সংবাদ মাধ্যমে সেদিন আলোকচিত্র শিল্পী শহিদুল আলমের একটি ছবি ছাপা হয়েছে। ছবিতে দেখা যাচ্ছে অনেক কয়জন পুলিশ মিলে শহিদুল আলমকে টেনে হিচড়ে নিয়ে যাচ্ছে। তাঁর চেহারা বিপর্যস্ত এবং খালি পা। ছবিটি দেখে আমার বুকটা ধ্বক করে উঠেছে, কারণ আমার মনে হয়েছে এই ছবিটি আমারও ছবি হতে পারতো।

শহিদুল আলম যে সব কাজ করেন আমরাও আমাদের মতো করে সেসব করতে চাই, তার মতো প্রতিভাবান বা দক্ষ নয় বলে করতে পারি না। কখন আমাদের কোনো কাজ বা কোনো কথা আপত্তিকর মনে হবে না এবং একই ভঙ্গিতে আমাদের গায়ে হাত দিয়ে টেনে হিচড়ে নেয়া হবে না সেটি কে বলতে পারে? কিছুদিন আগে আমি ছুরিকাহত হবার পর আমার রক্তাক্ত অর্ধচেতন ছবি খবরের কাগজে ছাপা হয়েছিল, আমার সেই ছবি দেখে আমার আপনজন যতটুকু বিচলিত হয়েছিল আমি নিশ্চিত তারা যদি দেখতো একজন পুলিশ আমাকে আঘাত করে খালি পায়ে টেনে হিচড়ে নিয়ে যাচ্ছে তারা তার চাইতেও একশগুণ বেশি বিচলিত হতো। এই মূহুর্তে শুধুমাত্র শহিদুল আলমের পরিবারের লোকজন নয় আমরাও অনেক বিচলিত।

আলোকচিত্রশিল্পী শহিদুল আলমের অপরাধটি কী আমি সেটা বুঝতে পারিনি। তিনি আল জাজিরাতে একটি সাক্ষাৎকার দিয়েছেন, আমি সেটা দেখিনি তবে বিবিসির খবরে পড়েছি তিনি আন্দোলন দমনের ব্যাপারে সরকারের ভূমিকার সমালোচনা করেছেন। (আমি নিজে ব্যক্তিগতভাবে কখনো বিদেশি সাংবাদিকদের সাক্ষাৎকার দিই না, ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের একজন সাংবাদিক আমি ছুরিকাহত হওয়ার পর আমার সাথে যোগাযোগ করেছিল। এই মুহূর্তে ‘টাইম’ এর একজন সাংবাদিক আমাকে ই-মেইল পাঠিয়েছে। আমি বিনয়ের সাথে তাদের বলি, বাংলাদেশ সম্পর্কে পশ্চিমা সাংবাদিকদের এক ধরনের নেতিবাচক ধারণা আছে এবং আমি যেটাই বলি না কেন আমাদের দেশের নেতিবাচক রূপটা দেখানোর জন্যে সেটা ব্যবহার করা হবে তাই আমি তাদের থেকে দূরে থাকি)। কিন্তু শহিদুল আলমের মতো একজন আন্তর্জাতিক মানুষ, একজন আত্মবিশ্বাসী মানুষ দেশের অবস্থাটি বিদেশি সাংবাদিককে বলতেই পারেন। সেটি যদি সরকারের সমালোচনা হয় সরকারকে সেটা মেনে নিতে হবে কিছুতেই সেটাকে অপরাধ হিসাবে বিবেচনা করা যাবে না।

তার দ্বিতীয় অপরাধ হিসেবে ফেসবুক লাইভে তার বক্তব্যের কথা শুনতে পাচ্ছি, ফেইসবুক লাইভ  বিষয়টি কী- আমি সেটা সঠিক জানি না। সেখানে তিনি কী বলেছেন সেটাও আমি জানি না, কিন্তু যেটাই বলে থাকেন সেটা তাঁর বক্তব্য, এই বক্তব্য দিয়ে তিনি বিশাল ষড়যন্ত্র করে ফেলছেন সেটি তো বিশ্বাসযোগ্য নয়। আপত্তিকর কিছু বলে থাকলে, কেন সেটি বলেছেন সেটি নিয়ে গবেষণা হতে পারে, আলোচনা হতে পারে, তার চাইতে বেশি কিছু তো হওয়ার কথা নয়! আমি শুনেছি তার থেকেও অনেক বেশি আপত্তিকর বক্তব্য দেওয়ার পরেও অভিনয় শিল্পীর অনেকে পার পেয়ে গেছেন তাহলে খ্যাতিমান সর্বজন শ্রদ্ধেয় এই আলোকচিত্র শিল্পীর উপরে এই আক্রমণ কেন? যদি সত্যিই তিনি ষড়যন্ত্র করে থাকেন আমরা সেটি জানতে চাই।

একজন মানুষ তাঁর সারা জীবনের কাজ দিয়ে একটা পর্যায়ে পৌঁছান। আমরা তখন তাকে একটা শ্রদ্ধার আসনে বসাই। তাকে সম্মান দেখিয়ে আমরা নিজেরা সম্মানিত হই। তখন যদি তাকে অসম্মানিত হতে দেখি আমরা অসম্ভব বিচলিত হই। শহিদুল আলম যেটাই বলে থাকুন সরকারের সেই কথাটি শোনা উচিৎ ছিল কোনোভাবেই সেটাকে অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করা উচিৎ হয়নি। আমরা কী সংবাদ মাধ্যমে সাংবাদিকদের গায়ে হাত তুলতে দেখিনি? তাদের ক্যামেরা ছিনিয়ে নিতে দেখিনি? সেগুলো কী অপরাধ নয়? কোনো কোনো অপরাধ থেকে চোখ ফিরিয়ে নিয়ে অন্য কিছুকে গুরুতর অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করা হলে এই দেশের মূল ভিত্তিটা ধরেই কী আমরা টান দিই না?

