১৯৭৫ সালের ১৫ অগাস্ট দিনটির কথা আমার এখনও স্পষ্ট মনে আছে। আমি তখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র। ১৫ অগাস্ট বঙ্গবন্ধুর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসিতে আসার কথা। অনার্স পরীক্ষায় যারা ফার্স্ট এবং সেকেন্ড হয়েছে তারা বঙ্গবন্ধুর সেই অনুষ্ঠানে দাওয়াত পেয়েছে, সেই হিসেবে আমিও আমন্ত্রিত।

আমি যথেষ্ট উত্তেজিত এবং ভোরবেলা ঘুম থেকে উঠে অনুষ্ঠানে যাবার জন্য শার্ট ইস্ত্রি করছি তখন পাশের বাসা থেকে আমাদের প্রতিবেশি আর্তনাদ করে উঠে আমাদের জানালেন, গতরাতে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করে ফেলেছে। তখন সেটি বিশ্বাসযোগ্য কোনো কথা ছিল না, আমরা তাই দৌড়ে পাশের বাসায় গিয়েছি। আমাদের বাসায় রেডিও টেলিভিশন নেই, খবরের জন্য প্রতিবেশির উপর নির্ভর করতে হয়। তাদের বাসায় গিয়ে রেডিওতে শুনতে পেলাম, একজন মানুষ নিজেকে মেজর ডালিম হিসেবে পরিচয় দিয়ে বঙ্গবন্ধুর হত্যার খবরটি বেশ নির্বিকারভাবে পরিবেশন করছে।

খবরটি তখনও অবিশ্বাস্য ছিল, এতোদিন পরেও সেটি অবিশ্বাস্য। বঙ্গবন্ধুকে ছাড়া বাংলাদেশকে কল্পনা করা যায় না, আমরা স্তম্ভিত হয়ে বসে রইলাম। আমার বয়স তখন কম, অভিজ্ঞতা আরো কম। হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটি শুধু মাত্র জেনেছি, এই হত্যাকাণ্ডের ফলাফল কী হবে অনুমান করার ক্ষমতা ছিল না। তিন মাসের মাথায় যখন জেলখানায় আওয়ামী লীগের আরও চারজন নেতাকে হত্যা করা হলো তখন হঠাৎ করে আমরা বুঝতে শুরু করেছি দেশটিতে ভয়াবহ একটা ঘটনা ঘটতে শুরু করেছে।

সেই ভয়াবহ ঘটনার ধাক্কা আমাদের পরিবারও বুঝতে শুরু করেছে। আমার বোনের বিয়ে হয়েছে একজন রাজনৈতিক নেতা এবং মুক্তিযোদ্ধা, অ্যাডভোকেট আলি হায়দার খানের সাথে, তাকে অ্যারেস্ট করে বরিশাল জেলে রাখা হয়েছে। বোনের ছোট একটা বাচ্চা মেয়ে হয়েছে, সেই অবস্থায় সারারাত লঞ্চে করে বোনকে নিয়ে জেলখানায় আটক তার স্বামীর সাথে দেখা করাতে নিয়ে যাই! কতো আশা নিয়ে দেশ স্বাধীন হয়েছিল, তিন বছরের মধ্যে সেই স্বাধীন দেশের সবকিছু কেমন যেন ওলটপালট হয়ে গেছে।

এরপর কতো বছর পার হয়ে গেছে। এখনও আমরা সেই তেতাল্লিশ বছর আগের পঁচাত্তরের দিকে ফিরে ফিরে তাকাই। বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে কারা হত্যা করেছে সেটি জানতে চাইলে আমাদের বলা হয়- তারা ছিল কিছু ‘উশৃঙ্খল’ সৈনিক। মনে হয় কিছু ‘উশৃঙ্খল সৈনিক’ বুঝি বেপরোয়া হয়ে ঝোঁকের মাথায় এই সর্বনাশা কাজটি করেছে। আমাদের একজন তরুণ সহকর্মী মনে করে বিষয়টি আরও অনেক গভীর ।সেটি আসলে মূলতঃ আন্তর্জাতিক একটি ষড়যন্ত্র। প্রমাণ হিসেবে সেই সময়কার অনেকগুলো সরকার পরিবর্তন এবং হত্যাকাণ্ডের কথা সে মনে করিয়ে দেয়।

