তিনি জন্মেছিলেন স্বাধীন বাংলাদেশে— মুক্তিযুদ্ধের পরের বছরই (১২ সেপ্টেম্বর, ১৯৭২) তাঁর জন্ম। মাত্র বিয়াল্লিশ বছর বয়সে (২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৫) তাঁর ক্ষত-বিক্ষত শবদেহটি ঘিরে যখন জ্বলে উঠেছিল প্রতিবাদের মোমবাতি, আমরা জেনেছিলাম— মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশে প্রতিদিন নিহত হচ্ছে অযুত প্রশ্নবোধক চিহ্ন এবং মাটি-চাপা দেয়া হচ্ছে দ্বিতীয় বিদ্যার যাবতীয় পাঠ্যসূচি।

১৯৯৯ সালের ১৮ জানুয়ারি কবি শামসুর রাহমানকে হত্যার চেষ্টা থেকে চলতি বছরের ১১ জুন প্রকাশক শাহজাহান বাচ্চু হত্যাকাণ্ডের যে মৌলবাদী অপরাজনীতি বাংলাদেশে বিরাজ করছে, তার শিকার হয়েছিলেন অভিজিৎ রায়। এই অপরাজনীতির বিরুদ্ধে মুক্তচিন্তা ও অসাম্প্রদায়িক রাজনীতির যে লড়াই তা আজও চলমান, তার এক উজ্জ্বল সহযোদ্ধা তিনি। সুতরাং অভিজিৎ রায়ের শবযাত্রার গন্তব্য যা-ই হোক তাঁর চিন্তার প্রতিভা জাতির মুক্তচিন্তার মানসকাঠামো নির্মাণের নির্বিকল্প অংশ। আর এটা আরও টের পাই যখন তাঁর গ্রন্থের ওপর চলে অলিখিত নিষেধাজ্ঞা বা তাঁকে সসম্ভ্রমে পাশ কাটিয়ে চলাটাই নিরাপদ মনে করে রাষ্ট্র ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠান।

জীবনানন্দ তাঁর একটি কবিতায় লিখেছেন— ‘এখন অপর আলো পৃথিবীতে জ্বলে’। সৃষ্টিশীল ও গবেষণাধর্মী অভিসন্দর্ভ যদি আলোর আকর হয়, তবে অভিজিৎ রায় কাজ করেছিলেন এই ‘অপর আলো’র কারুকার্য নিয়ে। তিনি খুঁজে ফিরেছিলেন একটি ‘অপর ভাষা’— সেটা সাহিত্যের ভাষা নয়, তবে চিন্তা-পদ্ধতির ভাষা। এখানেই অভিজিৎ রায় তাঁর সম-সাময়িক সৃষ্টিশীল মানুষদের সঙ্গে বন্ধনীভুক্ত হয়েও খানিকটা তফাতের। তাঁর নাতিদীর্ঘ জীবনের কর্মপ্রয়াস গভীর, অবিচল কিন্তু ব্যঞ্জনাময়। ২০০১ সালে তিনি যখন তাঁর চিন্তার সহযোদ্ধাদের নিয়ে ‘মুক্তমনা’ ওয়েবসাইটটি তৈরি করেন, তখনও বাংলা ব্লগ ধারণাটি অতো সুপরিচিত ছিলো না। ‘মুক্তমনা’য় তখন থেকেই অভিজিৎ রায় ও তাঁর সহযোদ্ধারা একটি সুপরিকল্পিত লক্ষ্যকে সামনে রেখে কাজ করতে থাকেন। আমাদের মেনে ও মানিয়ে নেয়া চিন্তার বদ্ধ জলাশয়ে ‘মুক্তমনা’ বারবার প্রশ্ন করতে শেখার তাগিদ তৈরি করেছিল। আমরা বলতে বোঝাচ্ছি, সে সময়ে যারা স্কুলে পড়তাম এবং কালেভদ্রে ইন্টারনেট ব্যবহারের সুযোগ পেতাম।

২০০৪ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি বইমেলা থেকে ফেরার পথে মৌলবাদীদের চাপাতির আঘাতে আহত হয়েছিলেন প্রথাবিরোধী ও বহুমাত্রিক লেখক হুমায়ুন আজাদ। সে সময়ের গণমাধ্যমে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে এই খবর ছাপা হয়েছিল, ছাপা হয়েছিল শিক্ষার্থীসহ সর্বস্তরের মানুষের প্রতিবাদের খবর। কিন্তু আজ তো একথায় একমত হতে কারও দ্বিধা থাকার অবকাশ নেই যে, গণমাধ্যম তার গঠন ও তার কাছে মানুষের প্রত্যাশার কারণেই দীর্ঘ গভীর কোনও নিবন্ধ লিখতে পারে না। সুতরাং হুমায়ুন আজাদের ওপর পাশবিক আক্রমণ ও সে নারকীয় ঘটনার প্রতিবাদের খবর আমরা মাধ্যমিকের শিক্ষার্থীরা খবরের কাগজে পড়ছিলাম। কিন্তু এর পেছনের রাজনীতিকে তলিয়ে দেখার সুযোগ আমাদের ছিল না। সেই সুযোগটি তৈরি করে দিয়েছিল ‘মুক্তমনা’। একের পর এক নিবন্ধ পিডিএফ আকারে ওয়েবসাইটে রাখা হতো এবং সেগুলো পড়তে পড়তে আমরা জেনেছিলাম— এটি কেবল একজন প্রথাবিরোধী লেখকের ওপর আক্রমণ নয়, এর সঙ্গে যোগাযোগ আছে বাংলাদেশের জন্ম-ইতিহাস এবং দর্শনগত লড়াই। তাই আজ এ কথা স্বীকার করতে আমাদের গর্ব হয় যে— সেদিন ‘মুক্তমনা’র ক্লাসরুমে আমাদের চৈতন্যের চক্ষুদান পর্ব সমাপ্ত হয়েছিল, স্যানফরাইজড মধ্যবিত্ত ও লুম্পেন শিল্পচর্চার বাইরে আমরা সৃষ্টিশীলতার আরেকটি দিক আবিষ্কার করেছিলাম।