স্কুল কলেজের ছেলে মেয়েরা মিলে অসম্ভব সুন্দর একটা আন্দোলন শুরু করেছিল। কেউ মানুক আর নাই মানুক পৃথিবীর ইতিহাসে এটা একটা মাইল ফলক হয়ে থাকবে। আমরা সারা জীবন চেষ্টা করে রাস্তাঘাটে মানুষের জীবনের নিরাপত্তার যে বিষয়গুলো নিশ্চিত করতে পারিনি তারা সেগুলো আমাদের উপহার দিয়েছে। কিন্তু এই আন্দোলনের শুরু থেকে আমার ভেতরে একটা দুর্ভাবনা কাজ করেছিল- সহজ সরল কম বয়সী ছেলেমেয়েরা যে বিশাল একটা আন্দোলন গড়ে তুলেছে তারা কী সেটা নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে? আমরা সবাই জানি সেই সহজ সরল আন্দোলনটি শুধু যে জটিল হয়ে উঠেছিল তা নয় সেটি ভয়ংকর রূপ নিতে শুরু করেছিল। ঝিগাতলার সেই সংঘর্ষে কারা অংশ নিয়েছিল? স্কুলের বাচ্চা ছেলেমেয়েরা নিশ্চয়ই ঘণ্টার পর ঘণ্টা মারামারি করেনি? বাচ্চা ছেলেমেয়েদের আন্দোলনে কেন বড় মানুষেরা মারামারি করতে এসেছে? তারা কারা?

এক পক্ষ ছাত্রলীগ, সরকার সমর্থক কিংবা পুলিশ হতে পারে, অন্য পক্ষ কারা? আমি একজন প্রত্যক্ষদর্শীকে জিজ্ঞেস করেছি তারাও উত্তর দিতে পারেনি।

আমি অস্বীকার করছি না যে আজকাল মিথ্যা সংবাদ এবং গুজবের কোনো শেষ নেই। কয়েকদিন আগে আমার মৃত্যু সংবাদ সোশাল মিডিয়াতে প্রচার করা হয়েছে। কোটা বিরোধী আন্দোলনকারীরা যখন নিজেদের ‘আমি রাজাকার’ হিসেবে ঘোষণা দিয়েছিল তখন আমি আমার প্রবল বিতৃষ্ণা প্রকাশ করেছিলাম। প্রফেসর আনিসুজ্জামানের সাম্প্রতিক একটা লেখা থেকে জানতে পারলাম তাঁর মর্মাহত হওয়ার মত এই খবরটি তিনি আমার লেখা থেকে জানতে পেরেছিলেন। তাকে কেন এই তথ্যটি আমার লেখা থেকে জানতে হলো? দেশের এতো গুরুত্বপূর্ণ সংবাদপত্রের কোনোটি কেন এই তথ্যটি প্রকাশ করল না? তাদের কারো কী মুক্তিযুদ্ধের জন্যে দায়বদ্ধতা নেই? রাজাকারের জন্যে ঘৃণা নেই!

যাই হোক রাজাকারের জন্যে আমার ঘৃণা প্রকাশ করার পর কোটা বিরোধী প্রজন্মের প্রায় সবাই আমার মৃত্যু কামনা করছে। তাই আমার মৃত্যু সংবাদ প্রচার করাটি হয়তো স্বাভাবিক ব্যাপার। কিন্তু অসংখ্য মিথ্যা সংবাদ এবং গুজব প্রচার করা কিন্তু ততো স্বাভাবিক নয়। সরকার যেভাবে তথ্যগুলো নিয়ন্ত্রণ করছে এবং আন্দোলন দমন করার জন্যে যে পদক্ষেপ নিচ্ছে সেগুলো কিন্তু অনেকের ভেতরেই এক ধরনের ক্ষোভের জন্ম দিচ্ছে। সরকার কী এটি জানে? প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের ক্ষমা করে দিলে কী এমন ক্ষতি হতো? ছাত্রলীগের ছেলেরা কী অনেক ক্ষেত্রে তাদের থেকেও বড় অপরাধ করেনি?

যাই হোক, আগস্ট মাস বাংলাদেশের জন্যে একটি অশুভ মাস। কেউ বিশ্বাস করবে কী না জানি না এই মাসটি শেষ না হওয়া পর্যন্ত আমি এক ধরনেরর অশান্তিতে থাকি।

এই বছর আমার অশান্তিটি বেশি। আমি যখনই চিন্তা করছি আলোকচিত্র শিল্পী শহিদুল আলমকে শুধু গ্রেপ্তার করা হয়নি তাকে রিমান্ডে নেয়া হয়েছে আমি বিষয়টি ভুলতে পারছি না।

শেষবার সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে আমাদের অনেক শিক্ষকদের ধরে রিমান্ডে নেয়া হয়েছিল। মনে আছে আমরা তখন আমাদের সহকর্মীদের জন্যে পত্র পত্রিকায় লেখালেখি করছি কিন্তু কেউ সেই লেখা ছাপানোর সাহস পাচ্ছে না। আমরা, শিক্ষকেরা তখন খুব অসহায় বোধ করেছিলাম।

এখন অনেকদিন পর আবার কেমন যে অসহায় বোধ করছি। নিজ দেশে কেন আমরা অসহায় অনুভব করব? কী হচ্ছে আমরা কী জানতে চাইতে পারি?

