেদিন মতিঝিলে যাওয়ার কথা ছিল। আমি স্কুটার দরদাম করছিলাম। কিন্তু আমার সামনেই দিলীপদাকে ওইভাবে ঠেলাঠেলি করে বাসে উঠতে দেখে কিছুটা লজ্জাই পেলাম। স্কুটারের দিকে না যেয়ে আমিও পরের বাসে উঠে গেলাম।

বন্ধুটি বেশ রাজনীতি সচেতন। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াকালীন নিজেও বাম রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিল। টেলিভিশনে মন্ত্রীদের নামের তালিকায় একটি করে নাম যুক্ত হচ্ছিল, আর আমরা তা নিয়ে আলোচনা করছিলাম। দিলীপ বড়ুয়ার নামটি আসার পর, বন্ধুটি বললো, তাকে মন্ত্রী বানিয়ে শেখ হাসিনা আসলে মেনন আর ইনুকে সাইজ করলো।

তারপর কিছুটা রসিকতার ভঙ্গিতে বন্ধুটি বললো, বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াকালীন আমরা দিলীপদা এবং নির্মলদা’র (নির্মল সেন) পার্টির লোকবল নিয়ে রসিকতা করতাম। বলতাম উনাদের পক্ষে কারফিউ ভঙ্গ করা সম্ভব, কিন্তু ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করা সম্ভব নয়। কারণ, কারফিউ ভাঙতে হলে একজন লোক রাস্তায় নামলেই হয়, কিন্তু ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করতে হলে রাস্তায় কমপক্ষে তিনজন লোক নিয়ে নামতে হয়, ওই তিনজন লোক জোগাড় করাই ওই মহান দুই বামপন্থীর পক্ষে সম্ভব নয়।

কথাটি আমার বিশ্বাস হলো না। তিনজন মাত্র লোক নেই, অথচ একটি পার্টি আছে, এমনও কি সম্ভব? আবার ভাবলাম, হতেও পারে, এদেশে সবই সম্ভব। রাজনীতিতে একদিনেরও অভিজ্ঞতা না থাকা সত্ত্বেও, কেবলমাত্র পার্টি প্রধানের স্ত্রী হওয়ার সুবাদে এই আমিই তো সেই পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য হয়ে গিয়েছিলাম!

তবে একটা বিষয়ে সেদিন আমরা দু’জনেই একমত হয়েছিলাম, মন্ত্রী হিসাবে দিলীপ বড়ুয়া কতটুকু যোগ্য হবেন-সেটা বলা না গেলেও, তিনি যে একজন সৎ মন্ত্রী হবেন এটা নিশ্চিত।

মন্ত্রী হওয়ার পর দিলীপদা’কে আমি কখনোই ফোন করিনি। তবে তার সঙ্গে একবার দেখা হয়েছে। বছর দেড়েক আগের কথা। আমি তখন ইংল্যান্ড যাচ্ছিলাম। প্লেন পরিবর্তন করতে হবে দুবাই এয়ারপোর্টে। বোর্ডিং পাস সংগ্রহের জন্য লম্বা লাইন, সেখানেই দাঁড়িয়ে দিলীপ বড়ুয়া। একহাতে টিকেট-পাসপোর্ট, অন্য হাতে হ্যান্ডব্যাগ। তিনি যেন কিছুটা হিমশিম খাচ্ছেন। আমি তাকে সালাম দিলাম। বললাম, দাদা চিনতে পেরেছেন?
তিনি হাসলেন, কি যে বলেন দিদি, কেন চিনতে পারবো না? কেমন আছেন আপনি? কোথায় যাচ্ছেন?
এক কথা দু’কথার পর বললাম, আপনি এখন মন্ত্রী। তারপরও আপনি লাইনে কেন?
-কেন, মন্ত্রী হয়েছি তো কি হয়েছে? আমি তো এখনো ইকোনমি ক্লাসেই ভ্রমণ করি। মন্ত্রী তো দু’দিনের ব্যাপার। তাই বিজনেস ক্লাসে উঠে স্বভাবটা নষ্ট করতে চাই না। যখন মন্ত্রী না থাকবো, তখন যেন কষ্ট না হয়।
তার কথা শুনে খুব ভালো লাগলো। ভাবলাম, আহা, আমাদের দেশে যদি এরকম আরও কয়েকজন মন্ত্রী থাকতো! শেখ হাসিনার উপর কিছুটা খুশিই হলাম। ভালোই করেছেন তিনি। কয়েকজন সৎ মানুষকে মন্ত্রী করেছেন।
আসলে এতক্ষণ যা লিখলাম, তা কেবলই ভূমিকা। এবার আসছি মূল প্রসঙ্গে। পাঠকদের কাছে ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি, কারণ ভূমিকার চেয়ে মূল প্রসঙ্গটি ছোট হয়ে যাবে বলে।