কঙ্গোর স্বাধীনতা আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন প্যাট্রিস লুমুম্বা। প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নেওয়ার এক বছরের ভেতর সিআইএ এবং বেলজিয়ামের শাসকেরা মিলে তাকে হত্যা করেছে। চিলির সালভাদর আলেন্দে ছিলেন নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট। তিন বছরের মাথায় সি আইএ’র সাহায্য নিয়ে চিলির সেনাবাহিনীর জেনারেল পিনোশে তাকে হত্যা করে। তিনি নিজে যুদ্ধ করতে করতে মারা যান।

ব্রাজিলের জোয়াও গোলার্ট প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়ে দেশের অর্থনীতির সংস্কারে হাত দেয়া মাত্র সিআইএ’র সাহায্য নিয়ে সেই দেশের সেনাবাহিনী তাকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেশছাড়া করে। ইরানের মোহাম্মদ মোসাদ্দেক ক্ষমতায় গিয়ে যখন তাদের তেলক্ষেত্র জাতীয়করন করে নিজ দেশের উন্নতি করার জন্যে নিজ দেশের সম্পদ ব্যবহার করতে শুরু করেন সাথে সাথে তাকে সরিয়ে দিয়ে জেলখানায় নিক্ষেপ করে আমেরিকার সিআইএ এবং ব্রিটেন। গুয়াতেমালার জ্যাকাবো আরবেঞ্জ যখন রাষ্ট্রপ্রধান নির্বাচিত হয়ে মার্কিন কোম্পানির হাত থেকে নিজ দেশের ভূমিকে মুক্ত করার কাজ শুরু করেছেন আবার তখন সেই দেশের সেনাবাহিনী সিআইএ’র সাহায্য নিয়ে তাকে দেশ ছাড়া করেছে। এক দেশ থেকে অন্য দেশে শরণার্থীর মত ঘুরতে ঘুরতে এক সময় মারা গেছেন।

কোয়ামে নক্রুমা ঘানার স্বাধীনতা আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। নিজ দেশে যখন সংস্কারের কর্মসূচি শুরু করেছেন সিআইএ’র সাহায্য নিয়ে সেই দেশের সেনাবাহিনী তাকে ক্ষমতাচ্যুত করেছে।

এই সময়কালে শত ষড়যন্ত্র করেও সিআইএ কিউবার ফিদেল কাস্ত্রেকে হত্যা করতে পারেনি। ফিদেল কাস্ত্রে ছিলেন বঙ্গবন্ধুর আপনজন। বঙ্গবন্ধুর সাথে দেখা হওয়ার পর ফিদেল কাস্ত্রে বলেছিলেন- আমি হিমালয় দেখিনি কিন্তু আমি শেখ মুজিবকে দেখছি।

একটি রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধ করে দেশকে মুক্ত করার পর দেশটি কেমন করে পরিচালনা করতে হয় সে ব্যাপারে তিনি বঙ্গবন্ধুকে উপদেশ দিয়েছেলেন কিন্তু তারপরও শেষ রক্ষা হয়নি। কঙ্গোর প্যাট্রিস লুমুম্বা, চিলির সালভাদর আলেন্দে, ব্রাজিলের জোয়াও গোলার্ট, ইরানের মোহাম্মদ মোসাদ্দেক, গুয়াতেমালার জ্যাকাবো আরবেঞ্জ কিংবা ঘানার কোয়ামে নক্রুমার মতই বাংলাদেশের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানকে ক্ষমতাচ্যুত করে সপরিবারে হত্যা করেছে এই দেশের সেনাবাহিনীর একটা অংশ।

পৃথিবীর এই ক্ষমতাচ্যুত নেতাদের সাথে বঙ্গবন্ধুর কয়েকটি বিষয়ে মিল ছিল। তিনিও তাদের মত জাতীয়তাবাদ এবং সমাজতন্ত্রে বিশ্বাস করতেন। আমাদের প্রথম সংবিধানে স্পষ্ট করে দেশ শাসনের মূলমন্ত্র হিসেবে জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র এবং ধর্ম নিরপেক্ষতার কথা লেখা ছিল। তিনিও অন্য সবার মত নিজ দেশের সম্পদ বিদেশি কোম্পানির হাত থেকে মুক্ত করার চেষ্টা করেছেন। তিনি বাপেক্সকে শক্তিশালী করেছেন বলে এখন আমরা আমাদের তেল গ্যাস কোম্পানির মালিক।

