মিডিয়া খুলতেই দেখি মমতা দিদির ছবি। দিদিকে দেখলেই আমার হাসি পায়। না না কোনও কৌতুক না। সবসময় সিরিয়াসলি কথা বলেন তো, তাই। এই যে ক’দিন আগে কলকাতায় একটা উড়ালপুল ভেঙে পড়লো। তিনি তখন দার্জিলিংয়ে। সেদিন নাকি প্লেন নাই, যোগাযোগও নাই, তাই আসলেন না। যতদূর জানি বড় বড় মানুষরা দুর্যোগের সময় হেলিকপ্টার ব্যবহার করেন। তাঁর জন্য কি তাও ছিল না? দিদি এসেছিলেন পরদিন।

যা হোক। দিদির হাসিমাখা মুখ সহজে দেখা যায় না। এ যাত্রায় তা দেখলাম। বলেছেন, শেখ হাসিনা জিতলে তিনি আসবেন। এটা যদি তাঁর মনের কথা হয়, তবে তাঁকে সাধুবাদ । কিন্তু দিদি আমাদের নেত্রীর পথের কাঁটা হিসেবে বিছিয়ে রাখা তিস্তাচুক্তির কী হবে? আপনি কি বোঝেন না এ সমস্যা ভোটের বাক্সে প্রভাব ফেলতে পারে? তাছাড়া আপনার আর আমাদের সীমান্তে কিছু হলেই আপনি যে ভাষায় কথা বলেন, তখন তো মনে হয় না আপনি আসলে আসতে চান। আপনার বঙ্গের রাজনীতি বা অর্থনীতি নিয়ে আমাদের কিছু বলার নাই। আমাদের চাওয়া খুব অল্প।

দয়া করে আমাদের দেশে ভারত বিরোধিতা বাড়তে দিয়ে এদেশের  গতিশীলতা আর উদার রাজনীতি নষ্ট করবেন না। আমাদের মাথার ওপর রোহিঙ্গা সমস্যার পাহাড়। সে বিষয়ে আপনারা নিরব। আমাদের তিস্তা শুকিয়ে কাঠ আপনারা, স্তব্ধ। সীমান্তে মারমারি তো হয় না, হয় একতরফা ‘মারি’। সে ‘মারি’তে যখন কাঁটাতারে লাশ ঝুলিয়ে দেয়া হয়, তখন একটু কথা বলবেন প্লিজ!

আমরা ইলিশ জামদানি দিতে মুক্তহস্ত। আমাদের মানুষেরা যায় আর খরচ করে আপনার দেশে। কলকাতার রাস্তাঘাট বাজার বাংলাদেশিতে সয়লাব। আপনাদের পণ্য আমাদের ঘরে ঘরে। আপনারা ভয়ে দেখান না বটে আমাদের গৃহকোণের শান্তি কেড়ে নিয়েছে আপনাদের সিরিয়াল। এতকিছুর পরও আমরা আপনাদের ভালোবাসি। তাই দিদি কে জিতলে আসবেন, আর কে না জিতলে আসবেন না, এমন বলে বিরোধী শিবিরকে চাঙ্গা করবেন না। দয়া করে যখন ইচ্ছে আসুন। কিন্তু শর্ত একটা। ভালোবাসার বিনিময়ে ভালোবাসা। বন্ধুত্বের বিনিময়ে বন্ধুত্ব। দাদাগিরি না।

ভারত আমাদের বিশাল প্রতিবেশি। তাদের সাথে আমাদের সম্পর্ক ভালো থাকা সবদিক থেকে জরুরি। কারণ নেহেরুর ভারত আর আজকের ভারতে অনেক তফাৎ। এখনকার ভারত এক পরাশক্তিও বটে। কিন্তু এটাও মানতে হবে একাত্তরের ভারত আর আজকের ভারত এক নয়। ফুলেফেঁপে বলশালী দেশটির রাজনীতিতে এসেছে পরিবর্তন। সেদেশের সরকারে এখন বিজেপি। বিজেপি হিন্দু দল। সেটা বলতে বা বলায় তাদের কোনও লজ্জা নাই। বরং মোদির নেতৃত্বে ভারতের যে অগ্রগামী ভূমিকা সেটাই এখন বিশ্বেও স্বীকৃত।