মুহম্মদ জাফর ইকবাললেখক ও অধ্যাপক, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়।

৩১ Responses -- “আমরা জানতে চাই”

  1. rizvi

    সরকার ও বিরোধী দলের রেষারেষি এখন চরম পর্যায়। নির্বাচনের খুব বেশি দিন বাকি নেই। ডিসেম্বর মাসের নির্বাচনের আগের ৪ মাস দেশের সব মানুষ ভালো থাকুক নিরাপদ থাকুক এই প্রার্থনা করি

    Reply
  2. Wazed Kamal

    এই লেখাটা “জানি না” এর ভিত্তিতে অজ্ঞানতা থেকে আবেগের বশে অসংলগ্ন লেখা। ড: শহিদুল আলম যদি নির্জলা মিথ্যাচার করে থাকেন, তাহলে? তাঁর বক্তব্য যদি বাংলাদেশ নামের এই রাষ্ট্রটির বিপক্ষে যায়, তাহলে? জনাব জাফর ইকবাল,“জানি না” এর” জন্য আপনার এই লেখাটা দায়িত্বজ্ঞানহীন।

    Reply
  3. Abdullah Al Amin

    স্যার আপনি মন্ত্রী হয়ে যান। আপনার নির্বাচন করা লাগবে না। এমনিতেই পাশ।

    Reply
  4. ইফতেখার মোহাম্মদ

    প্রিয় মুহম্মদ জাফর ইকবাল স্যার, আপনি বাসায় টেলিভিশন রাখেন না। আপনি ফেসবুক ব্যবহার করেন না। আপনাকে কিছু জানাতে হলে পত্রিকায় লিখে জানাতে হবে, সেটা আমাদের মতো সাধারণ মানুষের পারবে না। যারা পত্রিকায় লিখে আপনাকে জানাতে পারবে তারা লিখবে না। তাহলে আপনি যে ভ্রমের মাঝে রয়েছেন সেটা ভেঙে দেবার উপায় কী আমি জানি না। এক সাক্ষাতকারে পড়েছি যে আপনি সব ই-মেইলও পড়েন না। কারণ, যদি সেটা আপনার লেখাকে আবার প্রভাবিত করে! অবশ্য আপনি নামকরা কোনো প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তির ই-মেইল ঠিকই পড়েন। পত্রিকা পড়েন। যদিও সেগুলোর মাধ্যমে আপনি প্রভাবিত হন কিনা কখনও বলেন নাই। মানে দাড়ায়, একটা বিশেষ শ্রেণীর দ্বারা প্রভাবিত হতে আপনার আপত্তি নাই। কিন্তু সাধারণের কথা আপনি শুনতে চান না, যদি আবার প্রভাবিত হয়ে যান! আপনি শহিদুল সম্পর্কে লিখেছেন,

    “তিনি আল জাজিরাতে একটি সাক্ষাৎকার দিয়েছেন। আমি সেটা দেখিনি, তবে বিবিসির খবরে পড়েছি, তিনি আন্দোলন দমনের ব্যাপারে সরকারের ভূমিকার সমালোচনা করেছেন।”

    স্যার, এই দেশটাক আপনি ভালোবাসেন এতে কোনো সন্দেহ নেই। “ফেসবুকে বিভ্রান্তি ছড়িয়ে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টার কথা স্বীকার করে কৃতকর্মের জন্য আলোকচিত্রী শহিদুল আলম ক্ষমা চেয়েছেন”। এই খবরটি স্যার, দৈনিক যুগান্তর, দৈনিক সমকাল, দৈনিক আমাদের সময়, ডেইলি সান, সময় টিভি নিউজ, ডিবিসি নিউজ, যমুনা টিভি নিউজ প্রভৃতি সংবাদমাধ্যমে এসেছে। কিন্তু স্যার, যেহেতু তিনি পুলিশ হেফাজতে তাই এই সংবাদের সত্যতা যাচাই সম্ভব হয়নি। সংবাদমাধ্যমে চলে আসলেই সেটাকে সত্য এবং বিশ্বাসযোগ্য মনে করে নেবার কোনো কারণ নাই। সংবাদমাধ্যম নিশ্চয়ই আপনাকে প্রভাবিত করে। আমি ধারণা করতে পারি, আপনি হয়তো প্রথমআলো বা ডেইলি স্টার পড়েন- সত্য মিথ্যা জানি না। কিন্তু, এই সংবাদমাধ্যমগুলো একপেশে নিউজ ছাপায়।