তবে একটি বিষয়ে পৃথিবীর অন্যান্য ক্ষমতাচ্যুত রাষ্ট্রপ্রধানদের সাথে বঙ্গবন্ধুর জীবনের একটি বড় পার্থক্য রয়েছে। তাঁকে তার পরিবারের সদস্যদের সাথে যে অবিশ্বাস্য নৃশংসতায় হত্যা করা হয়েছিল সেরকম আর কাউকে করা হয়নি। আমরা এই ঘটনা প্রবাহের ভেতর দিয়ে বড় হয়েছি কাজেই তথ্যটি আমরা বহুকাল থেকে জানি। কিন্তু যারা প্রথমবার এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের কথা জানতে পারে তাদের পক্ষে সেটি গ্রহণ করা দূরে থাকুক বিশ্বাস করাও কঠিন। সেই হত্যাকাণ্ডে নারী, পুরুষ, শিশু ছিল, সদ্য বিবাহিত তরুণ তরুণী ছিল অন্তসত্ত্বা নারী ছিল এবং একটি দেশের স্থপতি সেই দেশের জাতির পিতা ছিল। এটি কী বিশ্বাস করার মত কোনো ঘটনা? কোনো মানুষের পক্ষে কী এরকম নৃশংস হওয়া সম্ভব? নাকি আমাদের বলতে হবে শুধুমাত্র মানুষের পক্ষেই এরকম নৃশংস হওয়া সম্ভব, বনের পশু তো কখনো কাউকে এতো নৃশংসতায় হত্যা করে না।

এর পরের ঘটনা কী আরো বেশি অবিশ্বাস্য নয়? যে মানুষগুলো বঙ্গবন্ধু এবং তার পরিবারের সদস্যদের হত্যা করেছে তাদেরকে যেন বিচার করা না যায় সে জন্যে সংসদে ইনডেমনিটি বিল পাস করে সেটি সংবিধানে ঢুকিয়ে দেয়া হলো। মানুষের সভ্যতার ইতিহাসের নৃশংসতম হত্যাকাণ্ডের পর হত্যাকারীদের কেশ স্পর্শ করা যাবে না সেটি সংবিধান দিয়ে নিশ্চিত করা হয়েছে এরকম ঘটনা কী পৃথিবীর কোনো মানুষের পক্ষে কল্পনা করা সম্ভব? শুধু কী তাই! অত্যন্ত দক্ষতার সাথে বঙ্গবন্ধুর নামটি বাংলাদেশের ইতিহাস থেকে মুছে দেওয়া শুরু হলো। আমি মাঝে মাঝে চিন্তা করে বুঝতে পারি না, কোনটি বড় অপরাধ, বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করা নাকি হত্যাকারীদের নিরাপত্তা দিয়ে বঙ্গবন্ধুর নামটি এই দেশের মানুষের কাছ থেকে সরিয়ে নেয়া?

দেশের এই অন্ধকার সময়ে আমি বেশিরভাগ সময় দেশের বাইরে। একবার দেশে এসেছি, রিকশা করে এক জায়গায় গিয়ে রিকশাওয়ালাকে রিকশা ভাড়া হিসেবে দশ টাকার একটি নোট দিয়েছি। ছিয়াত্তরে দেশের বাইরে যাবার সময় এই নোটটি পকেটে ছিল। রিকশাওয়ালা নোটটি নিয়ে কিছুক্ষণ অবাক হয়ে সেটির দিকে তাকিয়ে রইল তারপর বলল, “আমাকে এটি কী নোট দিয়েছেন? এই নোট এখানে চলে না। নোটের উপর এটি কার ছবি?”

নোটের উপর বঙ্গবন্ধুর ছবি ছিল। আমি অবাক হয়ে আবিষ্কার করলাম এই দেশে এখন এমন মানুষ আছে যারা বঙ্গবন্ধুকে চিনে না। যে মানুষটি এই দেশটির স্থপতি, এই দেশের মানুষ তাকে চিনবে না এটি কেমন করে হয়?