আমাদের সাথে তাদের সম্পর্কের বিষয়টা বিজেপি আমলে ব্যাহত হতে পারে এমন ধারণা বদ্ধমূল ছিলো। কারণ কংগ্রেস আর আওয়ামী লীগ একাত্তরে এক হয়ে মুক্তিযুদ্ধে লড়াই করার পাশাপাশি ইন্দিরা-মুজিব সম্পর্কও ছিল দুইদেশের ভালোবাসার সূত্র। সময়ে আজ তাঁরা যেমন নাই, কংগ্রেসও হীনবল। রক্তের উত্তরাধিকার ভারতের রাজনীতি বেশীদিন মানেনি। তারা ফিরে এসেছে তাদের জাতীয়তাবাদী চেতনায়। জাতীয়তাবাদ নানাভাবে নানা কারণে তার চেহারা বা আদল ঠিক করে। রাষ্ট্র,সমাজ, ভাষা এমনকি ধর্মের ভিত্তিতেও জাতীয়তাবাদের বিস্তার হয়। এখন যে জাতীয়তাবাদ ভারতকে একত্রিত করে রেখেছে তার পেছনে ধর্মভিত্তিক পরিচয় প্রধান। কিন্তু এটাও বুঝতে হবে মোদির আমলে সাম্প্রদায়িকতা বা তেমন কিছু ততটা বেগবান হতে পারেনি। বহুমত ও পথের সমন্বয় কিংবা ভারতের গণতান্ত্রিক ঐতিহ্যই হয়তো তাদের জায়গাটা ধরে রাখে। যা আমরা পারিনা।

ভারত যেমন রক্তের উত্তরাধিকার ছেড়ে আসতে পেরেছে আমরা পারিনি। বলছিলাম আমাদের মিডিয়া জুড়ে ভারতের সাথে সম্পর্কের যে গুণগান তা মিথ্যা হয়তো নয়, কিন্তু এটাও সত্য ভারত বিরোধিতা এখনো আমাদের রাজনীতির এক বিষফোঁড়া। এর জন্য কে কতটা দায়ী সেটা সবাই কমবেশি বোঝেন। বুঝিনা যেটা সেটা হচ্ছে, কী কারণে ভারত বিরোধিতা আর সাম্প্রদায়িকতা সমার্থক?

আওয়ামী লীগ বেশ বুঝতে পারে এই বিশাল প্রতিবেশির সাথে বিবাদ করা লাভ হবেনা। আমেরিকার কথাই ভাবুন। পাশের দেশেগুলোর সাথে তাদের সম্পর্ক মনোহর কিছু না, বরং আছে নানা সমস্যা। এমনকি জলসীমায় বিদ্যুৎ দিয়ে লোকপাচার বন্ধ করার মত কাজও হয় সেখানে। আছে কাঁটাতার । কিন্তু ফেলানী আছে কিনা সেটা জানিনা!

যে বিষয়গুলো আমাদের দেশ ও ভারতের সাথে সম্পর্কের বৈরি সেগুলো নিয়ে রাজনীতির মাথাব্যথা নাই। বরং তাকে জিঁইয়ে রাখাই যেন তার কাজ।