নিজের লেখায় অভিজিৎ রায় যেহেতু শেষ পর্যন্ত ছিলেন আশাবাদী, শেষ পর্যন্ত ব্রুনোর মতোই তিনি সূর্যকে সাক্ষী রেখে নিজের বৃদ্ধাঙ্গুলির ছাপ যুক্তির সিলমোহরে প্রত্যায়িত করেছিলেন— সেহেতু আমরা পাঠক হিসেবে তাঁর গ্রন্থগুলোকেই ধরে নিতে পারি আশাবাদের সাঁকো। আলো হাতে চলিয়াছে আঁধারের যাত্রী তাই আমাদের বিবেচনায় কেবল মহাবিশ্বের সৃষ্টিতত্ত্ব সম্বন্ধীয় একটি বই-ই নয়, এটি অভিজিৎ রায়ের আত্মজীবনীরও শিরোনাম।

লেখক ফরিদ আহমেদের সঙ্গে যৌথভাবে লেখা মহাবিশ্বে প্রাণ ও বুদ্ধিমত্তার খোঁজে বইটি প্রকাশিত হয়েছিলো ২০০৭ সালে। এই বইটির বিজ্ঞান-বিষয়ক তত্ত্ব সন্নিবেশ নিয়ে কথা বলার যোগ্যতা আমার নেই কিন্তু যে অসামান্য পরিশ্রমে লেখকদ্বয় বৈজ্ঞানিক নানা শব্দের বাংলা পরিভাষা ব্যবহার করেছেন— তা তুলনারহিত। হায়! সূর্য আমাদের আড়ালে দাঁড়িয়েছিল আলো হাতে অপেক্ষারত, আমরা দাঁড়িয়ে রইলাম অন্ধকারে নিজেদের স্বভাবদোষে।

বৈজ্ঞানিক ও সমাজ-মনস্তাত্ত্বিক দৃষ্টিকোণ থেকে লেখা অভিজিৎ রায়ের আরেকটি বই সমকামিতা। ২০১০ সালে বইটি প্রকাশ করেছিল ‘শুদ্ধস্বর’। আমার জানা মতে, বিজ্ঞান ও সমাজ-মনস্তত্ত্বের দৃষ্টিকোণ থেকে সমকামিতার ওপর এটিই সম্ভবত বাংলায় লেখা প্রথম বই। এ বইটিতে অভিজিৎ রায় যেভাবে একটি ধারণাকে ভেঙেছেন, প্রচলিত ও বৈজ্ঞানিক প্রেক্ষাপটে তার বিচার করেছেন, তা পাঠকের সামনে চিন্তার একটি জগৎ প্রতিষ্ঠা করে। এই মাত্র ক’দিন আগে সমকামিতাকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিশেবে বর্ণনা করা ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩৭৭ ধারা বাতিল করে দেশটির সর্বোচ্চ আদালতের দেয়া ঐতিহাসিক রায় ঘোষিত হয়েছে। প্রকাশের আট বছর পর আমাদের বোধগম্য হলো কেন সমকামিতা গ্রন্থের উৎসর্গপত্রে অভিজিৎ রায় দান্তের ডিভাইন কমিডিতে বর্ণিত নরকের প্রবেশদ্বারের উৎকীর্ণ পদাবলী তুলে ধরেছিলেন এবং বাক্যটি দীর্ঘ করেছিলেন কার্ল মার্কসের প্রসঙ্গ এনে।

২০১১ সালে লেখক রায়হান আবীরকে (২০১৪ সালে ক্যান-ফিকো পুরস্কারপ্রাপ্ত) সাথে নিয়ে অভিজিৎ রায় লেখেন অবিশ্বাসের দর্শন বইটি। দর্শনগত ধারণাকে প্রশ্নের পাথরে যাচাই করে পুরো বইটি এগিয়ে নেয়া হয়েছে। যাঁরা বইটি পড়েছেন, তাঁরা নিঃসন্দেহে চমৎকৃত হবেন বইটির বিষয়বস্তু এগিয়ে নেবার অভিনব পদ্ধতিগুলো লক্ষ্য করে।

২০১২ সালের বইমেলার শেষদিকে বের হয় তাঁর আরেকটি বই ভালবাসা কারে কয়। এখানেও তাঁর বিজ্ঞানভিত্তিক চোখ সজাগ, তিনি নির্মোহ যৌক্তিক চোখে বিজ্ঞানের ধারাবাহিকতায় বর্ণনা করেছেন ভালোবাসার অপার্থিব বিস্ময়কে।