আমি চুরানব্বই সালে দেশে ফিরে এসেছি। এসে অবাক হয়ে দেখছি এই দেশের রেডিও টেলিভিশনে বঙ্গবন্ধুর নাম উচ্চারিত হয় না। ছোট ছোট ছেলে মেয়েদের সাথে দেখা হলে মাঝে মাঝেই তারা জিজ্ঞেস করে, “স্বাধীনতার ঘোষক কে? জিয়াউর রহমান নাকি শেখ মুজিবর রহমান?” আমি অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকি, এই দেশে প্রজন্মের পর প্রজন্মের জন্ম হয়েছে যারা বাংলাদেশের ইতিহাস জানে না। তারা মুক্তিযুদ্ধের কথা জানে না। তারা বঙ্গবন্ধুর অবদানের কথা জানে না। তাদের ধারণা একজন মানুষ একটা ঘোষণা দিলেই একটা দেশের জন্ম হয়ে যায়।

তারপর ছিয়ানব্বই সালে নির্বাচনে জিতে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসেছে। আমি তখন আমার স্ত্রীকে বলেছি চল, আমরা একটা টেলিভিশন কিনে আনি। এখন নিশ্চয়ই টেলিভিশনে বঙ্গবন্ধুকে দেখাবে।

আমি আর আমার স্ত্রী পরিচিত এক বন্ধুকে নিয়ে বাজার থেকে টেলিভিশন কিনে এনেছি। সেই টেলিভিশনে বহুকাল পরে প্রথমবার বঙ্গবন্ধুকে দেখে আমাদের চোখ ভিজে এসেছিল।

খুব ধীরে ধীরে এই দেশের নূতন প্রজন্মকে বঙ্গবন্ধুর কথা, মুক্তিযুদ্ধের কথা শেখানো হয়েছে। আমি লক্ষ্য করি পথে ঘাটে আজকাল কোনো শিশু বা কোনো কিশোর কিশোরী আমার কাছে জানতে চায় না, স্বাধীনতার ঘোষক কে? সংবিধান থেকে কুখ্যাত ইনডেমনিটি বিল সরিয়ে বঙ্গবন্ধুর খুনীদের বিচার করা হয়েছে। এতোদিন যারা এদেশে সদর্পে ঘুরে বেড়িয়েছে তাদের ফাঁসি দেওয়া হয়েছে। দেশের বাইরে যারা রয়ে গেছে তাদেরকে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা হয়েছে। তাদের ভেতরে আর বীরত্বের অহংকার নেই। তারা এখন পালিয়ে থাকা খুনি, লুকিয়ে থাকা খুনি, আকণ্ঠ ঘৃণায় ডুবে থাকা খুনি।

কিন্তু আমার প্রশ্নের উত্তর এখনো খুঁজে পাইনি। যারা সপরিবারে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করেছে তারা কী বড় অপরাধী, নাকি যারা বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারীদের রক্ষা করে এদেশের মানুষের সামনে বঙ্গবন্ধুর অস্তিত্ত্বকে অস্বীকার করেছে তারা বড় অপরাধী, কে উত্তর দেবে?

ইতিহাস সাক্ষী দেয় যে বাংলাদেশ এবং বঙ্গবন্ধু সমার্থক। তাই যারা বঙ্গবন্ধুকে অস্বীকার করে তারা বাংলাদেশকেই অস্বীকার করে। এই দেশের মাটিতে থেকে এই দেশকে যারা অস্বীকার করে বাংলাদেশে তাদের কোনো স্থান নেই। আমি বিশ্বাস করি এই দেশের মাটিতে থেকে রাজনীতি করার প্রথম শর্ত হচ্ছে তাকে বঙ্গবন্ধুকে স্বীকার করে নিতে হবে এবং মুক্তিযুদ্ধকে বুকের ভেতর ধারণ করতে হবে।

এর বাইরে থেকে যতদিন কেউ রাজনীতি করার চেষ্টা করবে বাংলাদেশ ততদিন গ্লানিমুক্ত হতে পারে না। আমি বহুদিন থেকে সেই গ্লানিমুক্ত বাংলাদেশের জন্যে অপেক্ষা করে আছি।

মুহম্মদ জাফর ইকবাললেখক ও অধ্যাপক, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়।