একটা বিষয় আমরা সবাই জানি ভারতের নিন্দা বা তার নামে গায়ে জ্বালা ধরলেও আমাদের মানুষেরা ভারত ভ্রমণে রেকর্ড করেন। কয়েকবছর ধরে সেদেশে যাবার হিড়িক এবং সংখ্যা রেকর্ড পরিমাণ। নানা কারণে যেতে হয় বৈকি। বিশেষত চিকিৎসা আর কেনাকাটার জন্য ভারত এখনো প্রিয়। চিকিৎসা বিষয়টা বড় গোলমেলে। আমাদের সমাজে মেধাবী ডাক্তার কিংবা চিকিৎসকের কমতি নাই। কমতি সেবার। আমাদের চিকিৎসাসেবা মুখে যাই বলি, এখনো মান্ধাতা আমলে। সাথে আছে বাণিজ্য। একেকটা বড় বড় মেডিক্যাল সেন্টার বা নার্সিংহোম যেন ফাইভস্টার হোটেল। এদের ভেতরে-বাইরে ফকফকা বটে, কাজের বেলায় ঘোড়ার ডিম। মনে হবে আপনি আরামে শুয়ে থাকার জন্য সেখানে যাচ্ছেন। না আছে সেবা, না চিকিৎসা। ফলে এগুলো গরীবের রক্ত চুষলেও মধ্যবিত্ত আর ধনীদের নাগাল পায়না। খেয়াল করবেন বড় বড় মানুষ নামে পরিচিতজনেরা কিছু হলেই ব্যাংকক সিঙ্গাপুর কিংবা ইউরোপে চলে যান। এমনকি দেশের রাষ্ট্রপতিও। তাহলে যে সেবা যে চিকিৎসায় রাষ্ট্রপতির আস্থা নাই সাধারণ মানুষ সেখানে আস্থাশীল হবেন কী করে? ভারত হলো এ জায়গায় নিম্ম মধ্যবিত্ত, বড়জোর মধ্যবিত্তের টার্গেট। এটা এড়ানোর উপায় নাই।

আর আছে কেনাকাটা। পূজা তো বটেই ঈদের আগে আপনি কলকাতায় হাঁটতে গেলে যার সাথে ধাক্কা খাবেন, তিনিই বাংলাদেশি। বাণিজ্যের এমন রমরমা বাজার ভারত কেন হাতছাড়া করবে? তাই তারা রাজনৈতিকভাবে এমন সব কথা বলে মনে হয় পরম দোস্ত। আজ মিডিয়ায় এও দেখলাম মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী বলেছেন, তিনি আবার আসবেন যখন শেখ হাসিনা ফের সরকার গঠন করবেন। এটা তাঁর মুখের কথা না মনের কথা জানিনা তবে এমন বক্তব্য সন্দেহজনক।

কারণ আমাদের দেশের রাজনীতিতে কে সরকার গঠন করবে আর কাকে জনগণ নির্বাচিত করবেন সেটা তিনি বলে দিতে পারেন না। এর মানে কি এই আর কেউ গদিতে এলে তিনি আসবেননা? এই ভদ্রমহিলা বামরাজত্বে সাধারণ নামে পরিচিত নেতাদের পোশাকে বা জুতোয়-চটিতে হারিয়ে দিলেও, সরকারিভাবে সেখানে একনায়কত্ব কায়েম করেছেন। কলকাতার বুদ্ধিজীবী-লেখক-গায়ক সবাই তাঁকে এমনভাবে বন্দনা করেন মনে হয় লজ্জায় কান কাটা যায়। কিছুদিন আগে নচিকেতার মত প্রতিবাদী গায়ক বলেছেন মমতার ভেতর নাকি লেনিনের ছায়া আছে। আগে জানলে লেনিনের মূর্তি ভেঙে ফেলার দরকার পড়তো না। তিনি নিজে লজ্জায় ভেঙে পড়তেন। লিঙ্গভেদ ভুলে যাওয়ার মত স্তাবকতা হয়ে সেখানে।

সেগুলো আমাদের বিবেচ্য না। আমাদের কথা হচ্ছে যে তিস্তার পানি বন্টন মমতার কারণে হয়নি বলে বাজারে চালু সে ব্যাপারে তাঁর কি বক্তব্য? এ বিষয়ে কিছু বলেন না কেন তিনি? বাংলাদেশের সাথে সম্পর্কের নাজুকতা তো সেখানে। নাজুক সম্পর্ক সীমান্তে। আমাদের বিরোধী দলগুলো ও আসলে এক ধরনের চামাচামিতে ব্যস্ত। বিএনপির যত ভোট আর সমর্থন তার পেছনে এই ভারত বিরোধিতা। সেটা বুঝতে পেরে খালেদা জিয়া কী করেছিলেন? সেদেশের রাষ্ট্রপতি বাঙালি প্রণব মুখার্জির সাথে দিন তারিখ ঠিক করেও দেখা করেননি। সে দেখা না করার পাপ বা ভুল তাঁকে কী শাস্তি দিয়েছে তা আমরা সবাই জানি।