    স্যার, সংবাদমাধ্যমে পজিটিভ শিরোনাম বা সংবাদ কোনোটারই আবেদন নাই, কাটতি নাই। তাই অধিকাংশ সংবাদ নেতিবাচক, বানোয়াট ও একপেশে হয়। যে কারণে পুলিশ বিনা উস্কানিতে কোথাও চার্জ করে নাই, এই সংবাদ কোথাও প্রকাশিত হবে না। এটা ফ্যাক্ট, ফ্যাক্ট আর ফিকশন এক করে দেখার সুযোগ নেই। ফিকশন পড়লে পক্ষপাতিত্ব থাকবে। তাই, শুধু সংবাদপত্র পড়ে আপনি যদি লিখেন সেখানে অন্যের দ্বারা প্রভাবিত হবার যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে, সেটা কোনোভাবেই কাম্য না। স্যার, সমালোচনা করা আর দেশদ্রোহীতা করা এক বিষয় না। পরিকল্পিতভাবে স্বজ্ঞানে যদি কেউ মিথ্যা রটায় এবং তার কারণে দেশে সংঘাত-সহিংসতা হয় সেটা মহা অন্যায়। শহিদুল অপরাধ করেছেন। তিনি এর আগেও যুদ্ধাপরাধীর পক্ষের লবিস্ট ডেভিড বার্গম্যানের আদালত কর্তৃক দন্ডের বিরোধীতা করে বিবৃতিতে সাক্ষর করেছেন এবং সেই অপকর্মটি আদালতে জাস্টিফাই করার চেষ্টা করেছেন।

    আপনি আপনার লেখায় আরও বলেছেন,
    “তার দ্বিতীয় অপরাধ হিসেবে ফেসবুক লাইভে তার বক্তব্যের কথা শুনতে পাচ্ছি। ফেসবুক লাইভ বিষয়টি কী, আমি সেটা সঠিক জানি না। সেখানে তিনি কী বলেছেন, সেটাও আমি জানি না, কিন্তু যেটাই বলে থাকেন, সেটা তার বক্তব্য। এই বক্তব্য দিয়ে তিনি বিশাল যড়যন্ত্র করে ফেলছেন, সেটি তো বিশ্বাসযোগ্য নয়।”

    স্যার আবারও বলি, কোন বিষয় না জেনে সেটাকে ডিফেন্ড করা বোকামি। আপনি জানতে চান শিরোনাম করেছেন অথচ লেখার আগে আপনি যে বিষয়ে জানতে চান বলে সাফাই গেয়েছেন সেটি নিয়ে কোন ধরনের জানতে চেয়েছেন বলে মনে হয়নি। এটা স্যার বিজ্ঞান না যে আপনি না জেনেই পরীক্ষা নিরীক্ষা করতে করতে আবিস্কার করে ফেলবেন। এই ঘটনা আজকে নতুন না, আপনি এর আগেও এমন অসংখ্য ঘটনা ঘটিয়েছেন এবং মনে করে দেখুন যে পরে সেসবের জন্য আপনি দুঃখ প্রকাশ করে ক্ষমা চেয়েছেন। দ্বার বন্ধ করে দিয়ে ভ্রমটারে রুখি. সত্য বলে, আমি তবে কোথা দিয়ে ঢুকি? আপনি স্যার সত্য জানতে চাইলে আপনাকে দ্বারগুলো উন্মুক্ত করতে হবে। আপনি টেলিভিশন দেখি না, ফেসবুক কী আমি জানি না। এসব বলে আপনি সত্যকে জানার পথ রুদ্ধ করে দিচ্ছেন। আপনি হয় সেগুলো খুলে দেখুন নতুবা সেখানে কী হচ্ছে না জেনেবুঝে অযাচিত মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকুন। আপনি ভালো থাকুন স্যার, আপনার অশেষ মঙ্গল ও শুভকামনা করি।

    Reply
    • জাকের আহমদ খোকন

      প্রিয় ইফতেখার মোহাম্মদ ভাই, শেষ দিকে অনেক কঠোর সমালোচনা করলেও আপনি মূল বিষয়টা ঠিকই তুলে এনেছেন। একটা কথা পরিষ্কার ভাবেই বলে দিতে চাই আমরা। মুক্তিযুদ্ধ এবং রাজাকার নিয়ে কোন আপোষ হবে না। সেটা শহীদুল হলেও না। শহীদুলকে স্যার সমর্থন করলেও না। একটা লোক তার পেশাগত সফলতা কাজে লাগিয়ে মিথ্যা প্রচার করবে কিছুটা সত্যের মিশেলে, আর স্যার সেটা সমর্থন করবেন, এটা আমাকে অবাক করেছে। স্যার এর আগে ছাত্রলীগ, সরকার ও শিক্ষা মন্ত্রণালয় সহ সরকারের অনেক বিষয় নিয়েই সমালোচনা করেছেন। স্যারের মতো বিএনপি’র উপদেষ্টা এমাজউদ্দিন সহ অনেকেই সমালোচনা করে যাচ্ছেন সরকারের, শেখ হাসিনার, আওয়ামীলীগের। কই তাদেরতো শহীদুলের মতো টেনে হিঁচড়ে নেয়া হয়নি! অথচ যখন শেখ হাসিনাকে টেনে হিঁচড়ে নেয়া হয়েছিল তখন স্যারের কোন প্রতিবাদী লেখা আমার চোখে পড়েনি। লিখেছেন কিনা জানি না। পরিশেষে, একট কথা বলতে চাই, যুদ্ধাপরাধীদের পক্ষে অবস্থান নেয়া শহীদুলের পক্ষে আপনার এই অবস্থান গ্রহণে “অনেকদিন পর আবার কেমন যে অসহায় বোধ করছি।” কী হচ্ছে আমরাও সেটা জানতে চাইতে পারি, স্যার?