২৩ Responses -- “বাংলাদেশ এবং বঙ্গবন্ধু”

  1. মিনার মাসুদ

    বঙ্গবন্ধু এবং বাংলাদেশ যে সমার্থক তা যাদের বোঝার ক্ষমতা নেই তারাইতো সবসময় অযথা তর্ক করে, বলা যায় মূর্খামি করে। হ্যা, স্যার, বঙ্গবন্ধুকে হৃদয়ে ধারণ না করলে যে এ দেশের নাগরিক থাকা যায় না তা এখন সামনে নিয়ে আসার সময় এসেছে। অত্যন্ত সাবলীল লেখাটি পড়ে শক্তি বেড়ে যায়। ভাল থাকুন স্যার।

    Reply
  2. subir harsha

    কোন সন্দেহ নেই যে, বঙ্গবন্ধু আমাদের অবিসংবাদিত নেতা। তাঁকে হত্যা করে প্রকারান্তরে আমরা আধুনিক বাংলাদেশকে হত্যা করলাম, নয় কি ?

    Reply
  3. কল্যান ডি কষ্টা

    স্যার
    আমি অত্যন্ত অবাক হয়ে লক্ষ করি আপনি জনমানবহীন পরিবেশে বসবাস করেন । টিভি নাই, ইন্টারনেট নাই, পত্রিকা নাই । তবুও কতো সুন্দর করে আবেগ দিয়ে লিখেন ।

    Reply
  4. সরকার জাবেদ ইকবাল

    স্যার, আপনার প্রশ্ন: যারা সপরিবারে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করেছে তারা কী বড় অপরাধী, নাকি যারা বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারীদের রক্ষা করে এদেশের মানুষের সামনে বঙ্গবন্ধুর অস্তিত্ত্বকে অস্বীকার করেছে তারা বড় অপরাধী, কে উত্তর দেবে?

    আমার উত্তর: সেইসব তোষামোদী চাটুকররাই বড় অপরাধী যারা বঙ্গবন্ধুর হত্যার পথ সুগম করেছিল এবং এখনও যারা ঘুনপোকার মত আওয়ামী লীগের সর্বনাশ করে চলেছে।

    Reply
    • Bongo Raj

      Does it mean
      যারা বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারীদের রক্ষা করে এদেশের মানুষের সামনে বঙ্গবন্ধুর অস্তিত্ত্বকে অস্বীকার করেছে
      are not অপরাধী?
      People of your answer are definitely bad people but how they can be more bad than the people who
      বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারীদের রক্ষা করে এদেশের মানুষের সামনে বঙ্গবন্ধুর অস্তিত্ত্বকে অস্বীকার করেছে?
      Probably now you realised that a serious crime is done by you! Hope, you will never utter the name Bongobondhu by your dirty lip again.
      Your comment is very idiotic, take care!

      Reply
      • কল্যান ডি কষ্টা

        বংগরাজ
        আপনার কথা শুনলে মনে হয় দেশটা শুধু আপনার। সাব কবলা দিয়ে দেশটা কিনে নিয়েছেন। একটা দেশে বিভিন্ন মতের মানুষ থাকতে পারে, মতের অমিল থাকতে পারে। এটাই গনতন্ত্র। বাকশালী ব্যাবস্থায় যা সম্ভব নয়। অন্যের মতামতকে প্রতিবাদ করুন তবে তা গনতন্ত্রের ভাষায়। আর আপনি নিজেই একটি লেখায় স্বীকার করেছিলেন আপনি করাপ্টেড লোক। দুর্নীতি মুক্ত হোন, নিজে শুদ্ধ হন আগে।

      • সরকার জাবেদ ইকবাল

        I meant the people like ‘You’ who always misguide the leadership and the party with excessive praise for which leadership sometimes miss to notice the mistakes. Mind it, ability to look into the weakness is also a strength, which you don’t have.

        Anyway, I stopped responding to your comments, why do you? Thanks in advance for not instigating me anymore. Regards.

      • সরকার জাবেদ ইকবাল

        ধন্যবাদ কল্যাণ ডি কষ্টা। একটি প্রবাদ আছে – যখন সবাই অন্যায়ের দিকে থাকে তখন তারা ন্যায়ের দিকেই থাকে, – এ কথাটা অনেকেই বুঝতে চায় না।

      • Bongo Raj

        Mr D Kosta
        You couldn’t realized where I had pointed. In his comment, This man technically made HALAL the approach of making Rajakar as our nations’ minister. I had reacted to this point only!
        If you termed this dirty approach as a motamot please ignore this reply… I will understand that you are also from the same dirty group

      • Bongo Raj

        Mr D Kosta
        You couldn’t realized where I had pointed. In his comment, This man technically made HALAL the approach of making Rajakar as our nations’ minister. I had reacted to this point only!
        If you termed this dirty approach as a motamot please ignore this reply.——
        I will understand that you are also from the same dirty group

      • Belal Hossain

        You prefer writing in English to writing in Bangla. But how is your language mistake “couldn’t realized “? So, you have zero knowledge of English. How do you dare to write in English with zero Knowledge? Your comment is also not 100% correct. Thanks.