কিন্তু যেটা বুঝিনা এটাই যদি তাদের আদর্শ বা স্ট্যান্ড পয়েন্ট হয় তো এখন তারা প্রতিনিধিদল পাঠিয়ে ভারতের সমর্থনের জন্য মরিয়া কেন? একটা তো পরিষ্কার অবস্থান থাকতে হবে। ভোটের জন্য সস্তা জনপ্রিয়তার জন্য আপনারা ভারতের সাথে বৈরিতার ভাব দেখাবেন, আবার সুযোগ বুঝে পায়ে ধরবেন- এটা কেমন নীতি? ভারতের রাজনীতি তো বাঙালিরা নিয়ন্ত্রণ করেনা।

যারা করে তারা খুব ভালো জানেন আমরা কী চাই আর কতটা দিলে আমাদের মেরুদণ্ড সোজা থাকে না। তাই তারা সেভাবেই খেলেন। এই খেলার কারণে আজ অবধি আমাদের দেশে সুষ্ঠু বিরোধিতা কিংবা গঠনমূলক সম্পর্ক কোনটাই গড়ে ওঠেনি।

উল্টো সেদিন খবরে দেখলাম ভিসা আবেদন এত বেশি যে তাদের ঢাকা শহরে একাধিক কেন্দ্র খুলতে হয়েছে। ভারতের সাথে সম্পর্কে যে নির্ভরতা সেটা যতদিন সুষ্ঠু ও সমার্থক না হচ্ছে বিরোধিতা মুখের কথা হয়েই থেকে যাবে। শেখ হাসিনা এখন অনেক প্রাজ্ঞ । তিনি আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে জায়গা করে নেয়ার কারণে অনেক কথা মুখের ওপর বলতে পারেন। বিশেযত, সবকিছু কন্ট্রোল বা নিয়ন্ত্রণের একটা বিষয় আছে তাঁর ভেতর। ফলে নানা বিষয়ে ভারতের সাথে বৈষম্য কমানো আর নিজেদের চাওয়া বুঝে নিতে পারেন তিনি। কিন্তু সমাজ তা মানেনা। সমাজে এখনো বদ্ধমূল ধারণা আওয়ামী লীগ ভারতকে সব দিয়ে দেয়। আর এই ধারণার ভুক্তভোগী নিরীহ সংখ্যালঘু আর কিছু উদারমনা মুসলিম জনগোষ্ঠী। যারা মূলত ভারতের কোনও আনুকূল্য পায় না। ব্যবসা আনুকূল্য যারা লাভ করে তাদের অন্তরেই ভারত বিরোধিতা প্রকট।

রোহিঙ্গা, তিস্তার পানি, সীমান্ত- এমন সব জটিল বিষয়ে একটা সমঝোতা বা ভারতের ন্যায্য ভূমিকা না থাকলে এই ধোঁয়াশা যাবে না। এবং সেটা জনগণের কাছে স্পষ্ট হতে হবে। নাহলে কাগজে কলমে চিকিৎসায় বা বেড়াতে যাবার জন্য ভালো সম্পর্ক থাকলেও, খেলার মাঠ কিংবা রাজনীতিতে এবং সমাজে সম্পর্ক হবে সাপে-নেউলে। এটা কারো কাম্য না। বাড়িতে বাড়িতে ভারতীয় টিভির সিরিয়াল, ভারতীয় মুভি আর কথায় কথায় তাদের বিরুদ্ধাচারণের কারণগুলো খুঁজে বের করা কঠিন কিছু না। কিন্তু জানলেও তার সমাধান চাইনা আমরা। জিঁইয়ে রাখলে ভূমিদস্যুদের লাভ।  জিইয়ে রাখতে পারলে রাজনীতির লাভ।