গত মঙ্গলবার (৫ জুন ২০১২) একটি পত্রিকায় দেখলাম, মন্ত্রী দিলীপ বড়ুয়া নাকি নিজের এবং তার পরিবারের সদস্যদের নামে ঢাকা শহরে পাঁচটি প্লট নিয়েছেন! আবার চট্টগ্রামেও একটি প্লট পাওয়ার জন্য আবেদন করেছেন, সেটি পাওয়াও নাকি একরকম নিশ্চিত। রিপোর্টে আরও বলা হয়েছে, তিনি নাকি খুবই দামী জিপে চলাফেরা করেন আজকাল। তার অথবা তার পরিবারের নামে আরও কী কী সম্পদ আছে, তারও কিছু বিবরণ দেখলাম ওই রিপোর্টে।

এ খবরটি আমাকে হতবাক করে দিল। আমি মিলাতে পারলাম না। এটা কি সেই দিলীপ বড়ুয়া, যাকে আমি চীনে ১ ডলারের দোকানের সন্ধানে ছোটাছুটি করতে দেখেছি? যাকে মন্ত্রী হওয়ার পরও দুবাইয়ে ইকোনমি ক্লাসের লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখেছি?

আচ্ছা, ঠিক আছে, না হয় ধরে নিলাম পত্রিকাগুলো অতিরঞ্জণ করে লিখেছে। কিন্তু পাঁচটি না হলেও তিনটি, কিংবা দু’টি প্লটতো ঠিক আছে।

বামপন্থী রাজনীতি বলতে আসলে ঠিক কি বুঝায়, আমি ভালো বুঝি না। তবে আমি বামপন্থী মতধারায় বিশ্বাসী লোকদের কয়েকজনকে দেখেছি। আমার পিতা সারাজীবন বামধারার রাজনীতির প্রতি অনুগত ছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ছিলেন, অর্থ-সম্পদ-প্রতিপত্তি’র প্রতি লোভ তার মধ্যে কখনো দেখিনি। এখনও, এই বৃদ্ধ বয়সেও, ভাড়া বাসাতে থাকেন। শুনেছি, বামপন্থীদের নাকি একধরনের অহঙ্কার থাকে। ব্যক্তিগত সম্পদ না থাকার অহঙ্কার। আমার বাবার মধ্যে সেই অহঙ্কারটি দেখতে দেখতে আমি ক্লান্ত, রাগান্বিত এবং সবমিলিয়ে গর্বিত। খুব জানতে ইচ্ছা করে, এই সরকারের সঙ্গে জড়িত মহান তিন বামপন্থী দিলীপ বড়ুয়া, রাশেদ খান মেনন, কিংবা হাসানুল হক ইনু-এরা কি ওই অহঙ্কারে অহঙ্কারী?

বিদিশা: ফ্যাশন ডিজাইনার ও লেখক।

বিদিশাফ্যাশন ডিজাইনার; লেখক

৪৪ Responses -- “প্লট, গাড়ি আর বামপন্থী দিলীপ বড়ুয়া”

  1. বিধান পাল

    আপু, আপনার লেখায় রহস্য আছে। কী বুঝাতে চেয়েছেন বুঝলাম না। সুনাম না দুর্নাম?

    Reply
  2. KHAN

    ভালো হয়েছে, অতীতের স্মৃতির কথা শুনে ভালো লাগল। আর ক্ষমতার লোভ কেউ কখনও সামলাতে পারে না, এটাই সত্য ….