তাঁর সর্বশেষ বইটি প্রকাশিত হয় ২০১৫ সালে, একেবারেই ভিন্ন একটি বিষয়ে। ভিক্টোরিয়া ওকাম্পো: এক রবি-বিদেশিনীর খোঁজে বইটিতে আমরা যে অভিজিৎ রায়কে পাই, তিনি ঘড়ির বয়ষ্ক কারিগরের মতোই খুঁজে বের করেন রবীন্দ্রনাথের হূদয়জ অলিগলি— তবে ভিন্ন আঙ্গিকে। বলা ভালো, ওকাম্পো ও রবীন্দ্রনাথকে নিয়ে বাংলায় বহুল পঠিত দুটো বই— শঙ্খ ঘোষের ওকাম্পোর রবীন্দ্রনাথ (১৯৭৩) এবং কেতকী কুশারী ডাইসনের রবীন্দ্রনাথ ও ভিক্টোরিয়া ওকাম্পোর সন্ধানে (১৯৮৫)— বিবেচনায় নিয়েও অভিজিৎ রায়কে তাঁর ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গির জন্য একটি স্বতন্ত্র অবস্থানে রাখা যায়। রবীন্দ্রনাথকে নয়; ভিক্টোরিয়া ওকাম্পোকে প্রসঙ্গ কাঠামোতে রেখেই অভিজিৎ রায় এই অনন্য সম্পর্কের সমীকরণ খুঁজেছেন— বর্তমান লেখকের এই যুক্তি নির্মোহ এবং অবশ্যই প্রমাণসাপেক্ষ।

অভিজিৎ রায় খুব বেশি লিখে যেতে পারেননি। তাঁর সৃজনযাত্রায় রক্তাক্ত ছেদচিহ্ন আমাদের যে ক্ষতি করেছে, তা অপূরণীয়। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থগুলোর মধ্যে বিশ্বাসের ভাইরাস বইটির কথা আমার বারবার মনে পড়ে। ধর্মান্ধতায় ক্ষত-বিক্ষত বাংলাদেশের এক্স-রে প্লেটটি তিনি আমাদের হাতে তুলে দিয়েছিলেন ২০১৪ সালের অমর একুশে গ্রন্থমেলায়। এর এক বছর পরই তাঁকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। বইটিও এখন আর বইমেলাতে পাওয়া যায়না। অর্থাৎ মৌলবাদের গভীর অসুখে আক্রান্ত বাংলাদেশের চিকিৎসা আপাতত বন্ধ আছে। ক্ষত ক্রমশ ছড়িয়ে পড়ছে।

আমরা যাকে বলি সৃষ্টিশীলতা, তার খোঁজে কোনো সৃষ্টিশীল মানুষের মুখোমুখি হলে আসলে আমরা তাঁর সৃষ্টির সঙ্গেই সংলাপ নির্মাণ করি। অভিজিৎ রায়ের ব্লগপোস্টগুলোর কিছু কিছু বই আকারে বের হলেও অনেকটা অংশই এখনও রয়ে গেছে ব্লগে— হয়তো এটাই বাঞ্ছনীয়। সুতরাং অভিজিৎ রায়কে সামগ্রিক জানতে হলে সেই পোস্টগুলোও গুরুত্বপূর্ণ। এই ব্লগপোস্টগুলো আমার বিবেচনায় এ কারণেই এতো গুরুত্বপূর্ণ যে— আমাদের নাতিশীতোষ্ণ, নরম, লিরিক্যাল, অনপরাযুক্ত, নিখুঁত ও নিয়মানুগ চিন্তা প্রক্রিয়ায় এই ব্লগপোস্টগুলো প্রবর্তন করেছে নানা ক্র্যাক, প্রশ্ন-যুক্তি ও বিজ্ঞানমনষ্কতা ঢুকে পড়েছে তার মধ্য দিয়ে। এখানেই তিনি বর্তমান, তিনি সার্থক।

বিন্দুতে বিন্দুতে তাঁর দর্শনের জ্বলে উঠাই নির্মাণ করে অভিজিৎ সঞ্চারপথ। সে সঞ্চারপথে একদিন বাংলাদেশ হাঁটবেই। সে পর্যন্ত তাঁর বইগুলো থাকুক আমাদের সামনে, বইয়ের বক্তব্যগুলো থাকুক আমাদের মগজে।

মারুফ রসূললেখক ও গণজাগরণ মঞ্চের কর্মী।

২৭ Responses -- “মনীষার আলো: অভিজিৎ ভাবনা”

  1. Akash Malik

    @ সরকার জাবেদ ইকবাল।

    ” নাউজুবিল্লাহ্‌। আল্লাহ্‌ পৃথিবীর সব মানূষকে হেদায়েত নসীব করুন। আমীন “।

    পৃথিবীর সব মানুষকে হেদায়েত করে আল্লাহ দোজখের দোয়ারে তালা মেরে দিবেন বলে মনে হয়না। দোজখের আগুন জ্বলবে কী দিয়ে? সুতরাং আপনার প্রার্থনা যে কবুল হবেনা তা ১০০% গ্যারান্টিড।

    Reply
    • সরকার জাবেদ ইকবাল

      ঐ যে বললাম! “ইয়ে সামঝানেকা বাত নেহি হ্যায়, ইয়ে সামাঝনেকা বাত হ্যায়।” আপনার উপলব্ধিতে তা না এলে তারজন্য আমার আফসোস করা ছাড়া আর কিছু করার নেই। তবে আপনাকে একটা ঘটনার কথা বলতে পারি। আমার এক নিকট আত্মীয় (দেশের একজন প্রথিতযশা সাংবাদিক) যার ধর্মে বিশ্বাস ছিল না তিনি মৃত্যুকালে আমার হাত ধরে বলেছিলেন, “জাবেদ, আমার জন্য দোয়া ক’রো, আল্লাহ্‌ যেন আমাকে মাফ করে দেন।” কি বুঝলেন?