অজয় দাশগুপ্তকলামিস্ট।

১৪ Responses -- “দিদির দাদাগিরি ও আমাদের সম্পর্ক”

  1. সুরুজ বাঙালি

    দিদির সাথে বিজেপির সম্পর্ক সাপে-নেউলে। আর পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী তিনি তিস্তা ইস্যুতে পানি না দিতেই চাইবেন। আর মোদীর বিজেপি পশ্চিমবঙ্গেতো ক্ষমতায় নাই তাই বাংলাদেশের জন্য তাদের এই আলগা পিরিতি। কারণ তিস্তার পানিতো দিতেই পারবেন না মোদী সুতরাং আলগা পিরিতি দেখিয়ে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক ঠিক রাখা। আবার তারা নিজে ক্ষমতায় গেলে মমতার চাইতে আরো খারাপ হবে।
    কিছুদিন আগে পশ্চিমবঙ্গের বিজেপি প্রধান দিলীপ ঘোষ পশ্চিম বঙ্গের মুসলমানদের উদ্দেশ্য করে বলেছেন পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতায় গেলে তারা ঘাড় ধাক্কা দিয়ে তাদের বের করে দিবেন।
    আসাম এ ৪০ লক্ষ মানুষ যারা মুসলিম তাদেরকে নাগরিকত্বে নিবন্ধন না করে বাংলাদেশী বানানোর যে অপচেষ্টা আসাম রাজ্যের ক্ষমতাসীন বিজেপি করছে তার বিরুদ্ধে অনেক সুপ্ত হিন্দু মৌলবাদী বুদ্ধিজীবীরা নিশ্চুপ।
    আর ভারতের অনেক রাজ্যে গো রক্ষার নাম মুসলমানদের মুসলিম হত্যা বা ঈদুল আজহা উৎসব পালনে বাধা দেয়া , বিজেপির মত সাম্প্রদায়িক দলের পক্ষে যারা লিখে, তারা যখন বাংলাদেশের মানুষকে অসাম্প্রদায়িকতার বাণী শুনায় তাদের মত মুক্তমনা মুখোশের আড়ালে লুকানো হিন্দু মৌলবাদী বুদ্ধিজীবীদের লেখা গণমাধ্যমে প্রচার করা একটি মারাত্মক ভুল।

    Reply
  2. শুভ্র

    আমার মনে হয় এখন আমাদের এটা ভাবা উচিত যে, দুটি দেশের মধ্যে কোন চুক্তি হওয়ার সময় যদি কোন দেশ বলে যে, চুক্তিটি করার জন্য আমাদের রাজ্য সরকারের অনুমতি নিতে হবে তবে সে দেশের সাথে আমাদের কোন চুক্তি করার সময় বলতে হবে যে, প্রকল্পটি করার জন্য আমাদের জেলা প্রশাসক বা জেলার অধিবাসিদের অনুমতি নিতে হবে। এরকম কোন দেশ করলে ভবিষ্যতে কোন চুক্তি করার সময় কেন্দ্রীয় সরকারকে বাদ দিয়ে রাজ্য সরকারের সাথে চুক্তি করা যায় কিনা তাও ভাবতে হবে। কেন্দ্রীয় এবং রাজ্য সরকারের নাটকের দর্শক হওয়াটা বাংলাদেশের জন্য সময়ের অপচয় বৈকি। ভারতের সাথে বাংলাদেশ পারস্পরিক সহযোগীতার ভিত্তিতে অনেক অনেক কাজ করতে পারে। দু পক্ষেরই লাভ এরকম প্রকল্প নেহাতই কম নয়। তবে কেউ যদি নিজের নাক কেটে অপরের যাত্রা ভঙ্গে অধিক আনন্দ পায় তবে তাকে রুখে কে? মমতা দিদির আন্চলিক রাজনীতির ধারাটা আন্তর্জাতিক মানদন্ড পরিপন্থী হলেও তার রাজ্যপ্রেম কিন্তু বেশ দেখার মতো।

    Reply
  3. Nibedita Dey

    Sanjoyda, everybody know about Momota. She is a cheap and double faced politician. West Bengal is now ‘Bangla’. It is her /their choice. She could select better name for the West Bengal. But some peoples like “Bangla”. It is cheap and available in everywhere, even west side of the border.