    Reply
  3. শাম দত্ত

    অনেক ভালো একটা লেখা। আপনি আমাদের এক দশকের রাষ্ট্র নায়কের স্ত্রী ছিলেন। আপনি একটা বই লিখলে আমরা অনেক কিছুই জানতে পারতাম!দীলিপ দাদাকে প্রথম দেখী টি ভি তে। কথা গুলু ভালো লেগেছিল। মনে হয়েছে ভালো হবেন। কিন্তু ঘটনা তো উল্টা। বামদের থিওরি আছে। বাসতবে ভুয়া।

    আপনাকে ধন্নবাদ।

    Reply
  4. shottobhasi

    প্রশ্ন হচ্ছে একটি পত্রিকার রির্পোট এবং বিদিশার অপিনিয়নের উপর ভিত্তি করে, দিলিপ বড়ুয়ার কোন মন্তব্য না শুনে একটি অন্ধকার রুমে অন্ধের মতো কালো বেড়াল খোজার যুক্তি কতটুকু? আর্গুমেন্টাতো দিলিপ বড়ুয়াকে benefit of doubt দিয়েও শুরু করা যেতো! তারপর সেখান থেকে যুক্তি প্রমান সহ লেখাটি এবং মন্তব্য গুলোর একটা definite পরিনতি টানা যেত!

    Reply
  5. sajal barua

    সুন্দর উপাস্থাপনা, দিলীপদার প্রতি একটা শ্রদ্ধাবোধ ছিল। লেখাটি যদি সত্যি হয় তাহলে আমার খুব খারাপ লাগবে।

    Reply
  6. linda

    সাবলীল উপস্থাপনা। ভালো লেগেছে। ধন্যবাদ বিদিশা।

    Reply
  7. সাগর

    শাক দিয়ে মাছ ঢাকার ব্যর্থ চেষ্টা । ড. ইউনুছ সম্পর্কে যে বাজে মন্তব্য করে তার মত লোক কিভাবে মন্ত্রী হয়।

    Reply
    • Bidhan paul

      ভাই, ড; ইউনুসের সুদের জাল অনেক বড় ,সাথে পুকুর চুরিও আছে । উনারে কোন দেশে সার্টিফিকেট দিছে এইটা সবারই জানা । যে দেশ জঙ্গি লালন করে, কোন দেশের উন্নতি পছন্দ করে না, এক দেশের সাথে আরেক দেশের ঝগড়া লাকাইয়া দেওয়ার তালে থাকে, বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরোধীতা করেছিল,সেই দেশই উনার পরম আপন । তারতো সমালোচনা হবেই ।

      Reply
  8. Kamal Khan

    লেখাটি ভালো লাগলো। সরল ভাষায় অনেক কঠিন প্রশ্ন করেছেন। বিদিশাকে ধন্যবাদ।

    Reply
    • MD. YEASIN ARAFAT APON

      লেখাটি ভালো লাগলো। সরল ভাষায় অনেক কঠিন প্রশ্ন করেছেন। বিদিশাকে ধন্যবাদ।

      Reply
  9. রহমান

    আমি বিশ্বাস করতে পারছি না কিন্তু আমিও শুনেছি তিনিও নাকি দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েছেন। আমরা হতাশ হচ্ছি এসব শুনে। উনি নাকি চট্রগ্রাম সার কারখানার দরপত্র নিযেও দুর্নীতি করেছেন। বাম ঘরানার রাজনীতিবিদরাও দুর্নীতি শুরু করে দিয়েছেন তাহলে!

    Reply
    • আব্দুল কাদের

      সত্যপ্রকাশে অনড় ‘আমার দেশ’। সাংবাদিকতার নামে অনেকেই গোলামী করে, জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সত্যপ্রকাশ কজন সম্পাদকই-বা করেন। ‘আমার দেশ‘ সত্যপ্রকাশের প্রতিচ্ছবি … মুক্তিকামী মানুষের কণ্ঠস্বর …

      Reply
  10. mortuza khaled

    সত্যি কথা বলতে কি, লেখাটি খুব ভাল হয়েছে। সে জন্য লেখিকাকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। আমাদের দেশের রাজনীতিবিদদের চরিত্র বোঝা খুবই মুশকিল।

    Reply
  11. আপেল চৌধুরী

    দিলীপদার প্রশংসা করলেন, নাকি বিদ্রুপ? ঠিক বুঝে উঠতে পারলাম না।

    Reply
  12. মো. সোহে রানা

    আমি দিলীপ দা কে ঠিক চিনি না । তাই তাকে নিয়ে কিছু বলতে পারছি না ।
    তবে বাম ধারার আরেক রাজনীতিবিদের (সুরঞ্জিতসেন গুপ্ত) যে কাহিনি কিছুদিন আগে দেখলাম তাতে আমার মনে হয় এই সুযোগে যদি দিলীপদা কিছু না করে তবে তিনি তার ভবিষ্যত প্রজন্মের কাছে কলংকিত হয়ে থাকবেন। অতএব দিলীপ দা ভাল করেই জানেন কখন ঝড় আসবে আর কখন আম কুড়াতে হবে।