      আমার ধারণা আপনি কুরআন পড়েননি। পড়লে আপনার অনেক ভুল ধারণা ভেঙ্গে যেতো। আবারও বলছি, আল্লাহ্‌ পৃথিবীর সব মানূষকে হেদায়েত নসীব করুন। আমীন।

      Reply
  2. Salman

    আসলে অত্যন্ত জটিল এক মহাবিশ্বে বসবাস করি আমরা। যতই সময় যাচ্ছে মহাবিশ্ব সম্পর্কে মানুষের ধারনা পাল্টে যাচ্ছে মানুষের, এর সৃষ্টিগত জটিলতা মানুষের কাছে আরো স্পস্ট হচ্ছে । আর ধর্ম , ইশ্বর, আল্লাহর সাথে মানুষের সম্পর্ক মানব সভ্যতা বিকাশের একেবারে শুরু থেকে। শুধু বিজ্ঞানের নানান আবিষ্কারে মুগ্ধ হয়ে আল্লাহকে সম্পুর্ন অস্বীকার করা, যারা ধর্ম মেনে চলে তাদেরকে ‘ভাইরাসে আক্রান্ত’ মনে করাটা এক ধরনের বোকামী। ইসলাম ধর্ম বিয়ে, তালাক, সম্পত্তি বন্টন, নারীর অধিকারসহ বহু সামাজিক আর পারিবারিক আইনের উৎস ১৪০০ বছর আগে থেকেই। ধর্মের এসব ভূমিকাকে আমরা অনেকেই জানি না বা জানতে চাই না । আসলে গভীর আর সুস্থ্য ধারার চিন্তা – ভাবনা পাল্টে দিতে পারে আমাদেরকে চিন্তার জগতকে।

    Reply
  3. কাজী মাহবুব হাসান

    লেখককে ধন্যবাদ অভিজিৎ রায়ের জন্মদিন স্মরণে চমৎকার এই লেখাটির জন্যে। তাকে শ্রদ্ধা জানানো এই লেখায় অপ্রাসঙ্গিক বিষয়পূর্ণ মন্তব্যগুলো এখনও তার প্রাসঙ্গিকতা প্রমাণ করে দেয় । বলা হয় দস্তয়েভস্কি তার লেখার উত্তরাধিকার প্রশ্নে বলেছিলেন, আমরা সবাই গোগোলের ওভারকোট থেকে এসেছি.. আর আজ আমরা যারা বিজ্ঞান দর্শন সমাজ সংক্রান্ত মৌলিক বিষয়গুলো নিয়ে লিখছি, তারা প্রত্যক্ষ কিংবা পরোক্ষভাবেই অভিজিৎ রায়ের কাছেই ঋণী। আমাদের সমাজ কৌতুহলী পলিম্যাথদের ব্যপারে সদয় না, কারণ বুদ্ধিবৃত্তিক অলসতা আমাদের সামাজিক বৈশিষ্ট্য, অভিজিৎ সেটাকে চ্যালেঞ্জ করেছিলেন। হাফিজের সেই কবিতার মত, ক্ষুদ্র মানুষরা সবার জন্য খাঁচা তৈরী করে, আর সেটা সে জানে, আর যে প্রাজ্ঞ, তিনি সেই খাঁচায় বন্দী অপার সম্ভাবনাময় দিকভ্রান্ত মানুষগুলোর জন্যে গোপনে সারারাত ধরে চাবি ফেলে যেতে থাকেন। অভিজিৎ অনেকের জন্যেই চাবি ফেলে গেছেন, আর কেউ কেউ সেটা খুঁজে পেয়েছেন, আর কেউ কেউ সেটি পাবেন। তার আশাবাদ তার নামের মতই অজেয় হয়ে থাকবে। স্পষ্টতই তার মৃত্যু যে শুন্যস্থান সৃষ্টি করেছে তা কোনদিনও কেউ পূরণ করতে পারবেনা, তবে অন্ধকার কূপমুন্ডক পৃথিবীর একটি বিকল্প সৃষ্টিতে আজ আমরা অনেকেই তার স্মৃতির কাছে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আর আমাদের পুর্বপুরুষরা যারা প্রজন্মের পর প্রজন্ম যে হিংস্র মতবাদ নীরিহ শিশুদের মনে গেথে চলেছে অন্ধ বিশ্বাসে, মানবিক নৈতিকতার মানদণ্ডে আজ সেটি পুরো মানবজাতির ব্যর্থতা, আজ তারা আয়নায় তাদের নিজেদের নির্লজ্জ মুখ দেখুক।

    Reply
  4. Cornell Macbeth

    ১. নাস্তিকরা ‘ঈশ্বর’ কিংবা ‘ধর্ম’-কে অবিশ্বাস করে অথচ কেন তারা ‘ঈশ্বর’ কিংবা ‘ধর্ম’-কে অপছন্দ বা ঘৃনা করে তার কোন সঠিক উত্তর নাই।
    ২. নাস্তিকরা ‘ধর্মীয় বই’ গুলো বেছে বেছে অতি আগ্রহের সাথে পড়ে যদিও ঐ বই গুলোর বক্তব্য তাদের কাছে নিতান্ত অসাড় এবং হাস্যকর।
    ৩. নাস্তিকরা মানুষের স্বাধীন ইচ্ছা-অনিচ্ছার প্রতি যথেষ্ঠ শ্রদ্ধাশীল– এই মানুষ হতে পারে সাধু অথবা ঠগ, এতে কিছু যায় আসে না।
    ৪. নাস্তিকরা বিশ্বাস করে পৃথিবীজুরে যত ‘বান্দর’ আছে এরা সবাই তাদের পূর্বপুরুষ কিন্তু ‘বান্দরকে’ মোটেও সন্মান করে না।
    ৫. নাস্তিকরা বহুগামিতা, সমকামিতা, নগ্নতা এবং গর্ভপাতকে মানুষের মৌলিক অধিকারভূক্ত বলে বিশ্বাস করে।