    Reply
  4. সরকার জাবেদ ইকবাল

    আস্ফালন করে কোন লাভ নেই। যতদিন না অভিন্ন রাজনৈতিক স্বার্থ বা পরস্পর সম্পূরক শর্ত নির্ধারিত হচ্ছে ততদিন পর্যন্ত দিদির ভালবাসা পাওয়া যাবে না।

    Reply
  5. salim

    বাংলাদেশের মানুষের মনে ভারতবিরোধী মনোভাব তৈরীর জন্য ভারতই শতভাগ দায়ী। তাদের দাদাগীরী আর মোড়লীপনা এবং অপদখলীয় মনোভাব মানুষের মনে ভীতির তৈরী করছে। যেমন ধরুণ সিকিম একটা স্বাধীন রাষ্ট্র। এ স্বাধীন দেশটাকে ভারত কিভাবে গ্রাস করে নিলো।
    বাংলাদেেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে ভারতের উপকারের কথা আর পাকিস্তানীদের জুলুম নির্যাতনের কথা দেশের মানুষ ভুলে যায় কিভাবে? এটা আমার বুঝে আসছে না। একবার এশিয়া কাপ ক্রিকেট টুর্ণামেন্টে ভারত ও পাকিস্তান খেলার সময় মিরপুর ক্রিকেট স্টেডিয়ামে দেখা গেলো পাকিস্তানের কোনো খেলোয়া ছক্কা মারলে গ্যালারীর ৯০ শতাংশই উচ্ছাস প্রকাশ করছে। একইভাবে ভারতের কোনো খেলোয়াড় আউট হলেও একই দৃশ্য। এ নিয়ে অবশ্য ওই সময় বেশ কয়েকটি রিপোর্টও হয়েছে। এ জন্য অবশ্য রিপোর্ট ও কলামগুলোতে ভারতের মোড়লীপনাকেই দায়ী করা হয়েছে। মানুষ কম খেতে রাজি আছে তবুও কারো দাদাগীরী আর মোড়লীপনা মেনে নিতে রাজি নয়।
    কাজেই বাংলাদেশের মানুষের মন থেকে ভারতভীতি বা ভারতবিরোধীতা দূর করার দায়িত্ব ভারতকেই নিতে হবে। বাংলাদেশের মানুষকে আস্থায় নিয়ে ন্যায্য হিস্যা প্রদান করে বাংলাদেশী মানুষের ভালোবাসা জয় করা সম্ভব।

    Reply
    • সরকার জাবেদ ইকবাল

      তবে ঐ ঘটনাটিও মনে রাখা দরকার, – চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে আমাদেরকে ব্যঙ্গ করে নমস্কার জানানোর জন্য পাকিস্তানী বোলার ইকবাল কাসিমের হাত ভেঙ্গে দেয়া হয়েছিল (ওরা এদেশের মুসলমানদেরকে হিন্দু বলেই জ্ঞান করে)।

      Reply
      • সরকার জাবেদ ইকবাল

        Very much intelligent question! That is the strangeness in Bangalee character. Though we experienced that 24 years of Pakistani rule did not ensure our rights, rather, we had been exploited in all meanings which proved that religion based bond doesn’t work. Still, somewhere there is a crave for religion based bondage! But, we need to keep in mind that, we are neither ‘Indian Hindu’ nor the ‘Pakistani Muslim’; we are ‘Bangladeshi Bangalee and other language-group people’ and that should be spirit.

  6. আকাশ

    আপনার বিশ্লেষণধর্মী লেখার জন্য ধন্যবাদ দাদা। আপনার লেখায় যুক্তি থাকে । তাই বেশ মনযোগ দিয়েই পড়ি ভালো লাগে পড়তে। যদিও অধিকাংশ লেখাই বেশ একপেশে মনে হয়।
    ভারত আমাদের কি দিলো তা বড় কথা নয়। আমরা যা দিয়েছি তা তারা আজীবন মনে রাখবে। এটা আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীও বলেছেন। ভারত এ পর্যন্ত আমাদের শুধু নয় প্রতিবেশী কাউকেই তার ন্যায্য হিস্যা দেয়নি। উল্টো সিকিমের মতো একটি স্বাধীন দেশ আস্ত গিলে খেয়ে ফেলেছে।
    ভারত কিছু না দিলেও আমাদের তাদের প্রতি কৃতজ্ঞ থাকতে হবে। ৭১ এ ভারত আমাদের বড় উপকার করেছে। ১ কোটি শরনার্থীকে আশ্রয় দিয়ে স্বাধীনতা যুদ্ধে সহযোগিতা করেছে। তানাহলে আজ আমরা হয়তো স্বাধীন নাও হতে পারতাম।