    Reply
  13. Md. Anwarul Kabir

    বামপন্থী দিলীপ বড়ুয়ার এ অধ:পতন যদি সত্যিই হয়ে থাকে তবে তাতে প্রথমটায় ধাক্কা খেলেও বিষ্মিত হওয়ার কিছু নেই। শেষ বয়সে আদর্শচ্যূত হয়েছে এমন রাজনীতিবিদদের সংখ্যা খুব বেশী না হলেও একদম যে নেই তা বলা যাবে না। যেমন ধরুন তেভাগা আন্দোলনে নমস্য মরহুম হাজী দানেশ। এ ত্যাগী রাজনীতিক সারা জীবন বামপন্থী রাজনীতি করে জীবন উপান্তে এসে স্বৈরাচারি এরশাদ সরকারের মন্ত্রীত্ব গ্রহণ করে রাজনীতিতে তার শহান অর্জনকে অনেকটা ম্লান করে দিয়েছিলেন। বাম পন্থী রাজনৈতিক নেতা রাশেদ খানও কি বামপন্থী আদর্শচ্যুত নন? জনশ্রুতি আছে ভিকারুন্নেছা ইস্কুলে ছাত্রী ভর্তি করে উৎকোচ গ্রহণ করার মতোন ছেচরামীতেও পিছিয়ে থাকেননি এক কালের জননন্দিত এ বামপন্থী নেতা।

    প্রকৃতপক্ষে চলমান ভোগবাদিতার হাতছানিকে উপেক্ষা করার প্রত্যয় আজ খুব কম মানুষের মাঝেই আছে। আর দীলিপবাবুও তো মনুষ্য সন্তানই, তার পক্ষেও হয়তো জীবনের শেষপ্রান্তে এসে ভোগের বাসনাকে আর উপেক্ষা করা সম্ভব হয়নি আর তাই তার নামও যুক্ত হল অপরাপর অধ:পতিত ‘বামপন্থী’ নেতাদের তালিকায়। মহাভারতের ভাষায় এদরেকেই বলা যায় অভিশপ্ত ভ্রষ্ট মুণী।

    মোহাম্মদ আনওয়ারুল কবীর।

    Reply
    • gantoogatoos

      “রাশেদ খান মেনন সম্পর্কে জনশ্রুতি আছে ভিকারুন্নেছা ইস্কুলে ছাত্রী ভর্তি করে উৎকোচ গ্রহণ করার মতোন ছেচরামীতেও পিছিয়ে থাকেননি এক কালের জননন্দিত এ বামপন্থী নেতা।”

      আর একটা কথাও দুই একবার উচ্চারিত হইছে, পরিমল জয়ধর না কি তাকে আপ্যায়িত করেছে ।

      Reply
  14. আদ্যপান্ত

    দিলীপ সমগ্রদের বিষয়ে আমরা সবাই কমবেশী জানি। এদের ব্যপারে আর ভাবতে ভাল লাগে না।
    মন্তব্য লিখছি আপনার লিখাটার জন্য। সুপাঠ্য, সাবলীল উপস্থাপনা, চমৎকার শাব্দিক বুনন। ভাল লাগল।

    ধন্যবাদ।

    Reply
  15. RUPON

    ক্ষমতা পাবার আগে সবাই বামপন্থি আর ক্ষমতা পেলে সবাই রাবণপন্থি হয়ে যায় ।

    Reply
  16. jhony

    এইসব কিছুই সুযোগের অভাব। যে বাম নেতারা সুযোগ পেয়েছেন তারা সবাই নিজেদের উদরপূর্তি করতে ব্যস্ত আছেন। যারা পাননি তারা হায় হায় করছেন।

    Reply
  17. kanuk Chowdhury

    আমি ধন্যবাদ জানাই বিপাশা আপুকে সুন্দর এবং প্রাসঙ্গিক লিখাটি লেখার জন্য।
    আপনি আপনার লিখার শেষ প্রান্তে লিখেছেন ( শুনেছি, বামপন্থীদের নাকি একধরনের অহঙ্কার থাকে। ব্যক্তিগত সম্পদ না থাকার অহঙ্কার। আমার বাবার মধ্যে সেই অহঙ্কারটি দেখতে দেখতে আমি ক্লান্ত, রাগান্বিত এবং সবমিলিয়ে গর্বিত। খুব জানতে ইচ্ছা করে, এই সরকারের সঙ্গে জড়িত মহান তিন বামপন্থী দিলীপ বড়ুয়া, রাশেদ খান মেনন, কিংবা হাসানুল হক ইনু-এরা কি ওই অহঙ্কারে অহঙ্কারী?) এর উত্তরে আমি বলবো না, তার প্রমান প্রাসঙ্গিক লেখাটি।