    Reply
    • সরকার জাবেদ ইকবাল

      এটা এক ধরনের পলায়নবাদিতা যার মাধ্যমে সামাজিক সকল প্রকার রীতিনীতিকে অস্বীকার করা যায় এবং লাগামহীন স্বেচ্ছাচারিতায় নিজেকে লিপ্ত করা যায়। অথচ, মানুষ সামাজিক জীব!

      Reply
  5. খালেদ

    মানবিক রাষ্ট্র সেটিই যেখানে অবিশ্বাসীরাও তাদের অবিশ্বাসের কথা বলতে পারবেন। অভিজিৎ রায়ের সাথে অনেকেই একমত নাও হতে পারেন কিন্তু তার মত প্রকাশের রাস্তাটি খোলা না থাকলে সমাজ এগোবে কীভবে? রাষ্ট্র শুধু বিশ্বাসীদের নয়, অবিশ্বাসীদেরও- এ কথাটি সবার মনে রাখা জরুরী।

    Reply
  6. Akash Malik

    অভিজিতের জন্ম তারিখ ১২ সেপ্টেম্বর ১৯৭১ বলে জানি, লেখককে তথ্যটা চেক করার অনুরুধ রইলো।

    Reply
  7. Akash Malik

    Akash Malik
    1 min ·

    আমি নাস্তিক। কিন্তু আমার
    আশে পাশের বহু কাছের মানুষজন বন্ধু
    বান্ধবই মুসলিম। তাদের উপর আমার কোন
    রাগ নেই, নেই কোন ঘৃণা। তাদের
    আনন্দের দিনে আমিও আনন্দিত হই।
    তাদের উপর নিপীড়ন হলে আমিও
    বেদনার্ত হই।
    প্যালেস্টাইনে বা কাশ্মীরে মুসলিম
    জনগোষ্ঠীর উপর অত্যাচার হলে তাদের
    পাশে দাঁড়াতে কার্পণ্য বোধ করি না।
    অতীতেও দাঁড়িয়েছি, ভবিষ্যতেও
    দাঁড়াবো। এটাই আমার মানবতার
    শিক্ষা।
    – অভিজিৎ রায়।

    Reply
    • মারুফ রসূল

      গতকাল অভিজিৎ রায়ের ব্যক্তিগত ওয়েবসাইটটি প্রকাশ হবার আগ অব্দি আমার কাছে তাঁর জন্মসালের বিষয়ে একমাত্র সূত্র ছিলো ইন্টারনেট (বিশেষত উইকিপিডি), কেননা তাঁর গ্রন্থগুলোতে জন্মসাল নেই। ইন্টারনেটের প্রতিটি সূত্রে ১৯৭২ থাকায় আমি সেটিই লেখায় উল্লেখ করেছিলাম। গতরাতে তাঁর ব্যক্তিগত ওয়েবসাইটে জন্মসাল দেখেছি ১৯৭১। আমি দুঃখিত সে জন্য। এ ভুলের দায় আমি মাথা পেতে নিচ্ছি এবং ক্ষমা প্রার্থনা করছি।

      Reply
  8. Akash Malik

    চমৎকার একটি লেখা পড়লাম। অভিজিৎরা মরে না অভিজিৎ বেঁচে থাকবেন জগতের মুক্তমনা মানুষের মনে মানসে অনন্তকাল।

    Reply
  9. আসমা সুলতানা

    আলোর পথে বাংলাদেশ হাঁটবে, কি হাঁটবে না, সেটা বাংলাদেশের উপর নির্ভর করে, তবে কাজ আমাদের করে যেতে হবে। আমাদের আলো হাতে চলতেই হবে । “শুভজন্মদিন অভিজিৎ দা”।
    লেখক কে শুভকামনা।