    Reply
    • শাহীন

      ভারত সহযোগীতা না করলে বাংলাদেশ কি স্বাধীন হত না? ভারত স্বার্থ ছাড়া আমাদের সাহায্য করেছে ভাবা ঠিক হবে না। বাংলাদেশ স্বাধীন না হলে বা দেরিতে স্বাধীন হলে ভারতের কি কি অসুবিধা হত
      ১) বাংলাদেশের সাথে ৪৫০০ কিলোমিটার বর্ডার নিয়ে এখনকার মত নিশ্চিন্তে ঘুমাতে পারতো না।
      ২) রাজস্বের একটা বড় অংশ বর্ডার ব্যবস্থায় ব্যয় হত।
      ৩) পাকিস্তান ভেঙ্গে দূর্বল হতো না যা ভারতের খুব দরকার।
      ৪) বাংলাদেশ তাদের একটা বড় বানিজ্য বাজারে পরিনত হোতো না।
      ৫) পুর্বাঞ্চলের স্বাধীনতা আন্দোলন ঠেকানো কষ্ট সাধ্য হত।

      Reply
  7. শামীম খান

    ধন্যবাদ দাদা ।
    মমতা ব্যানারজীর প্রতিটি কাজেই তার বাংলাদেশ বিরোধী মনোভাবটি ফুটে ওঠে । এব্যাপারে ‘দিদি’ কোন রাখ-ঢাকেরও প্রয়োজন বোধ করেন না । পশ্চিম বঙ্গের কিছু অবাঙালী-আধাবাঙ্গালী মুসলিম ভোটের দিকেই দিদির নজর । শেখ হাসিনাকে মুখের উপর না বলে দিলে , বাংলাদেশের পানির অধিকার অস্বীকার করলে , মৌলবাদী বলে পরিচিত ঐ মহলটি বেজায় তুষ্ট হয় । তাদেরকে সন্তুষ্ট করতে পারলে পশ্চিম বঙ্গের সাতাশ ভাগ ভোট বিনা ক্লেশে নিজের বাক্সে পোরা যায় । এমন সস্তা সুযোগ হাতছাড়া করার মত নীতিবাদী মমতা কোন কালেই ছিলেন না ।
    ঝগড়া , মারামারি , গালিগালাজ আর খিস্তি খেঁউড় করে যার উত্থান সেই মমতা যে নীতির ধার ধারবেন না , সেটা জানা কথা । কিন্তু দুঃখ হয় তার পাশে কিছু মানুষের পদচারনা দেখে । সাহিত্য আর সংস্কৃতিতে এই মুখগুলো এরই মধ্যে আমাদের মনে কিছুটা হলেও ছায়া তৈরি করেছিলেন। সাহিত্য-সংস্কৃতির এই লোকগুলো আমাদের ন্যায্য দাবীর ব্যাপারে এতটা অন্ধ হতে পারবেন জানাছিল না । কি নির্লজ্জভাবেই না তারা মমতার স্তুতি করেন।
    মমতার এই ‘শুভকামনা’ মোটেই শুভকামনা নয় । মুখে একবার শেখ হাসিনার বিজয়ের আশা প্রকাশ করলেও অন্তরে তিনি হাজারো বার তার দলের বিজয় আশা করবেন যিনি ভারতে যেয়ে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর সামনে আমাদের পানির দাবীটিই ভুলে যান । তাছাড়া ভারতীয় রাজনৈতিকদের সমর্থন আমাদের নির্বাচনে বিগত সময়ে নেতিবাচক হিসাবেই বিবেচিত হতো । এটা অতীত বলছি এ কারনে যে, মমতাকে বাংলাদেশের সবাই চেনেন । তার বঙ্কিম স্বভাবের প্রশংসা এদেশে খুব কমই শোনা যায় । তাছাড়া জাতি এখন অনেক বেশি শিক্ষিত । অনেক বেশি সচেতন । আগের সেই কথায় কথায় ভারত বিরোধিতা এদেশের শিক্ষিত মানুষের মধ্যে আর নেই বললেই চলে ।
    আমার কথার প্রমান দেখুন বি এন পির প্রতিক্রিয়া । মমতার কথায় কিছু লাভের আশা থাকলে বি এন পি প্রবল বিক্রমে লাফ-ঝাঁপ শুরু করে দিতো । তারা মমতার আশীর্বাদ ( ?? ) শুনেও চুপটি বসে আছে । কারণ তারও বুঝে গেছে , কথায় কথায় ভারত বিরোধিতার অস্ত্র ধার খুইয়েছে অনেক আগে ।