      Reply
    • আসমা সুলতানা

      পূর্বেও ওনার অনেক লেখাতে আমি দেখেছি উনি জানেন না, এটা বলে বলা শুরু করেন তিনি কেমন অনুভব করছেন। আসলে কি কারো যায় আসে কে কি অনুভব করে, বা তাতে কারো কোনো উপকার হয়?আপনার মন্তব্য উনার লেখা থেকে হাজার গুণে ঋদ্ধ। ধন্যবাদ।

      Reply
    • Bongo Raj

      জাফর স্যার জানেন না যে সব চাইতে ভাল ফেরেশতা “ইবলিশ” কিন্তু একদিন শয়তান হয়ে যায় মাত্র একটা ভুলের জন্য।
      জনাব জাফর যেই ফর্মুলা দিয়ে শহিদুল কে সাপোর্ট করছেন তাহলে সব রাজাকর, আলবদর আলসামস দের ও ক্ষমা করে দিতে হয় কারন তারা ১৯৭১ এর আগে ভাল কিছু কাজ অবশ্যই করেছেন।

      Reply
      • কল্যান ডি কষ্টা

        জনাব বংগরাজ
        Enough is enough. রাজাকার প্রজাকার স্বৈরাচার নৈরাকার এগুলো থেকে বের হন । একটি বিশেষ সালের মধ্যে সারাজীবন আটকে থাকলে কাজ করবেন কখন আর সামনের দিকে আগাবেন কখন ? খালী খাওয়ার পর গরুর মতো জাবর কেটে যাবেন সারা জীবন ? দেশের জন্য কিছু করুন । অন্ধের মতো সাপোর্ট না করে দেশের দিকে তাকান । শিক্ষিত বেকারে দেশের রাস্তাঘাট ভর্তি । এদের জন্য কিছু করুন । জীবনের নিরাপত্তা জীবনযাত্রার মান বিশ্বের মধ্যে সবচে নিচে, এটা নিয়ে কাজ করুন । পাতি হাসের মতো শুধু ইতিহাস আওড়াবেন না ।

      • সরকার জাবেদ ইকবাল

        রাজাকার প্রজাকার স্বৈরাচার নৈরাকার’ …….. না হেসে পারলাম না। পাতি হাঁস আর কি করবে? প্যাঁক প্যাঁক করাই ওর একমাত্র কাজ।

  5. বুশরা বিনতে বশর

    স্যার আপনি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক। ফেইসবুক লাইভ কি আপনি জানেন না, আল জাজীরাকে দেয়া উনার সাক্ষাতকার আপনি শোনেন নি, তাহলে কিসের উপর ভিত্তি করে এতো বড় লেখা লিখলেন? মানুষের কাছ থেকে শুনে?
    কিন্তু প্রতি পোস্টেই অনলাইন, ফেসবুক সম্পর্কে না জানার কাহিনী শুনতে খারাপ লাগে।
    প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক হয়ে ফেসবুক লাইভ কি জিনিস জানেন না!
    এটা শুনতে সত্যই খারাপই লাগে।

    Reply
  6. সামিরুল ইসলাম

    আমি জানি না, আপনি কোনোদিন আমার কমেন্টটা দেখবেন কি না, হয়তো না, তবে একটা কথা বলি, যদি আপনার মনে হয়, কথা বলায়, মতামত দেয়ায় আপনার প্রতিবন্ধকতা রয়েছে, সীমাবদ্ধতা রয়েছে- তাহলে মানুষের ‘গুজব’ ধিক্কারটুকুই নীরবে সয়ে গিয়ে চুপ করে থাকুন।
    আমি ব্যক্তিগতভাবে বিশ্বাস করি, সব ইস্যুতে মতামত দেয়াটা আমার ব্যক্তিগত ব্যাপার। এবং এও মনে করি, সঠিকভাবে মতামত না দেয়ার চেয়ে বরং চুপ থাকাই অধিকতর শ্রেয়।

    Reply
  7. alam

    ৭১’-৭৫’ আওয়ামীশাসনের যে গল্প শুনে এসেছি তাই এখন নিজের চোখে দেখছি

    Reply
  8. আবু হেনা মো: মহসীন

    কেউ আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন হলেই তার সাত খুন মাফ হয়ে যাবে নাকি ? যে যত বড় মানুষ সমাজের প্রতি, রাষ্ট্রের প্রতি তাঁর দায়িত্বও তত বড় । এখন যদি কেউ বলে শহিদুল এই আন্দোলনের ( ছাত্রদের ন্যায্য আন্দোলন নয়, সরকার পতনের আন্দোলন ) মাস্টারপিস চিন্তকদের একজন তাহলে সেই ব্যক্তিকে তো দোষ দেয়া যবেনা । সরকার প্রথম দুইদিন তো কিছুই করেনি । কোমলমতি শিশুদেরকে ব্যবহার করে ক্ষমতায় যাওয়ার লোভ যারা করে তাদের সম্পর্কে আমি আর কোন শব্দ ব্যয় করতে চাই না ।

    Reply
  9. Maksudur Rahman

    এত্ত এত্ত “জানি না” এর ভিত্তিতে আবেগের বশে এরকম অসংলগ্ন লেখা লিখে আপনি কি জানতে চান? বর্তমান তথ্য প্রযুক্তির যুগে তথ্য প্রযুক্তির একজন শিক্ষক হয়ে আপনি এতো কিছু কিভাবে “জানেন না” ? আপনি কি সত্য কথা বলছেন না দায়িত্ব এড়িয়ে জনপ্রিয়তা ধরে রাখছেন?