  5. younusur rahman

    আপনি আপনার এই অবস্থানে আজীবন থাকবেন আশা করি। আলোকচিত্রী ড. শহিদুল আলমদের পক্ষ নিয়ে আর্টিকেল লেখার আগে তিনবার চিন্তা করবেন কার পক্ষ নিয়ে লিখছেন। আপনিতো এ জাতির রেফারির দায়িত্ব পান নাই। জগতের সবাইকে খুশি করা সম্ভব না। সবাইকে খুশি করতে গেলে নিজের কিছুই থাকে না। আপনি একবার কোটা আন্দোলনের পক্ষে লিখবেন আবার আরেকদিন বিপক্ষে লিখবেন কেন? আপনার যা খুশি আপনি লিখতেই পারেন কিন্তু এতো ঘন ঘন অবস্থান পাল্টালে কেমন যেন লাগে, তখন মনে হয় আপনি যা লিখেন তা নিজে বিশ্বাস করেন না। সুন্দর করে লিখতে পারেন তাই লিখেন।

    Reply
    • কবির

      আপনার বোঝার ভুল আছে। উনি কারও পক্ষ নিচ্ছেন না, যেটা ভাল এবং উচিত সেই কথাটাই বলছেন। এইরকম লেখার আরও লোক দরকার তাহলেই এই দেশটা আরও কিছুদিন টিকে থাকবে।

      Reply
    • mak

      আপনি বলতে চাইছেন, একজন মানুষ যেন তার জীবদ্দশায় সব ব্যাপারে শুধু একটি দলের পক্ষেই যেন সাফাই গান তা সে দল ভালো করুক বা খারাপ করুক। যেমন আপনার কোন বন্ধু বা স্বজন যখন কোন ভালো কাজ করে তখন আপনি তার পক্ষে আবার সে যখন কোন অপরাধ করে তখনও আপনি তার পক্ষে। আপনার বন্ধু বা স্বজনের বেলায় কোন ন্যায়-অন্যায়ের বাছ বিচার থাকতে নেই। আর আপনি যদি ধরেই নেন আপনার ওই বন্ধু বা স্বজনের পক্ষে অপরাধ করা অসম্ভব, তাহলে আপনাকে করুণা ছাড়া আর কীইবা করা যায়?

      Reply
  6. Anwar A Khan

    Bangabandhu is our own man; a great human being, the best Bengali of thousand years in the Bengal history; a great patriot; a great politician of world stature; our Father of the Nation; and our beloved Bangabandhu. He is none but Sheikh Mujibur Rahman. Eminent Journalist Cyril Dunn wrote, “In a sense, Sheikh Mujib is a greater leader than George Washington, Mahatma Gandhi and De Valera.”

    Let us resolve to re-analyse his intellectual contributions. Let us try to spread his re-examined messages of broad nationalism, democracy, secularism, socialism and the international order. As a nationalist, Bangabandhu was a valiant fighter for Bangladesh independence and his primary concern was to rebuild Bangladesh through principled politics, approximate equality, decent standard of life, capital formation through control over wasteful expenditure and conspicuous consumerism, rightful place of Bengali language, human being based society and time-bound preferential opportunity for the backwards. His nationalism was not narrow. He was a champion of a new civilisation based on democracy, secularism, socialism, non-violence and disarmament. He was a great votary of an egalitarian international order and a world government. He considered himself a world citizen. During the course of his 43rd death anniversary, his ideas pertaining to society, polity, economy, culture, world system have thoroughly to be discussed, examined and wherever found appropriate, as per the demands of time and place, they have to be sought to be operationalised.

    Turn the pages ofBangladesh’s political history, and you are sure to find one man who clearly outshines all others and manages to attract the attention and interest of all, till date, -Bangabandhu Sheikh Mujibur Rahman! Rising from a modest and humble beginning, it was his sheer determination and honest effort that led him to the nation’s highest office. Let us salute him.