    Reply
  8. Mute Spectator

    তিস্তা সম্পর্কে মিজ ব্যানার্জী বহু আগেই তাঁর অবস্থান পরিস্কার করেছেন। তিনি তিস্তার পানি দেবেন না, ছোটছোট খালের মত দু’একটি নদী থেকে পানি দেয়া যায় কিনা এ ব্যাপারে যৌথ সমীক্ষার জন্য বাংলাদেশকে প্রস্তাব দিয়েছেন বহু আগেই। আপনি বুঝি তা জানেন না? তাহলেতো এই কলামটি লেখা আপনার উচিৎ হয় নাই।

    উনি ততটুকুন ধর্ম নিরেপক্ষ যতটুকুন থাকলে সিপিএম আর কংগ্রেসের ভোটাররা ঘাসফুলে ভোট দেবে, আবার পঃ বঙ্গের মুসলিমরা মৌলবাদী হয়ে সিপিএম আর কংগ্রেসের বিরুদ্ধেক গিয়ে তাঁকে ভোট দেবে।
    আপনার ধারণা মমতা বাংলাদেশের প্রেমে হাবুডুবু খাচ্ছেন এবং এর তরক্কিতে জান
    কোরবান করবেন।
    যতক্ষন বাংলাদেশের মানুষের মানুষ উন্মাদের মত কলকাতায় নানা অজুহাতে দুহাতে
    টাকা খরচ করবে ততক্ষন তিনি আমাদের বন্ধু। তিস্তার পানি না দিলেও যদি তা পেয়ে যান তবে পানি দেবেন কেন?

    Reply
  9. সঞ্জয় কুমার দত্ত

    শ্রদ্ধেয় কলামিস্ট অজয় দাশগুপ্তের লেখা বরাবরই আকর্ষণ করে। এই লেখাতেও বেশ কয়েকটি বিষয় আমার ভালো লেগেছে।
    ১) বুঝিনা যেটা সেটা হচ্ছে, কী কারণে ভারত বিরোধিতা আর সাম্প্রদায়িকতা সমার্থক?
    ২) সমাজে এখনো বদ্ধমূল ধারনা আওয়ামী লীগ ভারতকে সব দিয়ে দেয়। আর এই ধারনার ভুক্তভোগী নিরীহ সংখ্যালঘু আর কিছু উদারমনা মুসলিম জনগোষ্ঠী। যারা মূলত ভারতের কোনও আনুকূল্য পায় না। ব্যবসা আনুকূল্য যারা লাভ করে তাদের অন্তরেই ভারত বিরোধিতা প্রকট।
    এই লাইন দুইটির কারণে লেখাটি অনেক সমৃদ্ধশালি হয়েছে। এখানে আরও অনেক বিষয়ের উপর আলোকপাত করেছেন। কিন্তু ‘পশ্চিমবঙ্গের নাম পরিবর্তন করে বাংলা” করা হচ্ছে, এই বিষয়টি অনুপস্থিত। সেটা থাকলে পরিপূর্ণতা লাভ করত, এটা আমার নিজস্ব মতামত।

    Reply

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। প্রতিক্রিয়া লেখার সময় লক্ষ্য রাখুন--

  • ১. স্বনামে বাংলায় প্রতিক্রিয়া লিখুন।
  • ২. ইংরেজিতে প্রতিক্রিয়া বা রোমান হরফে লেখা বাংলা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না।
  • ৩. প্রতিক্রিয়ায় ব্যক্তিগত আক্রমণ গৃহীত হবে না।

দরকারি ঘর গুলো চিহ্নিত করা হয়েছে—