    Reply
  10. Tapash

    শ্রদ্ধেয় জাফর স্যার,
    আপনি ডঃ শহিদুল আলমের ব্যাপারে বিস্তারি জানলে শহিদ পরিবারের সন্তান হয়ে এই লেখা টা আপনি লিখতেন না।শহিদুল আলমের ব্যাপারে বিস্তারিত জেনে নেয়ার অনুরোধ রইল।

    Reply
  11. Abir

    There is nothing to know ! Governments punish few people to terrify many all around the world !

    This elderly man is beaten to set example for rest of the writers, journalist, photographers to show what might happen if you defy the power.

    It’s called destroying the spirit, installing despair in the heart.

    This country is rotten to the core, nothing will change in next 100 years !

    Everyone, mind your own business, take care of yourself and your family.

    Reply
    • সরকার জাবেদ ইকবাল

      Dear Abir, Is it you? Please read my comment below and hope you can recognise me. I do support and respect your innate feeling for Alam Bhai.

      Reply
  12. আবু আহাদ শাওন

    শহীদুল আলম সাহেব ব্যক্তি হিসেবে কেমন, সেটা বিবেচ্য না। তাকে আল-জাজিরায় মিথ্যা তথ্য দিয়ে উস্কানি সৃষ্টির অভিযোগে বিচারের আওতায় আনা হয়েছে। আল-জাজিরায় দেয়া উনার সাক্ষাৎকার দেখলে যে কেউই বুঝতে পারবে উনি ইস্যুতে না থেকে সরকারের উপর রাগের বশবর্তী হয়ে অনেক মিথ্যা কথা বলেছেন। মিথ্যা তথ্য দিয়ে দেশে অরাজকতা সৃষ্টি আর সরকারের সমালোচনা এক নয়। আমার ধারণা, আল-জাজিরার সাক্ষাৎকারটা দেখলে আপনি এ লেখা লিখতেন না।