    Reply
  10. লতিফ

    যে ‘বিশ্বাসের ভাইরাস’-এ আক্রান্ত ভেবে অভিজিৎ রায় অন্যদের উপরে আক্রমন চালিয়েছেন, সেই বিশ্বাসের বড় ভাইরাসে তিনি নিজেই আক্রান্ত ছিলেন। মানুষ আসলে নিজের ভাইরাসটা দেখতে পায় না। ‘মৌলবাদ’ নামক এক শব্দের আড়ালে তিনি ধার্মিক ও ধর্মব্যবসায়ী― দুই প্রজাতির মানুষকে একত্রে বিচার করেছেন এবং ক্রমাগতভাবে ধার্মিক মানুষদের আক্রমন করে গেছেন, বিস্ময়করভাবে ধর্মব্যবসায়ীদের ব্যাপারে নিরব থেকে। ধর্মবিশ্বাসকে ফালতু বিশ্বাস বলে বিশ্বাস করেন, অথচ নিশ্চিন্তে বসবাস করার জন্য বেছে নিয়েছেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নামক দেশটিকে। ধর্মব্যবসার সবচে বড় দেশটির নাম যুক্তরাষ্ট্র, বিশ্বের দেশে দেশে ধর্মের নামে যত রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান আছে― সেটা বাংলাদেশে জামাত-শিবির হোক কি ভারতে আরএসএস, কি মিশরে ব্রাদারহুড― তাদের প্রধান পৃষ্ঠপোষক যুক্তরাষ্ট্র (এবং জাতিসংঘ)। এই ধর্মব্যবসায়ীদের বিচারের মুখোমুখি করা হলে সবচে আগে বিচলিত হয় তারা, তাদের বিচার বন্ধে হেন ব্যবস্থা নেই যা তারা নেয় না। জাতিসংঘ থেকে অ্যামনেস্টি কত প্রতিষ্ঠান তারা তৈরী রেখেছে তথাকথিত ‘মৌলবাদী’-দের বাঁচানোর জন্য। এই গোলকধাঁধাকে উন্মোচন না করে তিনি, হয়তো বা নিজের অজান্তে, জড়িয়ে পড়েন সেই ফাঁদে, যেখানে তাঁর মৃত্যুকে পুঁজি করে হাজির হয় যুক্তরাষ্ট্র। পুরানো বাংলা প্রবাদ মনে আছে আমাদের― সর্প হইয়া দংশন করে ওঝা হইয়া ঝারে। মার্কিনদের বেলায় এত সুন্দর জ্ঞানগর্ভ কথা যখন অভিজিৎ রায়রা বেমালুম হয়ে যান, তখন অবাক হতে হয়। মনে আছে নিশ্চয় আফগানিস্তান, পাকিস্তান, ইরাক, সিরিয়া, মিশরের কথা। যুক্তরাষ্ট্র সেখানে গিয়েছিল সেই রকমের ওঝা হয়ে। এফবিআই এখানেও এসেছিল এবং তাঁর স্ত্রী এবং পিতা উভয়ে সেই এফবিআই-এ আস্থা রেখেছিল বৈ কি। হায় বিশ্বাস! এটা অভিজিৎ রায়ের বর্ণিত বিশ্বাসের ভাইরাস যদি না হবে, তো তাকে কীভাবে ব্যাখ্যা করা যাবে?

    Reply
    • সরকার জাবেদ ইকবাল

      জনাব লতিফ, আমি আপনার সঙ্গে একমত পোষণ করছি। তার সঙ্গে এই কথাগুলো যোগ করতে চাই, –

      স্রষ্টা এবং ধর্মে বিশ্বাস সম্পর্কে একজন বিশিষ্ট ভারতীয় আলেম বলেছেন, “ইয়ে সামঝানেকা বাত নেহি হ্যায়, ইয়ে সামাঝনেকা বাত হ্যায়।” অর্থাৎ, বিশ্বাসের বিষয়টি ব্যক্তিগত উপলব্ধির বিষয়। এটা কেউ কাউকে উপলব্ধি করিয়ে দিতে পারে না। আফসোস, অভিজিতের সেই উপলব্ধি ছিল না। এরজন্য তাকে এককভাবে দায়ী করা যায় না। এটি বহুলাংশে নির্ভর করে পারিবারিক বিশ্বাস, পারিবারিক সংস্কৃতি, পরিবেশ-প্রতিবেশের উপর। অভিজিৎ হয়তোবা সে’রকম পরিবেশেই বড় হয়ে উঠেছেন যা তাকে সেই বিশ্বাস অর্জনে সহায়তা করেনি। তবে এরজন্য তাকে যে চরম মূল্য দিতে হয়েছে তা কখনই কাম্য নয়। আমার জানা মতে কোন ধর্মই এ ধরনের হত্যাকাণ্ডকে (বিচার-বহির্ভূত) সমর্থন করে না। মহান সৃষ্টিকর্তা আমাদের সবাইকে সেই উপলব্ধি অর্জনে সহায়তা করুন।

      Reply
      • Hasan Mahmud

        “ইয়ে সামঝানেকা বাত নেহি হ্যায়, ইয়ে সামাঝনেকা বাত হ্যায়।” অপূর্ব ! আমি অভির নেতৃত্বে মুক্তমনার প্রতিষ্ঠাতাদের একজন, আমাকে মুক্তমনার উপদেষ্টা করা হয়েছিল, আমাকে “সক্রেটিস অফ মুক্তমনা” বলা হতো। কখনো হয়তো বলে যাবো কখন কেন আমি মুক্তমনা থেকে বেরিয়ে এলাম, কি বিষয়ে অভির সাথে আমার চিন্তার সংঘাত হয়েছিল আর অভি আমাকে ব্লক করেছিল – মুক্তমনার সেই সময়ে অভি’র দর্শন ও চিন্তার অনেক দলিল আমার কাছে আছে, কখনো হয়তো বলে যাবো…..

      • সরকার জাবেদ ইকবাল

        আমাদের বিশ্বাসের ভিতকে মজবুত করার জন্য সেই কথাগুলো আমাদের জানা ভীষণ প্রয়োজন। দয়া করে লিখুন ডাব্লু ভাই। Please send me a blank email to introduce myself at sjiqbal.1957@gmail.com

      • Hasan Mahmud

        এই অন্ধ জাতিটাকে অভি যেভাবে ঝাঁকি দিয়ে আলোকের পথে এগিয়ে নিয়ে গেছে তার প্রভাব সর্বগ্রাসী। সময়ের বুকে অভি প্রস্তর স্বাক্ষরে তার পদচিহ্ন এঁকে গেছে – এটা জাতির অত্যন্ত দরকার ছিল। আমি বলতে চেয়েছি, প্রথম থেকে মুক্তমনাকে অনেক কিছুর ভেতর দিয়ে যেতে হয়েছে, মুক্তমনার দর্শনের যে প্রবল উত্থান ও বিবর্তন সেকথা। যাহোক, গত অনেক বছর ওদের সাথে আমার যোগাযোগ নেই – এ নিয়ে আমি আর কথা বাড়াবো না – হয়তো আমি কখনোই কিছু বলবো না।