    Reply
  18. Dr.Shibly

    দিলীপ দ্যা এ রকম বিশ্বাস করতে কষ্ট হচ্ছে।

    ডা. শিবলী
    ইসলামপুর,জামালপুর

    Reply
  19. আরিফ রহমান

    বিগত বছরগুলোতে সার্বিকভাবে শিল্প খাতের তেমন কোনো উন্নতি হয়নি। প্রবৃদ্ধি কমেছে। তবে দেশের ইপিজেড,বিসিক শিল্পনগরী এবং এসএমই খাতে বিনিয়োগ কিছুটা বেড়েছে। যার ফলে শিল্প প্রবৃদ্ধিতে ইতিবাচক অবস্থান ধরে রাখা সম্ভব হয়েছে। বিশ্বমন্দায় রফতানি খাতে নেতিবাচক প্রভাব,নতুন শিল্প স্থাপনে উদ্যোক্তাদের অনাগ্রহ, গ্যাস-বিদ্যুতের সঙ্কট এবং মহাজোট সরকারের রাজনৈতিক অসহিষ্ণু পরিবেশ শিল্প বিনিয়োগ হ্রাস হওয়ার আরও একটি কারণ। সরকারের দক্ষ ব্যবস্থাপনার কারণে, দেশের শিল্পখাতে নেতিবাচক যে পরিস্থিতি সৃষ্টি হবার কথা ছিলো,তা হয়নি। আর হয়নি বলেই, নিজেকে মহাজোট সরকারের মন্ত্রীসভার অন্যতম সফল সদস্য হিসাবে শিল্পমন্ত্রী ও বামপন্থী নেতা দীলিপ বড়ুয়ার তৃপ্তির ঢেকুর ওঠাটাই স্বাভাবিক। দেশের পত্র-পত্রিকায় দেশের শিল্পখাত নিয়ে অনেক নেতিবাচক লেখালেখি দেখলেও, বেশ কিছু সভা-সেমিনারে নিজেই দেখেছি শিল্পমন্ত্রী নিজেই নিজের সফলতার বয়ান করছেন। তখনই মনের কোনে শঙ্কা জেগেছে, অনেক বামপন্থীর মতো দীলিপ বড়ুয়াও কি ক্ষমতার স্পর্শে গিয়ে পঁচে গেলেন। এরপর, বিদিশার মতো আমিও হতবাক হয়েছি একটি পত্রিকায় দীলিপ বড়ুয়ার সম্পদ লালসার চিত্র দেখে। বিদিশির মতো আমিও পুরোপুরি বিশ্বাস করছি না ওই প্রতিবেদন। কিন্তু যা কিছু রটে, তার কিছু তো বটে! ঠিক এই সময়ে আমার এক বামপন্থী বন্ধুর কথা মনে পড়ে গেলো। এই বন্ধুটি তৈরি পোশাক শিল্পের সঙ্গে জড়িত এবং হংকংয়ে একটি ফ্ল্যাটের মালিক। এরশাদ বিরোধী আন্দোলনের সময় অনেক পরিচিত মুখও সেই বন্ধু। যাই হোক,তার সেই কথায় আসি। বামদের বিপথে যাওয়ার প্রসঙ্গে সে একবার মন্তব্য করেছিলো, আদা পঁচে গেলেও ঝাঝ থাকে, কিন্তু বামপন্থী পঁচে গেলে দূর্গন্ধ ছড়ায়।

    Reply
  20. Mohiuddin Kader

    ধন্যবাদ্র আপনার লেখাটির জন্য। আপনার সাথে সহমত। বর্তমান রাজনীতির এটাই চেহারা।

    Reply
  21. delwar hossain

    দুর্বল লোকদের বেছে বেছে মিনিস্টার করে ,দুর্বল সরকার জাতিকে উপহার দিয়েছিল। সরকারের মধ্য থেকে কেউ যাতে শেখ হাসিনাকে চ্যালেন্জ করতে না পারে। হানিফ গংদের দলের দায়িত্ব দিয়ে আলীগকে কতটা দেউলিয়া করা হয়েছে তা টের পাবে দেড় বছর পর…।