    Reply
  13. Dheeman Parambrata

    জনাব জাফর ইকবাল
    আপনার লেখাটি পড়লাম। এ কী লিখলেন আপনি। আপনাকে আমরা সবাই শ্রদ্ধা করি। আপনার লেখা পড়ে দেশেল তরুণ সমাজ প্রাণিত হয়। আপনি লিখেছেন, ‌’ফেইসবুক লাইভ বিষয়টি কী- আমি সেটা সঠিক জানি না। সেখানে তিনি কী বলেছেন সেটাও আমি জানি না, কিন্তু যেটাই বলে থাকেন সেটা তাঁর বক্তব্য, এই বক্তব্য দিয়ে তিনি বিশাল ষড়যন্ত্র করে ফেলছেন সেটি তো বিশ্বাসযোগ্য নয়। আপত্তিকর কিছু বলে থাকলে, কেন সেটি বলেছেন সেটি নিয়ে গবেষণা হতে পারে, আলোচনা হতে পারে, তার চাইতে বেশি কিছু তো হওয়ার কথা নয়!’ জনাব জাফর ইকবাল, তিনি যদি নির্জলা মিথ্যাচার করে থাকেন, তাহলে? তাঁর বক্তব্য যদি বাংলাদেশ নামের এই রাষ্ট্রটির বিপক্ষে যায়, তাহলে? আপনি যদি ফেসবুক লাইভ সম্পর্কে নিতান্তই অজ্ঞ হয়ে থাকেন, তাহলে সেখানে শহিদুল আলমের বক্তব্য নিয়ে কেবলই লেখক খ্যাতি কাজে লাগিয়ে দেশের প্রায়ি সব গণমাধ্যমে এমন লেখা আপনার উচিত হয়। আপনি নিতান্তই অবিবেচকের পরিচয় দিয়েছেন। আপনার সামাজিক দায়িত্ববোধের জায়গা থেকে আপনি সরে গেছেন।
    আপনি লিখেছেন, ‌’স্কুল কলেজের ছেলে মেয়েরা মিলে অসম্ভব সুন্দর একটা আন্দোলন শুরু করেছিল। কেউ মানুক আর নাই মানুক পৃথিবীর ইতিহাসে এটা একটা মাইলফলক হয়ে থাকবে। আমরা সারা জীবন চেষ্টা করে রাস্তাঘাটে মানুষের জীবনের নিরাপত্তার যে বিষয়গুলো নিশ্চিত করতে পারিনি তারা সেগুলো আমাদের উপহার দিয়েছে। কিন্তু এই আন্দোলনের শুরু থেকে আমার ভেতরে একটা দুর্ভাবনা কাজ করেছিল- সহজ সরল কম বয়সী ছেলেমেয়েরা যে বিশাল একটা আন্দোলন গড়ে তুলেছে তারা কী সেটা নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে? আমরা সবাই জানি সেই সহজ সরল আন্দোলনটি শুধু যে জটিল হয়ে উঠেছিল তা নয় সেটি ভয়ংকর রূপ নিতে শুরু করেছিল। ঝিগাতলার সেই সংঘর্ষে কারা অংশ নিয়েছিল? স্কুলের বাচ্চা ছেলেমেয়েরা নিশ্চয়ই ঘণ্টার পর ঘণ্টা মারামারি করেনি? বাচ্চা ছেলেমেয়েদের আন্দোলনে কেন বড় মানুষেরা মারামারি করতে এসেছে? তারা কারা?
    এক পক্ষ ছাত্রলীগ, সরকার সমর্থক কিংবা পুলিশ হতে পারে, অন্য পক্ষ কারা? আমি একজন প্রত্যক্ষদর্শীকে জিজ্ঞেস করেছি তারাও উত্তর দিতে পারেনি।’ তারা কারা আপনি জানেন না! কারা এর সুযোগ নিতে চেয়েছিল, কারা এই সরকারকে ধাক্কা দিতে চায় তা নিশ্চয় আপনার জানা আছে। আপনিও তাদের খাতায় নাম লেখালেন!
    আপনি লিখেছেন,’শেষবার সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে আমাদের অনেক শিক্ষকদের ধরে রিমান্ডে নেয়া হয়েছিল। মনে আছে আমরা তখন আমাদের সহকর্মীদের জন্যে পত্র পত্রিকায় লেখালেখি করছি কিন্তু কেউ সেই লেখা ছাপানোর সাহস পাচ্ছে না। আমরা, শিক্ষকেরা তখন খুব অসহায় বোধ করেছিলাম।
    এখন অনেকদিন পর আবার কেমন যে অসহায় বোধ করছি। নিজ দেশে কেন আমরা অসহায় অনুভব করব? কী হচ্ছে আমরা কী জানতে চাইতে পারি?’ হায়, ১/১১-এর সময়ের সঙ্গে আপনি আজকের দিনের তুলনা করলেন। জামায়াত-বিএনপি আমলেও নিশ্চয় আপনি এতটা অসহায় বোধ করেননি, তাই না! নাকি ওরা ক্ষমতায় থাকলে আপনি বেশ ভালো থাকেন, আপনার অসহায় বোধ হয় না। তাই কী?
    সুইডেন থেকে সাংবাদিক সাব্বির খান লিখেছেন,’স্যারের এই লেখাটা কতটা দায়িত্বজ্ঞানহীন এবং অজ্ঞানতা থেকে লেখা, তা পাঠক সমাজই হয়ত বিচার করবেন। তবে পাঠক হিসেবে আমার ব্যক্তিগত অভিমত হচ্ছে, বস্তুনিষ্ঠতার অভাবে এই লেখা স্যারকে তাঁর উচ্চতা থেকে কিছুটা হলেও নীচে নামিয়েছে এবং বোদ্ধামহলে স্যারকে কিছুটা হাল্কা করেছে বললেও হয়ত অতিরঞ্জিত করা হবে না!
    এখানে একটা বিষয় স্বীকার না করলেই নয় যে, অনুভূতিপ্রবণ এবং সাদা মনের বাঙ্গালী হিসেবে স্যারের লেখাটা নিঃসন্দেহে চমৎকার, উচ্চ মার্গীয় এবং সুখোপাঠ্য, যা অনুভূতিপ্রবণ সরল বাঙ্গালীদের মনে পরোক্ষভাবে সরকাররের ব্যাপারে নেতিবাচক অনুভূতির সৃষ্টি করবে বলে আমি মনে করি। এছাড়াও স্যারের অর্জিত “সেলিব্রিটির” যে তকমাটি রয়েছে, সেটা এই লেখাটি উৎরে যাবার জন্য যথেষ্ঠ অবদান রাখবে।
    সব শেষে ঠাট্রার ছলে হলেও একটা সন্দেহের কথা না বললেই নয়! এই লেখাটি লিখে সম্ভবত জাফর ইকবাল স্যার এলিট ক্লাবের একজন মেম্বার হিসেবে এবং ভবিষ্যতের পুলসিরতের পুল পার হবার জন্য একটা আগাম টিকেট কিনে রাখলেন। বলাতো যায় না কখন কি হয়!’
    জনাব জাফর ইকবাল, কথাটি বোধহয় মিথ্যে নয়। আপনি খোলস ছেড়ে শেষ পর্যন্ত বেরিয়ে এসেছেন। কিন্তু সময়টা ঠিক হয়নি। যাক, তবু চেহারা উন্তুক্ত করে দেওয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।

    Reply
  14. younusur rahman

    ভারত থেকে এদেশে আসা অভিবাসীরা এক সময় এক জায়গায় সব একসাথে এক সুরে কথা বলবেই। কিছু কিছু সময় তারা বাঙালীদের পক্ষে থাকে ঠিকই কিন্তু বাংলাদেশের ভিতরে সংকটময় চরম মুহুর্তে তারা সব এক। সময় সুযোগ পেলেই ভিতরে ভিতরে তারা বঙ্গবন্ধুর বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করবেই। তা না হলে নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলনকে তারা কেন সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন বলে বিদেশের চ্যানেলে প্রচার করে। এদেশের খাবে এদেশের পরবে আর সুযোগ মতো মোনাফেকি করা এদের ধর্ম। আসামে বাংলাদেশ থেকে যাওয়া অভিবাসীদের নাগরিকত্ব দিতে ভারত ভায় পাচ্ছে আর আমাদের দেশে আসা ভারতীয় অভিবাসীরা কত সহজে এই দেশে জায়গা করে নিয়েছে এবং সব সেক্টরে খুব ভাল ভাল জায়গায়ই তারা আছেন, নিজেদের মতামত দিচ্ছেন, সরকারী চাকুরী থেকে শুরু করে মন্ত্রী এমপিও হচ্ছেন। আমার মনে হয় এদের চিহ্নিত করার সময় এসেছে।