      • Akash Malik

        – বিশ্বাসের বিষয়টি ব্যক্তিগত উপলব্ধির বিষয়। এটা কেউ কাউকে উপলব্ধি করিয়ে দিতে পারে না।

        জগতের সব শিশুই নাস্তিক হয়ে জন্মায়, ধর্মবিশ্বাস তার উপর চাপিয়ে দেয়া হয়, সে যে পরিবারে জন্ম নেয় সেই পরিবারের বিশ্বাস। তাই হিন্দুর ঘরে মুসলমান জন্মায়না, মুসলমানের ঘরে ইহুদি জন্মায়না। সুবিধেবাদী ভারতীয় আলেম ভুল বলেছেন। বাংলাদেশের আলেমরা বলেন, ইসলাম জান নে কা নাম নেহি/ মান নে কা নাম হ্যায়। ইসলাম সমজানে কে লিয়ে কারবালা হোতা হ্যায়, ইয়ে সমজনে কা বাত নেহি/ ইয়ে মারনে আওর মরনে কা ব্যাত হ্যায়। ইসলাম জিন্দা হোতা হ্যায় হর কারবালা কে বাঁ’দ।

        ” সমস্ত কোরানই একখানি জিহাদের কিতাব ” ওয়াজ মাহফিলে হুজুর হুঙ্কার দিয়ে জানাচ্ছেন হাজারো শ্রোতার সামনে, শ্রোতারা চিৎকার করে আল্লাহুয়াকবার বলে সমর্থন জানাচ্ছে আর হুজুর জিহাদের নমুনা নিজের হাতের উপর আড়াআড়ি করে হাত রেখে ঘষে দেখাচ্ছেন কতল করা্র গলা কাটার নমুনা। এমন শত শত ওয়াজ ইউটিউবে আছে সর্বদা প্রচার হচ্ছে, আপনারা কিছু বলেছেন, কিছু করেছেন, করেন নি। এরই নাম বিশ্বাসের ভাইরাস। আপনাকে মৌনভাবে নীরবে তা সমর্থন করতেই হয়। আজ বাংলাদেশে ইসলামের যে প্রচার ও প্রসার সংসদ থেকে ইউনিভার্সিটি, ঘরের উনুন পর্যন্ত ইসলামের যে জয়জয়কার, আজ দেশে সরিষার চেয়ে টুপির সংখ্যা বেশী, নারীর চেয়ে হিজাবের সংখ্যা বেশী, তা ঐ সরকারপুষ্ট ইসলামী সন্ত্রাসের কারণেই। মানুষের রক্ত ছাড়া সন্ত্রাসবিহীন কোনো মতবাদ কোনোধর্মই জগতে টিকে থাকতে পারেনি। অভিজিতের লড়াইটা মুসলমানের রিরোদ্ধে ছিলনা, ছিল সেই খুনী মতবাদের রিরোদ্ধে।

      • সরকার জাবেদ ইকবাল

        জনাব আকাশ মালিক, ওয়াজ মাহফিলে স্বল্পশিক্ষিত হুজুররা ধর্মের নামে যে সহিংসতার বিষবাষ্প ছড়িয়ে বেড়াচ্ছেন সেগুলোকে আমিও ঘৃণা করি। বর্তমানে পৃথিবী জুড়ে যে ধর্মীয় সন্ত্রাস চলছে সেগুলোর সঙ্গে পবিত্র ধর্ম ইসলামের কোন সম্পর্ক নেই। ইসলাম যেমনি সন্ন্যাসবাদকে সমর্থন করে না তেমনি সন্ত্রাসবাদকেও সমর্থন করে না। ইসলাম শান্তির ধর্ম। কাজেই, কিছু অর্ধশিক্ষিত মুসলমানের কীর্তিকাণ্ড দেখে ইসলামের অপব্যাখ্যা করা ঠিক নয়।

    • আসিফ শাহরিয়ার

      ১/ যুক্তরাষ্ট্রে মুসলিমরা বসবাস করে না? প্র্যাক্টিসিং মুসলমান থাকে না?
      ২/ ধর্ম ব্যবসা? সৌদির নাম বলতে লজ্জা লাগে?
      ৩/ আমেরিকা ধর্ম ব্যবসা করে আপনাদেরকেই পুজী করে, গরীব মানুষ দুরবস্থার জন্য ঈশ্বরের শরনাপন্ন না হয়ে বেনিয়াদের দিকে আঙুল তুলতে শিখবে, এই ছিলো অভিজিৎ রায়ের শিক্ষা।
      ৪/ ইসলামী জঙ্গি তৈরীর জন্যে শুধুমাত্র অপরকে দোষ না দিয়ে নিজের ধর্মের ইতিহাস ঘেটে দেখুন, বন্ধ চোখ খুলে যাবে।