    Reply
  22. ইমরান

    ঐ সব ছিল ভণ্ডামি, সুযোগ পায়নি বলে কিছু করতে পারেনি ! এখন সুযোগ পেয়েছে তাই কে ছারে ? খবর নিয়ে দেখছি তাদের সবার ছেলে মেয়ে থাকে আমেরিকায় । নিজেরা শুদু লোক দেখানো জন্য রাজনীতি করে। কারোরই চরিত্র বলে কিছু নাই।

    Reply
  23. zia haq

    আমার পিতা সারাজীবন বামধারার রাজনীতির প্রতি অনুগত ছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ছিলেন, অর্থ-সম্পদ-প্রতিপত্তি’র প্রতি লোভ তার মধ্যে কখনো দেখিনি। এখনও, এই বৃদ্ধ বয়সেও, ভাড়া বাসাতে থাকেন। শুনেছি, বামপন্থীদের নাকি একধরনের অহঙ্কার থাকে। ব্যক্তিগত সম্পদ না থাকার অহঙ্কার। আমার বাবার মধ্যে সেই অহঙ্কারটি দেখতে দেখতে আমি ক্লান্ত, রাগান্বিত এবং সবমিলিয়ে গর্বিত। খুব জানতে ইচ্ছা করে, এই সরকারের সঙ্গে জড়িত মহান তিন বামপন্থী দিলীপ বড়ুয়া, রাশেদ খান মেনন, কিংবা হাসানুল হক ইনু-এরা কি ওই অহঙ্কারে অহঙ্কারী?

    ভালো লাগলো। আমারও এক প্রশ্ন। এক ভাবনা………

    Reply
  24. মো: গোলাম সরোয়ার সজল

    আমাদের দেশে ক্ষমতা হলো মাদকের মতো। একবার ক্ষমতা হাতে পেলে চরিত্র নষ্ট হতে খুব বেশী সময় লাগে না।

    Reply
  25. md. mahfuzur rahman

    আপনার লেখা পড়ে বেশ ভাল লাগল ।সুন্দর লেখা নিঃসন্দেহে । মতাদর্শ্ কারও থাকতেই পারে এবং সেই মতাদর্শ পরিবর্তনও হতে পারে । জজ ডব্লিও বুশ এর সেই মন্তব্য টি মনে পড়ে আমারও মত আছে, কঠিন সে মত কিন্তু মাঝে মাঝেই তা আমার নিজের কাছেই ঠিক মনে হয় না । যা হোক মূল কথা হচ্ছে সিস্টেম । আমদের দেশের সিস্টেম পরিবর্তন করতে হবে । আমরা কেন ধরে নিব একজন মানুষ নিলোর্ভ হবে । আমাদের এমন এক ধরনের সিস্টেম উদ্ভাবন করতে হবে যাতে করে কেই চাইলেও দুর্নিতি করতে না পারে ।

    ধন্যবাদ আপনার সুন্দর লেখার ।

    Reply
  26. Hashmi

    লেখাটি ভালো। রাজনীতি করা এবং একই সময়ে সৎ থাকা খুবই কঠিন ব্যাপার। অন্তত বাংলাদেশের প্রেক্ষিতে যেখানে রাজনীতিতে ক্ষমতার দাপট আর দুর্নীতিই বেশি। কেউ যদি খুব দৃঢ় নীতি মেনে চলেন আর দেশের প্রতি তার সত্যিকারের ভালোবাসা থাকে তাহলে তার পক্ষে এটা সম্ভব। লোভের মতো শক্তিশালী একটি প্ররোচনাকে এড়িয়ে যাওয়ার জন্য দরকার দৃঢ় ইচ্ছাশক্তি।

    Reply
  27. jafar

    মুগ্ধ হলাম। বিদিশা ধীরে ধীরে অনেক ভালো একজন কলামিস্ট এ পরিনত হচ্ছেন।

    Reply

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। প্রতিক্রিয়া লেখার সময় লক্ষ্য রাখুন--

  • ১. স্বনামে বাংলায় প্রতিক্রিয়া লিখুন।
  • ২. ইংরেজিতে প্রতিক্রিয়া বা রোমান হরফে লেখা বাংলা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না।
  • ৩. প্রতিক্রিয়ায় ব্যক্তিগত আক্রমণ গৃহীত হবে না।

দরকারি ঘর গুলো চিহ্নিত করা হয়েছে—