    Reply
  15. সরকার জাবেদ ইকবাল

    ড: শহিদুল আলমের অপমান মানে জাতির বিবেক, বুদ্ধিবৃত্তি, মুক্তবুদ্ধি এবং সর্বোপরি গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের অপমান। একটি আন্তর্জাতিক সংস্থায় কর্মরত থাকাকালে ২ বৎসরের জন্য (১৯৯৬-’৯৭) ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে একটি প্রকল্পে তাঁর সঙ্গে আমার কাজ করার সুযোগ হয়েছিল। প্রকল্পটির নাম ছিল ‘Child photography and journalism’. এই প্রকল্পের অধীনে গ্রামের কিশোর-কিশোরীদের হাতে তিনি ক্যামেরা তুলে দিয়েছিলেন। ওরা মহানন্দে ছবি তুলেছে আর নিজেরাই সেগুলো ওয়াশ করেছে। আমি ফান্দাউক গ্রামে অসীম পালের বাড়ীতে একটি কক্ষকে ডার্করুম হিসেবে ব্যবহার করার জন্য ব্যবস্থা করে দিয়েছিলাম।

    সদাহাস্যময়, বিনয়ী আলম ভাই কাদামাটি, আবর্জনা তুচ্ছ করে কোমলমতি ছেলেমেয়েদেরকে সঙ্গে নিয়ে গ্রামের পথে পথে, দিকপ্রান্তহীন হাওড়ে নৌকা নিয়ে ঘুরে বেড়িয়েছেন আর কিশোর-কিশোরীদেরকে দিয়ে ছবি তুলিয়েছেন। সে এক অভাবনীয় আনন্দযজ্ঞ। নিজের চোখে না দেখলে বিশ্বাস করা যায় না। আমি দেখেছি কি পরম মমতায় তিনি তাঁর সন্তানতুল্য শিশুদেরকে কাছে টেনে নিয়েছেন আর ছবি তোলা শিখিয়েছেন!

    এমন একজন শিশু-অন্তপ্রাণ মানুষ কেমন করে অপরাধী হয় আমিও ঠিক বুঝতে পারি না। তাহলে আমাকে কি এটাই ধরে নিতে হবে যে, শিশুদেরকে ভালবাসা একটি অপরাধ?

    Reply
    • Faruk Kader

      একটা মিথ্যে কথা বার বার বললে সেটাই নাকি সত্য হয়ে যায়। ডঃ শহীদুল ইসলামের বেলায় তাই হতে চলেছে। জাফর ইকবাল ফেসবুক লাইভ কি বুুঝেন না, অথচ উনি একজন প্রযুক্তিবিদ ও সাইন্স ফিকশন লেখক! ওনার লেখাটি খুবই মিনমিনে ও ননকমিটাল।

      Reply
    • জাকের আহমদ খোকন

      আজব প্রেম কী গজব কাহিনী! কেন আপনাকে ধরে নিতে হবে যে, শিশুদেরকে ভালোবাসা একটি অপরাধ? তাকে কী শিশুদের ভালোবাসার অপরাধে গ্রেফতার করা হয়েছে?

      Reply
    • আসমা সুলতানা

      বাংলাদেশে যে কোনো ভালোবাসাই অপরাধ ভাই। আর শিশু হলো সব থেকে বেশী অত্যাচারিত এবং অবহেলিত গোষ্ঠি। এদেশে গুণের কদর নেই গুণীর কদর নেই, নেই শ্রদ্ধা বা আশ্রয়। বড় কষ্ট হয়!

      Reply
  16. KABIR UDDIN

    স্যার , আমি আপনার সাথে সম্পূর্ণ একমত। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ আমি নিজের চোখে দেখেছি আর সেকারণে মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্ব দেওয়া বর্তমান সরকারি দলটির প্রতি একধরনের সাপোর্ট আছে। কিন্তু তাদের গত কয়েক দিনের আচরণে আমিও বিরক্ত এবং ক্ষুব্ধ। এরা কি প্যারানয়েড নাকি বুদ্ধিহীন সেটাই বুঝতে পারছিনা। নিজের পায়ে নিজে কুড়াল মারা এদের কাছ থেকে শিখতে হবে।

    Reply
  17. সৈয়দ আলী

    First they came for the communists, and I did not speak out—
    Because I was not a communist.
    Then they came for the trade unionists, and I did not speak out—
    Because I was not a trade unionist.
    Then they came for the Jews, and I did not speak out—
    Because I was not a Jew.
    Then they came for me—and there was no one left to speak for me. – Martin Niemöller

    Reply
  18. সজল

    যেসব বড়রা রাজনীতির ক্ষমতা বদলের জন্য ছোটদের হাতিয়ার বানাতে চায় এবং ছোটদের জীবনের ঝুঁকি তৈরী করতে চায় , তাদের পুরোপুরি মানুষ বলা ঠিক হবে না !

    Reply
    • সৈয়দ আলী

      সজল, সাম্প্রতিককালে এমন ঘটনা ঘটেনি যেখানে ছোটদেরকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হয়েছে। বরং দশচক্র খুবই হীন রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে অসত্য ও মনগড়া প্রচার চালিয়ে ভুত সৃষ্টি করছে। মজার হলো, এই দশচক্র আবার যা সত্যি ঘটেছে তাকে স্বীকার করেনা।

      Reply

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। প্রতিক্রিয়া লেখার সময় লক্ষ্য রাখুন--

  • ১. স্বনামে বাংলায় প্রতিক্রিয়া লিখুন।
  • ২. ইংরেজিতে প্রতিক্রিয়া বা রোমান হরফে লেখা বাংলা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না।
  • ৩. প্রতিক্রিয়ায় ব্যক্তিগত আক্রমণ গৃহীত হবে না।

দরকারি ঘর গুলো চিহ্নিত করা হয়েছে—