    Reply
  7. Maksudur Rahman

    আমার প্রশ্নের উত্তর এখনো খুঁজে পাইনি-

    বঙ্গবন্ধু তাঁর সাড়ে তিন বছরের শাসনামলে কি করেছিলেন যে তাঁকে স্বপরিবারে হত্যা করা হলো?

    স্বপরিবারেই বা কেন? তাঁর পরিবারের সদস্যরা কি একই কাজ করেছিলেন যা বঙ্গবন্ধু করতেন বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর?

    কেন বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারীদের রক্ষা করা হলো? এবং এদেশের মানুষের সামনে বঙ্গবন্ধুর অস্তিত্ত্বকে অস্বীকার করা হচ্ছিল?

    ইতিহাস কি নিরপেক্ষ? না ইতিহাস সব সময় জয়ীদের হাতে পূর্নলিখিত !

    Reply
    • জব্বার আলি

      Maksudur Rahman
      প্রশ্ন শুনলে বোঝা যায় প্রশ্নগুলোর বাইরে প্রশ্নগুলো আপনার মাথায় আসে না। আপনি আগেই ধরে নিচ্ছেন (অথবা আপনাকে এভাবেই বোঝানো হয়েছে) যে যারা হত্যা করেছে তারা বঙ্গবন্ধুর ত্রুটি বা পরিবারের ত্রুটিগুলোকে সারাতে হত্যা করেছে। আপনার বাড়ি দখল করতে এক ভাড়াটে খুনী গলায় ছুরি মারলে আমি বলতে পারি আপনার সমস্যা ছিল.. অথবা আপনার পরিবারের সবাইকে হত্যা করলে ধরে নিতে পারি আপনার পরিবারের সমস্যা। দুর্ভাগ্য যে আপনাদের মাথা ধোলাই করেছে কলমধারী কিছু প্রতারক। সেই এনায়েতুল্লাহ খানদের মত সাংবাদিকেরা যারা দিনের পর দিন মিথ তৈরি করেছে- যে মুজিবের বাড়ি ছিল লুটপটের বাড়ি বা মুজিবের সন্তানেরা ছিল লুটপাটের সাথে জড়িত। চোখ খুলে দেখতে চেষ্টা করুন, মুজিবের ব্যক্তি চরিত্র বা তার পরিবারের মানুষদের শত মিথ বানোয়াট কাহিনী। তাকে উৎখাতের সাথে জড়িত ছিল পাকিস্তানের প্রেতাত্মা, সেই মার্কিনী ষড়যন্ত্রকারী। তাকে সহায়তা করেছে মোশাতাকেরা, কারণ বুঝতে দেরি হয় না। যেদিন মারা যায় তারপরই তাকে স্বীকৃতি দিয়ে সৌদি আরব সহ মার্কিনীদের সহচর দেশগুলো। বঙ্গবন্ধু হত্যাকারীদের কেন রক্ষা করা হলো এটাও আপনার ভুল যুক্তি। বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করে পাকিস্তানীদের পক্ষে থাকা গোষ্ঠী ক্ষমতায় পুনর্বাসিত হয়েছে। হত্যাকারীদের পুরষ্কৃত করা হয়েছে। বিদেশে উঁচু পদে চাকরী দেয়া হয়েছে। কেন জাতি বিশ্বাসঘাতকতার জন্য রুখে দাঁড়ায় নি সে লজ্জা নিজেকে জিজ্ঞেস করুন।
      ইতিহাস নিরপক্ষ না জয়ীদের কথা বলে এমন কথায় বোঝা যায় আপনি না পড়ে এখানে এসেছেন। বাংলাদেশের ইতিহাস বেশি আগের না। শত শত উৎস পাবেন। তা না করে যদি স্বাধীনতা বিরোধীদের মুখ থেকে শোনা কথাকে বেশি বিশ্বাস করেন তবে ভিন্ন কথা।