      Reply
      • লতিফ

        শাহরিয়ার ভাইয়ের এত রাগ? সবদেশেই প্রাকটিসিং মুসলিম আছে, যুক্তরাষ্ট্রেও আছে। যুক্তরাষ্ট্রের জনগণ আর তাদের পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয় কি এক কাতারে বসবাস করে? সৌদির নাম মুখে নিতে লজ্জা হবে কেন? সৌদি রাজতন্ত্র তৈরীই করেছে গণতান্ত্রিক ব্রিটিশ! ইজরায়েল, ভারত, পাকিস্তান― এগুলো সবই ব্রিটিশজাত। এসব ব্রিটিশজাত ধর্ম নিয়ে ব্যবসা করবে না তো কী করবে? গরিব মানুষ ইশ্বরের কাছে যায় তাদের দূরাবস্থা দূর করতে! হুম, তাহলে যার দূরাবস্থা নেই, সে কি নাস্তিক হয়ে যাবে? বিষয়টা এত সহজ না। যাহোক, যেটা বলতে চাই, ধর্ম নিয়ে যেমন ব্যবসা আছে, তেমনি প্রেম নিয়েও ব্যবসা আছে, সৌন্দর্য নিয়েও ব্যবসা আছে, ধর্মের ব্যাপারে আপনাদের রায়টা খুব সহজ― ছেড়ে দাও। কিন্তু প্রেম, সৌন্দর্য? ছেড়ে দেবেন!

    • সৈকত চৌধুরী

      লতিফ এর প্রতি,

      আপনার এই মন্তব্যের সাথে মোটেও একমত নই।

      ১। আপনি অভিজিৎ রায়ের লেখা খুব কমই পড়েছেন। তিনি ধর্মব্যবসায়ীদের নিয়েও প্রচুর কথা বলেছেন।

      ২। যুক্তরাষ্ট্রে নিশ্চিন্তে বাস করতে চাইলে দেশে আসলেন কেন? তিনি স্থায়ীভাবে দেশে ফিরে আসার কথা অনেকবার বলেছেন।

      ৩। আপনি বলেছেন, বাংলাদেশে জামাত-শিবির হোক কি ভারতে আরএসএস, কি মিশরে ব্রাদারহুড― তাদের প্রধান পৃষ্ঠপোষক যুক্তরাষ্ট্র (এবং জাতিসংঘ)। কী উদ্ভট কথা!

      ৪। আপনি বলতে চাচ্ছেন অভিজিৎ রায় আমেরিকার সব কর্মকাণ্ড খুব সমর্থন করতেন। আপনার এই ধরণের অভিযোগ সম্পূর্ণ অসত্য, ভিত্তিহীন ও আজগুবি।

      Reply
  11. Azadi Hasnat

    আমরা চিরচেনা বিশ্ব চরাচর, তার নিদর্শনকে অস্বীকার করতে পারি না। সৃষ্টিকুলের জন্য তা সৃষ্টি করেছেন মহান সৃষ্টি কর্তা। মানুষের বিবেকের এক সতেজ টান রয়েছে এই স্বীকারোক্তির মধ্যে। এর থেকে বাইরে বেরোতে মন চাইলেও বার বার ফিরে আসতে হয়। যেমন আকাশের দিকে তাকিয়ে কোনো খুত ধরা যায় না, সমুদ্রের দিকে তাকিয়েও কোনো খুত ধরা যায় না। এসবের পেছনে মহান মালিকের স্পর্শ বিদ্যমান। ইনিয়ে বিনিয়ে সেগুলো অস্বীকার করতে চাই না। জাতি অসুস্থ হতেও চায় না।

    Reply
    • সৈকত চৌধুরী

      Azadi Hasnat এর প্রতি,

      আমরা আন্তরিকভাবে জানতে চাই আপনারা কিভাবে স্রষ্টার অস্তিত্বের প্রমাণ পেলেন? কিভাবে শুধু আপনাদের দাবি করা স্রষ্টাই সত্য অন্যদেরটা ভুল।

      আকাশ বলতে আসলে কিছু নাই। কেন আকাশ নীল দেখায় সেটা আপনি জানেন না বলেই এরকম বলছেন। সাগরে খুঁত বলতে আপনি কী বুঝেন? আপনার কী মনে হয় সাগরের অবস্থান, গভীরতা এগুলো ভিন্নরকম হলে ভাল হত না; যেসব সুনামী, জলোচ্ছাস হয় এগুলো খুব উত্তম কিছু এবং একজন সর্বশক্তিমানের পক্ষে তা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব ছিল না বা উনার হাতে এর চেয়ে ভাল অপশন ছিল না?

      মানুষের দেহ নিয়ে এরকম দাবি অনেকেই করেন অথচ দেহের প্রতিটি অঙ্গেই রয়েছে খুঁত, দুর্বলতা। অনেকে তো বিকলাঙ্গ হয়েই জন্মায়। সৃষ্টির মধ্যে নাকি কোনো খুঁত নাই, অদ্ভুত দাবি।
      এগুলো নিয়ে অন্য কোথাও কথা বলেন, এখানে নয়। ধন্যবাদ

      Reply
      • সরকার জাবেদ ইকবাল

        নাউজুবিল্লাহ্‌। আল্লাহ্‌ পৃথিবীর সব মানূষকে হেদায়েত নসীব করুন। আমীন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। প্রতিক্রিয়া লেখার সময় লক্ষ্য রাখুন--

  • ১. স্বনামে বাংলায় প্রতিক্রিয়া লিখুন।
  • ২. ইংরেজিতে প্রতিক্রিয়া বা রোমান হরফে লেখা বাংলা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না।
  • ৩. প্রতিক্রিয়ায় ব্যক্তিগত আক্রমণ গৃহীত হবে না।

দরকারি ঘর গুলো চিহ্নিত করা হয়েছে—