      Reply
  8. শুভ্র

    CIA এবং MI6 সহ পশ্চিমারা জাতির পিতাকে হত্যা করেছে এটা বেশি বিশ্বাসযোগ্য। পৃথিবীর যখনই কোন আপোষহীন দেশপ্রেমিক নেতা তার জাতির উন্নতি করছিল তখনই পুঁজীবাদিরা গোপন বাহিনী দিয়ে দেশের মিরজাফরদের সহায়তায় ঐ নেতাদের হত্যা করেছে। বর্তমানে তারা প্রধানমন্ত্রীর বিপক্ষে নেমেছে বলে মনে হয়। বার্নিকাটের গাড়িতে হামলা এটা তাদেরই একটা সাজানো নাটক মনে হয়। এরকম আরো নাটক তারা করবে। মানবতা, গনতন্ত্র সব হলো ছুতা। আসল উদ্দেশ্য তেল গ্যাস দখলে নেয়া। আমেরিকা, কানাডা বঙ্গবন্ধুর খুনিদের ফেরত দেয়না আবার ইরানে, তুরষ্কে তাদের স্পাইদের ছেড়ে দিতে হামলার প্রস্তুতি নিয়ে রাখছে। কানাডা সৌদিকে মানবাধিকারের তালিম দেয় কিন্তু বঙ্গবন্ধুর খুনিদের বাংলাদেশে ফেরত পাঠায় না। বাংলাদেশ উন্নত দেশ হয়ে গেলেতো মাত্র দুই/ তিন ডলারে পানির দামে জামাকাপর পাবেনা, দেশ থেকে শাক সব্জি মাছ তাদের দেশে যাবেনা, দেশের মেধাবীরাই দেশের কাজ করতে শুরু করবে। এজন্য পশ্চিমারা চায়না দেশ দক্ষ শাসক দ্বারা পরিচালিত হোক। সবাইকে সচেতন হতে হবে।

    Reply
    • সরকার জাবেদ ইকবাল

      জব্বার আলী এবং শুভ্র, আপনাদের দু’জনের বিশ্লেষণই আমার ভীষণ ভাল লেগেছে। আওয়ামী লীগের ভিতরে ঘাপটি মেরে বসে থাকা খন্দকার মোশতাকদের মত দুষ্টচক্র সম্পর্কে আমাদেরকে যেমনি সতর্ক থাকতে হবে তেমনি সাহায্যের নামে আধিপত্যবাদী শক্তির অপতৎপরতা সম্পর্কেও আমাদেরকে সজাগ থাকতে হবে। সবচেয়ে জরুরি বিষয় হলো, ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে এ বিষয়গুলো জানিয়ে যাওয়া যাতে ওরা ওদের দেশকে নিজের মত করে গড়ে নিতে পারে। আমরাতো এখন খরচের খাতায়!

      Reply
  9. লতিফ

    বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে স্মৃতিচারণ যত আছে, গবেষণা তত কম হয়েছে। গণবিশ্ববিদ্যালয়গুলো কত কিছু নিয়ে গবেষণা করে, কিন্তু বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে গবেষণা করে না। গবেষণা হতে পারে মুক্তিযুদ্ধের পরে বঙ্গবন্ধুর সরকার যে সকল সিদ্ধান্ত গ্রহন করেছে, সেগুলো কি অংশগ্রহনমূলক ছিল অথবা ছিল না, থাকলে কতটা। সদ্য স্বাধীন অন্যান্য দেশের সাথে তুলনা করা যেতে পারে সিদ্ধান্তগ্রহন প্রক্রিয়াগুলোর। আবার গবেষণা হতে পারে বঙ্গবন্ধু হত্যায় জড়িত সেনাবাহিনীর অফিসার এবং সৈন্যদের মনস্তত্ত্ব নিয়ে। ২-ফিল্ড আর্টিলারির যে ৩০০ জন্য সৈন্য অপারেশনে জড়িত ছিল, তারা এখন কে কোথায়?

    Reply
    • Abir

      Mr. Latif, that kind of research is risky. If anything negative is discussed in that research, Researchers will be sent to Remand for ” Mittha Gujob ” !

      They will be beaten, jailed and their life will be destroyed.

      Reply

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। প্রতিক্রিয়া লেখার সময় লক্ষ্য রাখুন--

  • ১. স্বনামে বাংলায় প্রতিক্রিয়া লিখুন।
  • ২. ইংরেজিতে প্রতিক্রিয়া বা রোমান হরফে লেখা বাংলা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না।
  • ৩. প্রতিক্রিয়ায় ব্যক্তিগত আক্রমণ গৃহীত হবে না।

দরকারি ঘর গুলো চিহ্নিত করা হয়েছে—